কিভাবে বুঝবেন সংক্রমণ হয়েছে ফুসফুসে?



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ হচ্ছে ফুসফুস। শ্বাস নিতে কাজ করে এমন গুরুত্বপূর্ণ এই অঙ্গটির সবচেয়ে ভয়াবহ সংক্রমণ হচ্ছে ক্যান্সার।

বুকে হাল্কা ব্যথা। কিংবা মাঝেমধ্যেই ঠান্ডা লেগে যাওয়া। এ তো হয়েই থাকে। ফুসফুসে সংক্রমণ হলেও সাধারণ ঠান্ডা লাগা ভেবে ভুল করি আমরা। কোভিডের পর থেকেই চিকিৎসকরা ফুসফুসের প্রতি বাড়তি যত্ন নেওয়ার কথা বলছেন। সতর্ক হতে হবে যে কোনও সংকেত পেলেই। যে সব অস্বস্তিকে সাধারণত অবহেলাই করা হয়ে থাকে, সে সব বিষয়েও হতে হবে সাবধান। ধূমপানের অভ্যাস না থাকলেও বুকে ব্যথা হলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

কোন কোন লক্ষণ ফুসফুসের জটিলতার লক্ষণ?

১) রোজ ঘুম থেকে উঠেই কাঁধ-পিঠে তীব্র যন্ত্রণা হয়? তা হলে বুঝতে হবে, এ সাধারণ ক্লান্তি নয়। অনেক সময়েই শরীরের এক অংশে সমস্যা হলে একেবারে অন্য কোনও অঙ্গে অসুবিধা দেখা দেয়। এই ধরনের ব্যথাকে চিকিৎসা পরিভাষায় বলে ‘রেফার্ড পেন’।

২) কথায় কথায় সর্দি-কাশি হচ্ছে? এমন কিন্তু স্বাভাবিক নয়। যদি কিছু দিন অন্তর ঠান্ডা লেগে থাকে, তবে বুঝতে হবে শরীরের ভিতরে কোনও সমস্যা আছে। অনেকের আবার কাশি হলে কমতেই চায় না। এমন প্রবণতা দেখলে সাবধান হওয়া জরুরি।

৩) শ্বাস নিতে গেলেই মনে হচ্ছে খুব কষ্ট হচ্ছে? এই সমস্যাও অবহেলা করার মতো নয়। বুঝতে হবে ফুসফুস জানান দিচ্ছে, ভিতরে কোনও সমস্যা আছে। ফুসফুসের আশপাশে প্রদাহ সৃষ্টি হলে বা সংক্রমণ হলে এমন অনেক সময়েই হতে পারে। সর্ব ক্ষণ ক্লান্ত লাগলে যেমন উদ্বেগ, অবসাদের মতো সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তেমন অন্য অসুখও হতে পারে। ফুসফুস ঠিক ভাবে কাজ না করলে শরীরে পর্যাপ্ত অক্সিজেন ঢোকে না। তা থেকেও ক্লান্তি আসতে পারে। তাই সতর্ক থাকুন।

৪) গলার আওয়াজ অন্য রকম লাগছে কি? সর্দি-কাশি হলে এমন সমস্যা ঘটেই থাকে। কিন্তু দিনের পর দিন যদি এমনই চলে, তবে তা ক্যানসারের লক্ষণও হতে পারে।

৫) কাশি কিছুতেই কমছে না? কফের সঙ্গে রক্তপাত হচ্ছে? সময় নষ্ট না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ফুসফুসে সংক্রমণ হলে বা কর্কট রোগ বাসা বাঁধলে এমনটা হতে পারে।

   

আদ্-দ্বীনের উদ্যোগে বিনামূল্যে চক্ষু, ডায়াবেটিস, হার্ট-প্রোস্টেট স্বাস্থ্য ক্যাম্প



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
আদ্-দ্বীনের উদ্যোগে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য ক্যাম্প

আদ্-দ্বীনের উদ্যোগে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য ক্যাম্প

  • Font increase
  • Font Decrease

আদ্-দ্বীন আকিজ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উদ্যোগে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গায় বিনামূল্যে চক্ষু, ডায়াবেটিস, হার্ট ও প্রোস্টেট স্বাস্থ্য সেবা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে এ সেবা কার্যক্রম উদ্বোধন করেন আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দিন।

