অতিরিক্ত ভালোবাসাও পয়জন : তানজিন তিশা



মাসিদ রণ, সিনিয়র নিউজরুম এডিটর, বার্তা২৪.কম
তানজিন তিশা / পোশাক : সানায়া কুটর,  ছবি : এম এইচ বিপু

তানজিন তিশা / পোশাক : সানায়া কুটর, ছবি : এম এইচ বিপু

  • Font increase
  • Font Decrease

টিভি নাটকের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশা হাজির ওয়েব ফিল্ম নিয়ে। ‘পয়জন’ নামের ছবিটি পরিচালনা করেছেন সমদ্দার। ছবিটিতে তিশার বিপরীতে আছেন আবু হুরায়রা তানভীর। এই সিনেমা ও ঈদের কাজ নিয়ে বার্তা২৪.কমের সঙ্গে কথা বলেছেন তিশা। লিখেছেন মাসিদ রণ


বাস্তবেও আপনি একজন নায়িকা, ‘পয়জন’ ওয়েব ফিল্মেও একজন নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করেছেন। চরিত্রটি আপনার সঙ্গে কতোটা মিল রয়েছে?


একটি গল্প তৈরি করতে গেলে লেখক বাস্তব অনেককিছু থেকেই ইন্সপায়ারড হন। তার মানে এই নয় যে গল্পগুলো হুবহু বাস্তবের সঙ্গে মিল রয়েছে। যেমন ‘পয়জন’ ওয়েব ফিল্মে আমি চিত্রনায়িকা রূপা মির্জা। তিনি একজন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী। আর বাস্তবে আমিও একজন নায়িকা, তবে আমি তো নাটকের মেয়ে। ফলে চলচ্চিত্র অভিনেত্রীর চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে গিয়ে আমাকে অনেক স্ট্যাডি করতে হয়েছে। এখন দর্শক দেখার পর বুঝে নিক তাদের কাছে চরিত্রটি কতোখানি বাস্তব আর কতোখানি ফিকশন মনে হয়েছে। তবে আমি ব্যক্তিগত অভিমতের জায়গা থেকে বলব, এই চরিত্রের সঙ্গে বাস্তবের কোন নায়িকার এ টু জেড মিল নেই।

তানজিন তিশা / পোশাক : সানায়া কুটর,  ছবি : এম এইচ বিপু

‘পয়জন’ সিনেমাটিতে কী কোনো বক্তব্য দিতে চান?


আমার কাছে মনে হয়, যে কোনো কিছু অতিরিক্ত মানেই পয়জন। আমি যদি কাউকে ভালোবাসি এবং সেটি অনেক বেশি হয়ে যায় সেটিও পয়জন হতে পারে। আবার আমি যদি কাউকে অতিরিক্ত মাত্রায় ঘৃণা করি সেটিও পয়জন হতে পারে। মোটকথা আমি ঠিক ভুল যাই করি, তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় সেটা পয়জন হতে পারে। আমরা এই বক্তব্যই দিতে চেয়েছি ছবিটির মাধ্যমে। আমার সিনেমার প্রথম পোস্টারটিতে দেখবেন, সিনেমার নায়িকার পাশে একটা শুটিং সেটে পুরো ইউনিট রয়েছে। পোস্টারেই কিন্তু বোঝা যাচ্ছে যে এতে কিছু টুইস্ট রয়েছে। আর পুরো ছবিটি এমন আরও অনেক টুইস্টে ভরা। সবাইকে দেখার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।

তানজিন তিশা / পোশাক : সানায়া কুটর,  ছবি : এম এইচ বিপু

ঈদে আর কি কি কাজ আসছে?


