শিশুদের নামাজে উদ্ধুদ্ধকরণে ‘পুরস্কার কৌশল’ জনপ্রিয় হচ্ছে



মুফতি এনায়েতুল্লাহ, বিভাগীয় প্রধান, ইসলাম
দেশ-বিদেশে টানা ৪০ দিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে পড়ে পুরস্কার গ্রহণকারী শিশুদের একাংশ, ছবি: সংগৃহীত

দেশ-বিদেশে টানা ৪০ দিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে পড়ে পুরস্কার গ্রহণকারী শিশুদের একাংশ, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

টানা ৪০ দিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে পড়ে পুরস্কার পাচ্ছে শিশু-কিশোররা। জামাতে অংশগ্রহণসহ নামাজ আদায়ে শিশু-কিশোরদের উদ্ধুদ্ধকরণে দেশে-বিদেশে এমন প্রতিযোগিতা দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। প্রায়ই বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত খবর গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ পাচ্ছে।

সর্বশেষ পটুয়াখালীর দুমকিতে টানা ৪১ দিন তাকবিরে উলার (নামাজ শুরুর প্রথম তাকবির) সঙ্গে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে আদায় করায় ১৮ কিশোরকে বাইসাইকেল পুরস্কার দিয়েছেন মসজিদ কমিটি।

শুক্রবার (৪ ডিসেম্বর) বিকেলে উপজেলার আঙ্গারিয়া বাজার জামে মসজিদ এলাকায় কিশোরদের হাতে সাইকেল তুলে দেওয়া হয়। এদের মধ্যে একজনকে শীতের পোশাক ও বাকিদের টুপিসহ ইসলামি বই উপহার দেওয়া হয়।

মসজিদ কমিটি সূত্রে জানা গেছে, গত ১ অক্টোবর থেকে শিশু-কিশোরদের নামাজে আগ্রহী করতে এ প্রতিযোগিতা শুরু হয়। এলাকার ৪৯ জন শিশু-কিশোর এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। টানা ৪১ দিন তাকবিরে উলার সঙ্গে মসজিদে এসে নামাজ আদায় করতে সক্ষম হয় ১৮ কিশোর ও একজন বয়স্ক মুসল্লি।

পটুয়াখালীর দুমকিতে পুরস্কারপ্রাপ্ত শিশুরা, ছবি: সংগৃহীত

শুক্রবার সেই ১৮ কিশোরকে অনুষ্ঠানিকভাবে বাইসাইকেল এবং অন্য একজনকে শীতবস্ত্র ও পাগড়ি দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়। তবে যারা টানা ৪০ দিন নামাজ আদায় করতে পারেনি তাদেরকেও নিরাশ করেনি আয়োজকরা। প্রত্যেককে ইসলামি বইসহ টুপি উপহার দেওয়া হয়।

মসজিদ কমিটির উদ্যোগে শিশু-কিশোরদের নামাজে উদ্বুদ্ধ করতে ব্যতিক্রমী এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

শুধু পটুয়াখালীর দুমকি নয়, এর আগে চাঁদপুরে ১৭ জন, নরসিংদীতে ২৭ জন, সিলেটে ১৫ জন, নোয়াখালীর সোনাইমুড়িতে ৪৪ জন, নোয়াখালীর সদরে ৭ জন, কাপাসিয়ায় ৩ জন ও লক্ষ্মীপুর সদরে ৪৩ জনকে পুরস্কৃত করা হয় টানা ৪০ দিন জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায়ের জন্য। এমন আয়োজন করা হয় মাদারীপুরের কালকিনি পৌর এলাকার ভুরঘাটা-মজিদবাড়ি জামে মসজিদেও। বেশিরভাগ স্থানেই বিজয়ীদের পুরস্কার হিসেবে বাই সাইকেল দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অংশগ্রহণকারীদের স্কুলব্যাগ, জ্যামিতি বক্স, ইসলামি বই, কোরআন শরিফ, পাঞ্জাবির কাপড় ও শীতের পোশাক দেওয়া হয়।

শিশু-কিশোরদের নামাজে অভ্যস্ত করতে এমন প্রতিযোগিতা আয়োজনের প্রথম ধারণাটি আসে ইস্তাম্বুলের এক মসজিদ কর্তৃপক্ষের। ইস্তাম্বুলের ফাতিহ জেলার সুলতান সেলিম মসজিদ কর্তৃপক্ষ ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তারা টানা ৪০ দিন ফজরের নামাজে অংশ নেওয়া বাচ্চাদের সাইকেল ও বিভিন্ন সামগ্রী উপহার দিয়েছিলেন।

