হলুদ আভায় মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে সূর্যমুখী 



শহিদুল ইসলাম, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নওগাঁ
ছবি: প্রাণের উচ্ছ্বাসে সূর্যমুখী

ছবি: প্রাণের উচ্ছ্বাসে সূর্যমুখী

  • Font increase
  • Font Decrease

মৃদু বাতাসে দোল খাচ্ছে সূর্যমুখী। বাস্তব জীবনের নিস্তব্ধতা ভাঙছে তার হলুদ আভায়। মৌমাছির আলিঙ্গন পেতে ছড়াচ্ছে উষ্ণ মুগ্ধতা। হলুদের কারুকার্যে বিমোহিত হচ্ছে পথিকের মন। লুকায়িত সৌন্দর্য প্রকৃতির মাঝে তুলে ধরে প্রবল আকর্ষণে টানছে দর্শনার্থীদের। সবুজ পাতা ভেদ করা সেই অনিন্দ্য হাসি যেন কৃষকের মুখেরই প্রতিচ্ছবি। সূর্যমুখী ফুল চাষে জনপ্রিয়তা বাড়ছে কৃষকদের মাঝে।

সূর্যমুখী এক ধরনের একবর্ষী ফুলগাছ। সূর্যমুখী গাছ লম্বায় ৩ মিটার (৯ দশমিক ৮ ফুট) হয়ে থাকে। ফুলের ব্যাস ৩০ সেন্টিমিটার (১২ ইঞ্চি) পর্যন্ত হয়। এই ফুল দেখতে কিছুটা সূর্যের মতো এবং সূর্যের দিকে মুখ করে থাকে বলে এর এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। ফুলের বীজ হাঁস-মুরগির খাদ্যরূপে ও তেলের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

জানা যায়, বাংলাদেশে ভোজ্যতেলের উৎস হিসেবে ১৯৭৫ সাল থেকে এ ফুলের চাষ শুরু হলেও কৃষকের মাঝে জনপ্রিয়তা পায় নি বহুদিন। পরে ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে। বর্তমানে রাজশাহী, যশোর, কুষ্টিয়া, নাটোর জেলা, পাবনা, নওগাঁ, দিনাজপুর, গাজীপুর, টাঙ্গাইল প্রভৃতি জেলাতে এর ব্যাপক চাষ হচ্ছে।

সূর্যমুখীর বাঁধভাঙা হাসি আর প্রাণের উচ্ছ্বাস

সোমবার (১২ মে) সকালে সরেজমিনে নওগাঁ সদর উপজেলার মুক্তির মোড় কেন্দ্র শহীদ মিনারের পাশে দেখা যায়, সূর্যমুখী বাতাসে; দুলছে আলোর প্রতিফলনে পাপড়িগুলো যেন চকচকে হলুদ আভা ছড়াচ্ছে। মৌমাছি এক ফুল থেকে অন্যফুলে মধু আহরণে ছুটাছুটি করছে আর এসব দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হচ্ছে পথচারীরা। এছাড়াও নওগাঁর বেশ কিছু অঞ্চলে চাষ হচ্ছে সূর্যমুখী। একদিকে যেমন ফুলগুলো সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে তেমনি বীজ থেকে ভোজ্য তেল উৎপাদনে ভূমিকা রাখছে সূর্যমুখীর বীজ। সূর্যমুখী গাছ শুকিয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। 

প্রতিদিন ভোরে সূর্যমুখী বাগানের সকল গাছ অনেকটা পূর্বদিকে মুখ করে থাকে। যেদিকে সূর্য দেখা দেয় এবং ধীরে ধীরে ওপরে উঠতে থাকে। সূর্যের সাথে সাথে সূর্যমুখীগুলোও ধীরে ধীরে নিজেদের দিক পাল্টাতে থাকে। সূর্য যেদিকে যায় তারাও সেদিকে যায়। সবসময়ই এগুলো সূর্যের দিকে মুখ করে থাকে। সূর্য যখন পশ্চিম দিকে অস্ত যায় তারাও তখন পশ্চিম দিক বরাবর থাকে। অস্ত যাওয়ার পরে তারা রাতব্যাপী আবার উল্টো দিকে ঘুরে পূর্বমুখী হয়। এভাবে শুকিয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের এই চক্র চলতেই থাকে।

