কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে বগুড়ার মৃৎশিল্প



মাহবুবা পারভীন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বগুড়া
ছবি: বার্তা ২৪

ছবি: বার্তা ২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার আড়িয়া পালপাড়া গ্রামে প্রবেশ করতেই মাটির মিষ্টি পোড়া ঘ্রাণে মন ভরে যায়। আর গ্রামের রাস্তার দুই পাশে দেখা মেলে মাটির ঢিপি, আর চারিধারে সাজিয়ে রাখা বাহারি মাটির তৈজসপত্র।

গ্রামের নারী, শিশু, বৃদ্ধ বয়সী নারী পুরুষও মৃৎশিল্পের কাজ করেন। সাংসারিক কাজের ফাঁকে তারা বিভিন্ন তৈজসপত্র তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

কেউ মাটি কাটছেন, কেউ মাটির গোলা তৈরি করছেন। কেউবা তৈরি করা তৈজসপত্রগুলো চুল্লিতে পোড়াচ্ছেন, আবার কেউ রং করছেন। তবে দই এর সরা গ্লাস, বাটি, খুটিই তাদের বাপ দাদার আমলের পেশাকে টিকিয়ে রেখেছে।


আড়িয়া পালপাড়া গ্রামের মৃৎকারিগর বিশু পাল বলেন, আজ থেকে প্রায় দুই যুগ আগেও তার এখানে তৈরি হতো বড়-ছোট পাতিল, কলসি, সানকি প্রভৃতি। কিন্তু এগুলো আর ক্রেতারা কিনতে আগ্রহী নন বলে তৈরি করা হয় না। তবে দই ব্যবসায়ীদের জন্য তারা এখনও টিকে আছেন। তিনি জানান, এ গ্রামের ১২০টি পরিবার মৃৎশিল্পের সঙ্গে জড়িত। এখানকার দইয়ের জন্য তৈরি সানকি, সারা ও ছোট কাপ বগুড়াসহ গাইবান্ধা এবং কুমিল্লায় বিক্রি করা হয়। একটি পরিবারের প্রায় পাঁচজন মিলে প্রতিদিন এক হাজার দইয়ের গ্লাস তৈরি করা যায়। বিক্রি করা যায় প্রায় এক হাজার ৩০০ টাকায়।

প্লাস্টিক, সিরামিক, মেলামাইন, অ্যালুমিনিয়ামসহ বিভিন্ন ধরণের পণ্যের ভিড়ে কমে গেছে মাটির তৈরি তৈজসপত্রের কদর। আধুনিকতার ছোঁয়ায় বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প প্রায় বিলুপ্তির পথে। তবুও বাপ-দাদার পেশাকে টিকিয়ে রাখতে এখনও অনেকেই কাজ করছেন মৃৎশিল্পী হিসেবে। আল্পনা পাল নামের এক নারীকে দেখা যায় মাটির তৈরি তৈজসপত্র রোদে শুকিয়ে দিতে। আল্পনা বলেন, ' আমার স্বামীর বাপ, দাদা এই মৃৎশিল্পের সাথে জড়িত ছিলেন। আমার স্বামীও মৃৎশিল্পী।'

কল্পনার তিন মেয়ে আর দুই ছেলে। কল্পনার স্বামী মাটির তৈজসপত্র তৈরি করেন আর কল্পনা ও তার ছেলেমেয়েরাও একইভাবে এই কাজ করেন। এই শিল্প ছাড়া তারা অন্য কাজ করতে পারেন না।

সংসারের কাজের পাশাপাশি এই এলাকার অনেক নারীকেই দেখা যায় দই এর হাঁড়ি তৈরি করতে। সুমন নামের এক মৃৎশিল্পী বলেন, ‘মাটির হাঁড়ি পাতিল এখন আর চলে না। ছোটকাল থেকে বাপ দাদার সঙ্গে কাজ করছি। এক সময় মাটির জিনিস খুব ব্যবহার হতো। দস্তা, অ্যালুমিনিয়াম ও প্লাস্টিকের জিনিস বের হওয়ায় এখন মাটির জিনিস চলে না। এই শিল্পের সঙ্গে যারা আমরা রয়েছি তাদের চলা খুবই কষ্ট।' 

