প্রবাসীদের প্রচেষ্টায় ঘড়ির কাঁটাও যেন ক্লান্ত হয়ে পড়ে!



পিকলু চক্রবর্তী, কাতার থেকে
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রবাস জীবনে পাড়ি জমাতে হবে অনেকে তা কল্পনাই করেন না। যেখানে অপরূপ সুন্দর বাংলাদেশের মাটির সঙ্গে মিশে আছে জীবন, যেখানে প্রকৃতির অপার লীলায় লুকিয়ে আছে প্রাণ। সেগুলো ছেড়ে মরুতে পাড়ি দেওয়া সত্যি বেদনাময়!

অনেকেই প্রবাসে আসার পর প্রথম দিকে ব্যাপারটা তাদের কাছে বনবাসের মত লাগে। আমার দেখা একজন প্রবাসী হিসেবে প্রতিদিনই নিত্য নতুন ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়, সঙ্গে সঙ্গে অভিজ্ঞতার ভান্ডারও বৃদ্ধি পেতে থাকে। প্রবাস জীবন শিখিয়ে দেয় কিভাবে আশেপাশে ঘটে যাওয়া অনেক কিছুকেই এড়িয়ে জীবনযুদ্ধে এগিয়ে যেতে হয়। নিরাশার অতল গহীনে হারিয়ে যাওয়া ছেলে মেয়েগুলো চোখের নোনাজল আর শরীরের ঘামকে উপেক্ষা করে বলতে শিখেছে “আমি ভাল আছি মা” তোমরা ভাল আছ-তো? এমনকি অনেক অখাদ্যকে অমৃত সুধা মনে করে খেয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তোলেন। খাওয়ার পর মায়ের শাড়ির আচঁলে মুখ মোছা ছেলেগুলোও এখন ধুলোমাখা ঘামের শার্টেই মুখ মোছে।

ঘর থেকে বের হলেই যাদের বাইক কিংবা রিকশার প্রয়োজন হতো, তাদেরকে এখন স্বচক্র যানে বা দ্বিচক্র যানে পায়ে হেঁটেই পাড়ি দিতে হয় অনেকটা পথ। নরম বিছানায় গা এলিয়ে দেওয়া ছেলেগুলো নরম বিছানার জায়গা কাঠের তক্তা দখল করে নিয়েছে। সকালে ঘুম থেকে উঠাতে যাকে ডাকা ডাকির অন্ত থাকত না, প্রবাসী হবার কারণেই তাকে সূর্যি মামার আগেই জেগে উঠতে হয়। শরীর খারাপ’কে পেছনে ফেলে রোদ বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে এগিয়ে যেতে হয় কর্মস্থলে।

এক সময় বন্ধুদের নিয়ে অস্থির জীবন যাপনে অভ্যস্থ ছেলেদের অন্য এক অস্থিরতায় পেয়ে বসে! তা হলো বিদেশে আসার ধার দেনা ফেরত দেওয়ার অস্থিরতা। প্রতিটি টাকা খরচ করতে তাকে দু’বার ভাবতে হয়। যে ছেলেগুলো দেশে কোন কাজই করেনি, প্রবাসে তাদেরকে একটি শুক্রবার কিংবা রোববার কাজ বন্ধ দিলে হতাশা পেয়ে বসে। এই ভেবে যে এ মাসে টাকা কম আয় হবে। অথচ তাদেরকে নিতান্তই ভুলে যেতে হয় যে সপ্তাহের ৬ দিনই ভোর ৪ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত কাজ করতে হয়।

ছাত্র রাজনীতির মাঠে বীরদর্পে প্রদক্ষিণ করা ছেলেগুলোই রাজনীতির ভেদাভেদ ভুলে, প্রতিহিংসাকে পেছনে ফেলে “বাংলাদেশি” পরিচয়ে এগিয়ে চলে। বিপদে ভাই বন্ধুর মত পাশে দাঁড়ায়। যদিও সব বাঙালি এক নয়!

সারা দিন কাজের শেষে রাত জেগে পড়াশোনা করতেও তারা ক্লান্ত হয় না, মনে হয় এ যেন জীবনান্দনের মত ক্লান্ত হয়ে ছুটেই চলেছে তারা, ভোর হতেই বেড়িয়ে পড়ে কর্মস্থলে। প্রবাসীদের এমন প্রচেষ্টা দেখে ঘড়ির কাঁটাও যেন ক্লান্ত হয়ে পড়ে!

