নবী মুহাম্মদ সা. ও তার উম্মতের বৈশিষ্ট্য



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
হজরত রাসূলুল্লাহ বিশ্ববাসীর জন্য রহমত, ছবি: সংগৃহীত

হজরত রাসূলুল্লাহ বিশ্ববাসীর জন্য রহমত, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সোমবার (১৯ অক্টোবর) থেকে শুরু হবে পবিত্র রবিউল আউয়াল মাস। বিশ্ব মানবতার মুক্তির দূত হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ মাসেই পৃথিবীতে আগমন করেন। এ মাসের ১২ তারিখে ইহজগতের মানুষের কল্যাণে পথ প্রদর্শন করতে আল্লাহতায়ালা দুনিয়াতে প্রেরণ করেন এ মহামানবকে। গোটা জিন্দেগি তিনি নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হওয়া সত্ত্বেও আল্লাহর একত্ববাদ প্রচার করে যান। তার জীবনে বহু ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। তিনি আল্লাহর জমিনে আল্লাহর বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন। মদিনায় মদিনা সনদ প্রণয়নের মাধ্যমে গোটা বিশ্বে সর্বপ্রথম লিখিত সংবিধান প্রণেতা হিসেবে হিসাবে চির স্মরণীয় হয়ে আছেন। নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনী প্রত্যেক মুসলমানের জানা দরকার।

বিশিষ্ট সাহাবি জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমাকে পাঁচটি বস্তু দেওয়া হয়েছে যা আমার পূর্বে কাউকে দেওয়া হয়নি। শত্রুর মনে ভীতি সঞ্চার করে আমাকে সাহায্য করা হয়েছে, যা এক মাসের রাস্তার সীমা পর্যন্ত প্রযোজ্য। জমিনকে আমার জন্য মসজিদ তথা নামাজ আদায়ের যোগ্য ও পবিত্রতা অর্জনের যোগ্য করে দেওয়া হয়েছে। আমার উম্মাতের যেকোনো ব্যক্তি যেকোনো স্থানে নামাজের সময় হলেই নামাজ আদায় করতে পারবে। আর আমার জন্য গনিমত তথা যুদ্ধলব্ধ সম্পদ হালাল করা হয়েছে, যা আমার পূর্বে কারও জন্যই হালাল ছিলো না। আমাকে (কিয়ামত দিবসে) শাফায়াত তথা সুপারিশ করার ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। প্রত্যেক নবীকে বিশেষভাবে তার সম্প্রদায়ের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে আর আমি সব মানুষের কাছে প্রেরিত হয়েছি।’ –সহিহ বোখারি: ৩৩৫

হাদিসে হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিশেষ কিছু মর্যাদার কথা বর্ণিত হয়েছে। যা তিনি ব্যতীত অন্যকোনো নবী-রাসূলকে দেওয়া হয়নি। বৈশিষ্ট্যসমূহের অন্যতম হলো- আল্লাহতায়ালা তার প্রিয় রাসূলের (সা.) শত্রুদের মনে এমন অস্থিরতা ও ভীতি সঞ্চার করে দেন যাতে তারা এক মাসের দূরত্বের রাস্তায় থাকলেও রাসূলের ভয়ে তটস্থ ও বিচলিত থাকে। একজন নবী বা রাসূলের দাওয়াতি মিশনে সফলতা লাভের জন্য এ ধরনের বিশেষত্ব খুবই তাৎপর্য বহন করে। আর এটি শেষ নবীর প্রতি তার রবের পক্ষ থেকে অন্যতম উপহার।

দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য হলো- পূর্ববর্তী উম্মত বিশেষ করে আহলে কিতাব ও অন্যান্যদের নির্দিষ্ট ইবাদতখানায় ইবাদত করা অপরিহার্য হলেও শেষ নবী ও তার উম্মতের জন্য পুরো জমিনকে নামাজের স্থান হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং মাটি দ্বারা তায়াম্মুমের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জনের বিধান দেওয়া হয়েছে। (হজরত ঈসা আ.-কে যেকোনো মাটিতে নামাজের অনুমতি দিলেও তা দ্বারা পবিত্রতা অর্জনের অনুমতি দেওয়া হয়নি) নিঃসন্দেহে এ দুর্লভ সুযোগ তাদের দ্বীন পালনে অত্যন্ত সহায়ক ও আরামদায়ক। অতএব যখন যেখানে নামাজের সময় হবে তখন সেখানে নামাজ আদায় করা যাবে। (অবশ্য পরবর্তীতে অন্য হাদিস দ্বারা কবরস্থান, গোসলখানা ও অপবিত্র স্থানে নামাজ আদায় করতে নিষেধ করা হয়েছে) এ ছাড়া মাটিকে পবিত্র করা হয়েছে, যাতে তা দ্বারা তায়াম্মুমের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করা যায়। এটিও এই উম্মতের জন্য আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে বিশেষ পুরস্কার।

