অস্ট্রেলিয়ায় শপিং মলে হামলা: প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য লোমহর্ষক বর্ণনা



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের রাজধানী সিডনির একটি শপিং মলে ছুরি হামলায় এখন পর্যন্ত সাতজনের নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এতে আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। ওই ঘটনার সময় উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া বক্তব্য উঠে এসেছে সেই লোমহর্ষক ঘটনার চিত্র। 

শনিবার (১৩ এপ্রিল) স্থানীয় সময় বিকেল ৪টার কিছু আগে বন্ডি জাংশন শপিং সেন্টারে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে প্রত্যক্ষদর্শীদের চোখে হামলার ভয়াবহ সব চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে বলেন, যখন এই হামলা করা হয় তখন তিনি ও তার দুই ছোট বাচ্চা ঘটনাস্থলেই ছিলেন। হঠাৎ এক ব্যক্তি ওই শপিং মলে ঢুকে নির্বিচারে মানুষকে ছুরিকাঘাত করতে শুরু করে।

এমন ঘটনাকে তিনি 'হত্যাকাণ্ড' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

অন্য এক প্রত্যক্ষদর্শী নারী মল থেকে বেরোতে বেরোতে হতবিহ্বল অবস্থায় বলছিলেন, এটা পুরোই পাগলামি।

এদিকে, কী কারণে এ হামলা করা হয়েছে তা এখনো পরিষ্কার নয় পুলিশের কাছে। অবশ্য এ হামলার অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনার সময় পাশেই ডিউটিরত অবস্থায় ছিলেন এক নারী পুলিশ। হামলার কথা শুনে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখানে তাকেও হামলা করতে যান ওই ব্যক্তি। পরে সে তাকে গুলি করলে হামলাকারী মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।

জেসন ডকসন নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, এমন হামলা দেখে উপস্থিত সবাই চিৎকার এবং দৌঁড়াতে শুরু করে। পরে ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে দেখে সবাই নিরাপত্তার জন্য তার পিছনে গিয়ে সমবেত হয়।

তিনি আরও বলেন, ওই সময় যদি তিনি হামলাকারীকে গুলি না করতেন তাহলে আরও অনেকের মৃত্যু হতে পারতো।

ওই পুলিশ কর্মকর্তার এমন কাজের প্রশংসা করে তাকে 'নায়ক' হিসেবে আখ্যা দিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ বলেন, কোন সন্দেহ নেই যে তিনি তার অর্পিত দায়িত্বের মাধ্যমে এতোগুলো মানুষের জীবন বাঁচিয়েছেন। 

'এ ঘটনায় সবাই হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন'

অস্ট্রেলিয়ার সিডনি শহরের ওয়েস্টফিল্ড মলে এ হামলা চালানো হয়েছে। মলটি দেশটির বিখ্যাত বন্ডি বিচের পাশেই অবস্থিত। এটি অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম বৃহত্তম একটি শপিং সেন্টার এবং অন্যান্য দিনের মতো এদিনও মানুষের ভিড়ে পরিপূর্ণ ছিল মলটি। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিল শিশু-কিশোর।

হামলার সময় মলে থাকা জনি (৩৩) নামে এক ক্রেতা জানান, কেনাকাটার একপর্যায়ে সবাইকে চিৎকার করতে এবং দৌড়াদৌড়ি করতে দেখেন। তিনি এক নারীসহ তার শিশুর ওপর হামলা করতে দেখেন। 

তিনি আরও জানান, ওই সময় সবাই হতবাক হয়ে দেখছিল। তখন আসলে কেউ বুঝতে পারছিল না কী করা উচিত।

আরেক প্রত্যক্ষদর্শী বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘দেখতে পেলাম যে সবাই আমাদের দিকে ছুটে আসছেন। এরপর একটি গুলির শব্দ শুনলাম। আমার স্বামী আমাদের নিয়ে একটি দোকানে ঢুকে পড়েছিলেন। সেখানে থাকা এক নারী দোকানের দরজাগুলো বন্ধ করার চেষ্টা করছিলেন। তবে সামনের দরজাটি বন্ধ করতে পারেননি। তাই আমরা দোকানের ভেতর অফিসকক্ষে ঢুকে পড়লাম। সেটি চারদিক দিয়ে বন্ধ ছিল। পরে পুলিশ এসে আমাদের সেখান থেকে বের করে।’

