ভারতের চিকিৎসা ও পর্যটন হটস্পট পুনা



শাহ ইসকান্দার আলী স্বপন, কন্ট্রিবিউটিং এডিটর, বার্তা২৪.কম
ভারতের চিকিৎসা ও পর্যটন হটস্পট পুনা

ভারতের চিকিৎসা ও পর্যটন হটস্পট পুনা

  • Font increase
  • Font Decrease

ভারতের প্রধান চিকিৎসা ক্ষেত্রে পরিণত হচ্ছে মহারাষ্ট্রের পুনা শহর। বোম্বে বা মুম্বাইয়ের পর দ্বিতীয় বৃহত্তর শহর পুনা বা পুনে পরিচিত ভারতের অন্যতম ‘সাংস্কৃতিক রাজধানী’, ‘ডেকানস কুইন’ (দাক্ষিণাত্যের রানি) এবং ভারতের অক্সফোর্ড বা ক্যামব্রিজ নামেও।

ভারতীয় মিডিয়ার এক জরিপে উদীয়মান স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা ক্ষেত্র হিসেবে প্রথম স্থান লাভ করেছে সায়াদ্রি পাহাড়ের উপত্যকায় মুলা এবং মুঠা নদী তীরের পুনা। মুম্বাইয়ের করপোরেট চিকিৎসা ব্যবস্থা থেকে এক ঘণ্টার ড্রাইভের দূরত্বে অবস্থিত পুনায় তুলনামূলক স্বল্প ব্যয়ে সর্বাধুনিক চিকিৎসা সুবিধা পাওয়া যায় বলে শহরটি এখন চিকিৎসা ও পর্যটনের হটস্পট।

চিকিৎসা ও পর্যটনের হটস্পট পুনা পশ্চিম ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যে প্রাচীন ও সমৃদ্ধ জনপদ। পুনা সতেরো শতাব্দীতে প্রথমবার ভোঁসলে মারাঠাদের রাজধানী হিসেবে গুরুত্ব অর্জন করেছিল। এটি মুঘলগণ অস্থায়ীভাবে দখল করলেও শেষ পর্যন্ত মারাঠার রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ছিল।

মহারাষ্ট্র রাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর এবং দ্রুত বিকশিত মহানগর হিসেবে পুনা ধনী কাজিন সিটি মুম্বাইয়ের ছায়া থেকে সরে এসে ভারতীয় মানচিত্রে নিজস্ব কুলুঙ্গি খোদাই করেছে। ভারতের অন্য বেশিরভাগ জায়গাগুলো দেখার জন্য এক বা দুটি কারণ থাকলেও পুনা-এর এমন বেশ কয়েকটি দিক রয়েছে, যা বারবার ফিরে আসার আমন্ত্রণ জানায়।

ভারতের অন্যান্য শহরগুলো বছরের বেশিরভাগ সময় খুব গরম বা খুব শীত থাকলেও পুনা প্রাকৃতিক কারণে সর্বদা একটি মাঝারি আবহাওয়ার নাতিশীতোষ্ণ শহর, যা কখনই খুব বেশি গরম বা খুব বেশি শীত হয় না বলে বছরের যে কোনও সময় এই জায়গাটি পরিদর্শন করা যায়। আবহাওয়া শীতল এবং বায়ুযুক্ত ও দূষণমুক্ত আর মাঝে মাঝে ঝরঝরে বৃষ্টির সাথে মনোমুগ্ধ দৃশ্য পুনা-কে অনিন্দিত করেছে।

সায়াদ্রি হাসপাতাল, পুনা

পুনা-এর খাবার-দাবার অত্যন্ত সুস্বাদু এবং বিভিন্ন ধরণের আইটেমে ভরপুর। পুনা সকল ধর্ম ও সংস্কৃতির লোকদের বাসস্থান এবং খাবারের প্রভাব অনস্বীকার্য। পারসি খাবার বা খাঁটি নিরামিষ, হাই-এন্ড রেস্তোঁরা বা রাস্তার পাশে খাওয়ার প্রচুর অফার রয়েছে পুনা-তে। রয়েছে প্রাচীনতম পার্সিয়ান বেকারি 'কায়ানি বেকারি', যাতে শ্রিউসবারি বিস্কুট এবং প্যাস্ট্রি বিশ্বসেরা। 'কোরেগাঁও পার্ক' এবং 'ব্যানার' হ'ল শহরের আরো দুটি প্রধান রেঁস্তোরা কেন্দ্র।