তৃতীয় বৈশিষ্ট্য বা মর্যাদা হলো- নবী ও তার উম্মতের জন্য যুদ্ধলব্ধ গনিমতের মাল (কাফেরদেরকে পরাজিত করার পর তাদের কাছ থেকে নেওয়া সম্পদ) হালাল করা হয়েছে, যা পূর্বে কোনো নবীর জন্য বৈধ ছিল না। পূর্বেকার নবী-রাসূলগণ শত্রুদের পরাজিত করে যে সম্পদ লাভ করতেন তা নির্দিষ্ট এক স্থানে রেখে দেওয়া হতো এবং আগুন এসে সেগুলোকে ভস্মীভূত করে দিত। হাদিসের কোনো কোনো ভাষ্যকার অভিমত দেন যে, এটিকে তাদের জেহাদ তথা আল্লাহর পথে লড়াইয়ে নিয়তের বিশুদ্ধতার প্রমাণ হিসেবে গণ্য করা হতো।

চতুর্থ বৈশিষ্ট্য হলো- হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কিয়ামত দিবসে শাফায়াত বা সুপারিশ করার অনুমতি দেওয়া হবে এবং তার সুপারিশ গ্রহণ করার ব্যাপারে আল্লাহতায়ালা অঙ্গীকার করেছেন। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, নবী করিম (সা.)-কে বলা হবে, তুমি সুপারিশ করো, তোমার সুপারিশ গ্রহণ করা হবে। আলোচ্য হাদিসে বর্ণিত এই সুপারিশ দ্বারা কোন সুপারিশকে বুঝানো হয়েছে তা নিয়ে ইসলামি বিশেষজ্ঞগণ বিভিন্ন উক্তির অবতারণা করেছেন। কেউ কেউ বলেছেন, এই সুপারিশ দ্বারা কিয়ামত দিবসের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা পাওয়ার সুপারিশকে বুঝানো হয়েছে। কারও মতে এমন সুপারিশকে বুঝানো হয়েছে, যা আল্লাহতায়ালা কখনও প্রত্যাখ্যান করবেন না। কোনো কোনো আলেমের মতে, এই সুপারিশ দ্বারা যার অন্তরে বিন্দু পরিমাণ ঈমান রয়েছে তাকে জাহান্নাম থেকে বের করে আনার সুপারিশকে বুঝানো হয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন, বেহেশতের মধ্যে স্তর উন্নয়ন বা মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য যে সুপারিশ করা হবে তাকে বুঝানো হয়েছে। কারও মতে, যাদের জন্য জাহান্নাম অবধারিত হয়ে গেছে তাদেরকে তা থেকে রক্ষা করার সুপারিশকে বুঝানো হয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন, বিনা হিসেবে বিশেষ কোনো দলকে জান্নাতে প্রবেশ করানোর জন্য যে সুপারিশ করা হবে তাকে বুঝানো হয়েছে। -উমদাতুল কারি: ৪/১০

পঞ্চম ও সর্বশেষ বৈশিষ্ট্য হলো- সকল নবীকে তাদের স্ব স্ব সম্প্রদায়ের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে আর আমাদের নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে সাদা, কালো, আরব, অনারব নির্বিশেষ সব মানুষের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘আর আমি আপনাকে সমগ্র মানবজাতির নিকট সুসংবাদদানকারী ও ভীতি প্রদর্শনকারী হিসেবে প্রেরণ করেছি। কিন্তু অধিকাংশ মানুষই এ বিষয়ে জ্ঞান রাখে না।’ -সূরা সাবা: ২৮

এ আয়াতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, নবী করিম (সা.)-কে সমগ্র মানবজাতির জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে। আর এটি হচ্ছে- তার জন্য বিশেষ নিয়ামত ও পুরস্কার। কেননা সব নবীকে বিশেষ সম্প্রদায়ের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে, ব্যতিক্রম শুধু শেষ নবীর ক্ষেত্রে।

   

