উপনিবেশিক শাসনামলে বাংলা ভাষায় ইতিহাসচর্চা



ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

 

ইতিহাসচর্চার ঐতিহ্য হাজার বছরের পুরনো হলেও বাংলা ভাষায় ইতিহাসচর্চার সূত্রপাত খুব বেশী দিনের নয়। উপনিবেশিক শাসনামলেই বাংলা ইতিহাসচর্চার ধারা শুরু হয়েছিল। অষ্টাদশ শতকে কোলকাতায় এশিয়াটিক সোসাইটি প্রতিষ্ঠার পর ¬¬¬¬¬গবেষকদের হাতে যখন ভারত বিদ্যার জ্ঞান বিস্ফুরিত হচ্ছিল, তখন থেকেই ইতিহাস চর্চার ধারা শুরু হয়। কোম্পানির স্বার্থে লিখিত এসকল বুদ্ধিজীবীর লেখনীর সূত্র ধরে বাঙালি মনীষিরাও এগিয়ে আসেন। প্রথম যিনি  ইতিহাস রচনায় বা বাংলা ভাষায় ইতিহাস নিবন্ধ রচনা করেছিলেন তিনি ইতিহাসের ছাত্র নন। কোম্পানীর কর্মচারীদের ফার্সী ভাষা শেখানোর দায়িত্বে নিয়োজিত রামরাম বসু বাংলা ভাষায় ইতিহাস লেখা শুরু করেন । ১৮০১ সালে শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে তাঁর লেখা প্রতাপাদিত্য চরিত বইটি প্রকাশিত হয়। এরপর স্থানীয় ব্যাক্তদের চরিত্র বা জীবনী নিয়ে লেখা আরো দু একটি বই দেখা যায়। সাহিত্যিকদের হাত ধরে বাংলা ভাষায় ইতিহাসচর্চার ধারা শুরু হয়েছিল ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের হাতে। ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে শ্রীরামপুরের প্রেস থেকে জন মার্শম্যানের বাংলায় লেখা ভারতবর্ষের ইতিহাস বইটি প্রকাশিত হয়েছিল। বইটির শিরোনামে লেখা হয়েছিল ‘ ভারতবর্ষের ইতিহাস অর্থ্যাৎ কোম্পানি বাহাদুরের সংস্থাপনাবধি মার্কুইশ হেস্টিংসের রাজশাসনের শেষ বৎসর পর্যন্ত  ভারতবর্ষে ইঙ্গলন্ডীয়েরদের কৃততারদ্বিবরণ। শ্রীযুত জানমার্স মান সাহেব কর্তৃক বাঙ্গালা ভাষায় সংগৃহীত ’।

১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দে জন ক্লার্ক ম্যার্শম্যানের আউটলাইন অব দ্য হিস্ট্রি অব বেঙগল অবলম্ব ঈশ্বরচন্দ্র্র বিদ্যাসাগর ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দে রচনা করেন বাংলার ইতিহাস দ্বিতীয় ভাগ। জীবন চরিত বা বায়োগ্রাফি ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি চেম্বার্সের বায়োগ্রাফিজ অবলম্বনে জীবন চরিত লেখেন। ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়েছিল শ্রী কেদারনাথ বন্দোপাধ্যায়ের ‘ভারতবর্ষের সঙ্ক্ষিপ্ত ইতিহাস’। চারি আনা মূল্যের এই ইতিহাস বইটি গিরিশ চন্দ্র শর্মা কর্তৃক কোলকাতা থেকে বিদ্যারত্ন যন্ত্রে মুদ্রিত হয়েছিল। স্কুলের ছাত্রদের উপযোগী এই ইতিহাস বই কেন তিনি রচনা করেছিলেন, তার একটা সুন্দর ব্যাখ্যা গ্রন্থকার দিয়েছেন। তাঁর মতে, ‘ কোন বিস্তীর্ণ বিষয় অবগত হইতে হইলে অগ্রে তাহার সার ভাগ জ্ঞাত হইয়া স্থুল তাৎপর্য্ পরিগ্রহ করা কত্তর্ব্য। তাহা হইলে যথন বিস্তারিত বিবরণ জানিতে আরম্ভ করা যায় তৎকালে সেই প্রাথমিক স্থুল পরিজ্ঞানের সাহায্যে অনায়াসে সমস্ত বিস্তারিত বিষয়ে ব্যুৎপত্তি জন্মিতে পারে।… আমিও সেই উৎকৃষ্ট  উদ্দেশের অনুবর্ত্তী হইয়া, এই প্রকান্ড ভারতভূমির বিস্তারিত বিবরণের সার সংগ্রহ করিয়া ‘ভারতবর্ষের সঙ্ক্ষিপ্ত ইতিহাস’ নামক এই ক্ষুদ্র গ্রন্থখানি প্রচারিত করিলাম।’

