ওয়াট রঙ খুন মন্দিরের ইতিহাস



অঞ্জনা দত্ত
-লেখক

-লেখক

  • Font increase
  • Font Decrease

(পূর্বপ্রবাশের পর)

কতদিন ধরে মনের মধ্যে পুষে রাখা যায় বলুন? তাই একবারে উগড়ে দিয়েছি। থাইল্যান্ড ভ্রমণের এই ইতিবৃত্ত পড়ার পরে আপনার মনে হবে যাই একবার ঘুরে আসি। থাইল্যান্ড তো আমাদের দেশ থেকে বেশি দূরে নয়।

‘ওয়াট’ শব্দের অর্থ থাই ভাষায় টেম্পল বা মন্দির। মসজিদকে Mosque বলা হয়। এটি থাইল্যান্ড এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলির বৌদ্ধ মন্দিরগুলিকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। বিশ শতকের শেষ দিকে, ওয়াট রং খুনের পূর্ববর্তী কাঠামো প্রায় ধ্বংসস্তূপে ছিল এবং বড় ধরনের মেরামতের প্রয়োজন ছিল। পুরানো মন্দিরের অনেক রেকর্ড পাওয়া যায়নি। এর পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু হয়েছিল, তবে তহবিলের অভাবে এটি সম্পূর্ণ করা যায়নি।

তখন চিয়াং রাইয়ের একজন শিল্পী, চালেরমচাই কোসিটপিপাট, মন্দিরটিকে সম্পূর্ণরূপে পুনর্নির্মাণ করার এবং ব্যক্তিগতভাবে এই প্রকল্পে অর্থায়ন করার সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৯৭ সালে নির্মাণ শুরু হয়েছিল এবং এখনও চলছে। মন্দিরটি ২০১৪ সালের ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল, তারপরে প্রকৌশলীদের একটি দল এটিকে নিরাপদ ঘোষণা না করা পর্যন্ত মন্দির বন্ধ ছিল।

হোয়াইট টেম্পল বা সাদা মন্দির বা ওয়াট রং খুন থাইল্যান্ডের সমকালীন, প্রচলিত ঐতিহ্যবিরোধী, ব্যক্তিমালিকানাধীন বৌদ্ধ মন্দিরের দৃষ্টিনন্দন এক শৈল্পিক উপস্থাপন। চালেরমাই কোসিটপিপাট প্রচলিত ধারণা ভেঙে এটিকে অন্য ধাঁচে নির্মাণ করার কথা ভাবেন। বিশেষ করে রঙের ব্যবহারে। মন্দিরের বাইরের অংশটি একটি উজ্জ্বল তুষার-সদৃশ সাদা, যা বিশুদ্ধতার প্রতিনিধিত্ব করার জন্য এবং মন্দিরের উজ্জ্বলতা বা বুদ্ধের শিক্ষাকে বিশ্বে প্রতিফলিত করার আকাঙ্ক্ষার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল।

সাদা রঙ থাই বৌদ্ধ মন্দিরের জন্য একটি অত্যন্ত অস্বাভাবিক রঙ। কেননা বৌদ্ধ মন্দিরগুলো সাধারণত ঐতিহ্যগতভাবে সোনালি (অনেকসময় সোনাও ব্যবহার করে থাকে) বা লাল রঙের হয়ে থাকে। তবে শিল্পী মনে করেন সোনা খুব ঘনিষ্ঠভাবে লোভ বা লালসার সাথে জড়িত। সাদা রঙের শক্তিশালী ব্যবহার মন্দিরের মিশনের সাথে আলোকিত হওয়ার প্রতীক।

মন্দিরটি নির্মিত হয়েছিল ৬.৪ একর জমিতে। এ পর্যন্ত মন্দিরটি নির্মাণে চালেরমাচাই এর চল্লিশ মিলিয়ন থাই বাথ ব্যয় হয়েছে। তিনি মন্দির সংলগ্ন এলাকাটি শিক্ষা ও ধ্যানের কেন্দ্র এবং গৌতম বুদ্ধের শিক্ষাগ্রহণের সুফল লাভের উপযোগী করে গড়ে তুলতে চেয়েছেন। কোসিটপিপাট মন্দিরটিকে বুদ্ধের প্রতি নিবেদন বলে মনে করেন এবং বিশ্বাস করেন যে এই প্রকল্পটি তাঁকে মানুষের মাঝে অমর করে রাখবে। কোসিতপিপাটের কাজের জন্য নিবেদিত একটি ছোট জাদুঘর মন্দিরের পাশেই অবস্থিত।

