মুসলিম জনসংখ্যায় শীর্ষ পাঁচ দেশ



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
মুসলিম জনসংখ্যায় শীর্ষ পাঁচ দেশ

মুসলিম জনসংখ্যায় শীর্ষ পাঁচ দেশ

  • Font increase
  • Font Decrease

পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্ম ইসলাম। প্রায় ১.৯ বিলিয়ন মানুষ এক আল্লাহর একত্ববাদের সাক্ষী দেয়, এক আল্লাহকে সিজদা করে। মুসলমানদের ৬৬ শতাংশই এশিয়ায় বসবাস করেন। জনসংখ্যা হিসেবে এখানে শীর্ষ পাঁচ দেশের নাম উল্লেখ করা হলো-

ইন্দোনেশিয়া
প্রায় সাড়ে সতেরো শ’ দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে গঠিত ইন্দোনেশিয়ায় ২৫৭ মিলিয়ন মানুষের বসবাস। নিজেদের ভাব আদান-প্রদানের মাধ্যম হিসেবে তিন শতাধিক আঞ্চলিক ভাষার প্রচলন রয়েছে দেশটিতে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো- এ দেশের শতভাগ মানুষ এক ও একত্ববাদের সেতুবন্ধনে আবদ্ধ। সকাল-সন্ধ্যায় চার লক্ষাধিক মসজিদ থেকে সমস্বরে গুঞ্জরিত হয় একত্ববাদের ডাক, রেসালাতের পয়গাম। ৩০ হাজার মুসল্লি ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন এশিয়ার সর্ববৃহৎ মসজিদ ‘বাইতুর রহমান’ এখানেই অবস্থিত। আল ইরশাদুল ইসলামি, ইকরা এবং জমিয়াতুল খাইর নামে তিনটি ভিন্ন ভিন্ন কারিকুলামে প্রায় ৫০ মিলিয়ন তালিবুল ইলম সরকারি ব্যবস্থাপনায় ইলমে দ্বীন শিক্ষা করে।

ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম সুমাত্রায় অবস্থিত একটি মসজিদ

 

গরিষ্ঠসংখ্যক মুসলমান শাফেয়ি মাজহাবের অনুসারী হওয়ায় এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শাফেয়ি মাজহাবের বইপত্রের চর্চা করা হয়। খ্রিস্টীয় ১৩ শতকে ইন্দোনেশিয়ায় ইসলামের বিকাশ ঘটে। যা এখন পৃথিবীর সর্ববৃহৎ মুসলিম অধ্যুষিত দেশ।

গোটা পৃথিবীর মুসলিম জনসংখ্যার শীর্ষস্থানে থেকে প্রায় ১২ শতাংশ মুসলমানকে পরিবেষ্টন করে রেখেছে দেশটি। যা গড়ে ২২৯ মিলিয়নের কাছাকাছি। ধর্মীয় মূল্যবোধ ও ইসলামি চিন্তা-চেতনা লালন করে এমন বেশ কিছু ধর্মীয় সংগঠন সক্রিয় ভূমিকায় রয়েছে মুসলমানদের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে। যাদের মধ্যে নদওয়াতুল উলামা ইন্দোনেশিয়া, কনসালটেটিভ কাউন্সিল অব ইন্দোনেশিয়া মুসলিমস বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

পাকিস্তান
পাকিস্তানে প্রায় ২০ কোটি লোকের বসবাস। যার প্রায় ৯৭ শতাংশ মুসলমান। বেশিরভাগই সুন্নি মুসলমান। তবে অন্যান্য মুসলিম দেশের বিচারে শিয়াদের সংখ্যাও কম নয়। জানা যায়, ইরানের পর সব থেকে বেশিসংখ্যক শিয়ার অবস্থান পাকিস্তানেই। এ ছাড়া আহমদিয়া মুসলিম জামাত এবং বেশ কিছু সুফিবাদী ধর্মতত্ত্বের অনুসারীও রয়েছে। ভারত বিভক্তির মধ্য দিয়েই মূলত পাকিস্তানে মুসলমানদের উত্থান ঘটে। ২৫ লাখ মসজিদে পরিবেষ্টিত এই দেশকে মসজিদের দেশ বলা হয়।

