বছরের পর বছর হামলার পরিকল্পনা করেছিল হামাস : ইসরায়েল



আন্তর্জাতিক ডেস্ক বার্তা২৪.কম
হামাসের হামলার পর দক্ষিণ ইসরায়েলের চিত্র। ছবি : সংগৃহীত

হামাসের হামলার পর দক্ষিণ ইসরায়েলের চিত্র। ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ইসরায়েলের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, ‘হামাসের যোদ্ধাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা ডিজিটাল ডিভাইস এবং নথিগুলো থেকে জানা গেছে বছরের পর বছর পরিকল্পনা করে গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালিয়েছিল ফিলিস্তিনের সশস্ত্র ওই গোষ্ঠী।

ইসরায়েলের এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘মৃত বা বন্দীকৃত ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীদের কাছ থেকে পাওয়া উপাদানগুলো হামলার জন্য বিশদ পরিকল্পনা প্রদর্শণ করে, যার উদ্দেশ্য ছিল মানুষের চেতনা ভেঙে ফেলার মতো একটি পদক্ষেপ।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অন্য একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেছেন, ‘মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, ট্যাব, জিপিএস ডিভাইস, গোপ্রো ক্যামেরা, মানচিত্র এবং নোটবুক থেকে পাওয়া তথ্য থেকে বোঝা গেছে কীভাবে ঘাঁটি এবং কিবুতজিমকে আক্রমণ করতে হবে, সে সম্পর্কে বছরের পর বছর পরিকল্পনা করেছে হামাস।’

উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর শত শত হামাস এবং এর সহযোগী সংগঠনের যোদ্ধারা গাজা জঙ্গিরা দক্ষিণ ইসরায়েলে হামলা চালায়। ওই হামলায় ১২০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়, যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক ছিল।

ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, হামলার পর প্রায় ২৪০ জনকে জিম্মি করে হামাস।

জবাবে ইসরায়েল অবিরাম বোমাবর্ষণ এবং একটি স্থল আক্রমণের মাধ্যমে হামাসকে ধ্বংস করার প্রতিশ্রুতি দেয়।

হামাস পরিচালিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, গাজায় প্রায় ১৫,৯০০ জন নিহত হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই মহিলা এবং শিশু।

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস গত ১ ডিসেম্বরে প্রতিবেদন করেছে যে, এক বছরেরও বেশি সময় আগে ইসরায়েলি গোয়েন্দারা হামাসের হামলার একটি পরিকল্পনা জেনেছিল। কিন্তু, তারা এটিকে একটি কাল্পনিক বিষয় হিসাবে বিবেচনা করেছিল।

   

তৃণমূলের মুসলিম ভোট ব্যাঙ্ক অক্ষুন্ন থাকবে না : মোদি



আন্তর্জাতিক ডেস্ক বার্তা২৪.কম
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ভারতের আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের মুসলিম ভোট ব্যাঙ্ক অক্ষুন্ন থাকবে না বলে শুক্রবার (১ মার্চ) পশ্চিমবঙ্গের আরামবাগের সভা থেকে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

ঘড়ি ধরে আধা ঘণ্টার বক্তৃতার শেষ দিকে এই কথা বললেও শুরুতে সন্দেশখালি প্রসঙ্গে আক্রমণ করতে গিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ‘মুসলিম তোষণের’ অভিযোগ তোলেন মোদি।

এনডিটিভি জানিয়েছে, মোদির অভিযোগ ও ভবিষ্যদ্বাণীকে তৃণমূল যে গুরুত্ব দিচ্ছে না তৃণমূল। দলটির মুখপাত্র শান্তনু সেন বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদি এবং তার দল ধর্মীয় ভেদাভেদ করেন। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ধর্ম এবং মতনির্বিশেষে মানুষের সমর্থন রয়েছে।’

শুক্রবার আরামবাগে বিজেপির জনসভায় মোদী তার বক্তৃতার শুরুর দিকেই সন্দেশখালি প্রসঙ্গ টানেন। ওই এলাকায় যা ঘটেছে, তা নিয়ে গোটা দেশ ব্যথিত বলার পাশাপাশি তিনি মন্তব্য করেন যে, ‘এখন বাংলার মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসা করছেন, আপনার কাছে কিছু ভোটের মূল্য কি মা-বোনদের কষ্টের থেকেও বেশি?’