মন্দিরের মধ্যে স্থাপিত শিল্পটি থাই বৌদ্ধ এবং হিন্দু ঐতিহ্যের সংমিশ্রণ প্রদর্শন করে। শিল্পের সামগ্রিক চেহারা প্রায়শই এর জটিল বিবরণ এবং সাবধানে ফিলিগ্রেড প্রান্তের কারণে বিস্তৃত অলঙ্করণ হিসাবে বর্ণনা করা হয়। এটি পরাবাস্তবতার কিছু বৈশিষ্ট্যও প্রদর্শন করে এবং নাটকীয় চিত্রকল্পের ব্যাপক ব্যবহার করে। শৈল্পিক পছন্দগুলি অর্থের সমালোচনা এবং আধুনিক সমাজের সমস্যাগুলির মধ্যে নোঙর করা হয়। কোসিটপিপাট চায় মানুষ গ্রহে যে হিংসাত্মক প্রভাব ফেলছে তা প্রতিফলিত করুক।

মন্দিরের প্রবেশপথে, একটি পুকুর এবং একটি সরু সাদা সেতু রয়েছে যা মূল ভবনে যায়। এটি একটি খুব অলঙ্কৃত কাঠামো, প্রচুর ধর্মীয় চিত্র সমন্বিত। এটি কিন্নরদের দুটি মূর্তি দ্বারা সুরক্ষিত,থাই পৌরাণিক কাহিনীর অর্ধ-মানুষ এবং অর্ধ-পাখি প্রাণী যা মানুষকে রক্ষা করে বলে বিশ্বাস করা হয়। হোয়াইট টেম্পল ব্রিজের নকশার উপাদানগুলি যা ওয়াট রং খুনের মূল কাঠামোর দিকে নিয়ে যায় সেগুলির অনেকগুলি আধ্যাত্মিক নকশার উপাদান রয়েছে। সামগ্রিকভাবে, সেতুটি পেটুক অভ্যাস এবং লোভ এবং পেটুকতার সাথে যুক্ত পাপের পূর্বোক্ত প্রতীক।

মন্দিরের সামনে প্রদীপ কুমার দত্তের সঙ্গে লেখক

আরও পড়ুন: অসাধারণ এক ভ্রমণক্লান্ত দিবসের কাহিনি 

মন্দিরটির বিভিন্ন স্ট্রাকচার বিভিন্নধরনের অর্থ বহন করে আগেই বলেছি। যেমন সাদা মন্দিরের মূল ভবন উবোসোটে একটি ছোট হ্রদের উপরিস্থিত সেতু অতিক্রম করে যেতে হয়। সেতুটির সামনে অসংখ্য প্রসারিত হাত মানুষের অবারিত আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। সেতুটি লোভ, মোহ ও কামনা অতিক্রান্ত করে সুখলাভের শিক্ষা দেয়। হ্রদের সম্মুখভাগে বৌদ্ধ পুরাণের অর্ধ নরদেহ ও অর্ধ পক্ষিদেহ বিশিষ্ট দুজন কিন্নর দণ্ডায়মান আছে।

অনেক দর্শনার্থী খোদাই করা এবং ঊর্ধ্বমুখী হাতের দ্বারা গভীরভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয় যা মনে হয় সেতুটিকে ঘিরে রেখেছে যখন এটি মূল মন্দির কাঠামোর পথে একটি সেতু অতিক্রম করে। অনেকের জন্য,বেদনাদায়ক হাত নরকের দীর্ঘকাল ধরে রাখা মানসিক চিত্রগুলিকে উস্কে দেয়। তারা খালি খাবারের বাটি ধরে রাখে এবং যন্ত্রণায় চিৎকার করছে। অন্যরা একটি প্রসারিত মধ্যম আঙুল প্রদর্শন করে একটি পেরেক দিয়ে লাল আঁকা। কিছু দাতব্য এবং অপূর্ণ চাহিদা প্রতিনিধিত্ব করে।

স্বর্গের দ্বার: সেতু পার হয়ে দর্শনার্থীরা স্বর্গের দ্বারে এসে পৌঁছান। দ্বারটি মৃতের ভাগ্যনির্ধারণকারী মৃত্যু ও রাহু দ্বারা প্রহরাধীন। এছাড়া উবোসোট এর সামনে বেশ কয়েকটি ধ্যানমগ্ন বুদ্ধমূর্তি রয়েছে।

