চা বরং আভিজাত্য, কি বলেন!



মাজেদুল নয়ন, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, সাউথ-ইস্ট এশিয়া, ব্যাংকক, থাইল্যান্ড
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

দুবাই, লন্ডন, সিঙ্গাপুর, বেইজিং, সিউল, টোকিও বা ব্যাংককের মতো বড় শহরগুলোর সবচেয়ে অভিজাত বা সিগনেচার শপিং মলে ঢুকে আশপাশে খোঁজ করলেই চোখে পড়বে একটা চায়ের দোকান। সেটা হচ্ছে টিডব্লিউজি ১৮৩৭ (TWG 1837)।

প্রথম টিডব্লিউজি’র চা পান করা হয় বছর সাতেক আগে মালয়েশিয়ার অভিজাত মল প্যাভিলিয়ানে। সম্প্রতি ব্যাংককের এম্পোরিয়াম শপিং মলে আবারও টিডব্লিউজি’র চায়ের স্বাদ নেয়া হলো। না, এই চায়ের স্বাদ বিশেষ কিছু নয়। বরং বাঙালি জিভে এই চা সবসময় পর্যাপ্ত গরম মনে হবে না। বলা যায় কুসুম কুসুম গরম। তাহলে টিডব্লিউজি চায়ের বিশেষত্ব কি?

এক কথায় বলা যায় ব্র্যান্ড হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা। পরিবেশনে, আভিজাত্যে নিজের ব্র্যান্ডের একটা আলাদা স্বকীয়তা তৈরি করেছে সিঙ্গাপুরের এই চায়ের ব্র্যান্ড। তাই ব্যাংককের মতো শহরে যেখানে কফি মানুষের প্রধান পানীয়, সেখানে নিজ পরিচয়ে নিজেকে বিক্রি করে যাচ্ছে টিডব্লিউজি’র চা।


এখানে চায়ের যে কত শত প্রকার রয়েছে সেটা নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। সিঙ্গাপুর নিজেরা চা উৎপাদন না করেও এমন একটি চায়ের ব্র্যান্ডের প্রতিষ্ঠা তাদের ব্যবসায়িক সফলতার আর ইমেজের বহিঃপ্রকাশ।

টিডব্লিউজি নিজেদের চা’কে প্রিমিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে এবং চা খাওয়ার এক ভিন্ন সংস্কৃতি তৈরি করেছে। এখানে এক কাপ চা নয় বরং এক কেটলি চা পরিবেশন করা হয়। সবমিলিয়ে ৫০০ মিলিলিটার ইংলিশ চায়ের মূল্য বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩ হাজার টাকা। এক কেটলি চা ২০ হাজার টাকা, এমন মূল্যও রয়েছে এখানে।

টিডব্লিউজি ১৮৩৭ খচিত সিরামিকের কেটলিতে পরিবেশন করা হয় চা। চায়ের চামচ, কাপ, পিরিচ সবকিছুতে ব্র্যান্ডে নাম খচিত রয়েছে। চিনি আলাদাভাবে দেওয়া হয়। এই চা ফু দিয়ে গরম কমানোর প্রয়োজন হয় না। চাইলে এক চুমুকেই ১০০ গ্রামের পেয়ালা খালি করে ফেলা যায়। তবে এখানকার গ্রাহকরা সেটা করেন না। বরং ধীরে ধীরে ঘণ্টার ওপর সময় নিয়ে এক কেটলি চা পান করা হয়। ব্যবসায়িক আলাপ, কাজের চুক্তি সম্পাদনা, এসব বৈঠকে এক আভিজাত্যের ছোঁয়া আনে এই টিডব্লিউজি’র চা।


‘দ্যা ওয়েলবিয়িং গ্রুপ’কেই সংক্ষেপে বলা হয় টিডব্লিউজি। পৃথিবীজুড়ে চায়ের প্রথম চমৎকার স্বাদ ও অভিজাত ব্র্যান্ড বলা হয় একে। ১৮৩৭ সালের দিকে যখন সিঙ্গাপুর এশিয়ার প্রধান বন্দর হয়ে উঠছিল, মশলা, চা ছাড়াও নানান পণ্যের বাজার হয়ে উঠে, তখন প্রতিষ্ঠিত হয় এই চায়ের ব্র্যান্ড। তবে ২০০৮ সাল থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিজেদের ফ্রাঞ্চাইজ এবং চা বার চালু করে প্রতিষ্ঠানটি।