তবে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সূত্র ধরে এসময়ে বেশ কয়েকজন বাঙালি মনীষী বাংলার ইতিহাস চর্চায় এগিয়ে আসেন।যাদের মধ্যে রাজকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, রজনীকান্ত গুপ্ত, কালী প্রসন্ন বন্দোপাধ্যায় উল্লেখযোগ্য। উনিশ শতকে প্রকাশিত এই বইগুলো থেকে ইতিহাসের মূল্যবান তথ্য সংগ্রহ করা যায়। পান্ডিত্য, বিচক্ষণ বিশ্লেষণশক্তি ও নিপুন প্রকাশভঙ্গি ছিল তাঁদের ইতিহাস রচনার বিষয়।১৩১৭ বঙ্গাব্দে কোলকাতার ৭৬ নং বলরাম স্ট্রীটের মেটকাফ প্রেস থেকে রঙ্গপুর সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক গৌড়ের ইতিহাস বইটি প্রকাশিত হয়। লেখক রজনীকান্ত চক্রবর্ত্তী  বইটি কৃষ্ণলাল চৌধুরীকে উৎসর্গ করেন। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে রজনীকান্ত চক্রবর্ত্তী লেখেন, “ আমি যখন এই গ্রন্থ রচনা করিয়া কিরূপে ইহার মুদ্রণব্যয় সংগ্রহ করিব, ভাবিতেছিলাম, তখন মালদহের জমিদার শ্রীযুক্ত কৃষ্ণলাল চৌধুরী ও স্বর্গীয় হরিশ্চন্দ্র চৌধুরী মহাশয় ইহার মুদ্রণের সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহনে স্বীকৃত হইয়াছিলেন। তাঁহারা অর্থ সাহায্য না করিলে ইহা কোনকালে মুদ্রিত হইত না। শ্রীযুক্ত কৃষ্ণলাল বাবু ও হরিশবাবুর সৌজন্য বিদ্যোৎসাহিতার বিষয় এদেশে বিশেষরূপে প্রসিদ্ধ।” গ্রন্থ খানি প্রকাশের বিষয়ে শ্রীরজনীকান্ত চক্রবর্ত্তী  তদানীন্তন রংপুরের সাহিত্য পরিষদের সম্পাদক জমিদার সুরেশ চন্দ্র রায় চৌধুরী এর কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেছিলেন। গৌড়ের ইতিহাস বইটি বাংলা ১৩১৭ সনের ১লা বৈশাখ প্রকাশিত হয়েছিল।

পেশাদারিত্ব নিয়ে ইতিহাসচর্চা শুরু করেন রাখালদাস বন্দোপাধ্যায় । ১৯১৫ ও ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দে তিনি দুই খন্ডে রচনা করেন বাঙ্গালার ইতিহাস। বলা যেতে পারে বাংলা ভাষায় বাংলার ইতিহাস নিয়ে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে লেখা প্রথম দিকের কাজগুলোর একটি। এজন্য তাঁকে ভারতীয় প্রত্নতত্ত্বের অগ্রপথিক হিসেবে গণ্য করা হয়।

