১১টি তিলা মুনিয়া পাখি উদ্ধার এবং অবমুক্ত



বিভোর বিশ্বাস, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সিলেট
তিলা মুনিয়া পাখিদের খুনসুটি। ছবি: এবি সিদ্দিক

তিলা মুনিয়া পাখিদের খুনসুটি। ছবি: এবি সিদ্দিক

  • Font increase
  • Font Decrease

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা থেকে সম্প্রতি ১১টি তিলা মুনিয়া (Sealy-breasted Munia) পাখি উদ্ধার করে অবমুক্ত করেছে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা বিভাগ। এ সময় জবাই করা ১০টি তিলা মুনিয়া পাখিসহ একজনকে আটক করা হয়েছে।

বনবিভাগ সূত্র জানায়, শুক্রবার (৩১ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের কুরমা চা বাগানের বাঘাছড়া এলাকা থেকে এক শিকারী আটক করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে ১১টি পাখিসহ শিকারের করা ফাঁদ জব্দ করেছে বন্যপ্রাণী বিভাগ।

আটক শিকারী উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের কানাইদেশী গ্রামের তাজ বক্সের ছেলে আনছর আলী (৫০)। এসময় দুই শিকারি পালিয়ে যায়। আশরাফুল মিয়া ও আজিবুর। তাদের দুই জনের বাড়িও একই উপজেলার রাজকান্দি গ্রামে।

কুরমা চা বাগানের বাঘাছড়া হাওড় হতে শিকার করার সরঞ্জাম, ১টি দা, ২টি বাইসাইকেল ১টি মোবাইল ফোন ও ১টি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। বন্যপ্রাণী বিষয়ক একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীরা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

বাসা তৈরির জন্য উপকরণ নিয়ে যাচ্ছে তিলা মুনিয়া। ছবি: এবি সিদ্দিক

বন্যপ্রাণী রেঞ্জের রেঞ্জকর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, গোপন সূত্রের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। জবাই করা ১০টি তিলা মুনিয়া পাখি জব্দ করার পাশাপাশি একই সঙ্গে জীবিত ১১টি মুনিয়া পাখি উদ্ধার করে ঘটনাস্থলেই অবমুক্ত করে দেয়া হয়। জবাই করা পাখিগুলোকে মাটিতে পুতে ফেলা হয়। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে। এর আগে গত ১৮ মার্চ একই এলাকা থেকে জবাই করা ৩৮টি তিলা মুনিয়া জব্দ করে মাটিতে পুতে ফেলা হয়েছিল। তখন শিকারিরা পালিয়ে যায় বলে জানান তিনি।

তিলা মুনিয়া অতিপরিচিত গায়ক পাখি। বেশ সুরেলা গলা তার। এ দেশের শহর-বন্দর-গ্রামে প্রচুর দেখা যায়। লম্বায় ১১.৫ সেন্টিমিটার। মাথা থেকে লেজের ডগা জলপাই-বাদামি। চিবুক গাঢ় রঙের। বুকের ওপরটা খয়েরি। পেট কালচে-বাদামি, তাতে সাদা ফোঁটা থাকে। স্ত্রী-পুরুষ একই রকম। মুনিয়া বেশ চঞ্চল।ফসলের খেত, মাঠ, নলখাগড়ার বন, বাগান প্রভৃতি স্থানে ঝাঁকে ঝাঁকে চড়ে বেড়ায়।

এ পাখিটি অতি সুন্দর। এজন্য অসাধু পাখিশিকারীরা তাকে জাল, ফাঁদ প্রভৃতির সাহায্যে ধরে পাখিপ্রেমীদের নিকট উচ্চমূল্যে বিক্রয় করে থাকেন। তবে দেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে অন্যান্য পাখির মতো এই পাখিও ধরা, পালন করা, হত্যা করা কিংবা খাওয়া আইনত দন্ডনীয় অপরাধ।

   

আবেদনে লেখা ছিল, ‘চাকরিটি না হলে শৈশবের প্রেমিকাকে বিয়ে করতে পারবো না’



