সম্রাট অশোক ও তার শাসনব্যবস্থা



শরীফুল ইসলাম, নিউজরুম এডিটর, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ইতিহাস খুললে আমরা দেখতে পাই, বহু রাজার গৌরবময় গল্প বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে আছে। তেমনি এক গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে ভারত বর্ষের মৌর্য সম্রাজ্যের রাজা সম্রাট অশোকের। যিনি মৌর্য সাম্রাজ্যকে এশিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী রাজ্য হিসেবে গড়েছিলেন।

সম্রাট অশোক এবং তার শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে জানা যায় কৌটিল্যের “অর্থশাস্ত্র” থেকে। অশোকের জীবনে এমন কিছু ঘটনা রয়েছে যা গোটা বিশ্বের রাজতন্ত্রকে আশ্চর্য করে দেয়। অশোকের জীবনী থেকে জানা যায়, শুরুর দিকে অশোক খুবই নির্দয় এবং হিংস্র ছিলেন। চীনা লেখক ফা হিয়ান এ সম্পর্কে বলেছেন, ‘অশোককে প্রথম জীবনে এমন মনে হয়, যেন সে নরক থেকে মানুষকে যন্ত্রণা দেওয়ার পন্থা শিখে এসেছে।‘ প্রকৃত অর্থেই অশোক শুরুর দিকে নৃশংস একজন যোদ্ধা এবং রাজা ছিলেন।

মৌর্য বংশের প্রথম রাজা চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের ছেলে বিন্দুসার। পাটালিপুত্র ছিল মৌর্য বংশের রাজধানী। বাবা বিন্দুসার এবং মা সুবোধরাঙ্গীর ছেলে ছিলেন অশোক। তার আসল নাম ছিল দেবাঙ্গপ্রিয় প্রিয়দর্শী আশোক।

অশোকসহ বিন্দুসারের মোট ১০১ জন পুত্র ছিল। কুৎসিত চেহারার জন্য অশোক বাবার অপ্রিয় হলেও যোদ্ধা হিসেবে ছিলেন সবার শ্রেষ্ঠ। অশোকের এই বীরত্ব বাবা বিন্দুসারের ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কারণ তিনি চাইতেন না অশোক তার পরবর্তী সম্রাট হোক। বিন্দুসারের শাসনামলে ভারতের বহু অংশ মৌর্য বংশের অধীনে চলে আসে। এই মৌর্য বংশের অধীনে থাকা তক্ষশীলা এক সময় বিদ্রোহ করে। সুযোগে বিন্দুসার অপ্রিয় পুত্র অশোককে পাঠান বিদ্রোহীদের দমন করতে। কিন্তু সেই যুদ্ধে পুত্রকে সেনা দিলেও দেননি কোনো অস্ত্র। অশোক বাবার ষড়যন্ত্র বুঝতে পারেন। কৌশলে পৌঁছান তক্ষশীলায় এবং কথার মাধ্যমে বিদ্রোহীদের দমন করতে সক্ষম হন। 

প্রাচীন তক্ষশীলা নগরী 

বিন্দুসার চেয়েছেন বড় ছেলে সুশীমা হবে তার পরবর্তী সম্রাট। কিন্তু সুশীমাকে অনেক সভাসদরা পছন্দ করতে পারতেন না। কারণ তার আচরণ ছিল অনেক রুক্ষ্ম। সভাসদদের অমতে সুশীমাকে রাজা করতে গেলে চানক্যের পরামর্শে অশোক তাতে বিদ্রোহ করে। সিংহলী বই ‘মহাবংশ’ থেকে জানা যায় অশোক তার ১০০ ভাইয়ের মধ্যে ৯৯ জনকেই হত্যা করেছিলেন। যে কারণে তাকে চণ্ডাশোক বলা হতো। 

