তাবলিগ নিয়ে যে খবর চায় না ধর্মপ্রাণ মানুষ



মুফতি এনায়েতুল্লাহ, বিভাগীয় সম্পাদক, ইসলাম
কাকরাইল মসজিদের বন্ধ গেইট, ছবি: সুমন শেখ, বার্তা২৪

কাকরাইল মসজিদের বন্ধ গেইট, ছবি: সুমন শেখ, বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

তাবলিগ নিয়ে দ্বন্দ্বটা এখন আর গোপন কোনো বিষয় নয়। এটা অনেকটা প্রকাশ্যেই চলছে। দ্বন্দ্বের এক পক্ষে মাওলানা সাদ (এতায়াতপন্থী) অনুসারী অপর পক্ষে শুরাপন্থীরা (যৌথনেতৃত্ব) রয়েছেন। তাদের এ দ্বন্দ্ব ইজতেমার ময়দান বা কাকরাইল মসজিদের গণ্ডি ছাড়িয়ে জেলায় জেলায় ছড়িয়েছে। পুলিশ সদর দফতর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অফিস এমনকি খোদ প্রধানমন্ত্রীকেও হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে তাবলিগের দ্বন্দ্ব নিরসনে। কিন্তু থামেনি। হাতাহাতি, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, দেন-দরবার, বিবৃতিবাজি সবই চলছে। তাবলিগ নিয়ে এমন দ্বন্দ্বে দ্বিধায় সাধারণ মানুষ। আসলে ঘটছে কী?

গণ্ডগোলের ধারাবাহিকতায় রাজধানীর কাকরাইল মসজিদে তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষ ফের দ্বন্দ্বে জড়িয়েছে। মসজিদ ও মাদরাসার কর্তৃত্ব নেওয়াকে কেন্দ্র করে শনিবার (৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত নয়টার দিকে দ্বন্দ্ব উত্তেজনায় রূপ নেয়। মসজিদ থেকে এক পক্ষকে বের করে দেওয়ায় সময় হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টা-ধাওয়ায় বেশ কয়েকজন আহতও হন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বাইরে অবস্থানকারীরা মসজিদের ভেতরে অবস্থানকারীদের ‘পাকিস্তানপন্থী’, ‘হেফাজতপন্থী’ বলে অভিহিত করে তাদের মসজিদ থেকে বের করে দেওয়ার দাবি জানায় ও স্লোগান দিতে থাকে।

কাকরাইলের ঘটনা প্রসঙ্গে রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মারুফ হোসেন বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘কাকরাইল মসজিদে যা হচ্ছে, তা পুলিশের নজরে আছে। তবে পুলিশ এই বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কাজ করছে।’

জানা গেছে, কাকরাইল মসজিদের ভেতরে থাকা (দিল্লি) মাওলানা সাদবিরোধীদের হঠাতে ভেতরে প্রবেশ করতে চায় সাদপন্থীরা। এ সময় দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। মূলত কাকরাইল মারকাজ মসজিদ ও মাদরাসার কর্তৃত্ব নিতেই এমন দ্বন্দ্ব।

তাবলিগ জামাতের মধ্যে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজ থেকে। সেখানকার মুরুব্বি মাওলানা সাদ কান্ধলভির কিছু বিতর্কিত মন্তব্য ও নিজেকে বিশ্ব আমির ঘোষণার পর অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে নানা দেশে। বাদ যায়নি বাংলাদেশও। এরপর দৃশ্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে তাবলিগ জামাত। মাওলানা সাদকে তার বক্তব্য থেকে ফিরে আসতে দারুল উলুম দেওবন্দসহ বিশ্বের আলেমরা বারবার অনুরোধ করলেও তিনি তা করেননি। তবে মাওলানা সাদপন্থীদের দাবি, তিনি সঠিক পন্থায় আছেন, ভুল বক্তব্যগুলো প্রত্যাহার করেছেন কিন্তু তা আলেমরা মানছেন না।

