আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভে জাকাত প্রদানের গুরুত্ব 



মাহমুদ আহমদ
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

রমজানের একেবারেই শেষ প্রান্তে আমরা রয়েছি। মহান আল্লাহতায়ালার দরবারে সবিনয় প্রার্থনা, তিনি যেন আমাদের রোজা কবুল করে নিয়ে আমাদেরকে তার দয়ার চাদরে আবৃত করে নেন আর বিশ্বকে সব বিপদাপদ থেকে রক্ষা করেন।

আমরা জানি, রমজানের দিনগুলোতে আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম ঝড়ো গতিতে দান খয়রাত করতেন। যাদের সামর্থ্য আছে তাদের মধ্যে অনেকেই আছেন রমজানে দানখয়রাত করেন কিন্তু যে হারে করা প্রয়োজন সেভাবে হয়তো করেন না। এছাড়া শুধু রমজান মাস আসলেই হাতে গনা কিছু মানুষকে দেখা যায় জাকাতের কাপড় বিতরণ করতে, আর সারা বছর এমনটি চোখে পরে না।

আমরা যেভাবে নামাজ আদায় করাকে ফরজ জানি তেমনি জাকাত প্রদানও ইসলামের মৌলিক স্তম্ভগুলোর একটি। পবিত্র কোরআন করিমে বিরাশি জায়গায় আল্লাহতায়ালা সালাতের কথা উল্লেখ করেছেন। আর সবখানেই সালাতের সাথে সাথে জাকাত প্রদানের নির্দেশও দিয়েছেন। এটা অতি গুরুত্বপূর্ণ এবং তাৎপর্যবহ বিষয়। সালাতের সাথে জাকাতের সম্পর্ক ওতোপ্রতোভাবে জড়িত।

সংগতিসম্পন্ন ব্যক্তির পক্ষে জাকাত ব্যতীত সালাত কায়েম হওয়া সম্ভব নয়। মূলত সালাত ও জাকাত ব্যতীত ইসলামী জীবন গঠনই অসম্ভব। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘যারা স্বর্ণ রৌপ্য মজুদ করে এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না, হে নবি! তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সংবাদ দিন। সেদিন জাহান্নামের আগুনে তা উত্তপ্ত করা হবে এবং তদ্বারা তাদের কপাল, পার্শ্বদেশ এবং পিঠকে সেক দেওয়া হবে (এবং তাদের বলা হবে) এটা তার প্রতিফল যা তোমরা নিজেদের জন্য জমা করেছিলে। সুতরাং তোমাদের ধনভাণ্ডারের শাস্তি আস্বাদন কর।’ (সুরা আত-তাওবা: আয়াত ৩৪-৩৫)

আসলে জাকাত সম্পদ ও ব্যক্তিকে পবিত্র করে। যেভাবে আল্লাহপাক বলেন, ‘তাদের মালামাল থেকে জাকাত গ্রহণ কর, যাতে তুমি সেগুলোকে পবিত্র করতে এবং সেগুলোকে বরকতময় করতে পার এর মাধ্যমে।’ (সুরা আত তাওবা: আয়াত ১০৩)

পৃথিবীর বুকে মানুষ যাতে সুখে শান্তিতে সুষ্ঠ ও সুন্দর ভাবে জীবন যাপন করতে পারে তার জন্যই বান্দার দয়াময় আল্লাহতায়ালা জাকাতের ব্যবস্থা করেছেন। শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদির নামই ইবাদত নয়। সংসারে জন্মগ্রহণ করে সংসারধর্ম রক্ষা করে, সত্য ও সঠিক পথে চলে মানব জীবনে প্রতিটি কর্মই ইবাদতের মধ্যে শামিল। হজরত নবী করিম (সা.) আজানের পর নিজ কক্ষ থেকে বের হয়ে মসজিদে আগমন করতেন এবং সমবেত মুসল্লিগণের সাথে বসতেন এবং উপস্থিত অনুপস্থিত প্রত্যেক মুসলিম ভাই বোনদের খবরাখবর নিতেন ও প্রত্যেকের জাগতিক সমস্যার সমাধান করতেন।

