পরিবেশবান্ধব মসজিদ



ড. ইকবাল কবীর মোহন, অতিথি লেখক, ইসলাম
কুবা মসজিদ, মদিনা। সৌদি আরবের মদিনায় নির্মিত প্রথম পরিবেশবান্ধব মসজিদ

কুবা মসজিদ, মদিনা। সৌদি আরবের মদিনায় নির্মিত প্রথম পরিবেশবান্ধব মসজিদ

  • Font increase
  • Font Decrease

মসজিদ মুসলমানদের ইবাদত-বন্দেগি এবং মানসিক প্রশান্তির স্থান। একজন মুসলমানের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে মসজিদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বেশিরভাগ মুসলমান প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে জামাতের সঙ্গে আদায় করেন। বিশ্বের এমন কোনো দেশ নেই যেখানে মসজিদ দেখতে পাওয়া যায় না। মুসলিম দেশ তো বটেই, অমুসলিম দেশেও মসজিদের অভাব নেই। লাখ লাখ মসজিদের মিনার থেকে প্রতিদিন উচ্চারিত হয় আজানের সুমধুর ধ্বনি।

মসজিদগুলোর মধ্যে কতগুলো সাধারণ মিল থাকলেও দেশ, পরিবেশ ও জনসংখ্যাভেদে মসজিদের আকার, আকৃতি, গঠনপ্রণালী, শৈল্পিক ও স্থাপত্যকলায় পরিলক্ষিত হয় নানা বৈচিত্র্য। আধুনিক যুগে মসজিদ নির্মাণের বেলায় আরও কতগুলো জরুরি বিষয় সামনে এসেছে। সময়ের চাহিদার সঙ্গে মিল রেখে এর ব্যবস্থাপনা, ব্যয় নির্বাহে আসছে আধুনিকতা। বিশেষ করে প্রাকৃতিক পরিবেশের সুরক্ষা বিবেচনায় রেখে এখন ভিন্ন আঙ্গিকে তৈরি হচ্ছে মসজিদ।

আধুনিক বিশ্ব ভয়াবহ পরিবেশ দূষণের ভারে বিপর্যস্ত। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বে বেড়েছে দূষণ ও বংশগত পরিবর্তন। বৃদ্ধি পেয়েছে বৈশ্বিক উষ্ণতা। ফলে পরিবেশ দূষণের শিকার হচ্ছে অগণিত মানুষ, প্রাণী জাতি ও উদ্ভিদ। গ্রিন হাউস অ্যাফেক্টের কারণে মানবসভ্যতা একটি চরম অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হচ্ছে।

ফলে পৃথিবীর দেশে দেশে পরিবেশবাদী মানুষ, চিন্তাশীল বিজ্ঞানী ও দার্শনিকরা পরিবেশ সংকট নিয়ে চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে কাটাচ্ছেন এবং এই সংকট উত্তরণের উপায় উদ্ভাবনের নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। পরিবেশ দূষণের করালগ্রাস থেকে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য দেশে দেশে বনায়ন ও সবুজায়নসহ কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য চলছে নানা উদ্যোগ। তৈরি হচ্ছে পরিবেশবান্ধব মিল-কারখানা, অফিস-বাড়ি। পণ্যসামগ্রীর মোড়ক পরিবেশসহনীয় করার জন্যও নেওয়া হচ্ছে কৌশল। এই লক্ষ্য সামনে রেখেই অনেক দেশ পরিবেশবান্ধব মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নিচ্ছে।

‘পরিবেশবান্ধব’ কথা দ্বারা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর নয় এমন অবস্থাকে বোঝায়। অতএব, পরিবেশবান্ধব মসজিদের অবকাঠামো এবং গঠনপ্রণালী এমন হবে, যা মুসল্লিদের সর্বোচ্চ পরিবেশগত উপকার সাধনে সক্ষম।