বিগত বিশ্ব ইজতেমায় মাওলানা সাদ ঢাকায় এলেও তাকে টঙ্গির বিশ্ব ইজতেমায় যেতে দেওয়া হয়নি। বিরোধিতার মুখে কাকরাইল অবস্থান করে ভারত ফিরে যেতে বাধ্য হন। সরকারের তরফ থেকে কয়েক দফায় সমঝোতার চেষ্টায় দু’পক্ষের মাঝে সাময়িক কিছুটা বরফ গললেও কাকরাইল ও ইজতেমার মাঠের দখল নিতে মরিয়া হয়ে উঠে সাদ অনুসারীরা। দেশের আলেমরা ধর্মীয় কারণে অবস্থান নেন সাদের বিপক্ষে। খোদ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এটা নিয়ে বৈঠক করেন হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী ও অন্য আলেমরা।

তবে ভেতরে ভেতরে দ্বন্দ্ব চলতেই থাকে। এর খানিকটা দেখা যায় চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল। সেদিন কাকরাইলে (তাবলিগ জামাতের প্রধান কেন্দ্র, মারকাজ) সংঘর্ষে জড়ায় দুই পক্ষ। তখন থেকে দুই পক্ষের শীর্ষ একাধিক নেতাকে কাকরাইলে যেতে বারণ করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। সেই থেকে কাকরাইল আপাতত শান্ত থাকলেও বিভিন্ন জেলায় হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। কিন্তু হঠাৎ করে শনিবার দিবাগত রাত থেকে আবারও দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পরে তাবলিগের বিবদমান দুই পক্ষ। এ প্রতিবেদন লেখার সময়ও কাকরাইলে উত্তেজনা চলছিল। পুলিশ কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। মাওলানা সাদের অনুসারীরা বিচ্ছিন্নভাবে বাইরে টহল দিচ্ছেন। যেকোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটতে পারে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Sep/10/1536556813472.jpg

তাবলিগ জামাতের অনুসারীদের বরাবরই শান্তিপ্রিয় বলে অভিহিত করা হতো। নেতৃত্বের দ্বন্দ্বও তাদের মাঝে ছিল না। আলেমদের প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা ছিল। কিন্তু হাল সময়ে এর কিছুই আর বাকী নেই। ভারতের মাওলানা সাদের বাড়াবাড়ি ও ভুল মতবাদকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে তার অনুসারী গুটিকতক ব্যক্তির হঠকারিতা ও ভ্রান্ত মতাদর্শের ফলে তাবলিগ এখন হুমকির মুখে। তাবলিগকে কেন্দ্র করে দেশের সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষ ও আলেমসমাজকে মুখোমুখি দাঁড় করানো হচ্ছে।

