রমজান ও দ্বীনের আহ্বান বা দাওয়াত



ড. মাহফুজ পারভেজ, অ্যাসোসিয়েট এডিটর, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ইসলাম ধর্ম সকল মানুষের জন্য আলো স্বরূপ আর মুসলমানগণ সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ প্রদানকারী। অর্থাৎ ইসলাম ধর্ম ও মুসলমানগণ সমগ্র মানব জাতিকে কল্যাণ ও সরল-সুপথে আহ্বানকারী। বস্তুত পক্ষে, দ্বীনের পথে দাওয়াত দেওয়া বা আহ্বান করা সকল নবীর কাজ রূপে স্বীকৃত। সকল নবী-রাসুলই একজন দাঈ বা আহ্বানকারী তথা শিক্ষক রূপে এসেছিলেন। সকলেই নিজ নিজ আমলের মানব সম্প্রদায়ের মধ্যে তৌহিদের এই অম্লান বাণী প্রচার করেছিলেন:

‘তোমরা সবাই আল্লাহ তায়ালার ইবাদত করো। তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো উপাস্য নেই’ (সুরা আরাফ: আয়াত ৫৯)।  

আল্লাহ সোবহানাহু তায়ালার  দ্বীনের প্রতি আহ্বান জানানোর জন্য কেউ কোনো প্রতিদান কামনা করেননি। পরিস্কার ভাষায় বলেছেন:

‘আমি এর জন্য তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চাই না’ (সুরা শোয়ারা: আয়াত ১০৯)।

এই আহ্বান ও দ্বীনের প্রতি দাওয়াতের গুরুত্বের পাশাপাশি তার পদ্ধতি ও নীতিমালা সম্পর্কে আল্লাহ সোবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেছেন:

‘আপনি আপনার রব (প্রভু)-এর পথে প্রজ্ঞা এবং উত্তম উপদেশের সাথে মানুষকে ডাকুন এবং উত্তম পন্থায় বিতর্ক করুন’ (সুরা নাহল: আয়াত ১২৫)।

‘হে নবী, আপনি মানুষকে বলে দিন এ হচ্ছে আমার পথ, আমি মানুষদেরকে আল্লাহর পথে আহ্বান করি। আমি এবং আমার অনুসারীরা পূর্ণাঙ্গ সচেতনতার সাথে এ পথে আহ্বান জানাই। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র এবং আমি কখনোই মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই’ (সুরা ইউসুফ: আয়াত ১০৮)।

‘তার চেয়ে উত্তম কথা আর কোন্ ব্যক্তির হতে পারে, যে মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকে, নেক কাজ করে এবং বলে আমি মুসলমানদেরই একজন’ (সুরা হামিম সাজদাহ: আয়াত ৩৩)।

ফলে প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য হলো আল্লাহর পথে, দ্বীনের পথে, সৎ কাজের পথে এবং অসৎ কাজের বিরুদ্ধে আহ্বান করা বা দাওয়াত দেওয়া। রমজান মাসের পবিত্র পরিবেশে এ দাওয়াত বা আহ্বানের কাজ আরো বৃদ্ধি করাই ঈমানের দাবি এবং আমল হিসাবে অধিক সাওয়াবের মাধ্যম। ইসলামী স্কলারদের মতে দাওয়াতের পাঁচটি আদব, পাঁচটি পন্থা এবং পাঁচটি ফলাফল রয়েছে। এগুলো সম্পর্কে অবহিত হয়ে সঠিক ও ইসলাম সম্মত ভাবে আহ্বান বা দাওয়াতের কাজ করা যেতে পারে। কুতর্ক বা চিৎকার করে নয়, মিষ্টভাষা, উত্তম উপদেশ ও হেকমতের সঙ্গেই দাওয়াতি কাজ পরিচালনা করা ইসলামের নির্দেশিত বিধান। এ কারণে দাওয়াতের আদব, পন্থা ও ফলাফল সম্পর্কে পরিচ্ছন্ন ধারণা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

