বিশ্বব্যাপী ১০০ কোটিরও বেশি মানুষ স্থূলকায়: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) পরিচালিত সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেথা যায়, বিশ্বব্যাপী এক বিলিয়নেরও বেশি অর্থাৎ ১০০ কোটিরও বেশি মানুষ স্থূলতায় আক্রান্ত রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত তিন দশক ধরে (৩২ বছরের মধ্যে) শিশুদের মধ্যে স্থূলতার হার চারগুণ বেড়েছে এবং প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে বেড়েছে দ্বিগুণ। 

গবেষণায় বলা হয়েছে, ১৯৯০ সাল থেকে ২০২২ সালের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্কদের স্থূলতার হার দ্বিগুণেরও বেশি এবং ৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে এই হার চারগুণেরও বেশি। একই সময়ের মধ্যে কম ওজন হিসাবে বিবেচনা করা মেয়ে, ছেলে এবং প্রাপ্তবয়স্কদের অনুপাত যথাক্রমে এক-পঞ্চমাংশ, এক-তৃতীয়াংশ এবং অর্ধেক কমে গেছে।

নতুন এই গবেষণায় ১৯০ টিরও বেশি দেশের ২২০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষের ওজন এবং উচ্চতার পরিমাপের বিশ্লেষণ থেকে দেখা যায়, কীভাবে ১৯৯০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে সারা বিশ্বে বডি মাস ইনডেক্স (বিএমআই) পরিবর্তিত হয়েছে।

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সাথে এনসিডি রিস্ক ফ্যাক্টর সহযোগিতার গবেষণাটিতে প্রায় ১ হাজার ৫০০ গবেষক অবদান রেখেছেন।বৃহস্পতিবার বিখ্যাত মেডিকেল জার্নাল দ্য ল্যানসেটে এই গবেষণা প্রকাশিত হয়। বিশ্বজুড়ে ১৯০ টিরও বেশি দেশে ২২০ মিলিয়নেরও বেশি লোকের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এই গবেষণাপত্রটি প্রস্তুত করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাপী মেয়েদের জন্য, স্থূলত্বের হার ১৯৯০ সালের ১ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২২ সালে এসে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ হয়েছে। ছেলেদের জন্য, একই সময়ের মধ্যে বৃদ্ধি ছিল ২ দশমিক ১ শতাংশথেকে ৯ দশমিক ৩ শতাংশ।

নারীদের জন্য, বিশ্বব্যাপী স্থূলতার হার একই সময়ে ৮ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ এবং পুরুষদের জন্য ৪ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে ১৪  শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে, শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্ক উভয়ের জন্য কম ওজনের মানুষের হার কমেছে, যার অর্থ হল স্থূলতা বিশ্বের অনেক দেশে অপুষ্টির সবচেয়ে সাধারণ রূপ।

গবেষণাপত্রের সিনিয়র লেখক এবং ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক মজিদ ইজ্জাতি বলেন, ‘বহুসংখ্যক মানুষ স্থূলতার সাথে বসবাস করছে। যদিও অনেক ধনী দেশে স্থূলতার হার হয় কিছুটা কমেছে বা স্থির রয়েছে, তারপরও বিশ্বের অন্যত্র স্থূলতা দ্রুত বাড়ছে। এছাড়া কম ওজনের বিষয়টি বিশ্বব্যাপী কমতে থাকলেও অনেক দেশেই স্থূলতা এখনও একটি তাৎপর্যপূর্ণ সমস্যা হিসেবেই রয়ে গেছে।’

ডব্লিউএইচওর পুষ্টি প্রধান ফ্রান্সেস্কো ব্রাঙ্কা এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘অতীতে, আমরা স্থূলতাকে কেবল ধনীদের সমস্যা হিসেবে ভাবতাম। মূলত স্থূলতা পুরো বিশ্বের জন্যই সমস্যা।’

ইজ্জাতি শিশুদের মধ্যে স্থূলত্বের হার বৃদ্ধিকে ‘খুবই উদ্বেগজনক’ বলে অভিহিত করেছেন। একই সময়ে তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষের এখনও পর্যাপ্ত খাবার নেই।

গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের পরিসংখ্যান অনুয়ায়ী, ৮৮০ মিলিয়ন প্রাপ্তবয়স্ক এবং ১৫৯মিলিয়ন শিশু স্থূলতায় আক্রান্ত। টোঙ্গায়, আমেরিকার সামোয়া এবং নাউরুতে সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ হারের বেশি স্থূলতায় আক্রান্ত মানুষ রয়েছে।

