রাসূলুল্লাহ সা.-এর আনুগত্য ও অনুকরণের অপরিহার্যতা



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
হজরত রাসূলুল্লাহ সা.-এর আনুগত্য ও অনুকরণ মুমিনের জন্য অপরিহার্য, ছবি: সংগৃহীত

হজরত রাসূলুল্লাহ সা.-এর আনুগত্য ও অনুকরণ মুমিনের জন্য অপরিহার্য, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হরজত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমার সকল উম্মত জান্নাতে প্রবেশ করবে শুধু যে অস্বীকার করেছে সে ছাড়া। সাহাবাগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! কে অস্বীকার করবে? রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, যে আমার আনুগত্য করল; সে জান্নাতে যাবে আর যে আমার অবাধ্য হলো- সে অস্বীকার করল।’ -সহিহ বোখারি

বর্ণিত হাদিসের ভাষ্য অত্যন্ত পরিষ্কার। নবী করিম (সা.)-এর প্রকৃত উম্মতগণ জান্নাতে যাবে, কিন্তু যারা নবী করিম (সা.) কে মানবে না অথবা অস্বীকার করবে তাদের কী হবে? অপরদিকে যারা রাসূল (সা.) কে অনুসরণ করছে তারা কতটা করবে? এ ধরনের কিছু প্রশ্ন আমাদের সামনে আসে। সুতরাং আমরা এ সংক্রান্ত আলোচনা কোরআন-হাদিসের আলোকে উপস্থাপন করছি।

হাদিসের প্রথম অংশ ‘আমার সব উম্মত জান্নাতে প্রবেশ করবে’ এ অংশের সঙ্গে মানুষের অনেক কিছু জড়িত। তবে এ হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী পহেলা যে বিষয়টা এসেছে তা হলো, ‘যে আমার আনুগত্য করল।’ এই আনুগত্যের দাবি হলো- নবী করিম (সা.) দীর্ঘ ২৩ বছরে কোরআনের যত নির্দেশনা পেয়েছেন এবং নিজের বিবেকবুদ্ধি প্রয়োগ করে যে সব কাজ করেছেন তা সবই নিজের পরিমণ্ডলে বাস্তবায়ন করা। এ ব্যাপারে আল্লাহতায়ালা সূরা হাশরের ৭ নং আয়াতে বলেন, ‘রাসূল যা কিছু তোমাদের দেন তা গ্রহণ করো এবং যে জিনিস থেকে তিনি তোমাদের বিরত রাখেন তা থেকে বিরত থাকো। আল্লাহকে ভয় করো। আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা।’

এ আয়াতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে রাসূল (সা.)-এর ওপর যে নির্দেশনা এসেছে তা অনুসরণ করতে হবে। সেক্ষেত্রে কোনো ছাড় নেই। যদি এমন কোনো ব্যাপার হয় যা আমাদের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে জড়িত, অথবা এ সংক্রান্ত কোনো বিষয় নিয়ে পরস্পরের মধ্যে বাদানুবাদ হয় তবে সেসব কিছুর সমাধানের জন্য মুমিনদেরকে সরাসরি আল্লাহর নির্দেশ এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পদ্ধতি অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! আনুগত্য করো আল্লাহর এবং আনুগত্য করো রাসূলের আর সেসব লোকের যারা তোমাদের মধ্যে দায়িত্ব ও ক্ষমতার অধিকারী। এরপর যদি তোমাদের মধ্যে কোনো ব্যাপারে বিরোধ দেখা দেয় তাহলে তাকে আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও। যদি তোমরা যথার্থই আল্লাহ ও পরকালের ওপর ঈমান এনে থাকো। এটিই একটি সঠিক কর্মপদ্ধতি এবং পরিণতির দিক দিয়েও এটিই উৎকৃষ্ট।’ -সূরা আন নিসা: ৫৯

যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আনুগত্য করবে সে আল্লাহতায়ালার আনুগত্য করল, আর যদি কেউ নবী করিম (সা.) কে বাদ দিয়ে জীবনের কোনো বিষয় বাস্তবায়ন করে তবে তা আল্লাহর দায় থেকে সে মুক্ত হয়ে যাবে। মহান আল্লাহ সূরা আন নিসার ৮০ নং আয়াতে বলেন, ‘যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করলো সে আসলে আল্লাহরই আনুগত্য করলো। আর যে ব্যক্তি মুখ ফিরিয়ে নিলো, যাই হোক, তাদের ওপর তো আমি তোমাকে পাহারাদার বানিয়ে পাঠাইনি।’ মানব জীবনের সকল স্তরে যদি আল্লাহ নিদের্শিত এবং রাসূল (সা.) প্রদর্শিত নির্দেশাবলীর প্রতিফলন না ঘটে তবে তা হবে আনুগত্যহীন কাজ এবং তা এক পর্যায়ে মানুষকে কুফরির দিকে নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে কোরআনে কারিমের নির্দেশনা হলো- ‘হে নবী! তাদেরকে বলুন, আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করো, তবে যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তাহলে নিশ্চই আল্লাহ এমন লোকদের মহব্বত করবেন না যারা আল্লাহ ও তার রাসূলের আনুগত্য করতে অস্বীকার করে।’ -সূরা আল ইমরান: ৩২

হজরত রাসূল (সা.)-এর আনুগত্যের মাধ্যমে জান্নাত ও আল্লাহর রহমত পাওয়ার নিশ্চয়তা বিদ্যমান। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নামাজ কায়েম করো, জাকাত দাও এবং রাসূলের আনুগত্য করো, আশা করা যায়, তোমাদের প্রতি করুণা করা হবে।’ -সূরা আন নূর: ৫৬

তিনি আরও বলেন, ‘হে নবী! লোকদের বলে দাও, যদি তোমরা যথার্থই আল্লাহকে ভালোবাসো, তাহলে আমার অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের গোনাহ মাফ করে দেবেন। তিনি বড়ই ক্ষমাশীল ও করুণাময়।’ তাদেরকে বলো, ‘আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করো।’ -সূরা আলে ইমরান: ৩১

হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আনুগত্য করার ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর নির্দেশনা এসেছে কোরআনে কারিমে। নবী করিম (সা.) এর কোনো ফয়সালা, নিয়মাবলী ও কার্যাবলীর ব্যাপারে সামান্যতম কোনো ভিন্নতার মনোভাব পোষণ করলে তারা মুমিন হিসেবে গণ্য হবে না। মহান আল্লাহ বলেন, ‘না, হে মুহাম্মদ! তোমার রবের কসম, এরা কখনও মুমিন হতে পারে না, যতক্ষণ এদের পারস্পরিক মতবিরোধের ক্ষেত্রে এরা তোমাকে ফায়সালাকারী হিসেবে মেনে না নেবে, তারপর তুমি যা ফায়সালা করবে তার ব্যাপারে নিজেদের মনের মধ্যে যেকোনো প্রকার কুণ্ঠা ও দ্বিধার স্থান দেবে না, বরং সর্বান্তকরণে মেনে নেবে।’ -সূরা আন নিসা: ৬৫

হাদিসেও নবীর আনুগত্যের ব্যাপারে খুব জোরালো নির্দেশনা এসেছে। ইরশাদ হয়েছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে আমার আনুগত্য করল সে আল্লাহর আনুগত্য করল। আর যে আমার হুকুম অমান্য করল সে আল্লাহর হুকুমই অমান্য করল। আর যে আমিরের আনুগত্য করল সে আমারই আনুগত্য করল। যে আমিরের আনুগত্য করল না সে আমাকে অমান্য করল।’ –সহিহ বোখারি ও মুসলিম

নবী করিম (সা.)-এর আনুগত্য ও তার অনুসরণ করা ওয়াজিব। সুতরাং উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, জান্নাতি মানুষ হবার জন্য কখনই আল্লাহ এবং রাসূলের সামান্যতম বিরোধিতা করা যাবে না।

হাদিসের শেষাংশ ‘যে অস্বীকার করল।’ কে অস্বীকার করল? সাহাবাদের এমন প্রশ্নের উত্তরে রাসূল (সা.) বললেন, ‘যে আমার অবাধ্য হলো বা আমাকে অমান্য করল।’ সুতরাং আমাদের কাছে দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট যে, নবী করিম (সা.)-এর উম্মতের মধ্যে জান্নাতে যাবে না শুধুমাত্র সে, যে ‘রাসূলের অবাধ্য হয়েছে এবং তাকে অমান্য করেছে।’