নরসিংদীতে সাইকেল বিজয়ীরা পুরস্কার বিতরণ শেষে মনোজাতে অংশ নিচ্ছেন, ছবি: সংগৃহীত

২০১৮ সালের মে মাসে মালয়েশিয়ার ক্যালানটানের এক মসজিদ কর্তৃপক্ষ পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে এমন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। সেখানে পুরস্কার হিসেবে শিশুদের জন্য ইলেকট্রিক বাইক দেওয়া হয়।

এর আগে ২০১৮ সালের জুলাইতে তুরস্কের আকশাহর পৌরসভায় তত্ত্বাবধানে ‘চলো মসজিদে যাই, ফজর নামাজে শরিক হই’ শিরোনামে এক বিশেষ প্রকল্প চালু করা হয়। ওই প্রকল্পের আওতায় নগরীর মুফতি বোর্ডের সহায়তায় টানা ৪০ দিন ফজরের নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করায় ৫২০ জনকে সাইকেল পুরস্কার দেওয়া হয়।

২০১৮ সালে মিসরের আল বাহিরা প্রদেশের এক মসজিদে শিশুদের ফজরের নামাজে শরিক হতে উৎসাহিত করে প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। প্রতিযোগিতা শেষে যারা টানা ৪০ দিন মসজিদে নামাজ পড়তে পেরেছিল, তাদের প্রতিশ্রুত উপহার দেওয়া হয়।

২০১৯ সালের নভেম্বরে ভারতের বেঙ্গালুরুর এক মসজিদ কর্তৃপক্ষ বাচ্চাদের জামাতে নামাজ আদায়ে উৎসাহিত করতে এমন অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করেন। বেঙ্গালুরুর ওই মসজিদে ২০০ শিশু-কিশোর প্রতিযোগিতায় নিবন্ধন করে। তন্মধ্যে ৯৯ জন টানা ৪০ দিন ফজরের নামাজ জামাতে আদায়ে সক্ষম হয় এবং পুরস্কার হিসেবে সাইকেল লাভ করে। অন্যদের হাতঘড়ি উপহার দেওয়া হয়।

বাংলাদেশে ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে সর্বপ্রথম এমন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় চাঁদপুরে। ‘চল মসজিদে জামাতে নামাজ পড়তে’ স্লোগানকে সামনে রেখে চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার স্থানীয় খান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন ব্যবসায়ী সুমন খান।

এমন আয়োজন প্রসঙ্গে নরসিংদীর আয়োজক মুফতি ইমদাদুল্লাহ কাসেমী বেশ আগে বার্তা২৪.কমকে জানিয়েছিলেন, ‘শিশু-কিশোরদের মসজিদমুখি করতে এমন আয়োজন করা হয়েছে। এই উদ্যোগের অংশ নেওয়া একটি ছেলেও যদি পরবর্তী জীবনে নামাজ আঁকড়ে ধরে তাহলে আমাদের উদ্যোগ সার্থক হবে।’

পটুয়াখালীর দুমকিতে পুরস্কারপ্রাপ্ত শিশুরা, ছবি: সংগৃহীত

ওই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া একজন মোবাইলে বার্তা২৪.কমকে বলেছিলেন, ‘এ পুরস্কার তাকে নামাজের প্রতি অনুপ্রাণিত করেছে। সত্যি কথা বলতে কী, প্রথম প্রথম বিজয়ী হওয়ার তীব্র ইচ্ছায় নামাজে যাওয়া শুরু করি। পরে কোনো পুরস্কারের লোভে নয় বরং আল্লাহকে রাজি-খুশি করতেই নামাজ আদায় করেছি। আল্লাহর ইচ্ছায় এখন আর নামাজ কাজা হয় না। দোয়া করবেন, জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত যেন সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে পারি।’

শিশু-কিশোরদের নামাজের প্রতি উৎসাহ প্রদানে এমন প্রতিযোগিতার আয়োজন ও পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। যেন তারা মসজিদে যেতে অভ্যস্ত হয়, নামাজের গুরুত্ব সম্পর্কে জানতে পারে এবং আল্লাহর একত্ববাদ ও সামাজিক ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠা করতে পারে।

ঈমানের পর নামাজ সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। শৈশব থেকে সন্তানকে নামাজে অভ্যস্ত করে না তুলে ভবিষ্যতে সে নামাজের প্রতি যত্নবান হতে পারবে না। হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, ‘তোমরা সন্তানদের নামাজের প্রতি যত্নবান হও এবং তাদের ভালো কাজে অভ্যস্ত করো। কেননা কল্যাণ লাভ অভ্যাসের ব্যাপার।’ -সুনানে বায়হাকি: ৫০৯৪

