সিডনিতে গির্জায় পাদ্রীসহ ৪ জনকে ছুরিকাঘাত



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

অস্ট্রেলিয়ার সিডনির ক্রাইস্ট দ্য গুড শেফার্ড গির্জায় বক্তৃতা দেওয়ার সময় একজন পাদ্রীসহ চারজনকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। 

স্থানীয় সময় সোমবার (১৫ এপ্রিল)  রাতে ওয়াকেলি শহরতলিতে এই ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

পুলিশ জানিয়েছে, ছুরিকাঘাতের শিকার কারও আঘাতই প্রাণঘাতী নয়। এ ঘটনায় একজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তবে এই হামলায় কী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল তা তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার হয়নি।

পাদ্রীর বক্তৃতা সরাসরি সম্প্রচার করা ভিডিওতে হামলার আগে কালো পোশাক পরা এক ব্যক্তিকে পাদ্রীর কাছে আসতে দেখা গেছে। এরপর হামলাকারী তার ডান হাতে ধরা ছুরি দিয়ে পাদ্রীকে হামলা করতে উদ্যত হলে কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে এগিয়ে যান। এরপর চিৎকারও শোনা গেছে।

পুলিশ এক বিবৃতিতে বলেছে যে, আহত ব্যক্তিদের কারও জীবনই সংশয়ের মুখে নেই। নিউ সাউথ ওয়েলস অ্যাম্বুলেন্স প্যারামেডিকদের দ্বারা আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আহতদের বয়স ২০ থেকে ৭০ বছর। জনসাধারণকে হামলাস্থল এড়িয়ে যেতে বলা হয়েছে।

একই শহরের একটি শপিং মলে মাত্র দুইদিন আগে ছয়জন নিহত হওয়ার পরই ঘটল ছুরিকাঘাতের এই ঘটনা। শপিং মলে পুলিশের গুলিতে নিহত হয় হামলাকারী। এই দুই ঘটনার মধ্যে কোনো সংযোগ আছে কিনা তা এখনো জানা যায়নি।

   

রাইসির মৃত্যুতে কোন পথে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

রহস্যজনক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আব্দুল্লাহিয়ানের মৃত্যুর কেমন প্রভাব পড়তে চলেছে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি- তা এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। 

বিশ্লেষকরা মনে করছেন ভূরাজনীতির প্রভাবশালী এ দুই কর্তা ব্যক্তির মৃত্যুতে অনেকটাই পাল্টে যেতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ। তবে কি এ মৃত্যু থেকে সবচেয়ে লাভবান হবে ইসরায়েল? এমন প্রশ্নই এখন সবার মুখে।

বার্তাসংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইব্রাহিম রাইসি ও হোসেইন আমির আব্দুল্লাহিয়ানের মৃত্যু মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান সংঘাতে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। গেল কয়েক দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছিল তেহরান। বিশেষ করে লেবানন, সিরিয়া, ইরাক, ইয়েমেন, বাহরাইন ও ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অর্থ ও সমরাস্ত্রের অন্যতম যোগানদাতা ছিল ইরানের ইসলামী বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী। নতুন প্রেসিডেন্ট এতটা আগ্রাসী হয়ে উঠবেন কিনা সেটা এখন বড় প্রশ্ন এসব সশস্ত্র গোষ্ঠীর কাছে।

এসব গোষ্ঠী মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা ও ইসরায়েলের স্বার্থের জন্য ক্রামাগত হুমকি তৈরি করে আসছিল। এর মধ্যেই গত মাসে ইব্রাহিম রাইসির সরকার সরাসরি ইসরায়েলের অভ্যন্তরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলও ইরানের ইস্ফাহান শহরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এই ঘটনার আগে কেউ কখনো কল্পনাই করতে পারেনি মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশ ইসরায়েলের হামলার সাহস করতে পারে, সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করে দেখিয়েছিলেন ইব্রাহিম রাইসি।