মাটির যেকোনো পাত্র তৈরিতে কাদা প্রস্তুত করতে হয় প্রথমে। এরপর নির্দিষ্ট পণ্যের জন্য প্রস্তুতকৃত কাদা গোল্লা বা চাকা তৈরি করতে হয়। পরে তা চাকার মাঝখানে রাখা হয়। চাকা ঘুরতে ঘুরতে মৃৎশিল্পীদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় মাটি হয়ে ওঠে আকর্ষণীয় তৈজসপত্র। এরপর তা শুকিয়ে স্তুপ আকারে সাজিয়ে চুল্লিতে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় পোড়ানোর পর পণ্যের গায়ে রঙ করতে হয়। বিলুপ্ত প্রায় এই পেশাটি বেশ যত্নের সাথে আগলে রেখেছেন মৃৎশিল্পীরা।

মৃৎশিল্পীদের ভাষ্যমতে, মাটির তৈরি অন্যান্য পণ্যের কদর এখন তেমন না থাকলেও দইয়ের সরা ও হাঁড়ি-পাতিলের চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে। দইয়ের জন্য বিখ্যাত হওয়ায় বগুড়ায় এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বলা যায়, এই দইয়ের পাত্রের চাহিদার উপর নির্ভর করেই জেলার মৃৎশিল্প টিকে আছে।


তারা বলেন, দই-এর পাত্র তৈরি করেই টিকে আছে আমাদের পাল পাড়ার দুই হাজার পরিবার। সনাতন পাল নামের একজন মৃৎশিল্পী বলেন, 'এখন সব জিনিসের দাম বেশি। মাটির দাম বেশি, লাকরি, খরির দাম বেশি তাই আমাদের খুব বেশি লাভ হয়না। তবুও এই বাপ, দাদার পেশাকে টিকিয়ে রাখতে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।' 

জানা যায়, প্রতিদিন শত শত মণ দই তৈরি হয় এ জেলায়। দই সাধারণত মাটির তৈরি পাত্রেই রাখা হয়। বগুড়া জেলার চাহিদা মিটিয়ে এই দই এবং এর পাত্রও বিভিন্ন জেলায় যায়। আর সে কারণেই জিবীকা নির্বাহের জন্য এখনও এই পেশাকে ধরে রাখার চেষ্টা করছেন জেলার অনেক মৃৎশিল্পী।
মৃৎশিল্পীরা বলেন, একটি দইয়ের পাতিল বানাতে ৩০ টাকা, সড়া বানাতে ৬ টাকা ও কাপ বানাতে ৪ টাকার মতো খরচ হয়। স্থানীয় বাজারে এসব দইয়ের পাতিল ৫০ টাকা, সড়া ৮-১০ টাকা ও কাপ ৯ টাকায় বিক্রি করা হয়।


বগুড়া সদরের নন্দীগ্রাম, শেখেরকোলা ও গাবতলী উপজেলায় গিয়েও দেখা মেলে এই পাল পাড়া। এইসব গ্রামে ঘুরে জানা গেল, মৃৎশিল্পের সঙ্গে জড়িতদের জীবন ধারণের কথা। তারা জানালেন, মাটির কলস, হাঁড়ি, দইয়ের সড়া, বাসন, পেয়ালা, সুরাই, মটকা, পিঠা তৈরির নানা ছাঁচসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস আগে বাসাবাড়িতে গ্রহণযোগ্য ছিল। বর্তমানে এসব তৈজসপত্রের ব্যবহার গ্রামে চললেও শহরে ব্যবহার বিলুপ্ত প্রায়। তাই তাদের আয়-রোজগারও এখন কমে গেছে। তবে দইয়ের সড়া ও হাঁড়ির ব্যবহার এখনও আছে। ফলে এ শিল্পটিকে আঁকড়ে টিকে থাকার আশার আলো এখনো দেখেন তারা।

