পুলিশ নাট্যদলের অনন্য কীর্তি ‘অভিশপ্ত আগস্ট’ ১৫০তম মঞ্চায়ন অনুষ্ঠিত



বিনোদন ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা ২৪

ছবি: বার্তা ২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

শোকের চাদরে ঢাকা আগস্ট। জাতির পিতাকে হারানোর শোকে মূহ্যমান জাতির কান্নার মাসও এটি। ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর চেতনায় উদ্দীপ্ত হওয়ার শোকের বিয়োগাত্মক আখ্যানকে উপজীব্য করে বাঙালি জাতির সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার মাসও এই আগস্ট। দেশকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করে মুক্তির স্বাদ এনে দিয়ে বঙ্গবন্ধু যখন সদ্য জন্ম নেওয়া দেশটাকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন সমৃদ্ধি, শান্তি ও সফলতার পথে সেই সময়েই শকুনের কালো থাবায় ইবলিশের প্রেতাত্মা আঘাত হানে লাল-সবুজের পতাকার স্বাধীন মানচিত্রে। এরপর থেকেই উল্টো পথে চলছে স্বদেশ।

কালবৈশাখি ঝড়ের মত মানচিত্রে আঘাত হানে আগস্ট ট্রাজেডির খলনায়ক খন্দকার মোশতাক। মুক্তিযুদ্ধের আশির্বাদে পাওয়া স্বপ্নের সোনার বাংলাকে খামচে ধরে ঘরের শত্রু বিভীষণরূপী ঘৃণিত মোশতাক। সেই কালো রাতে শুধু বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের রক্ত ঝরেনি, রক্ত ঝরেছে মানচিত্রের, পতাকার ও স্বাধীন বাংলাদেশের। যার কারণে গোটা বাঙালি জাতির জীবনের এক অভিশাপের নাম আগস্ট। গা শিউরে উঠা অভিশপ্ত সেই কাল রাতের দৃশ্যকল্পকে ‘অভিশপ্ত আগস্ট’ নামে নাট্যরূপে মঞ্চায়ন করেছে বাংলাদেশ পুলিশ নাট্যদল।

ছবি: বার্তা ২৪

গতকাল সোমবার (১০ জুন) শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে নাটকটির ১৫০তম মঞ্চায়ন অনুষ্ঠিত হয়।

নাটকটির পরতে পরতে বুনিত হয়েছে শোকের কালো সুতায় গাঁথা ইতিহাসের বর্বরতা ও নির্মমতা। কাহিনীর দৃশ্যপটে শুধু কুখ্যাত খুনী খন্দকার মোশতাকের দূরভিসন্ধি ও ষড়যন্ত্রই চিত্রিত হয়নি, পাশাপাশি উঠে এসেছে বঙ্গবন্ধুর প্রতি সাধারণ মানুষের অকুণ্ঠ সমর্থন ও অকৃত্রিম ভালোবাসা, বীরাঙ্গনা গৃহকর্মী পরীবানু, নিরাপত্তা রক্ষী সিদ্দিক ও মুহিতের বিশ্বস্ততা এবং বঙ্গবন্ধুর পরিবারের প্রতি তাদের দায় ও ভালোবাসার কথা। বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা, অবুঝ শেখ রাসেলকে খুনের পর হায়েনাদের উল্লাসও তুলে ধরা হয়েছে নাটকটিতে।

ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমানের ব্যক্তিগত উদ্যোগ, পরিকল্পনা, গবেষণা ও তথ্যসংকলনে নাটকটির রচনা ও নির্দেশনায় ছিলেন পুলিশ সদর দপ্তরের পরিদর্শক মো. জাহিদুর রহমান।

মোশতাকের স্বপ্নভঙ্গের প্রথম দৃশ্য থেকে বঙ্গবন্ধুর পরিবারের রক্তে রঞ্জিত ভয়াবহ শেষ দৃশ্যটিও ছিল নান্দনিকতায় পরিপূর্ণ। বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা, আবেগ, ভালোবাসার পাশাপাশি ইতিহাসের জঘন্যতম নরপশু খন্দকার মোশতাকের প্রতি ঘৃণা লক্ষ্যণীয় ছিল প্রতিটি দৃশ্যের বুননে। ইতিহাসের কুখ্যাত খলনায়ক খন্দকার মোশতাকের ঘৃণিত চক্রান্তের স্বপ্নের মাধ্যমেই নাটকের পর্দা উঠে। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নির্মমভাবে খুন করে অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে সে। স্বপ্নের মাঝেই চিত্রিত হয় ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টের ট্রাজেডি। ইতিহাসের ঘৃণিত সেই নির্মমতা ও বীভৎসা দেখে ইবলিশের হাসিতে ফেটে পড়ে দেশের ইতিহাসের কলংকিত এই নরপশু। স্বপ্নের মাঝেই প্রতিফলিত হয় তার দূরভিসন্ধি ও ষড়যন্ত্রের আদ্যোপান্ত। হঠাৎ কুকুরের শব্দে মানবরূপী এই দানবের ঘুম ভেঙে যায়। কুকুরের ঘেউ ঘেউ শব্দে লেজ গুটিয়ে পালানোর উপক্রম ঘৃণিত এই দুর্বৃত্তের। এই দৃশ্য উপভোগে মিলনায়তনভর্তি দর্শকদের চোখে মুখে মোশতাকের প্রতি ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ ফুটে উঠেছিল।

