মুসলিম জনসংখ্যায় শীর্ষ পাঁচ দেশ



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
মুসলিম জনসংখ্যায় শীর্ষ পাঁচ দেশ

মুসলিম জনসংখ্যায় শীর্ষ পাঁচ দেশ

  • Font increase
  • Font Decrease

পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্ম ইসলাম। প্রায় ১.৯ বিলিয়ন মানুষ এক আল্লাহর একত্ববাদের সাক্ষী দেয়, এক আল্লাহকে সিজদা করে। মুসলমানদের ৬৬ শতাংশই এশিয়ায় বসবাস করেন। জনসংখ্যা হিসেবে এখানে শীর্ষ পাঁচ দেশের নাম উল্লেখ করা হলো-

ইন্দোনেশিয়া
প্রায় সাড়ে সতেরো শ’ দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে গঠিত ইন্দোনেশিয়ায় ২৫৭ মিলিয়ন মানুষের বসবাস। নিজেদের ভাব আদান-প্রদানের মাধ্যম হিসেবে তিন শতাধিক আঞ্চলিক ভাষার প্রচলন রয়েছে দেশটিতে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো- এ দেশের শতভাগ মানুষ এক ও একত্ববাদের সেতুবন্ধনে আবদ্ধ। সকাল-সন্ধ্যায় চার লক্ষাধিক মসজিদ থেকে সমস্বরে গুঞ্জরিত হয় একত্ববাদের ডাক, রেসালাতের পয়গাম। ৩০ হাজার মুসল্লি ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন এশিয়ার সর্ববৃহৎ মসজিদ ‘বাইতুর রহমান’ এখানেই অবস্থিত। আল ইরশাদুল ইসলামি, ইকরা এবং জমিয়াতুল খাইর নামে তিনটি ভিন্ন ভিন্ন কারিকুলামে প্রায় ৫০ মিলিয়ন তালিবুল ইলম সরকারি ব্যবস্থাপনায় ইলমে দ্বীন শিক্ষা করে।

ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম সুমাত্রায় অবস্থিত একটি মসজিদ

 

গরিষ্ঠসংখ্যক মুসলমান শাফেয়ি মাজহাবের অনুসারী হওয়ায় এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শাফেয়ি মাজহাবের বইপত্রের চর্চা করা হয়। খ্রিস্টীয় ১৩ শতকে ইন্দোনেশিয়ায় ইসলামের বিকাশ ঘটে। যা এখন পৃথিবীর সর্ববৃহৎ মুসলিম অধ্যুষিত দেশ।

গোটা পৃথিবীর মুসলিম জনসংখ্যার শীর্ষস্থানে থেকে প্রায় ১২ শতাংশ মুসলমানকে পরিবেষ্টন করে রেখেছে দেশটি। যা গড়ে ২২৯ মিলিয়নের কাছাকাছি। ধর্মীয় মূল্যবোধ ও ইসলামি চিন্তা-চেতনা লালন করে এমন বেশ কিছু ধর্মীয় সংগঠন সক্রিয় ভূমিকায় রয়েছে মুসলমানদের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে। যাদের মধ্যে নদওয়াতুল উলামা ইন্দোনেশিয়া, কনসালটেটিভ কাউন্সিল অব ইন্দোনেশিয়া মুসলিমস বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

পাকিস্তান
পাকিস্তানে প্রায় ২০ কোটি লোকের বসবাস। যার প্রায় ৯৭ শতাংশ মুসলমান। বেশিরভাগই সুন্নি মুসলমান। তবে অন্যান্য মুসলিম দেশের বিচারে শিয়াদের সংখ্যাও কম নয়। জানা যায়, ইরানের পর সব থেকে বেশিসংখ্যক শিয়ার অবস্থান পাকিস্তানেই। এ ছাড়া আহমদিয়া মুসলিম জামাত এবং বেশ কিছু সুফিবাদী ধর্মতত্ত্বের অনুসারীও রয়েছে। ভারত বিভক্তির মধ্য দিয়েই মূলত পাকিস্তানে মুসলমানদের উত্থান ঘটে। ২৫ লাখ মসজিদে পরিবেষ্টিত এই দেশকে মসজিদের দেশ বলা হয়।

