বন্ধুত্ব থেকে বিয়ে, প্রেমের পর্ব ছিল না: সালহা নাদিয়া



মাসিদ রণ, সিনিয়র নিউজরুম এডিটর, বার্তা২৪.কম
বিয়ের সাজে সালমান ও নাদিয়া

বিয়ের সাজে সালমান ও নাদিয়া

  • Font increase
  • Font Decrease

ছোটপর্দার জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী সালহা খানম নাদিয়া গতকাল (২১ জুন শুক্রবার) বিয়ে করেছেন। পাত্র সালমান আরাফাতও একই পেশার মানুষ। এরইমধ্যে বিয়ের অনেক ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করেছেন এই নব দম্পতি। কখন কিভাবে বিয়েটা হলো এ নিয়ে প্রথমবার গণমাধ্যমের (বার্তা২৪.কম) সঙ্গে কথা বলেছেন নাদিয়া। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মাসিদ রণ

সুদর্শন বর আর সুন্দরী কনেকে দারুণ মানিয়েছে

অভিনন্দন, নতুন জীবন শুরু করলেন...


ধন্যবাদ। আসলেই বিয়ের পর জীবনটা নতুন মনে হচ্ছে। এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না যে আমি বিবাহিতা, যেন স্বপ্নের ঘোরে আছি। মাত্রই ঢাকায় ফিরলাম (আজ দুপুরে)। ক’টা দিন বলতে গেলে নির্ঘুম কেটেছে বিয়ের নানা আয়োজন নিয়ে। গায়ে হলুদ, সঙ্গীত, হলি খেলা- কিছুই বাদ দেইনি। তবে সবটাই হয়েছে ছোট্ট পরিসরে। এখন নিজের বাসায়, একটু আরাম করে ঘুমাবো।

গতকাল চার হাত এক হয় তাদের

সরাসরি নিজের বাড়িতে আসলেন, শ্বশুরবাড়িতে গেলেন না?


না, আসলে আমাদের তো কেবল আকদ হয়েছে। নিকাহ, গায়ে হলুদ ও সঙ্গীতের অনুষ্ঠানটি করেছি ঢাকার বাইরের একটি রিসোর্টে। আমার একটু ইচ্ছে ছিল ডেস্টিনেশন ওয়েডিং করার। কিন্তু পরিবারের সবাইকে নিয়ে দেশের বাইরে যাওয়াটা মুশকিল বলে দেশের মধ্যেই ডেস্টিনেশন ওয়েডিংয়ের ফিলটা নিলাম। একেবারে দুই পরিবারের ক্লোজ আত্মীয়-স্বজনই ছিলেন অনুষ্ঠানে।

দুই পরিবারের সঙ্গে বর-কনে

যেহেতু এখন কেবল নিকাহ পর্ব সম্পন্ন হয়েছে তাই এখনি আমি শ্বশুরবাড়িতে যাইনি। এখনও আমরা আগের মতোই যার যার বাসায় থাকছি। এরমধ্যে আসা-যাওয়া, ঘোরাঘুরি হবে। কিন্তু বছরের শেষ নাগাদ রিসেপশন অনুষ্ঠান করার পর একসঙ্গে থাকার জায়গার বন্দোবস্ত করব। ইচ্ছে আছে রিসেপশনে আমার সব আত্মীয়-স্বজন এবং শোবিজের বন্ধু বান্ধব, সহকর্মীদের আমন্ত্রণ জানাবো।

হোলির রঙে নাদিয়া

ঘোরাঘুরির কথা বলছিলেন। হানিমুন করতে কোথায় যাচ্ছেন?


এখন আসলে ভিসা করতে গেলে দেরী হয়ে যাবে। বিয়ে যেহেতু ছোট্ট পরিসরে হয়েছে তাই হানিমুনটাও সেভাবেই করতে চাই। বড় অনুষ্ঠান করার পর সবকিছু বড়ভাবে করবো। তাই এখন দেশের মধ্যেই হানিমুন করার পরিকল্পনা করেছি। সেক্ষেত্রে দুজন মিলে কক্সবাজার যাবো শিগগিরই। তাছাড়া কক্সবাজার আমর খুব প্রিয়, সালমানেরও। আমি এতোবার শুটিংয়ে কক্সবাজার গেছি, কিন্তু মন ভরে না, আরও যেতে ইচ্ছে করে। পৃথিবীর সর্ববৃহৎ সমূদ্র সৈকত বলে কথা!

