‘গোলাম মামুন’-এর মতো কাজ আগে করিনি : সাবিলা নূর



মাসিদ রণ, সিনিয়র নিউজরুম এডিটর, বার্তা২৪.কম
সাবিলা নূর / পোশাক : ট্রেন্ড মার্ট; ছবি : শেখ সাদী

সাবিলা নূর / পোশাক : ট্রেন্ড মার্ট; ছবি : শেখ সাদী

  • Font increase
  • Font Decrease

ওটিটিতে একের পর এক সফল কাজ উপহার দিয়ে চলেছেন নির্মাতা শিহাব শাহীন। সেই নির্মাতার ঈদুল আযহা উপলক্ষ্যে নির্মিত ওয়েব সিরিজ ‘গোলাম মামুন’-এর প্রধান নারী চরিত্রে অভিনয় করেছেন দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী সাবিলা নূর। সিরিজটি এরইমধ্যে (গত ১৩ জুন) হইচই প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেয়েছে। এই সিরিজ ও সমসাময়িক বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন মাসিদ রণ

সাবিলা নূর / পোশাক : ট্রেন্ড মার্ট; ছবি : শেখ সাদী

‘গোলাম মামুন’ চলছে হইচইতে। সিরিজটি নিয়ে কিছু বলুন...


প্রতি ঈদে চেষ্টা করি দর্শককে ভিন্ন ধাচের কাজ উপহার দেওয়ার। এবার ঈদে ‘গোলাম মামুন’ তেমনি একটি কাজ। এটি আমার অভিনয় ক্যারিয়ারে সত্যিই একটি ভিন্নরকম কাজ। আমি নাটক করার ক্ষেত্রেই আজকাল বাচ-বিচার করি। আর ওটিটিতে কাজের সময় সেটা আরও অনেক গুরুত্বের সঙ্গে করি। নাটকে যে ধরনের চরিত্র বা গল্পে কাজ করি সে ধরনের কাজ ওটিটিতেও করব এটা আমি চাই না, কারণ ওটিটিতে দর্শক টাকা খরচ করে কনটেন্ট দেখেন।

সেদিক থেকে বলতে গেলে, নাটকে আমি এখন পর্যন্ত কোন পুলিশ অফিসারের চরিত্রে কাজ করিনি। ‘গোলাম মামুন’ সিরিজেই প্রথমবার পুলিশের চরিত্রে কাজ করেছি। তাই এই কাজটির প্রতি আমার আলাদা এক ধরনের টান কাজ করেছে। তাছাড়া শিহাব শাহীনের মতো নির্মাতার সঙ্গে তো বরাবরই কাজ করতে চাই। কারণ তার নির্মাণে আমি একাধিক সফল নাটকে অভিনয় করেছি। অপূর্ব ভাইয়ার সঙ্গেও তো অনেক কাজের অভিজ্ঞতা আছে। ওটিটিতে এটাই তাদের সঙ্গে প্রথম কাজ। এক ধরনের চ্যালেঞ্জ ছিল কাজটির মধ্যে। এক ধরনের চমকও রয়েছে। সিরিজটি তো এখন দর্শকের জন্য উন্মুক্ত হয়েই গেছে। সবাইকে দেখার আমন্ত্রন জানাচ্ছি।

সাবিলা নূর / পোশাক : ট্রেন্ড মার্ট; ছবি : শেখ সাদী

‘গোলাম মামুন’-এর সাড়া কেমন পাচ্ছেন?


মুক্তির পর অন্তর্জালে দারুণ প্রশংসা কুড়াচ্ছে সিরিজটি, খুব ভালো সাড়া পাচ্ছি। গল্প, নির্মাণ এবং অভিনয়ের প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন দর্শক। আমাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করানোর জন্য অনেকেই অভনয়ের প্রশংসা করছেন।

সাবিলা নূর / পোশাক : ট্রেন্ড মার্ট; ছবি : শেখ সাদী

গণমাধ্যমে এসেছে, এই সিরিজে অপূর্বর নায়িকা শার্লিন ফারজানা। তাহলে আপনি কি করছে এখানে?