সন্দেশখালিকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত শাহজাহান শেখকে গতকাল বৃহস্পতিবারই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তৃণমূল আশা করেছিল, মোদির সফরের আগের দিনই শাহজাহান গ্রেফতার হওয়ায় বিজেপি তথা প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতার ঝাঁজ অনেকটাই কমে যাবে।

কিন্তু সভার শুরুতেই মোদির উপস্থিতিতে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার সংক্ষিপ্ত বক্তৃতার প্রায় পুরোটাই সন্দেশখালি নিয়ে বলেন।

এরপরেই বক্তৃতা দিতে গিয়ে মোদি বলেন, ‘তৃণমূলের নেতা সন্দেশখালিতে মা-বোনেদের উপর অত্যাচারের সব সীমা পার করে ফেলেছে! যখন এর বিরুদ্ধে নারীরা আওয়াজ তুললেন, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সাহায্য চাইলেন, তখন তার বদলে তারা কী পেলেন? মুখ্যমন্ত্রী সমস্ত শক্তি লাগিয়ে দিলেন অপরাধীকে বাঁচাতে!’

এখানেই না থেমে শাহজাহানকে গ্রেফতার করতে সময় নেওয়া প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিজেপির চাপে তৃণমূল বাধ্য হয়েছে তাকে গ্রেফতার করতে। তৃণমূল রাজত্বে তৃণমূলের এই নেতা দুই মাস গায়েব ছিল। কেউ তো ছিল, যারা একে আড়াল করে রেখেছিল!’

এরপরেই জমায়েতের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে মোদি বলেন, ‘আপনারা কি এই তৃণমূলকে ক্ষমা করবেন? যারা মা-বোনদের সঙ্গে এমন করেছে, তাদের বদলা নেবেন কি না? সব হিসাব ভোটে হবে। এখন বাংলার মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞেস করছেন, আপনার কাছে কিছু ভোটের মূল্য কি মা-বোনেদের কষ্টের থেকেও বেশি?’

বিজেপি নেতারা বলছেন, ‘কিছু ভোট’ বলতে মোদি রাজ্যের মুসলিম ভোটের কথাই বলেছেন।

বক্তৃতার শেষে মোদি এই রাজ্যে মুসলিমরা লোকসভা নির্বাচনে কী করবেন, তা নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেন। তিনি বলেন, ‘মুসলিম ভাই-বোনেরা এবার তৃণমূলকে শিক্ষা দেবে। তৃণমূলের বিদায়ের কাউন্ট ডাউন শুরু হয়ে গেছে।’

এর জবাবে শান্তনু বলেন, ‘মোদির আমলে দেশে সংখ্যালঘুদের কী অবস্থা, তা সারাদেশ জানে। আর বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সব ধর্মের মানুষ এক ছাতার তলায়। কেউই বিকল্প খুঁজতে যাবেন না।’

;

চোখের জলে নাভালনিকে শেষ বিদায় জানালো সমর্থকরা



আন্তর্জাতিক ডেস্ক বার্তা২৪.কম
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

রাশিয়ার মস্কোর মোমবাতি জ্বালানো একটি গির্জায় শুক্রবার (১ মার্চ) দেশটির প্রয়াত বিরোধী নেতা আলেক্সি নাভালনির শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।

শেষকৃত্যের সময় তার গির্জার চারপাশে নীরবে দাঁড়িয়েছিলেন তার হাজার হাজার শোকার্ত সমর্থক। তাদের গির্জার ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। তারা বাইরে থেকেই শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

আর্কটিক কারাগারে মৃত্যুর দুই সপ্তাহ পর আলেক্সি নাভালনির পরিবার অবশেষে তাকে বিদায় জানাতে পারলো।

মস্কোর এক কোণে অসামান্য গম্বুজযুক্ত অর্থোডক্স গির্জাটির ভেতরে যাদের ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল তাদের মধ্যে আলেক্সি নাভালনির বাবা-মা অন্তর্ভুক্ত ছিল। নাভালনির এ সময় দেহ একটি কফিনের ভেতর ছিল।

তার সংক্ষিপ্ত অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শেষ হতেই গির্জাটি বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় অনেককে চিৎকার করে বলতে শোনা গেছে, ‘বন্ধ করবেন না, আমাকে বিদায় জানাতে দিন!’

গির্জার বাইরে প্রতিবাদী শোককারীদের অনেকে ফুল ধরে কেঁদেছেন। তাকে সমাহিত করার পর কিছু শোকার্তরা চিৎকার করে বলেন, ‘আমরা আপনাকে ভুলব না! আমাদের ক্ষমা করুন!’

