হজরত রাসূলুল্লাহ সা.-এর সামাজিক ও মানবীয় চরিত্র



মাওলানা আবদুল জাব্বার, অতিথি লেখক, ইসলাম
নবী মুহাম্মদ সা.-এর অনুসরণেই আমাদের মুক্তি নিহিত, ছবি: সংগৃহীত

নবী মুহাম্মদ সা.-এর অনুসরণেই আমাদের মুক্তি নিহিত, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হজরত স্ত্রী খাদিজা (রা.) কে হেরা পাহাড়ে ঘটে যাওয়া অহি ও জিবরাইল সংক্রান্ত ঘটনাগুলো উল্লেখপূর্বক ভয়ার্ত কণ্ঠে বলেন, ‘আমি আমার জীবন সম্পর্কে আশঙ্কা করছি।’ হজর খাদিজা (রা.) সান্তনা দিয়ে বলেন, ‘আল্লাহর শপথ! তা কখনও হতে পারে না, তিনি (আল্লাহতায়ালা) আপনাকে অপদস্থ করবেন না। ১. আপনি আত্মীয়তার বন্ধন সংরক্ষণ করেন, ২. আপনি দুস্থ মানুষের বোঝা হালকা করেন, ৩. নিঃস্বদের আহার করান, ৪. অতিথিদের সেবা করেন ও ৫. সত্যের পথে নির্যাতিতদের সাহায্য করেন।’ –সহিহ বোখারি

এগুলো হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) সম্পর্কে হজরত খাদিজা (রা.)-এর উক্তি। তিনি নবী করিম (সা.)-এর প্রথম স্ত্রী। উম্মতের মধ্যে প্রথম ঈমান আনয়নকারী, জগতের শ্রেষ্ঠতম চার রমণীর অন্যতম। তিনি তার সব ধনসম্পদ রাসূলের কদমে উৎসর্গ করেছেন। রাসূলের সব ছেলেমেয়ে তার গর্ভে জন্মলাভ করেন। অহি লাভের পর রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর অস্থিরতায় তিনি সান্তানা দিয়ে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

একজন স্ত্রীর মন্তব্য স্বামীর ব্যাপারে খুবই প্রণিধানযোগ্য। কারণ সুখে-দুঃখে, দিনে-রাতে, সকালে-বিকেলে, রাগ-বিরাগে সর্বাবস্থায় নিবিড়ভাবে স্বামীকে দেখার সুযোগ পান তিনি। আর যদি স্ত্রী হন অতীব বিচক্ষণ, সচেতন ও জ্ঞান ও প্রজ্ঞাসম্পন্ন তবে তো কথাই নেই। যে মুহাম্মদকে মক্কাবাসী পূর্বেই আল আমিন বলে ঘোষণা দিয়েছে, নবুওয়তপূর্ব জীবনে বর্বতার মধ্যে সভ্য, অশ্লীতার মধ্যে পরিচ্ছন্ন, পুঁতিগন্ধময়ের মধ্যে সৌরভ, অন্ধকারের মধ্যে আলো হিসেবে দেখছেন। তারপরও সবার প্রশংসার চেয়ে খাদিজার উক্তি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

হাদিসে হজরত খাদিজা (রা.) আরও বলেছেন, ‘আপনি আত্মীয়তার বন্ধন সংরক্ষণ করেন।’ এর বাস্তবতা আমরা নবী জীবনের পরতে পরতে দেখতে পাই। এ সম্পর্কিত বিভিন্ন ঘটনাও হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। নবুওয়তের ঘোষণা দেয়ার পরও তিনি এ বিষয়ে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছেন। কোরআনে কারিমেও আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়ে বহু আয়াত নাজিল হয়েছে।

কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যার নামে তোমরা অধিকার দাবি করো আর সতর্ক থাকো আত্মীয়তার অধিকার ও সম্পর্কের বিষয়ে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ম দৃষ্টি রাখেন।’ -সূরা নিসা: ০১

হাদিসে নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘সাবধান! রক্ত সম্পর্কের আত্মীয়তা ছিন্নকারীরা জান্নাতে যাবে না।’ –সহিহ বোখারি