শুধু এ হামলা নয়, কয়েক দশক ধরে ইরানের পরমাণু কার্যক্রম নিয়ে বেশ অসন্তুষ্ট ইসরায়েল ও পশ্চিমা দেশগুলো। এমনকি এ তালিকায় রয়েছে সুন্নি প্রধান দেশ সৌদি আরবও। আর পশ্চিমা এসব শক্তির কোনো তোয়াক্কা না করে পরমাণু কর্মসূচি আরও জোরদার করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন ইব্রাহিম রাইসি। এমনকি বেশ কয়েকবার ইসরায়েলকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার হুমকিও দিয়েছিলেন সদ্য নিহত ইরানি প্রেসিডেন্ট। বলা হচ্ছে রাইসির মৃত্যু প্রভাব ফেলতে পারে দেশটির পরমাণু কর্মসূচিতেও।

রাইসির মৃত্যু শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয় বরং প্রভাব ফেলবে মধ্য এশিয়া ও ইউরোপীয় ভূরাজনীতিতেও। বিশেষ করে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে রুশ বাহিনীকে যে বিপুল পরিমাণ ড্রোন ও সমরাস্ত্র সরবরাহ করেছিল তেহরান এখন সেই পদক্ষেপ কতটা ধারাবাহিক থাকবে সে প্রশ্ন উঠেতে শুরু করেছে অনেক মহলে। এছাড়াও রাইসির নেতৃত্বে আর্মেনিয়া-আজারবাইজান সংঘাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল তেহরান।

;

রাইসিকে কেন ভয় পেত ইসরায়েল



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের সবচেয়ে ‘বড় শত্রু’ ছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি। ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে অনেকেই তাকে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির উত্তরসূরি বলে মনে করতেন। এমনকি খামেনির চেয়েও রাইসিকেই বেশি ভয় পেতেন ইসরায়েলের নেতারা।

দীর্ঘদিনের বোঝাপড়ার কারণে রাইসিকে খামেনির উত্তরসূরি মনে করা হতো। আর এটাই ইসরায়েলের নেতাদের জন্য ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ৮৫ বছর বয়সী খামেনি প্রায় অসুস্থ থাকছেন, তাই রাইসির মতো একজন কট্টর নেতা ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হলে, ইসরায়েলকে এক দণ্ডও শান্তিতে থাকতে দিতেন না।

এর নমুনাও কয়েক সপ্তাহ আগে দেখেছে ইসরায়েল। দাপটের সাথে ইসরায়েলে ড্রোন হামলা চালায় ইরান। এছাড়াও অনবরত হুঁশিয়ারি দেওয়া রাইসিকে খামেনির চেয়েও বেশি ভয় পেতেন ইসরায়েলের নেতারা।

২০২১ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে ইরানের নীতি আইন আরও কঠোর করেন রাইসি। এর ফলে দেশটিতে সরকারবিরোধী অভিযানে বন্ধে আরও কঠোর হয় দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এছাড়া বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি জোরালো আলোচনা চালিয়েছেন রাইসি। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির তত্ত্বাবধানে দীর্ঘ দিন ধরে বিচার ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি।

এছাড়াও সরকারি কৌঁসুলি হিসেবে ১৯৮৮ সালে ইরান-ইরাক যুদ্ধ শেষে বহু রাজনৈতিক বন্দির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছিলেন রাইসি। রাইসি শত শত রাজনৈতিক কারাবন্দিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ায় ‘বুচার অব তেহরান’ হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছিলেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েন তিনি।

জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সমালোচনাও কুড়িয়েছিলেন রাইসি। ২০০৬ সাল থেকে অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। এই অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্ট সর্বোচ্চ নেতা নিয়োগ এবং পরামর্শ দেওয়া কাজ করে থাকে।

;

হেলিকপ্টার বিধ্বস্তে নিহত রাইসির মরদেহ উদ্ধার



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে নিহত ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আবদোল্লাহিয়ানসহ সব আরোহীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

ইরানি রেড ক্রিসেন্টের বরাতে সোমবার (২০ মে) দ্য টাইমস অব ইসরাইল এই তথ্য জানিয়েছে।

খবরে বলা হয়েছে, হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসিসহ সব আরোহীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রধান রহোসেইন কোলিভান্দ বলেন, আমরা শহীদদের মরদেহ ইরানের উত্তর-পশ্চিমে তাবরিজ শহরে নিয়ে যাচ্ছি।