পরিবেশবান্ধব ধারণার বাস্তব প্রয়োগ হলো, কার্যক্ষেত্রে স্বল্প পরিমাণ শক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা, শক্তির অপচয় রোধ করা, নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপন্ন, কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনা, সবুজ বনায়ন এবং পানির পুনঃব্যবহারের কৌশল অবলম্বন করা। অর্থাৎ প্রাকৃতিক সম্পদের অপব্যয় ও অপচয় রোধ করে কম সম্পদে সর্বোচ্চ উপকার আদায় নিশ্চিত করা।

মহান আল্লাহ এবং ইসলামের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানি, বাতাস, সূর্যের আলোসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদ সতর্কভাবে ব্যবহার এবং এগুলোর অপব্যয় এবং অপচয় রোধ করার তাগিদ দিয়েছেন। আর এই মহৎ উদ্দেশ্য সামনে রেখেই পরিবেশবান্ধব মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ।

পরিবেশবান্ধব মসজিদের ধারণা নতুন কিছু নয়। আল্লাহর রাসুল (সা.) নির্মিত মদিনার মসজিদে নববী পরিবেশবান্ধব মসজিদের প্রকৃষ্ট উদাহরণ। বর্তমানে মুসলিম বিশ্বের কয়েকটি দেশ পরিবেশবান্ধব মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

কারণ মসজিদের সঙ্গে মুসলমানদের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। মুসল্লিরা দিন ও রাতে অন্তত দেড় থেকে দুই ঘণ্টা মসজিদে নামাজ ও জিকির-আজকারে সময় কাটান। কেউ কেউ আরও বেশি সময় নামাজ ও অন্যান্য ইবাদতে মসজিদে অবস্থান করেন। নিবিড় ও একনিষ্ঠভাবে মহান আল্লাহর ইবাদত করার সর্বোত্তম স্থান হলো- মসজিদ। তাই এর পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনা হওয়া চাই সবচেয়ে বেশি উন্নত এবং অবশ্যই পরিবেশবান্ধব। এখানে হাজার হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ পড়েন। ফলে মসজিদে দরকার হয় প্রচুর পানি, বিদ্যুৎ এবং যথেষ্ট শব্দসঞ্চালন ব্যবস্থা। বিপুলসংখ্যক মানুষের কাছে ইমামের খুতবা, কোরআন তেলাওয়াত পৌঁছানোর জন্য উন্নত শব্দসঞ্চালন ব্যবস্থা খুবই জরুরি।

এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, অজু ইবাদতের অত্যাবশ্যকীয় অংশ। মসজিদে বিপুলসংখ্যক মুসল্লির অজুর জন্য প্রচুর পানির প্রয়োজন হয়। তাই মসজিদ এমনভাবে তৈরি করা হবে, যেখানে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করা যায় এবং অজুর পানি পুনর্ব্যবহার করে অন্যান্য কাজে লাগানো যায়। কেননা, বিশুদ্ধ পানির অভাব বর্তমান পৃথিবীর একটি প্রকট সংকটে পরিণত হয়েছে। পানি আল্লাহর একটি বড় নেয়ামত। তাই পানির সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত এবং এর অপচয় রোধ খুবই প্রয়োজন। আল্লাহ পানিকে তার একটি নেয়ামত বলে ঘোষণা করেছেন। সুরা ওয়াকিয়ার ৬৮ ও ৬৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা যে পানি পান করো সে সম্পর্কে ভেবে দেখেছ কি? বৃষ্টিভরা মেঘ থেকে তোমরা কি তা বর্ষণ করো, না আমি বৃষ্টি বর্ষণকারী?’

পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে মানবজীবনে পানির গুরুত্ব ও অবদান সম্পর্কে মহান আল্লাহ জোর দিয়েছেন। তাই মসজিদে পানির অপচয় রোধে পুনর্ব্যবহারযোগ্য ব্যবস্থার প্রবর্তন করা খুবই জরুরি। অজুর পানি ব্যবহারের পর এই পানি আমরা মসজিদ এলাকার বাগানের গাছপালার পরিচর্যায় ব্যবহার করতে পারি।

খলিফা আল-তাজির মসজিদ, দুবাই। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দেইরাতে অবস্থিত পরিবেশবান্ধব মসজিদ 

পরিবেশবান্ধব মসজিদের অন্যতম একটি উপাদান হলো- বাগান। বাগানের গাছপালা ছায়া দিয়ে পরিবেশকে শুধু শীতলই রাখে না, শরীর সুস্থ রাখার জন্য প্রচুর অক্সিজেন সরবরাহ করে। বাগানের গাছে পাখি ও অন্যান্য কীটপতঙ্গ আশ্রয় তৈরি করে। তাই বাগান নির্মল পরিবেশের জন্য যেমন প্রয়োজন, তেমনি ইসলামি মূল্যবোধ ও ঐতিহ্য ধারণের উদ্দেশ্যে বাগানের বিশেষত্ব রয়েছে। বাগান সম্পর্কে পবিত্র কোরআনের সুরা তওবার ৭২ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ মুমিন পুরুষ ও নারীদের জান্নাতের (বাগান) ওয়াদা দিয়েছেন, যার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হবে নহরসমূহ, তাতে তারা চিরদিন থাকবে।’

সুরা আন-নিসার ১৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘আর যে আল্লাহ ও তার রাসুলের আনুগত্য করে আল্লাহ তাকে প্রবেশ করাবেন জান্নাতসমূহে (বাগান), যার তলদেশে প্রবাহিত রয়েছে নহরসমূহ।’ আল্লাহর রাসুল (সা.) ও বিষয়টির প্রতি অত্যধিক গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন, ‘যদি কোনো মুসলমান একটি গাছ লাগায়, তাতে ফল ধরে এবং এই ফল কোনো মানুষ বা পাখি খায়, তা হলে এটি তার জন্য সাদকা হিসেবে গণ্য হবে।’ –সহিহ বোখারি

এসব কারণে পরিবেশবান্ধব মসজিদের ধারণা এখন বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। পরিবেশবান্ধব মসজিদগুলোতে প্রাকৃতিক আলো ও বায়ু চলাচলব্যবস্থা থাকায় শীতাতপ, পাখা ও আলোর বাতির প্রয়োজন অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে। মসজিদে স্থাপিত সোলার ব্যবস্থার ফলে বিদ্যুতেরও সাশ্রয় হচ্ছে। ফলে বর্তমান বিশ্বে পরিবেশ দূষণের যে সংকট চলছে পরিবেশবান্ধব মসজিদগুলো সেখানে দর্শনীয় অবদানও রাখছে।

   

মোগল আভিজাত্যের প্রতীক যে মসজিদ



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
মোগল আভিজাত্যের প্রতীক যে মসজিদ, ছবি: সংগৃহীত

মোগল আভিজাত্যের প্রতীক যে মসজিদ, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলার ইতিহাসে মোগল অধ্যায়ের এক উজ্জ্বল নাম শাহ সুজা। সম্রাট আওরঙ্গজেবের ভাই শাহজাদা শাহ সুজা ছিলেন বাংলার সুবাদার। শাহ সুজা ১৬৩৯ থেকে ১৬৬০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলায় রাজত্ব করেন। তার শাসনামলের শেষ দিকে ১৬৫৮ খ্রিস্টাব্দে প্রাচীন জনপদ কুমিল্লার গোমতী নদীর তীরে তারই নামে নির্মিত হয় ইতিহাসখ্যাত শাহ সুজা মসজিদ।

মসজিদটি পাক-ভারত উপমহাদেশের প্রাচীন মসজিদগুলোর অন্যতম। আয়তনের দিক থেকে মসজিদটি খুব বেশি বড় না হলেও এর কৃষ্টি, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সার্বিক অবয়ব আভিজাত্যের প্রতীক বহন করে। এর বাহ্যিক কারুকাজ সে সময় এর প্রতিষ্ঠাতাদের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহতায়ালার প্রতি ব্যাপক আনুগত্য ও রুচির পরিচায়ক। মোগল আমলের ঐতিহ্য আর আভিজাত্যের প্রতীক কুমিল্লার (মোগলটুলী) শাহ সুজা মসজিদ যেন ইতিহাসের এক জ্বলন্ত প্রদীপ।