তবে দিন শেষে প্রবাসীদের জন্য খুব মজার একটি বিষয় হচ্ছে শত কষ্ট, ব্যস্ততার মাঝেও খুশি হতে খুব বেশি কিছু প্রয়োজন হয় না। দেশ ভাল আছে, দেশে সবাই ভাল আছে, পরিবার পরিজনের হাসি মাখা মুখ ও কণ্ঠস্বরই ভরিয়ে দেয় প্রবাসীদের ক্লান্ত প্রাণকে।

প্রবাসে চরিত্রগুলো ভিন্ন হতে পারে কিন্তু তাদের জীবন যুদ্ধ, গল্পকথা মোটামুটি একই রকম। প্রতিটি জীবনই প্রবাসে এসে বদলে যায়, সজ্জিত হয় সম্পূর্ণ এক নতুন ধাচে। প্রবাস জীবন শিখায় জীবনকে উপলব্ধি করতে, শত বাধা বিপত্তি উপক্ষা করে, মারামারি কাটাকাটি’কে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে মস্তিকের জোড়ে কি ভাবে এগিয়ে যেতে হয়।

তবে একটা কথা পরিষ্কার করে বলতে চাই! প্রবাসে যারা থাকেন তারা হাড়ে হাড়ে টের পান জীবন কাকে বলে। অথচ দেশ থেকে পরিবার পরিজন বন্ধু-বান্ধবসহ অনেকেই অনেক কিছু দাবি করেন! তবে দাবি থাকটা স্বাভাবিক এবং সেই দাবি মেটানোটা আহামরি কিছুই নয়! কিন্তু চিরন্তন সত্য হলো আপনারা চোখে না দেখলে বুঝবেন না প্রবাসীরা বুকে পাথর রেখে কি ভাবে আপনাদের চাহিদা পূরণ করে যাচ্ছে আবার কখনো কখনো হিমশিমও খেতে হচ্ছে! কারণ অধিকাংশ প্রবাসীদের রোজগারটা তাদের হিসেবের। তারা পারত পক্ষে টাকা খরচ করতে চান না, কেন চান তা ওপরের কথাগুলোর দিকে নজর দিলেই বোঝা যাবে। যে পরিবারের সদস্যরা ভাবেন আপনাদের বাবা, কাকা, মামা, ভাই, বিদেশ থাকেন আপনারা কাজ কর্ম না করে চুল স্পাইক করে, দামি পারফিউম মেখে, মোটরসাইকেল নিয়ে ঘোরাঘুরি করেন আপনারা বুঝবেন না এই টাকাগুলো কত কষ্ট, কত নোনাজল আর ঘামের বিনিময়ে উপার্জিত হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশের ক্ষেত্রেই এক রকম ঘটনা বেশি হয়। পরিবার একজন বিদেশ থাকেন তার ওপর ঝুলে থাকেন বাকি সবাই। আমি মনে করি আপনাদের দাবিটা যতটুকু থাকে তার থেকে বেশি ভালবাসা দেন প্রবাসীদের।

বাংলাদেশ থেকে যারা প্রবাসে এসে কাজ করছেন দেশের রেমিট্যান্স বাড়াচ্ছেন। বাংলাদেশ সরকার তাদের কতটুকু মূল্যায়ন করে সেটা নিয়েও রয়েছে অনেক সংশয়! প্রবাসে ৫-৭ বছর কাজ করে যখন স্বদেশের টানে সাত সমুদ্র তের নদী পাড়ি দিয়ে যান। তখন এয়ারপোর্টে কত রকমের ঝামেলা পোহাতে হয় তা বলাই বাহুল্য আর যদি কম শিক্ষিত মানুষ হয় তা হলে তাঁর কি অবস্থা হয় তা নিশ্চয় আপনারা অনুমান করতে পারেন। এখানেই শেষ নয় কষ্টের রোজগার দিয়ে যখন পরিবার পরিজনদের জন্য কিছু জিনিসপত্র নিয়ে আসেন সেগুলো নিয়েও অনেক ঝামেলা পোহাতে হয় প্রতারণার শিকার হতে হয়। প্রশ্নটা হচ্ছে এই মানুষগুলোই দেশে ভাল কিছু করার সুযোগ না পেয়ে স্বদেশ ছেড়ে বিদেশ পাড়ি জমান, এবং যেখানে বাংলাদেশ সরকারের রয়েছে বিশাল অংকের আয়। তা হলে কেন তাদেরকে এত ঝামেলা ও প্রতারণার শিকার হতে হয়। বরং বাংলাদেশ সরকারের উচিত ছিল এই রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের ভালবাসার মালা পড়িয়ে গ্রহণ করা।

