কোমল পানীয় হৃদরোগের ঝুঁকি ২০ শতাংশ বাড়িয়ে দিতে পারে: গবেষণা



আন্তর্জাতিক ডেস্ক বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

একটু ভারী খাবার খেলেই কোমল পানীয় পান করার অভ্যাস থাকে অনেকের। সম্প্রতি এক গবেষণা বলছে, যারা কোমল পানীয় পান করেননি তাদের তুলনায় সপ্তাহে দুই লিটার বা তার বেশি কোমল পানীয় পান করা মানুষের হৃদরোগের ঝুঁকি ২০ শতাংশ বাড়িয়ে দিতে পারে।

গবেষণায় বলা হয়, মানুষের শরীরে হার্ট বা হৃদ্‌যন্ত্র হল একটি ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল পাম্প। এই অঙ্গের উপরের দু’টি চেম্বারকে বলে ‘অ্যাট্রিয়া’ এবং নিচের দু’টিকে ‘ভেনট্রিকল’। হার্টের উপরের ডান দিকের অ্যাট্রিয়ার সাইনোয়াট্রিয়াল নোড থেকে যে ইলেকট্রিক ডিসচার্জ হয়, তার ফলে যন্ত্রটির উপরের অ্যাট্রিয়াগুলি সংকুচিত হয় এবং রক্ত উপরের চেম্বার থেকে নিচের ভেনট্রিকল-এ পৌঁছায়। এই ইলেকট্রিক সিগন্যালই ভেনট্রিকলে সঞ্চারিত হলে ওই চেম্বারগুলিও সংকুচিত হয়। এই ক্রিয়ার ফলে রক্ত শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে। হার্টের সংকোচন-প্রসারণের সময় ও ছন্দ হার্টের ইলেকট্রিক্যাল সিস্টেম দ্বারা পরিচালিত হয়। সাধারণত মিনিটে ৬০ থেকে ১০০ বার এই ইলেকট্রিকাল ডিসচার্জ হয়ে থাকে। সাধারণত, হার্ট রেট বা হৃদ্‌স্পন্দন ৭২-এর আশপাশে থাকে। কিন্তু খেলাধুলা বা অন্যান্য কাজের সময়ে এটা বেড়ে যায়। হৃদ্‌স্পন্দনের এই সাধারণ ছন্দ যখন ব্যাহত হয়ে হার্টের উপরের চেম্বারগুলি (অ্যাট্রিয়া) এক সময় তীব্র এবং অসংলগ্ন গতিতে সংকুচিত হয় আর নিচের চেম্বারগুলি (ভেনট্রিকল) অন্য সময়ে সংকুচিত হয়, তখন এই পরিস্থিতিকে বলা হয় অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশন (এফিব)। বেশি চিনিযুক্ত পানীয় পান করলে এই অবস্থার ঝুঁকি ১০ শতাংশ বেড়ে যায়।

পেনসিলভানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির পুষ্টি বিজ্ঞানের প্রফেসর পেনি ক্রিস-ইথারটন বলেন, এটিই প্রথম গবেষণা- যা কম-ক্যালোরির মিষ্টিযুক্ত পানীয় এবং অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশনের ঝুঁকির মধ্যে একটি সম্পর্ক রয়েছে।

২০১৭ সালের একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে ইউরোপীয়দের এই অবস্থার উত্তরাধিকারসূত্রে প্রায় ২২ শতাংশ ঝুঁকি রয়েছে।

আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন নিউট্রিশন কমিটির সদস্য ক্রিস-ইথারটন বলেন, গবেষণার ফলাফল নিশ্চিত হতে আমাদের কোমল পানীয়র ওপর আরও গবেষণার প্রয়োজন।


অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশন বিপজ্জনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে

বর্তমানে অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্ট্রোকের প্রধান কারণ। এছাড়াও, ইউএস সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন জানায়, হৃদরোগের অন্যান্য অন্তর্নিহিত কারণগুলোর চেয়ে অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশন বেশি গুরুতর।