প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে দীর্ঘ ১৬ ঘণ্টার চেষ্টার পর ইব্রাহিম রাইসিকে বহনকারী হেলিকপ্টারের ধ্বংসাবশেষের সন্ধান মিলে। এরপর বিধ্বস্ত হওয়া হেলিকপ্টার থেকে রাইসিসহ দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আব্দুল্লাহিয়ান, পূর্ব আজারবাইজানের গভর্নর মালেক রহমতি ও এই প্রদেশে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মুখপাত্র আয়াতুল্লাহ মোহাম্মদ আলী আলে-হাশেমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এর আগে, রোববার (১৯ মে) দেশটির পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের জোলফা এলাকার কাছে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে হেলিকপ্টারটি।

বলা হচ্ছে, আজারবাইজানে একটি জলাধার প্রকল্প উদ্বোধনের পর পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের রাজধানী তাবরিজে যাচ্ছিল ইব্রাহিম রাইসিকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি। দুর্ঘটনার পরপরই প্রেসিডেন্ট ও তার সঙ্গীদের উদ্ধারে অংশ নেয় ৪০টি দল। উদ্ধাকারী দল এসেছে তুরস্ক ও রাশিয়া থেকেও। তবে দুর্ঘটনাস্থলে ভারী বৃষ্টিপাত ও ঘন কুয়াশার কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়। অঞ্চলটি পাহাড়-পর্বতে ভরপুর হওয়ায় দীর্ঘ ১৬ ঘণ্টার অভিযান শেষে রাইসির হেলিকপ্টারের খোঁজ পান উদ্ধার কর্মকর্তারা।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানায়, প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসিকে বেল ২১২ মডেলের একটি হেলিকপ্টার বহন করছিল। এই মডেলটি যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পরে যুক্তরাষ্ট্রের এটি ইরানের কাছে বিক্রি করার কথা নয়। সে হিসেবে উড়োযানটি অন্তত ৪৫ বছরের পুরনো।

এর আগেও আকাশপথে দুর্ঘটনায় দেশটির অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। প্রতিরক্ষা ও বিভিন্ন সময়ে পরিবহনমন্ত্রী, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড ও সেনাবাহিনীর কমান্ডার বিমান বা হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন।

;

রাইসির মৃত্যুতে বিশ্বনেতাদের শোক প্রকাশ



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি ও দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আব্দুল্লাহিয়ান হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। এরই মধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিশ্বনেতাদের শোকবার্তা ও উদ্বেগ প্রকাশিত হয়েছে।

সোমবার (২০ মে) ইরানের বার্তাসংস্থা ইরনার প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানি প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসিকে বহনকারী হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা সহমর্মিতা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। রাশিয়া, ভারত, জর্ডান, কাতার, কুয়েত, ইয়েমেন, সৌদি আরব এবং ভেনিজুয়েলা সবাই তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং বলেছে যে তারা ইরানের পাশে আছে।

দুর্ঘটনার আগে আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ ইরান-আজারবাইজান সীমান্তের দুটি বাঁধ উদ্বোধনের জন্য রাইসির সঙ্গে ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন, ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসিকে বন্ধুত্বপূর্ণ বিদায় জানানোর পর ইরানের শীর্ষ প্রতিনিধিদলকে বহনকারী একটি হেলিকপ্টারের ক্র্যাশ-ল্যান্ডিংয়ের খবরে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। ইব্রাহিম রাইসি ও তার সঙ্গীদের জন্য প্রার্থনা করছি। আজারবাইজান এ ঘটনায় যেকোনো সহায়তা দিতে প্রস্তুত।

