যে রোজা আল্লাহর সন্তুষ্টির দিকে নিয়ে যায়



মাহমুদ আহমদ
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আল্লাহতায়ালার অপার কৃপায় পবিত্র মাহে রমজানের রহমতের দশকের ৮ম রোজা সুস্থতার সাথে অতিবাহিত করার সৌভাগ্য পেয়েছি, আলহামদুলিল্লাহ।
রমজান মাস আল্লাহপাকের পক্ষ থেকে আমাদের জন্য একটি বড় নেয়ামত। আমাদের উচিত হবে, অবশিষ্ট এ দিনগুলোতে ইবাদতের কোন সুযোগকে যেন হাত ছাড়া না করি।

মুমিন বা মুত্তাকি হওয়ার প্রধান মাধ্যম হলো রোজা। রোজা রাখা বা উপবাস-ব্রত পালনের মধ্যে অনেক পুণ্য নিহীত আছে। গাছে যখন ফুল ফুটে তখন অনেক মৌমাছিকে দেখা যায় ফুল থেকে রস সংগ্রহ করে মৌচাকে মধু তৈরি করতে। এটি মৌমাছির নিত্যদিনের কাজ। যেখানেই ফুলের সন্ধান পায় সেখানেই তারা ছুটে যায়।

অনুরূপভাবে মুমিন মুত্তাকিরাও যেখানে কল্যাণকর কিছু পায় সেখান থেকে তা সংগ্রহ করার জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়। রমজানের এমন অনেক দিক রয়েছে যা পালনের মাধ্যমে আমরা বিশেষ কল্যাণ লাভ করতে পারি।

এই রমজানের মাধ্যমে আমরা যদি নিজেদের জীবনে পবিত্র পরিবর্তন ঘটাতে পারি তাহলে অবশ্যই আল্লাহতায়ালা আমাদেরকে গ্রহণ করে নিবেন।

বংশ বা আভিজাত্যে কিছু যায় আসে না, মূল হচ্ছে নেক আমল। এই রমজানে আমরা যেন আমাদের আমলের পরিবর্তন সৃষ্টি করতে পারি। এটি আল্লাহতায়ালার অপার কৃপা যে, তিনি আমাদেরকে রহমতের দশক অতিবাহিত করে মাগফিরাতের দশকেরও শেষ প্রান্তে নিয়ে এসেছে। আল্লাহ চাহে তো একদিন পরেই নাজাতের দশকে প্রবেশ করব, ইনশাল্লাহ।

মানুষ যদি ভাবে তাহলে দেখবে যে, আল্লাহতায়ালার অনুগ্রহরাজির কোন শেষ নেই। আল্লাহতায়ালা বলেছেন, ‘যারা আমার সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে পুরো চেষ্টা-সাধনা করে, আমি তাদেরকে অবশ্যই আমাদের পথের দিকে আসার সুযোগ দেই’ (সুরা আনকাবুত, আয়াত: ৬৯)।

এখানে আল্লাহপাক এটাই বলছেন, যারা আল্লাহতায়ালার দিকে আসার চেষ্টা করে, তিনি তাদেরকে তার দিকে আসার সুযোগ করে দেন। আর আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দিকে আসার পথগুলোর মধ্যে একটি পথ হল রমজানের রোজা। রোজা আমাদেরকে আল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম।

আল্লাহতায়ালা এ মাসে একজন মুমিনের জন্য ইবাদত ও কোরআন তেলাওয়াতের প্রতি বিশেষ মনোযোগ নিবদ্ধ করাকে আবশ্যক করেছেন এবং তার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। যেহেতু এ মাসটি অত্যন্ত বরকতের মাস, তাই একজন মুমিনের স্মরণ রাখা উচিত, ছোট খাটো রোগ-ব্যধি ও দুর্বলতার অজুহাত দেখিয়ে, সুযোগের অন্যায় ব্যবহার করে রোজা পরিত্যাগ করা উচিত নয়।