এক্ষেত্রে নিম্নেবর্ণিত বিষয়গলো নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। যেমন-
ক. আমরা ফরজ ওযাজিব আমলগুলো কতটা গুরুত্বের সঙ্গে করি?
খ. আমাদের আর্থিক জীবনে হালাল-হারাম, সুদ-ঘুষ, ন্যায়-অন্যায় কতটা দেখে চলি?
গ. একজন ছাত্র, শিক্ষক, এমপি, মন্ত্রী, সচিব, পরিবারের কর্তা এবং দায়িত্বশীল হিসেবে আমার ওপর অর্পিত আমানত কতটা পুরো করি?
ঘ. সামাজিক জীবনে সকলের অধিকারের কতটুকু আদায় করতে পারি?
ঙ. আমাদের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে রাসূল (সা.)-এর কতটুকু অনুসরণ করি?
চ. যারা আল্লাহর দ্বীন প্রচার ও প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে তাদের কতটা বিরোধিতা করি?
ছ. আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন কায়েমের জন্য আল্লাহতায়ালার দেওয়া সময়, অর্থ, মেধা এবং শ্রম দেওয়ার জন্য আমরা কতটা উদগ্রীব?

এ জাতীয় বিষয়গুলো সবসময় ভাবতে হবে। সে ভাবনা নবী করিম (সা.)-এর দেখানো পথে হতে হবে, অন্যথায় আমাদের অজান্তেই রাসূল (সা.) কে অমান্যকারিদের কাতারে শামিল হয়ে যেতে পারি এবং জান্নাতে যাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

হাদিসের শিক্ষা
১. সর্বাবস্থায় আল্লাহ এবং রাসূল (সা.)-এর আনুগত্য করার মাধ্যমে জান্নাতে যাওয়ার পথ সুগম করতে হবে।
২. হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সিরাত সবসময় অধ্যয়ন করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় তথ্যাবলী যথাযথভাবে মনে রাখতে হবে।
৩. ব্যক্তিগত, সামাজিক, পারিবারিক ও রাষ্ট্রীয় সব পর্যায়ে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কর্মনীতি অনুযায়ী কাজ করতে হবে।
৪. সর্বোপরি কোনো কাজ করার আগেই ভাবতে হবে- এটা কী নবী (সা.)-এর দেখানো অথবা করণীয় পদ্ধতিতে হচ্ছে?

   

হজের প্রস্তুতিতে ওপরে তোলা হলো কাবার গিলাফ



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
হজের প্রস্তুতিতে ওপরে তোলা হলো কাবার গিলাফ, ছবি: সংগৃহীত

হজের প্রস্তুতিতে ওপরে তোলা হলো কাবার গিলাফ, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

পবিত্র কাবাঘরের কিসওয়া তথা কালো গিলাফ নিচ থেকে ওপরে তিন মিটার তুলে তাতে সাদা কাপড়ে মোড়ানো হয়েছে। কেউ বলেন, কাবাকে ইহরাম পড়ানো হয়েছে, এর মাধ্যমে হজের প্রস্তুতির স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।

বুধবার ২২ মে (১৫ জিলকদ) প্রতিবছরের মতো এবারের হজের প্রস্তুতি হিসেবে তা করা হয়। কিন্তু প্রতিবছর এভাবে কাবার গিলাফের নিচের অংশ ওপরের তোলার কারণ কী, তা অনেকের অজানা।

মূলত হজের সময় পবিত্র মসজিদে হারামে বেশ কিছু পরিবর্তন আসে। কাবা ঘরের কালো গিলাফের কিছু অংশ ওপরে উঠিয়ে রাখা এর অন্যতম। এর বদলে একটি সাদা কাপড় ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। সেই কাপড়টি আড়াই মিটার চওড়া এবং চার দিকে ৫৪ মিটার দীর্ঘ।

কিসওয়াটি বেশ কয়েকটি পর্যায়ে উত্তোলন করা হয়। প্রথমে চারদিক থেকে কভারের নীচের অংশটি খুলে দেওয়া হয়, ফলে কোণগুলো আলাদা হয়ে যায়। তার পর নীচের দড়ি খুলে ফিক্সিং রিং থেকে সরিয়ে ওপরের দিকে টেনে তোলা হয়।

ইসলামের সূচনাকাল থেকে হজের সময় কাবার গিলাফ সুরক্ষায় এই রীতি চলে আসছে। অতীতে গিলাফের কিছু অংশ হাতের কাছে পেয়ে কিছু অংশ কেটে ফেলার ঘটনা ঘটে।