ভিড়ের মধ্যে এক বয়স্ক লোক চিৎকার করে বলে উঠেন, ‘তিনি রাশিয়া সম্পর্কে সত্য কথা বলেছেন। ধন্যবাদ।’

আর্কটিক সার্কেলের একটি উচ্চ-নিরাপত্তা কারাগার নাভালনির মৃত্যু তার সমর্থকদের মধ্যে হতাশার জন্ম দিয়েছে, কারণ অনেক তরুণ রাশিয়ান আলেক্সি নাভালনিকে পরিবর্তনের জন্য তাদের সেরা নেতা হিসেবে মনোনীত করেছিল।

আনা নামের একজন শোকার্ত এএফপিকে বলেছেন, ‘তার মতো মানুষের মৃত্যু হওয়া উচিত নয়।’

শীতের কোট এবং টুপিতে ব্যস্ত ভিড়ের মধ্যে অনেকেই ছবি তোলার জন্য তাদের ফোন ধরেছিলেন। এই দৃশ্য আলেক্সি নাভালনি রাজধানীতে মাত্র এক দশক আগে সমাবেশের কথা মনে করিয়ে দেয়।

৩৭ বছর বয়সি ডাক্তার ম্যাক্সিম বলেন, ‘এটি কিছুটা ভীতিকর, কারণ আপনি জানেন না এর পরিণতি কী হবে। কিন্তু, আমি মনে করি এটি মানুষের জেগে ওঠার এবং নীরব না থাকার একটি উপায়।’

নাভালনির শেষকৃত্যের সময় গির্জা এবং বোরিসোভো কবরস্থানের চারপাশে কয়েক ডজন পুলিশ এবং অফিসারদের টহল দিতে দেখা যায়।

২২ বছর বয়সি প্রত্নতত্ত্ববিদ আলেনা বলেন, ‘মনে হয়েছে আমার হাজির থাকা উচিত। এটাও মনে হয়েছে যে, আমার এখানে থাকা দরকার। যদি আমি উপস্থিত না থাকতাম, তবে আমি নিজেকে ক্ষমা করতে পারতাম না।’

৬০ বছর বয়সি সাবেক আইনজীবী ইনেসা বলেন, ‘আমি এসেছি কারণ, তিনি ছিলেন একজন নায়ক, আমাদের জন্মভূমির শেষ নায়ক।’

;

প্রতিবাদী গান গাওয়ায় ইরানি পপতারকার ৩ বছরের কারাদণ্ড



আন্তর্জাতিক ডেস্ক বার্তা২৪.কম
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

শেরভিন হাজিপুর নামের একজন ইরানি পপ গায়কের গান এক বছরেরও বেশি সময় আগে গণবিক্ষোভের সময় গণসংগীত হয়ে উঠেছিল। তাকে শুক্রবার (১ মার্চ) কমপক্ষে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে তেহরান।

এনডিটিভি জানিয়েছে, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে মাহসা আমিনীর মৃত্যুর কারণে দেশব্যাপী বিক্ষোভের সময় ‘বারায়ে’ শিরোনামের গান লিখে, গেয়ে প্রকাশ করেছিলেন শেরভিন।

প্রসঙ্গত, ২২ বছর বয়সি ইরানী কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনিকে নারীদের জন্য ইসলামী প্রজাতন্ত্রের কঠোর পোষাক কোড লঙ্ঘনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় এবং দেশটির নৈতিকতা পুলিশের হেফাজতে তার মৃত্যু হয়।

শেরভিন হাজিপুর শুক্রবার তার ইনস্টাগ্রাম একাউন্টে বলেছিলেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করার জন্য মানুষকে দাঙ্গায় উসকানি দেওয়া দেওয়ার জন্য তাকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।’

এ ছাড়াও শাসনের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করার জন্য তাকে আট মাসের কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

ওই রায় কখন জারি করা হয়েছিল তা তাৎক্ষণিকভাবে জানানি শেরভিন। ইরানের আইন অনুসারে, ‘শেরভিন হাজিপুর তিন বছর কারাগারে থাকবেন।’

২০২৩ সালের মার্চ মাসে নওরোজ বা পারস্য নববর্ষ উপলক্ষে হোয়াইট হাউসের একটি অনুষ্ঠানে ‘বারায়ে’ গানটি বাজানো হয়েছিল।

এক মাস আগে মার্কিন ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেন শেরভিন হাজিপুরকে সামাজিক পরিবর্তনের জন্য সেরা গানের জন্য একটি বিশেষ গ্র্যামি প্রদান করেন,।

মাহসা আমিনির মৃত্যু ইরানে মাসব্যাপী বিক্ষোভের সূত্রপাত করে, যার ফলে কয়েক ডজন নিরাপত্তা কর্মীসহ শতাধিক লোক নিহত হয় এবং আরও হাজার হাজার গ্রেপ্তার হয়। বিক্ষোভ চলাকালে শেরভিন হাজিপুরকে অল্প সময়ের জন্য গ্রেফতার করা হয়।

গত জানুয়ারিতে ইরানের একটি আদালত আরেক পপ গায়ককে, যিনি নারীদের জন্য বাধ্যতামূলক হেডস্কার্ফের সমালোচনা করেছিলেন, তাকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল তেহরান।

;

হাইতিকে পঙ্গু করে দিয়েছে বন্দুকযুদ্ধ



আন্তর্জাতিক ডেস্ক বার্তা২৪.কম
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