কাবা দেখার আনন্দ বর্ণনাতীত: মুহাম্মদ ফারাহ



ইসলাম ডেস্ক বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

‘আমি যখন প্রথম মক্কায় প্রবেশ করি এবং মসজিদে হারামে পৌঁছে পবিত্র কাবার সামনে হাজির হই, তখন আমি কাঁপতে শুরু করি। এটা আমার কাছে এক অপূর্ব আনন্দের অনুভূতি ছিল, যা বলে বোঝানো যাবে না।’

হজ পালন শেষে জীবনে প্রথমবার পবিত্র কাবা দেখার আনন্দ ও অনুভূতির কথা এভাবেই ব্যক্ত করছিলেন ব্রিটিশ অ্যাথলেট মুহাম্মদ ফারাহ।


সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় মেহমান হিসেবে বিশ্ববরেণ্য এই ক্রীড়াবিদ এবার হজ পালন করেন। রাষ্ট্রীয় মেহমান হিসেবে হজের সুযোগ দেওয়ায় তিনি দেশটির ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রী ডক্টর আব্দুল লতিফ আলে শায়খের কাছে কৃতজ্ঞ বলে জানান।

তিনি বলেন, এত বিপুল সংখ্যক হজযাত্রীদের আয়োজনের জন্য আমি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ, ক্রাউন প্রিন্স এবং সৌদি কর্তৃপক্ষকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই। এত বিপুল সংখ্যক হজযাত্রীদের সেবা দেওয়া এবং তাদের সব কিছু দেখাশোনা ও যত্ন নেওয়া রীতিমতো আশ্চর্যজনক। হজযাত্রীদের সেবা ও ব্যবস্থা প্রশংসনীয়।

তিনি বলেন, হজের সময় স্বাস্থ্য, পানি ও অন্যান্য সেবার ক্ষেত্রে সব ধরনের প্রয়োজনের যত্ন নেওয়া অত্যন্ত ধৈর্যশীল ও শ্রমসাধ্য কাজ। সমস্ত মানুষের প্রচেষ্টার প্রশংসা করা উচিত।


হজ শেষে আরব নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মুহাম্মদ ফারাহ বলেন, ‘আমি এখানে প্রথম এসেছি এবং হজ করতে এসেছি। আমি প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার সুযোগ পাওয়ার জন্য মহান আল্লাহকে ধন্যবাদ জানাই।’

মুহাম্মদ ফারাহ আরও বলেন, এবারের সফর হজে অংশ নিতে পেরে আমি খুশি এবং নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি। তার মতে হজের আয়োজন একটি অত্যন্ত ধৈর্যশীল ও শ্রমসাধ্য কাজ।

অ্যাথলেটিক্স বিশ্বে এক নামেই পরিচিত ফারাহ। ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে দুর্দান্ত অবদানের স্বীকৃতির পর তার নামের আগে যোগ হয়েছে ‘স্যার’ উপাধি।

অলিম্পিকসে চারটি ও বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপসে ছয়টি সোনা জিতে দূরপাল্লার দৌড়ের ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন তিনি।

;

উট দিবস পালন করলো সৌদি আরব



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
সৌদি আরবে আনুমানিক ১৮ লাখ উট রয়েছে, ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবে আনুমানিক ১৮ লাখ উট রয়েছে, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

উট সৌদি আরবসহ আরব উপদ্বীপের বিস্তীর্ণ মরুভূমির সংস্কৃতি ও ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিভিন্ন প্রজাতির উট সংরক্ষণে দেশটি নানাবিধ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে শনিবার (২২ জুন) বিশ্ব উট দিবস উদযাপন করেছে সৌদি আরব।

উট দিবস পালন উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন এলাকায় উট দৌড় ও মেলার আয়োজন করা হয়।

এর আগে ২০২৪ সালকে উটের বছর হিসেবে ঘোষণা দেয় দেশটি। আরব উপদ্বীপের মানুষের জীবনযাত্রায় উটের আর্থ-সামাজিক গুরুত্ব তুলে ধরতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। গত বছরের শেষ দিকে দেশটির মন্ত্রীদের কাউন্সিলে তা অনুমোদন পায়। গত ৩ জানুয়ারি সৌদি আরবের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় নতুন বছরের লোগো, উটের ভিজ্যুয়াল ছবিসহ ব্র্যান্ড নির্দেশিকা ম্যানুয়াল প্রকাশ করে।