শাহ ফয়সাল মসজিদ পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় এবং জাতীয় মসজিদ

 

নিউ ইয়র্ক টাইমসের রিপোর্ট মতে, ২০০৯ সালে পাকিস্তানে সরকারি নিবন্ধিত মাদরাসার সংখ্যা ছিল ১২ হাজার এবং চলতি বছর এপ্রিলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের পক্ষ থেকে সরকারি খরচে ৩০ হাজার মাদরাসা করার ঘোষণা করা হয়। বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া পাকিস্তানের আওতাধীন এই মাদরাসাগুলোতে দেওবন্দি কারিকুলামে মাজহাবে হানাফিভিত্তিক পাঠদান করানো হয়। যার মধ্যে দারুল উলুম হক্কানিয়া, দারুল উলুম করাচি, জামিয়া আশরাফিয়া, জামিয়াতু উলুমিল ইসলামিয়া বিন্নুরি টাউন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বিশ্বব্যাপী গোটা মুসলিম জনসংখ্যার ১১ শতাংশ মুসলমানের বসবাস এই ভূমিতে, যা প্রায় ২০০ মিলিয়নের কাছাকাছি।

ভারত
জনসংখ্যার বিচারে চীনের পর সব থেকে বেশি মানুষের বসবাস ভারতে। পাহাড়, নদী, সাগর পরিবেষ্টিত এই অনন্য সুন্দর লীলাভূমিতে প্রায় ১.৪০ মিলিয়ন মানুষের বসবাস। যার প্রায় ১৬ শতাংশ মুসলমান। ১৫ হিজরিতে হজরত ওমর (রা.)-এর শাসনামলে হিন্দুস্তানের বাতাসে পবিত্র কালেমার সুরের মূর্ছনা তুলতে থাকে একত্ববাদের ঝাণ্ডাবাহীরা। পরবর্তী সময়ে ১৭ বছরের ইমানি চেতনায় উজ্জীবিত যুবক মুহাম্মদ বিন কাসিমের হাতে এই পুণ্যভূমি মুসলমানদের হস্তাধীন হয়। তিন লক্ষাধিক মসজিদের মিনার ‘আশহাদুআল্লাইলাহা’র ধ্বনিতে দৈনিক পাঁচবার ধ্বনিত হয়। প্রাচীন মুসলিম ঐতিহ্যের স্বাক্ষর বহন করে দাঁড়িয়ে আছে অসংখ্য মুসলিম স্থাপনা। যার মধ্যে দিল্লি জাসে মসজিদ দিল্লি, হায়াত বকশি হায়দারাবাদ এবং আগ্রার তাজমহল অন্যতম।

ভারতে অবস্থিত বিশ্ববিখ্যাত ইসলামি বিদ্যাপীঠ দারুল উলুম দেওবন্দ

 

বিশ্ববিখ্যাত ইসলামি বিদ্যাপীঠ দারুল উলুম দেওবন্দসহ অসংখ্য ইসলামি শিক্ষার অনন্য সাধারণ পুষ্পকানুনগুলো বিশ্ব মুসলমানের কাছে তাদের ধর্মীয় আস্থার প্রতীক। পৃথিবীর অর্ধশতাধিক দেশে দারুল উলুম দেওবন্দের নীতি-আদর্শের অনুকরণে দেওবন্দি কারিকুলামে শিক্ষাব্যবস্থা পরিচালিত হয়। রাষ্ট্রীয়ভাবে ধর্মীয় অনুশাসন না থাকলেও শাস্ত্রীয় চর্চা এবং আধ্যাত্মিকতার বিকাশে হিন্দুস্তানের মুসলমানদের অবস্থান অনেক মুসলিম দেশকে ছাড়িয়ে আছে। একথা দাবি করলেও অমূলক হবে না যে, পুরো উপমহাদেশের প্রধান প্রধান ধর্মীয় কার্যক্রমগুলো যেমন- তালিম, তাবলিগ, তাজকিয়া বা আত্মশুদ্ধির মেহনতের নির্মল প্রস্রবণ ধারা হিন্দুস্তানের এই পুণ্যভূমি থেকেই প্রবাহিত। এছাড়া এমনসব বরেণ্য ইসলামি মনীষীর স্বাক্ষর আঁকা রয়েছে এ মাটিতে, যার একজনও ভারতের ইসলামি গৌরব রক্ষার যথার্থ উপমা হতে পারেন।

