২ মার্চ: জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবস



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
১৯৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্বিবিদ্যালয়ের কলাভবনে প্রথম পতাকা উত্তোলন

১৯৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্বিবিদ্যালয়ের কলাভবনে প্রথম পতাকা উত্তোলন

  • Font increase
  • Font Decrease

পতাকা একটি দেশের রাষ্ট্রীয় প্রতীক। বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার পরিচয়। প্রতিটি স্বাধীন দেশের একটি করে জাতীয় পতাকা থাকে। সেই দেশের মানুষ, সংস্কৃতি এবং ইতিহাসের প্রতিনিধিত্ব করে জাতীয় পতাকা। সোনার বাংলার প্রকৃতি ফুটে উঠেছে লাল-সবুজ রঙের পাতাকায়। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধের পর অর্জিত স্বাধীন দেশের রক্তিম সূর্য সবুজ প্রকৃতির মাঝে উদিত হয়েছে পতাকার লাল বৃত্তের মাধ্যমে। তার সঙ্গে সুজলা-সুফলা বাংলার মাটিতে ফলা সবুজ প্রকাশ করে চির-নবীন বাংলা। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা প্রথম উত্তোলন করা হয় ১৯৭১ সালের ২ মার্চ।     

প্রথম পতাকা উত্তোলনের ঘটনাকে স্মরণ করে ২ মার্চ বাঙালিরা ‘জাতীয় পতাকা দিবস’ উদযাপন করেন। দিনটিকে 'পতাকা উত্তোলন দিবস'ও বলা হয়ে থাকে। এদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনে প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত পতাকা উত্তোলন করে বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশের কথা সগৌরবে জানিয়ে দেওয়া হয়।

১৯৭১ সালে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত হওয়ার কারণে বাঙালিরা আন্দোলনে নামে। শান্তিপ্রিয় বাঙালি জাতি স্বাধীনতার স্পৃহায় হয়ে ওঠে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মতো দৃঢ়।

নিজেদের সেই চেতনা ফুটিয়ে তুলতে এবং সমগ্র বাঙালি জাতিকে জাগ্রত করতে তরুণ ছাত্রনেতারা সিদ্ধান্ত নেন, নিজেদের পরিচয় হিসেবে পতাকা উত্তোলনের। ২ মার্চের পতাকা আমাদের মুক্তির প্রতীক হয়ে মুক্তিযুদ্ধের লড়াই শুরুর দিকনির্দেশনা হয়ে ওঠে পরাধীন পাকিস্তানের শাসনামলে।

স্বাধীন বাংলার পতাকা

১৯৭১ সালের ২ মার্চ সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় সমাবেত হন ছাত্র নেতারা। সবার দৃষ্টিগোচর করার উদ্দেশ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাদে পতাকা উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সেখানে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কলাভবনের দক্ষিণ-পশ্চিমের গাড়ি বারান্দা থেকে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করেন ডাকসু‘র তৎকালীন সভাপতি আ.স.ম. আবদুর রব। এছাড়াও ডাকসু’র তখনকার জিএস আব্দুল কুদ্দুস মাখন, ছাত্রলীগ প্রধান নূর-এ-আলম সিদ্দিকী এবং ছাত্রলীগ নেতা শাহজাহান সিরাজসহ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের অন্যান্য নেতারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।  

পতাকাটি তৈরি করেছিলেন প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয় (বর্তমান বুয়েট)-এর ছাত্ররা। বঙ্গবন্ধুকে জানিয়ে ১৯৭০ সাল থেকেই এই পতাকা বানানোর কাজ শুরু হয়েছিল। সিরাজুল আলম খান, কাজী আরেফ আহমেদ, শিবনারায়ণ দাসসহ আরো কিছু ছাত্রদের সমন্বয়ে একটি দল গঠন করা হয়। তাদের নেতৃত্বেই পতাকা তৈরি এবং উত্তোলনের সম্পূর্ণ কাজ সম্পন্ন হয়। (বিবিসি বাংলার তথ্যমতে)   