‘পয়জন’ তো ঈদ উপলক্ষেই দীপ্ত প্লেতে মুক্তি পেয়েছে। এই প্ল্যাটফর্মের প্রথম কাজ ছিলো ‘সাহসিকা’। যেটার প্রধান চরিত্রে আমিই কাজ করেছিলাম। সে সময় আমাকে বেশকিছু গল্প শোনানো হয়। তখন ‘পয়জন’-এর গল্পটি শুনে সেটিই আগে করতে চেয়েছিলাম। অবশেষে দীপ্ত আমাকেই সেই কাজটি করার সুযোগ করে দিয়েছে। ফলে বুঝতেই পারছেন এটা আমার জন্য কতোটা স্পেশ্যাল একটি কাজ। এই ছবিটিই আমার এবারের ঈদের মেইন ফোকাস। ছবিটি নিয়ে আমি, আমার পরিচালক, পুরো টিম ও দর্শক- সবাই খুব এক্সাইটেড। কারণ পয়জন আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে ব্যতিক্রম কাজ। এই চরিত্রটি আমাকে সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলো। সাধারনত আমাকে আমার দর্শক রোমান্টিক নাটক কিংবা মিষ্টি মেয়ের চরিত্রে দেখেছে। তবে তারা সবসময় চাইতো আমি যেন ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরি। পয়জন-এ সেই সুযোগটা পেয়েছি। ভবিষ্যতে এর চেয়ে ব্যতিক্রম কিছু দেখাতে পারবো কিনা জানি না। তবে আমি চেষ্টা করবো। পুরো ক্যারিয়ারে এবারই প্রথম ঈদে এতো কম কাজ করেছি শুধুমাত্র ‘পয়জন’ ছবিটির কাজ ও রিসার্চের জন্য। এই ছবির বাইরে আমার অভিনীত মাত্র ৪-৫টি নাটক দেখতে পাবে দর্শক।

তানজিন তিশা / পোশাক : সানায়া কুটর,  ছবি : এম এইচ বিপু

‘পয়জন’-এর নির্মাতা সঞ্জয় সমদ্দার এরইমধ্যে কলকাতার সুপারস্টার জিৎকে নিয়ে ‘মানুষ’ নামে একটি সিনেমা করেছেন। তার সঙ্গে আপনাকে বড়পর্দার কাজে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা আছে কী?


আমার তো বড়পর্দায় কাজ করার স্বপ্ন অনেক আগে থেকেই। তবে সঠিক সময় ও সঠিক স্ক্রিপ্টের জন্য অপেক্ষা করছি। এবার আমি নির্মাতার প্রসঙ্গে। সঞ্জয় সমদ্দার নিঃসন্দেহে একজন গুণী নির্মাতা। টিভিতে তিনি দারুণ কিছু কাজ উপহার দিয়েছেন। কলকাতার সিনেমা ‘মানুষ’-এর প্রসংশাও শুনেছি বেশ। তাছাড়া ‘পয়জন’-এ তার সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে আমার চমৎকার অভিজ্ঞতা হয়েছে। তিনি আগে থেকেই ক্লিয়ার ছিলেন যে আমার চরিত্রকে তিনি কিভাবে পর্দায় দেখাতে চান। যার ফলে আমার কাজ করাটা খুব আনন্দদায়ক জার্নি ছিল। গত সোমবার ছবিটির প্রিমিয়ার শো হয়েছে স্টার সিনেপ্লেক্সে। বড়পর্দায় নিজেকে এবারই প্রথম দেখলাম। তাতে মনে হয়েছে, আমাকে যেভাবে নির্মাতা তুলে ধরেছেন, তাতে তার সঙ্গে আরও বড় কোন প্রজেক্ট আসলে দ্বিতীয়বার ভাববো না।

তানজিন তিশা / পোশাক : সানায়া কুটর,  ছবি : এম এইচ বিপু

রিচা-আলীর ঘরে এলো ফুটফুটে কন্যা



বিনোদন ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
তারকা দম্পতি আলী ফজল ও রিচা চড্ডা

তারকা দম্পতি আলী ফজল ও রিচা চড্ডা

  • Font increase
  • Font Decrease

বাবা-মা হলেন বলিউডের জনপ্রিয় তারকা দম্পতি আলী ফজল ও রিচা চড্ডা। আজ এক যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে অভিনেত্রী রিচা ও তার স্বামী অভিনেতা আলী ফজল জানান, ‘আমরা আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, গত ১৬ জুলাই আমরা এক সুস্থ কন্যা সন্তানের মা-বাবা হয়েছি। আমাদের দুই পরিবারও খুব খুশি। ভালোবাসা ও আশীর্বাদ দেওয়ার জন্য আমাদের শুভাকাক্সক্ষীদের অসংখ্য ধন্যবাদ।’