হানিমুনে কক্সবাজারে যাচ্ছেন এই নব দম্পতি

আপনি আর আপনার স্বামী তো বিজনেস পার্টনার। সেখান থেকেই কী বিয়ের দিকে গড়ালো সম্পর্ক?


না, বিজনেস পার্টনারতো অনেক পরের কথা। তার আগে থেকেই সে আমার কলিগ, এরপর ভালো বন্ধু হয়ে ওঠা এবং এক পর্যায়ে আমাদের দুই পরিবারের মধ্যে দারুণ সখ্যতা গড়ে ওঠা- এভাবেই সম্পর্কটা এ পর্যন্ত গড়িয়েছে। 

শুটিং সেটে প্রথম পরিচয় দুজনের

সহজ করে বলতে গেলে, আমরা দুজনই যেহেতু শোবিজের সঙ্গে জড়িত, ফলে সহশিল্পী হিসেবেই শুটিং সেটে সালমানের সঙ্গে প্রথম পরিচয়। এরপর আস্তে আস্তে বন্ধুত্ব, তারপর বিজনেস পার্টনার, এরপর বিয়ে।

বিয়ের পীড়িতে নাদিয়া ও সালমান

বন্ধুত্ব থেকে সরাসরি বিয়ে? মাঝে তাহলে প্রেমের অধ্যায় ছিল না বলছেন?


একদমই তাই বলছি। কারণ আমরা কখনো প্রেম করিনি। এ কথা হয়তো বললে কেউ বিশ্বাসই করবেন না, কিন্তু আসল সত্য এটাই। বলছিলাম না যে, আমাদের বন্ধুত্ব এতোটাই গাঢ় ছিল যে, একটা সময় দুই পরিবারের সবাই আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন। তার বাবা মার সঙ্গে আমার বাবা মাও কানেক্টেড হয়ে পড়েছিলেন।

পরিবারের সঙ্গে হোলি খেলছেন নাদিয়া ও সালমান

আমাকে আসলে অনেক বছর ধরেই বিয়ের জন্য জোরাজুরি করছিলো পরিবার থেকে। কিন্তু আমি বিয়ে নিয়ে বরাবরই খুব সচেতন ছিলাম। কখনোই চাইতাম না, কারও চাপে পড়ে বা মোহে পড়ে বিয়ে করে কোন ঝামেলায় জড়িয়ে পড়তে। কিন্তু সালমান আমার ভীষণ ভালো বন্ধু হওয়ায় আমাদের বিয়ের কথা যখন দুই পরিবার থেকে আসলো তখন আমার আছে এটা কমফোর্ট জোন মনে হয়েছে। আমার বাবা মা বলছিলেন, এতোদিন অনেক বাহানা করেছে, এবার তোমার মানসিকতার সঙ্গে মেলে এমন ছেলে পেয়েছি, তাদের পরিবারও খুব ভালো, তোমরা একে অপরের কেয়ার করো, এখানেই বিয়েটা করো। সালমানকেও তার বাবা মা একই কথাই বলেছেন হয়তো। পরবর্তীতে আমরা রাজী হয়ে যাই।

বিয়ের সাজে সালমান ও নাদিয়া

আপনি অনেক বছর ধরে প্রতিষ্ঠিত একজন তারকা। আর আপনার স্বামী কেবল শোবিজে নিজের জায়গা তৈরী করার লড়াই করছেন। এ বিষয়টি কী কখনোই সম্পর্কের মধ্যে আসেনি?


আমি অভিনেত্রী বা মডেল, সেটি তো আমার পেশা। তার আগে তো আমি একজন মানুষ। তাছাড়া আমি নিজেকে কখনোই সেলিব্রেটি মনে করি না। আমি সাধারন একটি মেয়ে যে পরিবার নিয়ে থাকতে সবসময় পছন্দ করে। আমি কখনোই চাইনি আমার স্বামী বিলিয়নিয়ার হোক। মোটকথা টাকা পয়সার পেছনে আমি কখনোই ছুটিনি। নিজের স্বাধীনতা রেখে কাজ করেছি, অতোটুকুই উপার্জন করেছি যতোটুকু একটি সুন্দর জীবনের জন্য দরকার।

হোলি খেলছেন নাদিয়া ও সালমান

তাই সব সময় জীবনসঙ্গী হিসেবে একজন ভালো ও শিক্ষিত মানুষ চেয়েছি। আর চেয়েছি এমন একজনকে জীবনে পাশে চাই যার সঙ্গে বন্ধুর মতো চলতে পারবো, কোনকিছু বলতে গেলে ভাবতে হবে না যে সে কি ভাববে? কিংবা বিয়ের পর নিজেকে বদলে অন্য একটা মানুষ হয়ে যেতে হবে এমন পরিবারও আমি চাইনি।