রমজানের আধ্যাত্মিক পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে পুণ্যকর্মের মাধ্যমে জান্নাতে যত বেশি সংখ্যক দরজা দিয়ে প্রবেশ করা সম্ভব মানুষের তাতে প্রবেশের চেষ্টা করা উচিৎ। পূণ্যকর্মের মাধ্যমে আমাদেরকে সেই সকল উচ্চতায় পৌঁছার চেষ্টা করতে হবে যেখানে শয়তান পৌঁছতে পারে না। রমজানের দিনগুলোতে ইবাদতের মান উচ্চ থেকে উচ্চতর করতে থাকা উচিত, সদকা-খয়রাতে আমাদেরকে অগ্রগামী হতে হবে, কেননা আমাদেরকে মহানবী (সা.)-এর উত্তম জীবনাদর্শ অনুসরণ করতে হবে।

তিনি যেভাবে পবিত্র মাহে রমজানকে অতিবাহিত করেছেন ঠিক সেভাবেই আমাদেরকে রমজান অতিবাহিত করার চেষ্টা করতে হবে।

আমাদেরকে সেই রোজা রাখা উচিত, যা এই পৃথিবী থেকে বিদায় নেওয়ার আগ পর্যন্ত আমাদের উঠাবসা, চলাফেরা, সর্বোপরি আমাদের প্রতিটি কথা ও কাজ দ্বারা আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি লাভের মাধ্যম হবে এবং আমাদের এসব পুণ্য আমল আল্লাহর সাথে মিলিত করবে। তাই আমরা যদি পরিপূর্ণ নিষ্ঠার সাথে রোজা রাখি তাহলে এই রোজা আমাদেরকে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভে ধন্য করবে।

আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে পবিত্র রমজানের অবশিষ্ট দিনগুলোতে আরো অধিকহারে পুণ্যকর্ম করার তৌফিক দান করুন, আমিন।

লেখক: ইসলামী গবেষক ও কলামিস্ট, ই-মেইল- [email protected]

বরুনা মাদ্রাসার কৃতি ছাত্রদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ, ৪ জন যাবেন উমরায়



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
বক্তব্য রাখছেন বরুনা মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা শায়খ বদরুল আলম হামিদী, ছবি: সংগৃহীত

বক্তব্য রাখছেন বরুনা মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা শায়খ বদরুল আলম হামিদী, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বরেণ্য বুজুর্গ আল্লামা শায়খ লুৎফুর রহমান বর্ণভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলের বহুমুখী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামেয়া লুৎফিয়া আনোয়ারুল উলুম হামিদনগর বরুণা মাদ্রাসার মেধাবী শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।

পুরস্কার হিসেবে বোর্ড পরীক্ষায় মেধা তালিকায় স্থান লাভ করায় ৪ জন পেয়েছেন পবিত্র উমরা পালনের সুযোগ। অন্য শিক্ষার্থীদের নগদ অর্থ ও কিতাব দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়।

বরুণা মাদ্রাসার মসজিদে আয়োজিত মেধাবৃত্তি ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক।

মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা শায়খ বদরুল আলম হামিদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মেধাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন- সিলেটের কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড আযাদ দ্বীনী এদারার মহাসচিব মাওলানা আবদুল বছির, বানিয়াচং সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আব্দাল হোসেন খাঁন, সিলেট দরগাহ মাদ্রাসার নাজেমে তালিমাত মাওলানা আতাউল হক জালালাবাদী, বরুণা মাদ্রাসার নাজেমে তালিমাত হাফেজ মাওলানা ফখরুজ্জামান, শায়খুল হাদিস মাওলানা খায়রুল ইসলাম, মাওলানা সৈয়দ আতহার জাকওয়ান, মাওলানা রশিদ আহমদ হামিদী, মাওলানা সাইফুর রহমান, মাওলানা আব্দুল হাই উত্তরসুরী, মাওলানা হিলাল আহমদ ও মুফতি হিফযুর রহমান ফুয়াদ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের বক্তারা ছাত্র পড়ালেখার মানোন্নয়নে এমন পদক্ষেপ নেওয়ায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বিশেষ করে মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা শায়খ বদরুল আলম হামিদীর প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠানে কওমি মাদ্রাসাগুলোর সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আল-হাইয়াতুল উলইয়া এবং কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়াসহ অন্যান্য বোর্ড পরীক্ষায় মেধা তালিকায় স্থান অর্জনকারী ও মুমতাজ (A+) শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