মসজিদটি কুমিল্লার অন্যতম স্থাপত্যশৈলী

ঐতিহাসিক গ্রন্থ ‘রাজমালা’য় ইতিহাসবিদ কৈলাস চন্দ্র সিংহ উল্লেখ করেন, ‘গোমতী নদীর তীরে কুমিল্লা নগরীর শাহ সুজা মসজিদ নামক একটি ইষ্টক নির্মিত বৃহৎ মসজিদ দৃষ্ট হয়ে থাকে। এ মসজিদ সম্পর্কে দু’ধরনের জনশ্রুতি আছে- প্রথমত, শাহ সুজা ত্রিপুরা রাজ্য জয় করে চিরস্মরণীয় হওয়ার জন্য এটি নির্মাণ করেন। দ্বিতীয়ত, ত্রিপুরার মহারাজা গোবিন্দ মাণিক্য বাংলার সুবাদারের নাম স্মরণীয় রাখার জন্য নিমচা তরবারি ও হিরকাঙ্গরীয়র বিনিময়ে বহু অর্থকড়ি ব্যয় করে এই মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন।’

যেভাবেই নির্মিত হোক না কেন, এটি কুমিল্লার অন্যতম স্থাপত্যশৈলী। মসজিদটি পড়েছে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে। স্থানীয়রা জানায়, মসজিদটির দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ ও স্থাপত্যকর্ম দর্শনার্থী ও মুসল্লিদের মুগ্ধ করে। বিশেষ করে জুমাবার, শবেবরাত, শবেকদরসহ বিশেষ দিনগুলোতে এখানে মুসল্লি ও দর্শনার্থীরা ভিড় জমায়। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে নতুন নতুন মুসল্লি যুক্ত হয়। এই মসজিদ মোগলটুলী এলাকাকে ভিন্নভাবে পরিচয় করিয়ে দেয়।

মসজিদটিতে ছয়টি মিনার আছে

মসজিদটিতে ছয়টি মিনার আছে। দৈর্ঘ্য ৫৮ ফুট, প্রস্থ ২৮ ফুট। মসজিদের চার কোণে চারটি অষ্টকোণাকার বুরুজ আছে। এগুলো কার্নিসের বেশ ওপরে উঠে গেছে। এর শীর্ষে আছে ছোট গম্বুজ। মসজিদের পূর্ব প্রাচীরে তিনটি এবং উত্তর ও দক্ষিণ প্রাচীরে একটি করে খিলানযুক্ত প্রবেশপথ আছে। প্রধান প্রবেশপথটি অপেক্ষাকৃত বড়। প্রবেশপথগুলোর উভয় পাশে ও ওপরে প্যানেল নকশা অলংকৃত। কিবলা প্রাচীরের পুরুত্ব ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি আর পূর্ব প্রাচীরের পুরুত্ব ৪ ফুট ২ ইঞ্চি। বারান্দার প্রস্থ ২৪ ফুট। এতে তিনটি মিহরাব রয়েছে। কেন্দ্রীয়টি অপেক্ষাকৃত বড় এবং অধিক আকর্ষণীয়। একটি ফুল, খোদাই করা লতাপাতার নকশা ও জ্যামিতিক নকশায় সে যুগের মননশীলতা প্রকাশ পায়।

দুই পাশে খিলান দিয়ে মসজিদের অভ্যন্তর তিন ভাগে বিভক্ত। মাঝের অংশটি বাইরের দিকে পূর্ব ও পশ্চিমে কিছুটা উদ্গত করে নির্মিত। এ অংশের চার কোণে চারটি সরু মিনার কার্নিসের ওপরে উত্থিত। অষ্টকোণাকার ড্রাম আকৃতির ওপর নির্মিত তিনটি গোলাকার গম্বুজ দিয়ে মসজিদের ছাদ ঢাকা। মাঝের গম্বুজটি অপেক্ষাকৃত বড়। মসজিদের শীর্ষেও একটি বড় গম্বুজ রয়েছে, যা একটি বিশাল ড্রাম আকৃতির কাঠামোর ওপর স্থাপিত। গম্বুজের ওপরে আছে পদ্ম ফুল ও কলসির নকশা। মসজিদের চার কোণে চারটি অষ্টভুজাকৃতির মিনারও আছে।