বাংলাদেশ সরকারের উদ্দেশ্যে বলব আপনারা কি জানেন মধ্যপ্রাচ্যে এই যোদ্ধারা মরুর বুকে ৪২ থেকে ৫০ ডিগ্রী তাপে সবুজ ঘাস ফলানোর কষ্ট, উঁচু উঁচু দালান তৈরি করার কষ্ট। হাড় কাঁপানো শীতে যোদ্ধারা কি ভাবে কাজ করে যায়। প্রবাসীরা নীরবে নিভৃতে স্বদেশকে ভালোবেসে বিদেশে কাজ করে যাচ্ছেন।

   

আমিরাতে মায়ের ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠান



তোফায়েল আহমেদ (পাপ্পু), সংযুক্ত আরব আমিরাত
ছবি: বার্তা ২৪.কম

ছবি: বার্তা ২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

মায়ের ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে 'মায়ের ভাষায় কথা বলি’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আঞ্চলিক ভাষাতে কথা বলা মানেই সংকীর্ণতা নয়, অনাধুনিকতা নয় বরং আঞ্চলিক ভাষার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে মানুষের আত্মপরিচয়।

বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ইউএই'র আয়োজনে রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে দেশটির শারজায় এই অনুষ্ঠানে দেশের বিলুপ্তপ্রায় আঞ্চলিক ভাষা তুলে ধরা ও বহির্বিশ্বে ভিনদেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাংলা পাঠদানকারী বাংলাদেশি শিক্ষকদের সম্মাননা দেওয়া হয়।

এই আয়োজনে ১০ জন বাংলাদেশি শিক্ষককে সম্মানিত করা হয়েছে। তারা দেশটিতে সর্বনিম্ন ৫ থেকে সর্বোচ্চ ৩৬ বছর পর্যন্ত বাংলাদেশ শিক্ষা বোর্ড ও সিবিএসই বোর্ডের অধীনস্থ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাংলা বিষয়ে পাঠদান করে আসছেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন অতিথিরা। 

সম্মাননা প্রাপ্তরা হলেন- অধ্যাপক নুরুন নাহার হুদা, রহিমা ইসলাম, সুমনা দাস, অধ্যাপক এস এম আবু তাহের, আবু তাহের মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ, নাসরীন সুলতানা, শেখ কানিজ-এ-ফেরদৌস,  রহিমা সেলিনা সিদ্দিকী, স্নিগ্ধা সরকার তিথী ও জুইঁয়েনা আক্তার। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দুবাইয়ের বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল বিএম জামাল হোসেন। প্রেসক্লাবের সভাপতি শিবলী আল সাদিকের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান জনির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পরিবেশ বিজ্ঞানী রেজা খান, বাংলাদেশ কনস্যুলেটের প্রথম সচিব (প্রেস) আরিফুর রহমান, শারজা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আহমেদ হোসাইন ও বাংলাদেশ সমিতি দুবাইয়ের  সিনিয়র সহ-সভাপতি ইয়াকুব সুনিক, বাংলাদেশ সমিতি শারজার সহ-সভাপতি মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন প্রমুখ।

এ সময় শারজাহ বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ শিক্ষা বোর্ড ও সিবিএসই বোর্ডের অধীন ১১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আমিরাতে ৩০ বছর বাংলা বিষয়ে শিক্ষকতা শেষে অবসর যাওয়া অধ্যাপক নুরুন নাহার হুদা এই সম্মাননা পেয়ে বলেন, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাতে নতুন এক দৃষ্টান্ত সৃষ্টি হলো। এই প্রথম শিক্ষকরা একই মঞ্চে দাঁড়ানোর সুযোগ হলো। এর আগে কোন সামাজিক, রাজনৈতিক বা সেবামূলক সংগঠন বাংলাদেশি শিক্ষকদের আলাদাভাবে সম্মান জানায়নি। এই ভালোবাসা আমাদের কাছে অনেক মূল্যবান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেনারেল বিএম জামাল হোসেন বলেন, ‘মাতৃভাষার জন্য জীবন উৎসর্গ করা জাতির কাছে ভাষা গুরুত্বপূর্ণ হওয়াটাই স্বাভাবিক। আর এই ভাষা দূরপরবাসে বেড়ে ওঠা শিক্ষার্থীদের কাছে যারা পৌঁছে দিচ্ছেন তাদের সম্মান জানিয়ে বাংলাদেশ প্রেসক্লাব একটি মহৎ কাজ করেছে৷ তা ছাড়া আঞ্চলিক ভাষায় যে বৈচিত্র্য তারা তুলে ধরেছে এটিও প্রশংসনীয় কাজ।’

