লুকিয়ে থাকতে পারদর্শী বৈকাল ঝাড়ফুটকি



বিভোর বিশ্বাস, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সিলেট
শীত পরিযায়ী ‘বৈকাল ঝাড়ফুটকি’। ছবি: শাহানুল করিম চপল

শীত পরিযায়ী ‘বৈকাল ঝাড়ফুটকি’। ছবি: শাহানুল করিম চপল

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশের প্রিয় জলাভূমিগুলোতে ফিরে আসে ছোট-বড় পরিযায়ী পাখিরা। শুধু জলাভূমিই নয়; হিজল, করচ, হেলেঞ্চা, কলমীলতা আর বুনো ঝোপঝাড়ের ডালে ডালে পোকার সন্ধানে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে ছোট পরিযায়ীরাও।

শীত মৌসুমে জলাভূমির পরিযায়ী পাখিদের মিলন মেলায় সবিশেষ গুরুত্বে অংশ নিয়েছে মাত্র প্রায় এগারো সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যের ‘বৈকাল ঝাড়ফুটকি’। এর ইংরেজি নাম Baikal Bush-warbler এবং বৈজ্ঞানিক নাম Locustella david.

বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রখ্যাত পাখি বিশেষজ্ঞ ইনাম আল হক এ বিষয়ে বলেন, বৈকাল হ্রদের আশেপাশে এই পাখিটিকে বেশি দেখা গিয়েছিল বলে এর নামকরণ হয়েছে ‘বৈকাল বুশ-ওয়াবলার’। আর আমরা বাংলায় এর নাম রেখেছি ‘বৈকাল ঝাড়ফুটকি’। এই পাখিটি যে এতো দূরে থেকে শীত মৌসুমে আমাদের দেশে আসে তা আগে আমাদের কারোরই জানাই ছিল না। মাত্র কয়েক বছর ধরে জানা গেছে- আমাদের দেশের শীত পরিযায়ী সে।

এ পাখিটির প্রাপ্তি সম্পর্কে তিনি জানান, এই পাখিটি এতোটাই লুকিয়ে থাকতে পারদর্শী যে, বাইনোকুলার দিয়ে দেখে তাদের সঠিকভাবে সনাক্ত করা সম্ভব নয়। কিন্তু যখন জাল দিয়ে ধরা হয় তখন তো আমাদের হাতেই আসে এবং তখনই চেনা সহজ হয়। এইভাবেই আমরা সে সময় প্রথম এই পাখিটিকে আমাদের বাইক্কা বিলে পেয়েছিলাম।

পোকার সন্ধানে ব্যস্ত ‘বৈকাল ঝাড়ফুটকি’। ছবি: শাহানুল করিম চপল

তিনি আরো বলেন, এখন আমরা জানি যে, ভারতবর্ষের বেশ কয়েকটা জায়গায় সে শীতমৌসুমে আসে। তার মানে ইন্ডিয়া, বাংলাদেশ এবং থাইল্যান্ডে প্রতিবছরই এরা আসে। আবার এরা গ্রীস্মে ফিরে যায় পূর্ব রাশিয়া এবং উত্তরপূর্ব চীনের তাইগা অঞ্চলে; যেখানেই তারা প্রজনন করে থাকে।

‘বৈকাল বুশ-ওয়াবলার’ পাখিটিকে চেনার উপায় হলো- ওর লেজের নিচে যে পালকগুলোর মধ্যে ঢেউয়ের মতো বাঁকানো এক সারি দাগ থাকবে। আবার গলার নিচে বুকের কাছে কালো কালো টান থাকবে। এরকম অনেক কিছু দেখে দেখে খুবই সুক্ষ্মভাবে আলাদা করতে হয়। নয়তো ‘বৈকাল বুশ-ওয়াবলার’ অন্য ওয়াবলার সাথে মিশে যাবে, একটা ওয়াবলার থেকে অন্য ওয়াবলার খুব বেশি আলাদা তো না। খুব সুক্ষ্মভাবে না দেখলে এ পাখিটিকে চেনা আসলেই খুব কঠিন বলে জানান প্রখ্যাত পাখিবিদ ইনাম আল হক।