ব্যাংককের এম্পোরিয়াম বা কুয়ালালামপুরের প্যাভিলিয়ান, সবখানেই টিডব্লিউজি’র আউটলেটের একটা সাধারণ বৈশিষ্ট হলো বুটিক নকশা। সেখানে অভিজাত ঝাড়বাতির সজ্জা থাকে এবং হাইওয়ে আলো ব্যবহৃত হয়। বদ্ধ রেস্টুরেন্ট নয়, বরং খোলামেলা জায়গায় থাকে টি বার। ঢুকলে চোখে পড়বে শত শত চায়ের ফ্লেবার সাজিয়ে রাখা হয়েছে।

দুনিয়ার প্রায় এক হাজার চা বাগান থেকে সেরা চা পাতার কুড়ি থেকে চা উৎপাদন করে টিডব্লিউজি। আর রয়েছে প্রায় ৮০০ ফ্লেভার। উৎসব উপলক্ষে সংক্ষিপ্ত এডিশনের চা উৎপাদন করে প্রতিষ্ঠানটি। চা বাগানগুলোর সঙ্গে সরাসরি বিশেষ এই চা উৎপাদনে কাজ করে প্রতিষ্ঠানটি।


চায়ের আনুষঙ্গিক পাত্রও বিক্রি করছে প্রতিষ্ঠানটি। একটি কেটলির মূল্য সর্বোচ্চ ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত দেখলাম এম্পোরিয়ামে। এছাড়াও নিজেদের ব্র্যান্ডের চা চামচ, পেয়ালা, চিনির পাত্র, দুধের পাত্র, পিরিচও রয়েছে। এছাড়াও সুভিনিয়রতো রয়েছেই৷

   

গদখালী যেন এক ফুলের স্বর্গ উদ্যান!



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি : নূর এ আলম

ছবি : নূর এ আলম

  • Font increase
  • Font Decrease

কালের সাক্ষী হয়ে শত বছরের ইতিহাস নিয়ে মাথা তুলে যশোরের রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে আছে অসংখ্য বৃক্ষ। যশোর জেলা থেকে বেনাপোলের দিকে ১৮ কি.মি. আগালেই গদখালী ফুলের বাজার।

ছবি : নূর এ আলম

দেখে মনে হবে সৃষ্টিকর্তা যেন নিজ হাতে তৈরি করে দিয়েছেন ফুলের এক স্বর্গ রাজ্য। কাকডাকা ভোরে সাইকেল, ভ্যান অথবা মোটরসাইকেলে করে ফুল চাষিরা ফুল নিয়ে আসেন গদখালীর পাইকারি ফুলের বাজারে।


 সূর্যের আলো ফোটার আগেই রাস্তার দু'পাশে সারি সারি দাঁড়িয়ে পড়েন ফুল বিক্রেতারা। শুরু হয় ফুল বিক্রি।

ছবি : নূর এ আলম

আর এই বাজারের মূল ক্রেতা দূরদূরান্ত থেকে আসা ফুলের ব্যাপারীরা। তারা এখান থেকে স্বল্প দামে ফুল কিনে নিয়ে পরে তা সরবরাহ করেন ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। রপ্তানি হয় বিদেশেও। 


গোলাপ, গাঁদা, গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধা, জারবেরা, চন্দ্রমল্লিকাসহ বিক্রি হয় বাহারি সব ফুল। ফুল চাষিরা যে বাহনে করে ফুল আনেন সেটাতে বসেই চলে বেচা-বিক্রি।

ছবি : নূর এ আলম

প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে বাজারে ফুল বিক্রি শেষ হয়ে যায়। কোনো দিবস বা বিশেষ দিন এলেই দিনে প্রায় কোটি টাকারও বেশি ব্যবসা করেন গদখালীর ফুল চাষি ও বিক্রেতারা।

ছবি : নূর এ আলম

ঝিকরগাছা ও শার্শা থানার ৯০টি গ্রামের প্রায় ৪ হাজার বিঘা জমিতে চাষ করা হয় বাজারে আসা ফুলগুলো। দেশের ফুলের মোট চাহিদার একটা বড় অংশের জোগান দিয়ে থাকেন ঝিকরগাছা ও শার্শা উপজেলার এই ফুলচাষিরা।