মুক্তিযদ্ধের আগেই উত্তোলিত হয় স্বাধীন বাংলার পতাকা
 

মূল পতাকার রূপকার হিসেবে বিবেচনা করা হয়, সেই দলের অন্যতম সদস্য শিব নারায়ণকে। ৬ জুন রাতে বর্তমান সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের (তৎকালীন ইকবাল হল) ১১৬ নম্বর কক্ষে শিবনারায়ণ দাসসহ অন্যান্যরা পতাকার ডিজাইন করার উদ্দেশ্যে বসেন। তথ্যমতে, ২২ জন সদস্যের সেই দল রাত ১১টার পর এই নকশার কাজ শেষ করেন।    

২ মার্চ পতাকা উত্তোলনের পর থেকে স্বাধীনচেতা বাঙালিদের কাছে প্রায়ই দেখা যেতো পতাকা। বিভিন্ন আন্দোলনসহ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পুরোটা সময় বাঙালির মুক্তিলাভের অনুপ্রেরণা হয়েছিল স্বাধীন বাংলার পতাকা। বাঙালিদের রুখতে বরাবরই মরিয়া হয়ে ছিল পাকিস্তান সরকার। ১৯৫২ সালে শহীদ মিনার ভাঙা বা বাংলা নববর্ষে আলপনা আঁকায় বিধিনিষেধ থেকে শুরু করে, বাংলার ঐতিহ্য রক্ষাকারী এবং স্বাধীনতা প্রত্যাশী বাঙালির সব পদক্ষেপেই বাধা দিয়েছে পাকিস্তানি সরকার। সেই দাসত্ব থেকে মুক্তি পায়নি জাতীয় পতাকাও।

২৩ মার্চ, ১৯৭১ বঙ্গবন্ধু প্রথমবার নিজ হাতে পতাকা উত্তোলন করেন

মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে থেকেই স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করা ভবনে হামলা চালানো হয়। 'অপারেশন সার্চলাইট' বাস্তবায়ন এবং গ্রেফতার হওয়ার দু’দিন আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজহাতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন ২৩ মার্চ।   

এরপর ২৫ মার্চের কালো রাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর আচমকা হামলার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। জাতীয় পতাকা বুকে নিয়ে লাখ রাখ বাঙালি যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। অবশেষে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের বুকে স্বীকৃতি পায়।   

বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা

১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর সরকার শিল্পী কামরুল হাসানকে পতাকার নকশা সংস্করণের কাজ দেন। পতাকার মানচিত্র বাদ দিয়ে সূক্ষ্ম এবং সঠিক মাপসহ নকশা  করেন কামরুল হাসান। সবুজ জমিনে টকটকে লাল রক্তিম সূর্য রাঙা পতাকা সেই বছরের ১৭ জানুয়ারি সরকারিভাবে গৃহীত হয়। অর্ধশতাধিক বছর ধরে বাঙালির ত্যাগ, ইতিহাস এবং সংস্কৃতি বয়ে চলেছে আমাদের এই- জাতীয় পতাকা।

   

বাঙালির চৈত্র সংক্রান্তি



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
চৈত্র সংক্রান্তি / ছবি : সংগৃহীত

চৈত্র সংক্রান্তি / ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

চৈত্র মাসের শেষ দিনে পালন করা হয় চৈত্র সংক্রান্তি। বাঙালি ঐতিহ্যের অন্যতম উৎসব সংক্রান্তি। পুরাতনকে বিদায় দিয়ে জীর্ণতা দূর করার আনন্দ উৎসব এই সংক্রান্তি। চৈত্র মাসের শেষ দিনে সংক্রান্তি পালন করার মাধ্যমে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত হয় বাঙালিরা।

ঘরবাড়ি, পথঘাট সেজে ওঠে রঙিন আলপনায়। ধানের ছড়া, কলসি, ফুল, লতা-পাতা নানারকম নকশা ফুটে ওঠে আলপনায়। তার সাথে বাঘ, পেঁচা, পাখি নানারকম রঙিন মুখোশ তৈরি করা হয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে মঙ্গল শোভাযাত্রা এবং র‌্যালিতে নামে মানুষ।     

এছাড়াও খাওয়া দাওয়া আছেই! মুড়ি, মুরকি, নিমকি, বাতাসা, নকুলদানা, গুড় সহ নানারকম খাবারের আয়োজন করা হয় সংক্রান্তিতে।ৎ