অনেকে গিলাফকে নিজের উদ্দেশ্য পূরণে সহায়ক বস্তু বলে মনে করে। অনেকে সেই কাপড়ে নিজের নাম লিখে স্বস্তিবোধ করে। অথচ এসব কাজের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। তাই হাজিদের ভিড়ের মধ্যেও গিলাফ সুরক্ষিত রাখতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

কাবার গিলাফ ওপরে তোলা হচ্ছে, ছবি: সংগৃহীত

আর খালি স্থানে সাদা কাপড় দিয়ে কাবাঘর মোড়ানো হয়। মূলত এর মাধ্যমে হজের সময় ঘনিয়ে আসার কথা স্মরণ করানো হয়। কাবার দেয়ালের সাদা কাপড় হজের পূর্বপ্রস্তুতির জানান দেয়। হজের শেষ সময় পর্যন্ত সাদা কাপড় থাকে। এরপর আগের মতো পুনরায় কালো গিলাফ নামিয়ে দেওয়া হয়।

প্রতিবছর ১৫ জিলকদ বা এর এক দিন আগে-পরে কাবার গিলাফের অংশ ওপরে তোলা হয়। এরপর থেকেই হাজিদের ভিড় ও তাওয়াফ শুরু হয়। প্রচণ্ড ভিড়েরর কারণে তখন আর গিলাফ ওপরে তোলা সম্ভব হয় না।

কাবার গিলাফ ওপরে তুলতে বুধবার রাতে নিরাপত্তা কর্মীরা পবিত্র কাবাকে ঘিরে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেন। এ সময় বিশেষ প্রযুক্তিগত দল কিসওয়া ওপরে উঠানোর কাজ করে। ১০টি ক্রেনের সাহায্যে ৩৬ জন কর্মী কাজটি সম্পন্ন করেন।

রীতি অনুযায়ী ৯ জিলহজ পর্যন্ত সাদা কাপড় থাকবে। এরপর হজের দিন নতুন গিলাফ লাগানো হয়।

;

মোগল আভিজাত্যের প্রতীক যে মসজিদ



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
মোগল আভিজাত্যের প্রতীক যে মসজিদ, ছবি: সংগৃহীত

মোগল আভিজাত্যের প্রতীক যে মসজিদ, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলার ইতিহাসে মোগল অধ্যায়ের এক উজ্জ্বল নাম শাহ সুজা। সম্রাট আওরঙ্গজেবের ভাই শাহজাদা শাহ সুজা ছিলেন বাংলার সুবাদার। শাহ সুজা ১৬৩৯ থেকে ১৬৬০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলায় রাজত্ব করেন। তার শাসনামলের শেষ দিকে ১৬৫৮ খ্রিস্টাব্দে প্রাচীন জনপদ কুমিল্লার গোমতী নদীর তীরে তারই নামে নির্মিত হয় ইতিহাসখ্যাত শাহ সুজা মসজিদ।

মসজিদটি পাক-ভারত উপমহাদেশের প্রাচীন মসজিদগুলোর অন্যতম। আয়তনের দিক থেকে মসজিদটি খুব বেশি বড় না হলেও এর কৃষ্টি, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সার্বিক অবয়ব আভিজাত্যের প্রতীক বহন করে। এর বাহ্যিক কারুকাজ সে সময় এর প্রতিষ্ঠাতাদের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহতায়ালার প্রতি ব্যাপক আনুগত্য ও রুচির পরিচায়ক। মোগল আমলের ঐতিহ্য আর আভিজাত্যের প্রতীক কুমিল্লার (মোগলটুলী) শাহ সুজা মসজিদ যেন ইতিহাসের এক জ্বলন্ত প্রদীপ।

মসজিদটি কুমিল্লার অন্যতম স্থাপত্যশৈলী

ঐতিহাসিক গ্রন্থ ‘রাজমালা’য় ইতিহাসবিদ কৈলাস চন্দ্র সিংহ উল্লেখ করেন, ‘গোমতী নদীর তীরে কুমিল্লা নগরীর শাহ সুজা মসজিদ নামক একটি ইষ্টক নির্মিত বৃহৎ মসজিদ দৃষ্ট হয়ে থাকে। এ মসজিদ সম্পর্কে দু’ধরনের জনশ্রুতি আছে- প্রথমত, শাহ সুজা ত্রিপুরা রাজ্য জয় করে চিরস্মরণীয় হওয়ার জন্য এটি নির্মাণ করেন। দ্বিতীয়ত, ত্রিপুরার মহারাজা গোবিন্দ মাণিক্য বাংলার সুবাদারের নাম স্মরণীয় রাখার জন্য নিমচা তরবারি ও হিরকাঙ্গরীয়র বিনিময়ে বহু অর্থকড়ি ব্যয় করে এই মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন।’