২০২২-এ আলি ফজলকে বিয়ে করেন রিচা। চলতি বছরের গোড়ার দিকে সন্তানধারণের খবর ঘোষণা করেছিলেন অভিনেত্রী।

তারকা দম্পতি আলী ফজল ও রিচা চড্ডা

রিচাকে সর্বশেষ দেখা যায় সঞ্জয়লীলা বানসালি পরিচালিত ওয়েব সিরিজ ‘হীরামন্ডি’তে। এই সিরিজের প্রচারণায় গর্ভবতী অবস্থাতেই একাধিকবার ক্যামেরার সামনে আসেন রিচা। ‘হীরামন্ডি’তে রিচার অভিনয় দারুণ প্রশংসা কুড়ায়। অন্যদিকে চলতি মাসেই মুক্তি পেয়েছে আলী ফজল অভিনীত আলোচিত সিরিজ ‘মির্জাপুর ৩’।

;

কোটা সংস্কারের পক্ষে রাজপথে নামলেন আরশ খান



মেহনাজ খান, বার্তা২৪.কম
কোটা সংস্কারের পক্ষে রাজপথে আরশ খান

কোটা সংস্কারের পক্ষে রাজপথে আরশ খান

  • Font increase
  • Font Decrease

সাধারন শিক্ষার্থীদের কোটা আন্দোলনে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ একাত্ব ঘোষণা করছেন। শোবিজ তারকারা সমাজে খুব সহজে প্রভাব বিস্তার করেন। তাদের একটি কথা কিংবা বার্তা মানুষকে দ্রুত অনুপ্রেরণা দেয়। তাই শোবিজ তারকারা দেরীতে হলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের বার্তা তুলে ধরছেন। তবে সরাসরি আন্দোলনের মাঠে শিক্ষার্থীদের বাইরে কাউকে দেখা যায়নি।

আজ অল্প হলেও দু-এক শোবিজ তারকাকে রাজপথে দেখা গেছে আন্দোলনকারীদের সারিতে দাঁড়াতে। তাদের মধ্যে ইউটিউবার সালমান মুক্তাদির আঘাতও পেয়েছেন। এছাড়া দেখা গেছে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সৌভিক আহমেদ ও ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা আরশ খানকে।

কোটা সংস্কারের পক্ষে রাজপথে আরশ খানসহ নাটকের অভিনেতা কলাকুশলীরা

আজ দুপুরে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সামনে পোস্টার হাতে একসঙ্গে দেখা যায় আরশ খান, নির্মাতা ইমরাউল রাফাত, তপু খানসহ আরও কয়েকজন নাটকের অভিনেতা কলাকুশলীকে। সে সময় আরশ খান বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘‘আমি একজন থিয়েটারকর্মী। আমার অভিনয়জীবন শুরু মঞ্চে। লোকনাট্য দলের ‘মুজিব মানে মুক্তি’ নাটকে আমি বঙ্গবন্ধুর চরিত্রে অভিনয় করেছি। ৩০০ তম শো পর্যন্ত আমি ছিলাম গ্রুপের সাথে। আমি তখন শিশুশিল্পী। প্রথম ১০০ তম শো পর্যন্ত বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসেনি। সে সময় এই নাটকে অভিনয় করতে কতোটুকু ঝুঁকির সম্মুখীন হতে হয়েছে তা আমি জানি, আমার পরিবার জানে, লোকনাট্য দলের সদস্যরা জানে। এই নাটক করে আমি বা আমার পরিবার ২ টাকা কোনোদিন ঘরে আনিনি। নাটকে অভিনয় করতে করতে কখন বঙ্গবন্ধুকে ভেতরে ধারন করে ফেলেছি তা বলতে পারবো না। কিন্তু তার আদর্শে বেড়ে ওঠা আমি আজ অনেক কিছুই নিতে পারছি না।’