উবোসোট (গর্ভগৃহ): দর্পণ ও কাঁচ দ্বারা বহির্ভাগ সজ্জিত করা সম্পূর্ণ সাদা রঙের উবোসোট মন্দিরটির মূল স্থাপনা। এতে থাইল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যের প্রতিফলন ঘটেছে, যেমন ত্রিকোণাকার ছাদ এবং যত্রতত্র পৌরাণিক নাগ এর প্রতিকৃতি। মন্দিরের অভ্যন্তরে সাজসজ্জা শুদ্ধ সাদারং থেকে ক্রমশ উজ্জ্বল ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে থাকে। ম্যুরালে কমলা রঙের অগ্নিশিখা ও দানবের মুখ চিত্রায়িত হয়েছে।

মন্দিরের মূল ভবনটি একটি কাঠের ছাদ সহ একটি সাধারণ কংক্রিটের ফ্রেমযুক্ত কাঠামো। বাইরের সমস্ত অংশ কাঁচের সন্নিবেশ সহ সাদা প্লাস্টারে আবৃত ছিল। কাঁচটি বুদ্ধের জ্ঞানের প্রতীক হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছিল এবং সাদা রঙ দেবতার বিশুদ্ধতার প্রতিনিধিত্ব করে। ছাদ এবং দেয়ালে প্রচুর অলঙ্কার এবং অলঙ্করণের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী থাই স্থাপত্য উপাদান রয়েছে, যেমন তিন-স্তর বিশিষ্ট ছাদ এবং প্রান্তে স্টাইলাইজড সাপ।

সোনালি ভবন: এটি সোনালি রঙের একটি বহিঃস্থিত স্থাপনা। এটি একটি সুসজ্জিত সোনালি দালান, যা দেহের প্রতীক এবং সাদা উবোসোটটি মনের প্রতীক। সোনালি রং মানুষের ঐহিক কামনা-বাসনা ও টাকার লোভ বুঝিয়ে থাকে। সাদা ভবনটি নশ্বর সম্পদের মোহ দূর করে মনের প্রতি মনোযোগী হওয়ার তাৎপর্য বহন করে। থাই নাগরিকদের জন্য বিনামূল্যে প্রবেশের ব্যবস্থা আছে, এবং অ-থাই নাগরিকদের জন্য প্রবেশ ফি ১০০ বাথ। প্রকল্পে কেউ অনুদান দিতে পারবেন, তবে তা ১০০০০ বাথের বেশি নয়। চালেরমাচাই বৃহৎ দাতাগোষ্ঠী দ্বারা প্রভাবিত হতে চান না।

আর একটি কথা উল্লেখ না করলেই নয় ভারতীয় উপমহাদেশের সাথে তুলনা করলে তাহলো প্রত্যেকটি মন্দিরে (এটি ছাড়াও) ওয়াশরুমের খুব ভালো ব্যবস্থা রয়েছে। হোয়াইট টেম্পলে পাঁচ বাথ করে টিকেট কাটতে হয়। কোনো কোনো মন্দিরে তাও লাগে না। অথচ পরিচ্ছন্নতার কোনো ঘাটতি নেই।

আমাদের দেশে দেখার মতো মন্দির আছেই বা কয়টা? কিন্তু ভারতবর্ষ এই ব্যাপারে অনেক পিছিয়ে আছে। কমপ্লেক্সে শুধুমাত্র একটি বিল্ডিং আছে যেটি সাদা নয়, এবং সেখানেই শৌচাগার রয়েছে। অর্থ এবং ঐশ্বর্য নিয়ে মানুষের সাধারণ আবেশের সমালোচনা হিসাবে এটিকে সোনালি রঙ দেওয়া হয়েছে।

হোয়াইট টেম্পল দেখা শেষ হলে (শেষ কী আর হয়!) এলিসা ( ট্যুর গাইডের নাম) আমাদের লাঞ্চ সেরে নিতে বলল। তখন প্রায় বারোটা বাজে। এই অঞ্চলের লোকেরা ঠিক বারোটায় তাদের লাঞ্চ সেরে নেয়। এটি সিঙ্গাপুরেও দেখেছি। বেইজিং এও। ভিয়েতনামের কথা ঠিক মনে নেই। এবারের গন্তব্য গোল্ডেন ট্রায়াংগেল। তবে এককালের আফিমের চাষের জন্য বিখ্যাত গোল্ডেন ট্রায়াংগেল নিয়ে পরে লিখব।

