দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনের সৌন্দর্য ও দ্রৌপদী মুর্মুর অভূতপূর্ব আতিথেয়তা



এম এ আমিন রিংকু
দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনের সৌন্দর্য ও দ্রৌপদী মুর্মুর অভূতপূর্ব আতিথেয়তা

দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনের সৌন্দর্য ও দ্রৌপদী মুর্মুর অভূতপূর্ব আতিথেয়তা

  • Font increase
  • Font Decrease

হেমন্তে দিল্লির আকাশ মোহনীয় থাকে। অক্টোবরের চোদ্দ তারিখ সেদিন। ফ্রেন্ডস কলোনির হোটেল সুরিয়ায় সকালে গরম কফিতে চুমুক দিতে দিতে টিভিতে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে নিচ্ছিলাম। সারাদিনের আবহাওয়া বেশ উপভোগ্য থাকবে বলে জানলাম। আবহাওয়া দারুণ হলেও সহযাত্রীদের মধ্যে একটা চাপা উদগ্রীবতা দেখতে পেলাম। উদগ্রীবতা থাকারই কথা। আমরা একশ তরুণ ভারতে এসেছি ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের বাংলাদেশ ইয়ুথ ডেলিগেশন প্রকল্পের আওতায় ভারতের রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে। আমাদের ট্যুর শিডিউল অনুসারে আজ রাষ্ট্রপতি ভবনে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদি মুর্মুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ হওয়ার কথা।

পড়ন্ত বিকেলে আমাদেরকে বহনকারী গাড়ি বহর এসে থামল ফোরকোর্টে। গাড়ি থেকে নেমে বামে ঘুরতেই চোখে পড়ল ক্লাসিক ইউরোপিয়ান ও ভারতীয় স্থাপত্যকলার অনন্য নিদর্শন; রাষ্ট্রপতি ভবন! হলুদাভ বেলে পাথরে নির্মিত এ ভবনের সৌন্দর্য আর বিশালতা দেখে বিস্ময়ে আমার মত সতীর্থ অনেকেরই মুখ 'হা' হয়ে গিয়েছিল।

এডউইন লুটিয়েনস ও হার্বার্ট বেকারের নকশায় তৈরি এ প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসটি পৃথিবীর সুন্দরতম ভবনগুলোর অন্যতম। শুধু তাই নয়, পৃথিবীর সবচাইতে বড় গণতান্ত্রিক দেশ ভারতের সাংবিধানিক প্রধানের এই বাসভবনটি আকারে আয়তনে সারা দুনিয়ার যে কোন রাষ্ট্রপ্রধানের বাসভবনের চাইতে বড়। রাষ্ট্রপতি ভবন কমপ্লেক্সটি ৩৩০ একরের সুবিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে অবস্থিত। চারতলা ভবনটিতে কামরা আছে ৩৪০টি। এ কমপ্লেক্সের ১৯০ একরের বাগানে আছে হাজারও প্রজাতির গাছ।

১৯২৯ সালে যখন ভবনটি তৈরি হয়, তখন এর নাম ছিল ভাইসরয়’স হাউস। ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীন হওয়ার পর এই ভবনের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় গভর্নমেন্ট হাউস। পরে রাষ্ট্রপতি ড. রাজেন্দ্র প্রসাদের সময় এর নাম হয় রাষ্ট্রপতি ভবন। ২৯ হাজার লোক ১৭ বছর ধরে এই ভবনটি তৈরি করেন। সাম্রাজ্যিক আধিপত্য এবং ক্ষমতার প্রতীক থেকে, ভবনটি আজ ভারতীয় গণতন্ত্র এবং এর ধর্মনিরপেক্ষ, বৈচিত্র্যময় এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ঐতিহ্যের প্রতীক।

