উদর বা পেটের রোজা



ড. মাহফুজ পারভেজ, অ্যাসোসিয়েট এডিটর, বার্তা২৪.কম
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

রোজার মূল দাবি হলো পানাহার ত্যাগ করা এবং রিপুকে নিয়ন্ত্রণ করা। পানাহারের সঙ্গে উদর বা পেটের সম্পর্ক রয়েছে। মানুষ রসনা তৃপ্ত করার জন্য উদর পূর্তি করে খাবার গ্রহণে ইচ্ছুক। রোজায় তা করা যায় না। চোখের সামনে এবং হাতের নাগালের মধ্যে মুখরোচক, স্বাদু খাবার থাকলেও সেগুলো রোজা পালনকালে গ্রহণ করা যায় না। তদুপরি প্রতিটি মুসলমানকে খাবারের হালাল ও হারাম সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হয়। কারণ, খাবার হালাল-হারামের বিষয়ে সতর্ক থাকা এজন্য জরুরি যে, তা মানুষের জীবন ও চরিত্রে বিশেষ প্রভাব বিস্তার করে। হালাল খাবারের যে পবিত্রতা ও ইতিবাচক শক্তি, তা হারাম খাবারে নেই। হারাম খাবার বলতে নিষিদ্ধ পশুর মাংস ও পানীয় যেমন আছে, তেমনি হারাম উপার্জনের মাধ্যমে আহরিত খাবারও তেমনি ভাবে রয়েছে। অর্থাৎ হারাম উপার্জনের মাধ্যমে হালাল খাবার কিনে খেলেও সেটা হালাল হয় না, হারাম হয়। মনে রাখা দরকার যে, আল্লাহ সোবহানাহু তায়ালা এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন:

‘হে রাসুলগণ, তোমরা পাক পবিত্র জিনিস খাও এবং নেক আমল করো’ (সুরা মুমিনুন: আয়াত ৫১)।

ইসলামী শরিয়তে ও জীবন ব্যবস্থায় হালাল বা পাক-পবিত্র বস্তু গ্রহণে রয়েছে উৎসাহ। আল্লাহ সোবহানাহু তায়ালা বলেছেন:

‘হে বিশ্বাসীগণ, আমি যেসব পাক জিনিস তোমাদের দান করেছি, তা তোমরা খাও এবং আল্লাহ তায়ালার শোকর আদায় করো, যদি তোমরা আল্লাহর ইবাদত করে থাকো’ (সুরা বাকারা: আয়াত ১৭২)

পাক-পবিত্র জিনিস বলতে সেসব বস্তুকেই গণ্য করা হয়, যেগুলো আল্লাহ সোবহানাহু তায়ালা এবং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুমিনদের জন্য হালাল করেছেন। আল্লাহ সোবহানাহু তায়ালা আরো বলেছেন:

‘তিনি তাদের জন্য যাবতীয় পাক জিনিসকে হালাল ও নাপাক জিনিসগুলোকে তাদের জন্য হারাম ঘোষণা করেন’ (সুরা আরাফ: আয়াত ১৫৭)।

ফলে মুসলমানদের খাবারের ব্যাপারে সদা-সর্বদা হালাল ও হারাম বিচার করতে হয়। পেটে বা উদরে কোন খাবার গ্রহণ করা হচ্ছে, সে ব্যাপারে সর্বক্ষণ সতর্ক থাকতে হয় মুসলমান নর-নারীকে। আর রোজার সময় এ ব্যাপারে অধিকতর মনোযোগী হওয়া বাঞ্ছণীয়। এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পেটের রোজা হলো হারাম খাবার থেকে বেঁচে থাকা। পাশাপাশি রোজা পালনকালে দিনের বেলা সব ধরনের খাদ্য ও পানীয় থেকে বেঁচে থাকা, তা না হলে রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে। তবে, হারাম খাবার থেকে শুধু দিনের বেলা বেঁচে থাকলেই চলবে না, রাতের বেলা ইফতার ও সাহরির সময়ও বেঁচে থাকতে হবে, যেমনভাবে জীবনের বাকী সময়ের দিন ও রাতে হারাম খাবার থেকে পুরোপুরি বেঁচে থাকতে হবে। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে:

‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করলেন, যে দূর-দূরান্তে সফর করে, যার দেহ ধূলি-মলিন, চুল উসকো-খুসকো। সে ব্যক্তি আসমানের দিকে দু’হাত তুলে কাতর স্বরে বলে, হে প্রভু, হে প্রভু। অথচ তার খাবার হারাম, পানীয় হারাম এবং সে হারামই খেয়ে থাকে। তার দোয়া কীভাবে কবুল হবে’ (মুসলিম শরিফ: ১০১৫)।

হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে, একদিন তিনি খাদেমের দেয়া খাবার খেয়ে খাদেমকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি এ খাবার কোথায় পেলে? খাদেম উত্তর দিল যে, সে বিধর্মী থাকা অবস্থায় একজনের ভাগ্য গণনা করেছিল। সে গণনার মজুরি বকেয়া ছিল। এ খাবার হলো সেই বকেয়া মজুরি। কথাাট শ্রবণ করে হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু তার নিজের গলার মধ্যে আঙুল দিয়ে বমি করে পেটের সব খাবার বের করে দিলেন। হারাম খাবার সম্পর্কে এমন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন ইসলামের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। কারণ, আল্লাহ সোবহানাহু তায়ালা কর্তৃক ঘোষিত হারাম জিনিস এবং হারাম অর্থে কেনা জিনিস খাওয়া ইসলামে সুস্পষ্টভাবে এবং সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। নিষিদ্ধ জন্তু ও পানীয়ের মতোই সুদ, ঘুষ, জালিয়াতি, আত্মসাৎ, জুলুম, অবৈধ ও নিষিদ্ধ পন্থায় উপার্জিত অর্থে সংগৃহীত খাবার খাওয়াও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এতিমের মাল বা কারো হক বা সরকারি বা বেসরকারি সম্পদ চুরি করে সেসব অর্থে কেনা খাবার হারাম। সে অর্থে ভালো বা মন্দ, যা-ই করা হোক, তা আজাবের কারণ। ফলে  স্বাভাবিক অবস্থার মতো রোজার সময়েও এসব নিষিদ্ধ খাবার ও অবৈধ উপার্জনের মাধ্যমে সংগৃহীত খাবার পরিতাজ্য। মনে রাখা দরকার যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন:

‘কারো জন্য নিজ হাতের উপার্জনের চেয়ে উত্তম কোনো খাবার নেই’ (বোখারি শরিফ: ১৫২)।

আল্লাহ সোবহানাহু তায়ালা আরো ইরশাদ করেছেন:

‘হে বিশ্বাসীগণ, তোমরা চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ খেয়ো না’ (সুরা বাকারা: আয়াত ২৭৫)।

‘তোমরা কখনো এতিমের মালের নিকটবর্তীও হবে না, তবে উদ্দেশ্য যদি নেক হয়’ (সুরা আনয়াম: আয়াত ১৫২)।

‘যারা অন্যায়ভাবে এতিমের মাল খায়, তারা যেন আগুন দিয়েই নিজেদের পেট ভর্তি করে। অচিরেই এ লোকগুলো জাহান্নামের আগুনে জ্বলতে থাকবে’ (সুরা নিসা: আয়াত ১০)।

‘তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে আত্মসাৎ করো না। আবার জেনে বুঝে অন্যায়ভাবে অন্যের সম্পদের কোনো অংশ ভোগ করার জন্য বিচারকদের সামনে ঘুষ হিসেবেও উপস্থাপন করো না’ (সুরা বাকারা: আয়াত ১৮৮)।

‘যারা সুদ খায় তারা সে ব্যক্তির মতো দাঁড়াবে, যাকে শয়তান নিজ পরশ দ্বারা মোহাচ্ছন্ন করে দিয়েছে’ (সুরা বাকারা: আয়াত ২৭৫)। 

‘তাদের অনেককেই তুমি দেখতে পাবে গোনাহ করা এবং বিদ্রোহ ও হারাম মাল ভোগ করার কাজে এরা একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করে চলেছে, এরা যা করে তা বড়ই নিকৃষ্ট কাজ’ (সুরা মায়েদা: আয়াত ৬২)।   

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন:

‘আল্লাহ তায়ালা সুদদাতা, সুদখোর, সুদের লেন-দেন-লেখক, সুদের সাক্ষীর উপর অভিসম্পাদ করেছেন। আল্লাহর রাসুল বলেন, তারা সবাই সমান’ (মুসলিম শরিফ: ১৫৯৮)।