এমতাবস্থায় তাবলিগ জামাতকে তার সঠিক পথের ওপর টিকিয়ে রাখার জন্য আলেমরা যেকোনো পদক্ষেপ নেবেন বলে জানান মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হকসহ একাধিক শীর্ষ আলেম। তারা বার্তা২৪.কমকে বলেন, এতায়াতের (সাদের অনুসরণ) নামে আলেমসমাজ ও তাবলিগ জামাতের মধ্যে দূরত্ব ও বিরোধ সৃষ্টির ষড়যন্ত্র সফল হবে না। সারা বিশ্বের তাবলিগ সংশ্লিষ্ট মুরুব্বি, আরব-আফ্রিকাসহ ইউরোপ-আমেরিকার সব তাবলিগি মারকাজ শূরার ভিত্তিতে তাবলিগ পরিচালনার পক্ষে। কিন্তু মাওলানা সাদ ব্যক্তিগতভাবে একক সিদ্ধান্তে তাবলিগ জামাত পরিচালনা করতে চাচ্ছেন। এটা মেনে নেওয়া হবে না। তার নিজস্ব চিন্তাধারা ও তাবলিগের ঐতিহ্যবিরোধী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাওলানা সাদ সাহেবের ভ্রান্ত মতাদর্শ প্রকাশের পর দিল্লি নিজামুদ্দিনের অনেক মুরুব্বি তাকে ত্যাগ করে মারকাজ থেকে চলে গেছেন। সাদ সাহেবকে বিশ্বের সকল দায়িত্বশীল সংশোধন ও নীতির ওপর ফিরে আসার আহ্বান জানাচ্ছেন। কিন্তু তিনি তাদের কথা শুনেননি। উল্টো বাংলাদেশে তাবলিগের দুই-একজন লোক মাওলানা সাদের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার চ্যালেঞ্জ দিয়ে মাঠে নেমেছেন। তারা বাংলাদেশের আলেম সমাজের সঙ্গে তাবলিগ জামাতের দূরত্ব সৃষ্টি ও মসজিদে মসজিদে পাড়ায়-মহল্লায় বিরোধ ও আলেম বিদ্বেষ ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করছেন। কাকরাইলের শূরা ও আলেমদের সঙ্গে রীতিমতো দুর্ব্যবহার করছেন। কাকরাইলের উত্তেজনা এরই ফল।

আমরা মনে করি, তাবলিগের একটা ঐতিহ্য আছে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে যে পদ্ধতিতে তাবলিগ পরিচালিত হচ্ছে, এখনও সেভাবে চলা উচিত। এখানে নিজেদের জেদ বহাল রাখার চেষ্টা করা হবে ভুল। এর ফলে বিশৃঙ্খলা ও দ্বন্দ্ব আরও বাড়বে। শুধু তাই নয়, তাবলিগ জামাতের সঙ্গে আলেম সমাজের সুসম্পর্কেরও মারাত্মক ফাটল ধরবে। সাধারণ মানুষ মুখ ফিরিয়ে নেবে দাওয়াতি কাজ থেকে। যা কোনো অবস্থাতেই কাম্য নয়।

আগেই বলেছি, ঐতিহ্যগতভাবে বাংলাদেশের মানুষ শান্তি প্রিয়। তারা শান্তিপূর্ণ যেকোনো কাজকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করেন। তাবলিগের শান্তিপূর্ণ নীতির কারণে বাংলাদেশের আপামর জনগণ দলমত নির্বিশেষে তাবলিগের কাজকে সমর্থন দিয়েছেন। এই বিপুল পরিমাণ মানুষ তাবলিগের এমন দ্বন্দ্বে দ্বিধাগ্রস্ত, তারা হতাশ। কারণ, কোনো ধর্মপ্রাণ মানুষ গভীর আস্থা, বিশ্বাস ও সম্মানের জায়গা থেকে মসজিদ, মাদরাসায় কোনো ধরনের গণ্ডগোল, কোন্দল, হাতাহাতি ও মারামারি প্রত্যাশা করেন না।

আশা করি, তাবলিগের বিবদমান গ্রুপ বিশেষ করে মাওলানা সাদের অনুসারীরা বিষয়গুলো মাথায় রেখে, মানুষের আস্থার প্রতিদান দেবেন। ধর্মীয় জায়গাগুলো ফেতনা থেকে দূরে রাখবেন। বিভিন্ন স্পর্শকাতর ইস্যুর সঙ্গে তাবলিগকে মিলিয়ে বিতর্কিত করবেন না।

   

নিবন্ধিত কোনো হজযাত্রী হজপালনে বঞ্চিত হবেন না



মুফতি এনায়েতুল্লাহ, অ্যাসিস্ট্যান্ট এডিটর, বার্তা২৪.কম
হজ ক্যাম্পে হজযাত্রীদের একাংশ, ছবি: বার্তা২৪.কম

হজ ক্যাম্পে হজযাত্রীদের একাংশ, ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