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সাধারণত যেকোনো চাকরির আবেদনের ক্ষেত্রেই প্রার্থী তার পরিচয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা, ব্যক্তিত্ব, অন্যান্য দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে থাকেন। কিন্তু এবার ভিন্নধর্মী এক আবেদনপত্রের ঘটনা শুনলে অবাক না হয়ে পারবেন না! সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একজন চাকরি প্রার্থীর একটি আবেদনপত্র ভাইরাল হয়েছে। যা দেখে রীতিমতো অবাক নেট দুনিয়ার মানুষ।

ওই আবেদনপত্রে লেখা ছিল, ‘আমি যদি এই চাকরি না পাই তাহলে আমি আমার শৈশবের প্রেমিকাকে হারাবো’। এখানে বলে রাখা ভালো- এমন অদ্ভুত ঘটনার সাক্ষী বাংলাদেশ নয়, প্রতিবেশি দেশ ভারত। 

ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এমন বিস্ময়কর তথ্যের খোঁজ দিয়েছে।

ভাইরাল হওয়া ওই আবেদনপত্রটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ শেয়ার করেছেন দেশটির আরভা হেলথের প্রতিষ্ঠাতা এবং চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার দিপালী বাজাজ।

দিপালী বাজাজ জানান, ইঞ্জিনিয়ার পোস্টের জন্য একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল। ওই বিজ্ঞপ্তির আলোকে একটি আবেদন পড়েছিল যেটিতে লেখা ছিল 'আমি যদি এই চাকরি না পাই তাহলে আমি আমার শৈশবের প্রেমিকাকে হারাবো। কারণ তার বাবা জানিয়ে দিয়েছেন চাকরি না পেলে তার মেয়েকে আমার সাথে বিয়ে দিবেন না।'

বাজাজ তার কাছে জানতে চেয়েছিল "কেন আপনি এই চাকরির জন্য উপযুক্ত?" এর প্রত্যুত্তরে তিনি লিখেন, ‘আমি যদি এই চাকরি না পাই তবে আমি আমার প্রেমিকাকে কখনোই বিয়ে করতে পারব না। কারণ তাঁর বাবা বলেছেন, চাকরি পেলেই তুমি তাঁকে বিয়ে করতে পারবে।’

এর একটি স্ক্রিনশট মিসেস বাজাজ এক্স-এ শেয়ার করে ক্যাপশনে লিখেছেন, "নিয়োগ করাও মজার হতে পারে।" পোস্টটি ইতোমধ্যেই ২ দশমিক ২ লাখের বেশি মানুষ দেখেছেন এবং ৪ হাজার লাইক দিয়েছেন।

অনেকেই পোস্টটির নিচে কমেন্টে নিজেদের অভিব্যক্তি তুলে ধরেছেন।

একজন লিখেছেন, "সততার জন্য তাকে নিয়োগ করুন"

আরেকজন লিখেছেন, "লোকটি সৎ। আসল কথা হবে যদি এইচআর তাকে পরবর্তী ধাপের জন্য বিবেচনা করেন।"

তবে এমন কাণ্ডের পর আবেদনকারী চাকরিটা পেয়েছেন কি না সেটা নিশ্চিত না হওয়া গেলেও তিনি যে তার ভালোবাসাকে পূর্ণতা দিতে অটুট তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। 

;

গ্রামীণ শিল্প মৃৎশিল্প

নওগাঁয় হারিয়ে যাচ্ছে মৃৎশিল্প: দইয়ের ভাঁড়ই একমাত্র ভরসা!



শহিদুল ইসলাম, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নওগাঁ
ছবি: বার্তা২৪

ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

নওগাঁ জেলার বিভিন্ন গ্রামে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে মৃৎশিল্পীদের আবাস। এসব গ্রামে প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার মৃৎশিল্পী মাটির জিনিসপত্র তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

এসব এলাকা থেকে তৈরি মৃৎশিল্পের মনকাড়া পণ্যগুলো দেশের বিভিন্ন স্থানে জায়গা করে নিয়েছিল একসময়। কিন্তু প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও বাজারের অভাবে এ শিল্প আজ বিলুপ্তির পথে। এক সময় হয়ত এর স্থান হবে জাদুঘরে। সে সময় আর বেশি দূরে নয়!