পুনা-র নাইট লাইফ এমন একটি বিষয় যা পার্টির লোকেরা সবসময় প্রত্যাশায় থাকে। সেখানে পরিশীলিত নাইটক্লাবগুলো এবং শহরের গানের দৃশ্যগুলোও দুরন্ত হয়ে উঠছে। এনরিক ইগলেসিয়াস, আকন, জে শান, ডেভিড গুয়েতার মতো বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক তারকা এখানে অভিনয় করেছেন। এই শহরটিতে দুটি বড় আন্তর্জাতিক সংগীত উৎসবও অনুষ্ঠিত হয়।

পুনা একটি শপিং স্বর্গ। বাজেট ক্রেতাদের থেকে শুরু করে বিলাসবহুল ক্রেতাদের কাছে কেনাকাটার অনেকগুলো বিকল্প রয়েছে। আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের পাশাপাশি বিখ্যাত রাস্তার শপিংয়ের জায়গাগুলোতে প্রচুর মল রয়েছে, যেখানে খুব ভাল দর কষাকষি করে মার্কেটিং করা যায়। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শপিংয়ের গন্তব্য হ'ল কোরেগাঁও পার্ক, এমজি রোড, এফসি রোড এবং জেএম রোড। ফিনিক্স মার্কেট সিটি, আমানোরা টাউন মল, সিজনস্ মল এবং ওয়েস্ট এন্ড মল পুনা-র প্রধান উচ্চ-শপিং গন্তব্য।

কৌশলগত কারণে মুম্বাই ছাড়াও পুনা থেকে আরো বেশ কয়েকটি প্রতিবেশী স্থানে সহজে অ্যাক্সেস করা যায়। মহাবালেশ্বর, পাঁচগনি, লোনাওয়ালা এবং খান্ডালার মতো পার্বত্য স্টেশনগুলোও নিকটে রয়েছে এবং মুম্বাই পুনা থেকে মাত্র ১২০ কিলোমিটার দূরে। পুনা ভ্রমণকারীদের জন্য আরেকটি বড় আকর্ষণ হ'ল গোয়া। গোয়ার সৈকত এবং পার্টি লাইফ সহজে উপভোগ করা যায় পুনা থেকে স্বল্প সময়ের ভ্রমণের মাধ্যমে।

পুনা দীর্ঘদিন ধরে একটি বড় শিক্ষামূলক এবং সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু এটিকে 'ভারতের অক্সফোর্ড এবং ক্যামব্রিজ' হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। এই শহরটিতে পুনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (১৯৪৮) প্রায় ৩০টি উপাদান এবং অনুমোদিত কলেজ রয়েছে। ভান্ডারকর ওরিয়েন্টাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট (১৯১৭) সংস্কৃত ও প্রাকৃত ভাষায় গবেষণা ও নির্দেশনার জন্য খ্যাতিমান এবং ২০,০০০ এরও অধিক প্রাচীন পাণ্ডুলিপি রয়েছে সেখানে। পুনা ভারতীয় সেনাবাহিনীর দক্ষিণ কমান্ডের সদর দফতর, যার কাছেই রয়েছে খদকসোলা একাডেমি। রয়েছে মহারাজা সরাজিরাও বিশ্ববিদ্যালয়, যা শিল্প ও কলার বিশ্ববিশ্রুত উচ্চশিক্ষা কেন্দ্র। একইভাবে চলচ্চিত্র শিক্ষার জাতীয় প্রতিষ্ঠানও পুনা-ত অবস্থিত।