হোলি খেলছেন নাদিয়া ও সালমান

সালমানকে এখন পর্যন্ত যতোটা দেখেছি তাতে তাকে আমার খুব ভালো মনের একজন মানুষ মনে হয়েছে। সে একজন শিক্ষত ছেলে, মাস্টার্স কমপ্লিট করেছে। শোবিজে হয়তো অল্পদিন কাজ করছে, কিন্তু এর আগে সে অন্য পেশায় দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছে। এছাড়া ফরিদপুরে তাদের পারিবারিক ব্যবসায়ও সে সময় দিয়ে থাকে। তার পরিবারও ভীষণ আন্তরিক। আমার শ্বশুর শাশুড়ি খুব সংস্কৃতিমনা। তারা আমার কোন ভালো নাটক দেখলে ফোন করে জানান। আমরা একসঙ্গে ঈদে আমর নাটক দেখেছি। জীবনটা ছোট্ট, ছোট ছোট আনন্দ নিয়ে এভাবেই যাতে কেটে যায় সেটাই একমাত্র চাওয়া।

রিচা-আলীর ঘরে এলো ফুটফুটে কন্যা



বিনোদন ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
তারকা দম্পতি আলী ফজল ও রিচা চড্ডা

তারকা দম্পতি আলী ফজল ও রিচা চড্ডা

  • Font increase
  • Font Decrease

বাবা-মা হলেন বলিউডের জনপ্রিয় তারকা দম্পতি আলী ফজল ও রিচা চড্ডা। আজ এক যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে অভিনেত্রী রিচা ও তার স্বামী অভিনেতা আলী ফজল জানান, ‘আমরা আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, গত ১৬ জুলাই আমরা এক সুস্থ কন্যা সন্তানের মা-বাবা হয়েছি। আমাদের দুই পরিবারও খুব খুশি। ভালোবাসা ও আশীর্বাদ দেওয়ার জন্য আমাদের শুভাকাক্সক্ষীদের অসংখ্য ধন্যবাদ।’

২০২২-এ আলি ফজলকে বিয়ে করেন রিচা। চলতি বছরের গোড়ার দিকে সন্তানধারণের খবর ঘোষণা করেছিলেন অভিনেত্রী।

তারকা দম্পতি আলী ফজল ও রিচা চড্ডা

রিচাকে সর্বশেষ দেখা যায় সঞ্জয়লীলা বানসালি পরিচালিত ওয়েব সিরিজ ‘হীরামন্ডি’তে। এই সিরিজের প্রচারণায় গর্ভবতী অবস্থাতেই একাধিকবার ক্যামেরার সামনে আসেন রিচা। ‘হীরামন্ডি’তে রিচার অভিনয় দারুণ প্রশংসা কুড়ায়। অন্যদিকে চলতি মাসেই মুক্তি পেয়েছে আলী ফজল অভিনীত আলোচিত সিরিজ ‘মির্জাপুর ৩’।

;

কোটা সংস্কারের পক্ষে রাজপথে নামলেন আরশ খান



মেহনাজ খান, বার্তা২৪.কম
কোটা সংস্কারের পক্ষে রাজপথে আরশ খান

কোটা সংস্কারের পক্ষে রাজপথে আরশ খান

  • Font increase
  • Font Decrease

সাধারন শিক্ষার্থীদের কোটা আন্দোলনে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ একাত্ব ঘোষণা করছেন। শোবিজ তারকারা সমাজে খুব সহজে প্রভাব বিস্তার করেন। তাদের একটি কথা কিংবা বার্তা মানুষকে দ্রুত অনুপ্রেরণা দেয়। তাই শোবিজ তারকারা দেরীতে হলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের বার্তা তুলে ধরছেন। তবে সরাসরি আন্দোলনের মাঠে শিক্ষার্থীদের বাইরে কাউকে দেখা যায়নি।

আজ অল্প হলেও দু-এক শোবিজ তারকাকে রাজপথে দেখা গেছে আন্দোলনকারীদের সারিতে দাঁড়াতে। তাদের মধ্যে ইউটিউবার সালমান মুক্তাদির আঘাতও পেয়েছেন। এছাড়া দেখা গেছে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সৌভিক আহমেদ ও ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা আরশ খানকে।