এখানে আছে ফুলের সুঘ্রান, মৌমাছির গুঞ্জন আর রঙিন প্রজাপতির ডানায় ভর করে আসা চিরন্তন সুন্দরের বার্তা। প্রায় সব ধরনের ফুলের দেখা মিলবে এই ফুলের রাজ্যে।

ছবি : নূর এ আলম

দেশের মোট চাহিদার প্রায় ৭০% ফুলের জোগান আসে যশোরের গদখালি থেকে। এখন গ্রামের বেশিরভাগ মানুষই ফুল চাষ অথবা বিক্রি পেশার সাথে জড়িত।

ছবি : নূর এ আলম

ফুলের বাগানগুলোতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে প্রত্যেকটি পরিবার।

ছবি : নূর এ আলম

দেশের এই বৃহত্তম ফুলের রাজ্য ঘুরে আসলে আপনার মন হয়ে উঠবে আরও প্রাণবন্ত ও উচ্ছ্বল।

;

ভারতের চা খেয়ে মুগ্ধ বিল গেটস!



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
বিল গেটস এবং ডলি চা-ওয়ালা

বিল গেটস এবং ডলি চা-ওয়ালা

  • Font increase
  • Font Decrease

‘মামা এক কাপ চা দেন তো!’ রাস্তার হাঁটতে গেলে প্রায়ই শোনা যায় এই বাক্য। রাস্তার মোড়ে মোড়ে ছোট একটু জায়গায় চায়ের টুকরি দোকান বা ভ্যান। সেসব জায়গা জুড়ে সারাদিন অনেক মানুষই বসে চা খায়, আড্ডা দেয়! চায়ের দোকানদারের ব্যস্ত সময় কাটে। চা পাতা, দুধ, চিনি, আদা, লবঙ্গ-নানারকম মশলা মিলিয়ে বানানো হয় চা। এই পানীয়, ভারতীয় উপমহাদেশে অনেক বেশি জনপ্রিয়। রাস্তায় বের হলে আর কিছু দেখাতে পাওয়া যাক বা নাই যাক, চায়ের দোকান থাকবেই!     

প্রতিদিন শত শত গ্রাহক ভিড় জমায় চায়ের দোকানগুলোতে। তবে, একজন সুদূর আমেরিকা থেকে ভারতে পাড়ি জমালেন চা খেতে! শুনে অবাক হচ্ছেন? আরও অবাক হবেন সেই ব্যক্তির নাম শুনলে।

বিখ্যাত টেক কোম্পানি মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস, ভারতে এসে চা খাওয়ার এক ভিডিও প্রকাশ করেছেন। নিজের ইন্সটাগ্রাম একাউন্ট থেকে সেই ভিডিওটি প্রকাশ করেন তিনি। সেই ভিডিওটি সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপাক সাড়া ফেলেছে।

ভারতের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জনপ্রিয় ছিলেন ডলি চাওয়ালা। অনন্য ধরনে চা বানানো এবং বিক্রি করার কারণে বেশ আলোচনায় ছিলেন তিনি। এখন যেন তার জনপ্রিয়তা আরও বেশি বেড়ে গিয়েছে। তার দোকানে বিল গেটসের চা খেতে আসা মানুষকে অনুপ্রাণিত করছে। সামান্য চা বানাতে তার এতো আয়োজনে মুগ্ধ হয়েছেন স্বয়ং বিল গেটসও। 

চা বানিয়ে আলোচনায় আসেন ভারতের ডলি চা-ওয়ালা

বিল গেটসের প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা যায়, সাধারণ গ্রাহকদের মতো তিনি ডলির কাছে এক কাপ চা দেওয়ার জন্য বলেন। তার কণ্ঠে ভেসে ওঠে হিন্দি ভাষায়,‘ ওয়ান চায়ে প্লিজ!’ তারপর একে একে পানি, দুধ, মশলা, চা-পাতির সমন্বয়ে ফুটে ওঠে গরম চা!  হাসি ‍মুখে চা উপভোগ করেন গেটস।

ভিডিও-তে তিনি ভারতে আবার আসার কারণে, খুশি হওয়ার কথা উল্লেখ করেন। তার সাথে গেটস ভারতকে নতুন উদ্ভাবনের দেশ বলেন। মানুষের জীবনকে উন্নত করার জন্য নতুনভাবে তিনি কাজ করছেন এমন ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি। তার পোস্ট দেখে স্পষ্ট  যে, চা নিয়ে চর্চা বেশ অনেক দূর গড়াবে! 

ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ৪ মিলিয়ন ভিউ অর্জন করে। ইন্সটাগ্রামে ৩ লাখ লাইক অর্জন করে। ভারতীয় সংস্কৃতিকে এভাবে আপন করে নেওয়াতে অনেকেই অবাক হয়েছেন এবং আনন্দ প্রকাশ করেছে।    

অনেকে তো বড় ফ্লাস্ক হাতে আর ছোট ছোট প্লাস্টিকের কাপ নিয়ে চা বিক্রি করতে বের হয়। চায়ের সাথে কেক, বিস্কুট, ড্রাইকেক বা রুটিও রাখে অনেকে। সকালে দিন শুরু করা বা বিকেলের হালকা নাস্তা, কারো সাথে গল্প করতে করতে সময় কাটানোর জন্য একদম উপযোগী এই পানীয়। এশিয়ার দেশগুলোতে বেশ আয়োজন করে চা বানানো এবং খাওয়া হয়। তাই একটু ভিন্নভাবেই বানানো হয় চা! 

বিল গেটসের ভারতে আসার কারণ পরিষ্কার নয়। তবে তার পোস্ট দেখে মনে হচ্ছে, সাধারণ জনগণের জীবনযাত্রার মানকে উন্নত করতে তিনি কোনো পদক্ষেপ নিয়ে চলেছেন।         

;

ইতিহাসের পাতায় আজ ২৯ ফেব্রুয়ারি



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
১৯৬০ সালে মরোক্কোর ভূমিকম্প

১৯৬০ সালে মরোক্কোর ভূমিকম্প

  • Font increase
  • Font Decrease

২৯ ফেব্রুয়ারি বছরের সবচেয়ে বিরল তারিখ। কারণ এই তারিখটি প্রতি বছর আসেনা। বিশেষ কিছু বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ২৯ দিন গণনা করা হয়। সেই বছরগুলোকে অধিবর্ষ হিসাবে বিবেচনা করা হয়।

প্রতি ৪ বছর অন্তর এই অধিবর্ষ বা লিপ ইয়ারের আবির্ভাব ঘটে। তবে ইতিহাসে চোখ রাখলে দেখা যায়, সেই অদিবর্ষের অধিদিবস বা লিপ ইয়ারের লিপডে-তেও ঘটেছিল স্মরণীয় কিছু ঘটনা। ৪ বছর পর আবার এসেছে অধিদিবস। জেনে নেওয়া যাক, ২৯ ফেব্রুয়ারিতে ঘটে যাওয়া কিছু ঐতিহাসিক ঘটনা!

১৯৬০ সালে মরোক্কোতে ভূমিকম্প

মরক্কোর দক্ষিণাঞ্চল আগাদিতে ভয়ানক ভূমিকম্প হয়েছিল ১৯৬০ সালের এই দিনে। রাত ১১ টা ৩৯ মিনিটে রিখটার স্কেল অনুযায়ী ৬.৭ মাত্রার ভুমিকম্প লণ্ডভণ্ড করে দেয়। প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ মারা গিয়েছিলেন সেই দুর্ঘটনায়। ধারণা করা হয় ১২ থেকে ১৫ হাজার মানুষ মারা গিয়েছিল এবং অনেক মানুষ ধ্বংসস্তুপে চাপা পড়ে আহত হয়েছিল।

মোজাম্বিকে ২০০০ সালের ভয়ানক বন্যা

২০০০ সালে বন্যায় ভেসে যায় দক্ষিণ মোজাম্বিক। সেখানে হাজার হাজার মানুষ বন্যার পানির কারণে আটকা পড়ে গিয়েছিল। আজকের দিনে সেখানে বন্যার পানি অনেক বেশি বাড়তে শুরু করে এবং আটকে পড়া মানুষকে বাঁচাতে সাহায্য চায় আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা। দুর্দশাগ্রস্তদের উদ্ধার করতে তারা আরও হেলিকপ্টারের ব্যবস্থা করার আর্জি জানায়। জাতিসংঘের তথ্যমতে এইদিন ৩ লাখ মানুষের সাহায্য প্রয়োজন ছিল।