নিবন্ধিত কোনো হজযাত্রী হজপালনে বঞ্চিত হবেন না বলে আশাবাদী বাংলাদেশ হজ অফিসের পরিচালক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান।

ভিসা না হওয়া হজযাত্রীরা এক ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। তবে বাংলাদেশ হজ অফিসের পরিচালক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান বার্তা২৪.কমকে বলেন, চলতি হজ মৌসুমে নিবন্ধিত সবার ভিসা হবে বলে আমি আশাবাদী। কয়েকটি এজেন্সির হজযাত্রী নিয়ে জটিলতা হচ্ছে, তার অর্ধেকই ইতোমধ্যে সমাধান হয়েছে। বাকি কাজ সমাধানের পথে।

জিলহজ মাসে চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ১৬ জুন পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হতে পারে। বাংলাদেশ থেকে ৯ মে শুরু হওয়া হজফ্লাইট শেষ হবে ১০ জুন। এই সময়ের মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় গাইডসহ হজপালনে সৌদি আরব যাবেন ৮৫ হাজার ১১৭ জন। ইতোমধ্যে ২৮ হাজার ৪ জন হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন। ৮২ হাজার ১০০ জনের ভিসা ভিসা হয়েছে। এখনও বেসরকারিভাবে নিবন্ধিত ৩ হাজার ৩৩৬ জনের ভিসা হয়নি।

মুহাম্মদ কামরুজ্জামান, পরিচালক, হজ অফিস, ছবি: বার্তা২৪.কম

জানা গেছে, যথাসময়ে ভিসার আবেদন না করায় ওয়ার্ল্ডলিঙ্ক ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস (লাইসেন্স ৫৭০, যাত্রী সংখ্যা ২৮৬), আনসারি ওভারসিস (লাইসেন্স ৬০১, যাত্রী সংখ্যা ২৬০), আল রিসান ট্রাভেল এজেন্সি (লাইসেন্স ৬৭২, যাত্রী সংখ্যা ৪৪৪), মিকাত ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলস (লাইসেন্স ১০২৫, যাত্রী সংখ্যা ৩৭৫), নর্থ বাংলা হজ ট্রাভেলস এন্ড ট্যুরস (লাইসেন্স ১০৮৬, যাত্রী সংখ্যা ২৬০), হলি দারুন নাজাত হজ ওভারসিস (লাইসেন্স ১৪৬২, যাত্রী সংখ্যা ২৫০) কে ধর্ম মন্ত্রণালয় শোকজ করে। এসব এজেন্সির মাধ্যমে ১ হাজার ৮৭৫ জনের চলতি বছর হজে যাওয়ার কথা রয়েছে।

আর আল রিসান ট্রাভেলস এজেন্সির নিবন্ধিত হজযাত্রীদের মধ্যে এখন পর্যন্ত কারও ভিসা না করায় বৃহস্পতিবার (১৬ মে) এজেন্সির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুস সালাম মিয়ার দেশত্যাগ স্থগিত ও তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

হজ এজেন্সির মালিকদের সংগঠন হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)-এর সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম বার্তা২৪.কমকে বলেন, আল রিসান ট্রাভেলস এজেন্সিসহ অভিযুক্ত এজেন্সির মালিকদের নিয়ে আমরা বসে, পয়েন্ট পয়েন্ট ধরে সমস্যা নিয়ে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করেছি। ইতোমধ্যে হলি দারুন নাজাত হজ ওভারসিস, ওয়ার্ল্ডলিঙ্ক ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস এবং মিকাত ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলসের হজযাত্রীদের ভিসা প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অন্যদেরও হয়ে যাবে। নিবন্ধিত কোনো হজযাত্রী হজপালন থেকে বঞ্চিত হবেন না বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এমন আশাবাদী হওয়ার কারণ জানতে চাইলে হাব সভাপতি বলেন, হজ ব্যবস্থাপনায় সৌদি আরব অংশে যে পরিমাণ অর্থ প্রেরণ করা দরকার এজেন্সিগুলো তা পাঠিয়েছে। আর যতটুকু সমস্যা রয়েছে, আশা করি তা সমাধান করা যাবে।

এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম, ছবি: বার্তা২৪.কম

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আল রিসান ট্রাভেলস এজেন্সি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুস সালাম মিয়া বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘আমি এবার হজে কোনো লোক পাঠাইনি। আকবর হজ গ্রুপের মুফতি লুৎফর রহমান ফারুকী তার লাইসেন্সে সমস্যা হওয়ায় আমার লাইসেন্স ব্যবহার করে ৪৪৮ জন হজযাত্রী পাঠাচ্ছে। চলতি সমস্যা নিয়ে হাব সভাপতির সঙ্গে বৈঠকে মুফতি লুৎফর রহমান সৌদি থেকে ফোনে কথা বলেছেন, তিনি আশ্বস্থ করেছেন; আজকালের মধ্যে ২০ থেকে ৩০ জনের ভিসা হয়ে যাবে। আর আগামীকাল বা পরশুর মধ্যে সবার ভিসা হয়ে যাবে। তিনি মদিনার বাড়ি ভাড়া করেছেন, মক্কার বাড়িও ভাড়া হওয়ার পথে।’

;

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগমুহূর্তে ছেলের খুনিকে ক্ষমা করলেন বাবা



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
আল হুমাইদি আল হারবি, ছবি: সংগৃহীত

আল হুমাইদি আল হারবি, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

মৃত্যদণ্ড কার্যকরের আগ মুহূর্তে ছেলের খুনিকে ক্ষমা করে দিলেন বাবা। শেষ সময়ে জন্মদাদা বাবার এমন উদারতা দেখে উপস্থিত কর্মকর্তারা হতবাক হয়ে যায়। ঘটনাটি ঘটেছে সৌদি আরবে। খবর গালফ নিউজের।

আল হুমাইদি আল হারবি নামের ওই বাবা হঠাৎ করে দণ্ড কার্যকরের স্থানে যান। সেখানে গিয়ে ঘোষণা দেন, ছেলের হত্যাকারীকে ক্ষমা করে দিয়েছেন তিনি। ওই হত্যাকারীর দণ্ড কার্যকরের প্রস্তুতি নেওয়ার আগে আল হুমাইদি আল হারবির কাছে একাধিকবার গিয়েছিলেন সরকারি কর্মকর্তারা।

কিন্তু ওই সময় তিনি ছেলের হত্যাকারীকে ক্ষমা করতে চাননি। কিন্তু পরে নিজের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন। নিজ ছেলের হত্যাকারীকে ক্ষমা করার একমাত্র অধিকারী ব্যক্তি ছিলেন ওই বাবা। সে অনুযায়ী, বিনা শর্তে তিনি হত্যাকারীকে ক্ষমা করে দেন। এতে করে সেখানে থাকা সবাই বেশ অবাক হন।

আল হারবি জানিয়েছেন, ধর্মীয় দিক বিবেচনা করে তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও প্রথমে হত্যাকারীকে ক্ষমা করতে চাননি। কিন্তু পরে নিজের মন পরিবর্তন করেন। ছেলের হত্যারকারীকে ক্ষমা করা ওই বাবার এমন উদারতার প্রশংসা করেছেন সাধারণ মানুষ। তারা এটিকে ক্ষমার একটি অনন্য উদাহরণ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

খবরে প্রকাশ, নিজ গোত্রের প্রতিবেশীর বন্ধুর ছেলের হাতে তার ছেলে খুন হন। দেশটির আইন অনুযায়ী বিচার শেষে হত্যাকারীর মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হয়। সৌদি আরবের আইনে রক্তপণ নিয়ে কিংবা অভিভাবক হিসেবে খুনিকে ক্ষমা করে দেওয়ার বিধান রয়েছে।