   

রাইসির মৃত্যুতে সম্পৃক্ততার বিষয় অস্বীকার করল ইসরায়েল



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির মৃত্যুর কারণ নিছক দুর্ঘটনা নাকি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হত্যাকাণ্ড তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা করছে সারাবিশ্ব। এরই মধ্যে এ ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততার বিষয় অস্বীকার করেছে ইসরায়েল।

সোমবার (২০ মে) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের সম্পৃক্ততা নিয়ে এরই মধ্যে সন্দেহ জাগছে অনেকের মধ্যে। ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ মধ্যপ্রাচ্য, ইরান বা অন্যান্য ইসরায়েল বিরোধী রাষ্ট্রগুলোর উপির নজরদারি অব্যাহত রেখেছিল। রাষ্ট্রের বুদ্ধিবৃত্তিক সুরক্ষা প্রদান এবং সে অনুযায়ী সর্বত্র ব্যাঙের ছাতার মতো নজর বিছিয়ে রাখার মাধ্যমে ইসরায়েলের স্বার্থরক্ষা করে মোসাদ। কিন্তু কোনো রাষ্ট্রপ্রধানকে হত্যার সাথে সংস্থাটির আগের কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি।

চিরশত্রু ইসরায়েলসহ পশ্চিমাদের চক্ষুশূল ছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট রাইসি। আমেরিকার কঠোর নিষেধাজ্ঞার পরও কখনো মাথা নত করেননি মধ্যপ্রাচ্যের এই নেতা, রাজি হননি আপোষেও। তাই হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার খবরেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন মার্কিন সিনেটর রিক স্কট। অন্যান্য নেতারাও করেন স্বস্তির মন্তব্য।

এই উচ্ছ্বাস শুধু মার্কিন সিনেটরেরই নয়, যেন ইসরায়েল-আমেরিকার প্রতিচ্ছবি। তাই অনেকে প্রশ্ন তুলছেন এটি নেহাত দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। কারণ গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের বুকে কাঁপন ধরানো একমাত্র ব্যক্তি ছিলেন ইব্রাহিম রাইসি। তাকে শেষ করতে পারলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইসরায়েলের দিকে মিসাইল তাক করার মতো আর কেউ নেই তা ভালো করেই জানেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

সন্দেহের আঙুল যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের দিকেও। কারণ একমাত্র ইরানের কারণেই মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে প্রভাব কমেছে ওয়াশিংটনের। সেখানে জায়গা করে নিচ্ছে আমেরিকার চরম শত্রু চীন। এ ছাড়া কাশেম সোলাইমানির মতো প্রভাবশালী জাঁদরেল নেতাকে হত্যা করতে একটুও বুক কাঁপেনি আমেরিকার। এমনকি বার বার হুঁশিয়ারি দিয়েও ইরানকে পরমাণু কর্মসূচি থেকে ফেরাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। ফলে রাইসিকে টার্গেট করতে পারে বাইডেন প্রশাসন সেই শঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

;

ইরানের প্রেসিডেন্টের মৃত্যুতে পাকিস্তানে একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির মৃত্যুতে একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক দিবস পালন করছে পাকিস্তান।

সোমবার (২০) মে ইরানের বার্তাসংস্থা ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি (আইআরএনএ) ও পাকিস্তানের নিউজপোর্টাল দ্য নিউজ এ খবর জানায়।

খবরে বলা হয়, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির মৃত্যুতে দেশটিতে সোমবার একদিনের রাষ্ট্রীয় শোকদিবস ঘোষণা করেছেন। এদিন জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক ঐতিহাসিক সফরে পাকিস্তান আসেন। তারা পাকিস্তানের ভালো বন্ধু-শেহবাজ শরীফ

খবরে আরো বলা হয়, শেহবাজ শরীফ ইরানের প্রেসিডেন্টের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ ও দেশের নাগরিকদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্সে (সাবেক টুইটার) পোস্ট করা এক বার্তায় শেহবাজ শরীফ বলেন, মাত্র এক মাস আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আব্দুলাইহে এক ঐতিহাসিক সফরে পাকিস্তান আসেন। তারা পাকিস্তানের অত্যন্ত ভালো বন্ধু।

