বাংলাদেশের আবাসিক পাখি



অধ্যাপক ড. আ ন ম আমিনুর রহমান. পাখি ও বন্যপ্রাণী প্রজনন ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ
বাংলাদেশের জাতীয় পাখি দোয়েল। ছবি: লেখক।

বাংলাদেশের জাতীয় পাখি দোয়েল। ছবি: লেখক।

  • Font increase
  • Font Decrease

মহান সৃষ্টিকর্তার তিন সুন্দর সৃষ্টি হলো ফুল, প্রজাপতি ও পাখি। ফুল দেখে আমরা যেমন মুগ্ধ হই তেমনি মুগ্ধ হই উড়ন্ত প্রজাপতি ও পাখি দেখে। তবে পাখির সৌন্দর্য্য ও ওড়াউড়িই যে শুধু আমাদের মুগ্ধ করে, তা কিন্তু নয়। বরং পাখির গানও দেয় অনাবিল আনন্দ। তবে, এর পাশাপাশি ওরা আমাদের প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ব্যাপক অবদান রাখে। সত্যিই বর্নিল পাখিগুলোর মতো এমন সুন্দর প্রাণী পৃথিবীর আর কোথাও খুঁজে পাওয়া মুশকিল। নানা আকার, রং ও ঢঙের পাখিগুলো যখন ওদের ডানায় ভর করে নীল আকাশে উড়ে বেড়ায় তখন দেখতে কতই না ভালো লাগে? পুরো পৃথিবী জুড়ে প্রায় ১০,০০০ প্রজাতির (Species) পাখির বাস। আর অনুমান করা হয়, বিভিন্ন প্রজাতির পাখিগুলোর মোট সংখ্যা ২০ থেকে ৪০ হাজার কোটি। ভারতীয় উপমহাদেশে প্রায় ১২শ প্রজাতির কিছু বেশি পাখি বাস করে। জানামতে, বাংলাদেশের পাখির তালিকায় এ পর্যন্ত কম-বেশি ৭২২টি প্রজাতি রেকর্ড করা হয়েছে। 

চাঁপাইনবাগঞ্জের রহনপুরে দেশের বৃহত্তম পাখি মদনটাক। ছবি: লেখক

বিভিন্ন গবেষণা থেকে জানা যায়, বিগত কয়েক শতকে দু’শতাধিক প্রজাতির পাখি পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়েছে এবং বর্তমানে প্রায় ১২শ প্রজাতির পাখি নানা কারণে হুমকির মুখোমুখি অবস্থান করছে। অদূর বা দূর ভবিষ্যতের যে কোনো সময় এরা হয়তো পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাবে। 

এবার আসা যাক পাখি কি সে কথায়। পাখি হলো বিভিন্ন আকার, ওজন ও আকৃতির উষ্ণ-রক্তবিশিষ্ট মেরুদণ্ডি প্রাণী যাদের দেহ পালকে আচ্ছাদিত, চোয়ালের উপর রয়েছে দাঁতবিহীন শক্ত ঠোঁট বা চঞ্চু (Beak), হৃৎপি- চার প্রকোষ্ঠে বিভক্ত, যাদের স্ত্রীরা শক্ত খোসাযুক্ত ডিম পাড়ে, দেহের বিপাকীয় হার উচ্চ, হাড় ফাঁপা ও কঙ্কাল হালকা এবং যারা সাধারণত উড়তে পারে।