আজকের সমাজে ভাইয়ে-ভাইয়ে, পিতা-পুত্রে, চাচা-জেঠাদের সঙ্গে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সুসম্পর্ক নেই বরং নিকটাত্মীয়রা যেন অন্যদের চেয়েও বেশি শত্রু। সামান্য কারণে ঝগড়া-বিবাদ লেগে যায় এবং তা চলতে থাকে বছরের পর বছর। এই সময়ে রক্তের সম্পর্ক রক্ষা ও আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করা সুস্থ সমাজ ব্যবস্থার জন্য জরুরি।

হজরত খাদিজা (রা.) আরও বলেন, ‘আপনাকে দেখেছি সারাজীবন দুর্বল ও বঞ্চিতদের বোঝা বহন করতে।’ অথচ বাস্তবতা হলো- সমাজের বেশিরভাগ মানুষ দুর্বল ও অবহেলিত। তারা ন্যূনতম মৌলিক অধিকার ভোগ করতে পারে না। এই শ্রেণির লোকেরা সবসময় স্বল্পসংখ্যক সুবিধাভোগীর হাতে নিপীড়িত হয়। স্বয়ং নবী মুহাম্মদ (সা.) তাদের অন্তর্ভুক্ত। সোনার চামচ মুখে নিয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেননি। তিনি সামান্য অর্থের বিনিময়ে দীর্ঘদিন পর্যন্ত মক্কাবাসীর বকরি চরিয়েছেন। ইমাম বোখারি (রহ.) এমন একটি হাদিসও উল্লেখ করেছেন। আর আল্লাহতায়ালা এমন কোনো নবী পাঠাননি, যিনি রাখাল ছিলেন না। আমরা ইতিহাস থেকে জানতে পারি, বেশিরভাগ নবী শ্রমজীবী ছিলেন। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) সারাজীবন এতিম, বেওয়ারিশ ও মিসকিনদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে রেখেছিলেন। তিনি এতটুকু বলেছেন, আমার উম্মতের বেশিরভাগ মানুষ গোলাম, শ্রমজীবী ও এতিম হবে। তাদের বোঝা হালকা করার জন্য নিয়োজিতরা জান্নাতি।

কিন্তু আজকের সমাজে কী দেখি? মানুষ কিভাবে জালেমদের অত্যাচারে নির্বাক ও নিথর হয়ে অশ্রুবিসর্জন করছেন।

হজরত খাদিজা (রা.) হাদিসে আরও বলেন, ‘আপনি তো নিঃস্বদের আহারের ব্যবস্থা করেন, আপনি নিরন্ন মানুষের মুখে খাবার তুলে দেন, আপনি বিবস্ত্রদের কাপড় দেন, আল্লাহতায়ালা অবশ্যই আপনার কল্যাণ করবেন।

‘দরিদ্র, নিঃস্ব ও বুভুক্ষুরা আল্লাহর পরিবারের সদস্য’ বলে হাদিসে বলা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে হাদিসে কুদসিতে, আল্লাহ বলবেন কিয়ামতে- ‘হে বনি আদম! আমি ক্ষুধার্ত হয়ে তোমার নিকট গিয়েছিলাম তোমরা আমাকে খাবার দাওনি, লোকেরা বলবে তুমিতো আহার করো না, কিভাবে তোমায় আহার করাবো? আল্লাহ বলবেন, ক্ষুধার্তকে খাবার দান করা হলে আমাকে খাদ্য দেওয়া হতো।’ –সহিহ মুসলিম

হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, আমি রাসূলের জবানে শুনেছি, তিনি বলেছেন, ‘তারা মুমিন নয়, যারা প্রতিবেশীকে ক্ষুধার্ত রেখে আহার করে।’ মিশকাত

নবী মুহাম্মদ (সা.) প্রতিবেশীদের খবর না নিয়ে, আসহাবে সুফফার লোকদের আহারের ব্যবস্থা না করে খাবার মুখে দেননি।

এখন তো বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ দু’বেলা আহার করতে পারে না, বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে লাখ লাখ মানুষ। তাদের মুখে অন্ন ও পরিধানের বস্ত্র ও আর্তের চিকিৎসার জন্য আমাদের উদ্যোগী হতে হবে। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কর্মনীতি কী ছিল? আমরা কোথায়, কী করছি, কোন ইবাদাতের মধ্যে জান্নাত খুঁজছি- এসব চিন্তা করতে হবে। মনে রাখতে হবে, মানবতার সেবায়ই রয়েছে, আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি।