২০২০ সালে জাতিসংঘ এ বছরকে আন্তর্জাতিক উটের বছর হিসেবে নির্ধারণ করে। বাস্তুতন্ত্রের সুরক্ষা, মরুকরণ প্রতিরোধ, ভূমির অবক্ষয় ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি বন্ধ করা, খাদ্য নিরাপত্তা বিধান নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সুপারিশে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ উটের বছর উদযাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করে।

সৌদি আরবের সংস্কৃতি মন্ত্রী প্রিন্স বদর বিন আবদুল্লাহ বলেন, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন উদ্যোগ ও আয়োজনের মাধ্যমে ২০২৪ সালকে উটের বছর হিসেবে উদযাপন করা হবে। সৌদি আরবের আত্মপরিচয়ের সঙ্গে উটের গভীর সংযোগ তুলে ধরে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এই প্রাণীর গুরুত্ব তুলে ধরা হবে।

ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউর তথ্য অনুসারে, বিশ্বের সবচেয়ে বেশিসংখ্যক উট থাকা দেশগুলো হলো পাকিস্তান, আমিরাত ও সৌদি আরব। সৌদি আরবের পরিবেশ, পানি ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান মতে, দেশটিতে আনুমানিক ১৮ লাখ উট রয়েছে, যার মূল্য প্রায় ৫০ বিলিয়ন রিয়াল। অবশ্য এই পরিসংখ্যানের বাইরেও ছয় থেকে সাত লাখ উট রয়েছে।

বিনোদন, খেলাধুলা, খাবারসহ জীবনযাত্রার সব ক্ষেত্রে এই প্রাণীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সভ্যতা নির্মাণে উট অপরিহার্য উপাদান হিসেবে ভূমিকা রাখছে।

;

হিজাব নিষিদ্ধ ও ঈদের ছুটি বাতিল তাজিকিস্তানে



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
তাজিকিস্তানের রাজধানী দুশানবের রাস্তার মুসলিম নারীরা হেঁটে যাচ্ছেন, ছবি: সংগৃহীত

তাজিকিস্তানের রাজধানী দুশানবের রাস্তার মুসলিম নারীরা হেঁটে যাচ্ছেন, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

হিজাব নিষিদ্ধ ঘোষণা করে বিল পাস করেছে মধ্য এশিয়ার মুসলিম অধ্যুষিত দেশ এবং সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্যতম অঙ্গরাজ্য তাজিকিস্তানের পার্লামেন্ট। সম্প্রতি দেশটির পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ মজলিশি মিলিতে পার্লামেন্ট সদস্যদের ভোটে বিলটি পাস হয়।

নারীদের হিজাব নিষিদ্ধের পাশাপাশি ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের দুই ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহায় স্কুল-কলেজ ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের ছুটি বাতিলের বিষয়টিও রয়েছে বিলটিতে।

এর আগে গত ৮ মে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ মজলিশি নামোইয়ানদাগনে পাস হয়েছিল বিলটি। বৃহস্পতিবার (২০ জুন) পার্লামেন্টের বিলটি পাসের পর এক মজলিশি মিলির প্রেস সেন্টার থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘হিজাব বা এই জাতীয় মস্তকাবরণর পরিধানের সংস্কৃতি মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি হয়েছে। এটি তাজিকিস্তানের নিজস্ব সংস্কৃতি নয়। তা ছাড়া এই পোশাকটির সঙ্গে কট্টরপন্থার সম্পর্ক রয়েছে।’

তাজিকিস্তানের জনসংখ্যার ৯৬ শতাংশ মুসলিম। হিজাবকে ‘বিজাতীয় পোশাক’ অভিহিত করে দেশটির সরকার এটি নিষিদ্ধ করেছে। আইন ভঙ্গকারীদের জন্য ৬৫ হাজার তাজিক সোমনি জরিমানার বিধান করা হয়েছে। বাংলাদেশি টাকায় যা ৫ লক্ষাধিক। হিজাবের পাশাপাশি দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রাহমন ঈদের দিনের ‘ঈদি’ প্রথার ওপরও কড়াকড়ি আরোপ করেছে।

২০০৭ সাল থেকে হিজাব, ইসলামি ও পশ্চিমা পোশাকের বিরুদ্ধে প্রচারাভিযান শুরু হয় তাজিকিস্তানে। ওই বছর তাজিক শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলামিক পোশাক এবং পশ্চিমা ধাঁচের মিনিস্কার্ট উভয়ই নিষিদ্ধ করে। পরে সমস্ত সরকারি প্রতিষ্ঠানে এটি কার্যকর করা হয়।