‘ঘুষদাতা ও ঘুষ-গ্রহীতার উপর আল্লাহ তায়ালা অভিসম্পাদ করেছেন’ (আবু দাউদ শরিফ: ৩৫৮০)। 

অতএব, হারাম ও অবৈধ উপার্জন এবং তা দ্বারা ক্রয়কৃত খাদ্য সর্বাবস্থায় সম্পূর্ণ রূপে হারাম বা অবৈধ। যার মধ্যে নেশা জাতীয় দ্রব্যও শামিল। এসব অবৈধ ও হারাম উপার্জনের কেনা বা সরাসরি হারাম খাবার রোজার সময়ে বা স্বাভাবিক-সাধারণ পরিস্থিতিতেও খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করলেও তা হারামই এবং সেগুলো রোজাকে বরবাদ করে দেওয়ার কারণ হবে। একাধিক ইসলামী ব্যক্তিত্ব হারাম, অবৈধ ও সন্দেহযুক্ত খাবারের বিষয়ে চরম সাবধানতা ও সতর্কতা অবলম্বন করেছেন। এমনও দেখা গেছে যে, নিয়মিতভাবে অবৈধ উপার্জন ও হারাম খাবার গ্রহণের ফলে বহু মানুষের জীবন দুর্বিসহ হয়েছে। নিজের দ্বীন বিনষ্ট হয়েছে। হৃদয় অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়েছে এবং সন্তান-সন্ততি ধ্বংস হয়েছে।

বস্তুতপক্ষে, আল্লাহ সোবহানাহু তায়ালা যেসব খাবার হারাম করেছেন, সেগুলো বিজ্ঞানের পরীক্ষায় ক্ষতিকর করে প্রমাণিত হয়েছে। যার মধ্যে শুকরের মাংস ও মদ অন্যতম, যাতে খারাপ ছাড়া কিছুই নেই। তেমনিভাবে, আল্লাহ সোবহানাহু তায়ালা কর্তৃক নির্ধারিত হারাম বা অবৈধ উপার্জনের দ্বারা খাবার গ্রহণ করা কেবল আখেরাতের শাস্তির কারণই নয়, দুনিয়াতেও লাঞ্ছনার কারণ এবং মানবজীবনকে ধ্বংসের জন্যে যথেষ্ট। ফলে বছরের অন্যসব সময়ের মতো মাহে রমজানের সময় পেট বা উদরকে সম্পূর্ণভাবে এসব অবৈধ ও হারাম উপার্জন ও খাদ্য থেকে সম্পূর্ণভাবে পবিত্র রাখা একান্ত অপরিহার্য্য।

মহানবীর (সা.) মহব্বতের রবিউল আউয়াল মাসের শুরু



ড. মাহফুজ পারভেজ, অ্যাসোসিয়েট এডিটর, বার্তা২৪.কম
মহানবীর (সা.) মহব্বতের রবিউল আউয়াল মাসের শুরু

মহানবীর (সা.) মহব্বতের রবিউল আউয়াল মাসের শুরু

  • Font increase
  • Font Decrease

সূচিত হলো দয়াল নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি মহব্বতের পরশময় রবিউল আউয়াল মাস। মহানবীর প্রেমের বান ডাকে এ মাসে। মহব্বতের জোয়ার দোলা জাগায় প্রতিটি মোমিন-মুসলমানের হৃদয়ে।

সিরাতুন নবীর এত চর্চা আর কোন মাসে হয় না। বড় বড় মাহফিলে, মসজিদে, অফিসে, বাড়িতে, সর্বত্র এ মাসে অনুষ্ঠানের ব্যাপক আয়োজন হয় এবং তাতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন থেকে শিক্ষণীয় বিষয় সম্পর্কে ইসলামী চিন্তাবিদ ও ওলামায়ে কেরাম মূল্যবান আলোচনা পেশ করেন। বাংলার কবি, সাহিত্যিকগণ নাতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাধ্যমে মহানবীর গুণকীর্তন করেন। বাংলার লোকজ গায়ক আবেগ ও প্রেমে গান করেন 'দয়াল নবীজী আমার'।

https://youtu.be/jpn6w3u35qU

ব্যক্তিগত ও সমবেতভাবে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি যে পরিমাণ দরুদ ও সালাম পেশ করা হয় রবিউল আউয়াল মাসে, তা বছরের আর কোনো মাসে এতটা হয় না। স্বয়ং মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনের সুরা আহযাবে এরশাদ করেন
-ان الله وملائکة يحصلون على النبى يا يه‍االذين امنوا صلو عليه وسلموا تسليما (سوروالحزاب -)
"নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তায়ালা এবং ফেরেশতাগন হযরত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি দরূদ প্রেরণ করে থাকেন । সুতরাং হে ঈমানদারেরা ! তোমরাও তার উদ্দেশ্যে দরূদ ও সালাম প্রেরণ কর ।"