বাংলা ভাষায় ও বাংলায় ইতিহাস চর্চার ক্ষেত্রে উপনিবেশিক শাসনামলে এ সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বরেন্দ্র রিসার্চ সোসাইটি (১৯১০-১৯৬৩) বা বরেন্দ্র গবেষণা সমিতি, যা আমাদের কাছে বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর নামে পরিচিত । ১৯১৪ সালে সমিতি হিসেবে নিবন্ধিত এ সোসাইটি বাংলার প্রাচীন স্থানগুলিতে অনুসন্ধান, বাংলার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস সম্পর্কে গবেষণা, প্রত্ন-নিদর্শনাবলি ও প্রাচীন পান্ডুলিপি সংগ্রহ ও সংরক্ষণ এবং প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন গবেষণাকর্ম ও বিরল পান্ডুলিপি প্রকাশনার কাজ হাতে নেয়। বাংলার ইতিহাস রচনায় নতুনরূপে লেখনী ধারন করে এগিয়ে আসেন শরৎ কুমার রায়, অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, রমাপ্রসাদ চন্দ। বাংলার শিল্পকলা ও প্রত্নতত্ত্ব সম্পর্কে অধ্যয়ন ও গবেষণায় তাঁদের অভিন্ন আগ্রহ ছিল। মানুষ ও প্রকৃতির ধ্বংসলীলা এড়িয়ে যেসব সৌধ এখনও টিকে আছে সেগুলির তথ্য উদ্ঘাটন করে অতীত ঐতিহ্য তুলে ধরাই ছিল তাঁদের আজীবন প্রয়াস। বাঙালি বুদ্ধিজীবিদের মধ্যে ইতিহাস চেতনার সঞ্চার নতুনরূপে দেখা দেয়। ইতোমধ্যে এই সমিতির অন্যতম কর্ণধার রমাপ্রসাদ চন্দ ১৯১২ সালে গৌড় মালা প্রকাশ করে বাংলার ইতিহাস চর্চাকে উচ্চস্তরে পৌছে দেয়ার কাজটি করেন। গৌড় রাজমালা (১৯১২) বরেন্দ্র রিসার্চ সোসাইটি কর্তৃক প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে রমাপ্রসাদ চন্দের পান্ডিত্যের খ্যাতি আরো ছড়িয়ে পড়ে।‘গৌড় রাজমালা’ ও ‘গৌড় লেখমালা’ গ্রন্থ দুটি প্রকাশের পর প্রবাসী পত্রিকায় প্রাচ্য পন্ডিত বিজয় চন্দ্র মজুমদার মন্তব্য করেছিলেন, ‘ইতিহাস সংগ্রহ সংকল্পে যে সকল উদ্যোগ চলিতেছে, তাহা অত্যন্ত প্রশংসার যোগ্য’। বাংলা ভাষায় ঐতিহাসিক গবেষণার  আরেক নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হয় অক্ষয় কুমার মৈত্রেয় এর হাত ধরে। ১৯১২ সালে প্রকাশিত গৌড়লেখমালায় তিনি কয়েকটি পাল তাম্রশাসন ও লিপিমালার যে বাংলা অনুবাদ করেছিলেন, তা বাংলা ভাষায় ইতিহাস চর্চার ক্ষেত্রে মাইল ফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। এই প্রকাশনাগুলো এতই গুরুত্বপূর্ণ যে অদ্যাবধি  প্রাচীন বাংলার ইতিহাস সম্পর্কে প্রত্নতাত্ত্বিক উৎস থেকে তথ্যাবলি সংগ্রহের একমাত্র প্রামাণিক সূত্র হিসেবে বিবেচিত হয়। উপনিবেশিক আমলের এ সকল মনীষীরা বা যারা ইতিহাস চর্চায় নিজেদের নিয়োজিত রেখেছিলেন তারা শুধু শিক্ষিত ভদ্রলোকই ছিলেন না, পশ্চিমিভাব ধারার সাথে তারা পরিচিত ছিলেন। পশ্চিমি ইতিহাস তত্ত্ব দ্বারা তারা প্রভাবিত ছিলেন। নৈতিকতা, প্রগতিবাদ ও ইতিহাসে বীরপুরুষদের জীবনী বাঙালি ইতিহাসবিদদের উদ্বুদ্ধ করেছিল। প্রত্নতত্ত্ব্ব ধারার বাইরে এসে অক্ষয় কুমার মৈত্র জীবনীমূলক ইতিহাস রচনা শুরু করেন। তাঁর লেখা সিরাজউদ্দৌলা, মীর কাসিম, রানী ভবানী এসব ছিল উল্লেখযোগ্য। পরবর্তী সময়ে আরো বেশ কিছু জীবনীমূলক ইতিহাস অন্যান্যরাও রচনা করেন। ব্রিটিশ অফিসারদের মত বাঙালীরাও ব্যক্তিগত প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থেকে ইতিহাস রচনা করেছেন। সামাজিক ইতিহাস রচনার এই ধারায় ঘটনাবলী ও জনসাধারণের সাথে প্রত্যক্ষভাবে তাঁরা জড়িত ছিলেন। ইতিহাসের উপাদান হিসেবে সাহিত্যের সংমিশ্র্ন ঘটান হরপ্রসাদ শাস্ত্রী। এ কারণে ইতিহাস রচনায় বাস্তবতার স্পর্শ উপলদ্ধি করা যায়। হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর ভারতবর্ষের ইতিহাস বইটি ১৯২৮ সালের ১লা জুন কোলকাতার কমলা বুক ডিপো থেকে প্রকাশিত হয়। হরপ্রসাদ শাস্ত্রী তাঁর লেখায় সাহিত্যকে ইতিহাস রচনার উপাদান হিসেবে প্রথম ব্যবহার করেছেন বলে দাবী করেন। তাঁর রচনার সময়কাল সম্পর্কে বলেন:     “ভারতবর্ষের ইতিহাসের আরম্ভটা বুদ্ধদেবের সময় হইতে তুলিয়া পরীক্ষিতের অভিষেক বা কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ পর্যন্ত লওয়া হইয়াছে এবং সেইখান হইতেই ভারতবর্ষের একটা ধারাবাহিক ইতিহাস দিবার চেষ্টা হইয়াছে। এই ধারাবাহিক ইতিহাসের প্রমাণ, কেবলমাত্র পুরাণ। পরিশিষ্টে ভারতবর্ষীয় ব্রাক্ষ্যণ্যধর্ম্মের একটা ধারাবাহিক ইতিহাস অতি সংক্ষেপে দিবার চেষ্টা হইয়াছে।সে ইতিহাস বেদ হইতে আরম্ভ করিয়া রামকৃষ্ণ পরমহংস রামমোহন ও সাহিত্য হইতে সংগ্রহ করিয়াছি।” সামাজিক ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ এগুলোর অন্যতম। উইকিপিড়িয়ার মতে, গ্রন্থটি  উনিশ শতকের বাঙ্গালীর সমাজ-সংস্কৃতি-রাষ্ট্রনীতির এক উৎকৃষ্ট নির্ভরযোগ্য দলিল রূপে পরিচিত। স্বভাবতই রামতনু লাহিড়ীর জীবনীসূত্রে  উনিশ শতকের যেসব মনীষী নবজাগরণের সাথে প্রত্যক্ষ বা অপ্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন তাঁরাও এই গ্রন্থে স্থান পেয়েছেন। জীবনীগ্রন্থ হিসাবে রচিত হলেও বইটির মূল্য যে এর ঐতিহাসিকতায় এ সম্পর্কে তিনি সচেতন ছিলেন।