বিশ্ব মুসলিম জনসংখ্যার ১১ শতাংশ মুসলমানের আবাস ভারতে। যা প্রায় ১৮৯ মিলিয়নের কাছাকাছি। পিও রিচার্স সেন্টারের গবেষণা মতে, সম্ভাবনাময় মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ভারত রয়েছে দুই নম্বরে। ২০৬০ সাল নাগাদ ভারতের সর্ববৃহৎ জনগোষ্ঠী হতে পারে মুসলমান।

বাংলাদেশ
বিশ্ব মুসলিম পরিবারের বৃহৎসখ্যক মুসলমান যেসব দেশে বসবাস করছে তার চার নম্বরে রয়েছে আমাদের বাংলাদেশ। এক লাখ ৪৭ হাজার বর্গকিলোমিটারজুড়ে প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি মানুষের বসবাস। যার ৯২ শতাংশ মুসলমান। হজরত শাহজাহান, শাহ পরান ও হাজি শরীয়াতুল্লাহর সময় এ দেশে ৬২০ খ্রিস্টাব্দে ইসলামের সূর্য উদিত হয়। পরবর্তীতে দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক টানাপড়েনের পর ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষিত হয়।

তাবলিগ জামাতের বার্ষিক বিশ্ব ইজতেমা বাংলাদেশের টঙ্গীতে অনুষ্ঠিত হয়

 

দেশব্যাপী দুই লাখ ৫০ হাজারের বেশি মসজিদের মধ্যে শুধু ঢাকা শহরে রয়েছে পাঁচ হাজার ৭৭৬টি মসজিদ। যাকে মসজিদের শহর বলা হয়। ষাট গম্বুজ, বাঘা মসজিদসহ অন্য ঐতিহাসিক স্থাপত্যগুলো এ দেশের প্রাচীনতম মুসলিম ঐতিহ্যের অনন্য নিদর্শন।

ধর্মীয় শিক্ষার বৃহত্তর অংশ পরিচালিত হয় দেওবন্দি কারিকুলামে, কওমি মাদরাসাভিত্তিক পাঠ্যসূচির মাধ্যমে। দেশের সর্ববৃহৎ কওমি শিক্ষা বোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের অধীন ১০ সহস্রাধিক মাদরাসা রয়েছে। এর আগে কওমি শিক্ষাব্যবস্থার কোনো সরকারি স্বীকৃতি না থাকলেও বর্তমান সরকার একে মাস্টার্স সমমান স্বীকৃতি দান করেছে। এছাড়া সরকারি আলিয়া মাদরাসা ও ইসলামিক ইউনিভার্সিটি রয়েছে বেশ কয়েকটি।

বিশ্বব্যাপী তাবলিগ জামাতের বার্ষিক বিশ্ব ইজতেমা এ দেশেই টঙ্গিতে অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া বেশ কিছু অরাজনৈতিক ইসলামি সংগঠন মুসলমানদের ধর্মীয় অনুপ্রেরণা ও মূল্যবোধের বিকাশে তৎপর ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। পৃথিবীর গোটা মুসলিম পরিসংখ্যানের ৯.২ শতাংশ মুসলমানের বসবাস ছোট্ট এই দেশটিতে। যা গড়ে ১৫৩.৭ মিলিয়নের কাছাকাছি।

নাইজেরিয়া
পৃথিবীর জনবহুল ১০ দেশের তালিকার সাত নম্বরে রয়েছে নাইজেরিয়া। পৃথিবীর একাদশতম সুদীর্ঘ নাইজার নদীর নামকরণে এ দেশের নাম নাইজেরিয়া রাখা হয়। জাত-প্রজাত বৈচিত্র্যে প্রায় ২৫০ ধরনের আদিবাসীর বসবাস আফ্রিকার সর্ববৃহৎ দেশ নাইজেরিয়ায়।