   

এদেশে বিপন্ন রাম কুত্তা



অধ্যাপক ড. আ ন ম আমিনুর রহমান
মালয়েশিয়ার তাইপেং চিড়িয়াখানায় বিশ্রামরত রাম কুত্তার দল। ছবি: লেখক

মালয়েশিয়ার তাইপেং চিড়িয়াখানায় বিশ্রামরত রাম কুত্তার দল। ছবি: লেখক

  • Font increase
  • Font Decrease

কোনো এককালে বৃহত্তর চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেটের মিশ্র চিরসবুজ বনে অবাধে ঘুরে বেড়াত প্রাণীগুলো। দল বেঁধে ওরা শিকার করত হরিণ, বুনো শুয়োর, বন ছাগল, এমনকি গরু-মহিষও। ওদের কবল থেকে বাঘ-চিতাবাঘও রক্ষা পেত না বলে প্রচলিত আছে। অন্তত ১৯৫০ সাল পর্যন্ত এভাবেই চলছিল।

কিন্তু এরপরই ওদের উপর নেমে আসে বিপর্যয়। কৃষি জমি ও মানুষের বাসস্থানের জন্য বন কেটে জমি উদ্ধার, কাঠের জন্য বন উজাড় এবং প্রাণীগুলো ও ওদের খাদ্য অর্থাৎ তৃণভোজী প্রাণীদের অবাধ শিকারের কারণে দিনে দিনে সংখ্যা কমে এক সময়ের সচরাচর দৃশ্যমান (Common) প্রাণীগুলো বর্তমানে একেবারেই বিরল (Rare) ও বিপন্ন (Endangered) হয়ে পড়েছে।

মালয়েশিয়ার তাইপেং চিড়িয়াখানায় একটি রাম কুত্তা। ছবি: লেখক

যদিও ২০০০ সাল পর্যন্ত ওদেরকে হবিগঞ্জের রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্যেও দেখা যেত বলে শুনেছি, কিন্তু বর্তমানে ওদের আবাসস্থল মারাত্মকভাবে সংকুচিত হয়ে চট্টগ্রাম বিভাগের পার্বত্য জেলাগুলোর অল্পকিছু এলাকা; রাঙামাটির কাসালং ও রাইখং সংরক্ষিত বনাঞ্চল, পাবলাখালী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, বান্দরবানের সাঙ্গু বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ইত্যাদিতে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। তবে, কয়েক বছর আগে হবিগঞ্জের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে ওদের অস্তিত্বের প্রমাণ মিলেছে। সেকারণে আমার ধারণা ওরা এখনও রোম-কালেঙ্গা এবং সিলেটের আরও কিছু বনেও থাকতে পারে।

মেট্রো টরেন্ট চিড়িয়াখানায় একটি রাম কুত্তা। ছবি: লেখক

আজ থেকে প্রায় ত্রিশ বছর আগে পাল্প উড বিভাগ, কাপ্তাইয়ে চাকুরিরত খালাত ভাই ফরেস্টার শফিকুর রহমানের ওখানে কাছে বেড়াতে গিয়ে ওর কাছেই ওদের সম্পর্কে প্রথম শুনেছিলাম। এরপর ১৯৯৮ সালে কানাডার গুয়েল্প বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস এস্টেট অ্যানিম্যাল হসপিটালে পোষা প্রাণীর চিকিৎসায় উচ্চতর প্রশিক্ষণ নেয়ার সময় মেট্টো টরন্টো চিড়িয়াখানায় গিয়ে প্রথম ওদের দেখি। ওখানে কৃত্রিমভাবে প্রাকৃতিক পরিবেশ সৃষ্টি করে ওদের রাখা হয়েছিল।