জীবাস্ম বা ফসিল (Fossil) রেকর্ড থেকে জানা যায় পাখিরা থেরোপড (Theropod) দলের পালকযুক্ত পূর্বপুরুষ থেকে উৎপত্তিলাভ করেছে যারা প্রথাগতভাবে সরিসিয়ান ডায়নোসরদের (Saurischian dinosaurs) অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু বর্তমানে অনেক বিজ্ঞানীই মনে করেন যে, এরা অরনিথোসেলিডা-এর (Saurischian dinosaurs) অর্ন্তভুক্ত। যদিও একসময় জার্মানিতে প্রাপ্ত মধ্য জুরাসিক যুগের (Mid Jurassic Era - প্রায় ১৫৫ মিলিয়ন বছর আগের) আর্কিওপটেরিক্স লিথোগ্রাফিকা (Archeopteryx lithographica)-কে পাখির সবচেয়ে পুরনো জীবাশ্ম মনে করা হতো- যাদের চঞ্চুর পরিবর্তে ছিল চোখা দাঁতযুক্ত শক্ত চোয়াল, শক্ত হাড়যুক্ত লম্বা লেজ ও যারা ভালোভাবে উড়তে পারত না। এদের মধ্যে সরীসৃপ ও পাখির এক চমৎকার যোগসূত্র ছিল। কিন্তু বর্তমানে নানা গবেষণার মাধ্যমে জানা গেছে যে, চীনে প্রাপ্ত ক্রিটাসিয়াস যুগের(Cretaceous Era- প্রায় ১২৫ মিলিয়ন বছর আগের) কনফুসিয়াসওরনিস স্যাঙ্ককটাস (Confuciusornis sanctus) হলো সত্যিকারের চঞ্চুযুক্ত পাখির সবচেয়ে পুরনো জীবাশ্ম। আধুনিক কালের পাখিগুলো এসব ডায়নোসর যুগের পাখি (থেরোপড) থেকে যুগ যুগ ধরে বিবর্তিত হয়েছে।

রাজশাহী শহরের একটি বটগাছে দেশের ক্ষুদ্রতম পাখি ফুলঝুরি। ছবি: লেখক

পাখি, প্রজাপতি ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর বিস্তৃতি অনুযায়ী বাংলাদেশকে সাতটি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। যেমন- ১. উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল - রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ। ২. উত্তরাঞ্চল- ময়মনসিংহ বিভাগ। ৩. উত্তর-পূর্বাঞ্চল - সিলেট বিভাগ। ৪. কেন্দ্রীয় অঞ্চল- বৃহত্তর ঢাকা, কুমিল্লা ও টাঙ্গাইল জেলা। ৫. দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল- বৃহত্তর চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা। ৬. দক্ষিণাঞ্চল- বৃহত্তর নোয়াখালি জেলা ও বরিশাল বিভাগ। ৭. দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল- খুলনা বিভাগ ও বৃহত্তর ফরিদপুর জেলা।

বাংলাদেশের পাখির তালিকায় কমবেশি যে ৭২২ প্রজাতির পাখি রয়েছে তাদের মধ্যে প্রায় ৩৪০ প্রজাতি স্থায়ীভাবে বসবাস করে, অর্থাৎ এরা সারাবছর এদেশে থাকে, ডিম পাড়ে ও ছানা তোলে। এরাই হলো এদেশের আবাসিক পাখি (Resident Bird)। বাদবাকি প্রজাতিগুলো পরিযায়ী (Migratory - অর্থাৎ বছরের কোনো একটি নির্দিষ্ট সময় এদেশে আসে, বসবাস করে ও সময়মতো মূল আবাসে ফিরে যায়), পন্থ-পরিযায়ী ও ভবঘুরে বা যাযাবর। এসব পাখি এদেশের মানুষের কাছে আগে, এমনকি এখনও, ‘অতিথি পাখি’ নামেই পরিচিত। এদেরই এক বিশাল অংশ এদেশে আসে শীতকালে যারা শীতের পরিযায়ী পাখি (Winter Migrant) নামেও পরিচিত। এরা এদেশে বংশবিস্তার করে না। এছাড়াও কিছু পাখি গ্রীষ্মেও পরিযায়ন করে, যেমন- বিভিন্ন প্রজাতির কোকিল (Cuckoo) ও হালতি বা সুমচা (Pitta)) পাখি। এরা গ্রীষ্মের প্রজনন পরিযায়ী (Summer Breeder) পাখি নামে পরিচিত। এছাড়াও বেশকিছু প্রজাতির পরিযায়ী পাখির উপস্থিতি এদেশে অনিয়মিত। হয়তো এক বছর এল, এরপর আবার ৫ বা ১০ বছর পর এল, অন্যদের মতো প্রতি বছর এল না। এদেরকে তাই যাযাবর বা ভবঘুরে বা অনিয়মিত পরিযায়ী পাখি বলে। আর এদের সংখ্যাও নেহাত কম না, এদেশে আসা সকল পরিযায়ী পাখির প্রায় এক-তৃতীয়াংশই এরা। আবার কোনো কোনো প্রজাতির পাখি অন্য কোনো দেশে পরিযায়নের এক পর্যায়ে এদেশে স্বল্প সময়ের জন্য বিশ্রাম নিতে আসে, যেমন- বাদামি চটক (Asian Brown Flycatcher), বন খঞ্জন (Forest Wagtail)ইত্যাদি। এরা পন্থ-পরিযায়ী (Passage-migrant) পাখি নামে পরিচিত।