বাংলাদেশ থেকে আগত ইয়ুথ ডেলিগেটসদের সম্মানে আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন হবে দরবার হলে। ফোরকোর্ট থেকে দরবার হলে ঢোকার জন্য মাড়াতে হবে প্রশস্ত ৩১ খানা সিঁড়ি। লাল বেলে পাথরের সিঁড়িতে গালিচা বিছিয়ে রাখা হয়েছে আমাদের জন্য। জীবনের প্রথম লাল গালিচা দিয়ে হেঁটে যাবার অনুভূতিটা ভাষায় প্রকাশ করা দুষ্কর। ভবনের বেদীতে উঠে খানিকটা হেঁটে গেলেই দরবার হল। এই বৃত্তাকার দরবার হলেই রাষ্ট্রপতি উচ্চপদস্থ সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। ভারত সরকার কর্তৃক প্রদত্ত বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রদান করা হয় এ দরবার হলেই।

দরবার হলে পা রেখেই একটা অন্যরকম প্রশান্তির পরশে যেন বুকটা শীতল হয়ে গেল। ভবনের সুউচ্চ ছাদ থেকে ঝোলানো মখমলের লাল পর্দার নিচে পাতা আছে রাষ্ট্রপতির জন্য আসন। তার সামনে সারি ধরে পাতা হয়েছে আমাদের জন্য চেয়ার। রাজকীয় চেয়ারে টান হয়ে বসলাম আমরা। কিছুক্ষণ পরেই আসল রাজকীয় ইউনিফর্ম পরা প্রেসিডেন্ট গার্ড। এরপরে পিন পতন নীরবতা। খানিক পরেই ঘোষণা করা হল 'মহামান্য রাষ্ট্রপতি দরবার হলে প্রবেশ করছেন'। আমরা সবাই দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রপতিকে সম্মান জানালাম। প্রবেশদ্বারের পরে দ্বিতীয় সারিতে আমার আসন। ঠিক পাশ দিয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু হেঁটে গেলেন; এ অনুভূতিটা একেবারেই ভিন্নরকম।

আমাদের এ সফরের প্রতিটি দিন, প্রতিটি মুহূর্ত ছিল চমকে পরিপূর্ণ। রাষ্ট্রপতি ভাষণ শুরুর পূর্বে বাংলায় জিজ্ঞাসা করলেন 'কেমন আছেন'। ছোট দুটি শব্দ। প্রতিদিন শতবার শুনি আমরা। কিন্তু রাষ্ট্রপতি মুর্মুর মুখে থেকে শব্দ দুটি শুনে আবেগপ্রবণ হয়েছি। কর্ণ ইন্দ্রিয় যেন পুলকিত হয়েছে। রাষ্ট্রপতি তার ভাষণের পুরোটা সময় জুড়ে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন আর সমৃদ্ধির প্রশংসা করলেন। জানালেন বাংলাদেশের তরুণদের অগ্রযাত্রায় তার মুগ্ধতার কথা।আগামীতে বাংলাদেশ ভারত সম্পর্ক অনন্য উচ্চতায় যাবে দৃঢ়তার সাথে সে আশাবাদও ব্যক্ত করলেন। আমরা মন্ত্রমুগ্ধের মতো বিনয়ী মানুষটির বক্তব্য শুনছিলাম। আট মিনিটের মোহনীয় বক্তব্য যেন নিমেষে শেষ হয়ে গেল।

দরবার হলের অনুষ্ঠান শেষে আমাদের নিয়ে যাওয়া হয় অশোকা হলে। লং ড্রইংরুম আর ব্যাঙ্কুয়েট হলের সামনের করিডোর দিয়ে যাওয়া যায় অশোকা হলে। রাষ্ট্রপতি ভবনে যতগুলো করিডোর আছে তা একসাথে হিসেব করলে লম্বায় হবে আড়াই কিলোমিটার! করিডোরের দুপাশের দেয়াল জুড়ে বিখ্যাত সব শিল্পীদের চিত্রকর্ম ঝোলানো। পৃথিবীতে কিছু অভিজ্ঞতা নিজে পরখ না করলে সেই অভিজ্ঞতার সুখানুভূতি অন্যকে ঠিকঠাক বোঝানো যায় না। রাষ্ট্রপতি ভবনের করিডোর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার অভিজ্ঞতাটা ঠিক এমনই। করিডোরের বাঁকে বাঁকে দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরা প্রেসিডেন্ট গার্ড। মিষ্টি করে মুচকি হেসে আমাদের সম্ভাষণ জানাচ্ছিলেন তারা।