তার পরের বছরগুলোতে হিজাবের ওপর একপ্রকার অলিখিত নিষেধাজ্ঞা কাজ করছিল দেশটিতে। স্থানীয় প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে তৃণমূল পর্যায়ে কমিটি পর্যন্ত করেছিলেন।

মূলত তাজিকিস্তানের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও পোষাকরীতিকে বাঁচিয়ে রাখতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। ২০১৭ সালে তাজিকিস্তানের জাতীয় দিবসে সরকারের পক্ষ থেকে দেশটির নারীদের মোবাইলে হিজাব এবং পশ্চিমা পোশাক পরিহার করে তাজিকিস্তানের নিজস্ব সংস্কৃতির পোশাক পরার আহ্বানও জানানো হয়েছিল।

;

ইশারা ও চাহনি যেখানে ভেঙে দেয় ভাষার বাধা



আবু ইফফাত
বিদেশি হাজিদের বরণ করে নিচ্ছেন স্থানীয়রা, ছবি: সংগৃহীত

বিদেশি হাজিদের বরণ করে নিচ্ছেন স্থানীয়রা, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

অঙ্গ-ভঙ্গি, আকার-আকৃতি ও ইশারা-ইঙ্গিতে চোখ ধাঁধানো শপিং মল, স্বর্ণের দোকান, খাবারের হোটেল থেকে শুরু করে ফুটপাতের দোকানে চলে দরদাম এবং বেচাকেনা। গাড়ি ভাড়া করা কিংবা ঠিকানা জানার ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি। এভাবে মক্কার বাসিন্দারা ভিনদেশি হজযাত্রীদের সঙ্গে বছরের পর বছর ভাষার দূরত্ব কাটিয়ে যোগাযোগ করছেন। অনেকে আবার নিজ আগ্রহে একটু একটু করে শিখে নিচ্ছে ভিনদেশি কোনো ভাষা।

ফলে হজের সফরে এক মাসের বেশি ও উমরায় প্রায় ১৫ দিন মক্কা-মদিনায় থাকলেও একেবারে অশিক্ষিতরাও সেখানে উল্লেখযোগ্যভাবে কোনো সমস্যার মুখোমুখি হন না। সারা বছর মক্কা-মদিনায় বিভিন্ন দেশের মানুষজনের আনাগোনা লেগে থাকে। তবে হজের সময় প্রায় দুই মাস থাকে বেশি জনসমাগম।

মক্কার স্থানীয়রা বিভিন্ন ভাষাভাষী লোকদের সঙ্গে যোগাযোগ ও কথাবার্তার সাবলীলতার জন্য দারুণভাবে প্রশংসিত। ভিনদেশিদের সঙ্গে আচার-আচরণ দ্বারা সম্পর্ক স্থাপন এ অঞ্চলের লোকদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। মক্কা-মদিনার বিভিন্ন সেক্টরে কর্মরতদের জন্য এমন যোগ্যতা তাদেরকে মৌসুমি চাকরি নিশ্চিত এবং হজ সম্পর্কিত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে নিয়োগ পেতে সহায়তা করে। এটা হজযাত্রীদের সেবা, তাদের চাহিদা মেটানো এবং তাদের বিশ্বাস অটুট রাখার নিশ্চয়তা দেয়।

মক্কার বাসিন্দা আনাস আল-হারিথি। প্রতি বছর হজের সময় অস্থায়ীভাবে শপিংমলে কাজ করেন।

হজযাত্রীদের সেবায় স্বেচ্ছাসেবকরা

তিনি এটাকে একটি দুর্দান্ত অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। হারিথি নিজ আগ্রহে ইন্দোনেশিয়ান ভাষা কিছুটা রপ্ত করেছেন। প্রতি বছর ইন্দোনেশিয়া থেকে সবচেয়ে বেশি হজযাত্রী হজ পালনে মক্কায় আসেন।

আল-হারিথি বলেন, কীভাবে যেন ভাষাগত বাধা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে, কারণ মক্কার অনেক লোক দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ভাষায় সাবলীল।

হজের সময় বছরের পর বছর কাজ করার মাধ্যমে, আল হারিথি হজযাত্রা সম্পর্কিত বিস্তৃত জ্ঞান অর্জন করেছেন। এটা তার কর্মক্ষেত্রকে সহজ ও মসৃণ করে তুলেছে।