এর আগে অনুষ্ঠানে বাংলা ভাষা চর্চায় উৎসাহিত করতে ও আঞ্চলিক ভাষার মর্যাদা রক্ষায় বিশেষ পর্ব পরিচালনা করা হয়। যেখানে দেশের আটটি বিভাগের আঞ্চলিক ভাষাসহ প্রায় বিলুপ্ত উপভাষায় নিজ অঞ্চলের ভাষার বৈচিত্র্য ও আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন প্রবাসীরা। এতে ঢাকার কুট্টি ভাষায় রেজা খান, চাটগাঁইয়া ভাষায় মোস্তফা মাহমুদ, সিলেটি ভাষায় হাজী শফিকুল ইসলাম, রংপুরী ভাষায় স্নিগ্ধা সরকার তিথী, মোমেনশিঙ্গা ভাষায় উত্তম কুমার সরকার, বরিশাইল্যা ভাষায় সাথী আক্তার প্রিয়া, খুলনাইয়া ভাষায় শাহীদ ইসলাম, বরেন্দ্রী উপভাষায় সানজিদা আঞ্জুম শিমুল ও নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষায় কামাল হোসাইন সুমন নিজের অঞ্চলকে তুলে ধরেন। 

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন কবি জামাল হোসেন, আবিদা হোসেন, শিবলী আল সাদিক, এস এম শাফায়েত, রাহবার আবদুল্লাহ শিবলী, রুহিন হোসেন ও সাকিয়া সিদ্দিকা জেরিন।

;

আমিরাতে ‘প্রবাসের ছিন্নপত্র’ বইয়ের প্রকাশনা উৎসব



তোফায়েল পাপ্পু, সংযুক্ত আরব আমিরাত (দুবাই) থেকে
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৫২ জন প্রবাসীর লেখা ‘প্রবাসের ছিন্নপত্র’ বইয়ের প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুবাইয়ে প্রকাশনা উৎসবে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কনস্যুলেট দুবাই ও উত্তর আমিরাতের কনসাল জেনারেল বিএম জামাল হোসেন, বিশেষ অতিথি ছিলেন কনস্যুলেট লেডিস গ্রুপের সভাপতি আবিদা হোসেন।

এসময় বক্তারা অভিমত প্রকাশ করে বলেন, প্রবাসের মাটিতে একসঙ্গে এতো সংখ্যক লেখককে একসঙ্গে করতে পেরেছে একটি বই। চিঠির সংকল ‘প্রবাসের ছিন্নপত্র’র মাধ্যমে অর্ধশতাধিক প্রবাসীর লেখা প্রকাশ করায় বই পড়ুয়াদের সংগঠন আরবান রিডার্স কর্তৃপক্ষকেও ধন্যবাদ জানান বক্তারা৷


আরবান রিডার্সের মুখপাত্র নওশের আলী বলেন, আরবান রিডার্স কোনো সংগঠন বা প্রতিষ্ঠান নয় কেবল একটি উদ্যোগের নাম৷ আমরা 'দীর্ঘ কয়েকবছর ধরে প্রবাসীদের বই পড়ার পাশাপাশি লেখালেখিতে উৎসাহ দিয়ে আসছি। দুবাইয়ের প্রথম ও দ্বিতীয় বাংলাদেশ বইমেলায় আরবান রিডার্স সক্রিয় অংশগ্রহণ করে একাধিক বই প্রকাশ করে। তারই ধারাবাহিকতায় এবার অমর একুশে বইমেলায় ‘‘প্রবাসে ছিন্নপত্র’’ প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।’

চিঠির সংকলন ‘প্রবাসের ছিন্নপত্র’ কামরুল হাসান জনির সম্পাদনায় প্রকাশ হয়েছে সাহিত্যদেশ প্রকাশনী থেকে। বইটিতে প্রবাসীদের মধ্যে ৫২ জন লেখক অংশগ্রহণ করেছেন। এরমধ্যে নারী ১২ জন, পুরুষ ৪০ জন। ঢাকার অমর একুশে বই মেলায় সাহিত্যদেশ ৩৪০-৩৪১ স্টলে বইটি পাওয়া যাচ্ছে।

;

দুবাইয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন



দুবাই করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, দুবাই (সংযুক্ত আরব আমিরাত)
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক শহর দুবাইয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে।