সূর্যের সাথে সাথে নিজেদের দিকও পাল্টাতে থাকে সূর্যমুখী

তবে সবার মাঝে একটি প্রশ্ন অনেক সময় ঘুরপাক খায় যে সূর্যমুখী ফুল কেন সূর্যে দিক হয়ে থাকে! সম্প্রতি বিজ্ঞানীদের একটি দল সূর্যমুখীর এই দিক পরিবর্তন সংক্রান্ত বৈশিষ্ট্যের রহস্য উন্মোচন করেছেন। তাদের গবেষণা থেকে বেরিয়ে আসে সূর্যমুখীরা তাদের নিজস্ব সার্কাডিয়ান চক্রে আবদ্ধ। এই চক্র সচল থাকার কারণে সূর্যমুখীরা সব সময় সূর্যের দিকে মুখ করে থাকে। গবেষকরা সায়েন্স জার্নালে তাদের গবেষণার বিস্তারিত প্রকাশ করেছেন। সার্কাডিয়ান চক্র বা সার্কাডিয়ান ঘড়িকে অনেক সময় ‘দেহঘড়ি’ নামেও ডাকা হয়। মানুষের মাঝেও এই চক্র বিদ্যমান। যেমন প্রত্যেক মানুষেরই দিনের একটা নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম চলে আসে।

পথচারী রায়হান বলেন, ফুল শুভ্রতার প্রতীক ও পবিত্র। ফুলকে যারা ভালোবাসে তাদের মনটাও সুন্দর। সূর্যমুখী ফুল সব ফুলের চেয়ে আলাদা কারন সূর্যের দিক মুখ করে বেশিরভাগ থাকে এ ফুল। বিশেষ করে দুপুর শুরু হলে সূর্যের দিকে মুখ করে থাকে এ ফুল যা দেখতেও খুব সুন্দর লাগে তাছাড়া এ ফুলের বীজ থেকে তেল হয় যা অনেক স্বাস্থ্যকর।

ক্ষুদে শিক্ষার্থী আফরিন (১০) জানায়, আমি ফুল খুবই ভালোবাসি আর সূর্যমুখী ফুলগুলো হলুদ হবার কারনে আরো বেশি ভালো লাগে। নামটা যেমন সুন্দর তেমনি মুগ্ধতাও ছড়ায়। ফুলগুলো থেকে তেল হয় তাই কোনোভাবেই নষ্ট করা যাবে না। আমরা দূর থেকে দেখেই শান্তি পাই।

সূর্যের সাথেই একাত্মতা সূর্যমুখীর

স্থানীয় বাসিন্দা আরেফিন তুহিন বলেন, স্বল্প পরিসরে সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য যারা সূর্যমুখী ফুলের গাছ লাগিয়েছে তারা অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। ফুল মানেই সুন্দর সূর্যমুখীও এটিএ ব্যাতিক্রম নয়। মাঝে মাঝে যখন ফুলের দিকে চোখ যায় খুব ভালোলাগা কাজ করে। এ ফুল দেখতে যেমন সুন্দর এটির তেল ও খুব পুষ্টিকর।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে চলতি অর্থবছরে সূর্যমুখী চাষের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০ হেক্টর ও অর্জন হয়েছে ৬৫ হেক্টর এবং মোট উৎপাদন হয়েছে ১০০ মেট্রিক টন। 

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবুল কালাম আজাদ বার্তা২৪.কমকে বলেন- সূর্যমুখী একদিকে যেমন শুভ্রতার প্রতীক আবার অন্যদিকে বীজ থেকে তেল উৎপাদন হয় আবার মধুও পাওয়া যায়। বাজারে যে ভৈজ্যতেল গুলো রয়েছে যেমন, সয়াবিন,সরিষা, পাম-ওয়েল ইত্যাদি এগুলোর চেয়েও অনেক বেশি পুষ্টিগুণ আছে সূর্যমুখীর তেলে যা স্বাস্থ্যকর এবং স্বাস্থ্যর জন্য খুবই উপকারী। আমরা বেশি বেশি উৎপাদনে কৃষকদের সব রকম পরামর্শ দিয়ে থাকি।

   

আইসক্রিমের মধ্যে কাটা আঙুল



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
আইসক্রিমের মধ্যে কাটা আঙুল

আইসক্রিমের মধ্যে কাটা আঙুল

  • Font increase
  • Font Decrease

অনলাইনে কোনো অ্যাপ থেকে খাবার অর্ডার করলেন। সময়মতো অর্ডার এলো, অনেক আগ্রহে খাবারের প্যাকেট খুললেন। যেই না খাবার খেতে যাবেন ঠিক সেই মুহূর্তেই এমন এক ঘটনা ঘটলো, যার জন্য একেবারেই প্রস্তুত ছিলেন না। খেতে যাওয়ার মুহূর্তে খাবারের মধ্যে যদি কোনো মানুষের শরীরের অংশ পান কেমন বোধ করবেন?