ডা. চারুদত্ত আপ্ত

চিকিৎসার ক্ষেত্রে পুনা অভূতপূর্ব অগ্রগতি সাধন করেছে। বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রযুক্তি, নিবেদিত চিকিৎসক, টেকনিশিয়ান, স্বল্প ব্যয় এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে দেশ-বিদেশের লোকজন ছুটছেন সেখানে। গলাকাটা খরচ ও করপোরেট পদ্ধতির চাপ এড়িয়ে মুম্বাই বা ভারতের মানুষও বেছে নিচ্ছেন এক ঘণ্টা দূরের মনোরম শহর পুনা-কে। পুনা-র চিকিৎসা ব্যবস্থায় যুগান্তকারী অগ্রগতি এনেছেন বিশ্ববরেণ্য চিকিৎসক ডা. চারুদত্ত আপ্তে (https://sahyadrihospital.com/doctors/dr-charudutt-apte/), যিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন বিশ্বমানের সায়াদ্রি হাসপাতাল চেইন (https://sahyadrihospital.com/)।

সায়াদ্রি হাসপাতাল চেইন তাদের ৯টি স্বয়ংসম্পূর্ণ হাসপাতালের মাধ্যমে পুনা এবং পাশের নৈসর্গিক শহর নাসিকের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও চিকিৎসা ক্ষেত্রকে সুপরিকল্পিতভাবে সাজিয়েছে। ১০০০ হাজার শয্যা, শতাধিক চিকিৎসক, ২৬০০ স্টাফ ও টেকনিশিয়ান নিয়ে সায়াদ্রি হাসপাতাল সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্বল্প ব্যয়ে ও দ্রুততার সঙ্গে অতি-অগ্রসর চিকিৎসা সেবার দ্বার উন্মুক্ত করেছে। বিভিন্ন জটিল অপারেশন ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার দিক থেকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে এই হাসপাতাল।

হাসপাতালের বিদেশি রোগীদের জন্য আলাদা বিভাগের সিনিয়র ম্যানেজার মোহাম্মাদ জিসান আনসারি বার্তা২৪.কম-কে জানান, আমরা মুম্বাই এয়ারপোর্ট থেকে বিদেশি রোগীদের আনা-নেওয়ার ব্যবস্থা ছাড়াও সার্বিক সুযোগ-সুবিধার দিকে খেয়াল রাখি। শুধু তাই নয়, মুম্বাইয়ের অর্ধেক খরচে আমরা একই মানের চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকি। তাছাড়া, মুম্বাইয়ের চেয়ে ভিড়, ঝামেলা, জীবনযাত্রার খরচ ও চিকিৎসা ব্যয় কম বলে ভারতের ও বিদেশের রোগীরা সায়াদ্রি হাসপাতালকে বেছে নিচ্ছেন।

মোহাম্মাদ জিসান আনসারি বলেন, আমরা এখানে চিকিৎসা সেবা পেতে আগ্রহীদের জন্য অনলাইনে নির্ভুল রোগ নির্ণয়, সঠিক পরামর্শ প্রদান ও স্বল্প ব্যয়ে চিকিৎসা প্রাপ্তিতে সর্বোত্তম সেবা প্রদান করি। যে কেউ চিকিৎসা সংক্রান্ত মতামত ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জানতে হোয়াটসআপ নম্বরে (+91 77680 03770) এবং ইমেইলে ([email protected] ; [email protected]) যোগাযোগ করলে আমরা সহযোগিতা করে থাকি।

   

এক ঘরেই তিন বলী



তাসনীম হাসান, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম ব্যুরো
দুই ছেলের সঙ্গে খাজা আহমদ বলী/ছবি: আনিসুজ্জামান দুলাল

দুই ছেলের সঙ্গে খাজা আহমদ বলী/ছবি: আনিসুজ্জামান দুলাল

  • Font increase
  • Font Decrease

চুল থেকে দাড়ি-সবই সফেদ। হাঁটাচলায় মন্থর। স্বাভাবিকভাবেই প্রবীণের বয়সটা আঁচ করা যায় প্রথম দেখাতেই। কিন্তু তার ষাটোর্ধ্ব বয়সটা যেন কেবল ক্যালেন্ডারের হিসাব। বয়স যতই ছোবল বসানোর চেষ্টা করুক না কেন-তিনি যেন এখনো ২৫ এর টগবগে তরুণ। সেই বলেই তো ফুসফুসের রোগবালাইকে তুড়ি মেরে ঐতিহাসিক আবদুল জব্বারের বলীখেলা এলেই হাজির হয়ে যান রিংয়ে। এক দুবার নয়, এবার কিনা পূর্ণ হলো সুবর্ণজয়ন্তী!