প্রাণীগুলোর চেহারা, আচরণ ও চলাফেরা শফিক ভাইয়ের বর্ণনার সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। টরন্টো চিড়িয়াখানায় ওদের দেখে আমি এতটাই বিমোহিত হয়ে গিয়েছিলাম যে, মনে হয়েছিল পার্বত্য চট্টগ্রামের গহিন অরণ্যেই যেন ওদের দেখছি। কতক্ষণ যে সেই কৃত্রিম বনে হারিয়ে গিয়েছিলাম জানি না, কানাডা প্রবাসী সুমন সাইয়েদ ভাইয়ের ধাক্কায় বাস্তবে ফিরে এলাম। এরপর পটাপট কয়েকটা ছবি তুললাম। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে মালয়েশিয়ার প্রথম চিড়িয়াখানা তাইপেং জু ও নাইট সাফারিতে দিনে-রাতে ওদেরকে আবারও দেখি।

মালয়েশিয়ার তাইপেং চিড়িয়াখানায় কৃত্রিমভাবে বানানো গুহার সামনে একটি রাম কুত্তা। ছবি: লেখক

কয়েক বছর আগে সিলেটের টিলাগড় ইকো পার্কে গিয়ে শফিক ভাইয়ের সঙ্গে দেখা হলে তিনি বললেন, এখনও ওরা টিকে আছে। তিনি ওদেরকে স্বচক্ষে দেখা ছাড়াও বেশ ক’টি অঞ্চলে ওদের পদচিহ্নও দেখেছেন। বন্যপ্রাণী গবেষক ‘ক্রিয়েটিভ কনজারভেশন অ্যালায়েন্স’-এর মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা শাহরিয়ার সিজার রহমানের সাথে আলাপকালে জানা যায়, বেশ ক’বছর আগে তারা বান্দনবানের সাঙ্গু-মাতামুহুরী উপত্যকায় ওদের অস্তিত্বের প্রমাণ পেয়েছেন। সাঙ্গু-মাতামুহুরী উপত্যকার স্থানীয় ম্রোদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং সেখানকার বন্যপ্রাণী ও তাদের আবাস সংরক্ষণে কাজ করতে গিয়ে ম্রোদের ভাষায় ‘শুই’ নামে পরিচিত প্রাণীগুলোর সঙ্গে অন্তত দু’বার তার দেখা হয়েছে। উপত্যকার গহীনে ওদের পায়ের চিহ্নও দেখছেন তিনি। সর্বোপরি ‘ক্রিয়েটিভ কনজারভেশন অ্যালায়েন্স’-এর কর্মীদের পাতা ক্যামেরা ফাঁদে বেশ ক’বার প্রাণীগুলোর চলাফেরার চিত্রও ধরা পড়েছে।

কানাডার মেট্রো টরেন্ট চিড়িয়াখানায় বিশেষ ভঙ্গিমায় রাম কুত্তা। ছবি: লেখক

হবিগঞ্জের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের পাখি-প্রাণী পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে ২০১৯ সালে ওখানকার গাইডদের কাছে আজব এক প্রাণীর কথা শুনি। প্রাণীগুলোকে ওরা চোখে না দেখলেও সেগুলোর দ্বারা গত্যাকৃত গরু ও শুকরের দেহাবশেষ তারা দেখেছেন এবং আমাকেও দেখিয়েছিলেন। পরবর্তীতে একটি গবেষক দলের পাতা ক্যামেরা ফাঁদে প্রাণীগুলোর চলাফেরার চিত্রও ধরা পড়ে এবং প্রাণীগুলোর পরিচয় জানা যায়।

যাহোক, বৃহত্তর চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং সিলেটের এই বিরল ও বিপন্ন শিকারি প্রাণীগুলোর নাম রাম কুত্তা। লাল কুত্তা, বন কুত্তা বা ডোল নামেও পরিচিত। ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ওরা জংলি কুকুর, চ্যু, সোনহা, সোন বা ডোল নামে পরিচিত। ইংরেজি নাম এশিয়াটিক ওয়াইল্ড ডগ, রেড ডগ বা ডোল (Asiatic Wild Dog, Red Dog or Dhole)| ক্যানিডি (Canidae) গোত্রভুক্ত প্রাণীটির বৈজ্ঞানিক নাম Cuon alpinus (কুয়ন অ্যালপিনাস) অর্থাৎ পাহাড়ি কুকুর। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, ভুটান, নেপাল, চীন ও রাশিয়াসহ এশিয়ার অনেক দেশেই ওদের দেখা মেলে। আগেই বলেছি, একসময় এদেশে ওদেরকে সচরাচর দেখা গেলেও বর্তমানে একেবারেই বিরল ও বিপন্ন হয়ে পড়েছে।