আরশ আরও বলেন, ‘আমার স্কুল, আমার কলেজ, আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের জুনিয়াররা তাদের দাবি নিয়ে আজ রাস্তায়। তাদের উপর যে আক্রমণ তা কোনোভাবেই একজন মানুষ হিসেবে, একজন শিল্পী হিসেবে, একজন ছাত্র হিসেবে আমি মেনে নিতে পারছি না। আমি খুব সাধারণ পরিবারের ছেলে। আমার মা একজন শিল্পী, আমার বোনও একজন শিল্পী। সাধারণ আরশকে অসাধারণ বানিয়েছেন এই ছাত্ররা, তাদের মা, তাদের বাবা, তাদের পরিবার, দেশের সাধারণ জনগণ। এমন দিনে আমার পক্ষে আর ঘরে বসে থাকা সম্ভব না। তাই আমি খালি হাতে বেরিয়ে পড়েছি। কারণ আমার আন্দোলন কোনো দলের বিরুদ্ধে না। আমার চাওয়া একটাই ‘আর কোনো ছাত্র বা ছাত্রী রক্তাক্ত হবে না’। আমি জানি না কাল আমার সাথে কি ঘটবে, আমি জানি না পরবর্তীতে কি ঘটবে। কিন্তু আমি জানি এই দেশ আমার, দেশের মানুষ আমার। খেটে খাওয়া মানুষ আমি। শূণ্য থেকে উঠে এসেছি আবার হয়তো শূণ্যে মেলাবো কিন্তু আর কোনো আবু সাইদের মৃত্যুর স্বাক্ষী হতে চাই না।’’

আরশ খান

;

কোটা সংস্কার হবার পর পুনরায় সরকারের পাশে দাঁড়াবো: মেহজাবীন



মাসিদ রণ, সিনিয়র নিউজরুম এডিটর, বার্তা২৪.কম
মেহজাবীন চৌধুরী

মেহজাবীন চৌধুরী

  • Font increase
  • Font Decrease

টিভি নাটকের সবচেয়ে জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরীও এবার কঠোর কণ্ঠে রুখে দাঁড়িয়েছেন ছাত্রদের প্রতি চলমান সহিংসতার বিরুদ্ধে। তুলে ধরেছেন কোরআন-হাদিসের তথ্য। আজ (বৃহস্পতিবার) সোশ্যাল হ্যান্ডেলে লিখেছেন দীর্ঘ এক লেখা। মেহজাবীন চৌধুরীর পুরো লেখাটি তুলে ধরা হলো-

ছোটবেলা থেকে জেনেছি, পরিবার-সমাজ-রাষ্ট্র নারীর গায়ে হাত তোলা সমর্থন করে না। আমাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থও কখনও নারীর প্রতি সহিংসতা শেখায়নি। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমরা নারীদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করো’। হাদিসে বলা হয়েছে, ‘তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক ভালো মানুষ তারাই, যারা নারীদের সঙ্গে সদাচরণ করে’।

মেহজাবীন চৌধুরী

অথচ আমাদের দুর্ভাগ্য, গণমাধ্যম বা সামাজিকমাধ্যমে আজকাল এর ভিন্ন চিত্র, মর্মান্তিক সব ভিডিও দেখতে হচ্ছে। একজন নয়, দুইজন নয়, আমারই অসংখ্য বোনের ওপর নির্বিকার ভঙ্গিতে হামলা চালানো হচ্ছে, রক্তাক্ত করা হচ্ছে। কী নির্মম, কী নৃশংস! ন্যায়-অন্যায়ের প্রসঙ্গে পরে আসছি, তবে আমার অবস্থান থেকে বলবো: সর্বোচ্চ কোনও যুক্তির অজুহাতেও নারীর প্রতি এই সহিংসতা মেনে নেয়া যায় না। ‘না’ মানে ‘না’; কক্ষনো না। ছাত্র-ছাত্রীরা কি-ই বা করেছিল? তারা তাদের অধিকারের ব্যাপারে সোচ্চার হয়েছিল। কোটা সংস্কারের দাবি তুলেছিল। তাই তো? একটি গণতান্ত্রিক দেশে স্বাধিকারের দাবি যে কেউ তুলতে পারে। কিন্তু তাই বলে নারীর গায়ে হাত তোলা, ‘আবু সাঈদ’-এর মতো সম্ভাবনাময় তরুণকে হত্যা করা-এসব কি সভ্যতার পর্যায়ে পড়ে? সমাধানের অন্য কোনও উপায় কি ছিল না? গুলি কেন করতে হলো?

