রমজানে পাপ ও অপচয়ের কুফল



ড. মাহফুজ পারভেজ, অ্যাসোসিয়েট এডিটর, বার্তা২৪.কম
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

রমজান মাসে ইবাদত ও ভালো কাজের জন্যে যেমন সুসংবাদ ও সুফল রয়েছে, রয়েছে বহুগুণ সাওয়াবে নিশ্চয়তা, তেমনি রমজানের মতো পবিত্র মাসে পাপ ও অপচয়ের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি ও বিপদ। বস্তুত পাপ ও অপচয় পরস্পর সম্পর্কিত। পাপ কাজে অর্থ, শরীর, স্বাস্থ্য, চাহিদা, সময় ব্যয় করা পাপ তো বটেই অপচয়ও বটে। অতএব যেকোনো পাপই সঠিক ব্যয়ে বদলে অপচয়কে চিহ্নিত করে। আবার যেকোনো অপচয়ই পাপের দিকে ধাবিত করে।

গভীরভাবে চিন্তা করলে অপচয় ও পাপের মধ্যে সম্পর্ক এবং অপচয়ের কারণে পাপের আধিক্য ও ধ্বংসের বিষয়গুলো বিভিন্ন ব্যক্তি ও জাতির জীবনে পরিলক্ষিত হয়। অপচয়ের মাধ্যমে সংঘটিত পাপের কারণে অতীতে বহু মানুষ ও জাতি ধ্বংস হয়ে গেছে। আল্লাহ সোবহানাহু তায়ালা অপচয়ের মতো ঘৃণিত পাপ থেকে বিরত থাকার জন্যে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ সোবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেছেন:

‘তোমরা অপব্যয় করো না, নিশ্চয় আল্লাহ অপব্যয়কারীকে পছন্দ করেন না’ (সুরা আনআম: আয়াত ১৪১)।

‘তোমরা অপচয় করো না। নিশ্চয় অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই আর শয়তান তার পালনকর্তার অকৃতজ্ঞ’ (সুরা বনী ইসরাঈল: আয়াত ২৬-২৭)।

অপচয় মানুষের একটি সহজাত প্রবৃত্তি। টাকা-পয়সা থাকলে সেটাকে কারণে-অকারণে খরচ করা মানুষের চরিত্রের বৈশিষ্ট্য। নিজের দম্ভ, আভিজাত্য, আর্থিক সাফল্য জাহির করার জন্য মানুষ অপচয়মূলক অনেক খরচ করে এবং যার মাধ্যমে নিজের প্রচার ও আমিত্বকে প্রদর্শন করতে চায়। নিঃসন্দেহে এই অপচয় একটি বড় পাপ, যা হিংসা, অহঙ্কার, গর্ব প্রভৃতি বড় বড় পাপের জন্ম দেয়। যে কারণে অপচয় ও অপব্যয় সম্পর্কে মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে।

সারা বছরের অপচয়-অপব্যয় এবং আমিত্ব রমজান মাসেও বহু লোক বহাল রাখে। বরং রমজান যে কৃচ্ছ্বতার মাস, এই মূল সত্যটিকেই অনেকে ভুলে যায়। বেশি বেশি খাবার, বিভিন্ন ধরনের পোষাক রমজানে অনেকের স্টাইলে পরিণত হয়। বহু খাবার নষ্ট করে ডাস্টবিনে ফেলে দিতেও দেখা যায়। বিশেষত ইফতার ও সাহরিতে বহু আইটেম সাজিয়ে রাখা হয়, যার অধিকাংশ অর্ধ-ব্যবহৃত হয়। অভাবী, অসহায় মানুষকে না দিয়ে খাবার নষ্ট করা বা কিয়দাংশ খেয়ে খাবার অপচয়-অপব্যয় করা ধর্মীয় দৃষ্টিতে যেমন বিরাট পাপ, তেমনি নৈতিক দিক থেকেও মহা অপরাধ। কারণ, মানুষকে অভুক্ত ও ক্ষুধার্ত রেখে অপচয়-অপব্যয় করার অধিকার কারোই থাকতে পারেনা। এহেন অপকর্ম দ্বীন, ধর্ম, আইন, কানুনের দিক থেকে শাস্তিযোগ্য হওয়াই উচিত।