#দাওয়াতের আদব পাঁচটি

১. ইখলাস ও আন্তরিকতার মাধ্যমে দাওয়াত দিতে হবে। আল্লাহ সোবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেছেন: ‘এদের এ ছাড়া আর কোন কিছুর আদেশ দেওয়া হয়নি, তারা আল্লাহর জন্য নিজেদের দ্বীন ও ইবাদত নিবেদিত করে নেবে’ (সুরা বায়্যিনাহ: আয়াত ৫)।

২. দাওয়াত ও আমলের মধ্যে সমন্বয় সাধন করতে হবে। অর্থাৎ দাওয়াত দেওয়ার আগে নিজেকে সেসব বিষয়ে আমল করতে হবে। কেননা, কথার সাথে কাজের মিল না থাকাটা অপমানকর, লজ্জাজনক এবং মোনাফেক বা প্রবঞ্চকের লক্ষণ। আল্লাহ সোবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেছেন: ‘তোমরা কি অন্যদের সৎকাজের আদেশ দাও আর নিজেদের ভুলে যাও, অথচ তোমরা কিতাব তেলাওয়াত করে থাকো। তোমরা কি বুঝবে না!’ (সুরা বাকারা: আয়াত ৪৪)।

৩. দাওয়াত ও তাবলিগের ক্ষেত্রে ন¤্রতা ও কোমলতা অবলম্বন করতে হবে। পবিত্র কোরআনে সুস্পষ্টভাবে ইরশাদ করা হয়েছে: ‘তোমরা তার সাথে নরম ভাষায় কথা বলো, যাতে করে সে উপদেশ গ্রহণ করে, অথবা আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করো’ (সুরা ত্বাহা: আয়াত ৪৪)। আরো ইরশাদ হয়েছে: ‘আল্লাহর অসীম দয়ায় আপনি তাদের জন্য ছিলেন কোমল প্রকৃতির মানুষ। এর বিপরীতে যদি আপনি নিষ্ঠুর ও পাষাণ হৃদয়ের মানুষ হতেন, তাহলে এসব লোক আপনার আশপাশ থেকে দূরে চলে যেতো’ (সুরা আলে ইমরান: আয়াত ১৫৯)। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও এই নির্দেশ দিয়েছেন যে: ‘তোমরা সহজ করো, কঠিন করো না। সুসংবাদ দাও, তাদের মধ্যে ঘৃণা সৃষ্টি করো না’ (মুসলিম শরিফ: ১৭৩২)।

৪. দাওয়াত বা আহ্বানের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে। সবচেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দিয়ে শুরু করতে হবে। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও দাওয়াতের ক্ষেত্রে এরূপ করতেন। যেমন, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত মুয়াজ রাদিয়াল্লাহু আনহুকে ইয়ামানে প্রেরণ করার সময় এই মর্মে নির্দেশ দিয়েছিলেন: ‘তুমি আহলে কিতাবের এক গোত্রের কাছে যাচ্ছো। তোমার সর্বপ্রথম দাওয়াত যেন হয় এ কথার সাক্ষ্য দেওয়ার দিকে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, আর আমি (মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর রাসুল। যদি তারা তোমার এ দাওয়াতে সাড়া দেয়, তাহলে তাদের এ সংবাদ দাও যে, আল্লাহ তায়ালা তাদের উপর দিনে ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন’ (মুসলিম শরিফ: ১৯)।

৫. প্রত্যেককে তার মান ও প্রয়োজন অনুসারে দাওয়াত প্রদান করা। অর্থাৎ শহুরে লোকদের জন্য দাওয়াত বা আহ্বানের ভাষা, ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ আর গ্রামীণ জনতার জন্য তা একই রকম হলে বোধগম্য হওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। এজন্য স্থান, কাল, পাত্র অনুযায়ী দাওয়াতের ভাষা ও বক্তব্য নির্ধারণ করা অপরিহার্য। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ সোবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেছেন: ‘যাকে হিকমত ও প্রজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, তাকে প্রভূত কল্যাণ দান করা হয়েছে’ (সুরা বাকারা: আয়াত ২৬৯)।

#দাওয়াতের পন্থা পাঁচটি

১. যাকে দাওয়াত দেওয়া হচ্ছে, এককভাবে তার প্রতি মনোযোগী হয়ে দাওয়াত দিতে হবে, যাতে পুরো আলোচনায় তিনি সম্পৃক্ত বোধ করেন। ব্যক্তিগত দাওয়াতের ক্ষেত্রে এ পন্থা উপযোগী।