পূর্বপুরুষদের এ পেশাটিকে টিকিয়ে রাখতে প্রতিনিয়ত চলছে মৃৎশিল্পীদের জীবনসংগ্রাম। দইয়ের ভাঁড় তৈরি করে সংসারের হাল ধরে রেখেছেন গ্রামীণ নারীরা কিন্তু মৃৎশিল্পকে ধরে রাখতে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হচ্ছে কারিগরদের। এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে স্বল্প কিংবা বিনা সুদে ঋণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এ পেশার সঙ্গে জড়িত মৃৎশিল্পীরা।

এক সময় বেশ কদর ছিল মাটির তৈরি জিনিসপত্রের কিন্তু বর্তমানে দস্তা, অ্যালুমিনিয়াম এবং প্লাস্টিক থেকে তৈরি জিনিসপত্রের সঙ্গে টিকে থাকতে পারছে না মৃৎশিল্প। সে কারণে এ পেশার সঙ্গে জড়িতদের জীবন-যাপন হয়ে পড়েছে কষ্টসাধ্য।

নওগাঁর বিভিন্ন উপজেলার গ্রামগুলোতে মাটির হাড়ি তেমন একটা চোখে পড়ে না। এছাড়া মৃৎশিল্প তৈরির উপকরণ মাটির সংকট, জ্বালানির দাম বেশি হওয়ায় এর দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে, মাটির তৈরি জিনিসপত্রের চাহিদাও কমে গেছে।

সরেজমিন নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপজেলার পালপাড়া গ্রামে দেখা যায়, প্রায় শতাধিক নারী ও পুরুষ মাটির দইয়ের হাড়ি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ মাটিকে নরম করছেন, কেউ ভাঁড়ের আকার দিচ্ছেন আবার কেউ আগুনে পোড়াচ্ছেন। এভাবেই বিশাল এক কর্মযজ্ঞ চলছে সেখানে।

পালপাড়া গ্রামের চন্দনা রানী বার্তা২৪.কমকে বলেন, মাটির তৈরি জিনিসপত্রের চাহিদা কমেছে বলে গ্রামের নারীরা এখন দইয়ের হাড়ি তৈরি করে রোজগার করছেন। দইয়ের হাড়ি ছাড়া আমাদের আর কোনো কাজ নেই তেমন একটা।

তিনি বলেন, বিভিন্ন স্থান থেকে আঁঠালো মাটি কিনে আমরা এ কাজগুলো করি তবে আমাদের যদি সরকারিভাবে সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া হয়, তাহলে এ ব্যবসাটাকে আরো বড় করা যেতো।

গৃহবধূ দীপালী মহন্ত বলেন, এ কাজের মাধ্যমে আমাদের সংসার চলে। দইয়ের হাড়ি বানানোর মাধ্যমে যা রোজগার হয়, সেটা দিয়ে স্বামীকে সহযোগিতা করি। ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার খরচ চালাই। ব্যবসাকে বড় করতে চাই। এজন্য যদি সহযোগিতা পাওয়া যেতো, তাহলে আরো বড় পরিসরে কাজগুলো করা যেতো।

নওগাঁয় হারিয়ে যাচ্ছে মৃৎশিল্প: দইয়ের ভাঁড়ই কেবল ভরসা, ছবি- বার্তা২৪.কম

ব্যবসায়ী তপন কুমার পাল বলেন, কাঁচা অবস্থায় আমরা প্রতিটি দইয়ের হাড়ি ৫ থেকে ৬ টাকা করে কিনি। পরে সেটা পুড়িয়ে ৯ থেকে ১০ টাকা দরে বিক্রি করে থাকি। এক সময় সব ধরনের মাটির জিনিসপত্র তৈরি হতো কিন্তু এখন দইয়ের হাড়িই একমাত্র ভরসা!