সন্তান বালেগ হয়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে তাকে নামাজের নির্দেশ দিতে বলেছে ইসলাম। হাদিসে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা তোমাদের সন্তানদের সাত বছর বয়সে নামাজের নির্দেশ দাও। তাদের বয়স ১০ বছর হওয়ার পর (প্রয়োজনে) নামাজের জন্য প্রহার করো এবং তাদের বিছানা পৃথক করে দাও।’ -সুনানে আবু দাউদ: ৪৯৫

অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, সন্তান যখন ডান ও বাঁ পার্থক্য করতে শেখে, তখন তাকে নামাজ শেখাও। -মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা: ৩৫০৪

   

হজযাত্রীর কাছে নুসুক কার্ড না পেলেই আটক



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
নুসুক কার্ড, ছবি: সংগৃহীত

নুসুক কার্ড, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

চলতি বছর নুসুক কার্ড ছাড়া কেউ হজ করতে পারবেন না। সৌদি সরকারের হজ ও উমরা মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া হজযাত্রী প্রতিরোধ করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (২৫ মে) ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি হজ এজেন্সির মালিকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, জেদ্দা হজ অফিস থেকে এ সংক্রান্ত প্রাপ্ত পত্রের ছায়ালিপি পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

জেদ্দা হজ অফিস থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, মাশায়ের (মিনা, আরাফাত ও মুজদালিফ) এলাকাসহ মক্কা নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে মক্কায় প্রবেশের তাসরিহ বা নুসুক কার্ড ছাড়া কাউকে পাওয়া গেলে প্রথমবার ১০ হাজার সৌদি রিয়াল অর্থদণ্ড এবং পুনরায় অপরাধে দ্বিগুণ জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান করা হয়েছে। হজের অনুমতি নেই, এমন কোনো ব্যক্তিকে পরিবহন করা হলে পরিবহনকারীকে ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার সৌদি রিয়াল জরিমানা করা হবে।

এ ছাড়া মিনা ও আরাফাতে হাজির তাঁবুতে নুসুক কার্ড ছাড়া কাউকে পাওয়া গেলে তাকে অর্থদণ্ড আরোপ এবং দেশে প্রত্যাবর্তনের মতো শাস্তি প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এরূপ কর্মের সহযোগিতাকারীকেও শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা হবে।

হজের অনুমতি নেই কিংবা নুসুক কার্ডবিহীন কাউকে মাশায়েরে পরিবহন করলে গাড়িচালকসহ উভয়েই শাস্তির আওতায় আসবেন। ই-হজ সিস্টেমে ভাড়াকৃত বাড়ি বা হোটেলে হাজি আবাসন না করে অন্যত্র হাজি আবাসন করা হলে অথবা সিস্টেমে এক হোটেল এন্ট্রি দিয়ে অন্য হোটেলে হাজি ওঠানো হলে এজেন্সি বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা হবে।

ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ডিজিটাল এই নুসুক কার্ডে সংশ্লিষ্ট হজযাত্রীর প্রয়োজনীয় সব তথ্য মজুদ থাকবে এবং হজের জন্য পবিত্র কাবার প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে চাইলে এই কার্ড অবশ্যই প্রদর্শন করতে হবে। হজের অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা পালনেও বিভিন্ন জায়গায় কার্ডটি দেখাতে হবে।

;

মক্কায় প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ রাস্তা ও ইবাদতের স্থান



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
প্রতিবন্ধীদের জন্য নির্ধারিত মসজিদে হারামের ৯১ নম্বর গেট, ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবন্ধীদের জন্য নির্ধারিত মসজিদে হারামের ৯১ নম্বর গেট, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আগে থেকে ব্যবস্থা থাকলেও চলতি হজ মৌসুমে মক্কার মসজিদে হারামে অসুস্থ, বয়স্ক ও বিশেষভাবে অক্ষম প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে হারামাইন পরিচালনা পরিষদ। তাদের দেখাশোনা, রাস্তা দেখানো ও যেকোনো ধরনের সাহায্যের জন্য বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত ২ শতাধিক গাইড নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এবার মসজিদে হারামের কয়েকটি স্থান বিভিন্ন শ্রেণির প্রতিবন্ধীদের জন্য সংরক্ষিত করা হয়েছে, যাতে তাদের ইবাদত-বন্দেগি ও চলাচলে কোনো অসুবিধায় পড়তে না হয়।