আসলে যদি কেউ এ কথা বলে থাকেন তাহলে সেটি ভুল তথ্য! কারণ এখানে গোলাম মামুনের কোন নায়িকা নেই। আসলে সিরিজের গল্পটাই এমন যে নায়ক-নায়িকা থাকার দরকার নেই, সবাই যার যার চরিত্র প্লে করেছেন।

সাবিলা নূর / পোশাক : ট্রেন্ড মার্ট; ছবি : শেখ সাদী

অনেকেই ওটিটিতে কাজ করছেন বলে টিভি নাটক থেকে একদম দূরে সরে যাচ্ছেন। আপনাকেও কি এবারের ঈদে কোন নাটকে দেখা যাবে না?


একদমই আমার ক্ষেত্রে তেমনটি ঘটেনি। আমি নাটকের মেয়ে, নাটক থেকেই দর্শক আমাকে আপন করে নিয়েছেন। ফলে নাটক আমি ছাড়ার প্রশ্নই নেই। আমার কথা হলো, যে মাধ্যমে ভালো গল্প ও চরিত্র পাবো, সেই মাধ্যমেই কাজ করবো। এবার ঈদেও তাই করেছি। গোলাম মামুন-এর শুটিং আগেভাগে শেষ হওয়ায় আমি ঈদের বেশকিছু নাটক করার সুযোগ পেয়েছি। তারমধ্যে একটি নাটকের কথা এরইমধ্যে অনেকে জেনে ফেলেছেন। নাটকটির নাম ‘প্রিন্সেস ডায়না’। পরিচালনা করেছেন নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামুল। পার্থ শেখ নামে একজন নতুন অভিনেতার বিপরীতে কাজ করেছি এই নাটকে। এছাড়া পার্থর সঙ্গে ইমরাউল রাফাতের আরেকটি নাটকে অভিনয় করেছি। ‘সুতো’ নামের সেই নাটকে ইরেশ যাকেরও অভিনয় করেছেন।

জুনায়েদ বোগদাদির সঙ্গে এস আই মজুমদারের একটি নাটক করেছি, নাম ‘দ্বিতীয় আলো’। আবু হুরায়রা তানভীরের সঙ্গে করেছি ‘অর্ধাঙ্গীনি’ নামের একটি নাটক। গুণী অভিনেতা শ্যামল মাওলার সঙ্গে এর আগে আশফাক নিপুণের ‘কষ্টনীড়’ ওয়েব সিরিজে ভাই বোনের চরিত্রে কাজ করেছিলাম। তবে এবারই প্রথম নায়ক-নায়িকা হিসেবে অভিনয় করেছি একটি নাটকে। পরিচালনা করেছেন রাজীব পিয়ালের এই নাটকটির নাম ‘মাকড়শা’।

সাবিলা নূর / পোশাক : ট্রেন্ড মার্ট; ছবি : শেখ সাদী

‘প্রিন্সেস ডায়না’ নাটকের অভিজ্ঞতা কেমন?


এ নাটকে আমি যাত্রাপালার প্রিন্সেসের চরিত্রে কাজ করেছি। ছোটবেলা থেকেই নাচ করে আসছি। অভিনয়ের পাশাপাশি এখনো মঞ্চে নাচটা নিয়মিত করি। তবে যাত্রাপালার এই নাচ আমার জন্য নতুন অভিজ্ঞতা। এটি একটু ভিন্ন আঙ্গিকের নাচ। তারপরও নাচ জানা হিসেবে নতুন নাচের এই মুদ্রা আমাকে বাড়তি সুবিধা দিয়েছে। চরিত্রটির মধ্যে একটা চ্যালেঞ্জ আছে। বাস্তবে আমাদের সমাজে যাত্রাপালার নৃত্যশিল্পী বা নর্তকীর প্রতি গ্রাম্য প্রভাবশালীদের লোলুপ দৃষ্টি থাকে। তারা এই সব নারীকে ভোগবিলাসে ব্যবহার করতে চান। নাটকেও প্রিন্সেস ডায়ানার প্রতি সেই দৃষ্টিভঙ্গি প্রভাবশালীদের আছে। কাজটি করতে এসে নতুন কিছু শিখতে পরেছি। এ ধরনের নতুন গল্পে, নতুন চরিত্রে কাজটি করতে ভালোই লাগছে। নাটকটি চ্যানেল আইয়ের ঈদ অনুষ্ঠানমালায় প্রচারের কথা রয়েছে।

সাবিলা নূর / পোশাক : ট্রেন্ড মার্ট; ছবি : শেখ সাদী

নায়ক ছাড়া একটি নাটক করেছেন শুনলাম। সেটি নিয়ে একটু বিস্তারিত শুনতে চাই...