২৬৮ খ্রিষ্টপূর্বে মৌর্য বংশের ২য় সম্রাট এবং ৩য় শাসক হিসেবে অশোকের রাজ্যাভিষেক হয়। ধীরে ধীরে তিনি বহু রাজ্য দখল করেন। চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য যখন মগদে তার শাসনামল শুরু করেন তখন ভারত ১৬টি জনপদে বিভক্ত ছিল। চাণক্য চেয়েছিলেন এই ১৬টি জনপদকে মৌর্য বংশের অধীনে আনার। কিন্তু মৌর্য গুপ্ত তার সাম্রাজ্যকে বেশি বিস্তার করতে পারেননি। তার ছেলে বিন্দুসার মৌর্য বংশকে অনেক বিস্তৃত করেন এবং তার পরে সম্রাট অশোক সেই সাম্রাজ্য সমগ্র ভারতবর্ষের পরিণত করেন। আফগানিস্তান, ইরান থেকে আসাম সমগ্র ভারতবর্ষই তার দখলে চলে আসে। অশোকের সেনাবাহিনীতে প্রায় ৬ লাখ পদাতিক সেনা ছিল। এছাড়া ৩০ হাজার অশ্বারোহী, ৯ হাজার হাতি এবং কয়েক হাজার জাহাজও ছিল। 

মৌর্য সাম্রাজ্য 

২৬১ খ্রিষ্টপূর্বে কলিঙ্গের সাথে মগদের বিধ্বংসী যুদ্ধ হয়। এই সাম্রাজ্যটি অনেক শক্তিশালী ছিল বলে তার পূর্বসূরিরা এটি দখল করতে পারেনি। অশোক প্রথমে রাজনৈতিকভাবে চেষ্টা করেন। তাতে ব্যর্থ হয়ে তিনি যুদ্ধের পথ বেছে নেন। এই যুদ্ধে প্রায় ১ লাখ সৈনিক নিহত এবং প্রায় ২ লাখ সাধারণ মানুষ প্রাণ হারায়। যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে অশোক বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করেন। তখন থেকেই অশোক বৌদ্ধ ধর্মের প্রচার শুরু করেন এবং যুদ্ধ করা ছেড়ে দেন। এজন্য অশোককে বৌদ্ধ ধর্মের কনস্ট্যানটাইন বলা হয়।

সম্রাট আশোক নতুন রাজতন্ত্রের সূচনা করেন। প্রজাদের কল্যাণে গাছ লাগান, হাসপাতাল নির্মাণ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। তার বানানো শাসনব্যবস্থা বর্তমানে প্রায় সব দেশে দেখা যায়। তার অধীনে থাকা ছোট ছোট রাজ্যগুলোতে একজন করে দায়িত্ব দেন। তাদের উপরে মন্ত্রী এবং সম্রাট থাকতেন। অশোকের বিচার ব্যবস্থা দুই ভাগে বিভক্ত ছিল। তিনি বিভিন্ন ধরনের সৈনিক ব্যবস্থা এবং তাদের জন্য আলাদা আলাদা প্রধান নির্ধারণ করেন। যা বর্তমান শাসন ব্যবস্থায় দেখা যায়। ভারতের সংবিধানে বহু অধ্যায় সম্রাট অশোকের শাসন ব্যবস্থা থেকেই গৃহীত। দুর্নীতি কমানোর জন্য অশোক গুপ্তচর বৃত্তি নিষিদ্ধ করেন।

অশোকের শাসনকাল ভারতে ইতিহাসে এক স্বর্ণযুগ ছিল। বৌদ্ধধর্মের প্রচারের জন্য তিনি নিজের সন্তানদের দেশ-বিদেশে পাঠান। তার শাসনামলে বৌদ্ধধর্ম অনেক বিস্তৃতি লাভ করে। ইতিহাসে অশোকই প্রথম সম্রাট ছিলেন, যিনি বিশ্বব্যাপী অহিংসার বাণী ছড়ান।

ন্যায়পরায়ণ এই সম্রাটের শেষ জীবন সুখের ছিল না। যুদ্ধ না করার ফলে তার সেনারা দুর্বল হয়ে পড়ে। বিভিন্ন রাজ্যে বিদ্রোহ দেখা দেয়। অশোকের অতিরিক্ত দান তার উত্তারাধিকারদের পছন্দ ছিল না। ফলে এক সময় তারা অশোককে বন্দী করেন। তখন অশোক নিজের সোনার থালাও দান করে দেন

