ঝুঁকি এড়াতে সব হাসপাতালের লিফট সেফটি পরীক্ষার নির্দেশ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ঝুঁকি এড়াতে দেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের জরুরি সেবা, লিফট সেফটি সিস্টেম ও সার্ভিস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম পরীক্ষা-নিরীক্ষার নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

সোমবার (১৩ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আয়োজিত সারাদেশের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের অংশগ্রহণে এক জরুরি ভিডিও কনফারেন্সে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কনফারেন্সে শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লিফট দুর্ঘটনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এরপর হাসপাতাল প্রধানদের জরুরি সেবা, লিফট ও সার্ভিস ম্যানেজমেন্টসহ বিভিন্ন বিষয়ে দিক নির্দেশনা দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম।

ভিডিও কনফারেন্সে আলোচ্য সূচি ও সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. মঈনুল আহসান জানান, ভিডিও কনফারেন্সে বিভিন্ন বিষয়েই আলোচনা করা হয়েছে। এরমধ্যে অন্যতম হলো শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লিফট দুর্ঘটনা। এর পরিপ্রেক্ষিতে দেশের হাসপাতালগুলোকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের জরুরি ভিত্তিতে দেশের সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের সব ইলেকট্রো মেকানিক্যাল যন্ত্রপাতি পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে। এছাড়াও সব লিফট অপারেটরদের হাজিরা প্রতিদিন পরীক্ষা করা ও তাদের যোগ্যতা পুনরায় পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে। এমনকি প্রতিটি হাসপাতালকে দ্রুততম সময়ে লিফটের সেফটি সিস্টেম পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে।

ডা. মঈনুল আহসান বলেন, আজকের কনফারেন্সে দেশের প্রতিটি হাসপাতালে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিতকরণের বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সব লিফট পরীক্ষা করার জন্য পিডব্লিউডিকে চিঠি দিতে বলা হয়েছে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবির, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. মঈনুল আহসান, পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. হারুন-অর- রশীদসহ আরও অনেক।

   

২০৩০ সালের মধ্যে যক্ষ্মা দূর করতে সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন বলেছেন, যক্ষ্মা এমন একটা ব্যাধি, যা শুধু আমাদের দেশ নয়, বিশ্ব সম্প্রদায়কে প্রভাবিত করছে। এ যক্ষ্মা দীর্ঘকাল ধরে জনস্বাস্থ্যের জন্য লড়াইয়ে একটি শক্তিশালী প্রতিপক্ষ।

রোববার (২৩ জুন) ঢাকায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা গ্লোবাল ফোরামের যক্ষ্মারোগের অবসান ঘটাতে ‘মাল্টিসেক্টরাল ও মাল্টিস্টেকহোল্ডারদের সম্পৃক্ততা এবং জবাবদিহিতার অগ্রগতি’ শীর্ষক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বিশ্বে প্রতিবছর ১০ দশমিক ৬ মিলিয়ন মানুষ যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়। ২০২৩ সালে যক্ষ্মা বিষয়ে জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিশ্ব নেতৃবৃন্দ যক্ষ্মা প্রতিরোধের বিষয়ে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা এগিয়ে নিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যক্ষ্মারোগ দূরীকরণে মূল কারণগুলি মোকাবিলা করা এখন আগের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন ২০৩০ সালের মধ্যে যক্ষ্মা দূর করার লক্ষ্যের প্রতি সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন, যা এসডিজি, ডব্লিউএইচও (WHO)-এর যক্ষ্মা দূরীভূত করার কৌশল এবং যক্ষ্মার ওপর জাতিসংঘের উচ্চস্তরের বৈঠকের রাজনৈতিক ঘোষণায় অন্তর্ভুক্ত একটি লক্ষ্য। বর্তমান সরকারের জ্ঞান, কৌশল ও সম্মিলিত ইচ্ছাকে একসঙ্গে কাজে লাগিয়ে এ লক্ষ্যকে বাস্তবে পরিণত করা সম্ভব হবে।

এছাড়া, অনুষ্ঠানে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক ড. সায়মা ওয়াজেদ ভিডিও বার্তায় যক্ষ্মারোগ সম্পর্কে তার মূল্যবান বক্তব্য প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. রোকেয়া সুলতানা, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম, বিশ্বস্বাস্থ্ সংস্থার ডিরেক্টর টি কাসিভা ও বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি ডা. বর্ধন জং রানা, প্রমুখ।

;

রাসেল’স ভাইভার দংশন

চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তোলা সম্ভব: স্বাস্থ্যমন্ত্রী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: বার্তা২৪

ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সামন্ত লাল সেন বলেছেন, সর্পদংশনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, রোগীকে দ্রুত ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া। অনতিবিলম্বে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে এক্ষেত্রে যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তোলা সম্ভব।

তিনি আরো বলেন, সর্পদংশনের বিষয়ে জনগণকে সচেতন করা খুবই জরুরি। রোগীকে হাসপাতালে আনতে যাতে দেরি না হয়, সে বিষয়ে আমাদের সবাইকে সচেতন ও উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