হজরত খাদিজা (রা.) আরও বলেন, ‘আপনি অতিথির সেবা করেন।’ কাবা শরীফ মক্কায় অবস্থিত বিধায় হাজার হাজার বছর থেকে কাবাকেন্দ্রিক বিভিন্ন এলাকা ও জনপদ থেকে তীর্থযাত্রীরা ভিড় জমাতো। কোরাইশ পৌত্তলিকেরা বিদেশিদের জীবন সম্পদ লুণ্ঠনের উৎসব করত বিশেষ করে হজ মৌসুমে। যদিও জাতিগতভাবে আরবিরা অতিথিপরায়ণ কিন্তু অসৎদের আর মূল্যবোধের বালাই থাকে না।

নবী মুহাম্মদ (সা.) বাল্যকাল থেকে অসহায় বিদেশি ও অতিথিদের সহায়-সম্পদ লুণ্ঠনের দৃশ্য দেখে আসছিলেন। হিলফুল ফুজুল সংগঠন সৃষ্টির উদ্দেশ্যও ছিল সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও বিদেশিদের নিরাপত্তা দেওযা।

নবী করিম (সা.) হাদিসে ইরশাদ করেছেন, ‘কেউ যদি আল্লাহ ও পরকালের ওপর ঈমান আনে, সে যেন অতিথির সেবা করে।’ –সহিহ বোখারি

‘সত্যের পথে নির্যাতিতদের আপনি সাহায্য করেন’ হজরত খাদিজা (রা.)-এর এই উক্তিটিও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। হক ও ন্যায়ের পথে যারা যে যুগেই চলতে চেয়েছে, নিষ্ঠুর সমাজ তাদের চলার পথ রুদ্ধ করে দিয়েছে। তাদেরকে জুলুম-নিপীড়ন নির্যাতনের বিষাক্ত কাঁটা মাড়িয়ে চলতে হয়েছে। কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি তোমাদেরকে (মুমিনদের) ভয়-ভীতি, ক্ষুধা, ধনসম্পদ, জীবন ও ফসলের ক্ষতি দ্বারা অবশ্যই পরীক্ষা করব, তুমি ধৈর্যশীলদেরকে সুসংবাদ দাও, যারা যেকোনো বিপদ-মুসিবতে বলে আমরা আল্লাহর কাছ হতে এসেছি এবং তারই নিকট ফিরে যাব।’ -সূরা বাকারা: ১৫৫

বস্তুত নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর সামাজিক ও মানবীয় চরিত্র যা হজরত খাদিজা (রা.) বর্ণনা করেছেন, এগুলো উম্মতের জন্য শিক্ষা ও গ্রহণী বিষয়।

সুতরাং আমাদেরকে সমাজের অবহেলিত, নিপীড়িত মজলুমদের সাহায্যে এগিয়ে আসতে হবে। দরিদ্র্য সীমার নিচে রয়েছে কোটি কোটি মানুষ। তাদেরকে সমাজের মূলস্রোতে আনতে চেষ্টা করতে হবে। নিরন্নদের মুখে অন্ন তুলে দিতে হেব। এগুলোকে ইবাদত মনে করতে সম্পাদন করতে হবে।

সেই সঙ্গে দেশি-বিদেশি অতিথি, পরিচিত-অপরিচিত সবার প্রতি সহযোগিতা ও সহমর্মিতার হাত বাড়াতে হবে। এটা মানবতার পরম শিক্ষা।

   

উমরার প্রস্তুতি শুরু করেছে সৌদি আরব



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
উমরার প্রস্তুতি শুরু করেছে সৌদি আরব, ছবি: সংগৃহীত

উমরার প্রস্তুতি শুরু করেছে সৌদি আরব, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সৌদি আরবের হজ ও উমরা মন্ত্রণালয় চলতি হজের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করে উমরার প্রস্তুতি শুরুর কথা জানিয়েছে। মহররম মাসের ১ তারিখ থেকে নতুন উমরা মৌসুম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