অথচ আল্লাহ সোবহানাহু তায়ালার অনুগত ও নেক বান্দা অপচয়-অপব্যয়ের কাছ দিয়েও যাবে না, যেমনভাবে যাবে না পাপের কাছ দিয়েও। বরং তারা হবে এমন গুণে গুণান্বিত, যা আল্লাহ সোবহানহু তায়ালা পবিত্র কোরআনে বর্ণনা করেছেন:

‘এরা শুধু আল্লাহর ভালোবাসায় মিসকিন, এতিম ও কয়েদিদের খাবার দেয়। (খাবার দেবার সময় এরা বলে) আমরা শুধু আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির জন্য তোমাদের খাবার দিচ্ছি। আমরা তোমাদের কাছে কোনোরূপ প্রতিদান চাই না, না চাই কোনো রকম কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন। আমরা তো সে দিনটির বিষয়ে আমাদের মালিককে ভয় করি, যেদিনটি হবে অতীব ভয়ঙ্কর’ (সুরা দাহর: ৮-১০)।

মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন:

‘শেষ বিচারের দিবসে আল্লাহ তায়ালা বলবেন, হে আদম সন্তান, আমি তোমার কাছে খাবার চেয়েছি, তুমি আমাকে খাবার দাওনি। মানুষ বলবে, আপনাকে কিভাবে খাবার খাওয়াবো? আপনি তো জগতের প্রতিপালক। আল্লাহ তায়ালা বলবেন, তুমি কি জানো না, আমার অমুক বান্দা তোমার কাছে খাবার চেয়েছিল, তুমি তাকে খাবার দাওনি। যদি তুমি তাকে খাবার দিতে, তাহলে আমার কাছে তার সাওয়াব পেতে’ (মুসলিম শরিফ: ২৫৬৯)।

শুধু অর্থ-বিত্তের দিক থেকেই নয়, অন্যান্য দিক থেকেও রমজান মাসে রোজা রেখে অপচয়ে লিপ্ত হয় বহু মানুষ। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো অধিক ঘুমানোর মাধ্যমে মূল্যবান সময়ের অপচয়। অনেকেই রমজান মাসে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ঘুমানো দ্বারা রোজাকে হাল্কা এবং সময়ের অপচয় করে। বিশেষ করে, দিনের বেলায়। অনেক রোজাদার তাদের দিনগুলোকে আলস্য ও অবহেলায় অতিরিক্ত আরাম-আয়েশ, ঘুম ও বিশ্রামে কাটায়। আবার অনেকে অফিস-আদালতে বা কর্মক্ষেত্রে অযথা কথাবার্তা, আড্ডার মাধ্যমে রমজানের দামি সময়গুলোকে নষ্ট করে। বহুজন এমন আছে, যারা হাট-বাজারে মুখরোচক ও রসনা নিবৃত্তকারী খাবারের সন্ধানে রমজানের অধিকাংশ সময় নষ্ট করে ফেলে। আর মেয়েদের মধ্যে ঈদকে সামনে রেখে রমজানের বৃহদাংশ সময়ই মার্কেটিং-এর নামে অর্থ ও সময় অপচয় করার প্রবণতাও লক্ষণীয়।

বস্তুতপক্ষে, রমজানের সময় টাকা-পয়সা, সময় ইত্যাদি চার ধরনের পন্থায় অপচয় বা অপব্যয় হয়ে থাকে। যেগুলো হলো:

*   গোনাহের ক্ষেত্রে অপচয় হলো টিভি, মোবাইলে অশ্লীলতা দেখে বা পরচর্চা, পরনিন্দা ইত্যাদি গোনাহের মাধ্যমে রমজানের অতিমূল্যবান সময়কে অপব্যয়-অপচয় করে বোকার মতো সাওয়াবের বদলে পাপ কামানো এবং শাস্তির ভাগীদার হওয়া।

*   সরাসরি পাপ না করলেও আলস্য, অবহেলায় রমজানের মূল্যবান সময় নষ্টকারী, যারা রমজান পেয়েও আমল করতে না পারার জন্য আফসোসকারী হবে।