পুরস্কার হিসেবে ৪ জন পেয়েছেন পবিত্র উমরা পালনের সুযোগ। এছাড়া ১৩২জন শিক্ষার্থীর মাঝে ৩ লক্ষাধিক টাকা ও কিতাব পুরস্কার হিসেবে প্রদান করা হয়।

;

সত্তোরোর্ধ্ব ইমামকে রাজসিক বিদায় এলাকাবাসীর



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ফুলে ফুলে সাজানো ঘোড়ার গাড়িতে করে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয় ইমামকে, ছবি: সংগৃহীত

ফুলে ফুলে সাজানো ঘোড়ার গাড়িতে করে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয় ইমামকে, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

কর্মক্ষেত্র থেকে বিদায়ের সময় নানা আনুষ্ঠানিকতার রীতি থাকলেও মসজিদের ইমাম-মোয়াজ্জিনদের সেভাবে বিদায় নিতে কিংবা দিতে দেখা যায় না। তবে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার চাঁচকৈড় কাঁচারিপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মো. মোতালেব হোসেনকে (৭২) নানা আয়োজন ও সংবর্ধনার মধ্য দিয়ে রাজকীয় বিদায় দিয়েছে এলাকাবাসী।

৩৫ বছর ইমামতি করার পর মুসল্লিদের এমন ভালোবাসায় মুগ্ধ হয়ে অশ্রুশিক্ত হন ইমাম মোতালেব হোসেন। একজন ইমামের এমন রাজকীয় বিদায় এই প্রথম বলেও জানান স্থানীয়রা।

শুক্রবার (১২ জুলাই) পৌরসভার কাঁচারিপাড়া মহল্লায় সকাল থেকেই ইমামকে বিদায় দেওয়ার নানা আয়োজনে ব্যস্ত থাকে এলাকাবাসী। সাজানো হয় ঘোড়ার গাড়ি। আয়োজন করা হয় প্রায় এক হাজার মুসল্লির খাবারের। দুপুরে জুমার নামাজের পর মসজিদের ইমামকে হাত ধরে তোলা হয় ঘোড়ার গাড়িতে।

ঘোড়ার গাড়ির সামনে-পেছনে প্রায় দুই শতাধিক মোটরসাইকেল বহর নিয়ে ১০ কিলোমিটার অদূরে চলনালি গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয় ইমামকে।

এর আগে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে নগদ এক লাখ টাকা তুলে দেন গুরুদাসপুর পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মো. শামসুল হক শেখ।

বিদায়ী ইমাম মাওলানা মোতালেব হোসেন বলেন, ১৯৮৯ সালে এ মসজিদে ইমাম হিসেবে যোগদান করেছি। ৩৫ বছর ধরে ইমামতি করার সময় এই মহল্লার সব পরিবারের ভালোবাসা পেয়েছি। বিদায় বেলায় আমাকে এত ভালোবাসা ও সম্মান দেওয়ায় আমি সত্যিই মুগ্ধ। এমন আয়োজন প্রতিটি মসজিদে, প্রতিটি ইমামের জন্য করা হোক।