বুধবার (১৯ জনু) মক্কায় ‘জুয়ুফুর রহমান প্রোগ্রাম’-এর অধীনে ২০২৪ সালের হজ উপলক্ষে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে সৌদি আরবের হজ ও উমরা মন্ত্রী ড. তওফিক বিন ফাওজান আল-রাবিয়া বলেন, আল্লাহর রহমতে ১৪৫৫ হিজরির হজের আনুষ্ঠানিকতা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এখন আমাদের লক্ষ্য হলো, উমরা চালু করা। সে লক্ষে আমাদের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সৌদি আরবের হজ ও উমরা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে হজযাত্রীদের সেরা, হজ ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে কয়েকটি দেশকে পুরুস্কৃত করা হয়।

বক্তৃতায় হজমন্ত্রী বলেন, চলতি হজ মৌসুমের সফলতার পেছনে সব প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত প্রচেষ্টা রয়েছে। এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আগামীতে সর্বোত্তম সেবা নিশ্চিত করা হবে- ইনশাআল্লাহ। এ সময় তওফিক আল-রাবিয়া আগামী হজ মৌসুমে হজ কোটা নতুনভাবে নির্ধারণ এবং হজের সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রশাসনিক সনদ প্রদানেরও ঘোষণা দিয়েছেন।

অনুষ্ঠান শেষে হজ সংক্রান্ত সেরা সেবা প্রদানের জন্য বিভিন্ন দেশের কয়েক হজ প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার দেওয়া হয়। চমৎকার হজ ব্যবস্থাপনা ক্যাটাগরির পুরস্কারটি লাভ করে ইরাক। সৌদি আরবের হজ নির্দেশনা অনুসরণের ক্ষেত্রে প্রথম তিনটি পুরস্কার পায়- তুরস্ক, চীন এবং দক্ষিণ আফ্রিকা।

মালয়েশিয়া, জর্ডান এবং বেনিন প্রজাতন্ত্রকে দেওয়া হয় মক্কা রুট ইনিশিয়েটিভ সুবিধার অংশীদারের পুরস্কার। আর ১৪৪৫ হিজরির হজে সময়মতো ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া এবং কমোরোস প্রজাতন্ত্রকে দেওয়া হয় বিশেষ পুরস্কার।

;

হজের ফিরতি ফ্লাইট শুরু বৃহস্পতিবার



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
জামারায় পাথর নিক্ষেপ শেষে হাজিরা মিনা ত্যাগ করছেন, ছবি: সংগৃহীত

জামারায় পাথর নিক্ষেপ শেষে হাজিরা মিনা ত্যাগ করছেন, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সৌদি আরবের পাসপোর্ট অধিদফতর হজ শেষে হজযাত্রীদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি শেষ করার ঘোষণা দিয়েছে। সৌদি আরবের ঘোষণামতে, নির্দিষ্ট স্থলপথ, বিমানবন্দর এবং সমুদ্র বন্দর দিয়ে বুধবার (১৯ জুন) রাত থেকে নিজ নিজ দেশে রওয়ানা দিতে পারবে।

বাংলাদেশি হজযাত্রীদের বৃহস্পতিবার (২০ জুন) থেকে দেশে ফেরার ফ্লাইট শুরু হবে। প্রথম দিনের দুইটি ফ্লাইটে ৮৩৯ জন যাত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে। ফিরতি ফ্লাইটের একটি মদিনা থেকে স্থানীয় সময় সকাল ৬টায় অপরটি জেদ্দা রাত ৮টা ১০ মিনিটে ছেড়ে আসবে।

হজের ফিরতি ফ্লাইট শেষ হবে আগামী ২২ জুলাই। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস অর্ধেক হজযাত্রী পরিবহন করবে। বাকি অর্ধেক পরিবহন করবে সৌদি এয়ারলাইনস ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস।

বুধবার (১৯ জুন) পর্যন্ত সৌদি আরবে চলতি বছর হজে গিয়ে ২১ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী ইন্তেকাল করেছেন। সর্বশেষ তোফাজ্জল হক (৭০) নামে একজন হজযাত্রী মারা গেছেন। মারা যাওয়া হজযাত্রীদের মধ্যে পুরুষ ১৮ জন, নারী ৩ জন। মক্কায় ১৬ জন, মদিনায় ৪ জন ও জেদ্দায় একজন মারা গেছেন।