*   রমজানে ভোগ-বিলাসের জন্য কিংবা লোক দেখানোর জন্য খাবার, পোষাকে টাকা-পয়সা অপচয়কারী, যারা একই সঙ্গে শাস্তি ও আফসোসের শিকার হবে।

*   সামাজিকতা ও আনুষ্ঠানিকতার নামে নিজের সময়কে নষ্টকারীরা নিজের প্রয়োজনীয় আমল না করার জন্য ক্ষতির সম্মুখীন হবে।

অতএব, যেভাবে বা যে পন্থায় হোক, অপচয় সর্বদা পরিতাজ্য এবং পাপের নামান্তর। বছরের সব সময় তো বটেই, রমজানে অবশ্যই সময়, অর্থ, কথা, কাজ ইত্যাদি যাবতীয় ক্ষেত্রে অপচয় ও অপব্যয়ের কবল থেকে মুক্ত থাকা প্রতিটি রোজাদার নর-নারীর অবশ্য কর্তব্য। জীবনের সর্বক্ষেত্রে অর্থ, সময়, সম্পদ, শক্তি ও চরিত্রের অপচয়ের মাধ্যমে মানুষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষত, তরুণ-যুবকগণ এই অপচয়ের কুফলের কারণে জীবনের সাফল্য লাভে বঞ্চিত হয় এবং অতি মূল্যবান স্বাস্থ্য-সম্পদ হারায়। ফলে অনেকের জীবনের অবশিষ্ট দিনগুলো কাটে অপচয় ও পাপের মাধ্যমে অর্জিত ক্ষতির জন্য কষ্টকর যন্ত্রণা ভোগ করে এবং হায়-আফসোস করার মাধ্যমে।

এসব ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে রমজানে অধিকতর সতর্ক হতে হবে। অপচয় ও পাপ যে জীবনে আসতে না পারে, সেজন্য হুশিয়ার থাকতে হবে। বিশেষত মাহে রমজানে অপচয় ও পাপ এসে যেন মূল্যবান ও দামি সময় আর আমলের সুযোগ নষ্ট করতে না পারে, সেজন্য বিশেষভাবে তৎপর ও মনোযোগী থাকা প্রতিটি মুসলমান নর-নারীর একান্ত কর্তব্য হওয়া উচিত।   

   

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে হতে যাচ্ছে দেশের তৃতীয় বৃহৎ মসজিদ



ইবি প্রতিনিধি, বার্তা২৪.কম
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাসে নির্মাণাধীন মসজিদ, ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাসে নির্মাণাধীন মসজিদ, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাসে দুই দশমিক ২৫ হেক্টর জায়গাজুড়ে নির্মাণাধীন সুবিশাল মসজিদটি ক্যাম্পাসভিত্তিক সর্ববৃহৎ মসজিদ। নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে এশিয়া মহাদেশের সুন্দরতম মসজিদগুলোর একটি হবে এটি এবং দেশের তৃতীয় বৃহৎ মসজিদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে।

স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের দিকে তাকালে যে কারও ভালোলাগা কাজ করবে। দূর থেকে দেখলে শুধু চেয়ে থাকতে ইচ্ছে করবে এই ধর্মীয় স্থাপনাটির দিকে। নির্মাণকাজ শেষ হলে এই মসজিদে একসঙ্গে ১৭ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন বলে জানা গেছে।

সুবিশাল জায়গাজুড়ে বিস্তৃত চারতলা বিশিষ্ট বর্গাকৃতির মসজিদটি সিরামিক ও শ্বেতপাথরে নির্মিত হয়েছে। মসজিদের গায়ে সূর্যের আলোয় দিনের বেলায় উজ্জ্বল আভা ছড়িয়ে থাকে। সুউচ্চ গম্বুজ যেন মাথা উঁচু করে ক্যাম্পাসে তার আপন মহিমার প্রকাশ করছে। মসজিদটি দেখতে প্রতি শুক্রবার আশেপাশের এলাকা থেকে দর্শনার্থীদের আগমন চোখে পড়ার মতো।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, মসজিদের গ্রাউন্ড ফ্লোরের আয়তন ৫১ হাজার বর্গফুট। চারতলা বিশিষ্ট মসজিদের মূল অংশে মোট ৭ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন। এছাড়া মসজিদের সামনের অংশে আরও ১০ হাজার মুসল্লি নামাজ পড়তে পারবে। মসজিদের সামনের অংশে ৯০ ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট গম্বুজের পাশাপাশি ছোট-বড় ১৪টি গম্বুজ রয়েছে।