নিশ্চয়ই মনে হচ্ছে কোনো সিনেমা বা নাটকের দৃশ্য। এখন তো দেশি-বিদেশী নানারকম কনটেন্টেই এরকম দৃশ্য দেখা যায়! তবে না, এই ঘটনা একেবারেই বাস্তব। ভারতের এক নারী তার আইসক্রিমের মধ্যে পেলেন মানুষের কেটে যাওয়া একটি আস্ত আঙুল।

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটেছে ভারতের বাণিজ্য এবং বিনোদনের শহর মুম্বাইতে। মালাডের শহরতলীতে বসবাসকারী একজন নারী ‘ইউম্মো আইসক্রিম’ থেকে খাবার আনান। অনলাইনে একটি কোণ আইসক্রিম অর্ডার করেছিলেন তিনি। আইসক্রিমটির মোড়ক খুলতেই হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। আইসক্রিমের উপরের অংশে মানুষের একটি কাটা আঙুল দেখা যাচ্ছে।

স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনায় তিনি আতঙ্কিত এবং বিরক্ত হয়েছেন। শুধু তাই নয়, এমন একটি ঘটনা যথেষ্ট সন্দেহজনকও। সেই নারী অতিসত্তর অভিযোগ করতে মালাড থানায় যান। আইসক্রিমটিকে নিয়ে যান প্রমাণ হিসেবে। তার ভিত্তিতে খাদ্যে ভেজাল এবং মানুষের জীবন বিপন্ন করার অভিযোগ লেখা হয়। এখন ইউম্মোর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেই আইসক্রিমটির ছবি ছড়িয়ে যেতে শুরু করেছে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে একটি মানুষের আঙুল আইসক্রিমের ওপরে আটকে আছে। পুলিশ তদন্তের জন্য আইসক্রিমটি পরীক্ষা করছে। তাছাড়া আঙুলটিও ফরেনসিকে পাঠানো হয়েছে। এর পেছনের রহস্য উদঘাটনে পুলিশ এই ব্যাপারটি নিয়ে পুরোদমে তদন্ত চালাচ্ছে।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি 

;

শত বছর পর শখের মুদ্রা নিলামে



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

শখের বশে মানুষ কত কিছুই না করে। তেমনি একজন ডেনমার্কের বাসিন্দা লার্স ইমিল ব্রান। তার শখ ছিল মুদ্রা সংরক্ষণ করা। এবার তার মৃত্যুর শত বছর পর সেই শখের মুদ্রা নিমালে উঠতে যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ১৮৫২ সালে লার্স ইমিল ব্রান ডেনমার্কে জন্ম নেন। পেশায় তিনি ছিলেন দুগ্ধপণ্য ব্যবসায়ী। ছোট বেলা থেকেই তিনি মুদ্রা সংগ্রহ করেন। বড় হয়েও এই শখের কাজ ছেড়ে দেননি। বরং আরও জোরালো হয়ে ধরে রেখেছেন। নতুন পুরোনো সব মুদ্রাই তিনি জমিয়েছেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তার সংগ্রহে মুদ্রার সংখ্যা দাঁড়ায় ২০ হাজারে। সেই মুদ্রাই নিলামে তুলছে নিউইয়র্কভিত্তিক নিলামঘর স্টেকস বোয়ার্স।

ইমিলের মৃত্যুর এত বছর পর কেন এখন নিলামে উঠছে এসব মুদ্রা এমন প্রশ্নের জবাবে সংশ্লিষ্টরা গণমাধ্যমকে জানান, মৃত্যুর আগে ইমিল উইল করেন। যেখানে বলা হয়, তার মৃত্যুর পর শত বছর পর্যন্ত এসব মুদ্রা সংরক্ষিত করে রাখতে হবে। এসব মুদ্রার শত বছর পুরোনো না হলে তা বিক্রি করা যাবে না।