মেহজাবীন চৌধুরী

পরিস্থিতি হয়তো আজ কিংবা কাল স্বাভাবিক হয়ে যাবে। কিন্তু যে মায়ের বুক খালি হলো, যে পরিবারের মুখের হাসি চলে গেল, আমরা কি সেই শূন্যতা অন্য কিছুর বিনিময়ে পূর্ণ করতে পারবো? কক্ষনো না। তাছাড়া ইতিহাস সাক্ষী, শক্তি যত বড়ই হোক, ছাত্র সমাজের ওপর চড়াও হয়ে যুগে যুগে কেউ কখনও কিছুই অর্জন করতে পারেনি। তাহলে কেন এই ব্যর্থ আস্ফালন? মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ কিংবা আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আমরা সবসময়ই বুকের ভেতর লালন করি। আমরা গর্ব করি বীর মুক্তিযোদ্ধারা নিজেদের প্রাণের বিনিময়ে আমাদের একটি স্বাধীন দেশ উপহার দিয়েছিলেন। কিন্তু এই দেশে নিজের মনের ভাব প্রকাশ করা যাবে না, অধিকারের দাবি তোলা যাবে না, সবকিছুর ঊর্ধ্বে যোগ্যতার পরিচয়টাকেই সবচেয়ে বড় করে দেখা যাবে না, প্রশাসনের চাওয়া-পাওয়ার বিরুদ্ধে গেলেই হামলার শিকার হতে হবে, অকাতরে অকাল প্রাণ বিলিয়ে দিতে হবে-এমন বাংলাদেশের স্বপ্ন কি আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধারা দেখেছিলেন? আমার মনে হয় না।

মেহজাবীন চৌধুরী

দ্রব্যমূল্যর ঊর্ধ্বগতি, প্রশ্নপত্র ফাঁস থেকে দুর্নীতি-প্রায় সব ইস্যুতেই তো আমরা চুপ থাকি। রক্ষক ভক্ষক হয়ে গেলেও আমরা নীরবে সয়ে যাই। অপেক্ষা করি, হয়তো একটা না একটা সমাধান আসবে। আজ না হলেও দুদিন পরে আসবে। অন্যান্য ইস্যুতে আমরা সামাজিক মাধ্যমেও এতটা সোচ্চার হই না। তাহলে ইদানীং কেন হচ্ছি? কেন কোটা সংস্কার ইস্যুতে দলমত নির্বিশেষে আমাদের মতো সাধারণ জনগণ সরকারের পদক্ষেপের নিন্দা করছি? কারণ একটাই, কোটা সংস্কার এখন সময়ের দাবি। যত দ্রুত সম্ভব এর সমাধান জরুরি। ভুলে গেলে চলবে না, আমরা এই সাধারণ জনগণই কিন্তু মেট্রো রেল, পদ্মা সেতু, উড়াল সেতু ইত্যাদি সহ সরকারের অনেক যুগান্তকারী সাফল্যে গর্বিত হয়ে হাত তালি দিয়েছিলাম। গালভরা প্রশংসা করেছিলাম। সামাজিক মাধ্যমে সরব হয়েছিলাম। নিশ্চয়ই ছাত্র-ছাত্রীদের দাবি মেনে কোটা সংস্কার হবার পর আমরা পুনরায় সরকারের পাশে দাঁড়াবো। এক পক্ষ হয়ে দেশের সব সমস্যার সমাধান করার জন্য সরকারকে সহযোগিতা করবো। সবাই মিলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবো।