এই পর্যন্ত ভারতীয় উপমহাদেশে এবং শ্রীলঙ্কা, মায়ানমারে, থাইল্যান্ডে এবং অন্যান্য জায়গায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মন্দির ও বৌদ্ধ মন্দিরের মধ্যে মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনে  Shwedagon  এর পরে চিয়াংরাই এর নীল বৌদ্ধ মন্দির অকল্পনীয় সৌন্দর্যমন্ডিত। আমার দেখা ভারতের কোনো মন্দিরের সাথে তুলনা করতে পারব না। তবে এটা ঠিক যে ভারতীয় মন্দিরগুলো যে ভাবধারাকে আশ্রয় করে নির্মিত হয়ে থাকে, বৌদ্ধ মন্দিরের থিম ভিন্ন ধর্মের।

উষ্ণ জলে পা ভেজানো ভ্রমণে নতুন মাত্রা আনে

আবার অনেকেই গৌতম বুদ্ধকে সনাতনধর্মের একজন অবতার মনে করেন। এটা মনে হয় ঠিক নয়। শাক্যমুনী তো সম্পূর্ণ অন্য ধর্মের প্রচার করেছিলেন। যার সাথে সনাতন ধর্মের তেমন কিছু মিল নেই। শুধু নির্বাণ লাভ বা মোক্ষ লাভের কথা বলা হয় দুই ধর্মে। এটি নিজেদের ভগবানের কাছে সম্পূর্ণভাবে আত্মসমর্পণ করে, তাঁর ওপর বিশ্বাস রেখে প্রতিটি কাজে ঈশ্বরের ওপর আস্থা রেখে কাজ করে গেলে আশা করা যায় একদিন সে বা তিনি নির্বাণ বা মোক্ষ লাভ করবেন।

এবারে চিয়াংমাইতে সনাতন ধর্ম এবং বৌদ্ধ ধর্মের মধ্যে একধরনের ককটেল আবিষ্কার করেছি৷ এই প্রথম দেখলাম বৌদ্ধ মন্দিরে আমাদের সিদ্ধিদাতা গণেশ বাবাজির ছবি এবং মা লক্ষ্মীর মূর্তি। দেখে খুব চমৎকৃত হলাম। বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে যারা সন্ন্যাস জীবনকে বেছে নেন... নানারকম পর্যায়ে হতে হয়। বেশ কষ্টের কিন্তু এই পথ।

কিন্তু আমাদের মতো আমজনতা মার্কা ধর্মপালনকারীরা বুঝে গিয়েছে জাগতিক পৃথিবীতে ধনদৌলত ছাড়া কোনো কাজ  হয় না। তাই মনে হয় বৌদ্ধ মন্দিরে গণেশ বাবাজী এবং মা লক্ষীর স্থান হয়েছে৷ বৌদ্ধদের মধ্যে অন্য কারণ থাকলে সেটি উল্লেখ করতে পারেন। তবে স্বীকার করতেই হবে সেই মন্দিরগুলোর স্থাপত্যশৈলী অনবদ্য, দৃষ্টিনন্দন।

ব্লু টেম্পল (ওয়াট রং সুয়া টেন) হল চিয়াং রাইয়ের সবচেয়ে নতুন মন্দির। রিমকক জেলার চিয়াং রাই শহর থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ২০০৫ সালে এই ধরনের মন্দির নির্মাণ করার কথা হয়েছিল। এটি ২০১৬ সালে সম্পন্ন হয়েছিল। (সমাপ্ত) 

লেখক: কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক ও পরিব্রাজক

   

সম্মানসূচক ডি. লিট উপাধি পেল 'বিড়াল'!



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে 'ম্যাক্স' নামের একটি বিড়ালকে সম্মানসূচক ‘ডক্টরেট অব লিটারেচার’ বা ডি. লিট উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে। দেশটির ভারমন্ট স্টেট ইউনিভার্সিটির ছাত্রদের স্নাতক অনুষ্ঠানে বিড়ালটিকে এই সম্মানসূচক ডিগ্রি দেওয়া হয়। তবে সেই অনুষ্ঠানে বিড়ালকে আমন্ত্রণ জানানোর নিয়ম না থাকায় উপস্থিত ছিল না ম্যাক্স। 

বিশ্ববিদ্যালয়টির কর্তৃপক্ষ বলছে, অনুষ্ঠানে বিড়ালটি উপস্থিত ছিল না। তাই বিড়ালের মালিক অ্যাশলে ডোর কাছে খুব শিঘ্রই এই ডিগ্রি পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।   

বন্ধুসুলভ এই বিড়ালটিকে তার ইঁদুর শিকারের দক্ষতা বা অতিরিক্ত ঘুমানোর জন্য নয় বরং তার সহচার্যের জন্যই স্বীকৃতি দিয়েছে।   বিড়ালটিকে এই ডিগ্রিতে ভূষিত করা হয়। ভারমন্ট স্টেট ইউনিভার্সিটির ক্যাসেলটন ক্যাম্পাস।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সম্মানসূচক ডি. লিট উপাধি পেল 'বিড়াল'!