২. পাবলিক লেকচার বা সমষ্টিকে দাওয়াত দেওয়ার সময় অবিতর্কিত মৌলিক বক্তব্য পেশের দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

৩. দাওয়াতের আগে সঠিক প্রশিক্ষণ ও নোট নেওয়া, যাতে কোরআন ও হাদিসের সঠিক রেফারেন্স ও অর্থ প্রদান করা যায় এবং কোনোরূপ বিভ্রান্তির সৃষ্টি যাতে না হয়।

৪. শুধু বক্তব্যের উপর নির্ভর না করে লেখালেখি, গবেষণা ও সাহিত্য সৃষ্টির মাধ্যমেও দাওয়াতের কাজকে অগ্রসর করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

৫. আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রচারমাধ্যমকে বিশুদ্ধ ও সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে দাওয়াতের কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। যুগের চাহিদা ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তির উন্নয়নকে দ্বীন, ইসলাম ও দাওয়াতের কাজে লাগানোর চেষ্টা করা যেতে পারে।

#দাওয়াতের পাঁচটি ফল

১. সকল নবী-রাসুলের দ্বীনী ও আদর্শিক উত্তরাধিকারী লাভ করা যায়। কারণ, তারাই ছিলেন প্রথম ও অগ্রণী দাঈ এবং দ্বীনের দাওয়াতের ক্ষেত্রে উজ্জ্বল নক্ষত্র তুল্য ব্যক্তিত্ব।

২. দাঈ-এর জন্য সকল মাখলুক ইস্তেগফার করতে থাকে। যে ব্যক্তি মানুষের দ্বীনের জন্য চেষ্টা ও পরিশ্রম করে, তার নিজের দ্বীন ও ঈমান সর্বাগ্রে মজবুত হয়। যে ব্যক্তি মানুষের কল্যাণের কথা বলে দাওয়াত দেয়, তার কল্যাণও সর্বাগ্রে সুনিশ্চিত হয়। মাখলুকের সকলের সঙ্গে সঙ্গে গভীর সমুদ্রের তলদেশের মাছও পর্যন্ত দাঈ বা আহ্বানকারীর জন্য দোয়া এবং মাগফেরাত কামনা করতে থাকে।

৩. যাদেরকে দাওয়াত দেওয়া হচ্ছে, তাদের সংখ্যার হিসাবে দাওয়াত দানকারী সাওয়াব লাভ করে। হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে: ‘যে ব্যক্তি হেদায়েতের পথে ডাকবে, সে তার দাওয়াতের অনুসারীদের সাওয়াবের অনুরূপ সাওয়াব পাবে। এটা তাদের সাওয়াবের মধ্যে কোনো হ্রাস ঘটাবে না’ (মুসলিম শরিফ: ১০১৭)।

৪. যাকে দাওয়াত দেওয়া হচ্ছে, এক সময় সে নিজেই দাঈ হয়ে যায়। ফলে দাওয়াত জারি থাকে এবং দাওয়াতের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে জড়িতরা অবিরাম সাওয়াব পেতে থাকে।

৫. যে মানুষকে দ্বীন, কল্যাণ, সৎকর্মের দাওয়াত দেয়, তার সম্মান ও মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। মানুষ তাকে শ্রদ্ধা করে এবং নেতৃত্বে আসীন করতে চায়। মহান আল্লাহ সোবহানাহু তায়ালা নেককারদের গুণাবলি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন যে, তারা দাওয়াত দেয় এবং বলে ‘আমাদেরকে মুত্তাকিদের ইমাম বানিয়ে দিন’ (সুরা ফোরকান: আয়াত ৭৪)।