আঞ্চলিক ইতিহাস চর্চার ক্ষেত্রেও উপনিবেশিক শাসনামলে বাঙালি ইতিহাসবিদরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।  উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, শতীশ চন্দ্র মিত্রের যশোহর-খুলনার ইতিহাস , (১৩২৯  বাংলা)  ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে লেখা কেদারনাথ মজুমদারের ময়মনসিংহের ইতিহাস , যামিনীমোহন রায়ের ঢাকার  ইতিহাস (১৩১৯  বাংলা) ।  ব্রিটিশদের গেজেটিয়ারের আদলে বাঙালিরাই এরকম ভাবে লিখতে থাকেন স্থানীয় ইতিহাস।  যা আজও যে কোন অঞ্চলের ইতিহাসের আলোচনায় অধিকাংশ ঐতিহাসিকগণ আকরগ্রন্থ হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন । ইতিহাস দর্শন ইতিহাসের মতোই পরিবর্তনশীল। নতুন চিন্তার আলোকে ইতিহাস যুগে যুগে নতুন রূপ পরিগ্রহ করে। গোটা উনিশ শতকে পজিটিভিজম ইতিহাসচর্চাকে প্রভাবিত করেছিল। কেম্ব্রিজ বা অক্সফোর্ড হিস্ট্রি চর্চার ঢেউ বাঙালি ইতিহাসবিদদের  আকর্ষণ করেছিল। ব্রিটিশ শাসনামলের শেষের দিকে  বাঙালি ঐতিহাসিকরা ইতিহাস দর্শনের এদিকটায় ঝুঁকে পড়ে। নীহার রঞ্জন রায়, যদুনাথ সরকার, রমেশ চন্দ্র মজুমদার প্রমুখ তাঁদের অন্যতম।  উপনেবেশিক শাসনামলে বাংলাভাষায় ইতিহাস চর্চার যে ধারা শুরু হয়েছিল, তার ফলে আজ বাংলা ভাষায় লেখা ইতিহাস চর্চা অনেক পথ পাড়ি দিয়েছে। পশ্চিম বাংলা এবং বাংলাদেশে বাংলা ভাষায় ইতিহাস চর্চার জন্য পেশাদারিত্ব সংগঠন সৃষ্টি হয়েছে। যাদের উদ্দেশ্য  বাংলা ভাষায় ইতিহাস বিষয়ক সম্মেলনের আয়োজন করা, বাংলা ভাষায় ইতিহাসের বই ও সাময়িকী প্র্কাশ করা ইত্যাদি । যাতে করে ইতিহাসকে সাম্প্রদায়িকতার বেড়াজাল থেকে মুক্ত করা যায়।