চট্টগ্রামের অন্যতম আবেগের ঠিকানা ঐতিহাসিক এই বলীখেলার বড় বিজ্ঞাপন হয়ে ওঠা এই বলীর নাম খাজা আহমদ বলী। ৫০ বছর ধরে বলীখেলায় অংশ নিয়ে দর্শকদের আনন্দ দিয়ে যাওয়া এই বলীর এখন পড়ন্ত বয়স। ফুসফুসে বাসা বেঁধেছে রোগ। কানেও শোনেন কম। খাজা আহমদ বুঝে গিয়েছেন, তার দিন ফুরাচ্ছে। কিন্তু তিনি যে বলীখেলার স্মৃতি থেকে সহজেই মুছে যেতে চান না। সেজন্যই উত্তরসূরী হিসেবে এরই মধ্যে গড়ে তুলেছেন নিজের দুই ছেলেকে। বাবার পাশাপাশি দুই ভাইও এখন বলীখেলার নিয়মিত প্রতিযোগী।

খাজা আহমেদ বলীর বাবাও বলীখেলায় অংশ নিতেন। বাবার সঙ্গে বলীখেলায় এসে ১৯৭৪ সালে শখের বসে খেলতে নামেন খাজা আহমেদও। বয়স তখন ১২ বছরের আশপাশে। সেই শুরু, আর কোনোদিন মিস করেননি বলীখেলায় অংশ নেওয়া। একবার চ্যাম্পিয়নের গৌরবও অর্জন করেছিলেন। বহু বছর ধরে খাজা আহমেদ বলী ও সত্তরোর্ধ্ব মফিজুর রহমানের ‘বলীযুদ্ধ’ জব্বারের বলীখেলার অন্যতম আকর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবে এই দ্বৈরথ হয়তো আর দেখা যাবে না। দুই বছর আগে উৎপত্তি হওয়া ফুসফুসের রোগটা ইদানিং যে খাজা আহমদকে বেশিই ভোগাচ্ছে। সেজন্য গতবছর অবসরের ঘোষণাও দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এবার দুই ছেলেকে নিয়ে বলীখেলায় এসে আবেগ সামলাতে পারেননি খাজা আহমেদ। ছেলেদের সঙ্গে নিজেও নেমে পড়েন রিংয়ে। সেজন্য আরও একবার মফিজুর রহমান-খাজা আহমেদের লড়াই দেখল হাজারো দর্শক। যদিওবা যৌথ বিজয়ী ঘোষণা করে দুজনের মুখেই হাসি ফুটিয়েছেন রেফারি।

প্রতিপক্ষ মফিজুর রহমানের সঙ্গে বলী-যুদ্ধে খাজা আহমদ

কেন অবসর ভাঙলেন এমন প্রশ্নে হাসি খেলা করে যায় খাজা আহমেদ বলীর মুখে। বলতে থাকেন, ‘বয়সের কারণে শরীর দস্ত। ফুসফুসও ঠিকঠাক কাজ করছে না। সেজন্য অবসর নিয়েছিলাম। কিন্তু বলীখেলায় আসার পর দেখলাম দর্শকেরা সবাই অনুরোধ করছেন। সেজন্য মন বলল, না খেললে দর্শকদের প্রতি অন্যায় হবে। আর আবেগ ও ভালোবাসার কাছে বয়স-রোগ পেরেছে কবে?’

তবে এখানেই সব শেষ, বলে দিয়েছেন খাজা আহমেদ বলী। বলেছেন, ‘বয়স হয়ে গেছে। মনে হয় না আর খেলতে পারব। অসুখটা বেশি যন্ত্রণা দিচ্ছে। সেজন্য মনে মনে মেনে নিয়েছি এটাই আমার শেষ অংশগ্রহণ। বাকিটা আল্লাহর হাতে।’

