হার্ট অ্যাটাকের কারণ ও ঝুঁকি মোকাবিলায় করণীয়



ডা. ইসমাইল আজহারি
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বিশ্বে প্রতি বছর ৩৮ লাখ পুরুষ এবং ৩৪ লাখ মহিলা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়, তার মধ্যে প্রতি ৪ জনের একজনের মৃত্যুর কারণ হচ্ছে করোনারি হার্ট ডিজিজ বা ইসকেমিক হার্ট ডিজিজ যা মূলত এথোরোসক্লেরোসিস এর ফলাফল।

এথোরোসক্লেরোসিস কি?

Athero+Sclerosis থেকে এথোরোসক্লেরোসিস শব্দটা এসেছে। এথোরো মূলত Atheroma থেকে এসেছে। আর্টারি বা ধমনির ওয়ালে ফ্যাটি ম্যাটেরিয়াল বা চর্বি জাতীয় বস্তু কিংবা স্কার টিস্যু জমা হয়ে যখন ধমনীর ওয়াল সমূহ মোটা হয়ে যায়, ফলশ্রুতিতে ধমনীর লুমেন সরু হয়ে যায় এবং রক্তপ্রবাহ কমে হয়ে যায় সেই সাথে আর্টারি সমূহ শক্ত হয়ে যায় তখন এই অবস্থাকে এথোরোসক্লেরোসিস বলা হয়। সহজ কথায়, যদি কোনো ফ্যাটি প্ল্যাকের কারণে রক্তনালী দিয়ে রক্ত চলাচল সীমিত হয়ে যায় তখন এই অবস্থাকে এথোরোসক্লেরোসিস বলে।

এথোরোসক্লেরোসিস বলতে মূলত হার্টের ধমনী সমূহে তথা করোনারি আর্টারি সমূহের মধ্যে ডিজেনারেটিভ চেঞ্জকে বুঝানো হয়ে থাকে। তবে এথোরোসক্লেরোসিস শরীরের যে কোনো রক্তনালিতে হতে পারে। হাতে পায়ে হলে তখন সেটাকে পেরিফেরাল ভাস্কুলার ডিজিজ বলা হয়। শরীরে যদি অতিরিক্ত LDL ক্লোরেস্টেরল থাকে তখন সেটা রক্তনালীতে জমা হয়ে এথোরোসক্লেরোসিস তৈরি করে।

করোনারি আর্টারিতে এথোরোসক্লেরোসিস হলে সেখানে রক্ত প্রবাহ কমে যায় কিংবা রক্ত সঞ্চালন বাধাগ্রস্ত হয় আর যেখানেই রক্ত প্রবাহ কমে যায় বা রক্ত প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হয় সেখানে অক্সিজেন পরিবহন কমে যায়। কারণ রক্তের হিমোগ্লোবিন এর সাথে মিশেই অক্সিজেন সারা দেহে সঞ্চালিত হয়। শরীরের কোনো টিস্যুতে চাহিদার তুলনায় অক্সিজেন সরবরাহ কমে গেলে তাকে ইসকেমিয়া বলে। আর হার্টের মধ্যে যদি অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায় তাহলে এই অবস্থাকে ইসকেমিক হার্ট ডিজিজ বলে।

হার্ট অ্যাটাক:

হার্টের মাংশপেশী সমূহ সচল থাকার জন্য হার্টের মধ্যে রক্ত সরবরাহ হয় দুইটা রক্ত নালীর মাধ্যমে যাকে রাইট এন্ড লেফট করোনারি আর্টারি বলে। এই করোনারি আর্টারি সমূহে ফ্যাট কিংবা চর্বি জমে যদি রক্ত সঞ্চালনে বাধাগ্রস্ত হয় তাহলে এই অবস্থাকে করোনারি আর্টারি ডিজিজ বলে এই অবস্থাকে আবার হার্ট ব্লক ও বলা হয় আর ফ্যাট জমে আর্টারি মোটা আর শক্ত হয়ে যাওয়াকে এথোরোসক্লেরোসিস বলে। এথোরোসক্লেরোসিস হলে যে কোনো মুহুর্তে রক্তনালি ছিড়ে রক্ত জমাট বেধে যেতে পারে। রক্তনালীর ভিতর যদি রক্ত জমাট বাধে তাহলে সেখানে রক্ত চলাচল করতে পারবে না, হার্টের রক্তনালীতে যদি রক্ত চলাচল করতে না পারে তাহলে হার্টের মাংসপেশি সমূহ অক্সিজেন পাবেনা, অক্সিজেন না পেলে হার্টের টিস্যু সমূহ ড্যামেজ হতে থাকবে এবং এইভাবে হার্টের রক্তনালীতে রক্তজমাট বাধার কারণে কিংবা শরীরের অন্য কোনো ধমনীতে রক্ত জমাট বেধে তা থ্রম্বোসিস হয়ে তথা রক্তনালী দিয়ে পরিবাহিত হয়ে যদি করোনারি আর্টারি সমূহকে কিংবা হার্টের ধমনী সমূহকে ব্লক করে দেয় এবং হার্টের পেশীসমূহে যদি পরিমিত অক্সিজেন দিতে না পারে তখন  অক্সিজেনের অভাবে হার্টের টিস্যু সমূহ ড্যামেজ হয়ে যাবে যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন বা হার্ট অ্যাটাক বলা হয়।

এই সময় খুব দ্রুত রক্ত সরবরাহ চালু করতে না পারলে মৃত্যু হতে পারে। এই সময় রোগীর প্রচন্ড বুকে ব্যাথা হবে, সাথে শ্বাসকষ্ট হবে, শরীর ঘামিয়ে যাবে, ব্যাথা ঘাড়, হাত, পিঠে বা থুতনিতে যেতে পারে।

ইশকেমিক হার্ট ডিজিজের উপসর্গ:

ব্লাড প্রেশার চেক করা না হলে অধিকাংশ রোগী উপসর্গহীন থাকে এবং এক সময় তারা হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক করে মৃত্যু বরণ করে। আর কারো কারো ক্ষেত্রে নিম্নের কিছু উপসর্গ দেখা দেয়:

১। চলতে ফিরতে বুকে ব্যাথা হয়

২। শ্বাসকষ্ট হয়

৩।খাবার পরে বুকে ব্যাথা হয়,

৪।একটু টেনশন করলে বুকে ব্যাথা হয়,

৫। মাথা ঘোরানো এবং মাথা ব্যাথা

৬।ঘাড় কিংবা বাহুতে ব্যাথা

৭। বমি বা বমির ভাব

ইসকেমিক হার্ট ডিজিজের কারণ:

১।উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন

২। অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার যথা গরুর গোশত, ডিম বা ট্রান্স ফ্যাট জাতীয় খাবার ইত্যাদি

৩। সিগারেট স্মোকিং বা জর্দা ইত্যাদি

৪।অবেসিটি বা অতিরিক্ত ওজন

৫। এলকোহল, কোমল পানীয়

৬।পর্যাপ্ত ব্যায়াম না করা

৭। শারিরীক পরিশ্রম না করা

৮। সবসময় শুয়ে থাকা ইত্যাদি।

ইসকেমিক হার্ট ডিজিজের কারণে জটিলতা:

১। হার্ট অ্যাটাক হতে পারে

২। ব্রেইন স্ট্রোক হতে পারে

প্রতিকার:

১। ধূমপান ত্যাগ করতে হবে

২। ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে

৩। ওজন স্বাভাবিক বিএমআই অনুযায়ী রাখা জরুরি। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

৪। অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার করতে হবে এবং লবণ কম খেতে হবে।

৫। নিয়মিত ব্যায়াম করা উচিত

৬। স্বাভাবিক শারীরিক পরিশ্রম করা উচিত।

চিকিৎসা:

১। লাইফস্ট্যাইল মোডিফাই করতে হবে এবং অতিরিক্ত ওজন কমার জন্য নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে।

২। ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। সে জন্য নিয়মিত রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত খেয়ে যেতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া মেডিসিন বাদ দেয়া যাবে না। সেক্ষেত্রে খুব খেয়াল রাখতে হবে। কোন মেডিসিন যেন খেতে ভুলে না যায়। এছাড়া যে কোন জটিলতায় চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বুকে ব্যাথা হলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।

ডা. ইসমাইল আজহারি, চিকিৎসক, ঢাকা কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরিচালক, সেন্টার ফর ক্লিনিক্যাল এক্সিলেন্স এন্ড রিসার্চ। [email protected]

   

তিন মাসের মধ্যে আসতে পারে ডেঙ্গুর টিকা: আহমেদুল কবির



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

অনুমতি পেলে আগামী তিন মাসের মধ্যে ডেঙ্গুর টিকা আসতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আহমেদুল কবির।

সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর গুলশান-২ নম্বরের নগর ভবনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকায় এডিস মশা এবং এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু মোকাবিলায় বছরব্যাপী উত্তর সিটির প্রস্তুতি এবং করণীয় শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

আহমেদুল কবির বলেন, বিভিন্ন বেসরকারি ফার্মাসিটিক্যাল কোম্পানি ডেঙ্গুর টিকার সিড এনেছে। মার্চে ল্যাব রেগুলারিটি পারমিশন পেলেই তিন মাসের মধ্যে আসতে পারে ডেঙ্গুর ভ্যাকসিন।

ডেঙ্গু মোবাবিলা ও কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুতি এবং পরামর্শ নিতে আলোচনায় অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ, নিপসম পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা, স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক আহমেদুল কবির, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক অধ্যাপক ড. কবিরুল বাসার, সিডিসি সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বেনজির আহমেদ, নিপসম কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. গোলাম সারোয়ার, স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (সিডিসি) অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদফতরের আইইডিসিআর বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরিন, স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. আবু হোসেন, মো. মোইনুল আহসান, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন কামরুল ইসলাম, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা, বাংলাদেশ রেলওয়ে মহাপরিচালক মো. কামরুল আহসান, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান।

এছাড়াও রয়েছে বুয়েটের নগর পরিকল্পনাবিদ ইকবাল হাবিব, পিপিডব্লিউ পরিচালক মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন, পিপিডব্লিউ উপ-পরিচালক সুব্রত কুমার দত্ত, মেট্রোরেল প্রকল্প ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম, এ, এন, ছিদ্দিক, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম, ডিএনসিসি ওয়াড কাউন্সিলর ডাঃ আব্দুল মতিন, ওয়াড কাউন্সিলর দেওয়ান আবদুল মান্নান, রিহাব সাবেক সভাপতি সামসুল ইসলাম আলামিন, আইসিডিডিআরবি বিজ্ঞানী রাশেদুল হক, ডিওএইচএস প্রতিনিধি মেজর শামস আহমেদ জিয়াসহ প্রমুখ।

;

গর্ভাবস্থায় শিশুর লিঙ্গ প্রকাশ না করতে নীতিমালা



স্টাফ করেসপন্ডেট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

মাতৃগর্ভে থাকা সন্তানের লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ না করার মর্মে নীতিমালা করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এতে বলা হয়েছে, হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও চিকিৎসকসহ সবাইকে এ নিয়ম মানতে হবে। ইতোমধ্যে নীতিমালাটি হাইকোর্টে জমা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যার পরিচালক ডা. তাহমিনা সুলতানা

জানা যায়, ২০২০ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি মাতৃগর্ভে থাকাকালীন অবস্থায় শিশুর লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ কেন অবৈধ নয় জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট। একই বছরের ২৬ জানুয়ারি এ বিষয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়।

স্বাস্থ্য সচিব, নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ও সমাজ কল্যাণ সচিবকে এ নোটিশ পাঠান অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান। নোটিশে তাদের তিন দিনের মধ্যে সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে মাতৃগর্ভের শিশুর লিঙ্গ পরিচয় জানার উদ্দেশ্যে পরীক্ষা-লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ বন্ধ করতে নির্দেশনা জারি করতে বলা হয়।