রমজানে মাসে রোজা রেখে দ্বীন ও ইসলামের পক্ষে দাওয়াত দেওয়ার চেয়ে লাভজনক ও সাওয়াবের কাজ আর কিছুই হতে পারে না। কথা বলা ও লেখার মাধ্যমে, চিন্তা ও গবেষণার মাধ্যমে দ্বীন, ইসলাম, ঈমান, আমল এবং যাবতীয় সুকর্মের পক্ষে আর কুকর্মের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া একজন আদর্শ দাঈ-এর দায়িত্ব। প্রতিটি মুসলমানই নিজের সাধ্যমতো এ দায়িত্ব সারা বছর তো বটেই, মাহে রমজানের সময় বিশেষভাবে পালন করতে পারেন এবং রহমত, বরকত, নাজাত ও মাগফেরাতের মাহে রমজানকে নিজের জীবনে সার্থক করতে পারেন।

ঐক্য, সম্প্রীতি ও ধর্মীয় সহাবস্থানের শিক্ষা দেয় আশুরা



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ধর্মীয় সহাবস্থানের শিক্ষা দেয় আশুরা

ধর্মীয় সহাবস্থানের শিক্ষা দেয় আশুরা

  • Font increase
  • Font Decrease

আশুরার দিবসের একটি বিশেষ দিক আছে। মানুষের অজ্ঞতা কিংবা উদাসীনতার ধরুন অনেক সময় সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করা হয় না। দিকটি হলো, আশুরা আন্তধর্মীয় ঐক্যের প্রতীক।

হাদিস শরিফ ও ইতিহাসের আলোকে দেখা যায়, বড় বড় প্রায় সব ধর্মের লোকেরা আশুরাকে সম্মান করে, শ্রদ্ধার চোখে দেখে। ইহুদিরা এই দিনে রোজা রেখে হজরত মুসা (আ.)-এর অনুসরণ করে। এ ছাড়া খ্রিস্টানরাও এই দিনকে মর্যাদার চোখে দেখে। খ্রিস্টানরা আশুরার দিনকে হজরত ঈসা (আ.)-এর জন্মদিন মনে করে।

মুসতাদরাকে হাকেমে এসেছে, হজরত জাবির (রা.) জায়দ আম্মি থেকে বর্ণনা করেন, ‘ঈসা ইবনে মারয়াম আশুরার দিনে জন্মগ্রহণ করেন।’ তবে আল্লামা জাহাবি (রহ.) বলেন, এ বর্ণনার সনদ দুর্বল। -হাকেম : ৪১৫৫

অন্যদিকে মূর্তি পূজারি আরবদেরও দেখা গেছে যে তারা এই দিনকে বিশেষ মর্যাদা দিত। জাহেলি যুগে মক্কার কাফেররা এই দিনে কাবার গিলাফ পরিবর্তন করত। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘সাহাবায়ে কেরাম রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার আগে আশুরার দিনে রোজা রাখত। সেদিন ছিল কাবাকে গিলাফ পরিধান করার দিন। যখন আল্লাহতায়ালা রমজানের রোজা ফরজ করলেন, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, যারা রোজা রাখতে চায়, তারা রোজা রাখবে, আর যারা ছেড়ে দিতে চায়, তারা যেন ছেড়ে দেয়। -সহিহ বোখারি : ১৫৯২

এসব বর্ণনার আলোকে বোঝা যায়, আশুরা আন্তধর্মীয় ঐক্যের প্রতীক। সুতরাং বলা যায়, আশুরা আন্তধর্মীয় ঐক্য, সম্প্রীতি ও ধর্মীয় সহাবস্থানের শিক্ষা দেয়।

আশুরার দিনে আমল হিসেবে তিনটি কাজ করা যায়। প্রথমত, রোজা রাখা। এ আমলটি সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। আশুরা উপলক্ষে দুই দিন রোজা রাখা মোস্তাহাব। মহররমের ১০ তারিখের আগে বা পরে এক দিন বাড়িয়ে রোজা রাখার কথা হাদিস শরিফে এসেছে। ইসলামে আশুরার রোজার বিশেষ গুরুত্ব আছে। রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার আগে আশুরার রোজা ফরজ ছিল।

দ্বিতীয়ত, আরেকটি আমল বর্ণনা সূত্রে দুর্বল হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। তা হলো, আশুরার দিনে যথাসাধ্য খাবারে প্রশস্ততা প্রদর্শন করা। যথাসম্ভব ভালো খাবার খাওয়া। হজরত আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী কারিম (সা.) থেকে বর্ণনা করেন, ‘যে ব্যক্তি আশুরার দিনে পরিবারে প্রশস্ততা প্রদর্শন করবে, সে সারা বছর প্রশস্ততায় থাকবে।’ -বায়হাকি : ৩৭৯৫