চৈত্র সংক্রান্তি

বাঙালির উৎসব হলেও হিন্দু ধর্মানুসারীদের জন্য একটি ধর্মীয় উৎসবও বটে। লোকাচার অনুযায়ী এই দিনকে পুণ্য লাভের সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই সংক্রান্তিতে নানারকম হিন্দুধর্মীয় রীতিও পালন করা হয়। নতুন বছর যেন ভালোভাবে কাটে এই প্রার্থনায় ব্রত করা হয়। তাছাড়া দান সেবাও করে তারা। সংক্রান্তির আগের দিন তারা নীল পূজা করে, যা মূলত শিব নীলকণ্ঠের উপাসনা। এছাড়া, সংক্রান্তির দিন শিবের গাজন পূজা করা হয়। অনেক স্থানে একে চড়ক পূজাও বলা হয়।  

সময় যত যাচ্ছে মানুষ তত আধুনিক হচ্ছে। তবে কেমন যেন এক গোড়ামি ধারণা মানবমনে ধারন করা হয়েছে যে, পশ্চিমা সংস্কৃতি মানেই আধুনিক! নিজস্ব সংস্কৃতির লালন পালনের মাধ্যমেও যে আধুনিকতা বহন করা যায় যা যেন সকলে ইচে্ছ করেই ভুলে যেতে চায়। আগে, বঙ্গগ্রামে প্রতিটি বাংলা মাসেই সংক্রান্তি পালন করা হতো। তবে সময়ের সাথে সাথে সেই ঐতিহ্য বিলুপ্ত প্রায়। কোনো রকমে বেঁচে আছে বছরের দুই মাসের সংক্রান্তি। কনকনে শীতে পৌষ মাসের শেষ দিন পালন করা হয় পৌষ সংক্রান্তি। অন্যদিকে বছরের শেষ মাস, চৈত্রের শেষেও বাঙালিরা চৈত্র সংক্রান্তি উদযাপন করে।     

;

‘আলোর স্কুল’ জামাল স্যারের স্বপ্নের পাঠাগার



মায়াবতী মৃন্ময়ী, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
জামাল স্যারের পাঠাগার উদ্বোধন করছেন ড. মাহফুজ পারভেজ/ বার্তা২৪

জামাল স্যারের পাঠাগার উদ্বোধন করছেন ড. মাহফুজ পারভেজ/ বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

স্বপ্ন শুরু হয়েছিল শৈশবে ফেনী শহরে। তারপর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রজীবনে। সর্বশেষে চট্টগ্রাম শহরের পাঁচলাইশে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশে পথ ও পন্থা খুঁজছিলেন তিনি। চেষ্টা করছিলেন তাদের মননশীলতার চর্চাকে উন্মুক্ত করতে। সেই কাজ করতে গিয়ে সরকারি চাকরি বা ব্যবসায় নিজেকে নিয়োজিত করেন নি। থেকে গেছেন ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যেই। তার আসল নাম কাজী জামালউদ্দিন বলে এখন কম লোকেই ডাকে। সবাই বলে জামাল স্যার, চট্টগ্রামের পাঁচশাইশের জামাল স্যার।

জামাল স্যার দিন-রাত এক করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গ দেন। তাদের দুর্বলতা কাটাতে চিন্তা-ভাবনা ও চেষ্টা করেন। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিয়ে দফায় দফায় বসেন মটিভেশনাল সেশানে। তারপর একজন ছাত্র বা ছাত্রী যখন শিক্ষাজীবনে সফলতার সঙ্গে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে সক্ষম হয়, তখন তার চোখের কোণে দেখা যায় আনন্দাশ্রু। আর পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীটির পরিবার জুড়ে বয়ে যায় খুশির হিল্লোল। ‘এমন পরিস্থিতি আমার জীবনের সবচেয়ে সুখের সময়‘, বললেন জামাল স্যার।

‘সঠিক দিক-নির্দেশনা না পেয়ে অনেক সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থী সফল হতে পারে না। তারা হতাশ ও জীবনবিমুখ হয়ে যায়। স্কুল ও বাবা-মা ব্যস্ততার কারণে তাদের সমস্যাগুলো দরদ ও মনোযোগ দিয়ে দেখার সময় ও সুযোগ পান না।  ফলে সম্ভাবনা থাকার পরেও অনেকেই সফল হয় না। আমি তাদের দুর্বলতা ও সমস্যাগুলো নিয়ে কাজ করি। সমস্যাকে সম্ভাবনায় রূপান্তরিত করি,‘ জানালেন জামাল স্যার।