সে হিসেবে তিনি ছেলের খুনিকে ক্ষমা করে বলেন, ‘আমাদের সম্পর্ক আজও আগের মতো।’

তার স্পষ্ট কথা, আমি একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ছেলের হত্যাকারীকে ক্ষমা করেছি। এ বিষয়ে সরকারি কর্মকর্তারা ক্ষমার কথা বললেও তার পরিবার ক্ষমা প্রসঙ্গে কোনো কথা বলেননি।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর আমাদের সম্পর্ক গত ছয় দশকের মতোই আজও আছে। ছেলের খুনের পর যেমন ছিল, এখনও সম্পর্ক তেমনি আছে।

হত্যাকারীর বাবা আবদুল মাজিদ আল হারবি বলেন, আমি নিহতের বাবাকে অন্তরের অন্তস্থল থেকে শ্রদ্ধা করি এবং সম্মান করি, তিনি আমার ভাইয়ের চেয়েও বেশি।

;

সৌদিতে বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

চলতি বছরের হজ মৌসুমে সৌদি আরবে মো. আসাদুজ্জামান নামের এক বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এটিই এবারের হজে প্রথম কোনো বাংলাদেশির মৃত্যু।

শনিবার (১৮ মে) হজ পোর্টালের আইটি হেল্পডেস্কের প্রতিদিনের বুলেটিন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

এতে বলা হয়, ১৫ মে আসাদুজ্জামান মদিনায় মসজিদে নববীতে থাকা অবস্থায় হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পরেন। পরে তাকে কিং সালমান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। জানা গেছে, নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার ৭ নম্বর মাসকা ইউনিয়নের সাতাশী গ্রামের বাসিন্দা মো. আসাদুজ্জামান।

এদিকে শুক্রবার (১৭ মে) রাত ৩টা পর্যন্ত ২৭ হাজার ১১১ জন হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন। অন্যদিকে এখনো ৪ হাজার ২৫৬ জন হজযাত্রীর ভিসা হয়নি।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১৬ জুন এবারের হজ অনুষ্ঠিত হবে। হজযাত্রীদের সৌদি আরবে যাওয়ার ফ্লাইট শুরু হয় গত ৯ মে। আগামী ১০ জুন পর্যন্ত যাওয়ার ফ্লাইট চলবে। হজ শেষে ২০ জুন ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে। দেশে ফেরার ফ্লাইট শেষ হবে আগামী ২২ জুলাই।

;

সৌদি পৌঁছেছেন ২৪ হাজার ২৩৬ হজযাত্রী



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশ থেকে চলতি মৌসুমে হজ পালন করতে ২৪ হাজার ২৩৬ জন হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় তিন হাজার ৭৪৭ জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রী ২০ হাজার ৪৮৯ জন। এখন পর্যন্ত ৭৯ হাজার ৯০১টি ভিসা ইস্যু করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ মে) হজ সম্পর্কিত সর্বশেষ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

বুলেটিনে জানানো হয়, এ পর্যন্ত ৬১টি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ২১টি, সৌদি এয়ারলাইনসের ২০টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ২০টি ফ্লাইট পরিচালনা করছে।

হেল্পডেস্ক থেকে পাওয়া তথ্য মতে, হজযাত্রীদের সৌদি আরবে যাওয়ার প্রথম ফ্লাইট শুরু হয় গত ৯ মে। আগামী ১০ জুন পর্যন্ত যাওয়ার ফ্লাইট চলবে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১৬ জুন এবারের হজ অনুষ্ঠিত হবে। হজ শেষে ২০ জুন ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে। এবার সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনা মিলিয়ে মোট ৮৫ হাজার ২৫৭ জন হজ করতে যাবেন।

দেশে ফেরার ফ্লাইট শেষ হবে আগামী ২২ জুলাই। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় অনুমোদিত এবার হজ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত এজেন্সির সংখ্যা ২৫৯টি।

;