এ হাদিসের বর্ণনা সূত্রে দুর্বলতা আছে। তবে ইবনে হিব্বানের মতে, এটি ‘হাসান’ বা গ্রহণযোগ্য পর্যায়ের হাদিস। ইবনে তাইমিয়া (রহ.)-এর দাবি, রিজিকে প্রশস্ততার ব্যাপারে কোনো হাদিস নেই। এটি ধারণাপ্রসূত। ইমাম আহমদ (রহ.) বলেছেন, এটি বিশুদ্ধ হাদিস নয়। তবে এ বিষয়ে একাধিক বর্ণনা থাকার কারণে ‘হাসান’ হওয়া অস্বীকার করা যাবে না। আর ‘হাসান লিগাইরিহি’ পর্যায়ের হাদিস দ্বারা আমল করা যায়। -আস সওয়াইকুল মুহরিকা আলা আহলির রফজি ওয়াদ দালাল ওয়াজ জানদিকা : ২/৫৩৬

তৃতীয়ত, আরেকটি আমল যুক্তিভিত্তিক প্রমাণিত। তা হলো, আহলে বাইত তথা নবী পরিবারের শাহাদাতের কারণে তাদের জন্য দোয়া করা, দরুদ পড়া ও তাদের কাছ থেকে সত্যের ওপর অটল থাকার শিক্ষা গ্রহণ করা। এই তিনটি কাজ ছাড়া আশুরায় অন্যকোনো আমল নেই।

স্মরণ রাখতে হবে, ইসলামের ইতিহাসে মহররম মাসের ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিভিন্ন কারণে। প্রাক-ইসলামি যুগেও মহররমের ঐতিহ্য বিদ্যমান ছিল। পৃথিবীর ইতিহাসের অসংখ্য কালজয়ী ঘটনার জ্বলন্ত সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে পুণ্যময় এ মাস। আর কারবালার ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডিও আশুরার দিনে সংঘটিত হওয়ায় পৃথিবীর ইতিহাসে এক নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। রচিত হয়েছে শোকাভিভূত এক নতুন অধ্যায়। কারবালার বিয়োগান্ত ঘটনাই আশুরার একমাত্র ও আসল প্রেরণার উৎস নয়। বরং সৃষ্টির আদি থেকে চলে আসা সত্যাশ্রয়ী মহামানবদের দ্বারা লালিত সংগ্রামী চেতনার সঙ্গে যুক্ত যবনিকা বলা যেতে পারে এ ঘটনাকে।

;

আশুরায় তওবা-ইস্তেগফার বেশি বেশি করা



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
আশুরায় তওবা-ইস্তেগফার বেশি বেশি করা

আশুরায় তওবা-ইস্তেগফার বেশি বেশি করা

  • Font increase
  • Font Decrease

আল্লাহতায়ালা বান্দার জন্য বিশেষ কিছু সময় ও মৌসুম দিয়েছেন, যে সময়ে বান্দা অধিক ইবাদত-বন্দেগি ও ভালো কাজ করে সহজেই আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে পারে। মুমিনের জন্য এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ রহমত। অতীতে ঘটে যাওয়া ছোট-বড় গোনাহসমূহ মার্জনা করানোর সুবর্ণ সুযোগ বটে। এই বরকতময় সময়ের মধ্য থেকে একটি হচ্ছে, ‘মহররম ও আশুরা’।

এক সাহাবি নবী কারিম (সা.)-এর কাছে জিজ্ঞাসা করল, হে আল্লাহর রাসুল! রমজানের পর আপনি কোন মাসে রোজা রাখতে বলেন? নবীজি (সা.) বললেন, তুমি যদি রমজানের পর রোজা রাখতে চাও তাহলে মহররমে রোজা রাখো। কেননা মহররম হচ্ছে আল্লাহর মাস। এ মাসে এমন এক দিন আছে, যেদিন আল্লাহতায়ালা (অতীতে) অনেকের তওবা কবুল করেছেন। ভবিষ্যতেও অনেকের তওবা কবুল করবেন। -জামে তিরমিজি : ৭৪১