 

ইজ্জাতি বলেন, ‘একই সময়ে, কয়েক মিলিয়ন মানুষ এখনও অপুষ্টিতে আক্রান্ত, বিশেষ করে বিশ্বের কিছু দরিদ্র অংশে। উভয় প্রকারের অপুষ্টিকে সফলভাবে মোকাবেলা করার জন্য স্বাস্থ্যকর, পুষ্টিকর খাবারের প্রাপ্যতা এবং ক্রয়ক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

ডব্লিউএইচও এর মহাপরিচালক ড. টেড্রোস আধানম ঘেব্রেয়েসাস বলেছেন: ‘স্থূলতা রোধে বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা পূরণের পথে ফিরে আসার জন্য সরকার ও সম্প্রদায়ের মানুষজনকে ডব্লিউএইচও এবং জাতীয় জনস্বাস্থ্য সংস্থার প্রমাণভিত্তিক নীতি দ্বারা সমর্থিত কাজ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, স্থূলতার হার মোকাবিলায় উচ্চ চিনি রয়েছে এমন পণ্যের ওপর কর আরোপ এবং স্কুলে স্বাস্থ্যকর খাবার দেওয়ার মতো ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। এর জন্য বেসরকারি খাতের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। কারণ তাদের পণ্যের কারণে মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর যে প্রভাব পড়ে সেটার জন্য তাদের দায়বদ্ধ হতে হবে।

ইংল্যান্ডের শিশু এবং তরুণদের জন্য কাজ করা জাতীয় ক্লিনিকাল ডিরেক্টর প্রফেসর সাইমন কেনি বলেছেন: ‘এই পরিসংখ্যানগুলো পিতামাতার জন্য ততটাই উদ্বেগজনক হবে যতটা এনএইচএসের জন্য। স্থূলতা প্রতিটি মানব অঙ্গের সিস্টেমকে প্রভাবিত করে। এটি অল্প বয়সে একটি শিশুর জীবনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তাদের টাইপ ২ ডায়াবেটিস, ক্যান্সার, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা এবং অন্যান্য অনেক অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়ায়, যা আয়ু কমিয়ে দেয় এবং অসুস্থতার কারণ হতে পারে।’ 

   

হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে কেনিয়ার সেনাপ্রধানসহ নিহত ৯



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে কেনিয়ার প্রতিরক্ষা প্রধান জেনারেল ফ্রান্সিস ওমন্ডি ওগোল্লাসহ শীর্ষস্থানীয় ৯ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।

দেশটির পুলিশের বরাত দিয়ে বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে এই খবর জানিয়েছে বিবিসি, এএফপিসহ বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম।

কেনিয়ার একজন সিনিয়র পুলিশ অফিসার এএফপিকে জানিয়েছেন, উড্ডয়নের পরপরই হেলিকপ্টারটিতে আগুন ধরে যায় এবং এতে জেনারেল ওগোল্লাসহ ৯ জন সিনিয়র কমান্ডার নিহত হয়েছেন।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের পর কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো দেশটির নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। তার মুখপাত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, হেলিকপ্টারে অবস্থান করা সবাই ছিলেন ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে জেনারেল ফ্রান্সিস ওগোল্লা, রাষ্ট্রপতির প্রধান সামরিক উপদেষ্টাও ছিলেন। তবে বিবিসি এসব প্রতিবেদনের সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।

খবরে বলা হয়েছে, হেলিকপ্টারটি কেনিয়ার রিফট ভ্যালিতে নেমে এসেছিল এবং আগুনে ফেটে পড়েছিল। দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে।

কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো বলেন, হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের কারণ অনুসন্ধানে ঘটনাস্থলে তদন্ত দল পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের মাতৃভূমি তার সবচেয়ে বীর জেনারেলদের একজনকে হারিয়েছে। জেনারেল ওগোল্লার মৃত্যু আমাদের জন্য একটি অপূরণীয় ক্ষতি।