শাহ সুজা মসজিদ একটি প্রাচীন স্থাপত্য। শুধু কুমিল্লা নয়, এটি সারা দেশের মধ্যে নান্দনিক একটি মসজিদ। কালের সাক্ষী হয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে দৃষ্টিনন্দন এই মসজিদ।

;

হজ না করার পরিণাম



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
সামর্থ্য থাকার পরও হজ না করার পরিণাম খুব ভয়াবহ, ছবি: সংগৃহীত

সামর্থ্য থাকার পরও হজ না করার পরিণাম খুব ভয়াবহ, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

হজ শারীরিক ও আর্থিক ফরজ ইবাদত। হজ আদায়ে সক্ষম ব্যক্তির ওপর জীবনে একবার হজ করা ফরজ। আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘মানুষের মধ্যে যারা বায়তুল্লাহ পৌঁছার সামর্থ্য রাখে তাদের ওপর আল্লাহর জন্য এই গৃহের হজ করা ফরজ।’ -সুরা আলে ইমরান : ৯৭

হজ সব গোনাহ মুছে দেয়
বিভিন্ন হাদিসে হজের ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। যেমন- হজ পূর্ববর্তী সব গোনাহ মুছে দেয়। এ প্রসঙ্গে হজরত আবু হুরায়রা (রা.)-এর বর্ণনায় হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি হজ করে আর তাতে কোনোরূপ অশ্লীল ও অন্যায় আচরণ করে না, তার পূর্ববর্তী গোনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। -জামে তিরমিজি : ৮১১

অন্য বর্ণনায় হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, নবী কারিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য হজ করল এবং অশ্লীল কথাবার্তা ও গোনাহ থেকে বিরত থাকল, সে ওই দিনের মতো নিষ্পাপ হয়ে হজ থেকে ফিরে আসবে, যেদিন মায়ের গর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ হয়েছিল। -সহিহ বোখারি : ১৫২১

হজের প্রতিদান জান্নাত
হজে মাবরুরের প্রতিদান হলো জান্নাত। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, হজে মাবরুরের প্রতিদান তো জান্নাত ছাড়া আর কিছুই নয়। -সনহিহ বোখারি : ১৭৭৩

সামর্থ্য থাকার পরও হজ আদায়ে বিলম্ব করা
যার ওপর হজ ফরজ হয়েছে সে যদি মৃত্যুর আগে যেকোনো বছর হজ আদায় করে, তবে তার ফরজ আদায় হয়ে যাবে। কিন্তু হজের মৌলিক তাৎপর্য, যথার্থ দাবি ও আসল হুকুম হচ্ছে হজ ফরজ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আদায় করা। বিনা ওজরে বিলম্ব না করা।

কারণ যেকোনো সময় যেকোনো ধরনের বিপদ-আপদ, অসুখবিসুখের সম্মুখীন হওয়া বা মৃত্যুর ডাক এসে যাওয়া তো অস্বাভাবিক কিছু নয়। এ প্রসঙ্গে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘ফরজ হজ আদায়ে তোমরা বিলম্ব করো না। কারণ তোমাদের কারো জানা নেই তোমাদের পরবর্তী জীবনে কী ঘটবে।’ -মুসনাদ আহমদ : ২৮৬৭

হাদিসে কুদসিতে আছে, আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আমি আমার বান্দার শরীরকে সুস্থ রাখলাম, তার রিজিক ও আয়-উপার্জনে প্রশস্ততা দান করলাম। পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও যদি সে আমার গৃহে হজের উদ্দেশ্যে আগমন না করে তবে সে হতভাগ্য, বঞ্চিত।’ -ইবনে হিব্বান : ৩৬৯৫