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিনের অধ্যাপক, সান ফ্রান্সিসকো স্কুল অফ মেডিসিন এবং ইউসিএসএফ স্বাস্থ্যের গবেষণার জন্য কার্ডিওলজির সহযোগী প্রধান ড. গ্রেগরি মার্কাস পূর্বের একটি সাক্ষাৎকারে সিএনএনকে বলেছিলেন, অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশন রক্ত ​​​​জমাট বাঁধা, হার্ট ফেইলিওর হতে পারে এবং "হৃদরোগ, ডিমেনশিয়া, কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এই সমস্ত জিনিস সম্ভবত দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি।

হার্ট রিদম সোসাইটি অনুসারে, বিশ্বব্যাপী প্রায় ৪০ মিলিয়ন মানুষ অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশনের সাথে বসবাস করছে। যার মধ্যে ৬ মিলিয়ন মানুষ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের।

অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশনে আক্রান্তদের অনেকেই বুকে ব্যথা, ধড়ফড়, শ্বাসকষ্ট এবং ক্লান্তিতে ভোগেন। কিন্তু অনেকের জন্য এটি লক্ষণহীন, একটি সম্ভাব্য নীরব ঘাতক। একবার এটি সনাক্ত করা গেলে জীবনযাত্রার পরিবর্তন, ওষুধ এবং প্রয়োজনে হৃৎপিণ্ডের স্বাভাবিক ছন্দকে ধীর বা পুনরুদ্ধার করার জন্য অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চিকিত্সা করা যেতে পারে।

মার্কিন জনসংখ্যায় অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশনের হার বাড়ছে: সিডিসি অনুমান করছে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ১২ মিলিয়ন আমেরিকানদের অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশন থাকবে।

মার্কাস বলেন, এ রোগে বয়স সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির কারণগুলোর মধ্যে একটি, তাই জনসংখ্যার বার্ধক্যের সাথে এটি আরও সাধারণ হয়ে উঠছে।

অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশনকে মহামারীটি উল্লেখ করে তিনি বলেন, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ, ধূমপান এবং অ্যালকোহল পানের মতো অন্যান্য কারণগুলোর সাথে স্থূলতাও এ রোগ বৃদ্ধির কারণ।

কিংস কলেজ লন্ডনের পুষ্টি ও ডায়েটিক্সের ইমেরিটাস প্রফেসর টম স্যান্ডার্স বলেন, আগের গবেষণায় দেখা গেছে উচ্চ কোমল পানীয় গ্রহণ অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশন এর ঝুঁকির সাথে যুক্ত। তিনি নতুন গবেষণায় জড়িত ছিলেন না।

সম্ভাব্য 'অতিরিক্ত স্বাস্থ্য ঝুঁকি'

সার্কুলেশন: অ্যারিথমিয়া এবং ইলেক্ট্রোফিজিওলজি জার্নালে গত মঙ্গলবার প্রকাশিত এই গবেষণাটি ইউকে বায়োব্যাঙ্ক নামে একটি বৃহৎ, বায়োমেডিকাল ডাটাবেসে অংশগ্রহণকারী প্রায় ২ লাখ ২ হাজার মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করেছে। গড়ে ১০ বছর ধরে তাদের অনুসরণ করা হয়েছে। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের বয়স ৩৭ থেকে ৭৩ বছর পর্যন্ত ছিলো। যাদের অর্ধেকেরও বেশি নারী।

গবেষণায় দেখা যায়, কৃত্রিমভাবে চিনি-মিষ্টিযুক্ত কোমল পানীয়ের পান করা কম বয়সী মহিলাদের ওজন বাড়া ও টাইপ ২ ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। বেশি চিনিযুক্ত কোমল পানীয় পান করা কম বয়সী পুরুষদের মধ্যে ওজন বৃদ্ধি এবং হৃদরোগের প্রবণতা বেশি ছিল।

বিবৃতি অনুসারে যারা চিনি-মিষ্টিযুক্ত পানীয় এবং বিশুদ্ধ জুস উভয়ই পান করেন তারা "যারা কৃত্রিমভাবে মিষ্টি করা পানীয় পান করেন তাদের তুলনায় মোট চিনির পরিমাণ বেশি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি ছিল"।