আলেমদের অভিমত হলো, এই হাদিসে যে দিনের দিকে ইশারা করা হয়েছে- খুব সম্ভব সেটি আশুরার দিন।

ইসলামের বিধানে তওবা-ইস্তেগফার যেকোনো সময়ের গুরুত্বপূর্ণ আমল। তবে কিছু কিছু সময় এমন রয়েছে, যখন তওবার পরিবেশ বেশি অনুকূল হয়। বান্দার উচিত সেই প্রত্যাশিত মুহূর্তগুলোর কদর করা। মহররমের এ মাসটি, বিশেষ করে ১০ তারিখ- এমনই এক মোক্ষম সময়। এদিনে তওবা কবুল হওয়া, নিরাপত্তা এবং অদৃশ্য সাহায্য লাভ করার কথাও রয়েছে। এ জন্য এ সময়ে এমন সব আমলের প্রতি মনোনিবেশ করা উচিত, যাতে আল্লাহর রহমত বান্দার দিকে আরও বেশি ধাবিত হয়।

তওবা-ইস্তেগফারের জন্য সবথেকে উত্তম হলো, কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত ইস্তেগফার বিষয়ক দোয়াগুলো বুঝে বুঝে মুখস্থ করা। সেই দোয়াগুলোর মাধ্যমে রাব্বে কারিমের দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করবে। তবে নিজের ভাষায় নিজের মতো করে ইস্তেগফার করলেও ঠিক আছে। কারণ আল্লাহতায়ালা সব ভাষারই স্রষ্টা। তিনি সবার কথা বুঝেন। সবার আরজি কবুল করেন।

;

ইতিহাসে আশুরার ঘটনাবলি



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
মহররম হলো ইসলামি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস

মহররম হলো ইসলামি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস

  • Font increase
  • Font Decrease

পরিভাষায় আশুরা বলতে মহররম মাসের ১০ তারিখকে বোঝায়। মহররম হলো ইসলামি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস। বছরের প্রথম মাস হিসেবে মহররম যতটা না গুরুত্বপূর্ণ তার চেয়ে বহুগুণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে আশুরা।

চেতনার মিলনায়তনে আশুরা মানে মহররম আর মহররম মানেই আশুরা। মহাকালের যাত্রালগ্ন থেকে আশুরা বহু উত্থান-পতন, ভাঙা-গড়া ও ধ্বংস-সৃষ্টির স্মৃতিকে ধারণ করে আসছে। গোটা বিশ্বের মুসলমানদের চেতনার বেদিতে আশুরা চিরভাস্বর। তবে সময়ের ব্যবধানে ভৌগোলিক অবস্থানভেদে আজ আশুরা আর মহররম চেতনার জায়গায় ভিন্ন ভিন্ন পরিচয় নিয়ে টিকে আছে।

কোথাও একে স্মরণ করা হচ্ছে শোকের স্মারক হিসেবে। কোথাও তা আনন্দের উপাদান হিসেবে। আবার কোথাও প্রতিবাদের হাতিয়ার হিসেবে।

আশুরা দিবসকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে ইতিহাসের নানা তথ্য-উপাত্ত ও ঘটনাপ্রবাহ। নবী-রাসুলদের সঙ্গে সম্পৃক্ত আশুরার মর্যাদাবাহী অসংখ্য ঘটনা-উপাখ্যান-বিবরণ ইতিহাসের গ্রন্থগুলোতে খুঁজে পাওয়া যায়।

যেমন আশুরার দিন পৃথিবীর সৃষ্টি, এ দিনেই কেয়ামত, এ দিনে হজরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি, একই দিনে তার তওবা কবুল হওয়া, এই দিনেই হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর জন্মগ্রহণ ও নমরুদের প্রজ্বলিত আগুন থেকে মুক্তি লাভ, হজরত আইয়ুব (আ.)-এর আরোগ্য লাভ, হজরত ইউনুস (আ.) মাছের পেট থেকে মুক্তি পাওয়াসহ অসংখ্য ঘটনার বিবরণ ইতিহাসের গ্রন্থগুলোতে লিপিবদ্ধ হয়েছে।

‘মাওজুআতে ইবনে জাওজি’-এর বর্ণনামতে, আশুরার দিনে সংঘটিত ঘটনাবলি বিশুদ্ধ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত নয়। তা সত্ত্বেও ইতিহাসের উপাদান হিসেবে সেসব ঘটনার বিশেষ আবেদন রয়েছে বৈকি?