ওগোল্লা ১৯৮৪ সালে কেনিয়া প্রতিরক্ষা বাহিনীতে যোগদান করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর সঙ্গে একজন ফাইটার পাইলট এবং কেনিয়া এয়ার ফোর্সে (কেএএফ) একজন প্রশিক্ষক পাইলট হিসেবে প্রশিক্ষণ নেন। ডেপুটি মিলিটারি চিফ হওয়ার আগে ওগোল্লা কেনিয়ার বিমান বাহিনীর প্রধান ছিলেন। গত বছর দেশটির প্রেসিডেন্ট তাকে পদোন্নতি দিয়ে সেনাবাহিনীর প্রধান করেন।

;

ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক হামলা চালানোয় ইরানের ড্রোন কর্মসূচির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য।

বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) একযোগে এই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছে ইহুদি রাষ্ট্রটির ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত দেশ দুটি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের ইউএভি (ড্রোন) উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত ১৬ ব্যক্তি এবং ২টি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এরা ইরানের শাহেদ ড্রোন নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত। ওই ড্রোন ১৩ এপ্রিলের হামলায় ব্যবহার করা হয়েছে।

যুক্তরাজ্যও ইরানের ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সঙ্গে যুক্ত দেশটির সামরিক বাহিনী-সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি সংস্থা, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে।

শনিবার রাতে ইসরাইলে প্রত্যাশিত ও অভাবনীয় হামলা চালায় ইরান। ১ এপ্রিল সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে ইরানের কনস্যুলেটে ইসরাইলের বিমান হামলায় কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তা নিহতের প্রতিশোধ হিসেবে ওই হামলা চালানো হয়।

বড় ধরনের এই হামলায় তিন শতাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইরান। এগুলোর বেশির ভাগই আকাশে ধ্বংস করার দাবি করেছে ইসরায়েল। এই হামলা রুখতে ইসরায়েলকে সহায়তা করে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জর্ডান।

এই হামলার জবাবে ইরানে পাল্টা হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, নিজেদের সুরক্ষার অধিকার ইসরায়েলের রয়েছে।

;

হারিয়ে যাওয়া প্রাণী

২৫ মিটার লম্বা নতুন প্রজাতির সামুদ্রিক সরীসৃপের সন্ধান



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

যুক্তরাজ্যের সমুদ্রের তীরে ২৫ মিটার লম্বা অতি দীর্ঘাকৃতির সামুদ্রিক সরীসৃপের ফসিল পাওয়া গেছে। এই প্রাণীটি ২শ ২ মিলিয়ন বছর আগে ডাইনোসরের পাশাপাশি এই পৃথিবীতে বাস করতো। গণবিলুপ্তির মুখে পড়ে একসময় পৃথিবী থেকে হারিয়ে যায় তারা।

২০১৬ সালে যুক্তরাজ্যের সমারসেট সমুদ্রের তীরে এক ফসিল-গবেষক প্রথম এটির সন্ধান পান। এরপর ২০২০ সালে ওই সমুদ্রে তীরে বাবা ও মেয়ে বেড়াতে গিয়ে আরেকটি হাড়ের ফসিল খুঁজে পান।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, সামুদ্রিক এই সরীসৃপ সাঁতার জানতো না। দুটো বাস মুখোমুখি রাখলে যতটা লম্বা দেখায়, এই প্রাণীটি ছিল তার চেয়েও লম্বা।

এ বিষয়ে ইউনির্ভাসিটি অব ব্রিস্টল প্লিয়নটোলজিস্ট (প্রাণী বা গাছের ফসিল গবেষক) ডা. ডিন লোম্যাক্স বুধবার (১৭ এপ্রিল) প্রকাশিত একটি প্রবন্ধে জানান, সরীসৃপ জাতীয় সামুদ্রিক এই প্রাণীটি নীল তিমির মতোই লম্বা। বলা চলে ২৫ মিটার। তিনি বলেন, প্রাণীটির চোয়ালের দুটি হাড় পাওয়া গেছে। এর একটি এক মিটারের চেয়েও লম্বা। অপরটি লম্বায় দুই মিটার। এর ভিত্তিতেই বলা যেতে পারে, এটি ২৫ মিটার লম্বা ছিল।

তবে তিনি তার লেখায় এটাও উল্লেখ করেন, শুধুমাত্র চোয়ালের হাড় দেখেই প্রাণীটির আকৃতি সম্পর্কে নিশ্চিত ধারণা পাওয়া যায় না; অনুমান করা যায় মাত্র। এ জন্য প্রাণীটির মস্তিষ্ক এবং কঙ্কাল পাওয়া প্রয়োজন।