নিষ্ঠার সঙ্গে ধর্ম পালনে নাইজেরিয়ার মুসলমানদের সুনাম রয়েছে 

 

পাঁচ শতাধিক আঞ্চলিক ভাষায় এ দেশের মানুষ নিজেদের ভাব আদান-প্রদান করে। দেশের টোটাল জনসংখ্যা ১৯৪ মিলিয়ন। খ্রিস্টান একাদশ শতাব্দীতে হজরত ওমর (রা.)-এর খেলাফত আমলে আফ্রিকা বিজয়ী উকবা বিন নাফে (রা.)-এর হাত ধরে এ দেশে ইসলামের প্রভাত রবি উদিত হয়, যা এখন দেশের সর্ববৃহৎ জনগোষ্ঠীর হৃদয়ের স্পন্দন।

ধর্মীয় চর্চার স্বতন্ত্র কোনো শিক্ষাব্যবস্থার প্রচলন না থাকলেও মিশ্র শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে এর ঘাটতি কিছুটা পূরণ হয়। তবে তাতে ইসলামি সভ্যতা-সংস্কৃতির উপস্থিতি খুবই কম। দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কোন্দল, অব্যবস্থাপনা এবং অর্থনৈতিক দুর্বলতাও এর অন্যতম কারণ হতে পারে। বিশ্ব মুসলিম পরিবারের ৫ শতাংশ মুসলমান এ দেশেই রয়েছে, যা প্রায় ১০০ মিলিয়নের কাছাকাছি।

   

সিলেটে শবে বরাতের রাতে দুই ওলির মাজারে মুসল্লীদের ভিড়



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সিলেট
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে পবিত্র শবে বরাত। ইবাদত-বান্দেগীর মধ্য দিয়ে পবিত্র এই রাতটি পালন করছেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। প্রতিবারের ন্যায় এবারো পবিত্র শবে বরাতে সিলেটের দুই ওলির মাজারে মুসল্লীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়।

রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার পর থেকেই সিলেটে নগরীর দরগাহ গেইট এলাকায় হযরত শাহজালাল (রহ.) ও খাদিমনগরের হযরত শাহপরান (রহ.) মাজারের হাজার হাজার মুসল্লী জড়ো হতে থাকেন। কেউ নফল নামাজ পড়ছেন কেউবা ওলির মাজার জিয়ারত করছেন।

জানা যায়, প্রতি বছরেই শবে বরাত উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা আসেন সিলেটের এই দুই ওলির মাজারে। এবারও এসেছেন তারা। এক মাজার থেকে আরেক মাজারে যাচ্ছেন এবং মহান আল্লাহ কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছেন।

সরেজমিনে রোববার দিবাগত রাতে হযরত শাহজালাল ও হযরত শাহপরান রহ. মাজারে গিয়ে দেখা যায়, মাজারে প্রবেশের প্রতিটি গেইটে মুসল্লিদের উপস্থিতি। একদিকে মুসল্লিরা প্রবেশ করছেন অন্যদিক দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন। কেউ কেউ মাজার মসজিদে ইবাদত করছেন, কেউবা মাজার জিয়ারত ও পার্শ্ববর্তী কবরস্থান জিয়ারত করছেন। মাজার এলাকায় ঘুরাঘুরিও করছেন অনেকে।

শবে বরাত রাতকে কেন্দ্র করে মাজারের বাইরের দোকানগুলোতে বিভিন্ন ধরনের টুপি, আগরবাতি, মোমবাতি, আতর গোলাপজল, তাসবীসহ নানা পণ্যের পসরা নিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়াও মাজারের প্রবেশপথগুলোতে সারিবদ্ধ ভিক্ষু ছিল চোখে পড়ার মতো। বিভিন্ন জেলা থেকে ভিক্ষুকরা অধিক ভিক্ষা পাওয়ার আশায় এখানে এসে ভিড় জমান। ঝুলি নিয়ে বসে থাকা ভিক্ষুকদেরকে মাজারে আসা লোকজনও নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অর্থকরী দান করেন।

;