 (প্রফেসর ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম, ইতিহাস বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।)

   

আবেদনে লেখা ছিল, ‘চাকরিটি না হলে শৈশবের প্রেমিকাকে বিয়ে করতে পারবো না’



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সাধারণত যেকোনো চাকরির আবেদনের ক্ষেত্রেই প্রার্থী তার পরিচয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা, ব্যক্তিত্ব, অন্যান্য দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে থাকেন। কিন্তু এবার ভিন্নধর্মী এক আবেদনপত্রের ঘটনা শুনলে অবাক না হয়ে পারবেন না! সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একজন চাকরি প্রার্থীর একটি আবেদনপত্র ভাইরাল হয়েছে। যা দেখে রীতিমতো অবাক নেট দুনিয়ার মানুষ।

ওই আবেদনপত্রে লেখা ছিল, ‘আমি যদি এই চাকরি না পাই তাহলে আমি আমার শৈশবের প্রেমিকাকে হারাবো’। এখানে বলে রাখা ভালো- এমন অদ্ভুত ঘটনার সাক্ষী বাংলাদেশ নয়, প্রতিবেশি দেশ ভারত। 

ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এমন বিস্ময়কর তথ্যের খোঁজ দিয়েছে।

ভাইরাল হওয়া ওই আবেদনপত্রটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ শেয়ার করেছেন দেশটির আরভা হেলথের প্রতিষ্ঠাতা এবং চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার দিপালী বাজাজ।

দিপালী বাজাজ জানান, ইঞ্জিনিয়ার পোস্টের জন্য একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল। ওই বিজ্ঞপ্তির আলোকে একটি আবেদন পড়েছিল যেটিতে লেখা ছিল 'আমি যদি এই চাকরি না পাই তাহলে আমি আমার শৈশবের প্রেমিকাকে হারাবো। কারণ তার বাবা জানিয়ে দিয়েছেন চাকরি না পেলে তার মেয়েকে আমার সাথে বিয়ে দিবেন না।'

বাজাজ তার কাছে জানতে চেয়েছিল "কেন আপনি এই চাকরির জন্য উপযুক্ত?" এর প্রত্যুত্তরে তিনি লিখেন, ‘আমি যদি এই চাকরি না পাই তবে আমি আমার প্রেমিকাকে কখনোই বিয়ে করতে পারব না। কারণ তাঁর বাবা বলেছেন, চাকরি পেলেই তুমি তাঁকে বিয়ে করতে পারবে।’

এর একটি স্ক্রিনশট মিসেস বাজাজ এক্স-এ শেয়ার করে ক্যাপশনে লিখেছেন, "নিয়োগ করাও মজার হতে পারে।" পোস্টটি ইতোমধ্যেই ২ দশমিক ২ লাখের বেশি মানুষ দেখেছেন এবং ৪ হাজার লাইক দিয়েছেন।

অনেকেই পোস্টটির নিচে কমেন্টে নিজেদের অভিব্যক্তি তুলে ধরেছেন।

একজন লিখেছেন, "সততার জন্য তাকে নিয়োগ করুন"

আরেকজন লিখেছেন, "লোকটি সৎ। আসল কথা হবে যদি এইচআর তাকে পরবর্তী ধাপের জন্য বিবেচনা করেন।"

তবে এমন কাণ্ডের পর আবেদনকারী চাকরিটা পেয়েছেন কি না সেটা নিশ্চিত না হওয়া গেলেও তিনি যে তার ভালোবাসাকে পূর্ণতা দিতে অটুট তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। 

;

গ্রামীণ শিল্প মৃৎশিল্প

নওগাঁয় হারিয়ে যাচ্ছে মৃৎশিল্প: দইয়ের ভাঁড়ই একমাত্র ভরসা!



