শারীরিক সুস্থতার জন্য দু’টি দোয়া



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

শারীরিক সুস্থতা একটি মূল্যবান নেয়ামত। একজন মানুষ কতক্ষণ পর্যন্ত সুস্থ থাকবেন, তা কেউ জানে না। এখন যে সুস্থ কিছুক্ষণ পরেই সে অসুস্থ হয়ে যেতে পারে। হজর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই মহা নেয়ামতের কদর করতে বলেছেন। এক হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা পাঁচটি অবস্থায় পতিত হওয়ার পূর্বে পাঁচটি জিনিসকে মূল্য দাও। ১. বৃদ্ধ হওয়ার পূর্বে যৌবনকে, ২. রোগ আক্রমণের পূর্বে সুস্থতাকে, ৩. কর্মব্যস্ততার পূর্বে অবসর সময়কে, ৪, মৃত্যু আসার পূর্বে জীবনকে এবং ৫. দরিদ্রতার পূর্বে সচ্ছলতাকে।’ -আল মুসতাদরাক হাকিম : ৭৯১৬

সহিহ বোখারির এক হাদিসে এসেছে, ‘দু’টি নেয়ামতের বিষয়ে মানুষ ক্ষতির মাঝে থাকে- ১. সুস্থতা ও ২. অবসর।

আরও অনেক হাদিসে হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুস্থ থাকতে থাকতে নেক আমলের প্রতি মনোযোগী হতে বলেছেন। ইসলামি স্কলাররা শারীরিক সুস্থতার জন্য ইসলামি নির্দেশিত পন্থায় জীবন পরিচালনার পাশাপাশি আল্লাহতায়ালার দরবারে বেশি বেশি দোয়া করা কথা বলেছেন। হাদিসে বর্ণিত এমন দুইটি দোয়া উল্লেখ করা হলো-

ব্যথা দূর করার দোয়া
উচ্চারণ : আউজু বি-ইজ্জাতিল্লহি ওয়া কুদরাতিহি মিন শাররি মা আজিদু ওয়া উহাজিরু।

অর্থ : আল্লাহর নামে আমি আল্লাহর অসীম সম্মান ও তার বিশাল ক্ষমতার অসিলায় আমার অনুভূত এই ব্যথার ক্ষতি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি।

উপকার : হজরত উসমান বিন আবুল আস আসসাকাফি (রা.) বলেন, আমি হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে মারাত্মক ব্যথা নিয়ে উপস্থিত হলাম, যা আমাকে অকেজো প্রায় করেছিল। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে বলেন, তুমি তোমার ডান হাত ব্যথার স্থানে রেখে সাতবার এই দোয়া বলো। -ইবনে মাজাহ : ৩৫২২

শারীরিক সুস্থতার জন্য দোয়া
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আ-ফিনি ফি বাদানি, আল্লাহুম্মা আ-ফিনি ফি সাম-ই, আল্লাহুম্মা আ-ফিনি ফি বাসারি, লা-ইলাহা ইল্লা আনতা।

অর্থ : হে আল্লাহ, আমার দেহ সুস্থ রাখুন। হে আল্লাহ, আমাকে সুস্থ রাখুন আমার শ্রবণ ইন্দ্রিয়ে। হে আল্লাহ, আমাকে সুস্থ রাখুন আমার দৃষ্টিশক্তিতে। আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই।

উপকার : হজরত আবদুর রহমান ইবনে আবু বকর (রা.) থেকে বর্ণিত, আমি আমার পিতাকে বললাম, আব্বাজান! আমি আপনাকে প্রতিদিন ভোরে ও সন্ধ্যায় তিনবার বলতে শুনি যে আপনি এই দোয়া পাঠ করছেন। তিনি বলেন, আমি হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে এ বাক্যগুলো দ্বারা দোয়া করতে শুনেছি। সে জন্য আমিও তার নিয়ম অনুসরণ করতে ভালোবাসি। -সুনানে আবু দাউদ : ৫০৯০

   

দুশ্চিন্তা দূর হয় দরুদ পাঠে



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
দরুদ একটি ফজিলতময় আমল, ছবি : সংগৃহীত

দরুদ একটি ফজিলতময় আমল, ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠ করার নির্দেশনা পবিত্র কোরআন-হাদিসে রয়েছে। মহান আল্লাহ তার রাসুলের প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠের নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ নবীর প্রতি রহমত নাজিল করেন এবং তার ফেরেশতারাও নবীর জন্য রহমতের দোয়া করে। হে ঈমানদাররা! তোমরাও নবীর প্রতি রহমতের দোয়া করো এবং তাকে যথাযথভাবে সালাম জানাও।’ -সুরা আহজাব : ৫৬

হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর দরুদ ও সালাম পাঠ করার মাধ্যমে দুশ্চিন্তা দূর হয় এবং পাপ মোচন হয়।

ইরশাদ হয়েছে, হজরত উবাই ইবনে কাব (রা.) বলেন, আমি হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমি আপনার ওপর অনেক বেশি দরুদ ও সালাম পাঠ করি। আপনি আমাকে বলে দিন, আমি (দোয়ার জন্য যতটুকু সময় বরাদ্দ করে রেখেছি তার) কতটুকু সময় আপনার ওপর দরুদ প্রেরণের জন্য নির্দিষ্ট করব? জবাবে নবী কারিম (সা.) বলেন, তোমার মন যা চায়। আমি জিজ্ঞেস করলাম, যদি এক-তৃতীয়াংশ করি? নবী কারিম (সা.) বলেন, তোমার মন যা চায়। যদি আরও বেশি করো, তাহলে তা তোমার জন্য কল্যাণকর হবে।

আমি জিজ্ঞেস করলাম, যদি অর্ধেক সময় নির্ধারণ করি? নবী কারিম (সা.) বলেন, তোমার মন যা চায়। যদি আরও বেশি নির্ধারণ করো, তাহলে তা তোমার জন্যই ভালো। আমি বললাম, যদি দুই-তৃতীয়াংশ করি। নবী কারিম (সা.) বলেন, তোমার মন যা চায়।

যদি আরও বেশি নির্ধারণ করো তা তোমার জন্যই কল্যাণকর হবে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, তাহলে আমি আমার (দোয়ার) সবটুকু সময়ই আপনার ওপর দরুদ পাঠ করার জন্য নির্দিষ্ট করে দেব? নবী কারিম (সা.) বলেন, তাহলে তোমার চিন্তা ও ক্লেশের জন্য তা যথেষ্ট হবে এবং তোমার গোনাহ মাফ করা হবে। -জামে তিরমিজি : ২৪৫৭

;

হজ মৌসুমে মক্কা-মদিনায় কাজের সুযোগ



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
হজ মৌসুমে মক্কা-মদিনায় কাজের সুযোগ, ছবি : সংগৃহীত

হজ মৌসুমে মক্কা-মদিনায় কাজের সুযোগ, ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আসন্ন পবিত্র হজ মৌসুমে সৌদি আরবের তিনটি শহরে খণ্ডকালীন চাকরির সুযোগ রয়েছে। দেশটির হজ ও ওমরাহ বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মক্কা, মদিনা ও জেদ্দা শহরে হজের সময় শূন্য পদে বেশ কিছু লোক নিয়োগ দেওয়া হবে।

মন্ত্রণালয়ের ঘোষণামতে পদগুলো হলো- হজ কন্ট্রোলার, কাস্টমার সার্ভিস, মেকানিক্যাল টেকনিশিয়ান, ড্রাইভার ও প্রকৌশলী। এসব পদে কতজনকে নিয়োগ দেওয়া হবে তা নির্দিষ্ট করা হয়নি।

আগ্রহীদের লিংকে (https://hajcareers.haj.gov.sa/) আবেদন করতে বলা হয়।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি সৌদি আরবে বসবাস করা স্থানীয় নাগরিক ও মুসলিম অভিবাসীদের জন্য হজের অনলাইন নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

এবার সৌদি হজযাত্রীদের জন্য আবাসন ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে চার হাজার ৯৯ রিয়াল থেকে ১৩ হাজার ২৬৫ রিয়ালের মধ্যে চারটি হজ প্যাকেজ ঘোষণা দেওয়া হয়। পুরো অর্থ চার ধাপে পরিশোধ করা যাবে।

এর মধ্যে ২০ শতাংশ রমজান মাস শুরুর আগে এবং ৪০ শতাংশ ২০ রমজানের আগে শোধ করতে হবে।
গত বছর করোনা-পরবর্তীকালের সর্ববৃহৎ হজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১৮ লাখের বেশি মানুষ অংশ নেন। এর মধ্যে ১৬ লাখ ৬০ হাজার ৯১৫ জন বিদেশি মুসলিম ছিলেন।