আশোকা হলে প্রবেশের পরে হলের দেয়ালে আর ছাদের সুনিপুণ কারুকার্য ও শিল্প কর্ম দেখে চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল আমাদের। রাষ্ট্রপতি ভবনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং সুসজ্জিত হলগুলোর মধ্যে একটি এই অশোকা হল। সুবিশাল ও শৈল্পিকভাবে তৈরি হলটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের জন্য ব্যবহার করা হয়। এখানেই ভারতে অবস্থিত বিভিন্ন বিদেশি দূতাবাস প্রধানেরা রাষ্ট্রপতির কাছে তাদের পরিচয়পত্র পেশ করেন। এছাড়াও রাষ্ট্রপতি কর্তৃক আয়োজিত রাষ্ট্রীয় ভোজ শুরুর আগে সফররত বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতিনিধি এবং ভারতীয় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পরিচিতির জন্য আনুষ্ঠানিক স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয় এই আশোকা হল। এই হলেই রাষ্ট্রপতির সাথে ছবি তোলার সুযোগ পেলাম আমরা! হলের দুপাশে একসারি চেয়ার আর তার পেছনে দাঁড়াবার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা। সামনের সারির ঠিক মাঝে রাষ্ট্রপতির জন্য আসন, তার দুপাশের দুই চেয়ারে বসবেন দুজন সচিব। আমাদের মেয়েরা প্রথমে সামনের সারিত বসল পরে বাকি ফাঁকা চেয়ারে বসল ছেলেরা। পেছনের সারিতে দাঁড়ালাম আমরা বাকি ছেলেরা। দু গ্রুপের দাঁড়ানো শেষ হলে রাষ্টপতি এলেন। ছবি তোলা শেষে সামনে দাঁড়িয়ে কুশল বিনিময় করলেন। হাস্যোজ্জ্বল মুখে ব্যাঙ্কুয়েট হলে বিকেলের নাস্তার আমন্ত্রণ করে জানতে চাইলেন আমাদের এই সফরে কোন অসুবিধা হচ্ছে কিনা। মানুষের সুখস্মৃতি নাকি ব্রেনের হিপ্পোক্যাম্পাসে সংরক্ষিত হয় পরবর্তী সময়ে বারবার মনে করে পুলকিত হওয়ার জন্য। আমাদের এ ক্ষণটা যেন হিপ্পোক্যাম্পাসের বড় একটা অংশ দখল করে নিল মুহূর্তেই।

অশোকা হলে থেকে বেরিয়ে লুটিয়েনস গ্র্যান্ড স্ট্যায়ারের পাশের করিডোর ধরে খানিক হাঁটলেই আসে ব্যাঙ্কুয়েট হল। লম্বায় ১০৪ ফুট, ৩৪ ফুট চওড়া আর ৩৫ ফুট উচ্চতার এ হলের জৌলুষ যে কাউকে মুগ্ধ করবে। বার্মিজ সেগুন কাঠের প্যানেলিং কার্নিশ থেকে মেঝে পর্যন্ত নেমে এসেছে। আর দেয়াল জুড়ে শোভা পাচ্ছে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি ড: রাজেন্দ্র প্রসাদ, ড: সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণান, ড: জাকির হোসেন, ভি.ভি. গিরি, ফখরুদ্দিন আলি আহমেদ, সঞ্জীব রেড্ডি, গিয়ানি জৈল সিং, আর ভেঙ্কটারমন, ড: শঙ্কর দয়াল শর্মা এবং কে আর নারায়ণন এর বিশাল আকৃতির তৈলচিত্র।

রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রিত রাষ্ট্রপ্রধান ও তাদের সফর সঙ্গীদের জন্য ভোজসভার আয়োজন করা হয় এখানেই। হলের মাঝ বরাবর পাতা আছে লম্বা টেবিল। দুপাশে পাতা রাজকীয় চেয়ার। একসাথে ১০৪ জন এ টেবিলে খেতে পারেন। রানী এলিজাবেথসহ বিশ্বের বাঘা বাঘা রাষ্ট্র প্রধানেরা ভারতের আমন্ত্রিত অতিথি হয়ে এসে খেয়েছেন এ টেবিলেই। আজ আমাদের জন্য এ টেবিল-জুড়ে সাজিয়ে রাখা হয়েছে নানা ধরণের খাবার! ব্যাঙ্কুয়েট হলে পুরোটা সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের অমায়িক ও বন্ধুবৎসল ব্যাবহারে বিমোহিত হয়েছে আমাদের সকলেই।