একুশের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশ কনস্যুলেট দুবাই’র প্রাঙ্গণে আমিরাতের স্থানীয় সময় রাত ১২টা ১ মিনিটে অস্থায়ী শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন দুবাই ও উত্তর আমিরাতের কনস্যুল জেনারেল বিএম জামাল হোসেন। এ সময় কনস্যুলেটের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এরপর একে একে বাংলাদেশ কনস্যুলেট লেডিস গ্রুপ, বাংলাদেশ উইমেন এসোসিয়েশন, দুবাইয়স্থ বাংলাদেশ জনতা ব্যাংক, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, বঙ্গবন্ধু পরিষদসহ দুবাই ও উত্তর আমিরাতের ৬টি প্রদেশের ৫০টির অধিক সমাজিক-সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে।

বাংলাদেশ কনস্যুলেট দুবাই ও উত্তর আমিরাতের কনসাল জেনারেল বিএম জামাল হোসেন জানান, একুশের চেতনা বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়ুক এটিই আমাদের প্রত্যাশা। ২১শে ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন দিন। একুশের চেতনার সিঁড়ি বেয়ে ১৯৭১-এ উপনীত হয়েছি এবং পৃথিবীর ইতিহাসে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ আমরা পেয়েছি।

এদিকে ২১শে ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টায় কনস্যুলেটের কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিতিতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করেন বাংলাদেশ কনস্যুলেট দুবাই ও উত্তর আমিরাতের কনসাল জেনারেল বিএম জামাল হোসেন। দিনটি উপলক্ষে কনস্যুলেট জেনারেলে অফিসে আলোচনাসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

;

দালাল ছাড়াই বিদেশ; 'আমি প্রবাসী'র সুফল পাচ্ছে বিদেশ গমনেচ্ছুরা



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
দালাল ছাড়াই বিদেশ; 'আমি প্রবাসী'র সুফল পাচ্ছে বিদেশ গমনেচ্ছুরা

দালাল ছাড়াই বিদেশ; 'আমি প্রবাসী'র সুফল পাচ্ছে বিদেশ গমনেচ্ছুরা

  • Font increase
  • Font Decrease

 

বিদেশগামীদের ভোগান্তির কথা সবার জানা। অসহনীয় এই ভোগান্তি কমিয়ে আনতে পুরো প্রক্রিয়া ডিজিটালাইজেশনে কাজ করে যাচ্ছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)। ২০২১ সালের শেষের দিকে বিদেশগামীদের সেবা দিতে তৈরি করা হয় আমি প্রবাসী নামের একটি অ্যাপ। এটি ব্যবহার করে সহজেই যে কেউ বিদেশে কর্মসংস্থান খুঁজে বের করাসহ বিদেশ যাওয়ার পুরো প্রক্রিয়া ঘরে বসে সম্পন্ন করতে পারছেন। স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিদেশ গমনেচ্ছুদের সেবা ডিজিটালাইজড করার মাধ্যমে অভিবাসন খাত এখন পরিণত হচ্ছে স্মার্ট সেক্টরে।

মাত্র তিন বছরেই দেশের সবচেয়ে বেশি ব্যবহারকারী অ্যাপের কাতারে জায়গা করে নিয়েছে আমি প্রবাসী। এরই মধ্যে অ্যাপটি ব্যবহার করছেন ৫২ লাখেরও বেশি মানুষ। এ সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এই অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করে ঘরে বসেই এখন বিএমইটির ডাটাবেজে রেজিট্রেশন করা সম্ভব হচ্ছে। আর এখন পর্যন্ত এই সেবা নিয়েছেন ২৮ লাখেরও বেশি বিদেশ গমনেচ্ছু ব্যক্তি। আগে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে এই সেবা নিতে যে কোনো জনশক্তি কার্যালয়ে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হতো। এখন আমি প্রবাসী অ্যাপটি ব্যবহার করে ঘরে বসেই সেবা নিচ্ছেন বিদেশগমনেচ্ছুরা।

এ প্রসঙ্গে দুবাই ফেরত প্রবাসী মুরাদ হাসান বলছিলেন তার অভিজ্ঞতার কথা। তিনি বলেন, ‘প্রথমবার বিদেশ যাইতে অনেক কষ্ট করতে হইছে। এজেন্টের মাধ্যমে বিদেশ যাওয়ার সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলেও রেজিস্ট্রেশন, ট্রেইনিংয়ের সিডিউল নেওয়া, সার্টিফিকেট উত্তোলন, স্মার্ট কার্ডসহ বিদেশ যাওয়ার প্রত্যেকটা ধাপ এবং প্রক্রিয়া ম্যানুয়াল থাকায় অনেক ঝামেলা পোহাতে হতো। ভোগান্তি হতো অনেক। ব্যয় হতো অতিরিক্ত অর্থও। তবে এখন এসব প্রক্রিয়া ডিজিটাল হওয়ায় ভোগান্তি কমেছে।’