মুরসালিন শুভর পরিচালনায় ওই নাটকটির নাম ‘রাত বাকী’। শুটিং করেছি ময়মনসিংহের কবি নজরুল বিশ^বিদ্যালয়ে। শুধু তাই নয়, আমাদের কাস্ট এন্ড ক্রু সবই ছিল ওই বিশ^বিদ্যালয়ের নাট্যকলার শিক্ষার্থীরা। তারা তো সবাই একাডেমিকভাবে কাজটি শিখেছে। ফলে তাদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাই আলাদা। আমার তো ভীষণ ভালোলেগেছে এমন তরুণ সব মেধাবীদের সঙ্গে কাজ করতে পেরে। ভবিষ্যতে তাদের সঙ্গে আরও কাজ করতে চাই। ৪০ মিনিটের এই নাটকটি আবর্তিত হয়েছে আমার চরিত্রকে কেন্দ্র করে। সেখানে কোন পুরুষ প্রোটাগনিস্ট নেই। আশা করছি কাজটি যারা দেখবেন, তাদের ভাবনায় নতুন মাত্রা যোগ হবে।

রিচা-আলীর ঘরে এলো ফুটফুটে কন্যা



বিনোদন ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
তারকা দম্পতি আলী ফজল ও রিচা চড্ডা

তারকা দম্পতি আলী ফজল ও রিচা চড্ডা

  • Font increase
  • Font Decrease

বাবা-মা হলেন বলিউডের জনপ্রিয় তারকা দম্পতি আলী ফজল ও রিচা চড্ডা। আজ এক যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে অভিনেত্রী রিচা ও তার স্বামী অভিনেতা আলী ফজল জানান, ‘আমরা আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, গত ১৬ জুলাই আমরা এক সুস্থ কন্যা সন্তানের মা-বাবা হয়েছি। আমাদের দুই পরিবারও খুব খুশি। ভালোবাসা ও আশীর্বাদ দেওয়ার জন্য আমাদের শুভাকাক্সক্ষীদের অসংখ্য ধন্যবাদ।’

২০২২-এ আলি ফজলকে বিয়ে করেন রিচা। চলতি বছরের গোড়ার দিকে সন্তানধারণের খবর ঘোষণা করেছিলেন অভিনেত্রী।

তারকা দম্পতি আলী ফজল ও রিচা চড্ডা

রিচাকে সর্বশেষ দেখা যায় সঞ্জয়লীলা বানসালি পরিচালিত ওয়েব সিরিজ ‘হীরামন্ডি’তে। এই সিরিজের প্রচারণায় গর্ভবতী অবস্থাতেই একাধিকবার ক্যামেরার সামনে আসেন রিচা। ‘হীরামন্ডি’তে রিচার অভিনয় দারুণ প্রশংসা কুড়ায়। অন্যদিকে চলতি মাসেই মুক্তি পেয়েছে আলী ফজল অভিনীত আলোচিত সিরিজ ‘মির্জাপুর ৩’।

;

কোটা সংস্কারের পক্ষে রাজপথে নামলেন আরশ খান



মেহনাজ খান, বার্তা২৪.কম
কোটা সংস্কারের পক্ষে রাজপথে আরশ খান

কোটা সংস্কারের পক্ষে রাজপথে আরশ খান

  • Font increase
  • Font Decrease

সাধারন শিক্ষার্থীদের কোটা আন্দোলনে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ একাত্ব ঘোষণা করছেন। শোবিজ তারকারা সমাজে খুব সহজে প্রভাব বিস্তার করেন। তাদের একটি কথা কিংবা বার্তা মানুষকে দ্রুত অনুপ্রেরণা দেয়। তাই শোবিজ তারকারা দেরীতে হলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের বার্তা তুলে ধরছেন। তবে সরাসরি আন্দোলনের মাঠে শিক্ষার্থীদের বাইরে কাউকে দেখা যায়নি।

আজ অল্প হলেও দু-এক শোবিজ তারকাকে রাজপথে দেখা গেছে আন্দোলনকারীদের সারিতে দাঁড়াতে। তাদের মধ্যে ইউটিউবার সালমান মুক্তাদির আঘাতও পেয়েছেন। এছাড়া দেখা গেছে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সৌভিক আহমেদ ও ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা আরশ খানকে।