ইয়ুথ ডেলিগেশনের ফ্ল্যাগ অফ ইভেন্টে পূর্বে ভ্রমণ করে যাওয়া ডেলিগেটরা বলেছিলেন, 'জীবনের সেরা অভিজ্ঞতার অর্জন করতে যাচ্ছেন আপনারা'। তাদের প্রতিটি কথার মিল পেয়ে যাচ্ছি নিখুঁতভাবে । এ ট্যুরের প্রতিটি ধাপে যে সন্মান আর সমীহ পেয়েছি সেটা কোন কিছুর সাথে তুলনা হয় না।

খাবার পরে আমরা আট দশজন মিলে ব্যাঙ্কুয়েট হল ঘুরে দেখছি এমন সময় এগিয়ে এলেন রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাঞ্জিভ রাই। হাত বাড়িয়ে কুশল বিনিময় করলেন। বিনয়ের সাথে জানতে চাইলেন কোন অসুবিধা হচ্ছে কিনা। শুনতে চাইলেই ভারত ভ্রমণের অভিজ্ঞতা। জমে উঠল দারুণ আড্ডা। উঠে এলো দু-দেশের অভিন্ন কৃষ্টি - সংস্কৃতি আর ইতিহাস - ঐতিহ্যের চমৎকার মেলবন্ধনের কথা। প্রাণবন্ত এ আলোচনা ছেদ পড়ল সন্ধ্যায়। ফেরার সময় হয়েছে। চারপাশে চোখ মেলে দেখলাম ভবনের বাসিন্দাদের চোখগুলো যেন বলছিল ' আর কিছুক্ষণ থেকে যাও'।

'অতিথি দেব ভব' তথা অতিথি দেবতার মত। এ কথাগুলো শুধু ভারতীয় শাস্ত্রে নয় বাস্তবে প্রমাণ পাওয়া যায় সারা ভারত জুড়েই। ভবন থেকে বের হবার সময় করিডোর দিয়ে পাশাপাশি হেঁটে যাওয়ার সময় অনুভব করতে পারছিলাম মানুষ গুলোর সাথে এ অল্প সময়ে তৈরি হওয়া আত্মার সম্পর্ক। শুধু দুটি লাইনই মনে পড়ছিল বারবার, 'একটি মুহূর্ত বেঁচে থাকে একটি ক্ষণের তরে, স্মৃতি থেকে যায় আবহমান কাল ধরে'। রাষ্ট্রপতি ভবনের এই সুখ স্মৃতি চিরসবুজ থাকবে আজীবন।

লেখক: সাংবাদিক ও পরিবেশ কর্মী

   

৭৪ বছর ছুটিহীন কর্মজীবন!



ফিচার ডেস্ক বার্তা২৪.কম
মেলবা মেবানের বিদায়ী অনুষ্ঠান। ছবি: সংগৃহীত

মেলবা মেবানের বিদায়ী অনুষ্ঠান। ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ছুটি ছাড়া আপনি কতদিন চাকরি করতে পারবেন? এমন প্রশ্নের উত্তর একেক জনের কাছে একেক রকম হলেও, কেউই দীর্ঘ সময় ছুটিহীন চাকরি করবেন এমন উত্তর আশা করা যায় না। কিন্তু, অসুস্থ হলে যে সবারই ছুটি প্রয়োজন হবে সেটা নিশ্চিত। তবে এই কথাটি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের মেলবা মেবানের (৯০) জন্য প্রযোজ্য নয়। কারণ, এই নারী তাঁর ৭৪ বছরের কর্মজীবনে কখনও ছুটি কাটাননি আরও অবাক করার বিষয় হচ্ছে অসুস্থ হলেও সে হাসিমুখে তাঁর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে গেছেন। মার্কিন গনমাধ্যম ফক্স নিউজের বরাত দিয়ে এমন খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যম ডেইলি মেইল।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, মেলবা মেবানে ১৯৪৯ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে মেয়ার এন্ড স্মিথ ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে ‘লিফট গার্ল’ হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৫৬ সালে এটি অধিগ্রহণ করে নেয় ডিলার্ড। মেয়ার পরবর্তী বছরগুলোতে পুরুষদের পোশাক এবং কসমেটোলজিতে কাজ শুরু করেন ধরে তিনি এখানেই কর্মরত ছিলেন। দীর্ঘ ৭৪ বছর কর্মজীবনে তিনি কখনও ছুটি নেননি এমনকি অসুস্থ হলেও না। 