যেভাবেই নির্মিত হোক না কেন, এটি কুমিল্লার অন্যতম স্থাপত্যশৈলী। মসজিদটি পড়েছে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে। স্থানীয়রা জানায়, মসজিদটির দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ ও স্থাপত্যকর্ম দর্শনার্থী ও মুসল্লিদের মুগ্ধ করে। বিশেষ করে জুমাবার, শবেবরাত, শবেকদরসহ বিশেষ দিনগুলোতে এখানে মুসল্লি ও দর্শনার্থীরা ভিড় জমায়। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে নতুন নতুন মুসল্লি যুক্ত হয়। এই মসজিদ মোগলটুলী এলাকাকে ভিন্নভাবে পরিচয় করিয়ে দেয়।

মসজিদটিতে ছয়টি মিনার আছে

মসজিদটিতে ছয়টি মিনার আছে। দৈর্ঘ্য ৫৮ ফুট, প্রস্থ ২৮ ফুট। মসজিদের চার কোণে চারটি অষ্টকোণাকার বুরুজ আছে। এগুলো কার্নিসের বেশ ওপরে উঠে গেছে। এর শীর্ষে আছে ছোট গম্বুজ। মসজিদের পূর্ব প্রাচীরে তিনটি এবং উত্তর ও দক্ষিণ প্রাচীরে একটি করে খিলানযুক্ত প্রবেশপথ আছে। প্রধান প্রবেশপথটি অপেক্ষাকৃত বড়। প্রবেশপথগুলোর উভয় পাশে ও ওপরে প্যানেল নকশা অলংকৃত। কিবলা প্রাচীরের পুরুত্ব ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি আর পূর্ব প্রাচীরের পুরুত্ব ৪ ফুট ২ ইঞ্চি। বারান্দার প্রস্থ ২৪ ফুট। এতে তিনটি মিহরাব রয়েছে। কেন্দ্রীয়টি অপেক্ষাকৃত বড় এবং অধিক আকর্ষণীয়। একটি ফুল, খোদাই করা লতাপাতার নকশা ও জ্যামিতিক নকশায় সে যুগের মননশীলতা প্রকাশ পায়।

দুই পাশে খিলান দিয়ে মসজিদের অভ্যন্তর তিন ভাগে বিভক্ত। মাঝের অংশটি বাইরের দিকে পূর্ব ও পশ্চিমে কিছুটা উদ্গত করে নির্মিত। এ অংশের চার কোণে চারটি সরু মিনার কার্নিসের ওপরে উত্থিত। অষ্টকোণাকার ড্রাম আকৃতির ওপর নির্মিত তিনটি গোলাকার গম্বুজ দিয়ে মসজিদের ছাদ ঢাকা। মাঝের গম্বুজটি অপেক্ষাকৃত বড়। মসজিদের শীর্ষেও একটি বড় গম্বুজ রয়েছে, যা একটি বিশাল ড্রাম আকৃতির কাঠামোর ওপর স্থাপিত। গম্বুজের ওপরে আছে পদ্ম ফুল ও কলসির নকশা। মসজিদের চার কোণে চারটি অষ্টভুজাকৃতির মিনারও আছে।

শাহ সুজা মসজিদ একটি প্রাচীন স্থাপত্য। শুধু কুমিল্লা নয়, এটি সারা দেশের মধ্যে নান্দনিক একটি মসজিদ। কালের সাক্ষী হয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে দৃষ্টিনন্দন এই মসজিদ।

;

হজ না করার পরিণাম



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
সামর্থ্য থাকার পরও হজ না করার পরিণাম খুব ভয়াবহ, ছবি: সংগৃহীত

সামর্থ্য থাকার পরও হজ না করার পরিণাম খুব ভয়াবহ, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