বিশ্ববিদ্যালয়টি একটি ফেসবুক পোস্টের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ম্যাক্স দ্য ক্যাট, অনেক বছর ধরেই ক্যাসেলটন পরিবারের একজন আদুরে সদস্য। ভারমন্ট স্টেট ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসের প্রবেশদ্বারের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া রাস্তায় পাশেই বসবাস করে এক পরিবার। বিড়ালটি সেই পরিবারেরই পোষা।

বিড়ালের মালিক অ্যাশলে ডো বলেন, ‘বিড়ালটি ঠিক করেছে সে ক্যাম্পাসে যাবে। এরপর থেকেই সে কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আড্ডা দিতে শুরু করে। আর শিক্ষার্থীরাও তাকে আদর করতে শুরু করে।’

বিড়ালটি প্রায় চার বছর ধরে ক্যাম্পাসে আসা যাওয়া করছে। বিড়ালটিকে পথের ধারে শুয়ে থাকতে দেখলেই সবাই তার সঙ্গে সেলফি নেয়।

এমনকি সাবেক ছাত্ররাও যখনই ক্যাম্পাসে আসেন তারা তখনই বিড়ালটির খোঁজ নিতে তার মালিক ডো-এর কাছে যান। ডো তাদের কাছে বিড়ালটির মা হিসেবেই বেশি পরিচিত।

;

৯৩ বছর বয়সে বৃদ্ধের অবিশ্বাস্য কর্মকাণ্ড



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
বৃদ্ধ জন স্টারব্রুক

বৃদ্ধ জন স্টারব্রুক

  • Font increase
  • Font Decrease

শৈশবে খেলা, কৈশরে পড়ালেখা, যৌবনে চাকরি, মধ্যবয়সে সংসার, বৃদ্ধবয়সে একটা মাথা গোজার ঠাঁই খুঁজে অবসরে সময় কাটিয়ে দেওয়া। কপাল খারাপ থাকলে বিছানাতেই শোয়া বা আধশোয়া থেকে মৃত্যুর দিন গোণা। সাধারণত এভাবেই মানুষের জীবন কেটে যায়। অনেকে আবার মধ্যবয়সের পরেই নানারকম রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। অথবা শরীরকে বিভিন্ন রোগের আবাসস্থল বানিয়ে দুর্বল হয়েই বেঁচে থাকেন। তবে খড়ের গাদায় সূচের মতো দু-একজন থাকে যারা একেবারেই ব্যতিক্রম। তেমনভাবেই আলোচনায় এসেছেন ৯৩ বছরের এক বৃদ্ধ।  তার ব্যতিক্রমী জীবনযাপনের ধারাই আলোড়ন সৃষ্টি করেছে যুসমাজে।     

যুক্তরাজ্যের বাসিন্দা জন স্টারব্রুক। তিনি একজন ওয়াটার পোলো খেলোয়াড়। এটি মূলত পানির মধ্যে বাস্কেটবলের মতো একধরনের খেলা। এইখেলার সাথে কুস্তি খেলারও কিছুটা সাদৃশ্য রয়েছে। জনের বর্তমান বয়স ৯৩ বছর। এই বয়সেও যথেষ্ট সুস্থ এবং সবল তিনি। সমবয়েসীদের যেখানে সোজা হয়ে দাঁড়াতেও ২ জনের সহায়তা লাগে, সেখানে এখনো ম্যারাথনে দৌড়ে বেড়াচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বেশ দক্ষ সাঁতারুও বটে! ৮০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সাঁতার কাটা অব্যাহত রেখেছেন তিনি।

প্রায় শতাব্দি ছুঁই ছুঁই বৃদ্ধের এমন কারিশমা দেখে চোখ ছানাবড়া হবার উপক্রম। জন মূলত একজন সাঁতারু। পেশাগতভাবে না হলেও অনেক ছোটবেলা থেকেই তিনি সাঁতার কাটেন তিনি। দেশের সম্মানজনক অনেপ্রতিযোগীতায় একাধিক বার চ্যাম্পিয়নের খেতাবও জেতেন। চাকরি করেছেন ‘ব্রিটিশ আর্মি মেডিক্যাল কর্পস’-। সেখানেও সাঁতারের দক্ষতার কারণে তার বেশ সুনাম ছিল।   