ইমিল আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ছিলেন। ১৮ শতকে দুগ্ধপণ্যের ব্যবসা করে তিনি ব্যাপক অর্থ উপার্জন করেন। শখ পূরণে দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়িয়েছেন। সেখান থেকে মুদ্রা সংগ্রহ করেছেন। ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেনের বহু পুরোনো মুদ্রা, ব্যাংক নোট এবং মেডেলও তার সংগ্রহে রয়েছে।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় শখের মুদ্রাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত ছিলেন ইমিল। এরপরই যুদ্ধ শেষে সংগ্রহের অমূল্য মুদ্রাগুলোর নিরাপত্তায় উইল করেন। যেখানে শর্ত দেন, এক শত বছর পূর্ণ না হলে এসব মুদ্রা বিক্রি করা যাবে না। ইমিলের মৃত্যুর পর এসব মুদ্রা ডেনমার্কের এক রাজপ্রাসাদে সংরক্ষণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ডেনমার্কের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে মুদ্রা ও ব্যাংকনোটগুলো তুলে দেওয়া হয়। যা এখন নিলামের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।

নিউইয়র্কভিত্তিক নিলামঘর স্টেকস বোয়ার্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট ভিকেন ইয়েগপারিয়ান জানান, সংরক্ষিত এসব মুদ্রায় এমন কিছু রয়েছে যা শত বছর ধরে বাজারে পাওয়া যায় না।

এদিকে ইমিলের সংগ্রহ থেকে ছয়টি স্বর্ণমুদ্রা ও একটি রৌপ্যমুদ্রা কিনে নিয়েছে ডেনমার্কের জাতীয় জাদুঘর। যা সর্বসাধারণের প্রদর্শণীর জন্য় উন্মুক্ত করা হবে। ছয়টি মুদ্রা কিনতে এক মিলিয়ন ইউরো (১০৯ মিলিয়ন ডলার) খরচ করেছে ডেনমার্কের জাতীয় জাদুঘর।

জাতীয় জাদুঘরের মুদ্রা ও পদক সংগ্রহ বিভাগের প্রধান হেলি হর্সনেস এএফপিকে বলেন, এই মুদ্রার মান অতুলনীয়। এই মুদ্রা ঠিক এক শতাব্দী ধরে ঘুমানো রাজকুমারীর মতো কিংবদন্তী হয়ে উঠেছে।

;

ঘড়িয়ালের ডিম ফোটানোতে ব্যর্থতা অব্যাহত : কী বলছেন গবেষকরা?



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা ২৪.কম, রাজশাহী।
ঘড়িয়ালের ডিম / ছবি: বার্তা২৪

ঘড়িয়ালের ডিম / ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

৬ বছর আগে ২০১৭ সালে দুটি ঘড়িয়ালের জুটি বাঁধা হয়। উদ্দেশ্য ছিল এই প্রাণিটির বংশবৃদ্ধি করা। ঘড়িয়ালের প্রজনন উপযোগী পরিবেশও তৈরি করা হয়েছে। রাজশাহীর শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান বোটানিক্যাল গার্ডেনে নেওয়া হয়েছিল এই পদক্ষেপ। তবে এত প্রচেষ্টার সত্ত্বেও ঘড়িয়ালের বংশবৃদ্ধি এখনো স্বাভাবিকভাবে হচ্ছেনা। আবারও ডিম দিয়েছে এই বিলুপ্তপ্রায় প্রাণি, তবে তা ফোটাতে ব্যর্থ হয়েছে। এই অব্যাহত ব্যর্থতা নিয়ে গবেষকরা বিভিন্ন কারণ অনুসন্ধান করছেন এবং সমাধানের পথে এগিয়ে যাচ্ছেন। এই ছয় বছরের মধ্যে ৬ দফায় ডিম দিলেও কোনোবারই তা থেকে বাচ্চা ফোটানো সম্ভব হয়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘ডিম ফোটাতে ব্যর্থ হওয়ার পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে ডিমের সঠিক তাপমাত্রা বজায় রাখা, আর্দ্রতার মাত্রা, ডিম রাখার স্থান, পুষ্টি ঘাটতি এবং প্রজনন স্বাস্থ্য অন্যতম। গবেষকরা মনে করেন, ঘড়িয়ালের ডিম ফোটানোর জন্য নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার মাত্রা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব শর্ত পূরণ না হলে, ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানো সম্ভব হয় না। তাছাড়া, প্রজনন উপযোগী পরিবেশ তৈরি করলেও ডিমের যত্ন ও সঠিক পদ্ধতি অবলম্বনে কিছু ঘাটতি থাকতে পারে।‘