কটিয়াদীতে যথাযথ মর্যাদায় পালিত হচ্ছে শবে বরাত



উপজেলা করেসপন্ডেন্ট, বার্তা ২৪.কম, কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ)
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় যথাযোগ্য মর্যাদায় পবিত্র শবেবরাত পালিত হয়েছে।

রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে শবে বরাত উপলক্ষ্যে মসজিদে মসজিদে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে৷ কটিয়াদীর কেন্দ্রীয় মসজিদ কলামহাল জামে মসজিদে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে৷  কবরস্থানগুলোয় ছিল মুসল্লিদের ভিড়। 

নামাজ শেষে মানুষ আত্মীয়স্বজনের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দোয়া দরুদ পাঠ ও তাদের জান্নাত নসিব করার জন্য আল্লাহর দরবারে মোনাজাত করেন। এছাড়াও উপজেলার সবগুলো মসজিদে মুসল্লিতে ভরপুর ছিল৷ 

হিজরী বর্ষের শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতটি বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ পবিত্র শবে বরাত বা সৌভাগ্যের রজনী হিসেবে পালন করেন। মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য এ রাত ‘লাইলাতুল বরাত’ হিসেবে পরিচিত।

মহান আল্লাহ তায়ালার রহমত লাভের আশায় ধর্মপ্রাণ মুসলমান নর-নারীরা যার যার ঘরেও রাতভর মগ্ন ছিলেন ইবাদত বন্দেগিতে। অনেকে নফল রোজা রেখেছেন। সারা বিশ্বের মুসলমানদের কাছে সওয়াব হাসিল আর গুনাহ থেকে পানাহ চাওয়ার রাত হিসেবে শবে বরাতের মর্যাদা অতুলনীয়। তাই নফল ইবাদত, কোরআন তেলাওয়াত, ইবাদত বন্দেগি, জিকির-আসকার, করব জিয়ারত আর বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে ফজিলতের এই রাত পালন করছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। 

বিশেষ মোনাজাতে মসজিদে মসজিদে মুসল্লিদের মাঝে কান্নার রোল পড়ে যায়। দেশের সুখ সমৃদ্ধি উন্নতি ও মুসলিম উম্মার কল্যাণ কামনা করে মসজিদগুলোতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে মুসল্লিরা মোনাজাতে অংশ নেন।

মিলাদ মাহফিলে নামাজ, রোজা ও শবে বরাতের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করা হয়। মসজিদের বাইরেও বিভিন্নস্থানে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে আয়োজন ছিল আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের। এশার নামাজের পর মুসল্লিরা মসজিদে মসজিদে রাতভর নফল নামাজ ও আল্লাহর দরবারে গুনাহ মাফ চেয়ে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করেছেন।

;

পবিত্র শবে বরাত রোববার



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
পবিত্র শবে বরাত রোববার

পবিত্র শবে বরাত রোববার

  • Font increase
  • Font Decrease

আগামীকাল রোববার (২৫ ফেব্রুযারি) দিবাগত রাতে সারাদেশে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় পবিত্র শবে বরাত পালিত হবে।

হিজরি সালের শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতটি মুসলমানরা শবে বরাত বা সৌভাগ্যের রজনী হিসেবে পালন করে থাকেন। এ রাতটি ‘লাইলাতুল বরাত’ হিসেবেও পরিচিত।

পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। এ উপলক্ষে আগামী সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সরকারি ছুুটি থাকবে।

এ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকটে মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতির প্রেক্ষিতে আসন্ন পবিত্র রমজানে সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসতে বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আর কিছু দিন পরই আসছে পবিত্র রমজান মাস। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকটের জন্য দেখা দিয়েছে মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি। এ প্রেক্ষিতে সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসতে আমি বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। পরম করুণাময় সকল সংঘাত-সংকট থেকে বিশ্ববাসীকে রক্ষা করুন।’

রাষ্ট্রপতি পবিত্র শবেবরাত মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত মহিমান্বিত ও বরকতময় এক রজনী উল্লেখ করে এ উপলক্ষ্যে দেশবাসীসহ সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক মোবারকবাদ জানিয়েছেন।