মেলবার সম্পর্কে টাইলারের ডিলার্ডের স্টোর ম্যানেজার জেমস সায়েঞ্জ ফক্স নিউজকে বলেন, তিনি শুধু একজন বিক্রয়কর্মী নন। তিনি একজন মা। তিনি গাইড করেন। তিনি জীবন সম্পর্কে উপদেশ দেন। তিনি বহু গুণের অধিকারী। 

তিনি আরও জানান, মেলবা তাঁর মুখে হাসি নিয়ে প্রতিদিন কাজ শুরু করতেন।

তিনি বিক্রয়ে পারদর্শী ছিলেন এবং এমন কোন গ্রাহক বা সহকর্মী ছিল না যে তাকে ভালোবাসে না। তার পরে যারা এখানে কাজ শুরু করেছে তাদের সবাইকে খুব সুন্দরভাবে প্রশিক্ষন দিয়েছেন এবং শিখিয়েছেন। 

মেবানে জানান, কর্মস্থলে কখনো বিরক্ত হতেন না তিনি। সেখানকার সবাইকে ভালোবাসতেন এবং প্রতিদিন কাজে যেতে পছন্দ করতেন। অবসর নেওয়ার পর এখন বিশ্রাম, ভ্রমণ এবং ভালো খাবার খেয়ে দিনযাপন করতে চান তিনি। 

মেবানের কয়েক দশকের কাজ এবং নিষ্ঠার প্রতি সম্মান জানাতে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেই অনুষ্ঠানে তাঁকে স্টোরের দীর্ঘতম কর্মক্ষম কর্মচারী হওয়ার জন্য ‘সার্টিফিকেট অব এক্সিলেন্স’ পুরস্কার প্রদান করা হয়। 

;

বিশ্বের সবচেয়ে ধনী বিড়াল 'ব্ল্যাকি', সম্পদ ৩ কোটি ডলার



ফিচার ডেস্ক বার্তা২৪.কম
বিশ্বের সবচেয়ে ধনী বিড়াল 'ব্ল্যাকি'। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের সবচেয়ে ধনী বিড়াল 'ব্ল্যাকি'। ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সাধারণত যখন কেউ মারা যায় তখন তাঁর সম্পদের অংশ পরিবারের সদস্যদের কাছে রেখে যান। কেউ কেউ আবার বিভিন্ন দাতব্য সংস্থায়ও দান করে থাকেন। তবে, যুক্তরাজ্যের বাকিংহ্যামশায়ারের বাসিন্দা বেন রিয়া যা করেছেন তা বিরল! স্রেফ ভালোবাসা থেকেই তাঁর সম্পদের বড় একটি অংশ প্রিয় পোষা বিড়াল ‘ব্ল্যাকির’ জন্য দিয়ে যান। আর এতেই বিশ্বের সবচেয়ে ধনী বিড়াল হয়ে উঠে ‘ব্ল্যাকি’। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের ওয়েবসাইট থেকে এমন তথ্য পাওয়া যায়।

রেকর্ড সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ১৯৮৮ সালে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী বিড়াল হিসেবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে ব্ল্যাকির নাম উঠেছে। সেই নাম ৩৫ বছর ধরে এখনো বিশ্বের সবচেয়ে ধনী বিড়াল হিসেবে গিনেসের পাতায় বিড়ালটির এই স্বীকৃতি অক্ষুণ্ন রয়েছে। 

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, সবচেয়ে ধনী বিড়ালটির সম্পদের পরিমাণ আসলে কত?