বান্দরবানের সাঙ্গুতে উপজাতীয়দের হাতে মৃত রাম কুত্তা। ছবি: ক্রিয়েটিভ কনজারভেশন অ্যালায়েন্স

রাম কুত্তা শিয়াল, কুকুর ও নেকড়ের জাতভাই। তবে চেহারায় শিয়ালের সঙ্গেই মিল বেশি। আকারে নেকড়ে ও শিয়ালের মাঝামাঝি। নাগের আগা থেকে লেজের গোড়া পর্যন্ত লম্বায় ৪৫ থেকে ৬০ সেন্টিমিটার; লেজ ২০ থেকে ২৭ সেন্টিমিটার। ওজন ১০ থোকে ২০ কেজি। পা খাটো, লেজ ঝোঁপালো ও নাকের উপরের অংশ খানিকটা উঁচু। মাথা ও দেহের উপরের অংশের লোম বাদামি-লাল। ঋতুভেদে রঙ হালকা থেকে গাঢ় হতে পারে। কানের ভেতরটা, মুখের নিচ, গলা ও দেহের নিচের অংশ সাদা। ঝোঁপালো লেজের আগা কালো।

হবিগঞ্জের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে রাম কুত্তার দ্বারা মৃত ও ভক্ষণকৃত বুনো শুকরের হাড়সহ দেহাবশেষ। ছবি: লেখক

রাম কুত্তা সামাজিক প্রাণী। দলবদ্ধভাবে থাকে; দিনের বেলা শিকার করে। দলে ২ থেকে ৩০টি পর্যন্ত কুকুর থাকতে পারে। ওরা সচরাচর মাঝারি আকারের প্রাণী, যেমন- হরিণ, শূকর, ছাগল ইত্যাদিকে আক্রমণ করে। প্রয়োজনে বনগরু বা মহিষের মতো বড় পশুকেও আক্রমণ করতে পারে। বন কুকুরের দল কোনো প্রাণীকে সামনে ও পিছনে উভয় দিক থেকেই আক্রমণ করে ও তাড়িয়ে নিয়ে যায়। তাড়াতে তাড়াতে ক্লান্ত করে ফেলে। ওরা যে প্রাণীকে লক্ষ্যবস্তু হিসাব ঠিক করে তাকে না মারা পর্যন্ত ছাড়ে না। তাড়ানো অবস্থাতেই জীবিত প্রাণীটিকে খাবলে খেতে থাকে। আর এভাবে ১০ থেকে ১৫টি কুকুর মিলে অল্প সময়ের মধ্যেই যে কোন প্রাণীকে সাবাড় করে ফেলতে পারে। খাদ্য স্বল্পতার সময় ফল ও সরীসৃপও খায়। কুকুরের মতো ঘেঁউ ঘেঁউ করে না। বরং শিস দেয়ার মতো শব্দ করে ডাকে।

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে রাম কুত্তা কর্তৃক মৃত গরুর দেহাবশেষ। ছবি: লেখক

ওরা সচরাচর ভালুক, চিতাবাঘ বা বাঘকে এড়িয়ে চলে; তবে আক্রান্ত হলে তাদেরও রেহাই নেই। ১৯৭০ সালে প্রকাশিত ভারতের জীবজন্তু নামক পুস্তকে লেখক শ্রীরাম শর্মা রাম কুত্তা কীভাবে বাঘকে আক্রমণ সে সম্পর্কে কিছুটা আলোকপাত করেছেন যা সংক্ষেপে এখানে তুলে ধরছি।