শনিবার (১৫ জুন) এবারের হজ অনুষ্ঠিত হয়। ১২ জিলহজ জামারায় পাথর নিক্ষেপ করার শেষ দিন, হাজিরা পর্যায়ক্রমে ছোট, মধ্যম এবং বড় জামারায় পাথর নিক্ষেপ করার মধ্যদিয়ে শেষ করেন হজের আনুষ্ঠানিকতা।

এবার বাংলাদেশ থেকে সর্বমোট ৮৫ হাজার ২২৫ জন (ব্যবস্থাপনা সদস্যসহ) হজযাত্রী সৌদি আরবে গেছেন। ৯ মে থেকে ১২ জুন পর্যন্ত সৌদি আরব যাওয়ার ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে ২১৮টি। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস পরিচালিত ফ্লাইট সংখ্যা ১০৬টি, সৌদি এয়ারলাইনস পরিচালিত ফ্লাইট ৭৫টি ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস পরিচালিত ফ্লাইট ৩৭টি।

;

আগামীবারও হজের সময় গরম থাকবে



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
গরমে অসুস্থ হয়ে যাওয়া এক হজযাত্রীর সেবায় সৌদি আরবের পুলিশ, ছবি: সংগৃহীত

গরমে অসুস্থ হয়ে যাওয়া এক হজযাত্রীর সেবায় সৌদি আরবের পুলিশ, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

‘আগামীবারের (২০২৫) হজ হবে গ্রীষ্ম মৌসুমের শেষ হজ। অর্থাৎ গরমকে সঙ্গী করে পবিত্র হজ পালন করতে হবে। এর পর ২০২৬ সাল থেকে নতুন মৌসুমে হজ পালিত হবে। এ ধারাবাহিকতা চলবে টানা ১৬ বছর। ২০২৬ সাল থেকে টানা আট বছর বসন্ত মৌসুমে এর পরের আট বছর শীতকালে হজ অনুষ্ঠিত হবে।’

বুধবার (১৯ জুন) সৌদি আরবের ন্যাশনাল সেন্টার অব মেটিওরোলজির মুখপাত্র হুসেইন আল কাহতানি এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি আরও জানান, ‘আমরা টানা ১৬ বছরের জন্য গ্রীষ্মকালীন হজকে বিদায় জানাব।’

সে হিসেবে দেখা যাচ্ছে, ১৪৪৭ হিজরি সাল থেকে ১৪৫৪ হিজরি পর্যন্ত হজ বসন্তকালে হবে। এরপরের আট বছর অর্থাৎ ১৪৬১ সাল পর্যন্ত শীতকালে হজ অনুষ্ঠিত হবে। ১৪৬২ হিজরি সাল থেকে ১৪৬৯ হিজরি সাল পর্যন্ত শরতকালে এরপর ১৪৭০ হিজরি সালে পুনরায় গ্রীষ্মকালে পবিত্র হজ প্রবেশ করবে এবং ৯ বছর পর্যন্ত এ ঋতুতে তা অনুষ্ঠিত হবে।

তীব্র তাপপ্রবাহের মাঝে এবারের হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। ফলে এ বছর হজের সময় অন্তত সাড়ে ৫০০ হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। যাদের বেশিরভাগেরই মৃত্যু হয়েছে তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে। গরমের এমন ভয়াবহতার মাঝে তাপপ্রবাহ কমার বিষয়ে সুসংবাদ দিলো সৌদি আরবের জাতীয় আবহাওয়া গবেষণা এবং পূর্বাভাস সংস্থা।

মূলত ইসলামি বর্ষপঞ্জি চন্দ্রভিত্তিক গণনার অনুসরণ করে। প্রতিবছর সৌর বর্ষপঞ্জির সঙ্গে এর ১০ দিনের ব্যবধান হয়। অর্থাৎ প্রতিবছর ইসলামি বর্ষপঞ্জি প্রায় ১০ দিন পিছিয়ে যায়। ফলে হজ মৌসুম প্রতি ৩৩ বছর পর পর গ্রীষ্ম, বসন্ত, শীত ও শরৎকালের মধ্যে ঘুরে ঘুরে আসে।