শনিবার (৯ সেপ্টেম্বর ) সকাল ১০টায় ঝাউডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠে এ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো: নজরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবু, ঝাউডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি আলহাজ্ব এস এম শওকত হোসেন, সাতক্ষীরা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আব্দুর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক মো: শাহজাহান আলী প্রমুখ।

ঝাউডাঙ্গা কলেজের অধ্যক্ষ খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আদ্-দ্বীন ওয়েলফেয়ার সেন্টারের পরিচালক মো: ফজলুল হক, আদ্-দ্বীন চক্ষু প্রকল্পের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার মো: রবিউল ইসলাম। বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত পাঁচশতাধিক চক্ষু, ডায়াবেটিস, হার্ট ও প্রোস্টেট রোগী এ ক্যাম্পের মাধ্যমে সেবা গ্রহণ করেন।

আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দিন বলেন, স্বাস্থ্য সেবা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে আদ্-দ্বীন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা সেবার মাধ্যমে স্রষ্টার কাছে যেতে চাই। আপনাদের সেবা দিতে পেরে আমরা অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। আপনাদের কাছে অনুরোধ আপনারা আমাদের সেবার কথা অন্যদের জানিয়ে সকলকে সেবা নেওয়ার সুযোগ তৈরি করে দিন। সেটাই আমাদের স্বার্থকতা।

বক্তারা বলেন, আদ্-দ্বীন স্বাস্থ্যসেবায় অনন্য ভূমিকা পালন করছে। করোনা মহামারীসহ দেশে নানা দুর্যোগে সরকারের পাশাপাশি আদ্-দ্বীনের অবদান প্রশংসনীয়। বিনামূল্যে চোখের ছানি অপারেশনসহ অন্যান্য সেবা পেয়ে মানুষ দৃষ্টি শক্তি ফিরে পেয়েছে। তাদের জনকল্যাণমূলক কাজ অব্যাহত থাকুক এটাই প্রত্যাশা। এছাড়াও বক্তারা সাতক্ষীরায় একটি আদ্-দ্বীন হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা করার অনুরোধ করেন।

;

পাইলস কী, পাইলসের লক্ষণ ও চিকিৎসা



ডা. সুশীত কুমার বিশ্বাস
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

পাইলস, যাকে অর্শ্বরোগও বলা হয়। বৃহদান্ত্রের শেষাংশে রেকটামের ভেতরে ও বাইরে থাকা কুশনের মতো একটি রক্তশিরার জালিকা থাকে, যা প্রয়োজন সাপেক্ষে সংকুচিত ও প্রসারিত হয় যা আমরা পাইলস নামে জেনে থাকি। যখন পায়ুপথে এসব শিরার সংক্রমণ বা প্রদাহ হয় এবং চাপ পড়ে তখন পাইলস বা হেমোরয়েডসে প্রদাহ হয়। যাকে সাধারণ ভাষায় অর্শরোগ বলা হয়।

এটি মলদ্বারের এক ধরনের জটিল রোগ। পাইলসের ফলে রক্তনালিগুলো বড় হয়ে গিয়ে ভাসকুলার কুশন তৈরি হয়। শিশু থেকে বৃদ্ধ যেকোন বয়সের মানুষ এ জটিল রোগে আক্রান্ত হতে পারে। পাইলস হলে সাধারণত চুলকানি বা রক্তক্ষরণ হয়। মলদ্বারের নিচের অংশে গোল আকারে ফুলে উঠে, ফলে যে কোন সময় সেই জায়গা থেকে রক্তপাত হতে থাকে। এটি খুবই অস্বস্তিকর এবং যন্ত্রনাদায়ক।

দীর্ঘকালীন কোষ্ঠকাঠিন্যের রোগীদের পাইলসের সমস্যা দেখা দেওয়ায় অস্বাভাবিক কিছু নয়। এছাড়া যাদের মলত্যাগের অকারণে বেগ প্রদানের বদভ্যাস রয়েছে, তারাও এই রোগ বাধিয়ে ফেলতে পারেন। আসুন তাহলে বিস্তারিত জেনে নেই পাইলস কী, পাইলসের লক্ষণ ও চিকিৎসাসহ কিছু তথ্য।