ঘড়িয়ালের ডিম / ছবি: বার্তা২৪

বিজ্ঞানীরা এ বিষয়ে আরও গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং সফল প্রজননের জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি পরীক্ষা করে দেখছেন। তাদের মতে, এসব সমস্যার সমাধান পাওয়া গেলে ঘড়িয়ালের বংশবিস্তার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। বিলুপ্তপ্রায় প্রাণিটির সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে সেই সমাধান। তারা আরও বলেন, ‘ঘড়িয়ালের প্রজনন না করানো গেলে দেশে এই প্রাণীটি একেবারেই বিলুপ্ত হয়ে যাবে। উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে আবারও ঘড়িয়ালের বংশ বিস্তারের চেষ্টা করানো হচ্ছে।’

দুই মাস আগে সরীসৃপ গবেষক বোরহান বিশ্বাস রুমন স্বেচ্ছায় ঘড়িয়ালের প্রজনন বিষয়ক কাজ শুরু করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘ডিম ফোটানোর জন্য উপযুক্ত পরিবেশের অভাব এখানে প্রধান সমস্যা। প্রজনন মৌসুমে ডিম দেয়ার অন্তত তিন মাস আগেই ঘড়িয়ালরা পলি মিশ্রিত মাটি এবং নরম ঘাস সমৃদ্ধ স্থান নির্বাচন করে। এরকম মাটি দিনে তাপ ধরে রাখে এবং রাতেও উষ্ণতা বজায় রাখে। তবে এখানে সেই পরিবেশ অনুপস্থিত।’

বোরহান বিশ্বাস রুমনের পরামর্শে পুকুরের এক পাশের মাটি পরিবর্তন করা এবং ঘাস লাগানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এছাড়া প্রজনন মৌসুমে ঘড়িয়ালগুলোকে দর্শনার্থীদের থেকে আড়ালে রাখার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। তার মতে ঘড়িয়ালগুলো যাতে নিরিবিলি পরিবেশে থাকতে পারে, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বোরহান বিশ্বাস রুমন আরও জানান, ‘গত ১০ বছরে দেশের বড় নদীগুলো থেকে অন্তত ২৮টি ঘড়িয়াল উদ্ধার করা হয়েছে, যেগুলো সবই ছোট বাচ্চা। ধারণা করা হচ্ছে, বন্যার কারণে এই ঘড়িয়ালগুলো তাদের মূল স্থান থেকে ভেসে এসেছে। মিঠা পানির এই প্রাণীগুলো বয়সের আকার অনেক বড় হয়।’

তিনি আরও বিস্তারিত বলেন, ‘প্রাপ্তবয়স্ক ঘড়িয়ালের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা এবং তাদের প্রজনন সফল করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধুমাত্র পরিবেশ উপযুক্ত হলেই, ডিমগুলো নিরাপদে ফোটানো সম্ভব হবে। এভাবে নতুন ঘড়িয়ালের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে, যা এই প্রজাতির সুরক্ষার জন্য অপরিহার্য।‘

গবেষক আশা করেন, প্রজননে সফল হলে নদীতে এদের ছেড়ে দিয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব। তবে তার আগে নিরাপদ ও দুষণমুক্ত নদী গড়ার ওপর জোর দিয়েছেন বোরহান। তার মতে, এখান থেকে অন্তত ২টি ঘড়িয়ালের বাচ্চা উৎপাদন করা গেলে, আগামী অর্ধশত বছরের জন্য হলেও প্রাণীটি টিকে থাকবে।’

রাজশাহীর শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান উদ্যানে কর্মরত শরিফুল ইসলাম জানান, ‘১৯৯০ সালে রাজশাহীর পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার হওয়া ঘড়িয়াল এই উদ্যানে রাখা হয়। তবে সেই দুটি নারী প্রজাতির হওয়ায় পদ্মা নামের একটি ঘড়িয়ালকে রেখে অন্যটিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় চিড়িয়াখানায় পাঠানো হয়। তার বিনিময়ে ২০১৭ সালে ঢাকা থেকে আনা হয় গড়াই নামে একটি ছেলে (নর) ঘড়িয়ালকে।’

ঘড়িয়াল / ছবি: বার্তা২৪

শরিফুল বলেন, ‘দীর্ঘ সময় পর তাদের দাম্পত্য সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। ফলে পদ্মা অন্তত ৬ বার ডিম পেড়েছে। কিন্তু সেগুলো কোনোভাবেই বাচ্চা ফোটানোর জন্য সফল হয়নি। অধিকাংশ ডিম পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে গেছে। চলতি বছরের মার্চ মাসে পদ্মা অন্তত ৩২টি ডিম পেড়েছিল। কিন্তু সেগুলোও পানিতে নষ্ট হয়ে ভেসে উঠেছে। এর আগেও একইভাবে ঘড়িয়ালের ডিমগুলো নষ্ট হয়েছে। গত বছর কিছু ডিম পানির পাশে বালিতে পাওয়া গিয়েছিল, কিন্তু সতর্কতার সাথে বালিতে পুতে রাখলেও তা সফল হয়নি। অনেক ক্ষেত্রেই ঘড়িয়াল নিজেই ডিমগুলো নষ্ট করে ফেলছে। ‘