গবেষণার প্রধান লেখক চীনের সাংহাই নবম পিপলস হাসপাতাল এবং সাংহাই জিয়াও টং ইউনিভার্সিটি স্কুল অফ মেডিসিনের অধ্যাপক ড. নিংজিয়ান ওয়াং বলেন, একটি পানীয় আমাদের খাদ্যের জটিলতার কারণে আরেকটি পানীয়ের চেয়ে বেশি স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করে এবং কারণ কিছু লোক একাধিক ধরনের পানীয় পান করতে পারে। এ জন্য আমাদের গবেষণার ফলাফলগুলো নিশ্চিতভাবে উপসংহারে পৌঁছাতে পারে না।

তিনি বলেন, তবে, এই ফলাফলগুলোর উপর ভিত্তি করে কৃত্রিমভাবে মিষ্টি এবং চিনি-মিষ্টিযুক্ত পানীয় কমাতে বা এড়াতে সুপারিশ করি।

তিনি আরও বলেন, এটি কখনই ভাববেন না যে কম চিনি এবং কম-ক্যালোরিযুক্ত কৃত্রিমভাবে মিষ্টিযুক্ত পানীয় পান করা স্বাস্থ্যকর, এটি সম্ভাব্য স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

   

হামাসের কৌশলের কাছে ব্যর্থ হচ্ছে ইসরায়েল



আন্তর্জাতিক ডেস্ক বার্তা২৪.কম
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ব্যর্থ হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, আট মাসের যুদ্ধের পরও হামাসের সক্ষমতা অক্ষত রয়েছে। সর্বশেষ শনিবার (২৫ মে) দখলদার বাহিনীর ওপর ভয়াবহ হামলা চালিয়ে বহু সেনাকে হত্যা ও বন্দি করার দাবি করেছে গাজা শাসনকারী সংগঠনটি।

দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি যুক্তরাষ্ট্রের পলিটিকো গণমাধ্যমের একটি প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন, হামাসের ৭০ শতাংশ যোদ্ধা গাজা যুদ্ধে অক্ষত রয়েছেন। এ ছাড়া হামাস হাজার হাজার নতুন সদস্য নিয়োগ করতে সক্ষম হয়েছে।

তিনি বলেন, গাজা উপত্যকায় হামাসের বিস্তৃত টানেল নেটওয়ার্কও অনেকাংশে অক্ষত রয়েছে।

এলমাসরি বলেন, এমনও খবর পাওয়া গেছে, হামাস অবিস্ফোরিত ইসরায়েলি বোমা পুনরায় ব্যবহার করতে সক্ষম হয়েছে। তাই ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর আর অস্ত্র সরবরাহের সমস্যা নেই।

এ রকম পরিস্থিতিতে হামাস বলেছে, তাদের যোদ্ধারা শনিবার গাজা উপত্যকার অভ্যন্তরে ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাদের ধরে নিয়ে এসেছে।

হামাসের সশস্ত্র শাখা আল কাসেম ব্রিগেডের মুখপাত্র আবু ওবায়দা বলেছেন, উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে লড়াইয়ের সময় তাদের যোদ্ধারা টানেলের ভেতরে ইসরায়েলি বাহিনীর সদস্যদের হত্যা, আহত বা বন্দি করেছে।

তিনি কতজনকে অপহরণ করা হয়েছে, তা বলেননি। তবে জানিয়েছেন, বিস্তারিত শিগগির প্রকাশ করা হবে।

কাসেম ব্রিগেড আরও বলেছে, তাদের যোদ্ধারা রবিবার তেল আবিবে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ওই এলাকায় ১৫টি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

এদিকে ইসরায়েলি আগ্রাসনে ধ্বংসপ্রাপ্ত অবরুদ্ধ গাজায় আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করার জন্য সব কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ৭০টিরও বেশি বৈশ্বিক সংস্থা।