করোনা মহামারিতে সারা বিশ্বের অর্থনীতি যখন স্থবির হয়ে পড়ে। বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনীতিও থমকে যায়। আর এই সময় ভরসা হয়ে উঠে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স। এমতাবস্থায় প্রবাসী আয় বাড়াতে তৎপর হয় সরকার। বিদেশ গমনেচ্ছুদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এবং সুশৃংখলভাবে করোনার টিকা পেতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আমি প্রবাসী অ্যাপ।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বিদেশগামীদের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা চালু করার সিদ্ধান্ত নেয়। মন্ত্রণালয় নিবন্ধিত কর্মীদের বিএমইটি নম্বর করোনা টিকার জন্য সুরক্ষা অ্যাপে পাঠিয়ে কর্মীদের অগ্রাধিকারভিত্তিতে করোনার টিকা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। পরে পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন সরকার অ্যাপটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়। এরপর আমি প্রবাসী অ্যাপ ব্যবহার করে ১৭ লাখেরও বেশি বিদেশগামী করোনা টিকার রেজিস্ট্রেশন করেন। এর ফলে কোনো রকম ভোগান্তি ছাড়াই বিদেশগামীরা সেবা গ্রহণ করেন।

করোনা পরবর্তী সময়ে বিএমইটির ডিজিটাল সার্ভিস প্রোভাইডার হিসেবে বিদেশগমনেচ্ছুদের হয়রানি ও ভোগান্তি কমাতে বিদেশ যাত্রার সব সরকারি প্রক্রিয়াগুলো ডিজিটালাইজেশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে আমি প্রাবাসী প্রাথমিকভাবে বিএমইটি রেজিস্ট্রেশন, প্রিডিপার্চার ওরিয়েন্টেশন (পিডিও), ট্রেনিং এবং বিএমইটি QR Code সম্বলিত স্মার্ট কার্ডসহ চারটি সেবা ডিজিটালাইজেশনের মধ্য দিয়ে অভিবাসনের ডিজাটালাইজেশন শুরু করে অ্যাপটি। বিএমইটির তথ্যমতে, এ পর্যন্ত ২০ লাখের বেশি পিডিও অন্তভূক্তি হয়েছে এই অ্যাপের মাধ্যমে।

অভিবাসন বিশ্লেষকদের মতে, আগে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে পিডিওতে অংশ নেওয়ার জন্যও নানা ভোগান্তিতে পড়তে হতো। এই সেবাটি নিতে বিদেশগমনেচ্ছুদের একদিন পিডিও শিডিউল চেক করতে আসতে হতো, আরেক দিন ভর্তি, তারপর কোর্সে অংশগ্রহণ এবং সর্বশেষ সার্টিফিকেট উত্তোলন। এসব প্রক্রিয়াতেই শুধু নষ্ট হতো পাঁচ কর্মদিবস। সেইসঙ্গে অতিরিক্তি অর্থও। আর এখন পিডিওর ডিজিটালাইজেশনের ফলে অনলাইনেই সেবাগ্রহীতা শিডিউল দেখে অনলাইনে পেমেন্ট করে সরাসরি পিডিও সেশনে ভর্তি হতে পারছেন। আবার কোর্স শেষে সার্টিফিকেটও মিলছে অনলাইনেই। এর ফলে বিদেশ গমনেচ্ছুরা এখন যেমন সময় ও ভোগান্তি থেকে বাঁচছেন, তেমনি বাচঁছেন অতিরিক্ত অর্থের অপচয় থেকেও।