এই মৃৎশিল্পকে ধরে রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে বগুড়া বিসিক উপ-মহাব্যবস্থাপক এ কে এম মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘আধুনিকতার ছোয়ায় হারিয়ে যাওয়ার পথে এই শিল্পটি। এই শিল্প হারিয়ে গেলে মৃৎশিল্পীরা বিপদগ্রস্ত হবেন। তাই মৃৎশিল্প টিকিয়ে রাখতে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। শিল্পীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি স্বল্প সুদে ঋণ প্রদানসহ বিভিন্ন সহযোগিতা করা হবে বলেও জানান তিনি।' 

   

বসন্তের বিকেলে ঝুম বৃষ্টিতে ভিজল রাজধানী!



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আগুন রাঙা পলাশ-শিমুল আর কোকিলের ডাক। বসন্তের বৈশিষ্ট্য বলতে তো এই-ই! বসন্তের আবহাওয়া মানেই হিমেল হাওয়ার প্রকোপ শিথিল হওয়া আর আকাশ ঝকঝকে পরিষ্কার। কিন্তু প্রচলিত বৈশিষ্ট্যের প্রথা ভেঙে বসন্তের আকাশে ভিড় জমিয়েছে কালো মেঘ। ঝকঝকে সূর্য যেন আড়ালে লুকিয়ে দেখছে প্রকৃতির ভিন্ন রূপের লীলাখেলা।

বসন্তের বিকেলে নামা ঝুম বৃষ্টিতে রাজধানীর পিচ ঢালা রাস্তা ভিজে উঠলো। সাধারণত যা দেখা যায় বৈশাখে। যখন আসে কাল বৈশাখী ঝড়।

২০২৪ সালের শুরু থেকেই অপ্রকৃত প্রাকৃতিক রূপ যেন জানান দিচ্ছে পুরো বছর জুড়েই প্রকৃতি থাকবে বৈরী। স্বাভাবিক নয়, অস্বাভাবিক আবহাওয়ার সাথে আপোস করতে হবে বছর জুড়ে।

অন্যান্য বছরের চেয়ে এবছর শীত ছিল তুলনামূলক বেশি। প্রায় প্রতিবছরই শীতে কয়েকদিন শ্বৈতপ্রবাহ হয় । তবে ২০২৪ সালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নতুন রেকর্ডে পৌঁছেছিল। বছরের প্রথম দিকেই আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা জানিয়ে দেয় এই বছর প্রচণ্ড গরম পড়বে। এলনিনোর প্রভাবে এবছরের বৈশ্বিক তাপমাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়বে। যদিও শতভাগ নিশ্চিত হয়ে বলা সম্ভব নয়। তবে সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বছরের প্রথম মাসের কড়া শীতের মাঝেই আকাশ থেকে নেমে আসে জলের ধারা। শীতকালে বৃষ্টি দেখে অবাক বনে যায় সবাই। এবার বসন্তেও বৃষ্টিস্নাত হলো প্রকৃতি।

কালবৈশাখী আসতে এখনো ঢের দেরী। গ্রীষ্ম দূরে থাক, মাত্র তো বসন্ত এলো। বসন্ত আসার এক সপ্তাহের মাথায় এই বৃষ্টির আগমন সবাইকে অবাক করে দিয়েছে। অবুঝ শিশুরা মনের আনন্দে প্রথম বৃষ্টিতে আনন্দ করছে।

অন্যদিকে, প্রকৃতি মাতার এই অপরিচিত রূপও অনেকের মনে আশঙ্কা ও ভয় ধরিয়ে দিয়েছে।

;