শ্রীমঙ্গলের বাইক্কা বিলের উপর দিয়ে উড়ছে একঝাঁক বালিহাঁস। ছবি: লেখক

আবাসিক, পরিযায়ী, ভবঘুরে ও পন্থ-পরিযায়ী পাখি মিলে এদেশে কমবেশি যে ৭২২ প্রজাতির পাখি রয়েছে সেগুলো ২৩টি বর্গ ও ৯৩টি গোত্রের অন্তর্ভুক্ত। আশ্চর্যের বিষয় হলো এদেশের মোট পাখির অর্ধেকই একটি বর্গ প্যাসারিফরমেস বা শাখাচারী-এর ১৯টি পরিবারের সদস্য। আমাদের আবাসিক পাখিগুলোর মধ্যে আকার, ওজন ও রঙে যেমন ভিন্নতা রয়েছে, তেমনি ভিন্নতা রয়েছে এদের জীবণযাপন, আবাস, খাদ্যাভাস ও আচার-আচরণে। আবাসিক পাখিগুলোর মধ্যে যেমন আছে জলা বা সৈকতের পাখি, তেমনি আছে লোকালয় ও বনজঙ্গলের পাখি। এই পাখিগুলোর সবগুলোকেই যেমন একই জায়গায় বা একই মৌসুমে দেখা যায় না, তেমনি সমান সংখ্যায়ও দেখা মেলে না। তাছাড়া ৯৩টি গোত্রের মধ্যে ১৮টি গোত্রের কোনো পাখিই এদেশের আবাসিক পাখি নয় যার মধ্যে সারস (ক্রেন), বিভিন্ন প্রজাতির চা-পাখি, খোঁয়াজ, রামঠেঙ্গি, বিভিন্ন প্রজাতির ওয়ার্বলার, রোজফিঞ্চ ও বান্টিং উল্লেখযোগ্য।

ঢাকার দিয়াবাড়িতে অতি সুন্দর পুরুষ লাল মুনিয়া। ছবি: লেখক

এদেশের আবাসিক পাখিগুলোর মধ্যে অনেকগুলো প্রজাতিই দেখতে বেশ সুন্দর, যেমন- লালশির ট্রোগন (Red-headed Trogon), দুধরাজ (Paradise Flycatcher), পাতা বুলবুলি (Leafbird), আলতাপরী ((Scarlet Minivet), মৌটুসি (Purple-rumped Sunbird), নীলটুনি (Purple-rumped Sunbird), শ্বেতাক্ষী (Oriental White-eye), লাল মুনিয়া (Red Avadavat) ইত্যাদি। তবে এদের মধ্যে কোনটি বেশি সুন্দর তা হয়ত অনেকেরই জানা নেই। আসলে পাখির রাজ্যে কোনটি সবচেয়ে সুন্দর তা বলা কঠিন। কারণ, একেকটি পাখি একেক দিকে সুন্দর। একেকজনের দৃষ্টিতে একেক পাখিকে সুন্দর মনে হতে পারে। কিন্তু প্রকৃত সুন্দর পাখিটিকে কারো কাছেই অসুন্দর লাগবে না। সৌন্দর্য বিবেচনায় এদেশের পাখিগুলোর মধ্যে পুরুষ নীলটুনি বা দুর্গাটুনটুনিই শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার। যদিও লম্বালেজের পুরুষ ময়ূর (বর্তমানে বিলুপ্ত) এবং দুধরাজও অত্যন্ত সুন্দর। তাছাড়া টকটকে লাল পুরুঘ লাল মুনিয়াও কম সুন্দর নয়।