কোটা সংস্কারের পক্ষে রাজপথে আরশ খানসহ নাটকের অভিনেতা কলাকুশলীরা

আজ দুপুরে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সামনে পোস্টার হাতে একসঙ্গে দেখা যায় আরশ খান, নির্মাতা ইমরাউল রাফাত, তপু খানসহ আরও কয়েকজন নাটকের অভিনেতা কলাকুশলীকে। সে সময় আরশ খান বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘‘আমি একজন থিয়েটারকর্মী। আমার অভিনয়জীবন শুরু মঞ্চে। লোকনাট্য দলের ‘মুজিব মানে মুক্তি’ নাটকে আমি বঙ্গবন্ধুর চরিত্রে অভিনয় করেছি। ৩০০ তম শো পর্যন্ত আমি ছিলাম গ্রুপের সাথে। আমি তখন শিশুশিল্পী। প্রথম ১০০ তম শো পর্যন্ত বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসেনি। সে সময় এই নাটকে অভিনয় করতে কতোটুকু ঝুঁকির সম্মুখীন হতে হয়েছে তা আমি জানি, আমার পরিবার জানে, লোকনাট্য দলের সদস্যরা জানে। এই নাটক করে আমি বা আমার পরিবার ২ টাকা কোনোদিন ঘরে আনিনি। নাটকে অভিনয় করতে করতে কখন বঙ্গবন্ধুকে ভেতরে ধারন করে ফেলেছি তা বলতে পারবো না। কিন্তু তার আদর্শে বেড়ে ওঠা আমি আজ অনেক কিছুই নিতে পারছি না।’

আরশ আরও বলেন, ‘আমার স্কুল, আমার কলেজ, আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের জুনিয়াররা তাদের দাবি নিয়ে আজ রাস্তায়। তাদের উপর যে আক্রমণ তা কোনোভাবেই একজন মানুষ হিসেবে, একজন শিল্পী হিসেবে, একজন ছাত্র হিসেবে আমি মেনে নিতে পারছি না। আমি খুব সাধারণ পরিবারের ছেলে। আমার মা একজন শিল্পী, আমার বোনও একজন শিল্পী। সাধারণ আরশকে অসাধারণ বানিয়েছেন এই ছাত্ররা, তাদের মা, তাদের বাবা, তাদের পরিবার, দেশের সাধারণ জনগণ। এমন দিনে আমার পক্ষে আর ঘরে বসে থাকা সম্ভব না। তাই আমি খালি হাতে বেরিয়ে পড়েছি। কারণ আমার আন্দোলন কোনো দলের বিরুদ্ধে না। আমার চাওয়া একটাই ‘আর কোনো ছাত্র বা ছাত্রী রক্তাক্ত হবে না’। আমি জানি না কাল আমার সাথে কি ঘটবে, আমি জানি না পরবর্তীতে কি ঘটবে। কিন্তু আমি জানি এই দেশ আমার, দেশের মানুষ আমার। খেটে খাওয়া মানুষ আমি। শূণ্য থেকে উঠে এসেছি আবার হয়তো শূণ্যে মেলাবো কিন্তু আর কোনো আবু সাইদের মৃত্যুর স্বাক্ষী হতে চাই না।’’

আরশ খান

;

কোটা সংস্কার হবার পর পুনরায় সরকারের পাশে দাঁড়াবো: মেহজাবীন



মাসিদ রণ, সিনিয়র নিউজরুম এডিটর, বার্তা২৪.কম
মেহজাবীন চৌধুরী

মেহজাবীন চৌধুরী

  • Font increase
  • Font Decrease

টিভি নাটকের সবচেয়ে জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরীও এবার কঠোর কণ্ঠে রুখে দাঁড়িয়েছেন ছাত্রদের প্রতি চলমান সহিংসতার বিরুদ্ধে। তুলে ধরেছেন কোরআন-হাদিসের তথ্য। আজ (বৃহস্পতিবার) সোশ্যাল হ্যান্ডেলে লিখেছেন দীর্ঘ এক লেখা। মেহজাবীন চৌধুরীর পুরো লেখাটি তুলে ধরা হলো-

ছোটবেলা থেকে জেনেছি, পরিবার-সমাজ-রাষ্ট্র নারীর গায়ে হাত তোলা সমর্থন করে না। আমাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থও কখনও নারীর প্রতি সহিংসতা শেখায়নি। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমরা নারীদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করো’। হাদিসে বলা হয়েছে, ‘তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক ভালো মানুষ তারাই, যারা নারীদের সঙ্গে সদাচরণ করে’।