অপর এক পৃথক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পবিত্র শবেবরাতের মহাত্মে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানবকল্যাণ ও দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আসুন, সকল প্রকার অন্যায়, অনাচার, হানাহানি ও কুসংস্কার পরিহার করে আমরা শান্তির ধর্ম ইসলামের চেতনাকে ব্যক্তি, সমাজ ও জাতীয় জীবনের সকল স্তরে প্রতিষ্ঠা করি।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মহান আল্লাহতায়ালা পবিত্র শবেবরাত রাতকে অনন্য মর্যাদা দিয়েছেন। হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও এ রাতের ইবাদত উত্তম। এই রাতে আল্লাহর অশেষ রহমত ও নিয়ামত বর্ষিত হয়। পবিত্র এই রাতে ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে আমরা মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারি। অর্জন করতে পারি তাঁর অসীম রহমত, নাজাত, বরকত ও মাগফেরাত।

প্রধানমন্ত্রী পবিত্র এই রজনীতে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ ও মুসলিম জাহানের উত্তরোত্তর উন্নতি, শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেছেন।

এ রাতে বাসাবাড়ি ছাড়াও মসজিদে মসজিদে নফল নামাজ, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

পবিত্র শবে বরাত ১৪৪৫ হিজরি উপলক্ষ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে ওয়াজ, দোয়া মাহফিল, পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, হামদ নাতসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে।

রোববার এ উপলক্ষে বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে ‘পবিত্র শবে বরাতের ফজিলত ও তাৎপর্য’ শীর্ষক ওয়াজ করবেন জাতীয় মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা মুফতী মোহাম্মদ রুহুল আমীন।

রাত ৮টা ৫০ মিনিটে ‘পবিত্র কুরআন ও হাদিসের আলোকে লাইলাতুল বরাতের শিক্ষা ও করণীয়’ শীর্ষক ওয়াজ করবেন মাদারীপুর জামেআতুছ সুন্নাহ শিবচরের মুহতামিম হযরত মাওলানা নেয়ামত উল্লাহ ফরিদী।

রোববার দিবাগরাত সাড়ে ১২টায় ‘আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে করণীয়’ শীর্ষক ওয়াজ করবেন ঢাকার বাদামতলীর শাহাজাদ লেন জামে মসজিদের খতীব শায়খুল হাদিস মুফতী নজরুল ইসলাম কাসেমী। আর রাত ৩ টা ১৫ মিনিটে ‘নফল নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত’ শীর্ষক ওয়াজ করবেন বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদ সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুফতী মো. মিজানুর রহমান।

আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে ভোর সাড়ে ৫ টায়। মোনাজাত পরিচালনা করবেন বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদ সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুফতী মো. মিজানুর রহমান।

বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও রেডিও এ উপলক্ষে ধর্মীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে।

এ রাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ মহান আল্লাহর রহমত ও নৈকট্য লাভের আশায় নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির, ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিলসহ এবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে কাটাবেন।

মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে মুসলমানরা বিশেষ মোনাজাত করবেন।

;

বিশ্বকল্যাণ পাবলিকেশন্সের দুই যুগ পূর্তিতে সম্মাননা পেলেন বিশিষ্ট লেখকরা



নিজস্ব প্রতিবেদক, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ইসলামি ধারার সৃজনশীল প্রকাশনী বিশ্বকল্যাণ পাবলিকেশন্সের দুই যুগ পূর্তি উপলক্ষে সম্মাননা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর পুরানা পল্টন কালভার্ট রোডে ডিআর টাওয়ার মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট লেখক ও মুহাদ্দিস মাওলানা লিয়াকত আলী। মাসউদুল কাদির ও শেখ মুহাম্মদ রিয়াজের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মাসিক মুসলিম নারী পত্রিকার সম্পাদক ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল।

ক্বারী ইলিয়াস লাহোরীর তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে ভাষা শহীদদের মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়। ফাঁকে ফাঁকে হামদ- নাত ও ইসলামি সংগীতে প্রাণবন্ত হয়ে উঠে অনুষ্ঠান।