তিন ছেলে ও এক মেয়ের বাবা খাজা আহমদের বাড়ি চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গায়। কৃষিকাজ করেই চলে সংসার। তবে বলীখেলা এলে সব কাজ বাধ। কয়েকদিন ধরে চলে প্রস্তুতি। নিজের স্মৃতি ধরে রাখতে এরই মধ্যে খাজা আহমেদ নিজের দুই ছেলেকে গড়ে তুলেছেন বলী হিসেবে। ২০১২ সাল থেকে বলীখেলায় নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন তার বড় ছেলে মো. সেলিম। গত বছর থেকে যোগ দিয়েছেন ছোট ছেলে মো. কাইয়ুমও। এখন বলীখেলার আগে দুই ছেলেকে নিয়ে চলে খাজা আহমদের প্রস্তুতি।

জানতে চাইলে সেলিম বলেন, ‘বাবার কাছ থেকে আমরা বলীখেলা শিখেছি। বয়সের কারণে বাবা এখন অসুস্থ। হয়তো আর খেলা হবে না। সেজন্য তার উত্তরসূরী হিসেবে আমরা বলীখেলায় অংশ নেব সামনের দিনগুলোতে। এটা শুধু পরিবারের বলীর প্রজন্ম ধরে রাখার জন্য নয়, তরুণদের মাদক-সন্ত্রাসী কার্যক্রম থেকে দূরে রাখতে উদ্বুদ্ধ করার উদ্যোগও।’

বাবাকে পাশে রেখে একই কথা বললেন ছোট ছেলে মো. কাইয়ুমও। বলেন, ‘হয়তো বাবা আর খেলবেন না। তবে তিনি না খেললেও যতদিন বেঁচে থাকবেন বলীখেলা দেখতে আসবেন। রিংয়ের নিচে দাঁড়িয়ে আমাদের উৎসাহ দিয়ে যাবেন।’

ছেলের কথা শুনে আবেগ খেলে যায় খাজা আহমেদ বলীর মনে। কাঁধের গামছাটা হাতে তুলে নিয়ে চোখ মুছতে মুছতে বললেন, ‘না খেললেও যতদিন বাঁচি এখানে, এই বলীর মাঠ লালদীঘি ময়দানে ছুটে আসব। এটা থেকে দূরে থাকতে পারব না।’

খাজা আহমেদ যখন কথা বলছিলেন দূরে কোথাও তখন মাইকে বাজছিল, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেই অমর গান। হেমন্ত মুখোপাধ্যায় অক্লান্ত গলায় গেয়ে চলেছেন, যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে, আমি বাইব না মোর খেয়াতরী এই ঘাটে...

;

চাকরি ছেড়ে বসের সামনেই ঢোল বাজিয়ে নাচলেন যুবক!



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

নিত্যদিনের অফিসের কর্মপরিবেশে অনেকের মধ্যেই 'বিরক্তি' চলে আসে। তবুও ধৈয্য নিয়ে সব সহ্য করে টিকে থাকার জন্য চালিয়ে যান লড়াই। তবে এ যাত্রায় সকলের দ্বারা টিকে থাকা সম্ভব হয় না। অফিসের 'বিষাক্ত' কর্মপরিবেশে অনেকেই ভোগেন মানসিক সমস্যায় কিংবা ব্যক্তিজীবনে। এমন পরিবেশ থেকে বাঁচতে একেক জন একেক পন্থা অবলম্বন করে থাকেন।

তবে অনিকেত নামের এক যুবক এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে যা করেছেন নেট দুনিয়ায় তা রীতিমতো ভাইরাল। এসব থেকে মুক্তি পেতে চাকরিটাই ছেড়ে দিয়েছেন এই যুবক। এতেই ক্ষান্ত হননি তিনি, বসের সামনেই ঢাকঢোল বাজিয়ে নেচে উদযাপন করেছেন এমন মুহূর্তের।

ঘটনাটি ভারতের পুনে রাজ্যের। অনিকেত নামের ওই যুবক বিক্রয় সহযোগী হিসেবে চাকরি করতেন।

তার এমন উদযাপনের একটি ভিডিও ইন্সটাগ্রাম শেয়ার করেছেন অনীশ ভগত।

ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, গত তিন বছর ধরে এই কোম্পানির সাথে কাজ করেও বেতন খুব একটা বাড়েনি। এছাড়াও অফিসের বসের দ্বারাও তাকে বিভিন্ন সময়ে অপমানিত হতে হয়েছে।