কোটা সংস্কারের পক্ষে রাজপথে আরশ খানসহ নাটকের অভিনেতা কলাকুশলীরা

আজ দুপুরে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সামনে পোস্টার হাতে একসঙ্গে দেখা যায় আরশ খান, নির্মাতা ইমরাউল রাফাত, তপু খানসহ আরও কয়েকজন নাটকের অভিনেতা কলাকুশলীকে। সে সময় আরশ খান বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘‘আমি একজন থিয়েটারকর্মী। আমার অভিনয়জীবন শুরু মঞ্চে। লোকনাট্য দলের ‘মুজিব মানে মুক্তি’ নাটকে আমি বঙ্গবন্ধুর চরিত্রে অভিনয় করেছি। ৩০০ তম শো পর্যন্ত আমি ছিলাম গ্রুপের সাথে। আমি তখন শিশুশিল্পী। প্রথম ১০০ তম শো পর্যন্ত বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসেনি। সে সময় এই নাটকে অভিনয় করতে কতোটুকু ঝুঁকির সম্মুখীন হতে হয়েছে তা আমি জানি, আমার পরিবার জানে, লোকনাট্য দলের সদস্যরা জানে। এই নাটক করে আমি বা আমার পরিবার ২ টাকা কোনোদিন ঘরে আনিনি। নাটকে অভিনয় করতে করতে কখন বঙ্গবন্ধুকে ভেতরে ধারন করে ফেলেছি তা বলতে পারবো না। কিন্তু তার আদর্শে বেড়ে ওঠা আমি আজ অনেক কিছুই নিতে পারছি না।’

আরশ আরও বলেন, ‘আমার স্কুল, আমার কলেজ, আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের জুনিয়াররা তাদের দাবি নিয়ে আজ রাস্তায়। তাদের উপর যে আক্রমণ তা কোনোভাবেই একজন মানুষ হিসেবে, একজন শিল্পী হিসেবে, একজন ছাত্র হিসেবে আমি মেনে নিতে পারছি না। আমি খুব সাধারণ পরিবারের ছেলে। আমার মা একজন শিল্পী, আমার বোনও একজন শিল্পী। সাধারণ আরশকে অসাধারণ বানিয়েছেন এই ছাত্ররা, তাদের মা, তাদের বাবা, তাদের পরিবার, দেশের সাধারণ জনগণ। এমন দিনে আমার পক্ষে আর ঘরে বসে থাকা সম্ভব না। তাই আমি খালি হাতে বেরিয়ে পড়েছি। কারণ আমার আন্দোলন কোনো দলের বিরুদ্ধে না। আমার চাওয়া একটাই ‘আর কোনো ছাত্র বা ছাত্রী রক্তাক্ত হবে না’। আমি জানি না কাল আমার সাথে কি ঘটবে, আমি জানি না পরবর্তীতে কি ঘটবে। কিন্তু আমি জানি এই দেশ আমার, দেশের মানুষ আমার। খেটে খাওয়া মানুষ আমি। শূণ্য থেকে উঠে এসেছি আবার হয়তো শূণ্যে মেলাবো কিন্তু আর কোনো আবু সাইদের মৃত্যুর স্বাক্ষী হতে চাই না।’’

আরশ খান

;

কোটা সংস্কার হবার পর পুনরায় সরকারের পাশে দাঁড়াবো: মেহজাবীন



মাসিদ রণ, সিনিয়র নিউজরুম এডিটর, বার্তা২৪.কম
মেহজাবীন চৌধুরী

মেহজাবীন চৌধুরী

  • Font increase
  • Font Decrease

টিভি নাটকের সবচেয়ে জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরীও এবার কঠোর কণ্ঠে রুখে দাঁড়িয়েছেন ছাত্রদের প্রতি চলমান সহিংসতার বিরুদ্ধে। তুলে ধরেছেন কোরআন-হাদিসের তথ্য। আজ (বৃহস্পতিবার) সোশ্যাল হ্যান্ডেলে লিখেছেন দীর্ঘ এক লেখা। মেহজাবীন চৌধুরীর পুরো লেখাটি তুলে ধরা হলো-

ছোটবেলা থেকে জেনেছি, পরিবার-সমাজ-রাষ্ট্র নারীর গায়ে হাত তোলা সমর্থন করে না। আমাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থও কখনও নারীর প্রতি সহিংসতা শেখায়নি। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমরা নারীদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করো’। হাদিসে বলা হয়েছে, ‘তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক ভালো মানুষ তারাই, যারা নারীদের সঙ্গে সদাচরণ করে’।