ম্যারাথনে দৌড়াচ্ছেন ৯৩ বছরের জন

তবে সাঁতারের পাশাপাশি এখন ম্যারাথেনেও অংশগ্রহণ করেছেন জন। ৫২ টির বেশি ম্যারাথনের দৌড় শেষ করেছেন তিনি। জানালেন এই বয়সেও তার এমন চ্যালেঞ্জিং সব কাজের অভিজ্ঞতা। সুস্থতা ধরে রাখার রহস্যও ফাঁস করলেন সকলের কাছে। ব্রিটিশ নাগরিক জন বন্ধুদের কাছে ‘দ্য লিজেন্ডনামেই পরিচিত। একই নামে তাকে আখ্যায়িত করছে ব্রিটিশ গণমাধ্যমগুলো

জন স্টারব্রুক জানান, তিনি এখনো সপ্তাহের ৬ দিনই জিমে যাতায়াত করেন। বিশেষ কোনো খাদ্যাভাস নেই তার। খাদ্যতালিকায় প্রচুর পরিমাণে শাক-সবজি রাখতে পছন্দ করেন- এই যা। তাছাড়া প্রতিদিন সকালে পোরিজ খান তিনি। তবে তিনি কখনো ধূমপান করেননি। অ্যালকোহলও খুব সীমিত পরিমাণে সেবন করতেন। মূলত এই বয়সেও এটা সবল থাকার পেছনে বংশ পরম্পরায় পাওয়া নিজের জীন আসল কারণ- বিশ্বাস করেন জন।

কারণ যাই হোক, প্রানবন্ত এই বৃদ্ধ বিশ্ববাসীকে অবাক করেছে। তার মতোই দৃঢ় মানসিকতা ধরে রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন যুবক-যুবতীরা।

তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

;

প্রশ্ন আর উত্তর যেন পরস্পরের সাংঘর্ষিক!



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রশ্ন থাকে এক আর তার উত্তর হয় ভিন্ন। এমন উত্তরপত্রের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রায়ই দেখা যায়। এবার এমনই এক উত্তরপত্রের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ভাইরাল হয়েছে। যা দেখে রীতিমতো সবাই অবাক! তবে এই ঘটনার জন্ম দেওয়া দেশটি বাংলাদেশ নয়, প্রতিবেশী দেশ ভারতের একটি হিন্দি পরীক্ষায় ঘটেছে এমন কাহিনী।

ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রকাশিত ভিডিওতে পরীক্ষার্থীর এমন উত্তর দেখে শিক্ষককেও হাসতে দেখা যায়। 

ভিডিওটি ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা হয়েছে @n2154j অ্যাকাউন্টের একটি আইডি থেকে।

ওই ভিডিওতে দেখা যায়, একটি প্রশ্ন ছিল এমন, সংযুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণ (যৌগিক ব্যঞ্জনবর্ণ) কী? এই প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষার্থীটি একটি খাদ্য রূপক দিয়ে উত্তর দিল: "মাটার পনির এবং সব মিশ্র সবজি একত্রিত একটি খাবার।"

আরেকটি প্রশ্ন ছিল "অতীত কাল কাকে বলে?" এর উত্তরে ওই পরীক্ষার্থি লিখেছে, "যখন অতীত আমাদের অতীতের আকারে আসে, তখন তাকে অতীত কাল বলা হয়।"

ভিডিও অনুযায়ী আরও একটি প্রশ্ন ছিল "বহুবচন কাকে বলে?" এর উত্তরে সে লিখেছে "যে পুত্রবধূ তার শ্বশুরবাড়ির কথা শোনে তাকে বহুবচন বলে।"

শিক্ষার্থীটির এমন উত্তর শুনে হাসিতে ফেটে পড়েন শিক্ষক। এমন উত্তরগুলোকে শিক্ষক ভুল হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। যদিও এমন উত্তরের জন্য তাকে পুরোপুরি হতাশ করা হয়নি। তাকে ১০ মার্কের মধ্যে ৫ নম্বর দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষক পরে তার উত্তরপত্রে লিখে দিয়েছিলেন, এই ৫ মার্ক তোমার মস্তিষ্কের জন্য, ছেলে।

ভিডিওটি দেখে সবাইকে হাসির ইমোজি দিতে দেখা যায়। সম্পূর্ণ নম্বর না পাওয়ায় অনেকেই যুক্তি দিয়ে লিখেছেন, ছাত্রটি তার কৌতুক প্রতিভার জন্য পূর্ণ নম্বর পাওয়ার যোগ্য।