পাইলসের প্রকারভেদ

সাধারণত পাইলস দুই প্রকার হয়ে থাকে- অভ্যন্তরীণ পাইলস ও বাহ্যিক পাইলস।

অভ্যন্তরীণ পাইলস এবং বাহ্যিক পাইলস মলদ্বারে তাদের অবস্থানের উপর ভিত্তি করে। এগুলি সাধারণ এবং মলদ্বারের ভিতরে মলদ্বারের খোলার উপরে ২ থেকে ৪ সেন্টিমিটারের (সেমি) মধ্যে ঘটে।

অভ্যন্তরীণ পাইলস

অভ্যন্তরীণ অর্শ্বরোগ চারটি শ্রেণি বা পর্যায়ের হয় যা প্রোল্যাপের ওপর ভিত্তি করে।

প্রথম পর্যায়- পাইলস ফুলে বাইরের দিকে বের হয়ে আসে না বা প্রলেপস হয় না।
দ্বিতীয় পর্যায়- মলমূত্র ত্যাগের পর পাইলস ফুলে বাইরের দিকে বের হয়ে আসে এবং তারপর আপনা-আপনি ঠিক হয়ে যায়।
তৃতীয় পর্যায় - পাইলস ফুলে বাইরের দিকে বের হয়ে আসে এবং নিজে নিজে ঠিক করতে হয়।
চতুর্থ পযার্য় - পাইলস ফুলে বাইরের দিকে বের হয়ে আসে বা প্রলেপস হয় এবং তা আর নিজে ঠিক হয় না বা করা যায় না।

বাহ্যিক পাইলস

বাহ্যিক পাইলস মলদ্বারের বাইরের প্রান্তে ছোট ছোট গলদ গঠন করে। এগুলো প্রায়শই চুলকানিদায়ক এবং বেদনাদায়ক হয়ে থাকে।

পাইলসের কারণ

পাইলসের প্রধান কারণগুলো হচ্ছে- দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিণ্যে ভোগা, পুরনো ডায়রিয়া, মলত্যাগে দীর্ঘক্ষণ টয়লেটে বসে থাকা ও দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা। এছাড়া পারিবারিক ইতিহাস, আঁশযুক্ত খাবার কম খাওয়া, ভারি মালপত্র বহন করা, স্থুলতা, কায়িক শ্রম কম করা।

গর্ভকালীন সময়ে, পায়ুপথে যৌনক্রিয়া, যকৃত রোগ বা লিভার সিরোসিস ইত্যাদি কারণেও এ রোগের আশঙ্কা বেড়ে যায়। সর্বোপরি পোর্টাল ভেনাস সিস্টেমে কোনো ভাল্ব না থাকায় উপরিউক্ত যে কোনো কারণে পায়ু অঞ্চলে শিরাগুলোতে চাপের ফলে পাইলস সৃষ্টি হয়।

পাইলসের লক্ষণ-

পাইলস রোগে যেসব লক্ষণ দেখা যায় তা হচ্ছে- পায়ুপথের অন্ত্র বা ভেতরের পাইলস রোগে সাধারণত তেমন কোনো ব্যথা বেদনা, অস্বস্তি থাকে না। অন্যদিকে পায়ুপথের বহিঃঅর্শরোগে পায়ুপথ চুলকায়, বসলে ব্যথা করে, পায়খানার সঙ্গে টকটকে লাল রক্ত দেখা যায় বা শৌচ করার টিস্যুতে তাজা রক্ত লেগে থাকে, মলত্যাগে ব্যথা লাগা, পায়ুর চারপাশে এক বা একের অধিক থোকা থোকা ফোলা থাকে।

পাইলসের সাধারণ লক্ষণগুলো হলো-

>> পায়ু অঞ্চলে ব্যথা ও চুলকানি।
>> মল বা মলত্যাগের পর রক্ত।
>> মলদ্বারের চারপাশে একটি শক্ত গলদা।

অভ্যন্তরীণ অর্শ্বরোগের লক্ষণ-

>> মল অতিক্রম করার সময় অতিরিক্ত চাপ বা জ্বালা হতে পারে।
>> মলত্যাগের সময় ব্যথাহীন রক্তপাত।
>> যদি পাইলস প্রল্যাপস, ব্যথা এবং জ্বালা হয়।

বহিরাগত অর্শ্বরোগের লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে-

>> মলদ্বারের চারপাশে চুলকানি।
>> মলদ্বারের কাছে বেদনাদায়ক মাংসল গলদ।
>> বসার সময় ব্যথা বা অস্বস্তি।
>> মলদ্বারে রক্তক্ষরণ।