মসজিদের চারপাশে চারটি মিনার নির্মাণ করা হবে। যার প্রতিটির উচ্চতা হবে ১৫০ ফুট। এ ছাড়া মসজিদের তিন পাশ দিয়েই প্রবেশপথ থাকবে। প্রতিটি প্রবেশপথে একটি করে গম্বুজ নির্মিত হবে। ক্যাম্পাসের প্রতিটি অনুষদ ভবন থেকে মসজিদে আসার জন্য রয়েছে প্রশস্ত পথ।

কেন্দ্রীয় মসজিদে নামাজের পাশাপাশি আরও কিছু সহকার্যক্রম রয়েছে। যেমন- ইসলামি গ্রন্থাগার ও গবেষণা কেন্দ্র, ইসলামি ব্যাংক, কর্মচারীদের জন্য ক্যাফেটেরিয়া ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের জন্য দোতলায় নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তর থেকে জানা যায়, মসজিদটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৯৯৪ সালে শুরুর দিকে। প্রথম দিকে সরকারি অর্থায়নে কাজ শুরু হলেও পরে বিদেশ থেকে অনুদান আসে। তবে মসজিদের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা ভিন্ন খাতে ব্যয় করা হলে ও সঠিকভাবে কাজে না লাগানোর অভিযোগ উঠলে অর্থ ফেরত নেয় বিদেশি প্রতিষ্ঠান। এর ফলে নির্মাণ কাজে বাঁধা সৃষ্টি হয়।

পরবর্তীতে ২০০৪ সালে সরকারি অনুদানের ওপর ভিত্তি করে ৩৬ শতাংশ কাজ শেষ হলে তৎকালীন ধর্মপ্রতিমন্ত্রী মোশারেফ হোসাইন শাহজাহান মসজিদটি উদ্বোধন করেন এবং নামাজের জন্য উন্মুক্ত করে দেন। পরের ১৩ বছর আর কোনো নির্মাণ কাজ চলেনি। এর পর ২০১৭ সালে উপাচার্য রাশিদ আসকারীর সময় দুই ধাপে সাড়ে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে কিছু সম্পন্ন হয়।

সাংবাদিকতা বিভাগের ২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. তুষার বলেন, ক্যাম্পাসে আসার পর সবার আগে যে জিনিসটি চোখে পড়ছিলো সেটি হলো- কেন্দ্রীয় মসজিদ। প্রতি শুক্রবার এখানে এক উৎসবমুখর পরিবেশের জন্ম দেয়। হাজার হাজার মুসল্লির সঙ্গে একত্রে নামাজ আদায় করলে মনে এক অন্যরকম অনুভূতির সৃষ্টি হয়। তবে মসজিদের বেশ কিছু কাজ এখনও বাকি। আমার প্রত্যাশা থাকবে, দ্রুত মসজিদের কাজ সম্পন্ন করার।

অসমাপ্ত কাজের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী এ. কে. এম শরীফ উদ্দীন বলেন, প্রকল্পটা আমাদের অনেক বড়। উপমহাদেশের বেশকিছু মসজিদের সঙ্গে এটি সম্পন্ন করা হবে। আর অনেক বড় প্রকল্প হওয়ার ঠিকমতো বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে না, তাই দেরি হচ্ছে।

এ ছাড়া বরাদ্দ ফেরত পাওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, বিদেশ থেকে কোনো বরাদ্দ আসছে কি না এই ব্যাপারে আমার জানা নেই। আমি দায়িত্বে আসার পর দেখছি পুরোপুরি সরকারি অর্থায়নেই হচ্ছে প্রকল্পটি। আর ডিজাইন যেটা করা হয়েছে সেটা সম্পন্ন হবে।