মেহজাবীন চৌধুরী

অথচ আমাদের দুর্ভাগ্য, গণমাধ্যম বা সামাজিকমাধ্যমে আজকাল এর ভিন্ন চিত্র, মর্মান্তিক সব ভিডিও দেখতে হচ্ছে। একজন নয়, দুইজন নয়, আমারই অসংখ্য বোনের ওপর নির্বিকার ভঙ্গিতে হামলা চালানো হচ্ছে, রক্তাক্ত করা হচ্ছে। কী নির্মম, কী নৃশংস! ন্যায়-অন্যায়ের প্রসঙ্গে পরে আসছি, তবে আমার অবস্থান থেকে বলবো: সর্বোচ্চ কোনও যুক্তির অজুহাতেও নারীর প্রতি এই সহিংসতা মেনে নেয়া যায় না। ‘না’ মানে ‘না’; কক্ষনো না। ছাত্র-ছাত্রীরা কি-ই বা করেছিল? তারা তাদের অধিকারের ব্যাপারে সোচ্চার হয়েছিল। কোটা সংস্কারের দাবি তুলেছিল। তাই তো? একটি গণতান্ত্রিক দেশে স্বাধিকারের দাবি যে কেউ তুলতে পারে। কিন্তু তাই বলে নারীর গায়ে হাত তোলা, ‘আবু সাঈদ’-এর মতো সম্ভাবনাময় তরুণকে হত্যা করা-এসব কি সভ্যতার পর্যায়ে পড়ে? সমাধানের অন্য কোনও উপায় কি ছিল না? গুলি কেন করতে হলো?

মেহজাবীন চৌধুরী

পরিস্থিতি হয়তো আজ কিংবা কাল স্বাভাবিক হয়ে যাবে। কিন্তু যে মায়ের বুক খালি হলো, যে পরিবারের মুখের হাসি চলে গেল, আমরা কি সেই শূন্যতা অন্য কিছুর বিনিময়ে পূর্ণ করতে পারবো? কক্ষনো না। তাছাড়া ইতিহাস সাক্ষী, শক্তি যত বড়ই হোক, ছাত্র সমাজের ওপর চড়াও হয়ে যুগে যুগে কেউ কখনও কিছুই অর্জন করতে পারেনি। তাহলে কেন এই ব্যর্থ আস্ফালন? মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ কিংবা আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আমরা সবসময়ই বুকের ভেতর লালন করি। আমরা গর্ব করি বীর মুক্তিযোদ্ধারা নিজেদের প্রাণের বিনিময়ে আমাদের একটি স্বাধীন দেশ উপহার দিয়েছিলেন। কিন্তু এই দেশে নিজের মনের ভাব প্রকাশ করা যাবে না, অধিকারের দাবি তোলা যাবে না, সবকিছুর ঊর্ধ্বে যোগ্যতার পরিচয়টাকেই সবচেয়ে বড় করে দেখা যাবে না, প্রশাসনের চাওয়া-পাওয়ার বিরুদ্ধে গেলেই হামলার শিকার হতে হবে, অকাতরে অকাল প্রাণ বিলিয়ে দিতে হবে-এমন বাংলাদেশের স্বপ্ন কি আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধারা দেখেছিলেন? আমার মনে হয় না।

মেহজাবীন চৌধুরী

দ্রব্যমূল্যর ঊর্ধ্বগতি, প্রশ্নপত্র ফাঁস থেকে দুর্নীতি-প্রায় সব ইস্যুতেই তো আমরা চুপ থাকি। রক্ষক ভক্ষক হয়ে গেলেও আমরা নীরবে সয়ে যাই। অপেক্ষা করি, হয়তো একটা না একটা সমাধান আসবে। আজ না হলেও দুদিন পরে আসবে। অন্যান্য ইস্যুতে আমরা সামাজিক মাধ্যমেও এতটা সোচ্চার হই না। তাহলে ইদানীং কেন হচ্ছি? কেন কোটা সংস্কার ইস্যুতে দলমত নির্বিশেষে আমাদের মতো সাধারণ জনগণ সরকারের পদক্ষেপের নিন্দা করছি? কারণ একটাই, কোটা সংস্কার এখন সময়ের দাবি। যত দ্রুত সম্ভব এর সমাধান জরুরি। ভুলে গেলে চলবে না, আমরা এই সাধারণ জনগণই কিন্তু মেট্রো রেল, পদ্মা সেতু, উড়াল সেতু ইত্যাদি সহ সরকারের অনেক যুগান্তকারী সাফল্যে গর্বিত হয়ে হাত তালি দিয়েছিলাম। গালভরা প্রশংসা করেছিলাম। সামাজিক মাধ্যমে সরব হয়েছিলাম। নিশ্চয়ই ছাত্র-ছাত্রীদের দাবি মেনে কোটা সংস্কার হবার পর আমরা পুনরায় সরকারের পাশে দাঁড়াবো। এক পক্ষ হয়ে দেশের সব সমস্যার সমাধান করার জন্য সরকারকে সহযোগিতা করবো। সবাই মিলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবো।