ডা. ডিন লোম্যাক্স জানান, বিশালাকৃতির এই সামুদ্রিক প্রাণী গণভাবে বিপন্ন হয়ে পৃথিবী থেকে হারিয়ে যায়। এরপর বিশালাকৃতির শরীর নিয়ে তারা আর ফিরে পৃথিবীতে ফিরে আসেনি।

২০১৬ সালে ফসিল-গবেষক পল ডি লা স্যালি সমারসেট সমুদ্র তীরে বিশালাকৃতির চোয়ালের একটি হাড় খুঁজে পান। তিনি ফসিল বিশেষজ্ঞ স্টিভ ইচেজের কাছে ফসিল বিষয়ে হাতেখড়ি হওয়ার ২৫ বছর পর এই বিশালাকৃতির সরীসৃপের চোয়ালের একটি হাড় খুঁজে পান। এই সময় ডি লা স্যালি তার স্ত্রীকে নিয়ে সমুদ্র তীরে ফসিল খুঁজে ফিরছিলেন।

এরপর তিনি ২০১৮ সালে যখন ডিন লোম্যাক্সের সঙ্গে তার পাওয়া চোয়ালের হাড়টি নিয়ে আলোচনা করেন। তখনই জানা যায় যে, তারা একটি বড় ধরনের একটি আবিষ্কার করে ফেলেছেন। তারা তাদের প্রাপ্ত উপাত্ত নিয়ে একটি গবেষণা প্রবন্ধ লেখেন।

প্রাণীটি আসলে লম্বা বা আকৃতিতে কত বড়, সে সম্পর্কে তথ্য পেতে তারা অনুসন্ধান শুরু করেন। ডিন লোম্যাক্স বলেন, ২০২০ সালে বাবা জাস্টিন ও মেয়ে রুবি রেনোল্ডস এ বিষয়ে বড় কিছু আবিষ্কার করে ফেলেন।

বিশালাকৃতির সরীসৃপ জাতীয় প্রাণীটির নামকরণ করা হয়েছে Ichthyotitan severnensis

তিনি বলেন, আমি সত্যি সত্যি ভীষণভাবে অভিভূত হয়ে যাই, বাবা ও মেয়ের এই আবিষ্কারে। তিনি বলেন, পল ডি লা স্যালি যেভাবে বলেছিলেন, চোয়ালের দ্বিতীয় হাড়টি ঠিক সেভাবেই পাওয়া গেছে।

তাদের এই খবর জানার পর পল সমারসেট সমুদ্রে তীরে ছুটে আসেন এবং তার সহযোগিতায় সেখানকার মাটি খুঁড়তে শুরু করি। প্রায় একঘণ্টার চেষ্টায় শক্ত কিছু একটা খুঁজে পাই। তারপর দেখি, প্রাণীর চোয়ালের হাড়টি একদম ঠিকঠাক মতো সুরক্ষিত রয়েছে।

২০২২ সালে গবেষক দলটি হাড়ের শেষ টুকরোটির সন্ধান পান। এই আবিষ্কার প্রাণীটির প্রকৃত আকৃতি সম্পর্কে নিশ্চিত ধারণা দেয়। তারা বলেন, এই প্রামাণ্য উপাত্ত নতুন একটি প্রজাতি ‘ইচথিওসোর’ সম্পর্কে ধারণা দেয়। তখন এটির নামকরণ করা হয়, ‘ইচথিওটিটান সেভারনেনসিস (Ichthyotitan severnensis) বা দ্য সেভার্নের বিশালাকৃতির লেজওয়ালা মাছ।

রুবি রেনোল্ডসের সহলেখক ডিন সর্বশেষ গবেষণাপত্রে জানান, এই প্রজাতির প্রাণীর নাম একসময় ‘রুবি’ হয়ে যেতে পারে। আবিষ্কৃত এই প্রাণীটির ফসিল খুব শিগগিরই ব্রিস্টল মিউজিয়াম অ্যান্ড আর্ট গ্যালারিতে সর্ব সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

;

ধীরে ধীরে পুনরায় চালু হচ্ছে দুবাই বিমানবন্দর



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং প্রতিবেশী দেশগুলিতে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় দুবাই বিমানবন্দরের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত রয়েছে। রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টির কারণে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দরে। বিমানবন্দরে ফ্লাইট বিলম্ব হচ্ছে এবং উড়োজাহাজ অবতরণ করতে পারছে না বলে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) ফ্লাইট নামা শুরু হলেও পুরো বিমানবন্দর অনেকটাই অচল। বিদেশি যাত্রীদের জন্য নির্ধারিত ১ নম্বর টার্মিনালে উড়োজাহাজ অবতরণ করছে। তবে ফ্লাইটের উড্ডয়ন এখনও বিলম্বিত আছে।