পিয়ের ট্রুডোর পদত্যাগ

কানাডার রাজনীতিবিদ এবং ১৫ তম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন পিয়ের ট্রুডো। তিনি ১৯৬৮ সাল থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত কানাডার দায়িত্বে ছিলেন। তারপর আবার ১৯৮০ সাল থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত তিনি ক্ষমতায় ছিলেন। অবশেষে ১৯৮৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি দীর্ঘ ১৫ বছর পর, তিনি ৬৪ বছর বয়সে পদত্যাগ করেন।

তথ্যসূত্র: বিবিসি

;

২৯ ফেব্রুয়ারি: আজ অধিদিবস



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রতি ৪ বছর পর পর আসে অধিবর্ষ বা লিপ ইয়ার। এইবছরগুলোতে ফেব্রুয়ারি মাসে একদিন বেশি গণনা করা হয়। আজ ২৯ ফেব্রুয়ারি। অর্থাৎ, আজকে অধিদিবস বা লিপ ডে পালন করা হয়, যা আবার ৪ বছর পর আসবে। জেনে নেওয়া যাক, অধিদিবস বা লিপডে সম্পর্কে আকর্ষণীয় কিছু তথ্য:

১. রোমান একনায়ক জুলিয়াস সিজার খ্রিষ্টপূর্ব ৪৫ অব্দে প্রথমবার তার জুলিয়ান ক্যালেন্ডারে লিপ ডে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কারণ, ফেব্রুয়ারি মাসকে জুলিয়ান ক্যালেন্ডারের শেষ মাস হিসেবে বিবেচনা করা হতো।

২. বর্তমানে আমরা গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসরণ করি। সংস্করিত এই সঠিক লিপ ইয়ারের ক্যারেলন্ডারটি প্রকাশ করা হয়েছিল ১৫৮২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারিতে।  

৩. প্রাচীন সময়ে অধিদিবসকে বিশেষ একটি দিন হিসেবে বিবেচনা করা হতো। এই দিনে নারীরা তার পছন্দের পুরুষকে প্রেমের প্রস্তাব দিতো।

৪. প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হলে সেই নারীকে ১০ জোড়া দস্তানা উপহার দেওয়া হতো। কারণ, প্রেমের প্রস্তাবে পুরুষ রাজি হলে আংটি বদলের মাধ্যমে তাদের বাগদান হতো। যেহেতু বাগদান না হওয়ার কারণে, নারীর হাত খালি থাকবে; তাই দস্তানা উপহার দেওয়ার প্রচলন ছিল। যদিও এখন এই প্রথাগুলো একদমই পালন করা হয়না। সময়ের সাথে সাথে এইসব প্রথা বিলীন হয়ে গেছে।

৫. লিপ ডে-তে জন্ম নেওয়া শিশুদের লিপারস্ বা লিপলিং নামে ডাকা হয়। বাংলায় এদের অধিবর্ষের শিশু বলা হয়। তারা সাধারণত অধিবর্ষ ছাড়া অন্যান্য বছরগুলোতে ২৮  ফেব্রুয়ারী বা মার্চ ১ তারিখে তাদের জন্মদিন পালন করে।

৬. পৃথিবীর মোট জনসংখ্যা বিবেচনা করা হলে, অধিদিবসে জন্ম নেওয়ার সম্ভাবনা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। প্রতি ১৪৬১জন শিশুর মধ্যে ১ জনের ২৯ ফেব্রুয়ারিতে জন্ম নেওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

৭. পৃথিবীতে ২  টি জায়গাকে অধিবর্ষ রাজধানী হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। জায়গাগুলো হলো, টেক্সাসের অ্যান্থনী এবং নিউ মেক্সিকোর অ্যান্থনী। লিপডে-তে এই জায়গা গুলোতে নানারকম অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ধুমধাম করে অধিদিবস পালন করা হয় সেখানে।    

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

;