ইসলাম শুধু উপদেশ দিয়েই ক্ষান্ত হয় নাই। বাস্তব জীবনে জাকাতকে ফরজ কার্যের আওতায় এনে প্রতিফলন ঘটিয়েছে। জাকাত দ্বারা দরিদ্র জনসাধারণের জন্য একটি চিরস্থায়ী দানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। হজরত মহানবী (সা.) জাতীয় দৈন্য দুর্দশার মুক্তি সাধনায় বহু ত্যাগ স্বীকার করে তিনি বায়তুল মালকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। খোলাফায়ে রাশেদীনের শাসনামলে মুসলমান জাতির প্রাণশক্তি ছিল বায়তুল মাল। তখন জাকাত আদায় করার জন্য আদায়কারী নিযুক্ত ছিল। তারা নিয়মিত জাকাত আদায় করে বায়তুল মালে জমা দিতেন এবং তা থেকে দরিদ্র জনসাধারণের মধ্যে যথাবিধি বণ্টন এবং ইসলামের প্রচার ও প্রসার কল্পে ব্যয়িত হতো।

আমরা জানি, সাহাবীগণের অধিক সংখ্যকই ছিলেন দরিদ্র ও অভাবী। নিজেদের ব্যবহারিক জীবনে তারা বহু অভাব অনটনে থাকা সত্ত্বেও আল্লাহর পথে দ্বীনের কাজের জন্য বহুবিধ পথে তারা সম্পদ ব্যয় করতেন। এ সকল সাদাকাতের মধ্যে জাকাত ছিল অগ্রগণ্য ও সর্বব্যাপী।

আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে প্রকৃত ইসলামের শিক্ষা অনুসরণ করে জীবন পরিচালনার তৌফিক দান করুন, আমিন।

লেখক: ইসলামী গবেষক ও কলামিস্ট, ই-মেইল- [email protected]

৩ যুগ ইমামতির পর বর্ণাঢ্য বিদায় মাওলানা নুরুল হককে



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
৩৬ বছর ইমামতি শেষে অবসর নিলেন মাওলানা নুরুল হক, ছবি: সংগৃহীত

৩৬ বছর ইমামতি শেষে অবসর নিলেন মাওলানা নুরুল হক, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

কক্সবাজার সদর উপজেলার খরুলিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে টানা ৩৬ বছর ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর মাওলানা কারি নুরুল হককে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যদিয়ে রাজকীয় বিদায় জানিয়েছে খরুলিয়ার গ্রামবাসী, প্রাক্তন ছাত্র পরিষদসহ মসজিদ পরিচালনা কমিটি।

মাওলানা নুরুল হককে গ্রামের বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয় ফুল সজ্জিত গাড়িতে, এ সময় মোটরসাইকেলের বহর গাড়ির সঙ্গে ছিল। জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অকৃত্রিম ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে তার হাতে তুলে দেওয়া হয় নগদ সাড়ে ৮ লাখ টাকা, সম্মাননা ও অসংখ্য উপহার।

বিদায় বেলায় একজন ইমামকে সম্মানিত করার এমন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করায় প্রশংসায় ভাসছেন প্রাক্তন ছাত্র পরিষদসহ আয়োজকরা।

শনিবার (১৩ জুলাই) খরুলিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ মাঠে অবসরপ্রাপ্ত ইমাম মাওলানা কারি নুরুল হকের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। সংবর্ধিত ইমাম মাওলানা নুরুল হক পেকুয়া উপজেলার টৈইটং ইউনিয়নের জালিয়ারচাং গ্রামের বাসিন্দা।

এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৯ সালের দিকে মাওলানা নুরুল হককে মসজিদটিতে ইমামতির দায়িত্ব দেন। এরপর কেটে যায় প্রায় ৩৬টি বছর। কর্মস্থল এ মসজিদটিতে তিনি তার উদ্যোগে এলাকাবাসীদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন সময় নানা সংস্কারমূলক কাজ করেন। পাশাপাশি শিক্ষকতা করেছেন খরুলিয়া তালিমুল কোরআন মাদরাসায়। এছাড়া খরুলিয়া নূরানী এন্ড ক্যাডেট মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করতে অনবদ্য ভূমিকা রাখেন তিনি। বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবন অতিবাহিত করা প্রিয় ইমাম প্রিয় শিক্ষককে স্মরণীয় বিদায় জানাতে গ্রামবাসীসহ তার প্রাক্তন ছাত্ররা ওই মসজিদে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।