হজ শারীরিক ও আর্থিক ফরজ ইবাদত। হজ আদায়ে সক্ষম ব্যক্তির ওপর জীবনে একবার হজ করা ফরজ। আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘মানুষের মধ্যে যারা বায়তুল্লাহ পৌঁছার সামর্থ্য রাখে তাদের ওপর আল্লাহর জন্য এই গৃহের হজ করা ফরজ।’ -সুরা আলে ইমরান : ৯৭

হজ সব গোনাহ মুছে দেয়
বিভিন্ন হাদিসে হজের ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। যেমন- হজ পূর্ববর্তী সব গোনাহ মুছে দেয়। এ প্রসঙ্গে হজরত আবু হুরায়রা (রা.)-এর বর্ণনায় হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি হজ করে আর তাতে কোনোরূপ অশ্লীল ও অন্যায় আচরণ করে না, তার পূর্ববর্তী গোনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। -জামে তিরমিজি : ৮১১

অন্য বর্ণনায় হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, নবী কারিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য হজ করল এবং অশ্লীল কথাবার্তা ও গোনাহ থেকে বিরত থাকল, সে ওই দিনের মতো নিষ্পাপ হয়ে হজ থেকে ফিরে আসবে, যেদিন মায়ের গর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ হয়েছিল। -সহিহ বোখারি : ১৫২১

হজের প্রতিদান জান্নাত
হজে মাবরুরের প্রতিদান হলো জান্নাত। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, হজে মাবরুরের প্রতিদান তো জান্নাত ছাড়া আর কিছুই নয়। -সনহিহ বোখারি : ১৭৭৩

সামর্থ্য থাকার পরও হজ আদায়ে বিলম্ব করা
যার ওপর হজ ফরজ হয়েছে সে যদি মৃত্যুর আগে যেকোনো বছর হজ আদায় করে, তবে তার ফরজ আদায় হয়ে যাবে। কিন্তু হজের মৌলিক তাৎপর্য, যথার্থ দাবি ও আসল হুকুম হচ্ছে হজ ফরজ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আদায় করা। বিনা ওজরে বিলম্ব না করা।

কারণ যেকোনো সময় যেকোনো ধরনের বিপদ-আপদ, অসুখবিসুখের সম্মুখীন হওয়া বা মৃত্যুর ডাক এসে যাওয়া তো অস্বাভাবিক কিছু নয়। এ প্রসঙ্গে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘ফরজ হজ আদায়ে তোমরা বিলম্ব করো না। কারণ তোমাদের কারো জানা নেই তোমাদের পরবর্তী জীবনে কী ঘটবে।’ -মুসনাদ আহমদ : ২৮৬৭

হাদিসে কুদসিতে আছে, আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আমি আমার বান্দার শরীরকে সুস্থ রাখলাম, তার রিজিক ও আয়-উপার্জনে প্রশস্ততা দান করলাম। পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও যদি সে আমার গৃহে হজের উদ্দেশ্যে আগমন না করে তবে সে হতভাগ্য, বঞ্চিত।’ -ইবনে হিব্বান : ৩৬৯৫

হজ না করার পরিণাম
সামর্থ্য থাকার পরও হজ না করার পরিণাম খুব ভয়াবহ। ফরজ হজ ত্যাগ করলে ইহুদি-নাসারার মতো মৃত্যু হবে বলে হাদিসে সতর্ক করা হয়েছে। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি হজ আদায়ে সামর্থ্য থাকার পরও তা আদায় না করে সে ইহুদি হয়ে মৃত্যুবরণ করুক বা খ্রিস্টান হয়ে- তার কোনো পরোয়া নেই।’ -জামে তিরমিজি : ৮১২

তাই শেষ জীবনের ভরসায় না থেকে হজ ফরজ হওয়া মাত্রই যত দ্রুত সম্ভব তা আদায় করা উচিত।

;

ইমান পাকা করার গল্প শোনালেন মোহাম্মদ আলীর নাতি



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
মসজিদের হারামে বিয়াজিও ওয়ালশ, ছবি: সংগৃহীত

মসজিদের হারামে বিয়াজিও ওয়ালশ, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

কিংবদন্তি মুষ্টিযোদ্ধা (বক্সার) মোহাম্মদ আলীর নাতি বিয়াজিও ওয়ালশ। তিনিও একজন প্রখ্যাত মিক্সড মার্শাল আর্টস (এমএমএ) যোদ্ধা। সম্প্রতি মক্কা-মদিনা সফর করেছেন তিনি। আল আরাবিয়া ইংরেজির কাছে বর্ণনা করেছেন উমরা পালনের ‘অবিশ্বাস্য’ অভিজ্ঞতা। তিনি বলেছেন, এই অভিজ্ঞতা কখনো ভুলতে পারবেন না!