;

ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ১৭ জুন



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
বাংলাদেশে ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ১৭ জুন, ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ১৭ জুন, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

চলতি বছরের পবিত্র ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছে মিসরের জ্যোতির্বিদ্যা ইনস্টিটিউট। সংস্থাটি বলেছে, আগামী ৭ জুন চলতি হিজরি সনের জিলহজ মাস শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সে হিসেবে আগামী ১৬ জুন রোববার ঈদুল আজহা উদযাপিত হতে পারে।

যদি মিসরের জ্যোতির্বিদ্যা ইনস্টিটিউটের তথ্য সঠিক হয়, তাহলে বাংলাদেশে আগামী ১৭ জুন সোমবার পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে।

সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মিসরের জ্যোতির্বিদ্যা ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট ড. তাহা রাবাহ বলেছেন, তাদের সৌর গবেষণা ল্যাবরেটরি গণনা করে দেখেছে ৭ জুন জিলহজ মাসের প্রথম দিন হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, তাদের হিসাব-নিকাশে দেখা গেছে, কায়রোর সময় অনুযায়ী আগামী ৬ জুন দুপুর ২টা ৩৯ মিনিটে জিলহজ মাসের অর্ধচন্দ্রের জন্ম হবে। ওইদিন জিলকদ মাসের ২৯তম দিন থাকবে।

ওইদিনই মক্কায় জিলহজের অর্ধচন্দ্রটি সূর্যাস্তের ১১ মিনিট এবং কায়রোতে ১৮ মিনিট পর পর্যন্ত দেখা যাবে। এছাড়া মিসরের অন্যান্য অঞ্চলগুলোতে নতুন এ চাঁদটি সূর্যাস্তের ১২ থেকে ২০ মিনিট পর্যন্ত দেখা যাবে।

তিনি আরও বলেন, আরব বিশ্বের দেশগুলোর আকাশে ওইদিন অর্ধচন্দ্রটি ১ থেকে ২৮ মিনিট পর্যন্ত অবস্থান করবে।

তবে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালামপুর এবং ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার আকাশে চাঁদটি সূর্যাস্তের ৯ থেকে ১৪ মিনিট আগে অস্ত যাবে। এর ফলে ওইদিন এই অঞ্চলে চাঁদটি দেখা যাবে না।

সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যেদিন চাঁদ দেখা যায়; তার পরের দিন বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোতে চাঁদ দেখা যায়।

জিলহজ মাসের ১০ তারিখের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো- আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে পশু কোরবানি করা। কোরবানি শুধু ইসলামি শরিয়তেই নয়। বরং পূর্ববর্তী সব শরিয়তে কোরবানির বিধান ছিল, যদিও সবার পন্থা এক ছিল না।

ইসলামে কোরবানির গুরুত্ব অনেক। নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক এমন প্রত্যেক ব্যক্তির কোরবানি আদায় করা ওয়াজিব। কেউ ওয়াজিব কোরবানি না করলে তার ব্যাপারে হাদিসে কঠোর ধমকি এসেছে।

;

বাদশাহর অতিথি হয়ে হজ করবেন ২ হাজার ৩২২ জন



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
বাদশাহ সালমান, ছবি: সংগৃহীত

বাদশাহ সালমান, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ ৮৮টি দেশের ১ হাজার ৩শ’ কৃতি নাগরিকসহ ফিলিস্তিনে শহীদ, কারাগারে বন্দী এবং আহত পরিবারের ১ হাজার সদস্যকে রাজকীয় মেহমান হিসেবে হজের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আমন্ত্রিতের তালিকায় আরও রয়েছে সৌদি আরবে অপারেশন করে বিচ্ছিন্ন করা জমজ শিশু আবদুল্লাহ ও আবদুর রহমানের পরিবারের ২২ সদস্য।

মঙ্গলবার (২৮ মে) সৌদি গেজেটের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রকল্পটি সৌদি আরবের ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স, দাওয়াহ এবং গাইডেন্স মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। ২৬ বছর আগে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ কর্মসূচির আওতায় ৬০ হাজারেরও বেশি হজযাত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