তাই তার কাজের শেষ দিনে বন্ধুরা অফিসের বাইরে ঢোল নিয়ে জড়ো হয়েছিলেন এবং নেচেছিলেন। ভিডিওতে দেখা গেছে, এ ঘটনায় তার বস অনেক উত্তেজিত হয়েছেন। পাশাপাশি তার বস লোকজনকে ধাক্কা দিয়েছেন এবং চিৎকারও করেছেন।

ভিডিওটির ক্যাপশনে ভগত লিখেছেন, আমি মনে করি আপনারা অনেকেই এর সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে পারবেন। আজকাল বিষাক্ত কাজের সংস্কৃতি খুব বেশি দেখা যায়। সম্মান এবং অধিকারের অভাব খুবই সাধারণ। অনিকেত তার পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। আমি আশা করি এই গল্প মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে।

পোস্ট করা ভিডিওটি এক মিলিয়নেরও (১০ লাখের বেশি) বেশি ভিউ পেয়েছে। পোস্টটিতে অসংখ্য লাইক ও কমেন্টও রয়েছে।

একজন ইন্সটাগ্রাম ব্যবহারকারী লিখেছেন, 'আমি জানি না কেন এটি আমাকে এত সন্তুষ্ট করেছে।'

আরেকজন লিখেছেন, 'নাচটি আমাকে অন্য মাত্রার তৃপ্তি দিয়েছে।'

'আপনি সত্যিই আমার জীবনে দেখা সবচেয়ে ইতিবাচক এবং উত্সাহী ব্যক্তি'- তৃতীয় একজন ঠিক এভাবেই নিজের অনুভূতি জানিয়েছেন।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস 

;

অভয়ারণ্যে মানুষ যখন বন্দিখাঁচায়



প্রমা কোয়েল, ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

চিড়িয়াখানা, নানানরকম পশুপাখি ও প্রাণীর বন্দিশালা। কেবল রং-বেরঙের চিড়িয়াই নয়; বাঘ, সিংহ, ভালুক, বানর, গণ্ডারসহ কত বন্যপ্রাণীই না খাঁচায় বন্দি থাকে!

চিড়িয়াখানায় রাখতে বন্য প্রাণীদের প্রকৃতির স্বাধীন জীবন থেকে ছিনিয়ে আনা হয়। তাদের খাঁচায় বন্দি করা হয় যেন, মানুষ তাদের দেখে আনন্দ পায়। অনেক প্রাণীর জন্ম থেকে মৃত্যু অবধি খাঁচাতেই কেটে যায়।

ছোট থেকে বড় সব বয়সের মানুষই চিড়িয়াখানায় ঘুরতে যেতে পছন্দ করেন। শিশুরা না হয় অবুঝ! তবে যারা প্রাপ্তবয়স্ক তারাও চিড়িয়াখানায় এই বন্দি প্রাণীদের জীবনকে গভীরভাবে অনুধাবন করতে পারেন না।

এশিয়ার বড় দেশ চীনে রয়েছে, এক অদ্ভুত চিড়িয়াখানা। চংকিংয়ে অবস্থিত সেই চিড়িয়াখানার নাম ‘লেহে লেদু বন্যপ্রাণী চিড়িয়াখানা’। একে ‘রিভার্স জু’ (বিপরীত চিড়িয়াখানা) বলেও ডাকা হয়।

এখানেও মানুষ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে পশু দেখতে আসেন। তবে একেবারেই ভিন্ন উপায়ে। মূলত, একটি খাঁচা রয়েছে, যেখানে মানুষদের সেই খাঁচায় পুরা হয়। তারপর সেই খাঁচাবন্দি মানুষদের নিয়ে রাখা হয়, অভয়ারণ্যে। সেখানে বন্য প্রাণীরা মানুষের খাঁচার চারপাশে অবাধে ঘুরতে থাকে। চিড়িয়াখানায় বন্দি প্রাণীদের বন্দিজীবনের এক প্রতীকী দৃশ্য!

অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় মানুষদের জন্য এটি এক নতুন অভিজ্ঞতা!