তবে হাদিস শরিফে আশুরার ইতিহাস সম্পর্কে এসেছে, হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী কারিম (সা.) যখন মদিনায় হিজরত করেন, তখন ইহুদিরা আশুরার দিনে রোজা রাখত। তিনি তাদের বললেন, এটি কোন দিন, তোমরা যে রোজা রাখছ? তারা বলল, এটি এক মহান দিন, যেদিন আল্লাহ মুসা (আ.)-কে মুক্তি দিলেন ও ফেরাউনের পরিবারকে ডুবিয়ে মারলেন। তখন হজরত মুসা (আ.) শোকর আদায় করার জন্য রোজা রাখলেন (দিনটির স্মরণে আমরা রোজা রাখি)। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, আমরা মুসার অনুসরণে তোমাদের চেয়ে বেশি হকদার। তখন তিনি রোজা রাখলেন ও রোজা রাখার নির্দেশ দিলেন। -সহিহ বোখারি : ৩৩৯৭

অন্য এক হাদিসে এসেছে, ‘এটি সেদিন, যেদিন হজরত নুহ (আ.)-এর নৌকা জুদি পর্বতে স্থির হয়েছিল। তাই হজরত নুহ (আ.) আল্লাহর শুকরিয়াস্বরূপ সেদিন রোজা রেখেছিলেন।’ -মুসনাদে আহমাদ : ২/৩৫৯

ইতিহাসের ঘটনা পরম্পরায় ৬০ বা ৬১ হিজরির ১০ মহররম সংঘটিত হয় কারবালার হৃদয়বিদারক, মর্মস্পর্শী ও বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ। মুজামে কবিরে এসেছে, হজরত জুবাইর ইবনে বাক্কার বলেন, হুসাইন ইবনে আলী (রা.) চতুর্থ হিজরির শাবান মাসের পাঁচ তারিখে জন্মগ্রহণ করেন। আর তাকে আশুরার জুমার দিনে ৬১ হিজরিতে শহীদ করা হয়েছে। তাকে সিনান ইবনে আবি আনাস নাখায়ী হত্যা করে। তাতে সহযোগিতা করেছে খাওলি ইবনে ইয়াজিদ আসবাহি হিময়ারি। সে তার মাথা দ্বিখণ্ডিত করেছে এবং উবাইদুল্লাহর দরবারে নিয়ে এসেছে। তখন সিনান ইবনে আনাস বলেন, ‘আমার গর্দানকে স্বর্ণ ও রৌপ্য দ্বারা সম্মানিত করুন। আমি সংরক্ষিত বাদশাহকে হত্যা করেছি, আমি মা-বাবার দিক দিয়ে উত্তম লোককে হত্যা করেছি।’ -তাবরানি, মুজামে কবির : ২৮৫২

সেদিন পাপিষ্ঠরা যে নির্মমতা ও নির্দয়তার পরিচয় দিয়েছে, তা পাথরসম যেকোনো হৃদয়েই সমবেদনার কম্পন জাগিয়েছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শাহাদাতের পর হজরত হুসাইন (রা.)-এর দেহ মোবারকে মোট ৩৩টি বর্শার এবং ৩৪টি তরবারির আঘাত ছাড়াও অসংখ্য তীরের জখমের চিহ্ন বিদ্যমান ছিল। এ ছাড়া তার সঙ্গে মোট ৭২ জনকে হত্যা করেছে ঘাতকরা।