;

ইরানের অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট মোখবার, ৫ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি জানিয়েছেন, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মাদ মোখবারকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে পাঁচ দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেন তিনি।

সোমবার (২০ মে) এই তথ্য জানায় বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মোখবার দেশের নিয়ন্ত্রণভার গ্রহণ করবেন এবং ৫০ দিনের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করবেন।

আলি খামেনির বরাত দিয়ে ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম ইরনা আরও জানায়, মোখবার দেশের নিয়ন্ত্রণভার গ্রহণ করবেন এবং ৫০ দিনের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করবেন।

এর আগে, সোমবার (২০ মে) দুর্ঘটনার প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর ইব্রাহিম রাইসিকে বহনকারী হেলিকপ্টারের ধ্বংসাবশেষের সন্ধান মিলে। উদ্বার করা হয় দেশটির পেসিডেন্ট ইবরাহিম রাইসির মৃতদেহ।

দেশটির বিভিন্ন বার্তাসংস্থার খবরে বলা হয়, ওই হেলিকপ্টারে রাইসি ছাড়াও দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আব্দুল্লাহিয়ান, পূর্ব আজারবাইজানের গভর্নর মালেক রহমতি এবং এই প্রদেশে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মুখপাত্র আয়াতুল্লাহ মোহাম্মদ আলী আলে-হাশেম ছিলেন। তারা কেউই আর বেঁচে নেই বলে জানায় ইরান প্রসাশন।

;

এখন বিশ্ব আগের চেয়েও নিরাপদ: মার্কিন সিনেটর



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

হেলিকপ্টার বিধ্বস্তে ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সের একটি পোস্ট দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান দলের সিনেটর রিক স্কট বলেন, এখন বিশ্ব আগের চেয়েও নিরাপদ

রাইসির নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিতের আগে দেওয়া ওই পোস্টে রিক বলেন, রাইসি যদি মারা গিয়ে থাকেন, তবে বলতে হবে, বিশ্ব এখন আগের চেয়ে নিরাপদ এবং ভালো জায়গা হয়ে উঠেছে। লোকটি অত্যাচারী ও সন্ত্রাসী ছিলেন। তাকে (রাইসি) কেউ ভালোবাসত না, সম্মান করত না। কেউ তার শূন্যতা অনুভব করবে না।

রিক আরও লিখেছেন, তিনি যদি মারা গিয়ে থাকেন, তবে আমি সত্যিই আশা করি যে ইরানি জনগণ খুনি স্বৈরশাসকদের কাছ থেকে নিজেদের দেশকে পুনরুদ্ধার করতে পারবে।

সোমবার (২০ মে) সিনেটর রিক স্কট যখন পোস্টটি করেন, তখনো রাইসির নিহত হওয়ার খবর জানায়নি ইরান। সে সময় পর্যন্ত বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারের খোঁজ চলছিল।

প্রায় একই সময়ে এক্সে আরেকটি পোস্ট দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটির রিপাবলিকান চেয়ারপারসন মাইকেল ওয়াটজও। তার মতে, রাইসির মৃত্যু হয়ে থাকলে ‘পরিত্রাণ’ হয়েছে। পোস্টে তিনি লিখেছেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় এবং আগে রাইসিকে মারাত্মকভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করতে দেখা গেছে।

রোববার (১৯ মে) আজারবাইজানের সীমান্তবর্তী এলাকায় দুই দেশের যৌথভাবে নির্মিত একটি বাঁধ উদ্বোধন করতে যান ইব্রাহিম রাইসি। সেখানে আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভও ছিলেন। সেখান থেকে তিনটি হেলিকপ্টারের বহর নিয়ে ইরানের পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের রাজধানী তাবরিজে ফিরছিলেন ইব্রাহিম রাইসি ও তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য কর্মকর্তারা।

পথে পূর্ব আজারবাইজানের জোলফা এলাকার কাছে দুর্গম পাহাড়ে প্রেসিডেন্টকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। অন্য দুটি হেলিকপ্টার নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছায়। পাহাড়ি এলাকায় বৈরী আবহাওয়ায় উদ্ধার অভিযান চালানোর পরে আজ সকালে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট দল বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারটি খুঁজে পায়।

;