অভয়ারণ্যে খাঁচায় বন্দি মানুষ, ছবি-সংগৃহীত

খুব কাছে থেকে হিংস্র বন্যপ্রাণীদের মুক্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যেমন লোমহর্ষক, ঠিক তেমনই আতঙ্কজনকও হতে পারে। বিপরীতধর্মী এই চিড়িয়াখানাটি সবার জন্য প্রথম উন্মুক্ত করা হয়, ২০১৫ সালে। তখন বিশ্বের সংবদমাধ্যমের শিরোনাম কেড়েছিল এ চিড়িয়াখানাটি।

একটি শক্ত লোহার খাঁচাবেষ্টিত দর্শনার্থীদের একটি ট্রাকে তুলে অভয়ারণ্যে রেখে দেওয়া হয়। সেখানে তাদের ঘিরে ধরে ঘুরতে থাকে বাঘ, ভালুক, সিংহ ইত্যাদি হিংস্র প্রাণী।

এ বিষয়ে চিড়িয়াখানার প্রধান চ্যান লিয়াং বলেন, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা রক্ষার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। খাঁচার ফাঁকা অংশ দিয়ে হাতের আঙুলও বের না করার নির্দেশনা দেওয়া থাকে।

তবে বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টিকারী এই চিড়িয়াখানাটি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে অনেক। এর নৈতিকতা নিয়ে অনেকে প্রশ্নও তুলেছেন।

অনেকে মনে করেন, এরকম ব্যবস্থাপনায় দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। কারণ, শিকারী প্রাণীগুলো প্রচণ্ড হিংস্র। তাই, সে কারণে যে কোনো সময় বিপজ্জনক ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

আবার এরকম চিন্তাভাবনার প্রশংসাও করেছেন অপর একটি পক্ষ। তাদের বক্তব্য, পৃথিবীটা কেবল মানুষদের নয়। প্রকৃতিতে সব প্রাণীদের একটা ভারসাম্য থাকা প্রয়োজন। তাদের বন্দি করে রাখা মানুষের উচিত নয়। কারণ, মুক্ত প্রকৃতিতে বিরাজ করার অধিকার সব প্রাণীরই রয়েছে।

তাদের মন্তব্য, আমরা প্রাণীদের আবাসস্থল বনজঙ্গল সব উজাড় করেছি। সে কারণে তাপমাত্রাও অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। আবার প্রাণীদের বন্দি রেখে তাদের জীবন চরম দুর্বিষহ করে তুলি।

চাইলে এবং সুযোগ পেলে এই ধরনের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা নিতে চিড়িয়াখানাটি ঘুরে আসতে পারেন বৈকি!

তথ্যসূত্র: এনিমেল অ্যারাউন্ড দ্য গ্লোব

;

৫ বছরের শিশুর বিস্ময়কর প্রতিভা!



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বয়স সবে ৫ কিংবা ৬। এই বয়সেই তার প্রতিভা দেখে অবাক হবে যে-কেউ!

গত বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সের (সাবেক টুইটার) একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এখন পর্যন্ত ভিডিওটি ১ মিলিয়নের (১০ লাখের বেশি) বেশি মানুষ দেখেছেন। খবর এনডিটিভি। 

ভিডিওতে রিলি নামের ওই শিশুটিকে প্রথমে শ্বাস নিতে দেখা যায়। তারপর সে একটি শক্তিশালী গর্জন দিয়ে শ্বাস ছাড়ে। ওই গর্জনটি হুবুহ সিংহের গর্জনের অনুরূপ।

রিলির মা অ্যামি ভিডিওটি এক্সে শেয়ারের পরই তা ভাইরাল হয়ে যায়। শিশুটির এমন নিখুত দক্ষতা দেখে মুগ্ধ দর্শকরা। ভিডিওটিতে অনেকেই নিজেদের অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছেন।

এক্স ব্যবহারকারী একজন লিখেছেন, এত অল্প বয়সে এমন বাস্তবসম্মত গর্জন তৈরি করার রিলির ক্ষমতার বিস্ময় প্রকাশ করে।

আরেকজন লিখেছেন, শিশুরা খুব দ্রুত শিখে। তার এমন প্রতিভা সত্যিই অবাক করার মতো।

;