 

সাভারের জাহাঙ্গীরনগর ক্যাম্পাসের বট গাছে বটকল। ছবি: লেখক

এবার এদেশের বৃহত্তম ও ক্ষুদ্রতম আবাসিক পাখি প্রসঙ্গে আসছি। উচ্চতা-দৈর্ঘ্য-ওজনের ভিত্তিতে বর্তমানে এদেশের বৃহত্তম আবাসিক পাখির নাম মদনটাক (Lesser Adjutant Stork) যার উচ্চতা ১১৫-১২০ সেমি, দৈর্ঘ্য ৮৭-৯৩ সেমি ও ওজন ৪.৫ কেজি। আর ক্ষুদ্রতম পাখির নাম ছোট ফুলঝুরি (Pale-billed Flower-pecker) যার দৈর্ঘ্য মাত্র ৮ সেমি ও ওজন মাত্র ৬.৩ গ্রাম। অন্যদিকে, বিশ্বের বৃহত্তম পাখির নাম উটপাখি (Ostrich- দৈর্ঘ্য ২৭৫ সেমি ও ওজন ১০০-১১৫ কেজি) ও ক্ষুদ্রতম পাখির নাম মৌগুঞ্জন পাখি (Bee Hummingbird- দৈর্ঘ্য মাত্র ৫-৬ সেমি ও ওজন মাত্র ১.৯৫-২.৬০ গ্রাম)। 

এদেশের আবাসিক পাখিগুলোর মধ্যে যেমন রয়েছে নদী, জলা ও সৈকতের পাখি, তেমনি রয়েছে লোকালয়, বনজঙ্গল, মাঠ, ঘাসবন, নলবন ও ঝোপঝাড়ের পাখি। কোনো কোনো পাখিদের কেবল বনেই দেখা যায়, যেমন- বনমোরগ (Red Jungle Fowl), মথুরা (Kalij Pheasant), কাঠময়ূর (Grey Peacock Pheasant), ধনেশ (Hornbill), কালো বাজ (Black Baza), পাহাড়ি নীলকন্ঠ (Oriental Dollarbird), মদনা টিয়া (Red-breasted Parakeet) ইত্যাদি আরও কত কী? কিছু কিছু পাখি শুধু মানুষের আবাস এলাকা বা আশেপাশে থাকে, যেমন- চড়ুই (Houuse Sparrow), টুনটুনি (Tailor Bird), ভাত শালিক (Common Myna), কাক (House Crow) ইত্যাদি।

সুন্দরবনের কটকায় ওড়ার মুহূর্তে একটি বড় সাদা বক। ছবি: লেখক

আবার কোনো কোনো পাখিদের শুধু খাল-বিল, নদী-নালা ও বিভিন্ন ধরনের জলাশয়েই দেখা যায়, যেমন- বিভিন্ন প্রজাতির হাঁস (Ducks), বক (Heron), সারস (Stork), কাস্তেচরা (Black-headed Ibis), ডুবালু বা ডুবুরি (Grebe)ইত্যাদি। কিছু পাখি আছে যারা শুধু সুন্দরবনেই বাস করে, অন্য কোথাও না, যেমন- সুন্দরী হাঁস (Masked Finfoot), সুন্দরী সুমচা (Mangrove Pitta), লাল মাছরাঙা ((Ruddy Kingfisher), সিন্ধু ঈগল (White-bellied Sea Eagle)  ইত্যাদি।

কিছু কিছু পাখিকে বনজঙ্গল, লোকালয় বা বাদা বন (Mangrove Forest) প্রভৃতি সব পরিবেশেই দেখা যায়, যেমন- বিভিন্ন প্রজাতির হরিয়াল (Green Pigeon), তিলা ঘুঘু (Spotted Dove), দোয়েল (Magpie Robin), বুলবুলি (Bulbul), নীলটুনি, ফুলঝুরি (Flowerpeckers)  ইত্যাদি। মাঠের বা ক্ষেতখামারের পাখিদের মধ্যে রয়েছে হট্টিটি (Lapwings), খরমা (Indian Thick-knee), নীলকন্ঠ ((Roller), কসাই (Shrike), ফিঙে (Drongo), ভরত (Lark), ইত্যাদি।