২৩২ খ্রিষ্টপূর্বে সম্রাট অশোক বিভিন্ন রোগে জর্জরিত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পরে মৌর্য বংশের সূর্য অস্তমিত হতে শুরু করে।

সম্রাট অশোক একজন অহিংস রাজা হিসেবে স্বীকৃত। তার চক্র যাকে ধর্ম চক্র বলা হয় তা ভারতের পতাকার মধ্যখানে রয়েছে। অশোক স্তম্ভ ভারতের জাতীয় প্রতীক। যাতে সিংহ, হাতি, ঘোড়া ও গরুর মূর্তি দেখা যায়।

অশোক স্তম্ভ সম্বলিত ভারতের জাতীয় প্রতীক 
   

গদখালী যেন এক ফুলের স্বর্গ উদ্যান!



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি : নূর এ আলম

ছবি : নূর এ আলম

  • Font increase
  • Font Decrease

কালের সাক্ষী হয়ে শত বছরের ইতিহাস নিয়ে মাথা তুলে যশোরের রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে আছে অসংখ্য বৃক্ষ। যশোর জেলা থেকে বেনাপোলের দিকে ১৮ কি.মি. আগালেই গদখালী ফুলের বাজার।

ছবি : নূর এ আলম

দেখে মনে হবে সৃষ্টিকর্তা যেন নিজ হাতে তৈরি করে দিয়েছেন ফুলের এক স্বর্গ রাজ্য। কাকডাকা ভোরে সাইকেল, ভ্যান অথবা মোটরসাইকেলে করে ফুল চাষিরা ফুল নিয়ে আসেন গদখালীর পাইকারি ফুলের বাজারে।


 সূর্যের আলো ফোটার আগেই রাস্তার দু'পাশে সারি সারি দাঁড়িয়ে পড়েন ফুল বিক্রেতারা। শুরু হয় ফুল বিক্রি।

ছবি : নূর এ আলম

আর এই বাজারের মূল ক্রেতা দূরদূরান্ত থেকে আসা ফুলের ব্যাপারীরা। তারা এখান থেকে স্বল্প দামে ফুল কিনে নিয়ে পরে তা সরবরাহ করেন ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। রপ্তানি হয় বিদেশেও। 


গোলাপ, গাঁদা, গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধা, জারবেরা, চন্দ্রমল্লিকাসহ বিক্রি হয় বাহারি সব ফুল। ফুল চাষিরা যে বাহনে করে ফুল আনেন সেটাতে বসেই চলে বেচা-বিক্রি।

ছবি : নূর এ আলম

প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে বাজারে ফুল বিক্রি শেষ হয়ে যায়। কোনো দিবস বা বিশেষ দিন এলেই দিনে প্রায় কোটি টাকারও বেশি ব্যবসা করেন গদখালীর ফুল চাষি ও বিক্রেতারা।

ছবি : নূর এ আলম

ঝিকরগাছা ও শার্শা থানার ৯০টি গ্রামের প্রায় ৪ হাজার বিঘা জমিতে চাষ করা হয় বাজারে আসা ফুলগুলো। দেশের ফুলের মোট চাহিদার একটা বড় অংশের জোগান দিয়ে থাকেন ঝিকরগাছা ও শার্শা উপজেলার এই ফুলচাষিরা।


এখানে আছে ফুলের সুঘ্রান, মৌমাছির গুঞ্জন আর রঙিন প্রজাপতির ডানায় ভর করে আসা চিরন্তন সুন্দরের বার্তা। প্রায় সব ধরনের ফুলের দেখা মিলবে এই ফুলের রাজ্যে।

ছবি : নূর এ আলম

দেশের মোট চাহিদার প্রায় ৭০% ফুলের জোগান আসে যশোরের গদখালি থেকে। এখন গ্রামের বেশিরভাগ মানুষই ফুল চাষ অথবা বিক্রি পেশার সাথে জড়িত।

ছবি : নূর এ আলম

ফুলের বাগানগুলোতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে প্রত্যেকটি পরিবার।

ছবি : নূর এ আলম

দেশের এই বৃহত্তম ফুলের রাজ্য ঘুরে আসলে আপনার মন হয়ে উঠবে আরও প্রাণবন্ত ও উচ্ছ্বল।

;

ভারতের চা খেয়ে মুগ্ধ বিল গেটস!