মেহজাবীন চৌধুরী

অথচ আমাদের দুর্ভাগ্য, গণমাধ্যম বা সামাজিকমাধ্যমে আজকাল এর ভিন্ন চিত্র, মর্মান্তিক সব ভিডিও দেখতে হচ্ছে। একজন নয়, দুইজন নয়, আমারই অসংখ্য বোনের ওপর নির্বিকার ভঙ্গিতে হামলা চালানো হচ্ছে, রক্তাক্ত করা হচ্ছে। কী নির্মম, কী নৃশংস! ন্যায়-অন্যায়ের প্রসঙ্গে পরে আসছি, তবে আমার অবস্থান থেকে বলবো: সর্বোচ্চ কোনও যুক্তির অজুহাতেও নারীর প্রতি এই সহিংসতা মেনে নেয়া যায় না। ‘না’ মানে ‘না’; কক্ষনো না। ছাত্র-ছাত্রীরা কি-ই বা করেছিল? তারা তাদের অধিকারের ব্যাপারে সোচ্চার হয়েছিল। কোটা সংস্কারের দাবি তুলেছিল। তাই তো? একটি গণতান্ত্রিক দেশে স্বাধিকারের দাবি যে কেউ তুলতে পারে। কিন্তু তাই বলে নারীর গায়ে হাত তোলা, ‘আবু সাঈদ’-এর মতো সম্ভাবনাময় তরুণকে হত্যা করা-এসব কি সভ্যতার পর্যায়ে পড়ে? সমাধানের অন্য কোনও উপায় কি ছিল না? গুলি কেন করতে হলো?

মেহজাবীন চৌধুরী

পরিস্থিতি হয়তো আজ কিংবা কাল স্বাভাবিক হয়ে যাবে। কিন্তু যে মায়ের বুক খালি হলো, যে পরিবারের মুখের হাসি চলে গেল, আমরা কি সেই শূন্যতা অন্য কিছুর বিনিময়ে পূর্ণ করতে পারবো? কক্ষনো না। তাছাড়া ইতিহাস সাক্ষী, শক্তি যত বড়ই হোক, ছাত্র সমাজের ওপর চড়াও হয়ে যুগে যুগে কেউ কখনও কিছুই অর্জন করতে পারেনি। তাহলে কেন এই ব্যর্থ আস্ফালন? মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ কিংবা আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আমরা সবসময়ই বুকের ভেতর লালন করি। আমরা গর্ব করি বীর মুক্তিযোদ্ধারা নিজেদের প্রাণের বিনিময়ে আমাদের একটি স্বাধীন দেশ উপহার দিয়েছিলেন। কিন্তু এই দেশে নিজের মনের ভাব প্রকাশ করা যাবে না, অধিকারের দাবি তোলা যাবে না, সবকিছুর ঊর্ধ্বে যোগ্যতার পরিচয়টাকেই সবচেয়ে বড় করে দেখা যাবে না, প্রশাসনের চাওয়া-পাওয়ার বিরুদ্ধে গেলেই হামলার শিকার হতে হবে, অকাতরে অকাল প্রাণ বিলিয়ে দিতে হবে-এমন বাংলাদেশের স্বপ্ন কি আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধারা দেখেছিলেন? আমার মনে হয় না।

মেহজাবীন চৌধুরী

দ্রব্যমূল্যর ঊর্ধ্বগতি, প্রশ্নপত্র ফাঁস থেকে দুর্নীতি-প্রায় সব ইস্যুতেই তো আমরা চুপ থাকি। রক্ষক ভক্ষক হয়ে গেলেও আমরা নীরবে সয়ে যাই। অপেক্ষা করি, হয়তো একটা না একটা সমাধান আসবে। আজ না হলেও দুদিন পরে আসবে। অন্যান্য ইস্যুতে আমরা সামাজিক মাধ্যমেও এতটা সোচ্চার হই না। তাহলে ইদানীং কেন হচ্ছি? কেন কোটা সংস্কার ইস্যুতে দলমত নির্বিশেষে আমাদের মতো সাধারণ জনগণ সরকারের পদক্ষেপের নিন্দা করছি? কারণ একটাই, কোটা সংস্কার এখন সময়ের দাবি। যত দ্রুত সম্ভব এর সমাধান জরুরি। ভুলে গেলে চলবে না, আমরা এই সাধারণ জনগণই কিন্তু মেট্রো রেল, পদ্মা সেতু, উড়াল সেতু ইত্যাদি সহ সরকারের অনেক যুগান্তকারী সাফল্যে গর্বিত হয়ে হাত তালি দিয়েছিলাম। গালভরা প্রশংসা করেছিলাম। সামাজিক মাধ্যমে সরব হয়েছিলাম। নিশ্চয়ই ছাত্র-ছাত্রীদের দাবি মেনে কোটা সংস্কার হবার পর আমরা পুনরায় সরকারের পাশে দাঁড়াবো। এক পক্ষ হয়ে দেশের সব সমস্যার সমাধান করার জন্য সরকারকে সহযোগিতা করবো। সবাই মিলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবো।