তিনি বলেন, ‘আমি গতানুগতিক কোচিং এ বিশ্বাস করি না। আমি মনে করি, প্রতিটি সিলেবাস ও পাঠ্যক্রমে কিছু অপূর্ণতা থাকায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কার্যকর সংযোগ হয় না। এই গ্যাপটি ধরিয়ে দিতে পারলেই সমস্যা পরিণত হবে সম্ভাবনায়।‘

বই উপহার পেলো শত শিক্ষার্থী/বার্তা২৪

জামাল স্যারের মতে, ‘প্রতিটি শিক্ষার্থী একই রকমের সমস্যার সম্মুখীন হয় না। তাদের সমস্যা বহুমাত্রিক। আবার স্কুলগুলোর সমস্যাও নানামুখী। এগুলোকে বিচার-বিশ্লেষণ করে সংযোগ সাধন করা আমার কাজ।‘

তিনি জানান, ‘আমাদের স্কুলগুলো মূলত আধাদিনের। বাকী সময় শিক্ষার্থী থাকে মাঝিবিহীন নৌকার মতো। অভিভাবকরাও নিজের কাজের শেষে সন্তানদের যথেষ্ট সময় দিতে পারেন না। এতে শিক্ষার্থীরা জীবনের মূল পথ খুঁজে পায় না। অথচ তাদেরকে সঠিক দিশা দেখানো হলে দেশের মানবসম্পদ বিকাশের কথ মসৃণ হবে। তাদের অন্যান্য সুপ্ত প্রতিভা এবং লাইফস্কিল ডেভেলপ করলে সে শুধু ভালো ছাত্রই হবে না, ভালো ও সফল মানুষ হবে।‘

এ কারণেই বিকল্প স্কুলের মতো একটি লাইব্রেরি গড়েছেন তিনি। শিশু-কিশোরদের উপযোগী বিষয়ভিত্তিক সমায়ক বই রয়েছে সেখানে। তার মতে, ‘ইন্টারনেটে অনেক ফেক ও অসম্পূর্ণ তথ্য থাকে। শুধু নেটে বসে হাজারো তথ্যের অনুসরণ করলে শিক্ষার্থীরা সৃজনশীল চিন্তা ও মননশীল প্রচেষ্টার শক্তি হারাবে। এজন্য তাদেরকে বই ও পাঠাগার মুখী করতে হবে।“

চট্টগ্রামের পাঁচলাইশের পাশাপাশি নিজের জন্মস্থান ফেনী শহরেও জামাল স্যার শিক্ষা নিয়ে কাজ করছেন। গড়ে তুলেছেন ভিন্নধর্মী, জীবনমুখী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ভাষা আন্দোলনের অমর স্মৃতি বিজড়িত ফেব্রুয়ারি মাসে মাজহারুন-নূর ফাউন্ডেশন-এর সঙ্গে একযোগে শতাধিক শিক্ষার্থীকে বই উপহার দিয়েছেন তিনি। গত ৯ ফেব্রুয়ারি বিকালে বন্দরনগরী চট্টগ্রামর পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার ডা.সালাউদ্দীন ভবনে আনন্দমুখর পরিবেশে এই বই উপহার উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। সেদিনই আনুষ্ঠানিকভাবে তার পাঠাগারের উদ্বোধন করা হয়।

চট্টগ্রামে সৃজনশীল পাঠদানের পথিকৃৎ জামাল স্যারের সভাপতিত্বে বই উৎসব ও পাঠাগার উদ্বোধনে প্রধান অতিথি ছিলেন মাজহারুন-নূর ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান, বার্তা২৪.কম‘র অ্যাসোসিয়েট এডিটর, চট্টগ্রাম সেন্টার ফর রিজিওনাল স্টাডিজ, বাংলাদেশ (সিসিআরএসবিডি)-এর নির্বাহী পরিচালক এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মাহফুজ পারভেজ। বিশেষ অতিথি ছিলেন আন্তর্জাতিক ইসলামিক ইউনিভার্সিটি চট্টগ্রামের প্রফেসর ড. আবুল কালাম আজাদ। উপস্থিত ছিলেন আরো অনেক শিক্ষাবিদ ও অভিভাবক।