শনিবার ইউরো-মেড হিউম্যান রাইটস মনিটর এক বিবৃতিতে বলেছে, রাফায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর স্থল অভিযানের কারণে খাদ্য নিরাপত্তার মাত্রা ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দির আল-বালা, খান ইউনিস এবং রাফাসহ গাজা উপত্যকার পুরো জনসংখ্যা উচ্চ মাত্রার তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার সম্মুখীন হচ্ছে, যাদের অর্ধেকই দুর্ভিক্ষের পর্যায়ে রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে উত্তর সিনাইয়ের মিসরীয় রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রধান খালেদ জায়েদ রয়টার্সকে বলেছেন, ২০০টি সাহায্য ট্রাক গতকাল কারেম আবু সালেম (কেরেম শালোম) ক্রসিং দিয়ে গাজায় প্রবেশ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইসরায়েলের যুদ্ধ মন্ত্রিসভা হামাসের হাতে বন্দিদের মুক্তির জন্য নতুন চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। মঙ্গলবার কায়রোতে গাজা যুদ্ধবিরতি আলোচনা আবার শুরু হবে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি গণমাধ্যম।

তবে হামাস ইসরায়েলের সঙ্গে নতুন আলোচনার কথা প্রত্যাখ্যান করেছে। হামাসের কর্মকর্তা ওসামা হামদান বলেছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে নতুন আলোচনার প্রয়োজন নেই।

শনিবার আল জাজিরা আরবিকে সাক্ষাৎকারে হামদান বলেছেন, অবিলম্বে ইসরায়েলকে গাজা উপত্যকা থেকে সেনা প্রত্যাহার এবং সব আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে। এর বাইরে নতুন আলোচনার দরকার নেই।

তিনি বলেন, হামাস এর আগে যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে সম্মত হয়েছিল। তবে ইসরায়েল তখন তা প্রত্যাখ্যান করেছে। ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনায় যাওয়ার জন্য নতুন প্রস্তাব গ্রহণ করার অর্থ হলো আগ্রাসন চালিয়ে যাওয়ার জন্য ইসরায়েলকে আরও সময় দেওয়া।

হামাস এ পর্যন্ত ১০০ জনেরও বেশি ইসরায়েলি বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে। তবে আরও ১২০ জনের বেশি গাজায় জিম্মি রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

হামাসের হাতে জিম্মিদের ফিরিয়ে আনার দাবিতে শনিবার তেল আবিবে হাজার হাজার মানুষ সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে।

এ সময় ইসরায়েলি পুলিশ এবং বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পদত্যাগ ও নতুন নির্বাচনের দাবি জানায়।

ইসরায়েলি বাহিনী গত ২৪ ঘণ্টায় গাজায় ৫৮ জনকে হত্যা করেছে বলে উপত্যকার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এ নিয়ে ইসরায়েলি আগ্রাসনে নিহত ৩৬ হাজার ছাড়িয়েছে।

;

পাপুয়া নিউগিনিতে ভূমিধসে ৬৭০ জনের প্রাণহানি



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

পাপুয়া নিউগিনির একটি গ্রামে ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনায় ৬৭০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। ভূমিধসে প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া গ্রামের আরও অনেক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

রোববার (২৬ মে) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা বিবিসিকে হতাহতের এই পরিসংখ্যান জানিয়েছেনআন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার একজন কর্মকর্তা।

দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রে সংস্থাটির মিশন প্রধান সেরহান আক্তোপ্রাক বলেছেন, নতুন আনুমানিক নিহতের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে ইয়াম্বালি গ্রাম ও এনগা প্রদেশের কর্মকর্তাদের তথ্য বিবেচনায় নিয়ে।

বলা হয়েছে, গত শুক্রবারের ভূমিধসের ঘটনায় ১৫০টির বেশি বাড়ি মাটির নিচে চাপা পড়েছে।

এর আগে বলা হয়েছিল ভূমিধসে ৬০টি বাড়ি মাটির নিচে চাপা পড়েছে। কিন্তু বর্তমানের হিসাব অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে, ৬৭০ জনের বেশি মানুষ এখনো মাটির নিচে রয়েছেন।

আক্তোপ্রাক বলেছেন, এখনো ভূমিধস হচ্ছে। প্রবাহিত হচ্ছে পানি। এতে সেখানে ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে।

জানা গেছে, রাজধানী পোর্ট মোর্সবি থেকে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার উত্তরের এনগা প্রদেশে মধ্যরাতে যখন ভূমিধসের ঘটনা ঘটে তখন গ্রামের বেশিরভাগ মানুষই ঘুমিয়ে ছিলেন।