সৌদি আরবের সরকারি বার্তা সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, মসজিদে হারামে চলাচলে অক্ষম প্রতিবন্ধীদের হুইলচেয়ারের জন্য বিশেষ পথ তৈরি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে যেখানে তাদের বসার স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে, সেখানে পানিসহ অন্যান্য সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

পুরুষ ও নারী প্রতিবন্ধীদের জন্য মসজিদে হারামে পৃথক তিনটি স্থান সংরক্ষিত রয়েছে, যা প্রধান ফটকের কাছে। ফলে তাদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হবে না। জায়গাগুলো হলো- মসজিদে হারামের ৯১ নম্বর গেট এবং আল শাবাকা ব্রিজের কাছে ৬৮ নম্বর গেট (নিচতলায়)।

মসজিদে হারামে প্রতিবন্ধীদের চলাচলে রয়েছে আলাদা ব্যবস্থা, ছবি: সংগৃহীত

আর নারীদের হুইলচেয়ার ব্যবহার করার জন্য বাদশাহ ফাহাদ এক্সটেনশনের গেট নম্বর ৮৮ এবং নিচতলার গেট নম্বর ৬৫ ছাড়াও মাতাফের (কাবা চত্বর) সামনে নামাজের জন্য একটি স্থান (মুসাল্লা নম্বর ১৫) সংরক্ষিত ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে হুইলচেয়ারসহ নারীরা আরামে বসতে পারেন৷

এ ছাড়া বয়স্কদের জন্য ডিজিটাল কোরআন এবং অন্ধদের জন্য ব্রেইল সংস্করণ ছাড়াও শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধীদের জন্য সাংকেতিক ভাষায় জুমার খুতবার শোনার বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে।

;

সোমবার ছায়াশূন্য কাবার দেখা মিলবে



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
সোমবার ছায়াশূন্য কাবার দেখা মিলবে, ছবি: সংগৃহীত

সোমবার ছায়াশূন্য কাবার দেখা মিলবে, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সোমবার পবিত্র কাবা ঘরের ঠিক ওপরে উঠে আসবে সূর্য। ওই সময়ে ছায়াশূন্য পবিত্র কাবার দেখা মিলবে।

জ্যোতির্বিদরা জানিয়েছেন, সোমবার (২৭ মে) স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ১৮ মিনিটে পবিত্র কাবার ঘরের ঠিক ওপর সূর্য থাকবে। বছরের দুইবার এমন ঘটনা ঘটলেও চলতি বছরে প্রথমবারের মতো এ ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে।

আল আরাবিয়া নিউজকে জেদ্দা অ্যাস্ট্রোনোমিক্যাল সোসাইটির প্রধান মাজেদ আবু জাহরা জানিয়েছেন, সোমবার দুপুর নাগাদ মক্কার পবিত্র কাবা ঘরের সঙ্গে সূর্য একই লাইনে অবস্থান করবে। এ সময় সূর্যের কেন্দ্রবিন্দুটি কাবার ঠিক ওপরে উঠে আসবে।

জ্যোতির্বিদরা জানিয়েছেন, সূর্যের এই অবস্থানকে ‘ছায়াশূন্য’ (জিরো শ্যাডো) অবস্থা বলেই চিহ্নিত করেন মহাকাশ বিজ্ঞানীরা। বছরে অন্তত দুইবার পবিত্র মক্কা নগরীর ক্ষেত্রে এই ঘটনা ঘটে। প্রতিবছর ২৭ বা ২৮ মে ছাড়াও ১৫ বা ১৬ জুলাই তারিখে একই ঘটনা ঘটে থাকে। পবিত্র কাবাঘরটি বিষুবরেখা ও কর্কটক্রান্তির মাঝে অবস্থিত হওয়ার কারণেই এমনটা ঘটে।

তারা আরও জানান, মক্কায় সোমবার ভোর ৫টা ৩৮ মিনিটে সূর্যোদয় হবে। উত্তরপূর্ব দিকটি থেকে সূর্য ধীরে ধীরে ওপরে উঠতে শুরু করবে। সে কারণে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য হলেও পবিত্র এই মসজিদ ঘরের কোনো দিকে কোনো ছায়া থাকবে না।

পৃথিবীর অক্ষরেখায় সূর্য ২৩.৫ ডিগ্রি কৌণিক অবস্থান নিয়ে বিষুব রেখার উত্তর ও দক্ষিণ দিকে ঘুরতে থাকে।