আগেই বলেছি ওরা বাঘকে বেশ সমীহ করে, আর বাঘও ওদেরকে এড়িয়েই চলে। কিন্তু ঘটনাচক্রে যদি ওরা কখনো বাঘের মারা শিকারের কাছে পৌঁছে যায়, আর বাঘ থাবা মেরে যদি দু’একটা কুকুরকে মেরে ফেলে তখন কিন্তু বাঘ মামার আর রক্ষা নেই। তবে তখনই ওরা বাঘকে আক্রমণ করে না। কারণ ওরা জানে বাঘের একেকটা থাবায় একেকটা কুকুরের তালগোল পাকিয়ে যেতে পারে, এমন কি মারাও যেতে পারে। কাজেই ওরা বাঘকে আক্রমণ না করে খানিকটা দূর থেকে চারিদিক দিয়ে ঘিরে ফেলে এবং বিরক্ত করতে থাকে; শান্তিতে থাকতে দেয় না। বাঘ যখন তার শিকার বা মড়ি খেতে বসে তখন বাঘের পিছন দিকে ওরা কামড়ে দেয়। বাঘ যখন রেগে গিয়ে ওখান থেকে উঠে হাঁটা শুরু করে, তখন ওরাও নিরাপদ দূরত্বে থেকে চারদিক দিয়ে ঘিরে বাঘকে অনুসরণ করতে থাকে। বাঘ যখন ক্ষেপে গিয়ে জোড়ে হাঁটতে থাকে তখন রাম কুত্তারাও বাঘের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জোড়ে হাঁটা শুরু করে। বাঘ যখন পিপাসা মেটাতে পানিতে নামে, তখন ওরা বাঘের লেজ ও পিছন দিকে কামড়ে দেয়। বাঘ রেগে গিয়ে পিছন দিকে লাফ দিলে ওরা নিরাপদ দূরত্বে চলে যায়। আবার যখন বাঘ পানি পান করতে যায়, তখন ওরা আবারও বাঘকে জ্বালাতে শুরু করে। কোনোভাবেই বাঘকে পানি পান করতে দেয় না। তবে বাঘকে পানি পান না করতে দিলেও নিজেরা পালাক্রমে পানি পান করে আসে।

যাক, এবার কিন্তু বাঘ ভয় পেয়ে যায় এবং পানি ছেড়ে দূরে গিয়ে একটু আরাম করার জন্য বসে পড়ে। তবে কুকুরগুলো কোনোভাবেই বাঘকে আরামে থাকতে দেয় না। আরাম করতে করতে বাঘ যখন খানিকটা ঝিমুতে শুরু করে, তখন কুকুরগুলো বাঘের মুখে থাবা দেয়। কয়েকটিতে মিলে বাঘের লেজ টানাটানি করতে থাকে। এতে বাঘ খুব অপমান বোধ করে। আর তাই রাগে-দুঃখে বাঘ দৌড়–তে শুরু করে। দৌড়–তে দৌড়–তে বাঘের পায়ের নিচের চর্বি গলে যায় ও বাঘ ক্লান্ত হয়ে পড়ে। ক্ষুধায়, তৃষ্ণায় ও ক্লান্তিতে বাঘ যখন প্রায় আধমরা হয়ে যায়, তখনই যমদূতের মতো কুকুরগুলো বাঘের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ও দেহের বিভিন্ন স্থানে কামড়াতে থাকে। ধস্তাধস্তিতে দু’একটা কুকুর মারা গেলেও নাছোড়বান্দা কুকুরগুলো রনে ভঙ্গ দেয় না। বরং ওরা আরও উদ্যমে বাঘের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ও শেষ পর্যন্ত বাঘকে হত্যা করে ছাড়ে।

যাক, এবার রাম কুত্তার প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি সম্পর্কে জানা যাক। ওরা মাটিতে গর্ত খুঁড়ে বা পাহাড়ের গুহায় বাস করে। সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত ওদের প্রজননকাল। স্ত্রী ৬০ থেকে ৬৫ দিন গর্ভধারণের পর মাটির গর্ত বা পাহাড়ের গুহায় ৪ থেকে ৬টি বাচ্চা প্রসব করে। শুধু মা-বাবাই যে বাচ্চা লালনপালন করে তা নয়, বরং একাজে দলের অন্যান্য সদস্যরাও সাহায্য করে। প্রায় এক বছর বয়সে বাচ্চারা পূর্ণবয়স্ক হয়ে যায়। ওদের আয়ুষ্কাল প্রায় দশ বছর।

প্রবন্ধটির লেখক ও আলোকচিত্রী ড. আ ন ম আমিনুর রহমান একজন বন্যপ্রাণী জীববিজ্ঞানী, প্রাণী চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক।

E-mail:[email protected], [email protected]

;

খেলনাগাড়ি দিয়েই বিশ্বরেকর্ড!