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
বিল গেটস এবং ডলি চা-ওয়ালা

বিল গেটস এবং ডলি চা-ওয়ালা

  • Font increase
  • Font Decrease

‘মামা এক কাপ চা দেন তো!’ রাস্তার হাঁটতে গেলে প্রায়ই শোনা যায় এই বাক্য। রাস্তার মোড়ে মোড়ে ছোট একটু জায়গায় চায়ের টুকরি দোকান বা ভ্যান। সেসব জায়গা জুড়ে সারাদিন অনেক মানুষই বসে চা খায়, আড্ডা দেয়! চায়ের দোকানদারের ব্যস্ত সময় কাটে। চা পাতা, দুধ, চিনি, আদা, লবঙ্গ-নানারকম মশলা মিলিয়ে বানানো হয় চা। এই পানীয়, ভারতীয় উপমহাদেশে অনেক বেশি জনপ্রিয়। রাস্তায় বের হলে আর কিছু দেখাতে পাওয়া যাক বা নাই যাক, চায়ের দোকান থাকবেই!     

প্রতিদিন শত শত গ্রাহক ভিড় জমায় চায়ের দোকানগুলোতে। তবে, একজন সুদূর আমেরিকা থেকে ভারতে পাড়ি জমালেন চা খেতে! শুনে অবাক হচ্ছেন? আরও অবাক হবেন সেই ব্যক্তির নাম শুনলে।

বিখ্যাত টেক কোম্পানি মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস, ভারতে এসে চা খাওয়ার এক ভিডিও প্রকাশ করেছেন। নিজের ইন্সটাগ্রাম একাউন্ট থেকে সেই ভিডিওটি প্রকাশ করেন তিনি। সেই ভিডিওটি সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপাক সাড়া ফেলেছে।

ভারতের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জনপ্রিয় ছিলেন ডলি চাওয়ালা। অনন্য ধরনে চা বানানো এবং বিক্রি করার কারণে বেশ আলোচনায় ছিলেন তিনি। এখন যেন তার জনপ্রিয়তা আরও বেশি বেড়ে গিয়েছে। তার দোকানে বিল গেটসের চা খেতে আসা মানুষকে অনুপ্রাণিত করছে। সামান্য চা বানাতে তার এতো আয়োজনে মুগ্ধ হয়েছেন স্বয়ং বিল গেটসও। 

চা বানিয়ে আলোচনায় আসেন ভারতের ডলি চা-ওয়ালা

বিল গেটসের প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা যায়, সাধারণ গ্রাহকদের মতো তিনি ডলির কাছে এক কাপ চা দেওয়ার জন্য বলেন। তার কণ্ঠে ভেসে ওঠে হিন্দি ভাষায়,‘ ওয়ান চায়ে প্লিজ!’ তারপর একে একে পানি, দুধ, মশলা, চা-পাতির সমন্বয়ে ফুটে ওঠে গরম চা!  হাসি ‍মুখে চা উপভোগ করেন গেটস।

ভিডিও-তে তিনি ভারতে আবার আসার কারণে, খুশি হওয়ার কথা উল্লেখ করেন। তার সাথে গেটস ভারতকে নতুন উদ্ভাবনের দেশ বলেন। মানুষের জীবনকে উন্নত করার জন্য নতুনভাবে তিনি কাজ করছেন এমন ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি। তার পোস্ট দেখে স্পষ্ট  যে, চা নিয়ে চর্চা বেশ অনেক দূর গড়াবে! 

ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ৪ মিলিয়ন ভিউ অর্জন করে। ইন্সটাগ্রামে ৩ লাখ লাইক অর্জন করে। ভারতীয় সংস্কৃতিকে এভাবে আপন করে নেওয়াতে অনেকেই অবাক হয়েছেন এবং আনন্দ প্রকাশ করেছে।    

অনেকে তো বড় ফ্লাস্ক হাতে আর ছোট ছোট প্লাস্টিকের কাপ নিয়ে চা বিক্রি করতে বের হয়। চায়ের সাথে কেক, বিস্কুট, ড্রাইকেক বা রুটিও রাখে অনেকে। সকালে দিন শুরু করা বা বিকেলের হালকা নাস্তা, কারো সাথে গল্প করতে করতে সময় কাটানোর জন্য একদম উপযোগী এই পানীয়। এশিয়ার দেশগুলোতে বেশ আয়োজন করে চা বানানো এবং খাওয়া হয়। তাই একটু ভিন্নভাবেই বানানো হয় চা! 

বিল গেটসের ভারতে আসার কারণ পরিষ্কার নয়। তবে তার পোস্ট দেখে মনে হচ্ছে, সাধারণ জনগণের জীবনযাত্রার মানকে উন্নত করতে তিনি কোনো পদক্ষেপ নিয়ে চলেছেন।         

;

ইতিহাসের পাতায় আজ ২৯ ফেব্রুয়ারি



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
১৯৬০ সালে মরোক্কোর ভূমিকম্প

১৯৬০ সালে মরোক্কোর ভূমিকম্প

  • Font increase
  • Font Decrease

২৯ ফেব্রুয়ারি বছরের সবচেয়ে বিরল তারিখ। কারণ এই তারিখটি প্রতি বছর আসেনা। বিশেষ কিছু বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ২৯ দিন গণনা করা হয়। সেই বছরগুলোকে অধিবর্ষ হিসাবে বিবেচনা করা হয়।

প্রতি ৪ বছর অন্তর এই অধিবর্ষ বা লিপ ইয়ারের আবির্ভাব ঘটে। তবে ইতিহাসে চোখ রাখলে দেখা যায়, সেই অদিবর্ষের অধিদিবস বা লিপ ইয়ারের লিপডে-তেও ঘটেছিল স্মরণীয় কিছু ঘটনা। ৪ বছর পর আবার এসেছে অধিদিবস। জেনে নেওয়া যাক, ২৯ ফেব্রুয়ারিতে ঘটে যাওয়া কিছু ঐতিহাসিক ঘটনা!

১৯৬০ সালে মরোক্কোতে ভূমিকম্প

মরক্কোর দক্ষিণাঞ্চল আগাদিতে ভয়ানক ভূমিকম্প হয়েছিল ১৯৬০ সালের এই দিনে। রাত ১১ টা ৩৯ মিনিটে রিখটার স্কেল অনুযায়ী ৬.৭ মাত্রার ভুমিকম্প লণ্ডভণ্ড করে দেয়। প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ মারা গিয়েছিলেন সেই দুর্ঘটনায়। ধারণা করা হয় ১২ থেকে ১৫ হাজার মানুষ মারা গিয়েছিল এবং অনেক মানুষ ধ্বংসস্তুপে চাপা পড়ে আহত হয়েছিল।

মোজাম্বিকে ২০০০ সালের ভয়ানক বন্যা

২০০০ সালে বন্যায় ভেসে যায় দক্ষিণ মোজাম্বিক। সেখানে হাজার হাজার মানুষ বন্যার পানির কারণে আটকা পড়ে গিয়েছিল। আজকের দিনে সেখানে বন্যার পানি অনেক বেশি বাড়তে শুরু করে এবং আটকে পড়া মানুষকে বাঁচাতে সাহায্য চায় আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা। দুর্দশাগ্রস্তদের উদ্ধার করতে তারা আরও হেলিকপ্টারের ব্যবস্থা করার আর্জি জানায়। জাতিসংঘের তথ্যমতে এইদিন ৩ লাখ মানুষের সাহায্য প্রয়োজন ছিল।