হজ না করার পরিণাম
সামর্থ্য থাকার পরও হজ না করার পরিণাম খুব ভয়াবহ। ফরজ হজ ত্যাগ করলে ইহুদি-নাসারার মতো মৃত্যু হবে বলে হাদিসে সতর্ক করা হয়েছে। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি হজ আদায়ে সামর্থ্য থাকার পরও তা আদায় না করে সে ইহুদি হয়ে মৃত্যুবরণ করুক বা খ্রিস্টান হয়ে- তার কোনো পরোয়া নেই।’ -জামে তিরমিজি : ৮১২

তাই শেষ জীবনের ভরসায় না থেকে হজ ফরজ হওয়া মাত্রই যত দ্রুত সম্ভব তা আদায় করা উচিত।

;

ইমান পাকা করার গল্প শোনালেন মোহাম্মদ আলীর নাতি



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
মসজিদের হারামে বিয়াজিও ওয়ালশ, ছবি: সংগৃহীত

মসজিদের হারামে বিয়াজিও ওয়ালশ, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

কিংবদন্তি মুষ্টিযোদ্ধা (বক্সার) মোহাম্মদ আলীর নাতি বিয়াজিও ওয়ালশ। তিনিও একজন প্রখ্যাত মিক্সড মার্শাল আর্টস (এমএমএ) যোদ্ধা। সম্প্রতি মক্কা-মদিনা সফর করেছেন তিনি। আল আরাবিয়া ইংরেজির কাছে বর্ণনা করেছেন উমরা পালনের ‘অবিশ্বাস্য’ অভিজ্ঞতা। তিনি বলেছেন, এই অভিজ্ঞতা কখনো ভুলতে পারবেন না!

গত এপ্রিলে মধ্যপ্রাচ্যে একটি ঝটিকা সফরের সময় ২৫ বছর বয়সী বিয়াজিও মক্কায় যাত্রাবিরতি দেন এবং প্রথমবারের মতো পবিত্র উমরা পালন করেন।

মক্কা যাওয়ার পথে বিয়াজিও ওয়ালশের গাড়িচালক তার জন্য একজন গাইড জোগাড় করেছেন। এই গাইডই তাদের উমরার পুরো সময়টা সঙ্গ দেন। তবে এই গাইড ইংরেজিতে খুব দুর্বল। এই গাইড আরবিতে উচ্চ স্বরে দোয়া করার সময় ওয়ালশ তাকে অনুসরণ করেন এবং কাবার চারপাশ প্রদক্ষিণ করেন।

এই অভিজ্ঞতা বর্ণনায় ওয়ালশ বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে যিনি ছিলেন তিনি আসলে ইংরেজি বলতে পারেননি। কিন্তু তিনি আমাদের যা বলছিলেন সব আবৃত্তি করতে বললেন। আমি আমার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি, আমি সত্যিই আরবি বলতে পারি না। কিন্তু তিনি যা বলছিলেন তার সবই আবৃত্তি করছিলাম।’

ওয়ালশ বলেন, ‘আমাদের দারুণ কৌশলে গাইড করা হয়েছে। লোকেরা আমাদের আবৃত্তিতে চমকিত হচ্ছিল। এটি এমন একটি অভিজ্ঞতা যা আমি কখনই ভুলতে পারব না! আমি আশা করি, আমার পরিবার এটি অনুভব করতে পারবে।’

ওয়ালশ গত মার্চে আল আরাবিয়া ইংলিশকে বলেছিলেন, তিনি তার ইমান শক্ত করার একটি নতুন যাত্রায় ছিলেন। এবারের রমজান মাসে সবগুলো রোজাই করেছেন তিনি।