হাইতির রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের বেশ কয়েকটি স্থানে বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে।

আল জাজিরা জানিয়েছে, ওই বন্দুকযুদ্ধে বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে এবং কয়েক ডজন বাণিজ্যিক এয়ারলাইনসকে অস্থির এই ক্যারিবীয় দেশটিতে ফ্লাইট স্থগিত করতে বাধ্য করেছে।

কারণ, বন্দুকযুদ্ধের সময় হাইতির প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সেখানে থাকা বিমান গুলির কবলে পড়ে। তাই আন্তর্জাতিক এবং অভ্যন্তরীণ বিমান সংস্থাগুলো অপারেশন বাতিল করতে বাধ্য হয়।

এ ছাড়াও স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোও বন্ধ করতে বাধ্য করা হয়েছে।

দেশটির পুলিশ সংস্থার মতে, কানান সম্প্রদায়ের কাছে একটি থানায় হামলায় দুই নারীসহ অন্তত চার পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।

একজন বিশিষ্ট গ্যাং নেতা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী এরিয়েল হেনরিকে অপসারণ করার জন্য একাধিক দল রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলা চালাতে একত্রিত হয়েছে। হামলায় কয়েকটি থানা লক্ষ্যবস্তু করা হয়, দুটিতে আগুন দেওয়া হয়। হামলার সময় টাউসাইন্ট লুভারচার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।’

‘বারবিকিউ’ নামে পরিচিত গ্যাং লিডার জিমি চেরিসিয়ার বন্দুকযুদ্ধে শুরু হওয়ার ঠিক আগে একটি সোশ্যাল মিডিয়া ভিডিওতে আক্রমণের কথা প্রচার করেছিলেন।

তিনি বলেছিলেন, ‘আমাদের বন্দুক দিয়ে এবং হাইতিয়ান জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা দেশকে মুক্ত করবো।’

এই পদক্ষেপটি এমন সময় আসলো যখন প্রধানমন্ত্রী এরিয়েল হেনরি গ্যাংদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহায়তা করার জন্য হাইতিতে কেনিয়ার সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি চূড়ান্ত করার চেষ্টা করছেন।

হাইতির জাতীয় পুলিশের প্রধান ফ্রান্টজ এলবে এবং পুলিশের মুখপাত্র গ্যারি ডেসরোসিয়ার হেনরির পদক্ষেপের বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি।

উল্লেখ্য, বর্তমানে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক উভয় সংকটে নিমজ্জিত হাইতি। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের বিশাল অংশের নিয়ন্ত্রণ দখল নিয়েছে, বেসামরিক নাগরিকদের ওপর নৃশংস সহিংসতা চালিয়েছে এবং অর্থনীতিকে স্থবির করে দিয়েছে।

একই সময়ে প্রধানমন্ত্রী হেনরিকে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ানোর দাবিতে গত সপ্তাহে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় বিক্ষোভ করেছে।

হাইতিতে বর্তমানে কোনও নির্বাচিত সরকার নেই। হেনরি ২০২১ সালের জুলাইয়ে প্রেসিডেন্ট জোভেনেল মোইসের হত্যার পরপরই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থনে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন।

রাজনৈতিক সমঝোতার আওতায় চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করার কথা থাকলেও তা এখনও করা হয়নি।

অন্যদিকে, কেনিয়ার পুলিশ অফিসারদের হাইতিতে মোতায়েন করার বিষয়ে এগিয়ে যাওয়ার আশায় হেনরি কেনিয়ায় ভ্রমণ করেছিলেন।

পূর্ব আফ্রিকান দেশটির একটি আদালত জানুয়ারির শেষের দিকে রায় দিয়েছিল যে, প্রস্তাবিত মোতায়েনটি অসাংবিধানিক। তবে হেনরি এবং কেনিয়ার কর্মকর্তারা একটি চুক্তিতে কাজ করছেন, যা শীঘ্রই হাইতিতে বাহিনী পৌঁছানোর অনুমতি দেবে।

বৃহস্পতিবার কমিউনিটি অফ ল্যাটিন আমেরিকান অ্যান্ড ক্যারিবিয়ান স্টেটস (সিইএলএসি) শীর্ষ সম্মেলনের আগে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, ‘বছরের পর বছর ধরে চলা রাজনৈতিক অস্থিরতার পর হাইতির একটি সমাধান দরকার।’

গুতেরেস ক্যারিবিয়ান দেশ সেন্ট ভিনসেন্টে বলেন, ‘আপনি হাইতিতে যতোটা সম্ভব পুলিশ বাহিনী রাখতে পারেন। কিন্তু, যদি কোনও রাজনৈতিক সমাধান না হয়, তবে সমস্যার সমাধান হবে না।’

;