অনুষ্ঠানে ড. মাহফুজ পারভেজ বলেন, সভ্যতার আদি সূচনা থেকে আজকের অত্যাধুনিক জগত পর্যন্ত গ্রন্থাগার বা লাইব্রেরির উপস্থিতি বিদ্যমান এবং মানব জাতির সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক অগ্রগতি ও বিকাশের প্রতীক রূপে বিবেচিত। লাইব্রেরি-বিহীন সমাজের ঐতিহ্যগত শেকড়, সাংস্কৃতিক দ্যুতি ও বুদ্ধিবৃত্তিক ভিত্তি দুর্বল। প্রাচীন সভ্যতা থেকে আজকের পৃথিবীতে বিশেষায়িত ও সাধারণ গ্রন্থাগার যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে গণগ্রন্থাগার বা পাবলিক লাইব্রেরি, যা সভ্যতার চাকাকে সচল রেখেছে এবং মানব জাতির মেধার ভাণ্ডারকে প্রজন্মব্যাপী সম্প্রসারিত করে চলেছে। জামাল স্যারের স্বপ্নের পাঠাগার আসলে একটি ‘আলোর স্কুল‘।

;

১৮ ক্যারেটের সোনার টয়লেট চোরকে পাওয়া গেল!



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ডশায়ারের ৩০০ বছরের পুরনো বাড়ি ব্লেনহিম প্যালেস থেকে চুরি হওয়া একটি সোনার টয়লেটের চোরকে ধরতে সক্ষম হয়েছে দেশটির পুলিশ। ওই টয়টেলটি ১৮ ক্যারাটের সোনা দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। তৎকালীন সোনার দাম অনুযায়ী এর মূল্য ছিল ৪৮ লাখ পাউন্ড। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার অর্থ দাঁড়ায় ৬৬ কোটি ৪৮ লাখ ৪ হাজার ৮০০ টাকা।

দ্য গার্ডিয়ানের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানায় ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি।

এনডিটিভি জানায়,  এ ঘটনায় নর্থহ্যাম্পটনশায়ারের ওয়েলিংবোরোর বাসিন্দা জেমস 'জিমি' শিন (৩৯) নামে এক ব্যক্তি আদালতে তার দোষ স্বীকার করেছেন। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ওই টয়লেটটি চুরি হয়। ওই সময় অক্সফোর্ডশায়ারের বাড়িটিতে ইতালির শিল্পী মাউরিজিও ক্যাতেলানের 'ভিক্টরি ইজ নট এন অপশন' প্রদর্শনীতে টয়লেটটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছিল। সেখান থেকেই চুরি হয় সেটি।

পুলিশের তৎকালীন রিপোর্ট অনুযায়ী, এটি প্রাসাদের সুয়ারেজ লাইনের সাথে যুক্ত থাকায় চুরির সময় উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি পানিতে প্রাসাদের নির্দিষ্ট অংশ ভেসে গিয়েছিল।

ব্লেইনহিম প্রাসাদের এক মুখপাত্র জানান, টয়লেটটির নামকরণ করা হয়েছিল ‘আমেরিকা’ নামে। ওই প্রাসাদের যে ঘরে উইংস্টন চার্চিল জন্মেছিলেন, তার পাশেই এটি স্থাপন করা হয়েছিল।

জেমসকে এইচএমপি ফাইভ ওয়েলস থেকে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে অক্সফোর্ড ক্রাউন আদালতের শুনানিতে যুক্ত করা হয়েছিল। এইচএমপি ফাইভ ওয়েলস যুক্তরাজ্যের একটি কারাগার।

এই অভিযোগের ভিত্তিতে শিন বর্তমানে ১৭ বছরের সাজা ভোগ করছেন। এর সঙ্গে সম্পৃক্ত বাকি তিনজন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে তাদের বিচার হবে বলেও জানানো হয়।

তবে এই ঘটনা এবারই শিনের প্রথম নয়। এর আগে যুক্তরাজ্যের নিউমার্কেট এলাকার জাতীয় ঘোড়দৌড়-বিষয়ক জাদুঘর থেকে চার লাখ পাউন্ড দামের ট্রাক্টর ও অত্যন্ত দামি স্মারক বস্তু চুরি করেছিলেন জেমস।

;

কী ছিল টাইটানিকের সকাল-বিকাল-রাতের খাবারের তালিকায়?