কর্মকর্তাদের ফাইল জট কমাতে ও রিক্রুটিং এজেন্সিদের সেবাগুলোও নিরবিচ্ছিন্ন করতে বিদেশগমনেচ্ছুদের পাশাপাশি ডিজিটালাইজেশনের আওতায় আনা হয়েছে রিক্রুটিং এজেন্সিদের সার্ভিসগুলোও। শুরুতে এজেন্সিগুলোর ডিজিটালাইজেশনে কিছুটা অনীহা থাকলেও সময়ের ব্যবধানে প্রায় দুই হাজারেরও বেশি রিক্রুটিং এজেন্সি যুক্ত হয়েছে আমি প্রবাসীর স্মার্ট সার্ভিস সিস্টেমে। অ্যাপে গিয়ে যাবতীয় কাগজপত্রাদিসহ একজন বিদেশগামীকে অনলাইন ক্লিয়ারেন্সের জন্য আবেদন করতে হয়। এরপর কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের সঙ্গে সঙ্গেই অভিবাসন প্রত্যাশীরা তাদের মোবাইলে স্মার্ট কার্ডটি পিডিএফ আকারে ডাউনলোড করতে পারবেন অথবা প্রিন্টও করতে পারবেন। সেইসঙ্গে কিউআর কোডের মাধ্যমে স্মার্ট কার্ডটি দেখাতে পারবেন ইমিগ্রেশনসহ বিশ্বের যে কোনো স্থানে। এর ফলে স্মার্ট কার্ডটি হারিয়ে বা নষ্ট হয়ে যাওয়ার কোনো ভয়ও থাকছে না।

আমি প্রবাসীর কর্মকর্তা, মোঃ সাইফ-উল-আলম জানান, ‘অ্যাপটি ব্যবহারে বিদেশগমনেচ্ছুদের চেয়েও বেশি সুবিধা পাবেন রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো। কারণ, আমাদের সিস্টেমে রিক্রুটিং এজিন্সিগুলো বিএমইটিতে না এসেও অনলাইনে তাদের ক্লায়েন্টদের ফাইল পুট-আপের সুযোগ রয়েছে। এ কারণে ফাইল নিয়ে তাদের আর কোনো দপ্তরে দপ্তরে ঘুরতে হয় না। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোগান্তি ও অতিরিক্তি অর্থ খরচ হয় না। তিনি আরও বলেন, আগে শুধু ম্যানুয়ালি যখন বিএমইটি ক্লিয়ারেন্সের জন্য ফাইল জমা পড়তো, সেখানে লোকবলের ঘাটতি থাকায় সময়মতো অনেকেরই ক্লিয়ারেন্স পেতে সমস্যা হতো। এবার ডিজিটালাইজেশনের কারণে অনলাইনে কিউআর কোডের মাধ্যমে মিলছে বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স।‘

নারী কর্মীদের বিদেশ যাত্রা নিরাপদ করতে ভূয়সী প্রশংসা কুড়িয়েছেন এই অ্যাপটি। এ ই প্রসঙ্গে আমি প্রবাসীর কর্মকর্তারা বলেন, একটা সময় ভুয়া সার্টিফিকেট দিয়ে নারীদের বিদেশ পাঠানো হতো। প্রশিক্ষাণ ছাড়া বিদেশ যাওয়া যাদের বেশির ভাগকেই পড়তে হতো বিপদে। তবে এখন, নারীদের বিদেশ যাত্রা নিরাপদ করতে সরকার নারী কর্মীদের বিএমইটি ছাড়পত্র ক্লিয়ারেন্সের আবেদন আমি প্রাবসীতে বাধ্যতামুলক করেছে। ফলে এখন কোন অসাধু চক্র ভুয়া সার্টিফেকেট দিয়ে নারীদের বিদেশে পাঠাতে পারছেনা।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞগণ অ্যাপটিকে সেইফ মাইগ্রেশন বা স্মার্ট মাইগ্রেশন নাম দিয়ে ডিজিটাল QR Codeভিত্তিক স্মার্ট কার্ড প্রবর্তনকে যুগান্তকারী সংযোজন হিসেবে অবিহিত করেছেন। এর মাধ্যমে একদিকে কার্ড প্রিন্টিংয়ের অতিরিক্তি ঝামেলা কমেছে। শুধুমাত্র কার্ড প্রিন্টিং এড়ানোর কারণেই সরকার এখান থেকে লাভবান হচ্ছে। এছাড়াও ভুয়া স্মার্ট কার্ড বা জালিয়াতির মাধ্যমে ক্লিয়ারেন্স নেওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়েছে। এছাড়াও কাজে এসেছে স্বচ্ছতা। সবচেয়ে গুরুতদ্বপূর্ন বিষয় হচ্ছে এই অ্যাপ নির্মাণে কিন্তু সরকারের কোন টাকাই খরচ করতে হয়নি। উল্টো আমাদের কাগজ প্রিন্ট এবং প্লাস্টিকের স্মার্ট কার্ড প্রিন্টিংয়েরও খরচ বেচে গেছে। কেননা এখন আমি প্রাবাসী অ্যাপের মাধ্যমে QR Code ভিত্তিক স্মার্ট কার্ড বিতরণের ফলে এই প্রিন্টিং বাবদ এখন আর কোন কোন টাকা খরচ হয়না সরকারের।