পিয়ের ট্রুডোর পদত্যাগ

কানাডার রাজনীতিবিদ এবং ১৫ তম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন পিয়ের ট্রুডো। তিনি ১৯৬৮ সাল থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত কানাডার দায়িত্বে ছিলেন। তারপর আবার ১৯৮০ সাল থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত তিনি ক্ষমতায় ছিলেন। অবশেষে ১৯৮৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি দীর্ঘ ১৫ বছর পর, তিনি ৬৪ বছর বয়সে পদত্যাগ করেন।

তথ্যসূত্র: বিবিসি

;

২৯ ফেব্রুয়ারি: আজ অধিদিবস



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রতি ৪ বছর পর পর আসে অধিবর্ষ বা লিপ ইয়ার। এইবছরগুলোতে ফেব্রুয়ারি মাসে একদিন বেশি গণনা করা হয়। আজ ২৯ ফেব্রুয়ারি। অর্থাৎ, আজকে অধিদিবস বা লিপ ডে পালন করা হয়, যা আবার ৪ বছর পর আসবে। জেনে নেওয়া যাক, অধিদিবস বা লিপডে সম্পর্কে আকর্ষণীয় কিছু তথ্য:

১. রোমান একনায়ক জুলিয়াস সিজার খ্রিষ্টপূর্ব ৪৫ অব্দে প্রথমবার তার জুলিয়ান ক্যালেন্ডারে লিপ ডে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কারণ, ফেব্রুয়ারি মাসকে জুলিয়ান ক্যালেন্ডারের শেষ মাস হিসেবে বিবেচনা করা হতো।

২. বর্তমানে আমরা গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসরণ করি। সংস্করিত এই সঠিক লিপ ইয়ারের ক্যারেলন্ডারটি প্রকাশ করা হয়েছিল ১৫৮২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারিতে।  

৩. প্রাচীন সময়ে অধিদিবসকে বিশেষ একটি দিন হিসেবে বিবেচনা করা হতো। এই দিনে নারীরা তার পছন্দের পুরুষকে প্রেমের প্রস্তাব দিতো।

৪. প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হলে সেই নারীকে ১০ জোড়া দস্তানা উপহার দেওয়া হতো। কারণ, প্রেমের প্রস্তাবে পুরুষ রাজি হলে আংটি বদলের মাধ্যমে তাদের বাগদান হতো। যেহেতু বাগদান না হওয়ার কারণে, নারীর হাত খালি থাকবে; তাই দস্তানা উপহার দেওয়ার প্রচলন ছিল। যদিও এখন এই প্রথাগুলো একদমই পালন করা হয়না। সময়ের সাথে সাথে এইসব প্রথা বিলীন হয়ে গেছে।

৫. লিপ ডে-তে জন্ম নেওয়া শিশুদের লিপারস্ বা লিপলিং নামে ডাকা হয়। বাংলায় এদের অধিবর্ষের শিশু বলা হয়। তারা সাধারণত অধিবর্ষ ছাড়া অন্যান্য বছরগুলোতে ২৮  ফেব্রুয়ারী বা মার্চ ১ তারিখে তাদের জন্মদিন পালন করে।

৬. পৃথিবীর মোট জনসংখ্যা বিবেচনা করা হলে, অধিদিবসে জন্ম নেওয়ার সম্ভাবনা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। প্রতি ১৪৬১জন শিশুর মধ্যে ১ জনের ২৯ ফেব্রুয়ারিতে জন্ম নেওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

৭. পৃথিবীতে ২  টি জায়গাকে অধিবর্ষ রাজধানী হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। জায়গাগুলো হলো, টেক্সাসের অ্যান্থনী এবং নিউ মেক্সিকোর অ্যান্থনী। লিপডে-তে এই জায়গা গুলোতে নানারকম অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ধুমধাম করে অধিদিবস পালন করা হয় সেখানে।    

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

;