গিনেস ওয়ার্ল্ড বলছে, যখন ব্ল্যাকি বিশ্বের সবচেয়ে ধনী বিড়ালের স্বীকৃতি পেয়েছিল, তখন সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ২৫ লাখ ডলার। বর্তমানে যা ৩ কোটি ২০ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

গিনেস ওয়ার্ল্ডের তথ্য মতে, ‘ব্ল্যাকির’ মালিক বেন রিয়া প্রাচীন জিনিসপত্র ক্রয় এবং বিক্রি করে কোটি ডলারের মালিক হন। ১৯৮৮ সালে এই ধনকুব মারা গেলে সম্পদের বিশাল একটি অংশ বিড়ালের নামে দিয়ে যান। তবে বেনের পরিবার ছিল কিন্তু সে একাই বসবাস করতো।  

তার বেশিরভাগ অর্থই তিনটি দাতব্য সংস্থার মধ্যে উইল করে যান। যেই সংস্থাগুলো পোষা প্রাণীদের দেখভাল ও সুরক্ষা দিয়ে থাকে। উইলে তিনি উল্লেখ করেন, যতদিন ব্ল্যাকি বেঁচে থাকবে ততদিন প্রাণীটির দেখভাল করতে হবে। 

তবে বেনের প্রিয় ব্ল্যাকি কত দিন বেঁচে ছিল কিংবা বেনের মৃত্যুর পর ব্ল্যাকির ভাগ্যে কী জুটেছিল, সেই বিষয়ে গিনেসের ওয়েবসাইটে কিছু না জানালেও এই রেকর্ড এখন পর্যন্ত কেউ ভাঙতে পারেনি সেটি নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি ।

;

১৬০০ মিটার উচ্চতায় কম সময়ে দড়ি পার হয়ে বিশ্ব রেকর্ড!



ফিচার ডেস্ক বার্তা২৪.কম
শি হ্যালিন। ছবি: সংগৃহীত

শি হ্যালিন। ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৬০০ মিটার (১.৬ কিলোমিটার) উচ্চতায় চীনের শি হ্যালিন (৩১) নামে এক ব্যক্তি খুব দ্রুত সময়ে ১০০ মিটারের স্ল্যাকলাইন (দড়ির উপর দিয়ে হাঁটা) পার হয়ে বিশ্বরেকর্ড করেছেন। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের ওয়েবসাইট থেকে এমন তথ্য পাওয়া যায়।

রেকর্ড সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠানটি জানায়, চীনা নাগরিক শি হ্যালিন সবচেয়ে কম সময়ে মাত্র ১ মিনিট ১৪ সেকেন্ডে ১০০ মিটার লম্বা দড়ি পার হয়ে বিশ্ব রেকর্ড করেছেন। এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৬০০ মিটার উঁচুতে ছিল। 

শি হ্যালিন জানান, আমি পিংজিয়াংয়ের মাউন্ট উগং-এর গুয়ানিইন্ডাং ক্যাম্পে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৬০০ মিটার উপরে স্টান্ট করেছি। সবচেয়ে কম সময়ের মধ্যে এই রেকর্ডটি করতে পেরে নিজেকে নিয়ে গর্ব হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, এটি বিশাল এক চ্যালেঞ্জ ছিল। বিশেষ করে এতো উচ্চতায় বাতাসের চাপ বেড়ে যায় এবং তাপমাত্রা হ্রাস পেতে থাকে। এর মধ্যে আবার দিনটি ছিল খুব কুয়াশাচ্ছন্ন। ফলে ভালো করে দেখতেও সমস্যা হচ্ছিল। 

এই রেকর্ডের পর সে আরও বেশি মনোযোগ দিয়ে এরকম প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জন করতে আগ্রহী বলেও জানান তিনি। 

তবে, এর আগেও তিনি এশিয়াতে বেশ কয়েকটি স্ল্যাকলাইন রেকর্ড জিতেছেন। ২০১৬ সালে তিনি ২ মিনিটে এই রেকর্ডটি করেছিলেন কিন্তু, সেটি পরের বছরই ফ্রান্সের নাগরিক লুকাস মিলিয়ার্ডের কাছে হারাতে হয়। 

;

মেডেলিনে তাপ নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ‘গ্রিন করিডোর’