গত বছরের জুনে অনলাইনে বিএমইটি ক্লিয়ারেন্সের ফিচারটি চালুর পর থেকেই ব্যাপক সাড়া পড়েছে। বিএমইটির তথ্যমতে, এরই মধ্যে চার লাখেরও বেশি QR Code ভিত্তিক ইমিগ্রেশন স্মার্ট কার্ড ইস্যু করা হয়েছে। এর ফলে ৩০০ শতাংশ সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়াও টেনিংয়ে অংশ না নিয়ে ভুয়া সার্টিফিকেট দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে বিদেশ যাওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়েছে। এর ফলে একদিকে বিদেশে গিয়ে শ্রমিকদের প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা কমে গেছে। অন্যদিকে, বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছেও বাংলাদেশি শ্রমিকদের হারানো আস্থা ফিরে এসেছে। এরই মধ্যে আড়াই লাখেরও বেশি কর্মী বিভিন্ন ট্রেনিং সেন্টারের বিভিন্ন কোর্সে ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় তালিকাভুক্ত হয়েছেন।

বর্তমানে প্রায় ৫ হাজার নতুন চাকরির খোঁজ মিলেছে। যে কেউ চাইলেই নিজের চাকরি নিজেই খুঁজে অথবা নিজের সংগৃহীত ভিসার প্রসেসিং বা সিংগেল ভিসার প্রসেসিং ওয়ানস্টপের মাধ্যমে করতে পারবেন। বিএমইটির ওয়ানস্টপ সার্ভিসের ডিজিটালেইজেশনের ফলে এখন যে কেউ চাইলেই নিজের ভিসার যাবতীয় কার্যক্রম ঘরে বসে অনলাইনেই সম্পন্ন করতে পারবেন। সেইসঙ্গে একজন ব্যক্তি বিদেশ যাওয়ার আগে তার জব বা তার ভিসা সঠিক কিনা অথবা তিনি যে কোম্পানিতে যাচ্ছেন সেটির তথ্য যাচাই করতে পারছেন।

সরকারের স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের ঘোষণা অনুযায়ী স্মার্ট মাইগ্রেশন বা স্মার্ট অভিবাসন প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন আমি প্রবাসীর কো-ফাউন্ডার এবং সিইও নামির আহমেদ। তিনি বলেন, আমাদের এই সেক্টর শতভাগ ডিজিটাল সেবার আওতায় নিয়ে আনতে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আমরা ডিজিটাল সত্যায়ন চালু করছি। এর ফলে আর কোনো কর্মী বিদেশে গিয়ে প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে না। সেইসাথে সরকারও ভিসা এটাস্টেশন বাবদ নির্ধারিত রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবে না।

তিনি আরও বলেন, বিদেশ যাওয়ার জন্য যে কেউ চাইলেই আমাদের অ্যাপের মাধ্যমে ঘরে বসে বিদেশ যাত্রার সব কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবেন অনলাইনে। সেক্ষেত্রে কিছু কিছু সার্ভিসের বিনিময়ে নামমাত্র একটা ফি নির্ধারণ করা আছে। এছাড়াও ঘরে বসে বিএমইটি ফর্ম পুরণ করে বিকাশ/নগদ বা মোবাইলে ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পেমেন্ট করে তার রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন।

সরকার যখন ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করে যাচ্ছে, ঠিক এই মুহুর্তে একটি মহল ডিজিটাল অভিবাসন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করতে এবং সরকারের স্মার্ট বাংলাদেশের অপরিহার্য অংশ স্মার্ট অভিবাসন প্রতিষ্ঠায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিজিটালাইজেশনের ফলে ভুয়া সনদ বা ভুয়া ভিসায় ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আগের ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে একজন কর্মকর্তা চাইলেই ভুয়া সনদ এমনকি ভুয়া ভিসাতেও ছাড়পত্র দেওয়ার সুযোগ পেতেন। এ কারণেই কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর অবৈধ আয় বন্ধের আশঙ্কায় নানাবিধ প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে ডিজিটাল সেবা ব্যাহত করেছে বলে অভিযোগ করেছেন ডিজিটাল সেবাগ্রহীতারা। তারা বলছেন, কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারিই এবং সদিচ্ছাই পারবে সরকারের স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের সহযাত্রী স্মার্ট অভিবাসন বা অভিবাসনে ডিজিটালাইজেশন করতে।

;