শাহ ফয়সাল মসজিদ পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় এবং জাতীয় মসজিদ

 

নিউ ইয়র্ক টাইমসের রিপোর্ট মতে, ২০০৯ সালে পাকিস্তানে সরকারি নিবন্ধিত মাদরাসার সংখ্যা ছিল ১২ হাজার এবং চলতি বছর এপ্রিলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের পক্ষ থেকে সরকারি খরচে ৩০ হাজার মাদরাসা করার ঘোষণা করা হয়। বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া পাকিস্তানের আওতাধীন এই মাদরাসাগুলোতে দেওবন্দি কারিকুলামে মাজহাবে হানাফিভিত্তিক পাঠদান করানো হয়। যার মধ্যে দারুল উলুম হক্কানিয়া, দারুল উলুম করাচি, জামিয়া আশরাফিয়া, জামিয়াতু উলুমিল ইসলামিয়া বিন্নুরি টাউন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বিশ্বব্যাপী গোটা মুসলিম জনসংখ্যার ১১ শতাংশ মুসলমানের বসবাস এই ভূমিতে, যা প্রায় ২০০ মিলিয়নের কাছাকাছি।

ভারত
জনসংখ্যার বিচারে চীনের পর সব থেকে বেশি মানুষের বসবাস ভারতে। পাহাড়, নদী, সাগর পরিবেষ্টিত এই অনন্য সুন্দর লীলাভূমিতে প্রায় ১.৪০ মিলিয়ন মানুষের বসবাস। যার প্রায় ১৬ শতাংশ মুসলমান। ১৫ হিজরিতে হজরত ওমর (রা.)-এর শাসনামলে হিন্দুস্তানের বাতাসে পবিত্র কালেমার সুরের মূর্ছনা তুলতে থাকে একত্ববাদের ঝাণ্ডাবাহীরা। পরবর্তী সময়ে ১৭ বছরের ইমানি চেতনায় উজ্জীবিত যুবক মুহাম্মদ বিন কাসিমের হাতে এই পুণ্যভূমি মুসলমানদের হস্তাধীন হয়। তিন লক্ষাধিক মসজিদের মিনার ‘আশহাদুআল্লাইলাহা’র ধ্বনিতে দৈনিক পাঁচবার ধ্বনিত হয়। প্রাচীন মুসলিম ঐতিহ্যের স্বাক্ষর বহন করে দাঁড়িয়ে আছে অসংখ্য মুসলিম স্থাপনা। যার মধ্যে দিল্লি জাসে মসজিদ দিল্লি, হায়াত বকশি হায়দারাবাদ এবং আগ্রার তাজমহল অন্যতম।

ভারতে অবস্থিত বিশ্ববিখ্যাত ইসলামি বিদ্যাপীঠ দারুল উলুম দেওবন্দ

 

বিশ্ববিখ্যাত ইসলামি বিদ্যাপীঠ দারুল উলুম দেওবন্দসহ অসংখ্য ইসলামি শিক্ষার অনন্য সাধারণ পুষ্পকানুনগুলো বিশ্ব মুসলমানের কাছে তাদের ধর্মীয় আস্থার প্রতীক। পৃথিবীর অর্ধশতাধিক দেশে দারুল উলুম দেওবন্দের নীতি-আদর্শের অনুকরণে দেওবন্দি কারিকুলামে শিক্ষাব্যবস্থা পরিচালিত হয়। রাষ্ট্রীয়ভাবে ধর্মীয় অনুশাসন না থাকলেও শাস্ত্রীয় চর্চা এবং আধ্যাত্মিকতার বিকাশে হিন্দুস্তানের মুসলমানদের অবস্থান অনেক মুসলিম দেশকে ছাড়িয়ে আছে। একথা দাবি করলেও অমূলক হবে না যে, পুরো উপমহাদেশের প্রধান প্রধান ধর্মীয় কার্যক্রমগুলো যেমন- তালিম, তাবলিগ, তাজকিয়া বা আত্মশুদ্ধির মেহনতের নির্মল প্রস্রবণ ধারা হিন্দুস্তানের এই পুণ্যভূমি থেকেই প্রবাহিত। এছাড়া এমনসব বরেণ্য ইসলামি মনীষীর স্বাক্ষর আঁকা রয়েছে এ মাটিতে, যার একজনও ভারতের ইসলামি গৌরব রক্ষার যথার্থ উপমা হতে পারেন।