বিভিন্ন মহাদেশের মধ্যে ফ্লাইট চলাচলের সংযোগের প্রধান কেন্দ্র দুবাই ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট। গত বছর ৮ কোটির বেশি যাত্রীকে সেবা দিয়েছিল এ বিমানবন্দর। যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা বিমানবন্দরের পরই ব্যস্ততম এ বিমানবন্দরের অবস্থান।

এদিকে মঙ্গলবারের বৃষ্টিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস্তা এবং ব্যস্ত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অংশগুলি প্লাবিত করেছে। আকস্মিক বন্যায় এখন পর্যন্ত ওমানে ২০ জন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে একজন নিহত হয়েছে।

দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এক মুখপাত্র বলেছেন, ‘বৃষ্টির কারণে পানি জমে যাওয়ায় ফ্লাইট বিলম্ব হচ্ছে এবং বিমানবন্দরগামী উড়োজাহাজ অবতরণ করতে পারছে না। আমরা এই কঠিন পরিস্থিতিতে যতটা দ্রুত সম্ভব বিমানবন্দরের কাজকর্ম শুরুর চেষ্টা করছি।’

মঙ্গলবার দুবাই বিমানবন্দরগামী বা বিমানবন্দর ত্যাগের অপেক্ষায় থাকা ৫০০ এর বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বুধবার, প্রায় ৩০০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং আরও শতাধিক দেরি হয়েছে।

দুবাইয়ের সবচেয়ে বড় উড়োজাহাজ কোম্পানি এমিরেটাস জানিয়েছে, দুবাইয়ে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে তাদের সব ফ্লাইটের যাত্রীদের চেক-ইন বন্ধ রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) এক্স-এ পোস্ট করে কর্মকর্তারা যাত্রীদের বুকিং নিশ্চিত করলেই বিমানবন্দরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন।

দুবাই বিমানবন্দরের প্রধান পল গ্রিফিথস বলেছেন: "এটি একটি অবিশ্বাস্যভাবে চ্যালেঞ্জিং সময়। জীবন্ত স্মৃতিতে, আমি মনে করি না যে কেউ এর মতো পরিস্থিতি দেখেছে।"

অ্যান উইং নামে একজন ব্রিটিশ পর্যটক- যিনি তার স্বামী এবং তিন সন্তানের সঙ্গে লন্ডনে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন, বলেছেন: ‘এটি ভয়ঙ্কর, আমরা পশুদের মতো গাদাগাদি করে অবস্থান করছি - এটি বিপজ্জনক এবং অমানবিক।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘ বিমানবন্দরে কোনো খাবার নেই, ফলে তার পরিবার দুপুরের খাবার খেতে পারেনি এবং কর্তৃপক্ষ শুধু কয়েক বোতল পানি দিয়েছিল তাদের।’

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, বন্যার পানিতে বিমানবন্দরের দিকে যাওয়ার সমস্ত রাস্তা বন্ধ থাকায় আটকে পড়া যাত্রীদের খাবার পৌঁছাতে বেগ পেতে হচ্ছে।

উল্লেখ্য, আমিরাতের ন্যাশনাল সেন্টার অব মেটিওরোলজি তথ্যানুসারে, মঙ্গলবার রাত ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশটিতে ৭৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ১৯৪৯ সালে তথ্য সংগ্রহ শুরু হওয়ার পর থেকে আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে এবং সারা দেশের অসংখ্য অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রভাব পড়েছে।

রেকর্ড বর্ষণের ফলে দেশটির প্রধান মহাসড়কগুলোর কিছু অংশ প্লাবিত হয়েছে এবং দুবাইজুড়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টির কারণে বাসিন্দারা তাদের গাড়ি রাস্তায় পরিত্যাগ করতে বাধ্য হন।

এদিকে দুবাইয়ের রোডস অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (আরটিএ) ভারী বৃষ্টির কারণে লাল এবং সবুজ লাইনের বেশকিছু মেট্রো স্টেশন এবং অভ্যন্তরীণ বাস সার্ভিস সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করে।

;