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
খেলনাগাড়ি নিয়ে পাল্লায় নেমে বিশ্বরেকর্ড!

খেলনাগাড়ি নিয়ে পাল্লায় নেমে বিশ্বরেকর্ড!

  • Font increase
  • Font Decrease

ছোটবেলার শখের খেলনা বড় হওয়ার পর ফেলে দেওয়া ছাড়া উপায় থাকে না। সাধারণ মানুষের চোখে সেসব ভেঙে যাওয়া, নষ্ট হওয়া সামগ্রী। তবে, যার চোখ সাধারণ দৃষ্টিতে দেখে না, সেই ছাই’য়ের নিচে দেবে থাকা অমূল্য রতন হাতে পায়।    

জার্মানের প্রকৌশলী শিক্ষার্থী মার্সেল পল। সম্প্রতি তিনি আলোচনায় এসেছেন তার যুগান্তকারী আবিষ্কারের মাধ্যমে। হেলমেট পরে অভিজ্ঞ রেসারের মতো রাস্তায় নেমেছেন তিনি। শো শো করে বাতাস কাটিয়ে তার গাড়ি এগিয়ে চলেছে। দ্রুতগামী সেই গাড়ি চালিয়ে করেছেন বিশ্বরেকর্ড।

গাড়িটির গতি ঘণ্টায় ১৪৮ দশমিক ৪৫৪ কিলোমিটার। তাহলে কেন এত হৈ-চৈ গাড়িটি নিয়ে! কারণ, এটি কোনো সাধারণ গাড়ি নয়। পলের নিজের হাতে তৈরি করা, তাও পুরানো খেলনা গাড়ি দিয়ে। দীর্ঘ ১০ মাস সেই খেলনা গাড়ি নিয়ে কাজ করেছিলেন পল। গাড়ির কলকব্জা এদিক-সেদিক করে সেটিকে করেছেন বাস্তব গাড়ির মতো!  

 দুর্দান্ত সৃষ্টির কারণে গিনিস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নিজের নাম লিখিয়েছেন মার্সেল পল

ছোটবেলার স্মৃতি কাটিয়ে গাড়িকেও নিজের সাথে আপডেট করেছেন এই ইঞ্জিনিয়ার। খেলনার দামে রাস্তায় চালিত গাড়ি দেখে হৈ-চৈ পড়ে গেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

নিজের এই দুর্দান্ত সৃষ্টির কারণে গিনিস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নিজের নাম লিখিয়েছেন পল। ‘ দ্রুততম রূপান্তরিত খেলনা সামগ্রির আবিষ্কারক’-এর প্রশংসাপত্রে তার নাম খচিত হলো। নবীন প্রকৌশলীদের জন্য এই আবিষ্কার অত্যন্ত প্রেরণাদায়ক ।  

তার গাড়ির ভিডিও-টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ৬ দশমিক ৫ লাখ ভিউ অর্জন করে।  মাত্র ১ দিনেই ২১ হাজার মানুষ ভালোবাসা প্রকাশ করে। ছোট এই গাড়ি দেখে সবাই মুগ্ধ। পলের সৃজনশীলতার প্রশংসা করছে বিশ্বব্যাপী মানুষ।

তথ্যসূত্র: এনডি-টিভি

;

দূর থেকেই নজর কাড়ে পিংক ফুলের সৌন্দর্য



উপজেলা করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ)
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

দূর থেকেই চোখে পড়ে ড্রাইড্রোন পিংক ফুলের সৌন্দর্য। উজ্জ্বল বর্ণের এই ফুল বিভিন্ন রঙের হয়ে থাকে। গাছের চারদিকে ছড়িয়ে থাকে এই ফুল। বাতাসে যখন দুলতে থাকে তখন অনন্য রুপ ধারণ করে।
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার বিভিন্ন বাগান ও প্রতিষ্ঠানের সামনে এই ফুল চোখে পড়ে। শত ফুলের মধ্যেও এই পিংক ফুলের চোখ ধাঁধানো সৌন্দর্য মুগ্ধতা ছড়ায়। ফুলপ্রেমীদের মনে আনে প্রশান্তির ছোঁয়া।