তপন কুমার বলেন, মৃৎশিল্পের জন্য নদীর আঁঠালো মাটির দরকার হয়। সারাবছরই এ কাজ করা হয় তবে বর্ষা মৌসুমে এ মাটি সংগ্রহ করা ব্যয়বহুল এবং কষ্টসাধ্য। সারাবছর কাজ করার জন্য চৈত্র ও বৈশাখ মাসে মাটি কিনে সংগ্রহ করতে হয়। সুনিপুণভাবে হাড়ি, ঢাকনা, কাঁসা, পেয়ালা, মাইসা, সাতখোলা, ব্যাংক, কলস, ডাবর, পানি রাখার পাত্রসহ বিভিন্ন জিনিস তৈরি করা হয় এখানে। এগুলোর তেমন একটা চাহিদা না থাকলেও দইয়ের হাড়ির বেশ চাহিদা রয়েছে।

এ বিষয়ে বিসিক (বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন) জেলা কার্যালয়ের উপব্যবস্থাপক শামীম আক্তার মামুন বার্তা২৪.কমকে বলেন, আমরা সব সময় উদ্যোক্তাদের পাশে আছি। নারী উদ্যোক্তাদের জন্য শতকরা ৫ শতাংশ এবং পুরুষ উদ্যোক্তাদের জন্য শতকরা ৬ শতাংশ বিনা সুদে খুব সহজ পদ্ধতিতে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা আছে। তারা চাইলে আমাদের কাছ থেকে ঋণ নিতে পারেন।

;

আইসক্রিমের মধ্যে কাটা আঙুল



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
আইসক্রিমের মধ্যে কাটা আঙুল

আইসক্রিমের মধ্যে কাটা আঙুল

  • Font increase
  • Font Decrease

অনলাইনে কোনো অ্যাপ থেকে খাবার অর্ডার করলেন। সময়মতো অর্ডার এলো, অনেক আগ্রহে খাবারের প্যাকেট খুললেন। যেই না খাবার খেতে যাবেন ঠিক সেই মুহূর্তেই এমন এক ঘটনা ঘটলো, যার জন্য একেবারেই প্রস্তুত ছিলেন না। খেতে যাওয়ার মুহূর্তে খাবারের মধ্যে যদি কোনো মানুষের শরীরের অংশ পান কেমন বোধ করবেন?

নিশ্চয়ই মনে হচ্ছে কোনো সিনেমা বা নাটকের দৃশ্য। এখন তো দেশি-বিদেশী নানারকম কনটেন্টেই এরকম দৃশ্য দেখা যায়! তবে না, এই ঘটনা একেবারেই বাস্তব। ভারতের এক নারী তার আইসক্রিমের মধ্যে পেলেন মানুষের কেটে যাওয়া একটি আস্ত আঙুল।

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটেছে ভারতের বাণিজ্য এবং বিনোদনের শহর মুম্বাইতে। মালাডের শহরতলীতে বসবাসকারী একজন নারী ‘ইউম্মো আইসক্রিম’ থেকে খাবার আনান। অনলাইনে একটি কোণ আইসক্রিম অর্ডার করেছিলেন তিনি। আইসক্রিমটির মোড়ক খুলতেই হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। আইসক্রিমের উপরের অংশে মানুষের একটি কাটা আঙুল দেখা যাচ্ছে।

স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনায় তিনি আতঙ্কিত এবং বিরক্ত হয়েছেন। শুধু তাই নয়, এমন একটি ঘটনা যথেষ্ট সন্দেহজনকও। সেই নারী অতিসত্তর অভিযোগ করতে মালাড থানায় যান। আইসক্রিমটিকে নিয়ে যান প্রমাণ হিসেবে। তার ভিত্তিতে খাদ্যে ভেজাল এবং মানুষের জীবন বিপন্ন করার অভিযোগ লেখা হয়। এখন ইউম্মোর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেই আইসক্রিমটির ছবি ছড়িয়ে যেতে শুরু করেছে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে একটি মানুষের আঙুল আইসক্রিমের ওপরে আটকে আছে। পুলিশ তদন্তের জন্য আইসক্রিমটি পরীক্ষা করছে। তাছাড়া আঙুলটিও ফরেনসিকে পাঠানো হয়েছে। এর পেছনের রহস্য উদঘাটনে পুলিশ এই ব্যাপারটি নিয়ে পুরোদমে তদন্ত চালাচ্ছে।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি 