মসজিদ কমিটির কোষাধ্যক্ষ মো. আলমগীর শেখ বলেন, গুরুদাসপুরে ইমামের এমন রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা এই প্রথম। এর আগে কখনও গুরুদাসপুর উপজেলায় এমনভাবে কোনো ইমামকে বিদায় দেওয়া হয়নি। আমরা চেষ্টা করেছি, যে মানুষটা আমাদের বিগত ৩৫ বছর নামাজ-কালাম এবং দীনের আলোচনার মাধ্যমে জ্ঞান দিয়ে এসেছেন, তার বিদায়বেলা স্মরণীয় করে রাখতে। প্রতিটি মসজিদে এমন আয়োজন করে ইমামদের বিদায় দেওয়ার আহ্বান জানাই।

মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. আমজাদ হোসেন বলেন, ইমাম সমাজের নেতা। সেই ইমামদের প্রাপ্য সম্মান কোথাও তেমনভাবে দেওয়া হয় না। এলাকাবাসীর উদ্যোগে তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে ইমামকে যে আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিদায় দিয়েছেন তা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এমন উদ্যোগ প্রতিটি এলাকার মুসল্লিরা গ্রহণ করুক।

;

হালাল পর্যটন বাড়ানোর উদ্যোগ থাইল্যান্ডের



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
থাইল্যান্ডের স্ট্রিটফুডের সুনাম আছে, ছবি: সংগৃহীত

থাইল্যান্ডের স্ট্রিটফুডের সুনাম আছে, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বিশ্বের পর্যটকদের কাছে খুবই পরিচিত নাম থাইল্যান্ড। দেশটিতে মুসলিম পর্যটকের সংখ্যা বেড়েছে। গত কয়েক বছর ধরে এর হার বাড়ছে। এই ধারা অব্যাহত রাখতে দেশটির সরকার সরকার ‘হালাল টুরিজম’ বাড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছে।

ব্যাংকক পোস্টের এক খবরে বলা হয়েছে, পর্যটন স্থান হিসেবে সামগ্রিকভাবে থাইল্যান্ড ১৪৫টি দেশের মধ্যে ৩২তম স্থানে রয়েছে। ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়ার অবস্থান শীর্ষে।

থাইল্যান্ড সরকারের কর্মকর্তা চাই ওয়াচারোঙ্ক বলেন, থাই প্রধানমন্ত্রী স্রেথা থাভিসিন তার দেশকে মুসলিমবান্ধব পর্যটন স্থান হিসেবে প্রচার করার জন্য সব সংস্থাকে নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী হালাল খাদ্য-পণ্যের বিষয়গুলো আন্তর্জাতিকভাবে প্রচার এবং উৎপাদকদের জন্য উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগতভাবে সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানান। তিনি হালাল শিল্পখাত বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অধীনে সুস্পষ্ট বাজেটের আহ্বান জানান।

সম্প্রতি গ্লোবাল মুসলিম ট্রাভেল ইনডেক্সে ওআইসিভুক্ত নয় এমন দেশগুলোর মধ্যে থাইল্যান্ড পঞ্চম স্থান লাভ করেছে। মুসলমান ভ্রমণকারীদের দেওয়া সুবিধাগুলোর ওপর ভিত্তি করে এ ধরনের র‌্যাংকিং করা হয়। সুবিধাগুলোর মধ্যে রয়েছে হালাল খাবার, নিরাপত্তা, ভ্রমণের পরিবেশ এবং নামাজের স্থানের সহজলভ্যতা।

বহুসাংস্কৃতিক পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যসহ নানা কারণে থাইল্যান্ড ভ্রমণপ্রেমীদের আকর্ষণীয় জায়গা। আর থাইল্যান্ডে যেহেতু প্রচুর মুসলিম রয়েছে এবং মুসলিম খাবারও বেশ জনপ্রিয়, এই সুযোগকে কাজি লাগিয়ে দেশটি হালাল পর্যটন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

বিশ্বে হালাল ট্যুরিজম দ্রুতগতিতে বাড়ছে। চলতি বছর অন্তত ১৬ কোটি ৮০ লাখ মুসলমান বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করবেন বলে এক পরিসংখ্যানে জানানো হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে পর্যটন সম্প্রসারণে নতুন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে দ্য ট্যুরিজম অথরিটি অব থাইল্যান্ড (টিএটি)।