হজরত ইবনে মাসঊদ (রা.) হতে বর্ণিত, হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "কিয়ামতের দিন সেই ব্যক্তি সব লোকের তুলনাঢ আমার বেশি নিকটবর্তী হবে, যে তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আমার ওপর দরূদ পড়বে।" –সুনানে তিরমিজি: ৪৮৪

হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "তোমরা আমার কবরকে উৎসব কেন্দ্রে পরিণত করো না। তোমরা আমার প্রতি দরূদ পেশ কর। কারণ, তোমরা যেখানেই থাক, তোমাদের পেশকৃত দরূদ আমার কাছে পৌঁছে যায়।" –সুনানে আবু দাউদ: ২০৪২

হজরত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাম শোনার পর দরূদ না পড়লে তাকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদদোয়া করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাম শুনে যে ব্যক্তি দরূদ পড়ে না তার জন্য হজরত জিবরাইল আলাইহিস সালাম বদদোয়া করেছেন আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমীন বলেছেন।

হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই অভিশাপ দিলেন যে, "সেই ব্যক্তির নাক ধূলা-ধূসরিত হোক, যার কাছে আমার নাম উল্লেখ করা হল, অথচ সে (আমার নাম শুনেও) আমার প্রতি দরূদ পড়ল না।" (অর্থাৎ 'সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম' বলল না)। -তিরমিজি: ৩৫৪৫

হজরত আলী (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "প্রকৃত কৃপণ সেই ব্যক্তি, যার কাছে আমি উল্লিখিত হলাম (আমার নাম উচ্চারিত হল), অথচ সে আমার প্রতি দরূদ পাঠ করল না।" –সুনানে তিরমিজি: ৩৫৪৬

রবিউল আউয়ালে সমগ্র সৃষ্টির জন্য রহমত মহানবী হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র জন্ম ও ওফাতের মাসে তাঁর প্রতি লক্ষ-কোটি দরুদ ও সালাম।

;

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ৯ অক্টোবর



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

৯ অক্টোবর রোববার সারা দেশে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত হবে। বাংলাদেশের আকাশে আজ কোথাও পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। মঙ্গলবার থেকে পবিত্র রবিউল আউয়াল মাস গণনা শুরু হবে।

সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররমের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির এক সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মুনিম হাসান।

সভায় অতিরিক্ত সচিব জানান, দেশের সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, আবহাওয়া অধিদপ্তর, মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সোমবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের আকাশে ১৪৪৪ হিজরির রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। এজন্য মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সফর মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হচ্ছে। বুধবার (২৮ সেপ্টেম্বর) থেকে রবিউল আউয়াল মাস গণনা শুরু হবে। আগামী ৯ অক্টোবর (১২ রবিউল আউয়াল) দেশে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) পালিত হবে।

আরবি ‘ঈদে মিলাদুন্নবী’র শাব্দিক অর্থ- মহানবির (স.) জন্মদিনের আনন্দোৎসব। মুসলমানরা ১২ রবিউল আউয়াল মহানবি হজরত মুহম্মদ (স.) এর জন্ম ও মৃত্যু (ওফাত) দিবস হিসেবে পালন করে। কারণ এ দিনেই রাসুলে কারীম (স.) ইন্তেকালও করেন। সেই হিসাবে আগামী ৯ অক্টোবর হবে ১২ রবিউল আউয়াল। বাংলাদেশে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) দিন সাধারণ ছুটি।

;

সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক

সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক

  • Font increase
  • Font Decrease

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় করতোয়া নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় আরও তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা ২৮ জনে দাঁড়াল।

পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখতে সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সভায় বসবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ১৪৪৪ হিজরি সনের পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা ও ঈদে মিলাদুন্নবির (সা.) তারিখ নির্ধারণে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান।