;

শত বছর পর শখের মুদ্রা নিলামে



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

শখের বশে মানুষ কত কিছুই না করে। তেমনি একজন ডেনমার্কের বাসিন্দা লার্স ইমিল ব্রান। তার শখ ছিল মুদ্রা সংরক্ষণ করা। এবার তার মৃত্যুর শত বছর পর সেই শখের মুদ্রা নিমালে উঠতে যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ১৮৫২ সালে লার্স ইমিল ব্রান ডেনমার্কে জন্ম নেন। পেশায় তিনি ছিলেন দুগ্ধপণ্য ব্যবসায়ী। ছোট বেলা থেকেই তিনি মুদ্রা সংগ্রহ করেন। বড় হয়েও এই শখের কাজ ছেড়ে দেননি। বরং আরও জোরালো হয়ে ধরে রেখেছেন। নতুন পুরোনো সব মুদ্রাই তিনি জমিয়েছেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তার সংগ্রহে মুদ্রার সংখ্যা দাঁড়ায় ২০ হাজারে। সেই মুদ্রাই নিলামে তুলছে নিউইয়র্কভিত্তিক নিলামঘর স্টেকস বোয়ার্স।

ইমিলের মৃত্যুর এত বছর পর কেন এখন নিলামে উঠছে এসব মুদ্রা এমন প্রশ্নের জবাবে সংশ্লিষ্টরা গণমাধ্যমকে জানান, মৃত্যুর আগে ইমিল উইল করেন। যেখানে বলা হয়, তার মৃত্যুর পর শত বছর পর্যন্ত এসব মুদ্রা সংরক্ষিত করে রাখতে হবে। এসব মুদ্রার শত বছর পুরোনো না হলে তা বিক্রি করা যাবে না।

ইমিল আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ছিলেন। ১৮ শতকে দুগ্ধপণ্যের ব্যবসা করে তিনি ব্যাপক অর্থ উপার্জন করেন। শখ পূরণে দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়িয়েছেন। সেখান থেকে মুদ্রা সংগ্রহ করেছেন। ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেনের বহু পুরোনো মুদ্রা, ব্যাংক নোট এবং মেডেলও তার সংগ্রহে রয়েছে।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় শখের মুদ্রাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত ছিলেন ইমিল। এরপরই যুদ্ধ শেষে সংগ্রহের অমূল্য মুদ্রাগুলোর নিরাপত্তায় উইল করেন। যেখানে শর্ত দেন, এক শত বছর পূর্ণ না হলে এসব মুদ্রা বিক্রি করা যাবে না। ইমিলের মৃত্যুর পর এসব মুদ্রা ডেনমার্কের এক রাজপ্রাসাদে সংরক্ষণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ডেনমার্কের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে মুদ্রা ও ব্যাংকনোটগুলো তুলে দেওয়া হয়। যা এখন নিলামের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।

নিউইয়র্কভিত্তিক নিলামঘর স্টেকস বোয়ার্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট ভিকেন ইয়েগপারিয়ান জানান, সংরক্ষিত এসব মুদ্রায় এমন কিছু রয়েছে যা শত বছর ধরে বাজারে পাওয়া যায় না।

এদিকে ইমিলের সংগ্রহ থেকে ছয়টি স্বর্ণমুদ্রা ও একটি রৌপ্যমুদ্রা কিনে নিয়েছে ডেনমার্কের জাতীয় জাদুঘর। যা সর্বসাধারণের প্রদর্শণীর জন্য় উন্মুক্ত করা হবে। ছয়টি মুদ্রা কিনতে এক মিলিয়ন ইউরো (১০৯ মিলিয়ন ডলার) খরচ করেছে ডেনমার্কের জাতীয় জাদুঘর।

জাতীয় জাদুঘরের মুদ্রা ও পদক সংগ্রহ বিভাগের প্রধান হেলি হর্সনেস এএফপিকে বলেন, এই মুদ্রার মান অতুলনীয়। এই মুদ্রা ঠিক এক শতাব্দী ধরে ঘুমানো রাজকুমারীর মতো কিংবদন্তী হয়ে উঠেছে।

;