এ বছর হজের সময় গড় তাপমাত্রা ৪৫ থেকে ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ছিল। তবে সৌদির জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র জানায়, ১৭ জুন মক্কায় তাপমাত্রা ৫১.৮ ডিগ্রি হয়ে যায়। ফলে ফরজ তাওয়াফ এবং জামারাতে কংকর নিক্ষেপের সময় হাজিরা প্রচণ্ড কষ্টের সম্মুখীন হন।

এখন পর্যন্ত একাধিক দেশ থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে হজ পালনে যেয়ে অন্তত ৫৭৭ জন হজযাত্রী ইন্তেকাল করেছেন। কিন্তু সৌদি কর্তৃপক্ষ হজযাত্রী মৃত্যুর বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়নি। তবে তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে গরমে অসুস্থ হয়ে ২ হাজার জনের বেশি হজযাত্রীর চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানানো হয়েছে।

ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভের একটি হজ। ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী, প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ও সামর্থ্যবান মুসলিম নারী-পুরুষের জন্য জীবনে অন্তত একবার হজ করা ফরজ। প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ হজ করতে সৌদি আরব যান।

এবার ১৮ লাখের বেশি মানুষ হজে অংশ নেন। যার মধ্যে ১৬ লাখই বিদেশি নাগরিক। হজের অনেক আনুষ্ঠানিকতা খোলা জায়গায় করতে হয়। এতে করে বেশি স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েন বয়স্করা।

;

হজ পালন করলেন ১৮ লাখ ৩৩ হাজার ১৪৬ জন



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
আরাফাতের ময়দানে যাচ্ছেন হাজিরা, ছবি : সংগৃহীত

আরাফাতের ময়দানে যাচ্ছেন হাজিরা, ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

চলতি হজ মৌসুমে বিশ্বের ১৮ লাখ ৩৩ হাজার ১৬৪ জন হজযাত্রী পবিত্র হজ পালন করেছেন বলে জানিয়েছেন সৌদি আরবের হজ ও উমরাবিষয়ক মন্ত্রী ড. তওফিক আল-রাবিয়া। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএ এ তথ্য জানিয়েছে।

শনিবার (১৫ জন) এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি মক্কা থেকে মিনা ও আরাফাত পর্যন্ত হজের পর্যায়গুলো কোনো বিপত্তি ছাড়া সফল হওয়া কথাও ঘোষণা করেন।

এদিকে, সৌদি আরবে জেনারেল অথরিটি ফর স্ট্যাটিস্টিকসের তথ্য অনুসারে, এবার বিশ্বের ২০০টির বেশি দেশ থেকে হজযাত্রী এসেছেন বলে জানানো হয়েছে।

তন্মধ্যে, এশিয়ার দেশ থেকে আসা হজযাত্রীর সংখ্যা ৬৩.৩ শতাংশ, আরব দেশ থেকে ২৩.৩ শতাংশ, আফ্রিকা অঞ্চল থেকে ১১.৩ শতাংশ এবং আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়া থেকে ৩.২ শতাংশ বলেও জানানো হয়।

সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ হজযাত্রীর সংখ্যা দুই লাখ ২১ হাজার ৮৫৪ জন এবং দেশের বাইরে থেকে আসা হজযাত্রীর সংখ্যা ১৬ লাখ ১১ হাজার ৩১০ জন। হজযাত্রীদের মধ্যে পুরুষ ৯ লাখ ৫৮ হাজার ১৩৭ জন এবং নারী হজযাত্রী ৮ লাখ ৭৫ হাজার ২৫ জন।

১৫ লাখ ৪৬ হাজার ৩৪৫ জন হজযাত্রী বিমানযোগে, ৬০ হাজার ২৫১ জন স্থলপথে এবং ৪ হাজার ৭১৪ জন সমুদ্রপথে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন।

উল্লেখ্য, হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে শুক্রবার (১৪ জুন) থেকে। এদিন মিনায় অবস্থান শেষে শনিবার আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করে রাতে মুজদালিফার খোলা প্রান্তরে রাতযাপন করবেন। রোববার (১৬ জুন) হজের তৃতীয় দিন হাজিরা বড় জামারাতে কংকর নিক্ষেপ, পশু কোরবানি, মাথার চুল মুণ্ডন করবেন।

;