বিশ্ব মুসলিম জনসংখ্যার ১১ শতাংশ মুসলমানের আবাস ভারতে। যা প্রায় ১৮৯ মিলিয়নের কাছাকাছি। পিও রিচার্স সেন্টারের গবেষণা মতে, সম্ভাবনাময় মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ভারত রয়েছে দুই নম্বরে। ২০৬০ সাল নাগাদ ভারতের সর্ববৃহৎ জনগোষ্ঠী হতে পারে মুসলমান।

বাংলাদেশ
বিশ্ব মুসলিম পরিবারের বৃহৎসখ্যক মুসলমান যেসব দেশে বসবাস করছে তার চার নম্বরে রয়েছে আমাদের বাংলাদেশ। এক লাখ ৪৭ হাজার বর্গকিলোমিটারজুড়ে প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি মানুষের বসবাস। যার ৯২ শতাংশ মুসলমান। হজরত শাহজাহান, শাহ পরান ও হাজি শরীয়াতুল্লাহর সময় এ দেশে ৬২০ খ্রিস্টাব্দে ইসলামের সূর্য উদিত হয়। পরবর্তীতে দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক টানাপড়েনের পর ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষিত হয়।

তাবলিগ জামাতের বার্ষিক বিশ্ব ইজতেমা বাংলাদেশের টঙ্গীতে অনুষ্ঠিত হয়

 

দেশব্যাপী দুই লাখ ৫০ হাজারের বেশি মসজিদের মধ্যে শুধু ঢাকা শহরে রয়েছে পাঁচ হাজার ৭৭৬টি মসজিদ। যাকে মসজিদের শহর বলা হয়। ষাট গম্বুজ, বাঘা মসজিদসহ অন্য ঐতিহাসিক স্থাপত্যগুলো এ দেশের প্রাচীনতম মুসলিম ঐতিহ্যের অনন্য নিদর্শন।

ধর্মীয় শিক্ষার বৃহত্তর অংশ পরিচালিত হয় দেওবন্দি কারিকুলামে, কওমি মাদরাসাভিত্তিক পাঠ্যসূচির মাধ্যমে। দেশের সর্ববৃহৎ কওমি শিক্ষা বোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের অধীন ১০ সহস্রাধিক মাদরাসা রয়েছে। এর আগে কওমি শিক্ষাব্যবস্থার কোনো সরকারি স্বীকৃতি না থাকলেও বর্তমান সরকার একে মাস্টার্স সমমান স্বীকৃতি দান করেছে। এছাড়া সরকারি আলিয়া মাদরাসা ও ইসলামিক ইউনিভার্সিটি রয়েছে বেশ কয়েকটি।

বিশ্বব্যাপী তাবলিগ জামাতের বার্ষিক বিশ্ব ইজতেমা এ দেশেই টঙ্গিতে অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া বেশ কিছু অরাজনৈতিক ইসলামি সংগঠন মুসলমানদের ধর্মীয় অনুপ্রেরণা ও মূল্যবোধের বিকাশে তৎপর ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। পৃথিবীর গোটা মুসলিম পরিসংখ্যানের ৯.২ শতাংশ মুসলমানের বসবাস ছোট্ট এই দেশটিতে। যা গড়ে ১৫৩.৭ মিলিয়নের কাছাকাছি।

নাইজেরিয়া
পৃথিবীর জনবহুল ১০ দেশের তালিকার সাত নম্বরে রয়েছে নাইজেরিয়া। পৃথিবীর একাদশতম সুদীর্ঘ নাইজার নদীর নামকরণে এ দেশের নাম নাইজেরিয়া রাখা হয়। জাত-প্রজাত বৈচিত্র্যে প্রায় ২৫০ ধরনের আদিবাসীর বসবাস আফ্রিকার সর্ববৃহৎ দেশ নাইজেরিয়ায়।

নিষ্ঠার সঙ্গে ধর্ম পালনে নাইজেরিয়ার মুসলমানদের সুনাম রয়েছে 

 