মেহজাবীন চৌধুরী

অর্থাৎ সব কথার শেষ কথা, ছাত্ররা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। দমিয়ে না রেখে তাদের যৌক্তিক দাবিতে সমর্থন দেয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সর্বোচ্চ আদালতের কাছে আমি মেহজাবীন চৌধুরী আকুল আবেদন করছি। আমার বিশ্বাস, আমরা নিরাশ হবো না।

লেখাটি শেষে অভিনেত্রী #SaveBangladeshiStudents হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করেন। সঙ্গে জুড়ে দেন চলমান আন্দোলনের তিনটি ছবির কোলাজ।

;

কোটা আন্দোলনে সশরীরে যোগ দিয়ে আহত সালমান



মাসিদ রণ, সিনিয়র নিউজরুম এডিটর, বার্তা২৪.কম
কোটা আন্দোলনে সশরীরে অংশ নিয়েছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার সালমান মুক্তাদির

কোটা আন্দোলনে সশরীরে অংশ নিয়েছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার সালমান মুক্তাদির

  • Font increase
  • Font Decrease

শোবিজ তারকাদের মধ্যে সর্বপ্রথম কোটা আন্দোলনে সশরিরে অংশ নিয়েছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার সালমান মুক্তাদির। এরইমধ্যে এই তারকার মাস্ক পরা একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। আর সেই ছবি ছড়িতে পড়তে না পড়তেই দারুণ প্রশংসা কুড়াচ্ছেন সালমান।

তবে একটু আগেই সালমানের আরেকটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, এই তারকাকে কয়েকজন মিলে টেক কেয়ার করছেন। কারণ তাকে আক্রমণ করা হয়েছে। কোটা আন্দোলনের সশরীরে অংশ নিতে গিয়েই কিছুটা আহত হয়েছেন তিনি।

কোটা আন্দোলনে সশরীরে অংশ নিয়েছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার সালমান মুক্তাদির

একজন সালমানের সেই ছবিটি পোস্ট করে ফেসবুকে লিখেছেন, ‘‘সো কলড পপুলার ফিগারদের মাঝে সরাসরি মাঠে নেমে আন্দোলনে একাত্ম হতে দেখলাম একমাত্র সালমান মুক্তাদিরকে। বেশিরভাগের কাছে যার পরিচয় ‘অভদ্র ছেলে’’।

সালমান মুক্তাদির সরাসরি মাঠে নেমে আন্দোলনে একাত্ম হওয়ার আগে ফেসবুকেও পোস্ট দিয়েছিলেন। গত ১৬ জুলাই সালমান তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘এমন কোনো ছাত্র আছেন যিনি আক্রান্ত হয়েছেন অথবা হলে ঢুকতে পারছেন না? আমি আপনাদের খেয়াল রাখব। তবে লাখ লাখ মেসেজ বা পোস্টের মধ্যে ফিল্টার করা আমার পক্ষে অসম্ভব। তাই আমার ফ্রেন্ডলিস্টে আপনাদের কোনো মিউচুয়াল ফ্রেন্ড আছে কিনা দেখেন এবং আমাকে নক করেন।’

সালমান মুক্তাদির

তিনি আরও লেখেন, ‘আপনার যদি থাকার জন্য একটি জায়গা প্রয়োজন হয় অথবা আপনার চিকিৎসা সেবা প্রয়োজন হয়, আমি এখানে রয়েছি। এইমাত্র কিছু ভিডিও দেখলাম, যেখানে মানুষ তাদের হলে প্রবেশ করতে পারে না। যদি এটা যথেষ্ট না হয় তাহলে আবার ক্ষমা চেয়ে নিন। আমার সত্যিই হৃদয় ভেঙ্গেছে এবং বিব্রত। আমি সত্যিই জনপ্রিয় হয়েও কোনো কাজে না আসায় লজ্জা বোধ করছি।’

;