তবে এমন ঘটনা নিয়ে অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করে বলেছেন, ছাত্র এবং শিক্ষকের হাতের লেখা সন্দেহজনকভাবে একই রকম।

অন্য এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, "প্রশ্ন এবং উত্তর একই হাতের লেখা"। 

;

ফেনী শহরে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে কৃষ্ণচূড়া



মোস্তাফিজ মুরাদ, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ফেনী
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

'কৃষ্ণচূড়ার রাঙা মঞ্জুরি কর্ণে-আমি ভুবন ভুলাতে আসি গন্ধে ও বর্ণে' জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের এই মনোমুগ্ধকর গানে ফুটে উঠেছে কৃষ্ণচূড়ার সৌন্দর্য। কৃষ্ণচূড়া যেন প্রকৃতিকে দান করেছে লাল আভার অপরূপ সৌন্দর্যের মহিমা। সাথে গ্রীষ্মের উত্তাপে শহরে সৌরভ ছড়াচ্ছে নানা জাতের ফুল। তীব্র তাপদাহের পর কালবৈশাখী, এরপর মাঝারি বৃষ্টির মধ্যে ফুলের আগমন। এতে রঙের উল্লাসে মেতে উঠেছে ফেনী শহরবাসী।

ফেনী শহরের কোর্ট বিল্ডিং, এলজিইডি, পুলিশ লাইন, নবীন চন্দ্র সেন কালচারাল সেন্টার, ফেনী সরকারি কলেজ, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ফুটে আছে কৃষ্ণচূড়া। এটি একদিকে প্রকৃতিকে যেমন সাজিয়েছে অপরূপ সৌন্দর্যে, অন্যদিকে এর সৌন্দর্য মুগ্ধ করছে তরুণ-তরুণী, নানা শ্রেণি-পেশার মানুষসহ ফুলপ্রিয় পথচারীদের। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে, সরকারি দফতরসহ স্কুল-কলেজে কৃষ্ণচূড়া গাছের লাল ও উজ্জ্বল সবুজ পাতার সংমিশ্রণ দৃষ্টিনন্দন করে তুলেছে চারপাশ।


কৃষ্ণচূড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ফুলের ঘ্রাণে মুখরিত হয়ে আছে পুরো শহর। শহরের মূল সড়কের ডিভাইডারে পৌরসভার উদ্যোগে লাগানো হাসনাহেনা, রজনিগন্ধা, গন্ধরাজসহ নানা জাতের ফুল গাছে ফুল ফুটেছে। এটি একদিকে বাড়িয়েছে সৌন্দর্য অন্যদিকে হেঁটে কিংবা রিকশায় চলাচল করলে পাওয়া যায় এসব ফুলের সুঘ্রাণ।

ফেনী শহরের কৃষ্ণচূড়ার অপরূপ সৌন্দর্য দেখে ফুলপ্রিয় পথিকরা বলছেন, কৃষ্ণচূড়া ফুল প্রকৃতিকে অনন্য সাজে সাজিয়েছে। এই ফুলের সৌন্দর্যের কারণে পথচারীরা একবার হলেও এই ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য এর গাছের উপর নজর দিবে। পাশাপাশি তীব্র গরমে অন্যান্য ফুলের সুঘ্রাণে চারপাশ মুখরিত হওয়াতে ক্লান্তিতা কিছুটা হলেও কমছে।


তারা বলছেন, কৃষ্ণচূড়া ফুলের এই নান্দনিক দৃশ্য দেখতে এর গাছ রোপণ করা জরুরি। রাস্তা প্রশস্তকরণ, ঘর-বাড়ি নির্মাণসহ নানা প্রয়োজনে গাছ কেটে ফেলা হয়। অন্যান্য গাছ রোপণ করার পাশাপাশি কৃষ্ণচূড়া রোপণ করলে একদিকে যেমন সৌন্দর্য বাড়াবে অন্যদিকে পরিবেশ বান্ধব হবে।

সাজিদ হাসান নামের এক পথচারী বলেন, কৃষ্ণচূড়া একদিকে যেমন প্রকৃতিতে অপরুপ সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবে, আরেকদিকে গ্লোবাল ওয়ার্মিং কমাবে। সারাদেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে, আমার মতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে এই গাছটিও যুক্ত করা উচিত। তীব্র গরমের পর বৃষ্টি হলো, এরপর শহরে নানা রঙের ফুলের দেখা মিলছে, ফুলের ঘ্রাণে চলাচল করতেই ভালো লাগছে।