পাঁচ শতাধিক আঞ্চলিক ভাষায় এ দেশের মানুষ নিজেদের ভাব আদান-প্রদান করে। দেশের টোটাল জনসংখ্যা ১৯৪ মিলিয়ন। খ্রিস্টান একাদশ শতাব্দীতে হজরত ওমর (রা.)-এর খেলাফত আমলে আফ্রিকা বিজয়ী উকবা বিন নাফে (রা.)-এর হাত ধরে এ দেশে ইসলামের প্রভাত রবি উদিত হয়, যা এখন দেশের সর্ববৃহৎ জনগোষ্ঠীর হৃদয়ের স্পন্দন।

ধর্মীয় চর্চার স্বতন্ত্র কোনো শিক্ষাব্যবস্থার প্রচলন না থাকলেও মিশ্র শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে এর ঘাটতি কিছুটা পূরণ হয়। তবে তাতে ইসলামি সভ্যতা-সংস্কৃতির উপস্থিতি খুবই কম। দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কোন্দল, অব্যবস্থাপনা এবং অর্থনৈতিক দুর্বলতাও এর অন্যতম কারণ হতে পারে। বিশ্ব মুসলিম পরিবারের ৫ শতাংশ মুসলমান এ দেশেই রয়েছে, যা প্রায় ১০০ মিলিয়নের কাছাকাছি।

হজ প্যাকেজ ঘোষণা, জনপ্রতি খরচ ৬ লাখ ৮৩ হাজার টাকা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
হজ প্যাকেজ ঘোষণা, জনপ্রতি খরচ ৬ লাখ ৮৩ হাজার টাকা

হজ প্যাকেজ ঘোষণা, জনপ্রতি খরচ ৬ লাখ ৮৩ হাজার টাকা

  • Font increase
  • Font Decrease

এ বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ করতে জনপ্রতি ৬ লাখ ৮৩ হাজার ১৮ টাকা খরচ হবে বলে জানিয়েছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান।

বুধবার (১ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নির্বাহী কমিটির সভায় সরকারিভাবে এ হজ প্যাকেজ চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

ফরিদুল হক খান বলেন, চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজ করতে যেতে পারবেন। তাদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১৫ হাজার জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ১২ হাজার ১৯৮ জন হজ করার সুযোগ পাবেন।

তবে সৌদি আরবের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেই হজযাত্রীর প্রি-অ্যারাইভাল ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করতে পারবেন বলেও জানান তিনি।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৮ জুন হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ যেতে দুটি প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছিল। এর মধ্যে প্যাকেজ-১ এর জন্য ৫ লাখ ৮৬ হাজার ৩৪০ টাকা এবং প্যাকেজ-২ এর জন্য ৫ লাখ ২১ হাজার ১৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যেতে সর্বনিম্ন খরচ ৫ লাখ ২২ হাজার ৭৪৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

;

'প্রাচুর্যময় সম্মানিত মাস‘ রজব



আবুল খায়ের মোহাম্মদ, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ইসলামী জীবনধারা ও সংস্কৃতিতে রজব মাসের ফজিলত অপরিসীম, মর্যাদা অতুলনীয়। রজব মাস হলো আমলের মৌসুম এবং রমজানের প্রস্তুতিকাল। আল্লাহ সোবহানাহু তায়ালার অশেষ দয়া ও করুণায় মুসলিম উম্মাহর সামনে হিজরি ১৪৪৪ সনের পবিত্র রজব মাসের সূচনা হয়েছে।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘রজব হলো আল্লাহর মাস, শাবান হলো আমার মাস; রমজান হলো আমার উম্মতের মাস।’ (তিরমিজি)।

আরবি চান্দ্রবর্ষের সপ্তম মাস ‘রজব’, যার অর্থ 'প্রাচুর্যময় সম্মানিত মাস'। রজব’ শব্দের অর্থ হলো সম্ভ্রান্ত, মহান বা প্রাচুর্যময়। আর ‘মুরাজ্জাব’ অর্থ ‘সম্মানিত’। সুতরাং এর অর্থ দাঁড়ায় ‘প্রাচুর্যময় সম্মানিত মাস’। আর রজব মাসের পুরো নাম ‘রজবুল মুরাজ্জাব’ বা ‘আর-রজব আল-মুরাজ্জাব’।