শনিবার (২২ জুন) অনলাইন প্ল্যাটফর্ম জুমে সারাদেশের সিভিল সার্জন, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, বিভাগীয় পরিচালক, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকসহ দেশের সব স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক সভায় মিলিত হন।

এ সময় তিনি সবাইকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ ও কর্মকর্তাদের বেশ কিছু জরুরি নির্দেশনা প্রদান করেন।

রাসেল’স ভাইপার স্থানীয়ভাবে ‘চন্দ্রবোড়া’ বা ‘উলুবোড়া’ সাপ নামেও পরিচিত। উপমহাদেশের প্রধান চারটি বিষধর সাপের একটি চন্দ্রবোড়া, ছবি- সংগৃহীত

স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশের বিভিন্ন জেলার সিভিল সার্জন ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক, বিভাগীয় পরিচালকদের সঙ্গে সর্পদংশন ও রাসেল'স ভাইপার নিয়ে কথা বলেন এবং সামগ্রিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। সেইসঙ্গে দেশের সব হাসপাতালে পর্যাপ্ত এন্টিভেনম মজুত রাখার এবং কোনো অবস্থাতেই এন্টিভেনমের স্টক খালি না থাকার নির্দেশ দেন তিনি।

ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, রাসেল'স ভাইপার নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে আমি জনগণকে বলবো, আপনারা আতঙ্কিত হবেন না। রাসেল'স ভাইপারের যে এন্টিভেনম, সেটা আমাদের হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত মজুত আছে। আমি পরিষ্কার নির্দেশ দিয়েছি, কোনো অবস্থাতেই এন্টিভেনমের ঘাটতি থাকা যাবে না।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সর্পদংশনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, রোগীকে দ্রুত ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া। অনতিবিলম্বে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে এক্ষেত্রে যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তোলা সম্ভব।

এ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করার জন্য প্রচার প্রচারণার ওপর জোর দেন তিনি। এছাড়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী সভায় সিভিল সার্জন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীদের নিজ নিজ এলাকার সংসদ সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করারও তাগিদ দেন।

সভায় স্বাস্থ্যসেবা স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো.জাহাঙ্গীর আলম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক প্রফেসর ডা. রুবেদ আমিনসহ স্বাস্থ্য বিভাগের বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, রাসেল’স ভাইপার স্থানীয়ভাবে ‘চন্দ্রবোড়া’ বা ‘উলুবোড়া’ সাপ নামেও পরিচিত। চন্দ্রবোড়া বা উলুবোড়ার বৈজ্ঞানিক নাম- Daboia russelii। ভাইপারিডি পরিবারভুক্ত ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম বিষধর সাপ এবং উপমহাদেশের প্রধান চারটি বিষধর সাপের একটি চন্দ্রবোড়া।

১৭৯৭ সালে জর্জ শ এবং ফ্রেডেরিক পলিডোর নোডার প্যাট্রিক রাসেল ১৭৯৬ সালে ‘অ্যান অ্যাকাউন্ট অব ইন্ডিয়ান সারপেন্টস, কালেক্টেড অন দ্য কোস্ট অব করোমান্ডেল বইয়ে ‘চন্দ্রবোড়া’ সম্পর্কে লিখেছিলেন এবং তার নাম অনুসারে এটি রাসেল’স ভাইপার নামেও পরিচিত।

;

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় চাই বাস্তবসম্মত ও বিজ্ঞানভিত্তিক কৌশল



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাস্তবভিত্তিক ও বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে তামাকের ক্ষতিহ্রাস কৌশল অবলম্বন করতে হবে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও নীতি নির্ধারকেরা।

সোমবার (২৭ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘পলিসি ফর প্রোগ্রেস: টুওয়ার্ডস হার্ম রিডাকশন’ গোলটেবিল আলোচনায় এসব তথ্য তুলে ধরেন বক্তারা।

নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। আলোচনায় ধূমপান ছাড়তে উদ্ভাবনী কৌশল গ্রহণের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য খাতে কার্যকর ও টেকসই পরিবর্তন আনার ব্যাপারে জোর দেন তারা। আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন দেশি-বিদেশি শিল্প, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের নীতি প্রণেতা ও বিশেষজ্ঞরা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, টোব্যাকো হার্ম রিডাকশন (টিএইচআর) একটি জনস্বাস্থ্য কৌশল; যার লক্ষ্য হলো প্রচলিত তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের কারণে সৃষ্ট স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি কমানো এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে তুলনামূলক কম ক্ষতিকর বিকল্পের ব্যবহার নিশ্চিত করা।

ক্ষতিহ্রাসের ধারণা অনুযায়ী, ধূমপান পুরোপুরি বর্জন করা প্রত্যাশিত লক্ষ্য হলেও তা হঠাৎ করে অর্জন করা সম্ভব নয়। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া এবং এখানে প্রয়োজন সরকারি- বেসরকারি খাতের সমন্বয়। সেক্ষেত্রে তুলনামূলক কম ক্ষতিকারক বিকল্প উপায় গ্রহণের মাধ্যমে ধীরে ধীরে ধূমপানের অভ্যাস ত্যাগ করা কার্যকর পদ্ধতি। একাধিক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় টিএইচআর-এর ইতিবাচক দিক তুলে ধরা হয়েছে। যুক্তরাজ্য, নিউজিল্যান্ডসহ একাধিক দেশ টিএইচআর গ্রহণের মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমিয়ে এনেছে।

হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও গ্রিসের পাত্রাস বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের রিসার্চ ফেলো ডা. কনস্টান্টিনোস ফার্সালিনোস বলেন, ধূমপানের ক্ষতিহ্রাসে ভেপিংসহ অন্যান্য কুইটিং টুলস-এর সহযোগিতা নেওয়া উচিত। তুলনামূলক কম ক্ষতিকর বিকল্প ব্যবহারে কমে আসবে ক্ষতির হার। একই সঙ্গে ভেপিংয়ের মতো বৈপ্লবিক একটি প্রযুক্তিক বিষয় নিয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক ও বাস্তবসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নিলে জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তায় ব্যাপকহারে সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসান বলেন, দীর্ঘদিনের অভ্যাস ত্যাগ করা বেশ কষ্টকর। বিশেষ করে ধূমপানের অভ্যাস হঠাৎ করেই বন্ধ করা যায় না। তামাক ছাড়ার পণ্যগুলোর (কুইটিং টুলস) মাধ্যমে ধীরে ধীরে আসক্তি পুরোপুরি ত্যাগ করা যায়।তিনি আরও বলেন, টিএইচআর বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নীতি নির্ধারকদের বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন।

বক্তারা মনে করেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি রাজস্ব বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখতে পারে ভেপিং। একে নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে এলে রাজস্ব আয়ের নতুন উৎস হিসেবে এর আবির্ভাব হতে পারে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক সদস্য আবদুল মান্নান শিকদার বলেন, ‘ধূমপানের হার কমিয়ে আনলে কমে যাবে ধূমপানের কারণে চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যয়ও। পাশাপাশি, টিএইচআর কৌশল বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজস্ব আয়ও বাড়ানো সম্ভব।’ তিনি বলেন, ‘টিএইচআরকে রেগুলেশনের মধ্যে নিয়ে আসা দরকার। এ নিয়ে স্টেকহোল্ডারদের সাথে কথাবার্তা বলতে হবে।

বক্তাদের মতে, দেশের চলমান অগ্রগতি বজায় রাখতে ও আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও সামাজিক নীতি প্রণয়নে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ জরুরি। ক্ষতিহ্রাস সহায়ক পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা না দিয়ে যথাযথ নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর মাধ্যমে তা গ্রহণ করা যেতে পারে। এতে একদিকে যেমন লাখ লাখ ধুমপায়ী সিগারেট ছাড়তে উৎসাহিত হবে, তেমনি রাজস্বের নতুন খাত তৈরি হবে।

এ ব্যাপারে পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের উপদেষ্টা আসিফ ইব্রাহিম বলেন, যুক্তরাজ্য, নিউজিল্যান্ড ,সুইডেনসহ কয়েকটি দেশ ধূমপানের হার কমাতে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা নিয়েছে। বৈজ্ঞানিক গবেষণাকে প্রাধান্য দিয়ে যৌক্তিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যার সুফলও পেয়েছে এসব দেশ। জনস্বাস্থ্যের উন্নতি করতে বাংলাদেশকে এসব উদাহরণ আমলে নিতে হবে। বিশেষ করে নীতি প্রণয়নে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের এসব দিক বিবেচনায় রাখা জরুরি।

;

দেশে প্রাপ্তবয়স্কদের ২৫ ভাগ উচ্চ রক্তচাপে ভুগে



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে শতকরা ২৫ ভাগ মানুষ উচ্চ রক্তচাপে ভুগে থাকে। তবে এদের মধ্যে শতকরা প্রায় ৫০ ভাগই জানেন না যে, তাদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে।

সোমবার (২৭ মে) ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট মিরপুর অডিটোরিয়ামে এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

আরও বলেন, উচ্চ রক্তচাপ একটি নিরব ঘাতক। হৃদরোগ, স্ট্রোক, কিডনিসহ বিভিন্ন জটিল রোগের জন্য উচ্চ রক্তচাপ একটি অন্যতম এবং মারাত্মক ঝুঁকি। এজন্য উচ্চ রক্তচাপ এবং উচ্চ রক্তচাপজনিত রোগসমূহ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও চিকিৎসার জন্য জনগণ এবং চিকিৎসকসহ সকলের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করা একান্ত প্রয়োজন। তবে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীর অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হবে। উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যসম্মত এবং নিয়ন্ত্রিত জীবন-যাপন করা প্রয়োজন।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. খন্দকার আব্দুল আউয়াল রিজভীর সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. রোকেয়া সুলতানা। স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবির বক্তব্য রাখেন।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন মহাসচিব অধ্যাপক ফজিলা-তুন-নেসা মালিক। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এপিডেমিওলজি অ্যান্ড রিসার্চ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী।

;