ইতিহাসের পাতায় আজ ২২ ফেব্রুয়ারি



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
হ্যাম্পশায়ারের অ্যাল্ডারশট শহরে বোমা হামলা হয়েছিল ২২ ফেব্রুয়ারি

হ্যাম্পশায়ারের অ্যাল্ডারশট শহরে বোমা হামলা হয়েছিল ২২ ফেব্রুয়ারি

  • Font increase
  • Font Decrease

আজকের এই সময়ে পৌঁছাতে মানুষ হাজার হাজার বছর পার করেছে। দীর্ঘ এই সময়ে সৃষ্টি হওয়া মানব ইতিহাস অনেক দীর্ঘ। সূর্য প্রদক্ষিণ করার সাথে সাথেই বছর ঘুরে তারিখের পুনরাবৃত্তি ঘটে। ইতিহাসের পাতা ঘাটলে দেখা যায় এইসব দিনে ঘটেছে অনেক ঐতিহাসিক ঘটনা। 

ক্যালেন্ডারের আবর্তনে এসেছে নতুন দিন। তার সাথে ইতিহাসের গল্পগুলোও পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে স্মরণ করছে পুরানো নানা কথা। আজ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪। আজকের তারিখে যেসব ঘটনা ঘটেছিল, তা জানতে ইতিহাসের পাতায় চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক!

হ্যাম্পশায়ারের অ্যাল্ডারশট শহরের বোমা হামলায় ৭ জনের মৃত্যু

আইআরএ ১৯৭২ সালে হ্যাম্পশায়ারের অ্যাল্ডারশট শহরে মার্কিন সেনাবাহিনীদের হত্যার উদ্দেশ্যে বোমা হামলা করা হয়। ঘটনাস্থলেই মারা যান ৫ জন রাঁধুনিসহ মোট ৭ জন। এছাড়াও দুর্ঘটনায় আহত হন ১৯ জন। বিস্ফোরণটি ঘটেছিলো শহরের কেন্দ্রবিন্দু থেকে প্রায় ১ মাইল দূরে। দুপুরের খাবারের জন্য তারা গাড়ি পার্ক করে অফিসার মেসে গেলে সেই গাড়িতেই বোমা বিস্ফোরণটি ঘটে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ ১৯৯১ সালে ইরাককে কুয়েতের মাটি ছাড়ার নির্দেশ দেয়। ১৯৯০ সালে শুরু হওয়া যুদ্ধ বন্ধ করতে এই নির্দেশ দেন বুশ। ইরাককে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যুদ্ধ স্থগিত এবং বন্দীদের মুক্ত করার আদেশ দেওয়া হয়। যদি তা না করা হয়, তাহলে পশ্চিমা দেশগুলোর মিত্র বাহিনী ইরাকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানায়। তাদের বিরুদ্ধে ভূমিযুদ্ধ শুরু করারও হুমকি দেয় বুশ।

প্রথম সফল ক্লোন ভেড়া ডলি

১৯৯৭ সালে সারা বিশ্বের মানুষ জানতে পারে সফল ক্লোন ভেড়া ডলির কথা। যদিও তার জন্ম ১৯৯৬ সালের ৫ জুলাই হয়েছিল। কিন্তু সম্পূর্ণ প্রাপ্তবয়স্ক কোষ থেকে জন্মানো সুস্থ এবং সফল ক্লোন হিসেবে ডলিকে প্রকাশ করা হয় ২২ ফেব্রুয়ারি।

ক্যালেন্ডারের প্রতিটি পাতাই কোন না কোন দিনের বিশেষ ঘটনা বা ইতিহাসের কথা বয়ে বেড়ায়। সময়ের সাথে সব কিছু পাল্টালেও বদলায় না ইতিহাসের গল্প।

;

বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী নীলগিরি মার্টেন



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
নীলগিরি মার্টেন

নীলগিরি মার্টেন

  • Font increase
  • Font Decrease

গভীর অরণ্যে গাছের আড়াল থেকে শোনা যায়, পাখির কিচির-মিচির শব্দ। দেখা-অদেখার সে জগতে ঘুরে বেড়ায় বৈচিত্র‌্যময় হরেক রকমের প্রাণী! তাদের কিছু কিছু আমাদের পরিচিত; অনেক কিছুই আবার অপরিচিত। বনে বাস করা প্রাণীদের জীবনযাত্রা আমাদের খুব কাছ থেকে দেখা হয় না। কিন্তু, প্রকৃতির পরিবর্তনের প্রভাব পৃথিবীতে বাসকারী প্রাণীর ওপর পড়ে।

কেউ কেউ হয়ত কালের বিবর্তনে হারিয়ে যায়, পরিবেশ ও সময়ের সঙ্গে নিজেদের খাপ খাওয়াতে না পেরে। খাদ্যের অভাব, বাসস্থানের জায়গা কমে যাওয়া,  নগর উন্নয়ন, বিরূপ পরিবেশে অনেক প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে যায়। কারণ যাই হোক, প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রতিটি প্রজাতিই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দিন দিন বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীর তালিকা ক্রমে বেড়েই চলেছে। 

তেমনি লম্বা লেজওয়ালা বিড়ালের মতো ছোট লোমশ একটি প্রাণী, নাম- নীলগিরি মার্টেন। দক্ষিণ ভারতে একসময় যাদের হরহামেশাই দেখা যেতো, ছোট ছোট পায়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় দৌড়ে বেড়াতো। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা বিলুপ্ত হতে চলেছে।

নীলগিরি মার্টেন

ভারতীয় বন্যপ্রাণী নিয়ে কাজ করা আইএএস (ইন্ডিয়ান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার) কর্মকরাত সুপ্রিয়া সাহু সম্প্রতি এই মজাদার প্রাণীর দুরন্তপনার একটি ভিডিও মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্সে (সাবেক টুইটার) আপলোড করেছেন। সেখানে একটি ক্ষুদেবার্তায় কিছু কথাও লেখেন তিনি। তিনি লেখেন, অনেকেই হয়ত নীলগিরি মার্টেনের কথা শোনেননি। চকলেট রঙের পশমধারী এই প্রাণীটির গলার কাছের অংশ সর্ষে হলুদ রঙের। ছোট এই জীব এখন সংখ্যায় অত্যন্ত অল্প। তামিলনাড়ু সরকার পরিকল্পনা করেছে, বিলুপ্ত হওয়ার হাত থেকে এদের রক্ষা করার।

তিনি আরো বলেন, আগে কর্ণাটক, কেরালা, তামিলনাড়ুতে সহজেই এদের দেখা মিলতো। বর্তমানে বিলুপ্তপ্রায় হওয়ার কারণে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনভার্সেশন অব নেচারের (আইউসিএন) বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীর তালিকায় আছে এই নীলগিরি মার্টেন। বিলুপ্তপ্রায় এরকম প্রাণীদের তালিকা তৈরি করছে সরকার। সে কারণে এসব প্রাণী সংরক্ষণে তহবিলও গঠন করা হয়েছে।

ভারতীয় আইপিএস অফিসার সুপ্রিয়া সাহুর প্রকাশ করা ভিডিও

ভিডিও দেখার পর অনেকেই মন্তব্য করেছেন। তাদের মতে, জীবজগতের এক অনন্য রত্ন- নীলগিরি মার্টেন। কেউ বলেছেন, বেশি দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই আমাদের এক হয়ে এদের রক্ষা করতে হবে।      

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

;