সৌদির ধর্ম, দাওয়া ও গাইডেন্স বিষয়ক মন্ত্রী ড. আবদুল লতিফ বিন আবদুল আজিজ আলে শেখ বলেন, এই আদেশটি বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের জন্য সৌদি নেতৃত্বের অব্যাহত যত্ন এবং মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ব জোরদার করার প্রচেষ্টাকে প্রতিফলিত করে।

মন্ত্রী বলেন, এই হজযাত্রীদের আতিথেয়তার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে এবং একটি কৌশলগত পরিকল্পনাও তৈরি করা হয়েছে।

যেসব দেশের মুসলিমরা বাদশাহর অতিথি হয়ে হজপালনের সুযোগ পেয়েছেন তাদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস এবং ধর্মীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করছে সৌদি সরকার। ভিসা প্রদান, হজ করতে আসা এবং হজ করে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত পুরো বিষয়টির সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। পরিকল্পনাটি হজযাত্রীদের তাদের নিজ দেশ থেকে প্রস্থান করার সময় শুরু হয় এবং নিশ্চিত করে যে তারা স্বাচ্ছন্দ্যে উমরা ও হজপালনের জন্য সমস্ত সুবিধা পাবে এবং মদিনা সফর করবে এবং মসজিদে নববিতে প্রার্থনা করবে।

;

বছরে একবার ১০ মিনিটের জন্য যাওয়া যাবে রিয়াজুল জান্নাতে



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
রিয়াজুল জান্নাত, ছবি: সংগৃহীত

রিয়াজুল জান্নাত, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ইসলামের দ্বিতীয় পবিত্রতম স্থান মসজিদে নববিতে অবস্থিত নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওজা শরিফ ও রিয়াজুল জান্নাত জিয়ারতে নতুন নিয়ম চালু করেছে সৌদি আরব।

নতুন নিয়মে রিয়াজুল জান্নাতে বছরে মাত্র একবার যাওয়া যাবে, অবস্থান করা যাবে ১০ মিনিট। গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।

খবরে বলা হয়, কোনো মুসলিম শেষবার ভ্রমণের ৩৬৫ দিন পর আবার রিয়াজুল জান্নাতে যাওয়ার আবেদন করতে পারবেন। নুসুক বা তাওয়াক্কলনা অ্যাপের মাধ্যমে জিয়ারত প্রত্যাশীদের আবেদন করতে হবে।

হারামাইন জেনারেল অথরিটি জানিয়েছে, জিয়ারতকারীদের নুসুক অ্যাপে নিবন্ধন করতে হবে। অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য দেওয়া নির্ধারিত সময়ের পনেরো মিনিট আগে রিয়াজুল জান্নাত জিয়ারতের জন্য নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছাতে হবে।

নিয়ম অনুযায়ী পবিত্র হজ ও উমরা পালনে আসা যাত্রীরা মদিনায় নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওজা জিয়ারতে আসেন। তবে রওজা শরিফ জিয়ারত এবং রিয়াজুল জান্নাতে নামাজ আদায়ের জন্য আগে থেকে অনুমিত নিতে হয়। সেই অনুমতির ক্ষেত্রে এ নতুন বিধি জারি করল সৌদি আরব।

মসজিদে নববিতে রাসুল (সা.)-এর রওজা এবং তার জামানার মূল মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থানকে নবী করিম (সা.) বেহেশতের বাগানসমূহের একটি বাগান বলেছেন। এটাই রিয়াজুল জান্নাত। এর আয়তন প্রায় ২২ মিটার দৈর্ঘ্য ১৫ মিটার প্রস্থ। স্থানটি সীমানা দিয়ে ঘিরে রাখা। এ স্থানে নামাজ পড়া উত্তম।

রিয়াজুল জান্নাত হলো- দুনিয়ায় অবস্থিত জান্নাতের বাগানসমূহের একটি। তাই জিয়ারতকারীরা এখানে নামাজ আদায় ও দোয়ার জন্য ব্যাকুল থাকেন।

;