এদিকে গত বছর বিভিন্ন দেশ থেকে ১৩ কোটি ৫৫ লাখের বেশি মুসলিম ওমরাহ পালন করেন, যা ছিল সৌদি আরবের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যা। একই বছর ২৮ কোটির বেশি মুসল্লি পবিত্র মসজিদে নববীতে নামাজ পড়েন ও রওজা শরিফ জিয়ারত করেন।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১৬ জুন পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ১ মার্চ হজের ভিসা ইস্যু শুরু হয়ে ২৯ এপ্রিল শেষ হবে। এরপর ৯ মে থেকে সৌদি আরবে হজযাত্রীদের গমন শুরু হবে।

;

শাবান মাসের ফজিলত ও আমল



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
শাবান মাসে রমজানের প্রস্তুতিমূলক বেশি বেশি রোজা রাখা, ছবি : প্রতীকী

শাবান মাসে রমজানের প্রস্তুতিমূলক বেশি বেশি রোজা রাখা, ছবি : প্রতীকী

  • Font increase
  • Font Decrease

শাবান মাস আসলেই রমজানের সুঘ্রাণ বইতে শুরু করে প্রতিটা মুমিন বান্দার অন্তরে। হিজরি বর্ষের অষ্টম মাস হলো- শাবান। এ মাসের পরেই আগমন ঘটে মুমিনদের জন্য বরকতময় বসন্তকাল রমজান মাসের। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) শাবান মাসকে অনেক গুরুত্ব দিতেন এবং বেশি বেশি ইবাদতসহ বিশেষ কিছু আমল করতেন।

শাবান মাসের আমলসমূহের মাঝে শ্রেষ্ঠ আমল হচ্ছে- রমজানের প্রস্তুতিমূলক বেশি বেশি রোজা রাখা। নবী কারিম (সা.) শাবান মাসে অধিকহারে নফল রোজা রাখতেন।

হাদিসে এসেছে, হজরত উম্মে সালমা (রা.) বলেন, আমি আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে শাবান ও রমজান মাস ছাড়া অন্যকোনো দুই মাস একাধারে রোজা রাখতে দেখিনি। -সুনানে আবু দাউদ : ২৩৩৬

তবে শাবান মাসের ২৭ তারিখ থেকে রোজা না থাকার কথাও অন্য হাদিসে পাওয়া যায় যাতে রমজানের রোজা শুরুতে সমস্যা না হয়। তবে তিনি এ মাসে একাধারে যতবেশি রোজা রাখতেন অন্যকোনো মাসে রাখতেন না।

যেমন অন্য এক হাদিসে এসেছে, উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘নবী কারিম (সা.) শাবান মাসের চেয়ে বেশি রোজা কোনো মাসে রাখতেন না। তিনি পুরো শাবান মাসই রোজা রাখতেন এবং বলতেন, তোমাদের মধ্যে যতটুকু সামর্থ্য আছে ততটুকু (নফল) আমল করো, কারণ তোমরা (আমল করতে করতে) পরিশ্রান্ত হয়ে না পড়া পর্যন্ত আল্লাহতায়ালা (সওয়াব) দান বন্ধ করেন না। -সহিহ বোখারি : ১৯৭০

হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) রজব ও শাবান পুরো মাসে দোয়া ও ক্ষমা বেশি প্রার্থনা করতেন। তিনি এ দোয়া বেশি বেশি পড়তেন- (উচ্চারণ) আল্লাহুম্মা বারিকলানা ফি রজবা ওয়া শাবান, ওয়া বাল্লিগনা রামাজান।’

অর্থ : হে আল্লাহ! রজব মাস ও শাবান মাস আমাদের জন্য বরকতময় করুন; রমজান আমাদের নসিব করুন। -মুসনাদে আহমাদ : ২৫৯

;

দুঃখ-কষ্টে মুমিন ভেঙে পড়ে না



সাকী মাহবুব, অতিথি লেখক, ইসলাম
অর্থ : বিষন্ন হয়ো না, আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন, ছবি : সংগৃহীত

অর্থ : বিষন্ন হয়ো না, আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন, ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

দয়াময় আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আর আমি তোমাদের অবশ্যই পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়-ভীতি, ক্ষুধা, জান-মাল ও ফসলের ক্ষতি দ্বারা। আর আপনি সুসংবাদ দিন ধৈর্যশীলদের। যারা তাদের ওপর বিপদ এলে বলে আমরা তো আল্লাহরই। আর নিশ্চয়ই আমরা তার দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী।’ -সুরা বাকারা : ১৫৫-১৫৬

দুঃখ-কষ্ট, বিপদাপদ, পাওয়া না পাওয়া, সফলতা, ব্যর্থতা নিয়েই মানুষের জীবন। দুঃখ-কষ্ট মানব জীবনেরই অংশ। দুঃখ-কষ্টে হতাশ হওয়া যাবে না, ভেঙে পড়া যাবে না। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ যার ভালো চান, তাকে দুঃখ-কষ্টে ফেলেন।’ -সহিহ বোখারি

হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেন, ‘যদি কারো ওপর কোনো কষ্ট আসে, আল্লাহতায়ালা এর কারণে তার গোনাহসমূহ ঝরিয়ে দেন, যেমনভাবে গাছ থেকে পাতা ঝরে পড়ে।’ -সহিহ বোখারি

মানুষের প্রতিটি কষ্টের সঙ্গে সুখ মিশে আছে। ধৈর্যশীল মানুষ সেই সুখের অপেক্ষা করেন। তারা জানেন, জীবনে যত ঘোর আঁধার আসুক না কেন, একসময় তা কেটে যাবে। কষ্টের এ সময়গুলোতে ধৈর্যের সঙ্গে অবিচল থাকাই মুমিনের গুণ। মহান আল্লাহ বলেন, ‘প্রতিটি কষ্টের সঙ্গে অবশ্যই কোনো না কোনো দিক থেকে স্বস্তি রয়েছে। কোনো সন্দেহ নেই, অবশ্যই প্রতিটি কষ্টের সঙ্গে স্বস্তি আছেই।’ -সুরা আল ইনশিরাহ : ৫-৬

রাত যত গভীর হয়, ভোর তত নিকটবর্তী হয়। চিরদিন কারও দুঃখ-কষ্ট থাকে না। মনে করতে হবে আল্লাহর পক্ষ থেকে এটা একটা পরীক্ষা। হতে পারে বান্দার দোয়া ও আহাজারি শোনার জন্যই মহান আল্লাহ এ পরীক্ষা দিয়েছেন। কারণ বিপদের সময় বান্দার দোয়ায় থাকে সর্বোচ্চ বিনয়, নিষ্ঠা ও আনুগত্য। মহান আল্লাহ বান্দার কাছে এটাই চান। মনে করতে হবে, অন্যদের তুলনায় আমার এ পরীক্ষা সহজ। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষ নবী-রাসুলগণ। পৃথিবীতে তারাও বহু দুঃখ-কষ্ট ভোগ করেছেন।

হজরত ইবরাহিম (আ.)-কে আগুনের কুণ্ডলিতে ফেলা হয়েছিল। হজরত জাকারিয়া (আ.)-কে জীবন্ত অবস্থায় করাত দিয়ে দ্বিখণ্ডিত করা হয়েছিল। হজরত ইউসুফ (আ.)-কে মরুভূমির গভীর কুয়োর মধ্যে ফেলা হয়েছিল। হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে এতিম করে, ক্ষুধা দারিদ্র্য, অভাব-অনটন দিয়ে, কাফেরদের অন্যায়-অত্যাচারে রক্তাক্ত করে, হিজরত দিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছিল। তাহলে কেন এত দুশ্চিন্তা? কেন এত হতাশা?

বিপদ সাময়িক। এই আসে এই চলে যায়। সুখের পরেই দুঃখ, দুঃখের পরেই সুখ। সুখতো দুঃখের সঙ্গেই মিশ্রিত। জীবনতো শুধু দুঃখের জন্য নয়। জীবনে বিপদাপদ আসা মানেই আল্লাহর আজাব নয়, আল্লাহ তার প্রিয় বান্দাদের বেশি পরীক্ষা করেন। হজরত আনাস বিন মালেক (রা.) বলেন, ‘হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, বিপদ যত তীব্র হবে, প্রতিদানও অনুরুপ বিরাট হবে।’ -ইবনে মাজাহ

যারা মুমিন, তাদের হারানোর কিছু নেই। শত্রু ও হিংসুকরা তাদের আঘাত দিয়ে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চায়। কিন্তু মহান আল্লাহ ওই আঘাতগুলোর বিনিময়ে তাদের মর্যাদা আরও বাড়িয়ে দেন। তাই যেকোনো ধরনের বিপদ-আপদে বিচলিত না হয়ে মহান আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া উচিৎ। ধৈর্যধারণ করা উচিৎ। কারণ মুমিনের হারানোর কিছু নেই।

প্রতিটি কষ্ট তার জন্য সফলতার দ্বার খুলে দেবে। তার মর্যাদা আরও বাড়িয়ে দেবে। মহান আল্লাহ সবাইকে বিপদাপদ থেকে মুক্ত রাখুন। কেউ বিপদে পড়ে গেলে মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করার তওফিক দান করুন। আমিন।

;