শহিদুল ইসলাম, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নওগাঁ
ছবি: বার্তা২৪

ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

নওগাঁ জেলার বিভিন্ন গ্রামে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে মৃৎশিল্পীদের আবাস। এসব গ্রামে প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার মৃৎশিল্পী মাটির জিনিসপত্র তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

এসব এলাকা থেকে তৈরি মৃৎশিল্পের মনকাড়া পণ্যগুলো দেশের বিভিন্ন স্থানে জায়গা করে নিয়েছিল একসময়। কিন্তু প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও বাজারের অভাবে এ শিল্প আজ বিলুপ্তির পথে। এক সময় হয়ত এর স্থান হবে জাদুঘরে। সে সময় আর বেশি দূরে নয়!

পূর্বপুরুষদের এ পেশাটিকে টিকিয়ে রাখতে প্রতিনিয়ত চলছে মৃৎশিল্পীদের জীবনসংগ্রাম। দইয়ের ভাঁড় তৈরি করে সংসারের হাল ধরে রেখেছেন গ্রামীণ নারীরা কিন্তু মৃৎশিল্পকে ধরে রাখতে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হচ্ছে কারিগরদের। এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে স্বল্প কিংবা বিনা সুদে ঋণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এ পেশার সঙ্গে জড়িত মৃৎশিল্পীরা।

এক সময় বেশ কদর ছিল মাটির তৈরি জিনিসপত্রের কিন্তু বর্তমানে দস্তা, অ্যালুমিনিয়াম এবং প্লাস্টিক থেকে তৈরি জিনিসপত্রের সঙ্গে টিকে থাকতে পারছে না মৃৎশিল্প। সে কারণে এ পেশার সঙ্গে জড়িতদের জীবন-যাপন হয়ে পড়েছে কষ্টসাধ্য।

নওগাঁর বিভিন্ন উপজেলার গ্রামগুলোতে মাটির হাড়ি তেমন একটা চোখে পড়ে না। এছাড়া মৃৎশিল্প তৈরির উপকরণ মাটির সংকট, জ্বালানির দাম বেশি হওয়ায় এর দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে, মাটির তৈরি জিনিসপত্রের চাহিদাও কমে গেছে।

সরেজমিন নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপজেলার পালপাড়া গ্রামে দেখা যায়, প্রায় শতাধিক নারী ও পুরুষ মাটির দইয়ের হাড়ি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ মাটিকে নরম করছেন, কেউ ভাঁড়ের আকার দিচ্ছেন আবার কেউ আগুনে পোড়াচ্ছেন। এভাবেই বিশাল এক কর্মযজ্ঞ চলছে সেখানে।

পালপাড়া গ্রামের চন্দনা রানী বার্তা২৪.কমকে বলেন, মাটির তৈরি জিনিসপত্রের চাহিদা কমেছে বলে গ্রামের নারীরা এখন দইয়ের হাড়ি তৈরি করে রোজগার করছেন। দইয়ের হাড়ি ছাড়া আমাদের আর কোনো কাজ নেই তেমন একটা।

তিনি বলেন, বিভিন্ন স্থান থেকে আঁঠালো মাটি কিনে আমরা এ কাজগুলো করি তবে আমাদের যদি সরকারিভাবে সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া হয়, তাহলে এ ব্যবসাটাকে আরো বড় করা যেতো।

গৃহবধূ দীপালী মহন্ত বলেন, এ কাজের মাধ্যমে আমাদের সংসার চলে। দইয়ের হাড়ি বানানোর মাধ্যমে যা রোজগার হয়, সেটা দিয়ে স্বামীকে সহযোগিতা করি। ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার খরচ চালাই। ব্যবসাকে বড় করতে চাই। এজন্য যদি সহযোগিতা পাওয়া যেতো, তাহলে আরো বড় পরিসরে কাজগুলো করা যেতো।

নওগাঁয় হারিয়ে যাচ্ছে মৃৎশিল্প: দইয়ের ভাঁড়ই কেবল ভরসা, ছবি- বার্তা২৪.কম

ব্যবসায়ী তপন কুমার পাল বলেন, কাঁচা অবস্থায় আমরা প্রতিটি দইয়ের হাড়ি ৫ থেকে ৬ টাকা করে কিনি। পরে সেটা পুড়িয়ে ৯ থেকে ১০ টাকা দরে বিক্রি করে থাকি। এক সময় সব ধরনের মাটির জিনিসপত্র তৈরি হতো কিন্তু এখন দইয়ের হাড়িই একমাত্র ভরসা!