আর্মেনীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক্স অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টে শোক প্রকাশ করে জানায়, রাষ্ট্রপতি রাইসি এবং মন্ত্রী আমির আব্দুল্লাহিয়ানের জন্য আমরা প্রার্থনা করছি। উদ্ধার অভিযান চলাকালীন সময় ইরানের ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী হিসেবে আর্মেনিয়া প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলেছে, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ইরানের প্রেসিডেন্টের পাশাপাশি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং তাদের দলের অন্যান্য সদস্যদের জড়িত বিমানের ঘটনার রিপোর্টগুলো অনুসরণ করছে।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান এ ঘটনায় সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন, তিনি ঘটনার বিষয়ে সব রকমের অগ্রগতি অনুসরণ করছেন। প্রেসিডেন্ট রাইসি এবং তার কর্মীদের জন্য অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে সহায়তার জন্য ইরানে একটি দল প্রেরণের ঘোষণা দেয় তুরস্কের দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ, রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারি এবং সংসদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক পৃথক বার্তায় প্রেসিডেন্ট রাইসি এবং তার সফরসঙ্গীদের সঙ্গে হওয়া দুর্ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা রাইসির জন্য প্রার্থনা করেছেন এবং এ কঠিন সময়ে ইরানি জাতির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক্স হ্যান্ডেলে এক বার্তায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা এ দুঃসময়ে ইরানি জনগণের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছি।’

এ ঘটনায় আফগানিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় টেলিগ্রাম চ্যানেলে জানায়, তারা ইরানের প্রেসিডেন্ট এবং তার সহগামী দল সম্পর্কে প্রতিবেদনগুলো অনুসরণ করছে।

ইরাকের প্রেসিডেন্ট আবদুল লতিফ রশিদ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, তিনি বাগদাদে ইরানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা করেছেন। ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মোখবারের সঙ্গে টেলিফোনে কথোপকথনও করেছেন এবং ইরাকি সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট রাইসি ও তার সঙ্গে থাকা প্রতিনিধিদলের জন্য সহমর্মিতা জানিয়েছেন।

পৃথকভাবে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া' আল সুদানী ইরাকের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির পাশাপাশি অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে প্রেসিডেন্ট রাইসির নিখোঁজ হেলিকপ্টার খুঁজে পেতে সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় পরিষেবা সরবরাহের নির্দেশ দেন।

ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের শীর্ষ কর্মকর্তারাও এ দুর্ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট নেচিরভান বারজানি এবং প্রধানমন্ত্রী মাসরুর বারজানি পৃথক বার্তা জারি করে বলেন, তারা ইরানি জনগণের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছেন।

সৌদি আরবও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

মিশরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ইরানের প্রেসিডেন্টের হেলিকপ্টারের দুর্ঘটনার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং তেহরানের সঙ্গে কায়রোর সংহতির ওপর জোর দিয়েছে।

লেবাননের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ বিয়োগান্তক ঘটনায় ইরানের সরকার ও জনগণের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ঘোষণা করেছে- ইরানের প্রেসিডেন্ট ও তার প্রতিনিধিদলকে বহনকারী একটি কপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার খবরটি তারা অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে অনুসরণ করছে।

ওমানের সরকারি বার্তা সংস্থা এক বিবৃতিতে ইরানের প্রেসিডেন্টকে বহনকারী হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং বলেছে যে তেহরানকে যেকোনও সাহায্য দিতে তারা প্রস্তুত রয়েছে।

ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি এক বার্তায় বলেন, আমি তেহরানের ক্রাইসিস ইউনিট ও দূতাবাসের মাধ্যমে ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির হেলিকপ্টার এবং তার সঙ্গে আসা প্রতিনিধি দলের খবর অনুসরণ করছি। তাজানি আরও বলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া ম্যালোনিকে ইরানের রাষ্ট্রপতি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং তাদের সহকারী প্রতিনিধিদলকে বহনকারী হেলিকপ্টারটির হার্ড ল্যান্ডিং ঘটনার অগ্রগতি অনুসরণ করছেন।

ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ আন্দোলন, ইসলামিক জিহাদ এবং হামাস ইরানের প্রেসিডেন্টের কপ্টার বিধ্বস্তের খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করে পৃথক বিবৃতি জারি করেছে।

হামাস ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতার পাশাপাশি ইরানের জনগণ ও সরকারের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে জানায়, তারা উদ্বেগের সঙ্গে এ ঘটনার বিষয়ে অগ্রগতি অনুসরণ করছে।

ইসলামিক জিহাদও ইরানি জাতির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট ও তার সঙ্গীদের নিরাপত্তার জন্য প্রতিরোধ আন্দোলনের কথা বলে।

পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব ফিলিস্তিন এক বার্তায় জানিয়েছে, ইরানের প্রেসিডেন্টের হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার খবরকে অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে অনুসরণ করছে তারা।

;