রজব মাসের মর্যাদা উপলব্দি করতে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একটি হাদিসের উল্লেখ সর্বজনবিদিত। তিনি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রজব মাসে (ইবাদত দ্বারা অন্তরের) জমিন চাষাবাদ করল না আর শাবান মাসে (ইবাদতের মাধ্যমে মনের) জমিন আগাছামুক্ত করল না; সে রমজান মাসে (ইবাদতের) ফসল তুলতে পারবে না।’ (বায়হাকি)

রজব মাসের মর্যাদার আরও মর্যাদা এজন্য যে, এ মাসে মহান আল্লাহ তাআলা যাবতীয় যুদ্ধবিগ্রহ, হানাহানি ও রক্তপাত নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলার আসমান-জমিন সৃষ্টি করার দিন থেকেই বারো মাসে বৎসর হয়। এর মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত; তিনটি একাধারে জিলকদ, জিলহজ ও মহররম এবং চতুর্থটি হলো ‘রজব মুদার’, যা জমাদিউল আখিরা ও শাবানের মধ্যবর্তী মাস।’ (মুসলিম)

রজব মাস মুসলমানদের ইবাদতের মাস। বরকত লাভের মাস। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ মাসের অধিকতর ইবাদত-বন্দেগিতে নিয়োজিত হতেন। রোজা রাখতেন এবং বেশি বেশি বরকত পেতে এই দোয়া পড়তেন, যা তিনি তাঁর উম্মতকেও শিখিয়েছেন, ‘আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রাজাবা ওয়া শাবানা ওয়া বাল্লিগনা রামাদান।’ ‘হে আল্লাহ! রজব ও শাবান মাস আমাদের জন্য বরকতময় করুন; রমজান মাস আমাদের নসিব করুন।’ (বুখারি ও মুসলিম)

‘রজব মুদার’ বা বহুবিদ কল্যাণের সম্মিলিত একটি মাস। রমজানের আগে নিজেদের আমল ও ইবাদতের জন্য উপযোগী করে তোলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাস হলো রজব। তাছাড়া রজব ও শাবান হলো পাশাপাশি দুটি জোড়া মাস। মাস দুটিকে একত্রে রজবান বা রাজাবাইনও বলা হয়। তাই বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগি, দোয়া-ইসতেগফার ও রোজা রাখার মতো আমল ইবাদত করে এ দুই মাসে নিজেদের রমজানের জন্য প্রস্তুত করার উপযুক্ত সময়।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রজব মাস জুড়ে অত্যাধিক আমল-ইবাদত করতেন, রোজা রাখতেন। দোয়া পড়তেন। রমজানের জন্য নিজেকে তৈরি করতেন। হাদিসের একাধিক বর্ণনায় তা উল্লেখিত হয়েছে।

রজব ও শাবান মাসে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কী পরিমাণ ইবাদত-বন্দেগি করতেন; তা উম্মাহাতুল মুমিনিনদের বর্ণনা থেকেই সুস্পষ্ট। হজরত উম্মে সালমা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজান মাস ছাড়া সবচেয়ে বেশি রোজা পালন করতেন শাবান মাসে, অতপর রজব মাসে। হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, ‘যখন রজব মাস আসত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আমলের আধিক্য দেখেই আমরা তা বুঝতে পারতাম।’ কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রজব মাসে ১০টি রোজা রাখতেন, শাবান মাসে ২০টি রোজা রাখতেন; রমজান মাসে ৩০টি রোজা রাখতেন। (দারিমি)

রজব মাসের বিশেষ আমলসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো বেশি বেশি নফল রোজা পালন করা। মাস জুড়ে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিয়মিত আমল- ‘সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা পালন করা। রজব মাস জুড়ে বেশি বেশি নফল নামাজ পড়া। বিশেষ করে তাহাজ্জুদ, ইশরাক, চাশত-দোহা, জাওয়াল, আউয়াবিন; তাহিয়্যাতুল অজু, দুখুলুল মাসজিদ ইত্যাদি নামাজের ব্যাপারে যত্নবান হওয়া খুবই জরুরি।