বাংলাদেশের আকাশে কোথাও পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে তা ০২-২২৩৩৮১৭২৫, ০২-৪১০৫০৯১২, ০২-৪১০৫০৯১৬ ও ০২-৪১০৫০৯১৭ টেলিফোন ও ০২-২২৩৩৮৩৩৯৭ ও ০২-৯৫৫৫৯৫১ ফ্যাক্স নম্বরে বা সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক (ডিসি) বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানানোর জন্য অনুরোধ জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

;

বিশ্বওলী খাজা ফরিদপুরী (রঃ) ছাহেবের পবিত্র ওফাত দিবসে ইসলামী সন্মেলন



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
বিশ্বওলী খাজা ফরিদপুরী (রঃ) ছাহেবের পবিত্র ওফাত দিবসে ইসলামী সন্মেলন

বিশ্বওলী খাজা ফরিদপুরী (রঃ) ছাহেবের পবিত্র ওফাত দিবসে ইসলামী সন্মেলন

  • Font increase
  • Font Decrease

জাকের পার্টির মহান প্রতিষ্ঠাতা বিশ্বওলী হযরত মাওলানা শাহ্সূফী খাজা ফরিদপুরী (রঃ) ছাহেবের পবিত্র ওফাত দিবস উপলক্ষ্যে ২ দিনব্যাপী ইসলামী সন্মেলন আজ শনিবার কৈজুড়ী জাকের মঞ্জিলে শুরু হচ্ছে। সারা দেশ থেকে লাখো শান্তিকামী মানুষ সমবেত হবেন অনুষ্ঠানে।

আরবী হিসাব অনুসারে ৭ সফর বিশ্ব ওলীর ওফাত দিবস। শোক বিধুঁর এ দিবস উপলক্ষে আজ ৬ সফর মাগরিব ওয়াক্ত থেকে শুরু হচ্ছে ইসলামী সন্মেলন।

আজ থেকে ২১ বছর বছর আগে ( ২০০১ সাল) ৬ সফর রাত ১টা ৩৫ মিনিট মোতাবেক ৭ সফর ওফাত লাভ করেন বিশ্বওলী। দেশ বিদেশের কোটি কোটি অনুসারীকে শোক সাগরে ভাসিয়ে বনানী পাক দরবার শরীফ থেকেই মহান রাব্বুল আলামীনের সান্নিধ্যে গমন করেন।

ফরিদপুরের কোতোয়ালির ঘোড়াদহ এলাকায় কৈজুড়ী জাকের মঞ্জিলে আজ মাগরিব নামাজের পরে ২ রাকায়াত করে ৬ রাকায়াত নফল নামাজ ও বিশেষ মুনাজাতের মধ্যে দিয়ে শুরু হবে ইসলামী সন্মেলন।

অত্যন্ত শোকঘন ও বেদনা বিধূর আবহে নফল ইবাদত বন্দেগী, তেলাওয়াতে কালামে পাক, মোরাকাবা মোশাহদো, জেকের আসকার, দফায় দফায় মিলাদ মাহফলি ও বিশেষ মুনাজাত এবং প্রকৃত ইসলামের আদর্শ প্রতিষ্ঠায় বিশ্বওলীর অবদান এবং হেদায়েতের জীবন আলোকপাত করে বয়ান হবে। রাত ১ টা ৩৫ মিনিটে পবিত্র ওফাতক্ষণ স্মরণে মিলাদ মাহফিল ও যিয়ারত অনুষ্ঠিত হবে।

আগামীকাল রোববার বাদ আছর বিশ্বওলীর (রঃ) পবিত্র রওজা শরীফ জিয়ারতের মধ্য দিয়ে ইসলামী সন্মেলন সম্পন্ন হবে।

বিশ্বওলীর আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকার ও জাকের পার্টি চেয়ারম্যান মোস্তফা আমীর ফয়সল মুজাদ্দেদী সন্মেলনে সমবেতদের সাক্ষাৎ দান করবেন ও বক্তব্য রাখবেন।

একই সাথে বহির্বিশ্বের নানা দেশে জাকের পার্টি শোক বিধুঁর দিবসের কর্মসূচি পালন করবে।

ইসলামী সন্মেলনে দেশ ও জাতির সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, সংহতি এবং বিশ্ব মানবতার কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মুনাজাত করা হবে।

;