ঘাসবনের পাখিদের মধ্যে রয়েছে নাগরবাটই (Barred Buttonquail), টেকটেকি (Striated Grassbird), মুনিয়া, ধানটুনি (Zitting Cisticola), কালোবুক বাবুই (Black-breasted Weaver) ইত্যাদি। ঝোপঝাড়ের পাখির মধ্যে রয়েছে কানাকুক্কা (Coucal), টুনটুনি ইত্যাদি। একটি কথা মনে রাখতে হবে যে, সব প্রজাতির পাখি যেমন একই জায়গায় বা একই মৌসুমে দেখা যায় না, তেমনি সমান সংখ্যায়ও দেখা মেলে না।

বাইক্কা বিলে বালিহাঁসের ছবি তোলায় ব্যস্ত লেখক। ছবি: ড. জীবন চন্দ্র দাস

E-mail:[email protected], [email protected]

   

গদখালী যেন এক ফুলের স্বর্গ উদ্যান!



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি : নূর এ আলম

ছবি : নূর এ আলম

  • Font increase
  • Font Decrease

কালের সাক্ষী হয়ে শত বছরের ইতিহাস নিয়ে মাথা তুলে যশোরের রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে আছে অসংখ্য বৃক্ষ। যশোর জেলা থেকে বেনাপোলের দিকে ১৮ কি.মি. আগালেই গদখালী ফুলের বাজার।

ছবি : নূর এ আলম

দেখে মনে হবে সৃষ্টিকর্তা যেন নিজ হাতে তৈরি করে দিয়েছেন ফুলের এক স্বর্গ রাজ্য। কাকডাকা ভোরে সাইকেল, ভ্যান অথবা মোটরসাইকেলে করে ফুল চাষিরা ফুল নিয়ে আসেন গদখালীর পাইকারি ফুলের বাজারে।


 সূর্যের আলো ফোটার আগেই রাস্তার দু'পাশে সারি সারি দাঁড়িয়ে পড়েন ফুল বিক্রেতারা। শুরু হয় ফুল বিক্রি।

ছবি : নূর এ আলম

আর এই বাজারের মূল ক্রেতা দূরদূরান্ত থেকে আসা ফুলের ব্যাপারীরা। তারা এখান থেকে স্বল্প দামে ফুল কিনে নিয়ে পরে তা সরবরাহ করেন ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। রপ্তানি হয় বিদেশেও। 


গোলাপ, গাঁদা, গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধা, জারবেরা, চন্দ্রমল্লিকাসহ বিক্রি হয় বাহারি সব ফুল। ফুল চাষিরা যে বাহনে করে ফুল আনেন সেটাতে বসেই চলে বেচা-বিক্রি।

ছবি : নূর এ আলম

প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে বাজারে ফুল বিক্রি শেষ হয়ে যায়। কোনো দিবস বা বিশেষ দিন এলেই দিনে প্রায় কোটি টাকারও বেশি ব্যবসা করেন গদখালীর ফুল চাষি ও বিক্রেতারা।

ছবি : নূর এ আলম

ঝিকরগাছা ও শার্শা থানার ৯০টি গ্রামের প্রায় ৪ হাজার বিঘা জমিতে চাষ করা হয় বাজারে আসা ফুলগুলো। দেশের ফুলের মোট চাহিদার একটা বড় অংশের জোগান দিয়ে থাকেন ঝিকরগাছা ও শার্শা উপজেলার এই ফুলচাষিরা।


এখানে আছে ফুলের সুঘ্রান, মৌমাছির গুঞ্জন আর রঙিন প্রজাপতির ডানায় ভর করে আসা চিরন্তন সুন্দরের বার্তা। প্রায় সব ধরনের ফুলের দেখা মিলবে এই ফুলের রাজ্যে।