মেহজাবীন চৌধুরী

অর্থাৎ সব কথার শেষ কথা, ছাত্ররা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। দমিয়ে না রেখে তাদের যৌক্তিক দাবিতে সমর্থন দেয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সর্বোচ্চ আদালতের কাছে আমি মেহজাবীন চৌধুরী আকুল আবেদন করছি। আমার বিশ্বাস, আমরা নিরাশ হবো না।

লেখাটি শেষে অভিনেত্রী #SaveBangladeshiStudents হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করেন। সঙ্গে জুড়ে দেন চলমান আন্দোলনের তিনটি ছবির কোলাজ।

;

কোটা আন্দোলনে সশরীরে যোগ দিয়ে আহত সালমান



মাসিদ রণ, সিনিয়র নিউজরুম এডিটর, বার্তা২৪.কম
কোটা আন্দোলনে সশরীরে অংশ নিয়েছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার সালমান মুক্তাদির

কোটা আন্দোলনে সশরীরে অংশ নিয়েছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার সালমান মুক্তাদির

  • Font increase
  • Font Decrease

শোবিজ তারকাদের মধ্যে সর্বপ্রথম কোটা আন্দোলনে সশরিরে অংশ নিয়েছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার সালমান মুক্তাদির। এরইমধ্যে এই তারকার মাস্ক পরা একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। আর সেই ছবি ছড়িতে পড়তে না পড়তেই দারুণ প্রশংসা কুড়াচ্ছেন সালমান।

তবে একটু আগেই সালমানের আরেকটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, এই তারকাকে কয়েকজন মিলে টেক কেয়ার করছেন। কারণ তাকে আক্রমণ করা হয়েছে। কোটা আন্দোলনের সশরীরে অংশ নিতে গিয়েই কিছুটা আহত হয়েছেন তিনি।

কোটা আন্দোলনে সশরীরে অংশ নিয়েছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার সালমান মুক্তাদির

একজন সালমানের সেই ছবিটি পোস্ট করে ফেসবুকে লিখেছেন, ‘‘সো কলড পপুলার ফিগারদের মাঝে সরাসরি মাঠে নেমে আন্দোলনে একাত্ম হতে দেখলাম একমাত্র সালমান মুক্তাদিরকে। বেশিরভাগের কাছে যার পরিচয় ‘অভদ্র ছেলে’’।

সালমান মুক্তাদির সরাসরি মাঠে নেমে আন্দোলনে একাত্ম হওয়ার আগে ফেসবুকেও পোস্ট দিয়েছিলেন। গত ১৬ জুলাই সালমান তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘এমন কোনো ছাত্র আছেন যিনি আক্রান্ত হয়েছেন অথবা হলে ঢুকতে পারছেন না? আমি আপনাদের খেয়াল রাখব। তবে লাখ লাখ মেসেজ বা পোস্টের মধ্যে ফিল্টার করা আমার পক্ষে অসম্ভব। তাই আমার ফ্রেন্ডলিস্টে আপনাদের কোনো মিউচুয়াল ফ্রেন্ড আছে কিনা দেখেন এবং আমাকে নক করেন।’

সালমান মুক্তাদির

তিনি আরও লেখেন, ‘আপনার যদি থাকার জন্য একটি জায়গা প্রয়োজন হয় অথবা আপনার চিকিৎসা সেবা প্রয়োজন হয়, আমি এখানে রয়েছি। এইমাত্র কিছু ভিডিও দেখলাম, যেখানে মানুষ তাদের হলে প্রবেশ করতে পারে না। যদি এটা যথেষ্ট না হয় তাহলে আবার ক্ষমা চেয়ে নিন। আমার সত্যিই হৃদয় ভেঙ্গেছে এবং বিব্রত। আমি সত্যিই জনপ্রিয় হয়েও কোনো কাজে না আসায় লজ্জা বোধ করছি।’

;