ফারজানা ইয়াসমিন নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ফুলের সৌন্দর্য সবাইকে মুগ্ধ করে। অন্যান্য ফুলের পাশাপাশি কৃষ্ণচূড়া ফুল আমার অনেক ভালো লাগে। আমাদের কলেজে বকুল তলা আছে, ক্যান্টিনের পাশে কৃষ্ণচূড়া গাছ আছে। সুযোগ পেলেই ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করি।

অনিক মোহন নামে একজন বলেন, রিকশায় করে যখন বাসায় ফিরি, শহরের রাস্তার মাঝে ভিডাইভারে লাগানো নানা জাতের ফুলের ঘ্রাণ মনকে আনন্দিত করে। রাতের বেলা শহর যখন নিস্তব্ধ হয়ে যায়, তখন এ ফুলের সৌন্দর্য কয়েকশ’ গুণ বেড়ে যায়।

সড়কের পাশে কৃষ্ণচূড়া লাগানো হলে সৌন্দর্য বাড়বে বলে মনে করেন পথচারী মিনহাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, রাস্তা প্রশস্তকরণের জন্য যে গাছগুলো কেটে ফেলা হয়েছে, ওই গাছগুলোর জায়গা কৃষ্ণচূড়ার গাছ লাগালে রাস্তার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবে।

একই কথা বলেন শহরের ব্যবসায়ী নাদিম আহমেদ। তিনি বলেন, সৌন্দর্য ও পরিবেশের কথা বিবেচনা করে এই গাছ রোপণ করা উচিত আমাদের। তাপমাত্রা যেভাবে বাড়ছে অন্যন্যা গাছ রোপণ করার পাশাপাশি কৃষ্ণচূড়া গাছ রোপণ করার উদ্যোগ নিতে হবে। যেগুলো শহরে আছে তাতেই সৌন্দর্য বেড়ে গিয়েছে কয়েকগুণ, আরও যদি লাগানো যায় ফুলে ফুলে ভরে উঠবে আমাদের শহর।

কৃষ্ণচূড়া মাদাগাস্কারের শুষ্ক পত্রঝরা বৃক্ষের জঙ্গলে পাওয়া যায়। যদিও জঙ্গলে এটি বিলুপ্ত প্রায়, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এটি জন্মানো সম্ভব হয়েছে। সৌন্দর্যবর্ধন গুণ ছাড়াও, এই গাছ উষ্ণ আবহাওয়ায় ছায়া দিতে বিশেষভাবে উপযুক্ত। কৃষ্ণচূড়া উদ্ভিদ উচ্চতায় কম (সর্বোচ্চ ১২ মিটার) হলেও শাখা-পল্লবে এটি বেশি অঞ্চল ব্যাপী ছড়ায়।

শুষ্ক অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে কৃষ্ণচূড়ার পাতা ঝরে গেলেও, নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে এটি চিরসবুজ থাকে। কৃষ্ণচূড়া ফুলের রং উজ্জ্বল লাল। পত্র ঝরা বৃক্ষ, শীতে গাছের সব পাতা ঝরে যায়। বাংলাদেশে বসন্ত কালে এ ফুল ফোটে। ফুলগুলো বড় চারটি পাপড়ি যুক্ত। পাপড়িগুলো প্রায় ৮ সেন্টিমিটারের মত লম্বা হতে পারে। কৃষ্ণচূড়া জটিল পত্র বিশিষ্ট এবং উজ্জ্বল সবুজ। প্রতিটি পাতা ৩০-৫০ সেন্টিমিটার লম্বা এবং ২০-৪০ টি উপপত্র বিশিষ্ট। কৃষ্ণচূড়ার জন্মানোর জন্য উষ্ণ বা প্রায়-উষ্ণ আবহাওয়ার দরকার। এই বৃক্ষ শুষ্ক ও লবণাক্ত অবস্থা সহ্য করতে পারে।

জানা যায়, অপরূপ সৌন্দর্য ছড়ানোর পাশাপাশি কৃষ্ণচূড়া ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এর পাতা, মূলের বাকল ও ফুল ভেষজ গুণাগুণ সম্পূর্ণ, যা জ্বর ও খুশকি নিরাময়ের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। ভেষজটি হেমিপ্লেজিয়া, আর্থরাইটিস এবং কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়। কৃষ্ণচূড়া গাছের শিকড়, বাকল এবং ফুল সবই পরজীবী সংক্রমণ নিরাময়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।

;