আশুরার দিন বিশ্বের নানাপ্রান্তের মানুষ মহররম মাসকে বিশেষ করে কারবালার ঘটনাকে স্মরণ করে থাকে। এ দিন অন্যায়, অসত্য ও স্বৈরাচারের কাছে মাথানত না করে হজরত হুসাইন (রা.) সহযোগীদের নিয়ে কারবালার যুদ্ধে শাহাদতবরণ করেন। কারবালার শিক্ষা মুসলমানদেরকে যুগে যুগে অন্যায়, অসত্য ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রামে উৎসাহ যোগায়। এ কারণেই বলা হয়, ‘ইসলাম জিন্দা হোতা হ্যায়, হার কারবালা কি বাদ।’ অর্থাৎ ইসলাম প্রতিটি কারবালার পর পুনরুজ্জীবিত হয়।

আমরা জানি, আল্লাহতায়ালা মানুষকে খেলাফতের মহান দায়িত্ব দিয়ে পাঠিয়েছেন। মানুষ আল্লাহর নির্দেশিত পথে নিজে চলবে এবং অন্যদের পরিচালিত করবে এটাই আল্লাহর অভিপ্রায়। মানুষ দুনিয়াতে তার সামগ্রিক জীবন পরিচালনার জন্য আল্লাহতায়ালা গাইডলাইন তথা পবিত্র কোরআন পাঠিয়েছেন। ইসলাম গ্রহণের পর মুসলমান হিসেবে পরিচিত সবাই সেই জীবন বিধান মেনে চলতে বাধ্য। কিন্তু মানুষ বৈষয়িক বিভিন্ন স্বার্থ ও মানবিক দুর্বলতার কারণে ইসলামের পথ চলা থেকে দূরে চলে যায়। মহররমের শিক্ষা ত্যাগের শিক্ষা। চরম ত্যাগ ও কোরবানি স্বীকার করেই ইসলামের পথে অটল অবিচল থাকতে হবে।

;

পবিত্র আশুরা আজ



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
পবিত্র আশুরা আজ, ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র আশুরা আজ, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

পবিত্র আশুরা আজ, বুধবার ১০ মহররম। যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যপূণ পরিবেশে নানা-কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সারাদেশে পবিত্র আশুরা পালিত হবে।

কারবালার ‘শোকাবহ এবং হৃদয় বিদারক ঘটনাবহুল’ এই দিনটি বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে ধর্মীয়ভাবে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ত্যাগ ও শোকের প্রতীকের পাশাপাশি বিশেষ পবিত্র দিবস হিসেবে মুসলিম বিশ্বে এ দিনটি গুরুত্বের সঙ্গে পালন করা হয়।

হিজরি ৬১ সনের ১০ মহরম মহানবী হযরত মুহম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসেন (রা.) ও তার পরিবারের সদস্যরা কারবালা প্রান্তরে শাহাদাতবরণ করেন। সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় তাদের এই আত্মত্যাগ মুসলিম উম্মাহর জন্য এক উজ্জ্বল অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছে। পবিত্র আশুরা উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘পবিত্র আশুরার গুরুত্ব ও তাৎপর্য’ বিষয়ক অনুষ্ঠান পালন করা হবে।

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বাণী দিয়েছেন। বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, পবিত্র আশুরা সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য এক তাৎপর্যপময় ও শোকের দিন। কারবালার শোকাবহ ঘটনার স্মৃতিতে ভাস্বর পবিত্র আশুরার শাশ্বত বাণী আমাদের অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে উদ্বুদ্ধ করে, প্রেরণা জোগায় সত্য ও সুন্দরের পথে চলার। পবিত্র আশুরার মহান শিক্ষা আমাদের সবার জীবনে প্রতিফলিত হোক এ প্রত্যাশা করি।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পবিত্র আশুরার মর্মবাণী অন্তরে ধারণ করে সমাজে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পবিত্র আশুরা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত শোকাবহ, তাৎপর্যপূর্ণ ও মহিমান্বিত একটি দিন। ইসলামের ইতিহাসে এই মর্মন্তুদ বিয়োগান্ত ঘটনা ছাড়াও হিজরি সনের মহররম মাসের ১০ তারিখ নানা কারণে ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ। শোকাবহ অথচ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই দিনে তিনি দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানসহ বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর প্রতি শুভকামনা জানান এবং অশুভ শক্তি থেকে পরিত্রাণের জন্য প্রার্থনা করেন।

;