ছবি : নূর এ আলম

দেশের মোট চাহিদার প্রায় ৭০% ফুলের জোগান আসে যশোরের গদখালি থেকে। এখন গ্রামের বেশিরভাগ মানুষই ফুল চাষ অথবা বিক্রি পেশার সাথে জড়িত।

ছবি : নূর এ আলম

ফুলের বাগানগুলোতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে প্রত্যেকটি পরিবার।

ছবি : নূর এ আলম

দেশের এই বৃহত্তম ফুলের রাজ্য ঘুরে আসলে আপনার মন হয়ে উঠবে আরও প্রাণবন্ত ও উচ্ছ্বল।

;

ভারতের চা খেয়ে মুগ্ধ বিল গেটস!



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
বিল গেটস এবং ডলি চা-ওয়ালা

বিল গেটস এবং ডলি চা-ওয়ালা

  • Font increase
  • Font Decrease

‘মামা এক কাপ চা দেন তো!’ রাস্তার হাঁটতে গেলে প্রায়ই শোনা যায় এই বাক্য। রাস্তার মোড়ে মোড়ে ছোট একটু জায়গায় চায়ের টুকরি দোকান বা ভ্যান। সেসব জায়গা জুড়ে সারাদিন অনেক মানুষই বসে চা খায়, আড্ডা দেয়! চায়ের দোকানদারের ব্যস্ত সময় কাটে। চা পাতা, দুধ, চিনি, আদা, লবঙ্গ-নানারকম মশলা মিলিয়ে বানানো হয় চা। এই পানীয়, ভারতীয় উপমহাদেশে অনেক বেশি জনপ্রিয়। রাস্তায় বের হলে আর কিছু দেখাতে পাওয়া যাক বা নাই যাক, চায়ের দোকান থাকবেই!     

প্রতিদিন শত শত গ্রাহক ভিড় জমায় চায়ের দোকানগুলোতে। তবে, একজন সুদূর আমেরিকা থেকে ভারতে পাড়ি জমালেন চা খেতে! শুনে অবাক হচ্ছেন? আরও অবাক হবেন সেই ব্যক্তির নাম শুনলে।

বিখ্যাত টেক কোম্পানি মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস, ভারতে এসে চা খাওয়ার এক ভিডিও প্রকাশ করেছেন। নিজের ইন্সটাগ্রাম একাউন্ট থেকে সেই ভিডিওটি প্রকাশ করেন তিনি। সেই ভিডিওটি সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপাক সাড়া ফেলেছে।

ভারতের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জনপ্রিয় ছিলেন ডলি চাওয়ালা। অনন্য ধরনে চা বানানো এবং বিক্রি করার কারণে বেশ আলোচনায় ছিলেন তিনি। এখন যেন তার জনপ্রিয়তা আরও বেশি বেড়ে গিয়েছে। তার দোকানে বিল গেটসের চা খেতে আসা মানুষকে অনুপ্রাণিত করছে। সামান্য চা বানাতে তার এতো আয়োজনে মুগ্ধ হয়েছেন স্বয়ং বিল গেটসও। 

চা বানিয়ে আলোচনায় আসেন ভারতের ডলি চা-ওয়ালা

বিল গেটসের প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা যায়, সাধারণ গ্রাহকদের মতো তিনি ডলির কাছে এক কাপ চা দেওয়ার জন্য বলেন। তার কণ্ঠে ভেসে ওঠে হিন্দি ভাষায়,‘ ওয়ান চায়ে প্লিজ!’ তারপর একে একে পানি, দুধ, মশলা, চা-পাতির সমন্বয়ে ফুটে ওঠে গরম চা!  হাসি ‍মুখে চা উপভোগ করেন গেটস।

ভিডিও-তে তিনি ভারতে আবার আসার কারণে, খুশি হওয়ার কথা উল্লেখ করেন। তার সাথে গেটস ভারতকে নতুন উদ্ভাবনের দেশ বলেন। মানুষের জীবনকে উন্নত করার জন্য নতুনভাবে তিনি কাজ করছেন এমন ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি। তার পোস্ট দেখে স্পষ্ট  যে, চা নিয়ে চর্চা বেশ অনেক দূর গড়াবে! 

ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ৪ মিলিয়ন ভিউ অর্জন করে। ইন্সটাগ্রামে ৩ লাখ লাইক অর্জন করে। ভারতীয় সংস্কৃতিকে এভাবে আপন করে নেওয়াতে অনেকেই অবাক হয়েছেন এবং আনন্দ প্রকাশ করেছে।    

অনেকে তো বড় ফ্লাস্ক হাতে আর ছোট ছোট প্লাস্টিকের কাপ নিয়ে চা বিক্রি করতে বের হয়। চায়ের সাথে কেক, বিস্কুট, ড্রাইকেক বা রুটিও রাখে অনেকে। সকালে দিন শুরু করা বা বিকেলের হালকা নাস্তা, কারো সাথে গল্প করতে করতে সময় কাটানোর জন্য একদম উপযোগী এই পানীয়। এশিয়ার দেশগুলোতে বেশ আয়োজন করে চা বানানো এবং খাওয়া হয়। তাই একটু ভিন্নভাবেই বানানো হয় চা! 

বিল গেটসের ভারতে আসার কারণ পরিষ্কার নয়। তবে তার পোস্ট দেখে মনে হচ্ছে, সাধারণ জনগণের জীবনযাত্রার মানকে উন্নত করতে তিনি কোনো পদক্ষেপ নিয়ে চলেছেন।         

;

ইতিহাসের পাতায় আজ ২৯ ফেব্রুয়ারি



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
১৯৬০ সালে মরোক্কোর ভূমিকম্প

১৯৬০ সালে মরোক্কোর ভূমিকম্প

  • Font increase
  • Font Decrease

২৯ ফেব্রুয়ারি বছরের সবচেয়ে বিরল তারিখ। কারণ এই তারিখটি প্রতি বছর আসেনা। বিশেষ কিছু বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ২৯ দিন গণনা করা হয়। সেই বছরগুলোকে অধিবর্ষ হিসাবে বিবেচনা করা হয়।

প্রতি ৪ বছর অন্তর এই অধিবর্ষ বা লিপ ইয়ারের আবির্ভাব ঘটে। তবে ইতিহাসে চোখ রাখলে দেখা যায়, সেই অদিবর্ষের অধিদিবস বা লিপ ইয়ারের লিপডে-তেও ঘটেছিল স্মরণীয় কিছু ঘটনা। ৪ বছর পর আবার এসেছে অধিদিবস। জেনে নেওয়া যাক, ২৯ ফেব্রুয়ারিতে ঘটে যাওয়া কিছু ঐতিহাসিক ঘটনা!

১৯৬০ সালে মরোক্কোতে ভূমিকম্প

মরক্কোর দক্ষিণাঞ্চল আগাদিতে ভয়ানক ভূমিকম্প হয়েছিল ১৯৬০ সালের এই দিনে। রাত ১১ টা ৩৯ মিনিটে রিখটার স্কেল অনুযায়ী ৬.৭ মাত্রার ভুমিকম্প লণ্ডভণ্ড করে দেয়। প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ মারা গিয়েছিলেন সেই দুর্ঘটনায়। ধারণা করা হয় ১২ থেকে ১৫ হাজার মানুষ মারা গিয়েছিল এবং অনেক মানুষ ধ্বংসস্তুপে চাপা পড়ে আহত হয়েছিল।

মোজাম্বিকে ২০০০ সালের ভয়ানক বন্যা

২০০০ সালে বন্যায় ভেসে যায় দক্ষিণ মোজাম্বিক। সেখানে হাজার হাজার মানুষ বন্যার পানির কারণে আটকা পড়ে গিয়েছিল। আজকের দিনে সেখানে বন্যার পানি অনেক বেশি বাড়তে শুরু করে এবং আটকে পড়া মানুষকে বাঁচাতে সাহায্য চায় আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা। দুর্দশাগ্রস্তদের উদ্ধার করতে তারা আরও হেলিকপ্টারের ব্যবস্থা করার আর্জি জানায়। জাতিসংঘের তথ্যমতে এইদিন ৩ লাখ মানুষের সাহায্য প্রয়োজন ছিল।