বৈচিত্র্যে বর্ণময় বইমেলা



আশরাফুল ইসলাম, পরিকল্পনা সম্পাদক, বার্তা২৪.কম
ছবি: নূর এ আলম/বার্তা২৪.কম

ছবি: নূর এ আলম/বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলা একাডেমির অমর একুশে বইমেলা এখন বহু বৈচিত্র্যে এক বর্ণময় মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। বাংলা ভাষা-সাহিত্য ও সংস্কৃতির উৎকর্ষে এই বইমেলা আবাল-বৃদ্ধ-বণিতার মনে যে নতুন প্রাণের জোয়ার এনেছে, তা মেলা প্রাঙ্গণে পা দিলেই তা টের পাওয়া যায়।

এই মিলনমেলায় সমাজের বিভিন্ন মেরুর মানুষদের এমন এক সৌহার্দ্যের বাতাবরণে শামিল করেছে যে, এ মেলা শুধু প্রাণেরই সঞ্চার করেনি, সম্প্রীতির ঔদার্যই বহন করে এনেছে।

জাতীয় শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে পাঠক, লেখক, দর্শকদের উপচেপড়া ভিড়ে বইমেলার প্রান্তর ঘুরে বৈচিত্র্যময় প্রাণোচ্ছ্বল কিছু দৃশ্য তুলে এনেছেন বার্তা২৪.কমের ফটো এডিটর ও জ্যেষ্ঠ আলোকিচিত্রী নূর-এ আলম। লেখা: পরিকল্পনা সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম

ছবি: নূর এ আলম

পছন্দের নানা অনুষঙ্গে ভরপুর অমর একুশে বইমেলা প্রাঙ্গণ। এক শিশুর মুখ দেখে চিত্রপটে তাকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা শিল্পীর। চারুকলার এমন অনেক নবীন শিক্ষার্থীই পুরো বইমেলা জুড়ে বাড়তি আনন্দের অনুষঙ্গ যোগ করেছে!

'আঙ্কেল, ওই বইটি দিন’ ব্যাকুলতা নিয়ে বলছে শিশুটি। স্কুলের একগাদা বইয়ের বোঝা বয়ে নিতে নিতে ক্লান্ত শিশুরা বইমেলায় এসে ফের আগ্রহী হচ্ছে বইয়ে। পাঠ্যবইয়ের বাইরে জ্ঞানের বিরাট সমুদ্রে তাদের এই পরিচয় জ্ঞানভিত্তিক এক প্রজন্ম গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখে!

ধর্ম প্রচারে এসে ঢাকার অদূরে কালিগঞ্জের নাগরী র্গিজায় বসে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রথম খণ্ডিত ব্যাকরণ রচনা করেন পাদ্রী মানুয়েল দ্য আস্‌সুম্পসাঁউ, যা প্রকাশিত হয় পর্তুগালের লিসবন থেকে। খ্রিস্টান মিশনারীর এই ভগনিগণের বইমেলায় পদচারণা ঐতিহ্যিক সেই পরম্পরাকেই মনে করিয়ে দিলো! 

শিশুদের এলোমেলা চুলের মাঝে ‘পুষ্পবন্ধনী’তে এক নয়নাভিরাম সৌন্দর্য উঁকি দিচ্ছে!

টিভি নাটকের জনপ্রিয় মুখ অশনা হাবিব ভাবনার লেখা ‘কাজের মেয়ে’ বইটি এসেছে এবারের বইমেলায়। পছন্দের অভিনেত্রীর অটোগ্রাফসহ বইটি পেতে মরিয়া অনুরাগীরা!

তিল ধারণের ঠাঁই নেই! তবু নেই সামান্য অভিযোগমাত্র! বইয়ের অনুরাগী পাঠকদের ঘা ঘেঁষে এই এগিয়ে যাওয়া পদযুগলগুলো যেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অমরত্বের বার্তাই বহন করে চলেছে!

ছবিঃ নূর এ আলম

অভিনেত্রী ফারজানা এবারের বইমেলায় হাজির হয়েছেন "জলছবি" নামের একটি উপন্যাস নিয়ে!

;