পাইলসের চিকিৎসা-

পায়ুদ্বার সংক্রান্ত যে কোনো সমস্যা হলে প্রথমেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। এ ধরনের অসুখের ক্ষেত্রে অনেকেই চেপে যান প্রথমে, যা অসুখের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়। চিকিৎসকেরা রোগ নির্ণয় করে প্রক্টোস্কোপির মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা শুরু করতে পারেন।

প্রথম পর্যায়ে মলম, ইনজেকশন বা রাবার ব্যান্ড লাইগেশনের সাহায্যেই রোগ নিরাময় করা সম্ভব। অসুখের মাত্রা বাড়াবাড়ি পর্যায়ে চলে গেলে অবশ্য শল্যচিকিৎসা ছাড়া উপায় নেই। তবে সব কয়টি ক্ষেত্রেই রোগটি ফিরে আসার শঙ্কা থাকে, যদি না সাবধানে থাকা যায়।

এজন্য বদলে ফেলুন লাইফস্টাইল। পাইলস বা পায়ুদ্বার সংক্রান্ত যে কোনো অসুখের জন্য পরোক্ষভাবে দায়ী অনিয়মিত লাইফস্টাইল। এজন্য খাওয়ার অভ্যাস বাড়াতে হবে। এড়িয়ে চলতে হবে ক্যাফিন জাতীয় পানীয়, তেল-ঝাল মশলাযুক্ত রান্না। পাইলসের রোগীদের পক্ষে শুকনো লঙ্কা বিষতুল্য। ভারী জিনিস তোলাও কিন্তু বারণ।

পাইলস থেকে ক্যান্সার হওয়ার পূর্বেই এর চিকিৎসা করা জরুরি। রিং লাইগেশন এবং লংগো অপারেশনের দ্বারা শতকরাই প্রায় ১০০% রোগী সুস্থ হয়ে উঠছেন। প্রচলিত এই অপারেশনে মলদ্বারের তিনটি অংশ কাটার প্রয়োজন হয়।

এই অপারেশন শুধু তাদের জন্যই করা হয় যাদের রিং লাইগেশন এর জন্য উপযুক্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং যারা লংগো অপারেশন করানোর জন্য মেশিন কিনতে অক্ষম।

চলিত অপারেশনের মতই আরেকটি অপারেশন হলো লেজার অপারেশন। পার্থক্য শুধু এটাই যে, লেজার অপারেশনে বিম ব্যবহার করা হয়। এবং প্রচলিত অপারেশনে সার্জিক্যাল নাইফ ব্যবহার করে কাটাকাটির কাজ করা হয়।

চলিত অপারেশনের মতো লেজার অপারেশনে ক্ষত স্থান হবে তিনটি । লেজার অপারেশন ও সাধারণত অপারেশ

লেখক: ডা. সুশীত কুমার বিশ্বাস, এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য) এফসিপিএস (সার্জারি), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ফরিদপুর।

;

স্টেন্টের দাম কমছে



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
অ্যাবোট ল্যাবরেটরিজের স্টেন্টের দাম কমছে। ছবি: সংগৃহীত

অ্যাবোট ল্যাবরেটরিজের স্টেন্টের দাম কমছে। ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

মেডিকেল সামগ্রীর দাম বাড়তে থাকলেও হৃদরোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি দুই প্রতিষ্ঠানের তিন ধরনের স্টেন্টের (রিং) দাম কমানো হয়েছে। প্রতিটিরই ভিত্তি মূল্য ১০০ ডলারের বেশি করে কমছে। এর মধ্যে দুটি স্টেন্টের নতুন দাম আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে এবং আরেকটির দাম পরে কার্যকর হবে।

রোববার ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ ইউসুফ সংবাদ সম্মেলেন করে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাবোট ল্যাবরেটরিজ, বস্টন সায়েন্টিফিক- এই দুটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাদের বৈঠক হয়েছে। এর আগেও কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে। আর রোববার হার্টের চিকিৎসায় ব্যবহৃত স্টেন্টের দাম কমানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। এরপর তারা তিনটি স্টেন্টের দাম কমাতে সম্মত হন।

অ্যাবোটের তৈরি স্টেন্ট জায়েন্স প্রাইমের ভিত্তিমূল্য ৫৬১ ডলার থেকে ৪২৫ ডলার হয়েছে। এক্সপেডিশনের বর্তমান ভিত্তিমূল্য ৮৩০ ডলার থেকে কমিয়ে ৬০০ ডলার হবে। আর বস্টন সায়েন্টিফিকের প্রোমাস প্রাইমার নামে একটি স্টেন্টের ভিত্তিমূল্য ৫৭০ ডলার থেকে কমে ৪৭০ ডলার হবে।