তপন কুমার বলেন, মৃৎশিল্পের জন্য নদীর আঁঠালো মাটির দরকার হয়। সারাবছরই এ কাজ করা হয় তবে বর্ষা মৌসুমে এ মাটি সংগ্রহ করা ব্যয়বহুল এবং কষ্টসাধ্য। সারাবছর কাজ করার জন্য চৈত্র ও বৈশাখ মাসে মাটি কিনে সংগ্রহ করতে হয়। সুনিপুণভাবে হাড়ি, ঢাকনা, কাঁসা, পেয়ালা, মাইসা, সাতখোলা, ব্যাংক, কলস, ডাবর, পানি রাখার পাত্রসহ বিভিন্ন জিনিস তৈরি করা হয় এখানে। এগুলোর তেমন একটা চাহিদা না থাকলেও দইয়ের হাড়ির বেশ চাহিদা রয়েছে।

এ বিষয়ে বিসিক (বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন) জেলা কার্যালয়ের উপব্যবস্থাপক শামীম আক্তার মামুন বার্তা২৪.কমকে বলেন, আমরা সব সময় উদ্যোক্তাদের পাশে আছি। নারী উদ্যোক্তাদের জন্য শতকরা ৫ শতাংশ এবং পুরুষ উদ্যোক্তাদের জন্য শতকরা ৬ শতাংশ বিনা সুদে খুব সহজ পদ্ধতিতে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা আছে। তারা চাইলে আমাদের কাছ থেকে ঋণ নিতে পারেন।

;

আইসক্রিমের মধ্যে কাটা আঙুল



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
আইসক্রিমের মধ্যে কাটা আঙুল

আইসক্রিমের মধ্যে কাটা আঙুল

  • Font increase
  • Font Decrease

অনলাইনে কোনো অ্যাপ থেকে খাবার অর্ডার করলেন। সময়মতো অর্ডার এলো, অনেক আগ্রহে খাবারের প্যাকেট খুললেন। যেই না খাবার খেতে যাবেন ঠিক সেই মুহূর্তেই এমন এক ঘটনা ঘটলো, যার জন্য একেবারেই প্রস্তুত ছিলেন না। খেতে যাওয়ার মুহূর্তে খাবারের মধ্যে যদি কোনো মানুষের শরীরের অংশ পান কেমন বোধ করবেন?

নিশ্চয়ই মনে হচ্ছে কোনো সিনেমা বা নাটকের দৃশ্য। এখন তো দেশি-বিদেশী নানারকম কনটেন্টেই এরকম দৃশ্য দেখা যায়! তবে না, এই ঘটনা একেবারেই বাস্তব। ভারতের এক নারী তার আইসক্রিমের মধ্যে পেলেন মানুষের কেটে যাওয়া একটি আস্ত আঙুল।

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটেছে ভারতের বাণিজ্য এবং বিনোদনের শহর মুম্বাইতে। মালাডের শহরতলীতে বসবাসকারী একজন নারী ‘ইউম্মো আইসক্রিম’ থেকে খাবার আনান। অনলাইনে একটি কোণ আইসক্রিম অর্ডার করেছিলেন তিনি। আইসক্রিমটির মোড়ক খুলতেই হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। আইসক্রিমের উপরের অংশে মানুষের একটি কাটা আঙুল দেখা যাচ্ছে।

স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনায় তিনি আতঙ্কিত এবং বিরক্ত হয়েছেন। শুধু তাই নয়, এমন একটি ঘটনা যথেষ্ট সন্দেহজনকও। সেই নারী অতিসত্তর অভিযোগ করতে মালাড থানায় যান। আইসক্রিমটিকে নিয়ে যান প্রমাণ হিসেবে। তার ভিত্তিতে খাদ্যে ভেজাল এবং মানুষের জীবন বিপন্ন করার অভিযোগ লেখা হয়। এখন ইউম্মোর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেই আইসক্রিমটির ছবি ছড়িয়ে যেতে শুরু করেছে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে একটি মানুষের আঙুল আইসক্রিমের ওপরে আটকে আছে। পুলিশ তদন্তের জন্য আইসক্রিমটি পরীক্ষা করছে। তাছাড়া আঙুলটিও ফরেনসিকে পাঠানো হয়েছে। এর পেছনের রহস্য উদঘাটনে পুলিশ এই ব্যাপারটি নিয়ে পুরোদমে তদন্ত চালাচ্ছে।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি 