পরিকল্পনায় ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রা অনুসারে, ২০২৫ সালে দেশটি পর্যটন খাতে ৪ কোটি বিদেশি পর্যটক ও ৩ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন বাথ আয় করতে চায়। সম্প্রতি সরকার নিয়ন্ত্রিত পর্যটন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান নাতথ্রিয়া থাউয়ি উং এ তথ্য জানিয়েছেন।

;

বসনিয়ার সিনান বে মসজিদটি পুনর্নির্মাণ করল তুরস্ক



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
বসনিয়া হার্জেগোভিনায়ার ক্যাজনিসে অবস্থিত সিনান বে মসজিদ, ছবি: সংগৃহীত

বসনিয়া হার্জেগোভিনায়ার ক্যাজনিসে অবস্থিত সিনান বে মসজিদ, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ভয়াবহ যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ধ্বংসপ্রাপ্ত বসনিয়া হার্জেগোভিনায়ার ক্যাজনিসে অবস্থিত সিনান বে মসজিদটি সফলভাবে পুনর্নির্মাণ করেছে তুরস্কের সরকারি দাতা সংস্থা। পুনর্নির্মাণের ফলে শুধুমাত্র মসজিদটির সৌন্দর্য নয়, বরং এর প্রকৃত নকশাও পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করা হয়েছে। পাশাপাশি এখানে থাকা সিনান বে ও তার স্ত্রীর সমাধিও সংস্কার করা হয়েছে। জানা গেছে আগামী শুক্রবার মসজিদটি উদ্বোধন করা হবে।

সম্পূর্ণ পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার মুসলিম কমিউনিটি এবং তুরস্কের সরকারি দাতা সংস্থার যৌথ উদ্যোগে।

মসজিদটি ১৫৭০ খ্রিস্টাব্দে নির্মাণ করা হয়। এটি নির্মাণ করেন তৎকালীন উসমানীয়দের প্রধান ও বিখ্যাত নির্মাণ শিল্পী সিনান বে। পরবর্তীতে ১৯৯২ সালের ৮ জুন যুদ্ধ চলাকালে সার্বিয়ান সেনারা এটিকে ধ্বংস করে দেয়।

গোরাজদের মুফতি রেমজি পিতিক মসজিদটি সফলভাবে পুনর্নির্মাণের সকল কাজ শেষ হয়েছে বলে ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, ‘গত ১০ বছরের মধ্যে গোরাজদে অঞ্চলে নির্মিত এটি তৃতীয় মসজিদ। আমাদের আরো অনেক কিছু করার রয়েছে। মসজিদটির পুনর্নির্মাণ ক্যাজনিসের বাসিন্দাদের জন্য একটি নতুন জীবনের সূচনা করবে। মসজিদটির জন্য এই অঞ্চলে সফর করার প্রেরণা পাবে অনেক মানুষ।’

বলকান রাষ্ট্র বসনিয়ার প্রাতিষ্ঠানিক নাম ‘বসনিয়া অ্যান্ড হারজেগোভিনা।’ অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়ান সাম্রাজ্যের দুটি পৃথক অঞ্চল বসনিয়া ও হারজেগোভিনা নিয়ে তা গঠিত। মুসলিম অধ্যুষিত বসনিয়া একইসঙ্গে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপে অবস্থিত। এর পূর্বে সার্বিয়া, দক্ষিণ-পূর্বে মন্টিনেগ্রো, উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমে ক্রোশিয়া অবস্থিত।

দেশটি ৩ মার্চ ১৯৯২ সালে যুগোস্লাভিয়া থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। বসনিয়ার মোট আয়তন ৫১ হাজার ১২৯ বর্গকিলোমিটার। মোট জনসংখ্যা প্রায় ৪০ লাখের মতো। জনসংখ্যার ৫০.৭ শতাংশ মুসলিম।