মাতৃগর্ভের সন্তানের লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ করা সম্পর্কে এর আগেই আইনে নিষেধ করা হয়। তবে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সোমবার (২৯ জানুয়ারি) থেকে এটি তাদের নতুন নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করে।

;

চিকিৎসকদের আয়কর রিটার্ন দাখিলের নির্দেশ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

নিবন্ধিত সকল চিকিৎসককে আগামী ৩১ জানুয়ারি মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র জমা দেওয়া নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)।

নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক নোটিশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিএমডিসির রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. লিয়াকত হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘এতদ্বারা বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল হতে মেডিকেল চিকিৎসক/ডেন্টাল চিকিৎসক হিসেবে চূড়ান্ত নিবন্ধন প্রাপ্ত সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, সূত্রোক্ত পত্রের মাধ্যমে আয়কর আইন, ২০২৩ এর ধারা ২৬৪ অনুযায়ী রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ (Proof of Submission of Return or PSR) দাখিলের জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।’

‘বর্ণিত অবস্থায়, চূড়ান্ত নিবন্ধন প্রাপ্ত (Full Registered) মেডিকেল চিকিৎসক/ডেন্টাল চিকিৎসকগণকে আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে বিএমএন্ডডিসি অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেমে লগইন করে ডকুমেন্টসমূহ আপলোড করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো’।

;

‘প্রতিমাসে একটি লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করানো আমাদের লক্ষ্য’



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
‘প্রতিমাসে একটি লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করানো আমাদের লক্ষ্য’

‘প্রতিমাসে একটি লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করানো আমাদের লক্ষ্য’

  • Font increase
  • Font Decrease

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ বলেছেন, লিভার ট্রান্সপ্লান্টে আমরা সফলতার মুখ দেখেছি। এই চিকিৎসা খুবই ব্যয়বহুল। আগামী ২৬ মার্চের আগে আরেকটি লিভার ট্রান্সপ্লান্টের উদ্যোগ নিবো। ক্রমান্বয়ে প্রতি মাসে একটি করে লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করতে হবে, এটাই আমাদের লক্ষ্য।

শনিবার (২৭ জানুয়ারি) বিএসএমএমইউ শহীদ ডা. মিলন হলে আয়োজিত ‘শিশুদের লিভার সার্জারি ও নতুন জীবনের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারের আয়োজন করেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিশু সার্জারি বিভাগ।

উপাচার্য বলেন, লিভার প্রতিস্থাপন একটি ব্যয়বহুল চিকিৎসা। ইউরোপে ২ কোটি টাকার মত খরচ হয়। ভারতে ৬০-৭০ লক্ষ এবং বাংলাদেশে আনুমানিক ২০-৩০ লক্ষ টাকা খরচ হয়। শিশুর লিভার প্রতিস্থাপন আমাদের স্বপ্ন। যা পূরণে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, যন্ত্রপাতি, প্রশিক্ষণ ও দক্ষ জনশক্তি দরকার।

অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, আমাদের দেশে কিডনি, লিভার, কর্নিয়া দিতে হলে কাছের আত্নীয় ছাড়া অন্য কেউ দিতে পারে না। আইনের কারণে এটা পারা যায় না। কিন্তু দেশের বাইরে কেউ ইচ্ছে করলেই একজন আরেকজনকে মানবিক কারণে এসব দান করতে পারে। আমরা এই আইনের বিষয়ে কাজ করবো।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রার বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা প্রতিটি বিভাগে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়িয়েছি যাতে বিশেষজ্ঞ তৈরি হয়। পিএইচডি কোর্সে অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি নিয়েছি। ইংলিশ জার্নাল, ইমার্জেন্সি বিভাগের সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে আমরা রোবটিক্স সার্জারি চালু করবো। আমরা ইন্সট্রুমেন্ট চেয়েছি, আশা করি, এ বছরের মধ্যেই আমরা রোবটিক্স চালু করতে পারবো।

শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, শিশুদের লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টেশনের সব ধরণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এটা নিশ্চিত করতে পারলে বিদেশে যাওয়ার রোগীর প্রবণতা আরো কমে আসবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন একাধিক ক্যাডাভেরিক ট্রান্সপ্ল্যান্ট, বড়দের লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট, নিয়মিত চোখের কর্ণিয়া প্রতিস্থাপন, বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্টেশন, টেস্টটিউব বেবীর জন্মদান, স্টেম সেল থেরাপি, নিয়মিত কিডনী প্রতিস্থাপনসহ জটিল জটিল রোগের চিকিৎসাসেবা প্রদান অব্যাহত রেখেছে। স্বল্পমূল্যে এই সকল চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। এতে করে চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য ডলারের উপর চাপ কমছে।

সেমিনারে জানানো হয়, বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় তিন ভাগের এক ভাগ শিশু, এই শিশুদের মধ্যে যারা নবজাতক তাদের মধ্যে একটা বৃহৎ অংশ জন্ডিসে ভোগে। পিত্ত নালীর জন্মগত ত্রুটির কারণে যে জন্ডিস হয় তার একটা বড় অংশ হয় বিলিয়ারি এট্রেসিয়ার কারণে। বিলিয়ারি এট্রেসিয়া নাম একটি জন্মগত রোগ। বিপিয়ারি অ্যাট্রেসিয়া পিত্তনালীর একটি জন্মগত রোগ যা লিভারের ভেতর এবং বাইরে বিস্তৃত থাকতে পারে। বিলিয়ারি অ্যাট্রেসিয়া রোগে জন্মগতভাবে পিত্তনালী তৈরী হয় না। এই রোগে লিভারে উৎপাদিত পিত্তরস পিত্তনালীতে আসতে পারে না। যার যলে উৎপাদিত পিত্ত লিভারে জমা হয়ে বিভিন্ন জটিলতা তৈরী করে। পরবর্তীতে সঠিক চিকিৎসা না হলে লিভার নষ্ট হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটে। অতীতে বিলিয়ারি অ্যাট্রেসিয়াকে একটি দূরারোগ্য ও প্রাণঘাতি রোগ হিসাবে বিবেচনা করা হত। কিন্তু জাপানি সার্জন ডা. মোরিও কাসাই কর্তৃক উদ্ভাবিত পদ্ধতি কাসাই পোর্টোয়েন্টরোস্টমি (Kasai Portoenterostomy) ব্যবহার করে সারা পৃথিবীর লাখ লাখ বিলিয়ারি অ্যাট্রেসিয়া আক্রান্ত শিশুর জীবন বাঁচানো সম্ভব হয়েছে। বিলিয়ারি আট্রেসিয়া বেগের মূল চিকিৎসা লিভার প্রতিস্থাপন। এ রোগে আক্রান্ত শিশুদের জন্মের ৬০-৭০ দিনের মধ্যে কাসাই অপারেশন করতে পারলে লিভার নষ্ট হওয়ার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়। কাসাই অপারেশন পরবর্তী সময়ে শতকরা ৬০ ভাগ রোগীর ৬ মাসের মধ্যে জন্ডিস কমে যায়। যারা ২ মাসের মধ্যে চিকিৎসা নিতে পারে না অথবা অপারেশন পরবর্তী যাদের জন্ডিস কমে না তাদের দ্রুত লিভার ট্রান্সপ্লান্টেশন এর প্রয়োজন হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অতি অর খরচে দীর্ঘদিন যাবৎ কাসাই অপারেশন সম্পন্ন করে আসছে। যার ফলাফল আশাব্যঞ্জক। ভবিষ্যতে এই সকল শিশুসহ অন্যান্য বিলিয়ারি অ্যাট্রেসিয়ায় আক্রান্ত বাচ্চাদের লিভার প্রতিস্থাপন প্রয়োজন হবে। কিন্তু লিভার প্রতিস্থাপন একটি ব্যয়বহুল চিকিৎসা।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বিএসএমএমইউ পিডিয়াট্রিক সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. একেএম জাহিদ হোসাইন।

;