ফিচার ডেস্ক বার্তা২৪.কম
ছবি: বিবিসি

ছবি: বিবিসি

  • Font increase
  • Font Decrease

কলম্বিয়ার দ্বিতীয় বৃহৎ নগরী মেডেলিনে ‘গ্রিন করিডোর’ প্রকল্প শহরের তাপ নিয়ন্ত্রণ ও পরিবেশগত সুবিধার জন্য বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে। এ প্রকল্পের অধীনে পুরো শহর জুড়ে গাছের শীতল ছায়ার ব্যবস্থা করেছে দেশটি।

মেডেলিনকে ‘বসন্তের শহর’ বলা হয়। মেডিলিনের নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু সারা বছরই পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। কিন্তু ক্রমবর্ধমান নগরায়নের ফলে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। নতুন নির্মিত ভবন ও রাস্তাগুলো তাপ শোষণ করে ধরে রাখে। তবে স্থানীয় সরকারী তথ্য অনুসারে, নতুন গ্রিন করিডোরগুলো শহর জুড়ে ২ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা হ্রাস করেছে।

কলম্বিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মেডেলিনে বায়ু দূষণ ও ক্রমবর্ধমান তাপ নিয়ে উদ্বেগের কারণে ২০১৬ সালে "গ্রিন করিডোর" প্রোগ্রাম শুরু হয়। ৩০ টিরও বেশি সবুজ করিডোর রয়েছে এ শহরে। করিডোরগুলো নতুন রাস্তার প্রান্ত, উদ্যান, পার্ক এবং নিকটবর্তী পাহাড়গুলোকে সংযুক্ত করেছে। প্রাথমিকভাবে এই প্রকল্পে শহর জুড়ে প্রায় ১ লক্ষ ২০হাজার গাছ লাগানো হয়। ১২ হাজার ৫০০ টি গাছ রাস্তা ও পার্কে রোপন করা হয়। এছাড়া আরো ২৫ লক্ষ ছোট গাছের চারা রোপন করা হয়। ২০২১ সালের মধ্যে শহর জুড়ে ৮ লক্ষাধিক বড় গাছ রোপন করা হয়।

স্থানীয় সরকারের মতে, প্রকল্পটি জন্য প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয় ১৬.৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২২ সালে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ব্যয় ধরা হয় ৬ লক্ষ২৫ হাজার মার্কিন ডলার।

ওইসিস কাস্ত্রো যিনি ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে শহরের ওরিয়েন্টাল অ্যাভিনিউয়ের একটি স্ট্যান্ডে ফল বিক্রি করেন। কয়েক দশক আগের কথা মনে করে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার একটি ট্রাফিক প্রকল্পের কাজের সময় রাস্তার সারিবদ্ধ গাছগুলো উপড়ে ফেলেছিল।

কাস্ত্রো বলেন, বর্তমানেও ওরিয়েন্টাল অ্যাভিনিউ রাস্তাটি ট্রাফিক ও বাণিজ্যিক এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখন রাস্তার দুপাশে বড় বড় ফল গাছ, ফুল গাছ ও ঝোপঝাড়ে সবুজ এলাকায় পরিণত হয়েছে।

এখানকার তাপমাত্রা সারা বছরই উপভোগ্য মনে হয়। শহরের যেসব অঞ্চলে বেশি গাছপালা নেই সেসব জায়গার তুলনায় অনেক সতেজ থাকে এই এলাকা। সাইকেল লেনের দুপাশে সারিবদ্ধ গাছের পাশে বেঞ্চগুলোতে পথচারীরা বিশ্রাম নিতে পারেন।

শহরের তাপমাত্রা কমিয়ে শীতল করার জন্য প্রকল্পটি এখন বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি বায়ুর গুণগত মান উন্নয়নে ভালো কাজ করছে। এটি শহরে বন্যপ্রাণী ফিরিয়ে এনেছে।

একটা সময় জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উচ্চ তাপপ্রবাহ নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে শহরগুলোতে।

সবুজ করিডোরের প্রতি মেডেলিনের দৃষ্টিভঙ্গি একটি কম খরচে, জনপ্রিয় সমাধান দেয় যা অন্যান্য শহরগুলি ক্রমবর্ধমানভাবে প্রতিলিপি করতে চাইছে। এটি কি ভবিষ্যতের একটি জলবায়ু-স্থিতিশীল শহরের জন্য একটি মডেল হতে পারে?