বিশিষ্ট ইসলামি স্কলার ড. অ. ফ. ম. খালিদ হোসেন ছাড়াও সংবর্ধিত লেখকরা বক্তব্য দেন। তারা লেখালেখি ও প্রকাশনা শিল্পের সংকট ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। জাতির ক্রান্তিকালে লেখকদের একতাবদ্ধ হয়ে লেখালেখি করার আহ্বান জানান বক্তারা। প্রকাশকদের উদার মনে লেখকদের মূল্যায়নের আহ্বান জানান। লেখক-প্রকাশকদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক প্রকাশনা শিল্পকে এগিয়ে নেবে বলে মনে করেন বিশিষ্টজনেরা।

ইসলামি ও মৌলিক সাহিত্য রচনায় বিশেষ অবদানের জন্য সম্মাননা পেয়েছেন: মাওলানা লিয়াকত আলী, মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী, মুফতী মুহাম্মদ তৈয়্যেব হোসাইন, মুফতী মুবারকুল্লাহ, ড. আহমদ আবদুল কাদের, মাসুদ মজুমদার, নূরুল ইসলাম খলিফা, অধ্যাপক এম. মুজাহিদুল ইসলাম, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম, আবদুল কাদির সালেহ, আবু রেজা মো. ইয়াহিয়া, ফরীদ আহমদ রেজা, মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, ড. মুহাম্মদ সোলায়মান, মুহাম্মদ এনায়েত আলী, ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল, ড. সালেহ মতীন, মো. শরীফ হোসেন, ড. মুহাম্মদ নুরউদ্দিন কাওছার, মাওলানা মুহাম্মদ মহিউদ্দীন, মুহাম্মদ মনজুরে মাওলা, শেখ মো. রিয়াজ উদ্দিন, মো. খায়রুল হাসান, জহির উদ্দিন বাবর, মাওলানা মুনীরুল ইসলাম, আইয়ূব বিন মঈন, মাসউদুল কাদির, মুফতী ফারুক আহমাদ, মুফতী মাহফূযুল হক, মাওলানা আহমাদুল্লাহ, কাজী সিকান্দার, সাইফুল হক।

অনুবাদ সাহিত্যে বিশেষ অবদান রাখায় উৎসাহ প্রদানে সম্মাননা পেলেন মুফতী আবু সাঈদ, মুফতি আবু উসায়মা আখতার, মুফতী আমিনুল ইসলাম আরাফাত, মুফতী শরীফুল ইসলাম, মাওলানা হেদায়াতুল্লাহ, মুফতী আশরাফ আলী, মুহাম্মদ আনিসুর রহমান। ইসলামি সাহিত্য ও প্রকাশনা শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সম্মাননা দেওয়া হয় মাসিক মদীনার সম্পাদক মাওলানা মহিউদ্দীন খান রহ. (মরণোত্তর), এমদাদিয়া লাইব্রেরীর আব্দুল হালিম ও ইসলামিয়া কুতুবখানার মাওলানা মোহাম্মদ মোস্তফা।

অনুষ্ঠানে বই পাঠ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে প্রথম পুরস্কার বিজয়ীকে পবিত্র ওমরার ব্যবস্থা, দ্বিতীয় বিজয়ীকে ল্যাপটপ ও তৃতীয় বিজয়ীকে স্মার্টফোন দেওয়া হয়। এছাড়া আরও ৪০ জন বিজয়ী পুরস্কার লাভ করেন। বই পাঠ প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছেন ঢাকার মোস্তাফিজুর রহমান, দ্বিতীয় খুলনার উম্মে হাবিবা এবং তৃতীয় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ইশতার জাহান। অনুষ্ঠানে কাজী সিকান্দার রচিত ‘লেখক হওয়ার ব্যাকরণ’ এবং মো. শরীফ হোসেন রচিত ‘চিন্তাগুলো যাক ছড়িয়ে’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। বিশ্বকল্যাণ পাবলিকেশন্সের লেখক ও পাঠকদের পক্ষ থেকে ইসলামি সাহিত্য ও প্রকাশনা শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য প্রকাশনাটির স্বত্বাধিকারী মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে দেওয়া হয় বিশেষ সম্মাননা।

;