স্থানীয়রা বলেন, মাওলানা নুরুল হক একজন অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি তার জ্ঞান, দক্ষতা ও নীতিবোধ দিয়ে এলাকার মানুষের মনে দাগ রেখে গেছেন।

মসজিদ পরিচালনায় কমিটির সভাপতি মাস্টার হাবীব আহমদের সভাপতিত্বে ও ইসলামী ব্যাংকের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মো. মিজানুল কবিরের পরিচালনায় শুরুতে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন পেকুয়া এমইউ ফাজিল মাদরাসার আরবী প্রভাষক মাওলানা আজিজুল হক।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার হাশেমিয়া কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা এম. আজিজুল হক। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন খরুলিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মোহাম্মদ হাসান।

সংবর্ধিত বিদায়ী ইমাম মাওলানা নুরুল হক আবেগাপ্লুত হয়ে চোখের পানি মুছতে মুছতে বলেন, ১৯৮৯ সাল থেকে এই মসজিদে ইমামতি করে আসছি। ৩৬ বছরের বিদায় বেলাতে এত ভালোবাসা ও সম্মান দেওয়ায় আমি সত্যিই মুগ্ধ হয়েছি। বিদায়বেলায় তিনি কোরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন গড়া এবং ঈমান ও আমলের ওপর সবাইকে জীবন পরিচালিত করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মাওলানা এম. আজিজুল হক বলেন, আজকের এই অনুষ্ঠান সবার চক্ষু খোলে দিয়েছে। সব মসজিদের দায়িত্বশীলদের এখান থেকে শিক্ষা নিতে হবে। দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করতে সবাইকে এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করার আহ্বান জানান।

;

দুপুরে পবিত্র কাবা ছিল ছায়াহীন



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছায়াহীন পবিত্র কাবা, ছবি: সংগৃহীত

ছায়াহীন পবিত্র কাবা, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

একদিকে দুপুর অন্যদিকে ইহরাম পরিধান ছাড়া পবিত্র কাবা চত্বরে যাওয়া নিষেধ, এ কারণে মাতাফে কিছুটা ভিড় কম। এ সময় কাবা শরিফ তাওয়াফরত মুসল্লিরা স্থানীয় সময় সোমবার (১৫ জুলাই) দুপুর ১২টা ২৭ মিনিটের দিকে দেখতে পান, পবিত্র কাবার কোনো ছায়া নেই!

কোনো দিকেই পবিত্র কাবার কোনো ছায়া পড়ছে না। বিষয়টি অনেককে হতবাক করে দেয়। তবে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, প্রকৃতিগত কারণেই এমনটা হয়েছে।

আরব নিউজের খবরে বলা হয়, এ বছর দ্বিতীয়বারের মতো সোমবার দুপুর ১২টা ২৭ মিনিটে সূর্য কাবা শরিফের সোজা ওপরে লম্ব ছিল। ফলে পবিত্র কাবার ছায়া চারদিক থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়। এর আগে চলতি বছরের ২৭ মে দুপুর ১২টা ১৮ মিনিটে এ ঘটনা ঘটে।

জেদ্দার অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির প্রধান ইঞ্জিনিয়ার মজিদ আবু জাহরা বলেন, লম্বের ওই মুহূর্তে এবং যখন সূর্য তার সর্বোচ্চ উচ্চতায় প্রায় ৯০ ডিগ্রি অর্থাৎ পবিত্র কাবার ওপরে সম্পূর্ণ খাড়াখাড়িভাবে অবস্থান করছিল, তখন এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

কাবার ওপর সূর্যের ওই অবস্থানের কারণে কাবার ছায়া তার চারদিক থেকে সম্পূর্ণরূপে অদৃশ্য হয়ে যায়। মজিদ আবু জাহরা আরও বলেন, এই ঘটনাটি ঘটে যখন কাবার অবস্থান বিষুব রেখা এবং কর্কটক্রান্তির মধ্যে থাকে।