মেডেলিন কম খরচে ‘গ্রিন করিডোর’ প্রকল্পের মাধ্যমে তাপ প্রবাহ কমানোর একটা জনপ্রিয় সমাধান দেয়। বিশ্বের অনেক দেশ তাদের তাপপ্রবাহ কমাতে মেডেলিনকে অনুসরণ করছে। মেডেলিনকে ভবিষ্যতের জলবায়ু-স্থিতিশীল শহরের জন্য একটি মডেল ভাবা হয়।

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউ এয়ার মতে, মেডেলিনের বায়ুদূষণের মাত্রা পিএম ২.৫। বিশ্ব স্বাস্থ সংস্থা ডব্লিউএইচও জানায়, পিএম২.৫ নামে পরিচিত ছোট ও বিপজ্জনক বায়ুবাহিত কণার গড় বার্ষিক ঘনত্ব প্রতি ঘনমিটারে ৫ মাইক্রোগ্রামের বেশি হওয়া উচিত নয়।

যাইহোক, শুষ্ক মৌসুমে যখন শহরটিতে বৃষ্টিপাত হ্রাসের কারণে বায়ুর অবস্থার সবচেয়ে খারাপ সময়ের মুখোমুখি হয় তখন মেডেলিন বায়ুর গুণমান সূচক (একিউআই) পিএম২.৫ এর ৫৫ µg/m3-এ পৌঁছাতে পারে। যখন দূষণ ৩৮ µg/m3-এর বেশি হয়ে যায়, তখন উপত্যকার প্রারম্ভিক সতর্কতা ব্যবস্থা স্বরুপ গাড়ি ব্যবহারে বিধিনিষেধ দিতে পারে।

২০১৫-১৬ সালে আমরা বায়ু দূষণের শীর্ষে পৌঁছেছিলাম বলে জানিয়েছেন সে সময়কার মেডেলিনের স্থানীয় অবকাঠামো সচিব পাওলা প্যালাসিও। তিনি বলেন, পরিবেশগত সমস্যায় এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ছিল।

২০২০ সালে মেডেলিনের অ্যান্টিওকিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৬ সালে আবুরা উপত্যকা অঞ্চলে দূষণের কারণে ১হাজার ৯৭১ জনের অকালমৃত্যু ঘটেছে। যানবাহন থেকে ধোয়া নির্গমনের উপর নিয়ন্ত্রণের অভাবে ২০৩০ সালের মধ্যে দূষণের কারণে মৃত্যু উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

গবেষকরা বলছেন, গ্রিন করিডোরে ব্যবহৃত গাছগুলো এই বিপজ্জনক কণার বিরুদ্ধে বাধা হিসাবে কাজ করে, উল্লেখযোগ্য পরিমাণে দূষণ শোষণ করে নেয়।
মেডেলিন প্রকল্পে ব্যবহৃত কিছু প্রজাতির গাছ দূষণ শোষণে বিশেষভাবে দক্ষ বলে পরিচিত।

গ্রিন করিডর প্রকল্প বায়ু দূষণ কতটা কমিয়েছে তা নিয়ে কোনো সামগ্রিক সমীক্ষা বা পর্যালোচনা এখনও দেখা যায়নি। তবে গবেষকরা বলছেন, এর প্রভাব অধ্যয়নের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, গবেষণা ফলাফল ২০২৪ সালের প্রথম দিকে প্রকাশিত হবে।

৩০টি গ্রিন করিডোরের পাশাপাশি, প্রায় ১২৪ টি পার্কও প্রকল্পের অংশ হিসেবে করিডোর দ্বারা সংযুক্ত হয়েছে। শহর জুড়ে সবুজের এই বৃদ্ধি জলবায়ুর ওপর একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অ্যান্টিওকিয়ার প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯ সালের একটি গবেষণায় বলা হয়, এই পার্কগুলোর মধ্যে মাত্র দুটি, নুটিবারা এবং ভোলাডোর পাহাড় বায়ুমণ্ডল থেকে প্রতি বছর ৪০ টন কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2) অপসারণ করে থাকে।

;