সাহাবায়ে কেরামও এ মাসের ইবাদত ও ফজিলত বর্ণনা করেছেন। সুতরাং মুমিন মুসলমানের কর্তব্য, রজব মাসের মর্যাদা, ফজিলত ও আমলের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখা। যথাযথ আমল করা। পবিত্র রমজানের পরিপূর্ণ ইবাদতের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা।

;

পবিত্র শবে মেরাজ ১৮ ফেব্রুয়ারি



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সোমবার বাংলাদেশের আকাশে রজব মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) শুরু হবে হিজরি সনের রজব মাস। সেই অনুযায়ী আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি (২৬ রজব) পবিত্র শবে মেরাজ পালিত হবে।

সোমবার (২৩ জানুয়ারি) জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক থেকে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

বৈঠক শেষে জানানো হয়, সোমবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের আকাশে রজব মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় আগামী ২৪ জানুয়ারি পবিত্র রজব মাস শুরু হবে। আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে পবিত্র শবে মিরাজ উদযাপিত হবে।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মুনিম হাসান।

ফারসি ‘শব’ এর অর্থ- রাত্র বা অন্ধকার এবং আরবি ‘মেরাজ’ এর অর্থ- ঊর্ধ্বারোহণ। মুসলমানদের ধর্ম বিশ্বাস অনুযায়ী, ২৬ রজব দিবাগত রাতে ঊর্ধ্বাকাশে ভ্রমণ করে মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সা.) আল্লাহতায়ালার সাক্ষাত লাভ করেছিলেন।

;

লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণে তুরাগতীরে জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত



এসএম জামাল, ইজতেমার ময়দান থেকে, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

গাজীপুরের টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে লাখো মুসল্লির উপস্থিতিতে দেশের বৃহত্তম জুমার জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার দুপুর দেড়টায় ইজতেমার মাঠে এ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। মাওলানা সাদ কান্ধলভীর বড় ছেলে মাওলানা ইউসুফ বিন সাদ কান্ধলভী এতে ইমামতি করেন।

বিশ্ব ইজতেমার মিডিয়া সমন্বয়কারী মোহাম্মদ সায়েম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ইজতেমায় যোগদানকারী মুসল্লি ছাড়াও জুমার নামাজে অংশ নিতে রাজধানী ঢাকা-গাজীপুরসহ আশপাশের এলাকার লাখ লাখ মুসল্লি ইজতেমাস্থলে হাজির হন। ভোর থেকেই রাজধানীসহ আশপাশের এলাকা থেকে ইজতেমা মাঠের দিকে মানুষের ঢল নামে। দুপুর ১২টার দিকে ইজতেমা মাঠ উপচে আশপাশের খোলা জায়গাসহ সবস্থান জনসমুদ্রে পরিণত হয়।


শুক্রবার বাদ ফজর পাকিস্তানের মাওলানা ওসমানের আম বয়ানের মধ্যদিয়ে ইজতেমার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তা বাংলায় তরজমা করবেন মাওলানা জিয়া বিন কাসিম।

আজ জুমার পর সংক্ষিপ্ত বয়ান করবেন কাকরাইলের শুরা সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম, আসরের পর বয়ান করবেন মাওলানা সাদ সাহেবের মেঝ ছেলে মাওলানা সাঈদ বিন সাদ কান্দলভী, মাগরিবের পর বয়ান করবেন মাওলানা ইউসুফ বিন সাদ কান্দলভী।


গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোল্যা নজরুল ইসলাম বলেন, বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের মতো দ্বিতীয় পর্বেও ব্যাপক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আগত মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুরো ইজতেমা ময়দানকে কয়েকটি সেক্টরে ভাগ করে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে ময়দানের আশপাশে ৭ হাজার ৫৩৯ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করছে। ইজতেমাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রথম পর্বে যেসব নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল এবারও ঠিক আগের মতোই নিরাপত্তা ব্যবস্থা অটুট থাকবে।

বাস, ট্রাক, ট্রেন বা পায়ে হেঁটে টুপি-পাঞ্জাবি পরিহিত তাবলীগ জামাতের অনুসারীরা টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে আসছেন। মানুষের এ স্রোত এখনও অব্যাহত রয়েছে। রোববার আখেরি মোনাজাতের আগ পর্যন্ত মানুষের এ আগমন অব্যাহত থাকবে। 

 

;