পিয়ের ট্রুডোর পদত্যাগ

কানাডার রাজনীতিবিদ এবং ১৫ তম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন পিয়ের ট্রুডো। তিনি ১৯৬৮ সাল থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত কানাডার দায়িত্বে ছিলেন। তারপর আবার ১৯৮০ সাল থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত তিনি ক্ষমতায় ছিলেন। অবশেষে ১৯৮৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি দীর্ঘ ১৫ বছর পর, তিনি ৬৪ বছর বয়সে পদত্যাগ করেন।

তথ্যসূত্র: বিবিসি

;

২৯ ফেব্রুয়ারি: আজ অধিদিবস



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রতি ৪ বছর পর পর আসে অধিবর্ষ বা লিপ ইয়ার। এইবছরগুলোতে ফেব্রুয়ারি মাসে একদিন বেশি গণনা করা হয়। আজ ২৯ ফেব্রুয়ারি। অর্থাৎ, আজকে অধিদিবস বা লিপ ডে পালন করা হয়, যা আবার ৪ বছর পর আসবে। জেনে নেওয়া যাক, অধিদিবস বা লিপডে সম্পর্কে আকর্ষণীয় কিছু তথ্য:

১. রোমান একনায়ক জুলিয়াস সিজার খ্রিষ্টপূর্ব ৪৫ অব্দে প্রথমবার তার জুলিয়ান ক্যালেন্ডারে লিপ ডে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কারণ, ফেব্রুয়ারি মাসকে জুলিয়ান ক্যালেন্ডারের শেষ মাস হিসেবে বিবেচনা করা হতো।

২. বর্তমানে আমরা গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসরণ করি। সংস্করিত এই সঠিক লিপ ইয়ারের ক্যারেলন্ডারটি প্রকাশ করা হয়েছিল ১৫৮২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারিতে।  

৩. প্রাচীন সময়ে অধিদিবসকে বিশেষ একটি দিন হিসেবে বিবেচনা করা হতো। এই দিনে নারীরা তার পছন্দের পুরুষকে প্রেমের প্রস্তাব দিতো।

৪. প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হলে সেই নারীকে ১০ জোড়া দস্তানা উপহার দেওয়া হতো। কারণ, প্রেমের প্রস্তাবে পুরুষ রাজি হলে আংটি বদলের মাধ্যমে তাদের বাগদান হতো। যেহেতু বাগদান না হওয়ার কারণে, নারীর হাত খালি থাকবে; তাই দস্তানা উপহার দেওয়ার প্রচলন ছিল। যদিও এখন এই প্রথাগুলো একদমই পালন করা হয়না। সময়ের সাথে সাথে এইসব প্রথা বিলীন হয়ে গেছে।

৫. লিপ ডে-তে জন্ম নেওয়া শিশুদের লিপারস্ বা লিপলিং নামে ডাকা হয়। বাংলায় এদের অধিবর্ষের শিশু বলা হয়। তারা সাধারণত অধিবর্ষ ছাড়া অন্যান্য বছরগুলোতে ২৮  ফেব্রুয়ারী বা মার্চ ১ তারিখে তাদের জন্মদিন পালন করে।

৬. পৃথিবীর মোট জনসংখ্যা বিবেচনা করা হলে, অধিদিবসে জন্ম নেওয়ার সম্ভাবনা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। প্রতি ১৪৬১জন শিশুর মধ্যে ১ জনের ২৯ ফেব্রুয়ারিতে জন্ম নেওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

৭. পৃথিবীতে ২  টি জায়গাকে অধিবর্ষ রাজধানী হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। জায়গাগুলো হলো, টেক্সাসের অ্যান্থনী এবং নিউ মেক্সিকোর অ্যান্থনী। লিপডে-তে এই জায়গা গুলোতে নানারকম অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ধুমধাম করে অধিদিবস পালন করা হয় সেখানে।    

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

;