পবিত্র কাবার সামনে বিয়াজিও ওয়ালশ, ছবি: সংগৃহীত

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, উমরা ছিল তার জন্য সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানো এবং ইসলামের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের একটি সুযোগ। ওয়ালশ বলেন, ‘আমরা এক জীবনে এটাই করি। আমরা আরও আল্লাহর প্রতি সচেতন হতে, সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে এবং একজন ভালো মানুষ হওয়ার চেষ্টা করতে চাই।’

এই ক্রীড়াবিদ মনে করেন, আধ্যাত্মিকতা সম্পর্কে তার কথা বলা এবং ইসলাম গ্রহণ করায় লজ্জা না পাওয়া মুসলমানদের সম্পর্কে মানুষের ধারণায় পরিবর্তন আনতে সহায়তা করবে।

তার দাদা মোহাম্মদ আলীসহ অনেক ক্রীড়াবিদ আছেন, যারা মুসলিম হওয়া নিয়ে গর্ববোধ করতেন। তারা মুসলিম হওয়ার অর্থ কী সে প্রশ্নে একটি দুর্দান্ত দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন- যোগ করেন ওয়ালশ। এ সময় সাবেক রুশ মিক্সড মার্শাল আর্টিস্ট খাবিব আব্দুলমানাপোভিক নুরমাগোমেদভের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

গত এপ্রিলে ছিল সৌদি আরবে ওয়ালশের দ্বিতীয় সফর। গত ফেব্রুয়ারিতে কিংডম এরিনাতে অনুষ্ঠিত ডিএফএল চ্যাম্পিয়ন বনাম বেলেটর চ্যাম্পিয়নস ফাইট কার্ডের অংশ হিসেবে রিয়াদের এমএমএতে তরুণ পেশাদার ক্রীড়াবিদ হিসেবে ওয়েলশের আত্মপ্রকাশ ঘটে।

ওয়ালশ বলেন, তিনি সৌদি আরবের সমৃদ্ধ ইতিহাস সম্পর্কে আরও জানতে, সুস্বাদু স্থানীয় খাবার চেখে দেখতে এবং নতুন নতুন মানুষের সাক্ষাৎ উপভোগ করছেন।

;

সিলেট থেকে ছেড়ে গেল প্রথম হজ ফ্লাইট



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সিলেট
হজ ফ্লাইটের উদ্বোধন করেছেন প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ও সিলেট-২ আসনের এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী।

হজ ফ্লাইটের উদ্বোধন করেছেন প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ও সিলেট-২ আসনের এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী।

  • Font increase
  • Font Decrease

সিলেট থেকে মদিনায় হজ ফ্লাইটের উদ্বোধন করেছেন প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ও সিলেট-২ আসনের এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী।

বুধবার (২২মে) বিকেল ৩টায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রথম হজ ফ্লাইটের উদ্বোধন করেন তিনি।

উদ্বোধনী ফ্লাইটে ৩৮৯ জন হজযাত্রী নিয়ে বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে বিমানের বিজি-২৩৭ ফ্লাইটটি মদিনার উদ্দেশে সিলেট ছেড়ে যায়।

এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ডিস্ট্রিক ম্যানেজার শাহনেওয়াজ মজুমদার।

তিনি বলেন, ঢাকা থেকে ২৯ জন হজযাত্রী নিয়ে এসে ফ্লাইটটি সিলেটের ৩৬০ জনসহ মোট ৩৮৯ জন নিয়ে মদিনার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সূত্র জানিয়েছে, সিলেট অঞ্চলের হজযাত্রীদের জন্য এবার ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৫টি ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ৫টি ফ্লাইটে মোট ২ হাজার ৯৫ হজযাত্রী পরিবহন করা হবে। প্রথম দিনের ফ্লাইট ছাড়া বাকিগুলো পরিচালিত হবে সিলেট-জেদ্দা রুটে। বাকি চারটি ফ্লাইটের শিডিউল হচ্ছে আগামী ১, ৩, ৬ ও ৯ জুন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধর্মমন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থানীয় কমিটির সভাপতি মাওলানা হুছামুদ্দিন চৌধুরী এমপি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল এমপি এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী।

;