জানা যায়, ড্রাইড্রোন পিংক ফুলটির নাম বিদেশি। বাংলাদেশে বাণিজ্যিক ভাবে এর চাষাবাদ শুরু হয়েছে। ইউরোপের দেশগুলোতে এই ফুল অনেক জনপ্রিয়। ভারতেও এই ফুলের ব্যাপক চাষাবাদ হচ্ছে। এই ফুলের বিভিন্ন রং হয়ে থাকে। লাল, সাদা, হলুদ, নীল রং দেখা যায় বেশি। অফিস ও বাসাবাড়িতে, দেয়ালে টপ দিয়ে এগুলো সাজিয়ে রাখা যায়। ছায়াযুক্ত পরিবেশ এই ফুলের জন্য উপযুক্ত। এটি সারাবছর ফুটে। বাংলাদেশের আবহাওয়াতে ফুলটি খুবই মানিয়ে নিয়েছে।

ফুলপ্রেমী আব্বাস আলী বার্তা ২৪.কম'কে বলেন, 'পিংক ফুলের সৌন্দর্যে আমি মুগ্ধ হয়েছি। এটির রং ও সৌন্দর্য খুবই দারুণ লাগলো। আমাদের বাসায় কয়কেটি টবে ফুল লাগিয়েছি৷ আমাদের দেশে এর প্রচলন বাড়ছে।’

;

কোনিয়া কন্যার বাংলা ভাষা প্রেম!



মাহমুদ হাফিজ, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলা ভাষার শ্রুতি মধুরতায় মুগ্ধ তুরস্কের কোনিয়া কন্যা ডেনিস বুলকুর বাংলার প্রেমে পড়েছেন। জালালদ্দিন রুমির শহরখ্যাত কোনিয়া প্রদেশের বাসিন্দা ডেনিস ২০০৮ সালে বেড়াতে এসে বাংলা ভাষার প্রতি মুগ্ধ হন তিনি।

কয়েক বছরের সাধনায় তিনি বাংলা ভাষা বলা, পড়া ও লেখা শিখে নিয়েছেন।

ভাষার টানে ২০১৫ সাল দু’বছর বাংলাদেশে কাটিয়েও গেছেন। এমনকী তুর্কি প্রেমিককে বিয়ে করার শর্ত দিয়েছিলেন বাংলাদেশ হবে বিয়ের ভেন্যু। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করে বাংলায় বই লেখার স্বপ্ন নিয়ে এই কোনিয়াকন্যা আবার বাংলাদেশ আসছেন!

এ প্রতিবেদকের মুখোমুখি ও ফোনে ডেনিস বুলকুর মেলে ধরেছেন তাঁর বাংলাপ্রীতির আদ্যপান্ত।

বাংলায় হাতের লেখা ডেনিসের

তিনি বলেন, “২০০৮ সালে বাংলাদেশে বেড়াতে এসে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তুর্কি ভাষা জানা এক বাংলাদেশির সঙ্গে পরিচিত হই। তখন ‘শুভ সকাল’! ‘আপনার দিনটি শুভ হোক’! ‘ভালো থাকুন’! এসব বাক্য শুনে বাংলা ভাষার প্রেমে পড়ে যাই। এরপর যত মানুষের সঙ্গে মিশেছি, তত এই ভাষাতেই কথা বলেছি। পরে বিনিয়োগের সম্ভাবনার সন্ধানে বাংলাদেশ ভ্রমণ যত বাড়ে, তত বাড়ে আমার ভাষা তৃষ্ণা”!