মেহজাবীন চৌধুরী

অর্থাৎ সব কথার শেষ কথা, ছাত্ররা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। দমিয়ে না রেখে তাদের যৌক্তিক দাবিতে সমর্থন দেয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সর্বোচ্চ আদালতের কাছে আমি মেহজাবীন চৌধুরী আকুল আবেদন করছি। আমার বিশ্বাস, আমরা নিরাশ হবো না।

লেখাটি শেষে অভিনেত্রী #SaveBangladeshiStudents হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করেন। সঙ্গে জুড়ে দেন চলমান আন্দোলনের তিনটি ছবির কোলাজ।

;

কোটা আন্দোলনে সশরীরে যোগ দিয়ে আহত সালমান



মাসিদ রণ, সিনিয়র নিউজরুম এডিটর, বার্তা২৪.কম
কোটা আন্দোলনে সশরীরে অংশ নিয়েছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার সালমান মুক্তাদির

কোটা আন্দোলনে সশরীরে অংশ নিয়েছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার সালমান মুক্তাদির

  • Font increase
  • Font Decrease

শোবিজ তারকাদের মধ্যে সর্বপ্রথম কোটা আন্দোলনে সশরিরে অংশ নিয়েছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার সালমান মুক্তাদির। এরইমধ্যে এই তারকার মাস্ক পরা একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। আর সেই ছবি ছড়িতে পড়তে না পড়তেই দারুণ প্রশংসা কুড়াচ্ছেন সালমান।

তবে একটু আগেই সালমানের আরেকটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, এই তারকাকে কয়েকজন মিলে টেক কেয়ার করছেন। কারণ তাকে আক্রমণ করা হয়েছে। কোটা আন্দোলনের সশরীরে অংশ নিতে গিয়েই কিছুটা আহত হয়েছেন তিনি।

কোটা আন্দোলনে সশরীরে অংশ নিয়েছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার সালমান মুক্তাদির

একজন সালমানের সেই ছবিটি পোস্ট করে ফেসবুকে লিখেছেন, ‘‘সো কলড পপুলার ফিগারদের মাঝে সরাসরি মাঠে নেমে আন্দোলনে একাত্ম হতে দেখলাম একমাত্র সালমান মুক্তাদিরকে। বেশিরভাগের কাছে যার পরিচয় ‘অভদ্র ছেলে’’।

সালমান মুক্তাদির সরাসরি মাঠে নেমে আন্দোলনে একাত্ম হওয়ার আগে ফেসবুকেও পোস্ট দিয়েছিলেন। গত ১৬ জুলাই সালমান তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘এমন কোনো ছাত্র আছেন যিনি আক্রান্ত হয়েছেন অথবা হলে ঢুকতে পারছেন না? আমি আপনাদের খেয়াল রাখব। তবে লাখ লাখ মেসেজ বা পোস্টের মধ্যে ফিল্টার করা আমার পক্ষে অসম্ভব। তাই আমার ফ্রেন্ডলিস্টে আপনাদের কোনো মিউচুয়াল ফ্রেন্ড আছে কিনা দেখেন এবং আমাকে নক করেন।’

সালমান মুক্তাদির

তিনি আরও লেখেন, ‘আপনার যদি থাকার জন্য একটি জায়গা প্রয়োজন হয় অথবা আপনার চিকিৎসা সেবা প্রয়োজন হয়, আমি এখানে রয়েছি। এইমাত্র কিছু ভিডিও দেখলাম, যেখানে মানুষ তাদের হলে প্রবেশ করতে পারে না। যদি এটা যথেষ্ট না হয় তাহলে আবার ক্ষমা চেয়ে নিন। আমার সত্যিই হৃদয় ভেঙ্গেছে এবং বিব্রত। আমি সত্যিই জনপ্রিয় হয়েও কোনো কাজে না আসায় লজ্জা বোধ করছি।’

;