;

শত বছর পর শখের মুদ্রা নিলামে



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

শখের বশে মানুষ কত কিছুই না করে। তেমনি একজন ডেনমার্কের বাসিন্দা লার্স ইমিল ব্রান। তার শখ ছিল মুদ্রা সংরক্ষণ করা। এবার তার মৃত্যুর শত বছর পর সেই শখের মুদ্রা নিমালে উঠতে যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ১৮৫২ সালে লার্স ইমিল ব্রান ডেনমার্কে জন্ম নেন। পেশায় তিনি ছিলেন দুগ্ধপণ্য ব্যবসায়ী। ছোট বেলা থেকেই তিনি মুদ্রা সংগ্রহ করেন। বড় হয়েও এই শখের কাজ ছেড়ে দেননি। বরং আরও জোরালো হয়ে ধরে রেখেছেন। নতুন পুরোনো সব মুদ্রাই তিনি জমিয়েছেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তার সংগ্রহে মুদ্রার সংখ্যা দাঁড়ায় ২০ হাজারে। সেই মুদ্রাই নিলামে তুলছে নিউইয়র্কভিত্তিক নিলামঘর স্টেকস বোয়ার্স।

ইমিলের মৃত্যুর এত বছর পর কেন এখন নিলামে উঠছে এসব মুদ্রা এমন প্রশ্নের জবাবে সংশ্লিষ্টরা গণমাধ্যমকে জানান, মৃত্যুর আগে ইমিল উইল করেন। যেখানে বলা হয়, তার মৃত্যুর পর শত বছর পর্যন্ত এসব মুদ্রা সংরক্ষিত করে রাখতে হবে। এসব মুদ্রার শত বছর পুরোনো না হলে তা বিক্রি করা যাবে না।

ইমিল আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ছিলেন। ১৮ শতকে দুগ্ধপণ্যের ব্যবসা করে তিনি ব্যাপক অর্থ উপার্জন করেন। শখ পূরণে দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়িয়েছেন। সেখান থেকে মুদ্রা সংগ্রহ করেছেন। ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেনের বহু পুরোনো মুদ্রা, ব্যাংক নোট এবং মেডেলও তার সংগ্রহে রয়েছে।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় শখের মুদ্রাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত ছিলেন ইমিল। এরপরই যুদ্ধ শেষে সংগ্রহের অমূল্য মুদ্রাগুলোর নিরাপত্তায় উইল করেন। যেখানে শর্ত দেন, এক শত বছর পূর্ণ না হলে এসব মুদ্রা বিক্রি করা যাবে না। ইমিলের মৃত্যুর পর এসব মুদ্রা ডেনমার্কের এক রাজপ্রাসাদে সংরক্ষণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ডেনমার্কের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে মুদ্রা ও ব্যাংকনোটগুলো তুলে দেওয়া হয়। যা এখন নিলামের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।

নিউইয়র্কভিত্তিক নিলামঘর স্টেকস বোয়ার্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট ভিকেন ইয়েগপারিয়ান জানান, সংরক্ষিত এসব মুদ্রায় এমন কিছু রয়েছে যা শত বছর ধরে বাজারে পাওয়া যায় না।

এদিকে ইমিলের সংগ্রহ থেকে ছয়টি স্বর্ণমুদ্রা ও একটি রৌপ্যমুদ্রা কিনে নিয়েছে ডেনমার্কের জাতীয় জাদুঘর। যা সর্বসাধারণের প্রদর্শণীর জন্য় উন্মুক্ত করা হবে। ছয়টি মুদ্রা কিনতে এক মিলিয়ন ইউরো (১০৯ মিলিয়ন ডলার) খরচ করেছে ডেনমার্কের জাতীয় জাদুঘর।

জাতীয় জাদুঘরের মুদ্রা ও পদক সংগ্রহ বিভাগের প্রধান হেলি হর্সনেস এএফপিকে বলেন, এই মুদ্রার মান অতুলনীয়। এই মুদ্রা ঠিক এক শতাব্দী ধরে ঘুমানো রাজকুমারীর মতো কিংবদন্তী হয়ে উঠেছে।

;