তিনি বলেন, বেশিরভাগ মক্কার বাসিন্দা আনুষ্ঠানিক কোনো শিক্ষার মাধ্যমে নয় বরং হজযাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে বিভিন্ন ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেন, যা তাদেরকে কার্যকরভাবে হাজিদের চাহিদা মেটাতে সক্ষম করে।

ভারত থেকে আগত হজযাত্রীদের গাইড রাফি চৌধুরী বলেন, হজ-উমরা মক্কাবাসীদের জন্য কাজ করার, সেবা করার এবং এই মহৎ পেশার সম্মান উপভোগ করার একটি বড় সুযোগ।

হজযাত্রীদের স্বাগত জানানো, তাদের প্রয়োজন মেটানো এবং তাদের যাত্রাপথ যতটা সম্ভব মসৃণ এবং আরামদায়ক করার ক্ষেত্রে মক্কার অনেকেই উর্দুতে যোগাযোগ করা শিখে গেছে।

চৌধুরী বলেন, যেসব দেশে থেকে কম মানুষ আসেন, তাদের জন্য যেমন আকার-ইশারা, ভাঙা ইংরেজি দিয়ে ভাব বিনিময় করা হয়, তেমনি যেসব দেশের মানুষ বেশি আসেন ওই সব দেশের কিছু শব্দ তারা নিজ আগ্রহে শিখে নেন। তাদের এই আগ্রহ হজযাত্রীদের সেবা করার, তাদের আতিথেয়তার, তাদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করার এবং হজের সময় তাদের আচার-অনুষ্ঠান পালনে দারুণভাবে সহায়তা করে।

চৌধুরী যোগ করেছেন, স্থানীয় পুলিশ থেকে শুরু করে সরকারি স্বেচ্ছাসেবকরা হজযাত্রীদের মক্কায় পৌঁছানোর সময় থেকে, মসজিদে হারামে নামাজের সময়, হজ-উমরার বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা পালনের সময় ভাষাগত বাধা অতিক্রম করে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়। যা হজযাত্রীদের ইবাদত-বন্দেগি পালনে সহায়ক। এ সম্পর্ক অনেকটা মানবিক ও আধ্যাত্মিক। যা ধর্মীয় সম্পর্ক দ্বারা চালিত।

স্থানীয় চিকিৎসক রায়হান মোশাহিদ বলেন, ‘এটি আল্লাহর সামনে পালন করা একটি বাধ্যবাধকতা ও সৌভাগ্য। যারা আল্লাহর মেহমান হিসেবে মক্কায় এসেছেন, তাদের চাহিদা বোঝা এবং তাদের ভাষায় যোগাযোগ করা জরুরি কিছু নয়। আপনি হৃদয় খুলে তার মুখের দিকে তাকান, আপনি বুঝে যাবেন তার কি দরকার। বলতে পারেন, এটা মক্কার বরকত।’

মিসফালার রাস্তা

মদিনা ইসলামিক ইউনিভার্সিটির ভাষাবিজ্ঞানের বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আওয়াদ আল-মালিকি বলেন, সারা বিশ্ব থেকে মক্কায় আগত হজযাত্রীদের এই সমাজকে জানার, এর সংস্কৃতি এবং সামাজিক জীবন অনুভব করার, সৌদি ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যতা রক্ষার প্রবল ইচ্ছা রয়েছে। এর সঙ্গে জ্ঞান বিনিময় এবং গঠনমূলক সাংস্কৃতিক অংশীদারিত্বে জড়িত। ফলে চোখের ভাষায় যোগাযোগটা হয়ে যায়।

তিনি বলেন, হজযাত্রীরা সৌদি আরবকে শুধু ইসলামিক বিশ্বের প্রাণকেন্দ্র হিসেবেই দেখেন না বরং একটি স্বতন্ত্র ও উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে দেখেন, যা সমগ্র ইসলামিক বিশ্বকে একত্রিত করে।

সৌদির বাসিন্দারা হজযাত্রীদের অভিজ্ঞতা বৃদ্ধির জন্য ভাষাগত যোগাযোগের বিষয়ে উত্সাহী। ফলে তারা ইংরেজি, ফ্রেঞ্চ, উর্দু, মালয়, বাংলা এবং হাউসাসহ বিভিন্ন ভাষায় ধীরে ধীরে পারদর্শী হয়ে যায়।

আরব নিউজ অবলম্বনে

;