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আজ থেকে প্রায় ১১২ বছর আগে উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে একটি বরফ খণ্ডের সাথে ধাক্কা লেগে ডুবে যায় তৎকালীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় জাহাজ টাইটানিক। বিলাসবহুল ওই প্রমোদতরী নিয়ে এখনো আগ্রহের কমতি নেই মানুষের মধ্যে। এতো সময় পরও এখনো টাইটানিক সম্পর্কে অনেক কিছুই মানুষের অজানা। তবে এবার বের হয়েছে এক নতুন তথ্য।

সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে টাইটানিক জাহাজের প্রথম ও তৃতীয় শ্রেণির যাত্রীদের খাবারের তালিকা।

এক্স হ্যান্ডলে ফ্যাসিনেটিং নামের একটি পেজে প্রকৃত মেনুকার্ডের দুই পাশের ছবি পোস্ট করা হয়েছে। সেই সূত্র ধরে প্রতিবেদন প্রকাশ করে গণমাধ্যমটি।

ওই ছবিতে সকালের নাশতা, দুপুর ও রাতের খাবারের মেনু দেওয়া ছিল।

প্রথম শ্রেণির মেনুকার্ডের শিরোনাম ছিল ‘আরএমএস টাইটানিক’। তারিখ ১৪ এপ্রিল, ১৯১২। প্রথম শ্রেণির খাবারের তালিকায় কনসোমে ফার্মিয়ার, ফিলিটস অব ব্রিল, চিকেন আ লা ম্যারিল্যান্ড, লবণে জারিত গরুর মাংস, ককি লিকি সবজি ও ডাম্পলিং ছিল।

‘ফ্রম দ্য গ্রিল’ ক্যাটাগরিতে ছিল গ্রিলড মাটন চপ, ম্যাসড, ফ্রায়েড এবং বেকড জ্যাকেট পটেটোজ, কাস্টার্ড পুডিং, আপেল মেরিঙ্গু ও প্যাস্ট্রি।

বুফেতে স্যামন মেয়োনিজ, পটেড চিংড়ি, নরওয়েজিয়ান অ্যাঙ্কোভিস সসড হেরিংস, প্লেইন এবং স্মোকড সার্ডিনস, রোস্ট গরুর মাংস, মসলাযুক্ত গরুর মাংসসহ ছিল নানা পদ।

তৃতীয় শ্রেণির সকালের নাশতার মেনুতে ছিল ওটমিল পোরিজ ও দুধ, স্মোকড হেরিংস, জ্যাকেট আলু, হ্যাম ও ডিম, গরম–গরম রুটি ও মাখন, মার্মালেদ, সুইডিশ রুটি, চা ও কফি। রাতের খাবারে ছিল চালের স্যুপ, রুটি, ব্রাউন গ্রেভি, কেবিন বিস্কুট, মিষ্টি ভুট্টা, সেদ্ধ আলু, পাম পুডিং, মিষ্টি সস ও ফল।

ছবি দুটি দিয়ে পোস্টের ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, টাইটানিক ডুবে যাওয়ার আগের দিন। ১৪ এপ্রিল, ১৯১২। টাইটানিক ১ম শ্রেণীর খাবারের তালিকা বনাম ৩য় শ্রেণির খাবারের তালিকা।

পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাতারাতি ভাইরাল হয়ে যায়। এতে অনেকেই নিজেদের অভিমত প্রকাশ করেছেন। 

একজন লিখেছেন, তৃতীয় শ্রেণীর মেনু আমার কাছে ভাল লেগেছে।

অন্য একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, লক্ষ্য করেছেন ৩য় শ্রেণির মেনুতে রাতের খাবারের জন্য গ্রুয়েল (দুধ অথবা পানিতে ফোটানো তৈরি তরল খাবার) অফার করা হয়। এটা সবার কাছে ভালো খাবার নাও হতে পারে।

উল্লেখ্য, ১৯১২ সালের ১৪ এপ্রিল রাতে উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে এক বরফ খণ্ডের সাথে ধাক্কা লেগে ডুবে যায় জাহাজটি। তখন জাহাজটিতে থাকা প্রায় এক হাজার ৫০০ যাত্রী মারা যায়।

;