গত এপ্রিলে মধ্যপ্রাচ্যে একটি ঝটিকা সফরের সময় ২৫ বছর বয়সী বিয়াজিও মক্কায় যাত্রাবিরতি দেন এবং প্রথমবারের মতো পবিত্র উমরা পালন করেন।

মক্কা যাওয়ার পথে বিয়াজিও ওয়ালশের গাড়িচালক তার জন্য একজন গাইড জোগাড় করেছেন। এই গাইডই তাদের উমরার পুরো সময়টা সঙ্গ দেন। তবে এই গাইড ইংরেজিতে খুব দুর্বল। এই গাইড আরবিতে উচ্চ স্বরে দোয়া করার সময় ওয়ালশ তাকে অনুসরণ করেন এবং কাবার চারপাশ প্রদক্ষিণ করেন।

এই অভিজ্ঞতা বর্ণনায় ওয়ালশ বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে যিনি ছিলেন তিনি আসলে ইংরেজি বলতে পারেননি। কিন্তু তিনি আমাদের যা বলছিলেন সব আবৃত্তি করতে বললেন। আমি আমার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি, আমি সত্যিই আরবি বলতে পারি না। কিন্তু তিনি যা বলছিলেন তার সবই আবৃত্তি করছিলাম।’

ওয়ালশ বলেন, ‘আমাদের দারুণ কৌশলে গাইড করা হয়েছে। লোকেরা আমাদের আবৃত্তিতে চমকিত হচ্ছিল। এটি এমন একটি অভিজ্ঞতা যা আমি কখনই ভুলতে পারব না! আমি আশা করি, আমার পরিবার এটি অনুভব করতে পারবে।’

ওয়ালশ গত মার্চে আল আরাবিয়া ইংলিশকে বলেছিলেন, তিনি তার ইমান শক্ত করার একটি নতুন যাত্রায় ছিলেন। এবারের রমজান মাসে সবগুলো রোজাই করেছেন তিনি।

পবিত্র কাবার সামনে বিয়াজিও ওয়ালশ, ছবি: সংগৃহীত

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, উমরা ছিল তার জন্য সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানো এবং ইসলামের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের একটি সুযোগ। ওয়ালশ বলেন, ‘আমরা এক জীবনে এটাই করি। আমরা আরও আল্লাহর প্রতি সচেতন হতে, সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে এবং একজন ভালো মানুষ হওয়ার চেষ্টা করতে চাই।’

এই ক্রীড়াবিদ মনে করেন, আধ্যাত্মিকতা সম্পর্কে তার কথা বলা এবং ইসলাম গ্রহণ করায় লজ্জা না পাওয়া মুসলমানদের সম্পর্কে মানুষের ধারণায় পরিবর্তন আনতে সহায়তা করবে।

তার দাদা মোহাম্মদ আলীসহ অনেক ক্রীড়াবিদ আছেন, যারা মুসলিম হওয়া নিয়ে গর্ববোধ করতেন। তারা মুসলিম হওয়ার অর্থ কী সে প্রশ্নে একটি দুর্দান্ত দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন- যোগ করেন ওয়ালশ। এ সময় সাবেক রুশ মিক্সড মার্শাল আর্টিস্ট খাবিব আব্দুলমানাপোভিক নুরমাগোমেদভের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

গত এপ্রিলে ছিল সৌদি আরবে ওয়ালশের দ্বিতীয় সফর। গত ফেব্রুয়ারিতে কিংডম এরিনাতে অনুষ্ঠিত ডিএফএল চ্যাম্পিয়ন বনাম বেলেটর চ্যাম্পিয়নস ফাইট কার্ডের অংশ হিসেবে রিয়াদের এমএমএতে তরুণ পেশাদার ক্রীড়াবিদ হিসেবে ওয়েলশের আত্মপ্রকাশ ঘটে।

ওয়ালশ বলেন, তিনি সৌদি আরবের সমৃদ্ধ ইতিহাস সম্পর্কে আরও জানতে, সুস্বাদু স্থানীয় খাবার চেখে দেখতে এবং নতুন নতুন মানুষের সাক্ষাৎ উপভোগ করছেন।

;