;

ইসরায়েলে রকেট হামলা চালাল হামাস



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস রোববার (২৬ মে) ইসরায়েলে রকেট হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে। এরই মধ্যে হামলার শঙ্কায় তেল আবিবে সাইরেন বাজাতে শুরু করেছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। 

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, এ হামলার মধ্য দিয়ে চলতি মাসে এই প্রথম ইসরায়েলে কোনো হামলা চালাল হামাস।

সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ ও এবিসি নিউজের প্রতিবেদনেও এই তথ্য জানিয়েছে।

হামলার তথ্য জানাতে গিয়ে হামাসের সশস্ত্র শাখা আল কাসেম বিগ্রেড থেকে বলা হয়, নিরপরাধ মানুষের ওপর ইহুদিদের হামলার জবাবে ক্ষেপণাস্ত্রসহ হামলা করা হলো। 

এনবিসি নিউজের প্রতিবেদক বলছেন, তিনি একটি রকেট আসতে দেখেছেন। আয়রন ডোম দিয়ে তা ভূপাতিত করা হয়।

হামাস আল আকসা টিভিতে বলা হয়, গাজা থেকে এই হামলা করা হয়েছে। তবে, কতটি রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা হয়েছে তা এখন পর্যন্ত জানা যায়নি।

;

পুতিন হিংস্র ও অত্যাচারী শাসক: বাইডেন



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ইউক্রেনে রাশিয়ার চলমান আগ্রাসনের প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সমালোচনা করে বলেন, ‘পুতিন নিশ্চিত ছিলেন ন্যাটোতে ফাটল ধরাতে পারবেন। পুতিন এক হিংস্র ও অত্যাচারী শাসক। কিন্তু  আমরা ইউক্রেনকে ফেলে চলে যাচ্ছি না এবং চলে যাবও না।’

রোববার (২৬ মে) রুশ সংবাদমাধ্যম তাসের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

ওয়েস্ট পয়েন্টে মার্কিন সামরিক একাডেমিতে স্নাতকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে জো বাইডেন বলেন, 'ইউক্রেন যুদ্ধে কোনো মার্কিন সেনা অংশ নিচ্ছে না। আমি বিষয়টাকে এরকমই রাখতে অঙ্গীকারবদ্ধ। আমরা এমন একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছি যাকে আমি বহু বছর ধরে চিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, তিনি ২০২১ সালে জেনেভায় এক বৈঠকে ইউক্রেনকে নিরপেক্ষ রাখতে বা ফিনল্যান্ডের মতো করতে চাইলে এর ফল হবে সমগ্র ইউরোপ ন্যাটোতে যোগ দেবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা জোট (ন্যাটো) অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি শক্তিশালী।

পুতিনের এই বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন ওয়াশিংটনে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত আনাতোলি আনতোনভ। তিনি জানান, রুশ প্রেসিডেন্টকে নিয়ে নেতিবাচক বক্তব্য দিয়ে বাইডেন সমগ্র রুশ জাতিকে অপমান করেছেন।

'আমি বিশ্বাস করি এ ধরনের ব্যবহার যেকোনো দায়িত্বশীল রাজনীতিবিদের ক্ষেত্রে অগ্রহণযোগ্য, বিশেষত সেই রাজনীতিবিদ যখন যুক্তরাষ্ট্রে মতো একটি দেশের নেতা', যোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, 'রুঢ় বাক্যের ব্যবহার ও আমাদের প্রেসিডেন্টের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে নিজের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর প্রচেষ্টায় এটাই প্রমাণ হয়েছে যে রাশিয়ার ওপর রেগে আছে ওয়াশিংটন, কারণ দেশটি (যুক্তরাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত) তথাকথিত বৈশ্বিক নীতিমালার বিরুদ্ধাচারণ করেছে।'

রুশ কূটনীতিক আরও বলেন, 'মার্কিন প্রশাসনকে এটা অনুধাবন করতে হবে যে আমরা আমাদের জাতীয় স্বার্থ মেনে নিরপেক্ষ ও সার্বভৌম নীতি অবলম্বন করতে থাকব।'

;