এভাবে একবার উত্তর গোলার্ধে একবার দক্ষিণ গোলার্ধে যায়। আর এই আসা যাওয়ার পথে বছরে দুইবার সরাসরি ওপরে অবস্থান নিয়ে পবিত্র কাবাকে ছায়াশূন্য করে দেয়।

জ্যোতির্বিদ আবু জাহরা আরও জানান, কাঠের কোনো কাঠি মাটিতে লম্বালম্বী করে মানুষ কাবার সঠিক দিক নির্ধারণ করতে পারবে। এর মাধ্যমে কিবলার দিকটি কাঠির ছায়ার ঠিক বিপরীতে দেখতে পাবে।

;

হজযাত্রীদের জন্য ২ শতাধিক বিশেষ গাইড, সাড়ে ৩ হাজার বাস



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
শায়খ সুদাইস এক হজযাত্রীকে উপহার দিচ্ছেন, ছবি: সংগৃহীত

শায়খ সুদাইস এক হজযাত্রীকে উপহার দিচ্ছেন, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আসন্ন হজে মসজিদ হারাম এবং মসজিদে নববিতে আগত বয়স্ক, প্রতিবন্ধী এবং অসুস্থদের বিশেষ যত্ন ও সেবার লক্ষে বিশেষ দল নিয়োগ করা হয়েছে।

হারামাইন প্রেসিডেন্সির উদ্যোগে চলতি হজ মৌসুমে ‘ইনসানিয়্যুন’ মানবিক উদ্যোগ শিরোনামে এই কর্মসূচি পারিচালিত হবে। এর মাধ্যমে হজযাত্রীদের অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ হবে। যারা অসুস্থ, বয়স্ক এবং প্রতিবন্ধী- তারা নির্বিঘ্নে ও আরামের সঙ্গে গ্র্যান্ড মসজিদ এবং মসজিদে নববি পরিদর্শন, জিয়ারত ও ইবাদত-বন্দেগি পালন করতে পারবেন।

মসজিদে হারাম এবং নববির ধর্ম বিষয়ক প্রধান শায়খ আবদুর রহমান আস-সুদাইস এই কর্মসূচি উদ্বোধন করে বলেন, ‘মানবতাবাদী উদ্যোগের লক্ষ্য হলো- আচরণ উন্নত করা এবং প্রেসিডেন্সি কর্তৃক প্রদত্ত পরিষেবাগুলোকে বিভিন্ন সেক্টর এবং বিভাগজুড়ে বিস্তৃতি করা। আমরা সব ধরনের হজযাত্রীদের জন্য একটি উপযুক্ত উপাসনার পরিবেশ উপহার দিতে চাই। আমাদের উদ্দেশ্য, মুসলমানদের উদার মনোভাব বাড়ানো এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সেবার মান উন্নত করা।’

এই উদ্যোগের জন্য বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ২ শ গাইড নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যারা এই শ্রেণির হজযাত্রীদের ধর্মীয় চাহিদা মেটাতে প্রযুক্তি, মেধা ব্যবহার করবে। তারা অসুস্থ, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী হজযাত্রীদের ধর্মীয়ভাবে সচেতনতা বৃদ্ধি ও দিকনির্দেশনার জন্য নিবিঢ়ভাবে কাজ করবে।

এ সময় তিনি বলেন, হজপালনকারীদের সেবা দিতে ধর্মীয় বিষয়ক সংস্থার পক্ষ থেকে কোনো অবহেলা সহ্য করা হবে না।

তিনি আরও বলেন, হারামাইনের ধর্মবিষয়ক অধিদপ্তর হজ মৌসুমে বিভিন্ন দেশ থেকে আগত হজযাত্রীদের জন্য বিভিন্ন ভাষায় বিষয়ভিত্তিক ধর্মীয় পুস্তিকা তৈরি করেছে, যা হজযাত্রীদের দেওয়া হবে।

মিনা-আরাফাতের জন্য সাড়ে ৩ হাজার বাস : সৌদি আরবে হজ ব্যবস্থাপনায় সেন্ট্রাল ট্রান্সপোর্ট অথরিটি চলতি হজের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। ঘোষণায় বলা হয়, হাজিদের পরিবহনের জন্য ৩ হাজার ৫০০টি বাস প্রস্তুত। এসব বাস চলতি হজ মৌসুমে মসজিদে হারামের চারপাশে অবস্থিত ৯টি স্টেশন থেকে চলাচল করবে। বাসগুলো হজযাত্রীদের মিনা ও আরাফাতে আনা-নেওয়া করবে। এ জন্য ১২টি রুট নির্ধারণ করা হয়েছে।

;