প্রতি বছর সাধারণত দুবার এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রথম যখন এটি মে মাসে নিরক্ষরেখা থেকে কর্কটক্রান্তি অঞ্চলে চলে যায় এবং দ্বিতীয়বার যখন সূর্য জুলাই মাসে কর্কটক্রান্তি থেকে আগত বিষুব রেখায় দক্ষিণে ফিরে আসে।

জ্যোতির্বিদ আবু জাহরা আরও জানান, কাঠের কোনো কাঠি মাটিতে লম্বালম্বী করে মানুষ কাবার সঠিক দিক নির্ধারণ করতে পারবে। এর মাধ্যমে কেবলার দিকটি কাঠির ছায়ার ঠিক বিপরীতে দেখতে পাবে।

;

দোয়া কেন কবুল হয় না



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
আরাফাতের ময়দানে দোয়া করছেন হাজিরা, ছবি: সংগৃহীত

আরাফাতের ময়দানে দোয়া করছেন হাজিরা, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

দোয়ার ফলাফল চোখে দেখি বা না দেখি, আমাদেরকে দোয়া করে যেতে হবে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে দোয়ার ফলাফল একেবারেই কম দেখা যায়, বলতে গেলে দেখাই যায় না। এমন একটি ক্ষেত্র হলো, যখন মুসলমান মজলুম (অত্যাচারিত) হতে থাকে, তাদের ওপর বিভিন্ন জায়গায় নির্যাতন চলতে থাকে, তখন দোয়া কান্নাকাটি করা হয়, চোখের পানি ফেলা হয়, কুনুতে নাজেলা পড়া হয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত রক্ত ঝরতেই থাকে, আগুন জ্বলতেই থাকে। একসময় আগুন জ্বলা বন্ধ হয় কিন্তু মানুষ যেভাবে দোয়া করেছিল, যেভাবে কান্নাকাটি করেছিল, সেভাবে কিছুই হয় না। তাৎক্ষণিকভাবেও হয় না, কাছাকাছি সময়েও হয় না।

যে সবক্ষেত্রে ফলাফল চোখে দেখা যায় না, সেসব ক্ষেত্রেও আমাদেরকে দোয়া করে যেতে হবে। দোয়া করে এ কথা বলা যাবে না যে, আমি দোয়া করেছি, দোয়া কবুল হয় না। এ কথা বলা বেয়াদবি এবং দোয়ার মধ্যে বেবরকতির কারণ। বেবরকতির অর্থ হলো- দোয়া কবুল না হওয়া।

দোয়া কবুল হওয়ার জন্যে দয়াময় আল্লাহতায়ালা অনেক উপায় দান করেছেন, সময় দিয়েছেন; আমল দিয়েছেন, ব্যক্তি দিয়েছেন। অর্থাৎ নির্দিষ্টভাবে বলে দিয়েছেন, অমুক সময় দোয়া কবুল হয়। অমুক স্থানে দোয়া কবুল হয়। অমুক ব্যক্তির দোয়া কবুল হয়। অমুক অমুক আমলের পর দোয়া কবুল হয়। রোজাদারের দোয়া কবুল হয়। মুসাফিরের দোয়া কবুল হয়। সন্তানের জন্যে মা-বাবার দোয়া কবুল হয়। দোয়া কবুল হওয়ার কত ঘোষণা আল্লাহ কতভাবে দিয়েছেন।

দোয়া কবুল হওয়ার যেমন অনেক উপায় রয়েছে তেমনি দোয়া কবুল না হওয়ারও অনেক কারণ রয়েছে। সেগুলো থেকেও আমাদেরকে বাঁচতে হবে।

বিখ্যাত বুজুর্গ হজরত ইবরাহিম বিন আদহাম (মৃত্যু ১৬২ হিজরি) অনেক বড় আল্লাহর অলি ছিলেন। তিনি বসরার বাজার দিয়ে যাওয়ার পথে লোকজন তাকে ঘিরে ধরল। তারা তাকে জিজ্ঞেস করল, হে আবু ইসহাক, আমাদের কী হয়েছে যে আমরা দোয়া করি, কিন্তু তা কবুল হয় না? তিনি বলেন- কারণ তোমাদের অন্তরগুলো ১০ কারণে মরে গেছে-