জানা গেছে, ঘড়িয়ালের গড় আয়ু প্রায় ৬০ বছর। এদের সর্বাধিক দৈর্ঘ্য ২০ ফুট এবং ওজন ১৬০ কেজি পর্যন্ত পৌঁছায়। বয়স্ক ঘড়িয়ালদের রঙ সাধারণত কালচে ধূসর হলেও, বাচ্চাগুলোর রঙ উজ্জ্বল হয়। মার্চ ও এপ্রিল মাস ঘড়িয়ালের প্রজনন ঋতু হিসেবে পরিচিত। এসময় মা ঘড়িয়াল নদীর বালিয়াড়িতে ডিম পেড়ে তা বালি দিয়ে ঢেকে রাখে। একসঙ্গে ২০ থেকে ৯৫টি ডিম পাড়তে সক্ষম। সাধারণত ৭১ থেকে ৯৩ দিনের মধ্যে ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়।

রাজশাহীর পদ্মা ও গড়াই নদীর ঘড়িয়ালের বয়স প্রায় ৪০ বছর। ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের আগে রাজশাহীর পদ্মা নদীতে মিঠা পানির ঘড়িয়াল দেখা যেত। তবে, বাঁধ নির্মাণের পর নদীতে পরিবর্তন আসায় এই প্রাণীটি ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে চলে যায়।

;

ছোট যমুনায় বাড়ছে পানি, জলকেলিতে মগ্ন শিশুরা



শহিদুল ইসলাম, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নওগাঁ
জলকেলিতে মগ্ন শিশুরা / ছবি: বার্তা২৪

জলকেলিতে মগ্ন শিশুরা / ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

ছোট যমুনায় আসতে শুরু করেছে নতুন পানি। সেই পানিতেই দুরন্তপনায় মেতে উঠেছে একদল শিশু। কেউ দৌড়ে এসে নদীর পানিতে ঝাঁপ দিচ্ছে, আবার কেউ কাটছে সাঁতার। কেউ কেউ পানি হাতে নিয়ে খেলছে ছুড়াছুঁড়ি খেলা। এভাবেই জলকেলিতে মেতে উঠেছে সরল সহজ একদল ছোট্ট প্রাণ। চারিদিকে ভ্যাপসা গরম একটু প্রশান্তির আশায় নদীর পানিতে দলবদ্ধভাবে নেমে পড়েছে তারা।

জলকেলিতে মগ্ন শিশুরা / ছবি: বার্তা২৪

আজ মঙ্গলবার ( ৪ জুন) দুপুরের দিকে ইকরতাড়া ছোট যমুনার তীরে সরেজমিনে এই দৃশ্য দেখা যায়। কেউ নাচানাচি করছে, আবার কেউ ছোট্ট বল নিয়ে ছুঁড়ে মারছে আরেকজনের কাছে। যারা একটু বয়সে বড় তারা আবার পাশে রাখা বড় নৌকায় উঠে উলটো ডিগবাজি দিচ্ছে পানির মধ্যে। পাশ থেকে ডাকাডাকি করছে শিশুদের মা। এভাবেই দুরন্ত সময় কাটাচ্ছে চঞ্চল শিশুর পাল।

জলকেলিতে মগ্ন শিশুরা / ছবি: বার্তা২৪

জলকেলিতে মেতে উঠা রিমন (১৩ )নামের একজন শিশুর সাথে কথা হয়। সে জানায়, ‘আমাদের বাড়ি ইকরতাড়া গ্রামেই আর আমরা সবাই বন্ধু। যদিও অনেকে আছে যারা আমার বয়সে ছোট, কিন্তু এক-ই গ্রামে থাকি আমরা। সব সময় তাদের সাথেই খেলাধুলা করি বলে তারা আমাদের বন্ধু। প্রতিদিন সময় করে আসা হয়না। তবে মাঝেমধ্যেই আসি নদীতে নেমে গোসল করতে। নদীর পানি বাড়ার কারণে এসেছি গোসল করতে।’

;