১৪৬৩ খ্রিস্টাব্দে উসমানীয় সুলতানের হাতে ‘কিংডম অব বসনিয়া’র পতন হলে এ অঞ্চলে ইসলামের যাত্রা শুরু হয়। তবে ঐতিহাসিকরা এ বিষয়ে একমত যে, বসনিয়ায় জোরপূর্বক ও গণধর্মান্তরের ঘটনা ঘটেনি; বরং বসনিয়ায় মুসলমানের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জিত হয়েছে কয়েক শতাব্দীর মুসলিম প্রচেষ্টার ফলে।

দেশটির মুসলমানদের বহু ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে উসমানীয় শাসকরা বসনিয়াকে অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়ান সাম্রাজ্যের হাতে তুলে দিতে বাধ্য হলে বসনিয়ান মুসলিমদের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। ঘটনার আকস্মিকতার জন্য তারা মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না। এ সময় বহু মুসলিম তুর্কি শাসিত অঞ্চলে হিজরত করেন। তবে বেশির ভাগ বসনিয়ান মুসলিম নিজ দেশে থেকে যান। অবশ্য অস্ট্রিয়ান শাসকরাও চাচ্ছিলেন বসনিয়ার মুসলিম সম্প্রদায় দেশত্যাগ না করে এবং ইস্তাম্বুলের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করুক। ফলে ১৮৮২ সালেই তারা বসনিয়ায় ‘রইসুল উলামা’ নিয়োগ দেন এবং পাঁচ বছর পর ‘শরিয়া আইন’ স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। বসনিয়ান মুসলিমদের দাবির প্রেক্ষিতে ১৯০৯ সালে শাসকরা ‘ওয়াকফ’ ও ইসলামি শিক্ষা পরিচালনায় স্বায়ত্তশাসন প্রদান করা হয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বসনিয়াকে কমিউনিস্ট শাসিত যুগোস্লাভিয়ার সঙ্গে একীভূত করা হলে মুসলিমদের দুঃসময় শুরু হয়। কমিউনিস্ট শাসকরা সব ধরনের ধর্মীয় স্বাধীনতা কেড়ে নেয় এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নিষিদ্ধ করে। মুসলিমরা আরও বিপন্ন হয়ে ওঠে, যখন ১৯৯০-এর দশকে সাবেক যুগোস্লাভিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। এই সময় ক্ষমতাসীন সার্বদের গণহত্যার শিকার হয় বসনিয়ান মুসলিমরা।

মুসলিম নিধনের জন্য সার্বপ্রধান গ্রামগুলোতে অসংখ্য নির্যাতন শিবির গড়ে ওঠে। বসনিয়া-হারজেগোভিনা কর্তৃপক্ষের তথ্য মতে, ৫০ হাজারের মতো বসনিয়ান নারী গণধর্ষণের শিকার হন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বসনিয়ায় মুসলিম নিধনকে ‘গণহত্যা ও জাতিগত নির্মূল প্রচেষ্টা’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। যুদ্ধের সময় সহস্রাধিক মসজিদসহ প্রায় চার হাজার মুসলিম স্থাপনা ধ্বংস করা হয়। মুসলমানদের মসজিদ, ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, খানকা ও সমাধিসৌধের প্রায় ৮০ শতাংশ এই সময় ধ্বংস করা হয়।

বসনিয়ার সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ মুসলিম হলেও সব ধর্মাবলম্বীরা স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন করে থাকে এবং সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখে। ‘দ্য ইসলামিক কমিউনিটি ইন বসনিয়া অ্যান্ড হারজেগোভিনা’ বসনিয়ার রাষ্ট্র স্বীকৃত মুসলিম প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান। উসমানীয় শাসনামল থেকে সংস্থাটি মুসলিমদের ধর্মীয় বিষয়গুলো তত্ত্বাবধান করে। এ ছাড়া দেশটির প্রধান আট শহরে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত আটজন মুফতি আছেন। যারা মুসলিমদের স্থানীয় সমস্যাগুলো সমাধান করেন।

;