ডেনিস বলেন, ‘বাংলা ভাষা শেখা ও এ দেশের সংস্কৃতি বুঝতে ২০১৫ সাল থেকে বাংলাদেশে বসবাস শুরু করি। ২০১৭ সাল পর্যন্ত দেশের বড় বড় শহরে সময় কাটাই। ওই সময় তুর্কি প্রেমিককে বিয়ের করার শর্ত হিসেবে বাংলাদেশে এসে বিয়ে করতে হবে এমন শর্ত দিলে, তিনি তাতে সম্মত হন’।

ডেনিস দাবি করেন, ২০১৭ সালে ঢাকাস্থ তুরস্ক দূতাবাসে ইতিহাসের প্রথম কোনো তুর্কি যুগলের বিয়ে সম্পন্ন হয়। ডেনিস বলেন, পরে তিনি দেশে ফিরে গিয়ে তুরস্কে বসবাসরত বাংলাদেশি বন্ধুদের সহায়তায় বাংলা ভাষার চর্চা অব্যাহত রাখেন।

তিনি বলেন, “ভাষার ব্যাপারে আমি নেলসন ম্যান্ডেলার অমৃতবাণী অনুসরণ করি। ম্যান্ডেলা বলেছেন, ‘যদি তুমি কারো সঙ্গে সে বুঝতে পারে, এমন ভাষায় কথা বলো, তাহলে তা তাঁর মস্তিষ্কে পৌঁছাবে, আর যদি তাঁর মাতৃভাষায় কথা বলো, তাহলে তাঁর হৃদয়ে পৌঁছাবে।”

তুরস্কের ইস্তাম্বুল বসবাসরত কোনিয়া প্রদেশের এই উদীয়মান ব্যবসায়ীকে বাংলাভাষা ও বাংলাদেশপ্রীতির জন্য আঙ্কারাস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস কোনিয়ার অনারারি কনসাল জেনারেল নিযুক্ত করেছে।

বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার সাজে ডেনিস

এই সম্মানীয় পদ পেয়ে ডেনিসের বাংলা ভাষাপ্রীতি আরো বেগবান হয়। তিনি বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কোন্নয়নে ভূমিকা রাখতে শুরু করেন। ডেনিসের কাছ থেকে জানা গেছে, বাংলাদেশ তুরস্কের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইটে চালু, তুরস্কের বাণিজ্যিক শহর ইস্তাম্বুলে বাংলাদেশ কনস্যুলেট চালু, বাংলাদেশের জ্বালানি, টেলিকমিউনিকেশনসহ বিভিন্ন সেক্টরে তুর্কি বিনিয়োগ তরান্বিত করা, তুরস্ক-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল- ডেইক প্রতিষ্ঠা করা, সাংস্কৃতিক যোগাযোগ বাড়াতে তিনি ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন।

বাংলা ভাষা, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ নিয়ে কাজ করে যাওয়াই ডেনিসের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানা গেছে। তাঁর কাছ থেকে জানা গেছে, তিনি আঙ্কারা দূতাবাসের সহায়তায় ‘বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ গ্রন্থটির তুর্কি অনুবাদ ও তা ই-বুক আকারে প্রকাশের ব্যবস্থা করেন, যা অনলাইনে আঙ্কারায় বাংলাদেশের দূতাবাস ভবনের উদ্বোধনকালে তুলে ধরা হয়।

তিনি কোনিয়া প্রদেশে বাংলাদেশকে তুলে ধরার জন্য ‘বিউটিফুল বাংলাদেশ’ নামে চিত্রপ্রদর্শনীর আয়োজন করেন। জালালুদ্দিন রুমিকে কেন্দ্র করে কোনিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সিলেটে নগরীর আধ্যাত্মিক যোগসূত্র রয়েছে বলে দু’নগরের মধ্যে ‘সিস্টার সিটি’ সমঝোতা সই, কোনিয়া প্রদেশে বঙ্গবন্ধু স্মৃতিউদ্যান স্থাপন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন, কোনিয়ায় বিনামূল্যে অনলাইনে বেসিক বাংলা ভাষা প্রশিক্ষণ কোর্স পরিচালনার মতো কাজ করেছেন।

ডেনিস জানান, বাংলাভাষা নিয়ে তাঁর স্বপ্ন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে উচ্চতর পড়াশুনার পর বাংলা ভাষায় বই লেখা। 

 

;