এক. তোমরা আল্লাহর পরিচয় পেয়েছ, কিন্তু তার হক আদায় করোনি।

দুই. তোমরা বলে থাকো, তোমরা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালোবাসো, কিন্তু তার সুন্নত ও আদর্শ পরিত্যাগ করেছো।

তিন. তোমরা কোরআন মাজিদ তেলাওয়াত করছ, কিন্তু সে অনুযায়ী আমল করোনি।

চার. তোমরা আল্লাহর নিয়ামত খেয়েছ, কিন্তু তার শোকরিয়া আদায় করোনি।

পাঁচ. তোমরা বলেছ যে শয়তান তোমাদের দুশমন, কিন্তু তাকে সমর্থন করছ।

ছয়. তোমরা স্বীকৃতি দিয়েছ যে জান্নাত সত্য, কিন্তু তার জন্য আমল করোনি।

সাত. তোমরা স্বীকৃতি দিয়েছ যে জাহান্নাম সত্য, কিন্তু তা থেকে পলায়ন করোনি।

আট. তোমরা স্বীকার করেছ যে মৃত্যু অবধারিত সত্য, কিন্তু তার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করোনি।

নয়. ঘুম থেকে জেগেই তোমরা অন্যের দোষ নিয়ে সমালোচনা শুরু করেছ, কিন্তু নিজেদের দোষের কথা ভুলে গেছ।

দশ. তোমরা তোমাদের মৃতদের দাফন করেছ, কিন্তু তাদের থেকে শিক্ষা নেওনি। - তাফসির কুরতুবি : ২/২০৮

;

দেশে ফিরলেন ৬৯ হাজার ৭৪২ হাজি



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
দেশে ফিরলেন ৬৯ হাজার ৭৪২ হাজি, ছবি: সংগৃহীত

দেশে ফিরলেন ৬৯ হাজার ৭৪২ হাজি, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

চলতি বছর পবিত্র হজ পালন শেষে এ পর্যন্ত দেশে ফিরেছেন ৬৯ হাজার ৭৪২ জন হাজি। এখন পর্যন্ত ৬৫ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে পুরুষ ৫২ এবং নারী ১৩ জন।

সোমবার (১৫ জুলাই) হজ পোর্টালের সবশেষ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, সৌদি থেকে ১৯৬টি ফ্লাইটে এসব হাজি বাংলাদেশে এসেছেন। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৯৪টি ফ্লাইটে ৩০ হাজার ৯৬৬ জন, সৌদি এয়ারলাইনসের ৭৪টি ফ্লাইটে ২৫ হাজার ৫১১ এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ২৮টি ফ্লাইটে ১০ হাজার ৩৪৭ হাজি দেশে ফিরেছেন।

হজ শেষে গত ২০ জুন থেকে দেশে ফেরার ফ্লাইট শুরু হয়। ওইদিন বাংলাদেশ বিমানের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট ৪১৭ হাজি নিয়ে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। আগামী ২২ জুলাই পর্যন্ত হাজিদের ফিরতি ফ্লাইট অব্যাহত থাকবে।

এবার বাংলাদেশ থেকে মোট ৮৫ হাজার ২২৫ জন (ব্যবস্থাপনা সদস্যসহ) হজযাত্রী সৌদি আরবে গেছেন। হজে গিয়ে এখন পর্যন্ত ৪৭ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে পুুরুষ ৩৬ এবং নারী ১১ জন।

এদিকে, আগামী বছর বাংলাদেশের জন্য এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জনের কোটা দিয়েছে সৌদি আরব।

বিষয়টি নিশ্চিত করে হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম জানান, নির্ধারিত সংখ্যার মধ্যে কতজন সরকারি ব্যবস্থাপনায় আর কতজন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যাবেন তা বাংলাদেশ সরকার পরে নির্ধারণ করে দেবে।

;