মেজর জেনারেল মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, মার্কিন প্রতিনিধিদের বোঝানো হয়েছে যে, এসব স্টেন্টের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে বাংলাদেশের মানুষের কষ্ট হচ্ছে। তাছাড়া প্রতিষ্ঠানগুলো এসব স্টেন্ট ভারতে আরও কম দামে দিচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, অ্যাবোটের তৈরি স্টেন্ট সিনার্জির দাম ১২০০ ডলার থেকে কমিয়ে ৯০০ ডলার এবং প্রোমাস এলিটের দাম ৯০০ ডলার থেকে কমিয়ে ৬০০ ডলার করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। কোম্পানির প্রতিনিধিরা বলেছেন, তারা তাদের প্রধান কার্যালয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানাবেন।

;

বিশ্ব রক্তদাতা দিবস আজ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

বিশ্ব রক্তদাতা দিবস আজ বুধবার। সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হবে। দেশে রক্তের চাহিদা পূরণে স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে থাকছে নানা কর্মসূচি।

এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে- ‘রক্ত দান করুন, দান করুন প্লাজমা, যতবার সম্ভব গ্রহণ করুন জীবন বাঁচানোর এ অনন্য সুযোগ’।

আন্তর্জাতিকভাবে এ বছর বিশ্ব রক্তদাতা দিবসের বিশ্বব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজক দেশ আলজেরিয়া। ২০০৪ সালে দিবসটি প্রথম পালিত হয়। নিরাপদ রক্ত নিশ্চিতকরণ ও স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের উৎসাহ দিতেই বিশ্বব্যাপী পালিত হয়ে আসছে দিবসটি।

বাংলাদেশে বুধবার দিবসটি পালনে সরকারি নানা উদ্যোগের পাশাপাশি এবারও এগিয়ে থাকছে সাড়ে চার লক্ষাধিক সংগঠিত ডোনার পুল নিয়ে গঠিত কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন। এদিন বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলের আইডিইবি ভবনে প্রথমবারের মতো দুই শতাধিক স্বেচ্ছা রক্তদাতা ও দুই শতাধিক থ্যালাসেমিক রক্তগ্রহীতার মিলনমেলা এবং বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করছে কোয়ান্টাম।

স্বেচ্ছা রক্তদাতারা নীরবে তাদের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ রক্ত দান করে যান। রক্তদানের সময় তারা অধিকাংশ ক্ষেত্রে জানেনও না, এ রক্ত কোন মানুষটির শরীরে বইবে। একইভাবে রোগীদের কাছেও অচেনা থেকে যান রক্তদাতারা। দাতা-গ্রহীতার আনন্দ আর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের এমন মেলবন্ধনে উদ্বুদ্ধ হবেন নতুন রক্তদাতা—এমনই আশাবাদ সংশ্লিষ্টদের।

হেমাটোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশ সূত্রে জানা যায়, দেশে থ্যালাসেমিয়া রোগীর সংখ্যা প্রায় ৮০ হাজার। থ্যালাসেমিয়ার বাহক রয়েছে এক কোটি ৭০ লাখেরও অধিক মানুষ। দিন দিন এ সংখ্যা বাড়ছে। একজন থ্যালাসেমিয়া রোগীর প্রতি মাসে ১ থেকে ৩ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হয়। থ্যালাসেমিয়া ছাড়াও রক্তস্বল্পতা, প্রসূতির রক্তক্ষরণ, অগ্নিদগ্ধ রোগী, বড় অস্ত্রোপচার, দুর্ঘটনা ইত্যাদি নানা কারণে রক্তের প্রয়োজন হয়। রক্তের এ চাহিদা পূরণে নতুন স্বেচ্ছা রক্তদাতার কোনো বিকল্প নেই। সাধারণত ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী যেকোনো শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ সক্ষম ব্যক্তি প্রতি চার মাস পরপর রক্ত দিতে পারেন।

দেশে প্রতি বছর প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ ব্যাগ রক্ত ও রক্ত উপাদানের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে কোয়ান্টাম বছরে সরবরাহ করে এক লক্ষাধিক ব্যাগ।

;