ছবি: বার্তা ২৪

এরপর মেজর ডালিম ও রশিদের ষড়যন্ত্র দর্শকদের যেমন ব্যথিত করেছে ঠিক তেমনি বীরাঙ্গনা গৃহকর্মী পরীবানু, পিএস মুহিত ও নিরাপত্তা রক্ষী সিদ্দিকের বিশ্বস্ততার দৃশ্যগুলো আপ্লুত ও শিহরিত করেছিল দর্শকদের। সেই সঙ্গে খন্দকার মোশতাকের কুটবুদ্ধি, সেনাবাহিনী ও রক্ষীবাহিনীকে নিয়ে ঘৃণ্য অপপ্রচারের বিভ্রান্তি দক্ষতার সাথে ফুটিয়ে তুলেছেন নির্দেশক মো. জাহিদুর রহমান।

শেষ দৃশ্যে সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে খুন ও পরীবানুর আকুতি মিনতির পরও বুলেটের আঘাতে শিশু রাসেলের বুক ঝাঁঝরা করে দেওয়ার দৃশ্যটি ছিল গা ছম ছম করা ভয়াবহতায় ভরা। অভিনয়শিল্পীদের সংলাপ প্রক্ষেপণ, এক্সপ্রেশন, উচ্চকিত সংলাপের উঠানামা ও প্রতিটি স্টেপেই ছিল পেশাদার অভিনয়ের ছোঁয়া। লাইট, সাউন্ড ইফেক্ট, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকসহ নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট সকল ক্ষেত্রেই মুন্সীয়ানার ছাপ রেখেছেন নির্দেশক জাহিদুর রহমান। শিক্ষণীয় বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিটি দৃশ্যকে হৃদয়গ্রাহী করে তুলেছিলেন নাটকটির রচয়িতা ও নির্দেশক। শিল্পী ও নির্দেশকের পারদর্শিতায় ফুটে উঠেছিল পেশাদারিত্বের ছাপ। সকল শ্রেণীর মানুষের সামনে বঙ্গবন্ধুকে তুলে ধরার প্রত্যয়ে নাটকের সংলাপে ও অভিনয়ে ছিল সহজ-সরল ও সাবলীলতার ছাপ। নির্দেশনার প্রতিটি বিভাগের কারুকাজে দক্ষতার পাশাপাশি খন্দকার মোশতাক চরিত্রেও অনবদ্য অভিনয় করেছেন মো. জাহিদুর রহমান।

ছবি: বার্তা ২৪

‘অভিশপ্ত আগস্ট’ নাটকটি নিয়ে ডি আই জি হাবিবুর রহমান বলেন, শোকাবহ আগস্টকে জাতির সামনে শৈল্পিকভাবে তুলে ধরতে প্রায় এক দশক আগে থেকেই নানা পরিকল্পনা করছিলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট অনেকের সাথেই কথা বলেছিলাম। কিন্তু কোন মনঃপূত কিছু না পাওয়াতে অবশেষে পুলিশ নাট্যদলকেই দায়িত্ব দিলাম। সমাজের অপরাধ দমনের পাশাপাশি অভিনয় ও নির্দেশনার নানা কাজে পুলিশ বাহিনী যে কারো চেয়ে কোন অংশে কম নয় তাই বোঝা যাচ্ছে নাটকটি নির্মাণের পর। দর্শকদের দ্বারা প্রশংসিত হওয়ার কারণে মাত্র এক বছরে আমরা নাটকটির শততম মঞ্চায়ন করতে সক্ষম হয়েছি। এটি এদেশের নাটকের ইতিহাসে অনন্য রেকর্ড। দর্শক না চাইলে আমরা এত তাড়াতাড়ি শততম মঞ্চায়নের রেকর্ড অর্জন করতে সক্ষম হতাম না। রাজারবাগের পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, শিল্পকলা একাডেমিসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় নাটকটি মঞ্চায়ন হয়েছে বলেও জানান তিনি।

কথা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, নতুন প্রজন্মের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, দেশের প্রতি বঙ্গবন্ধুর ভালোবাসা ও ত্যাগ এবং বিকৃত ইতিহাসের কালো থাবা থেকে জাতিকে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার লক্ষ্যে ‘অভিশপ্ত আগস্ট’ নাটকটি প্রযোজনার সিদ্ধান্ত নিই আমরা। বঙ্গবন্ধুর প্রতি সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ও আগ্রহের কারণেই এই নাটকটি আমাদের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি প্রাপ্তি ঘটিয়েছে।

ছবি: বার্তা ২৪

নির্দেশক মো. জাহিদুর রহমান বলেন, শিক্ষণীয় বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি সবশ্রেণীর মানুষের সামনে নাটকটিকে উপভোগ্য করে তোলার জন্য প্রসেনিয়াম থিয়েটারের ধারা থেকে বের হয়ে নতুনত্ব এনে নাটকটির নির্মাণে আমি ভিন্ন প্রথা অবলম্বন করেছি। আমি চেয়েছি সবশ্রেণীর মানুষের নিকট নাটকটি বোধগম্য হোক। নাটকটিকে দর্শকদের কাছে উপভোগ্য ও হৃদয়গ্রাহী করে তোলার জন্য প্রথাগত নিয়ম ভেঙে নাটকটিকে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছি। নাটকটিতে বঙ্গবন্ধু, বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব ও শেখ রাসেলকে রূপক অর্থে তুলে ধরে ভিন্ন রকমের একটা এক্সপেরিমেন্ট চালিয়েছি। ডি আই জি হাবিব স্যার আমাকে এত বড় সুযোগ দেওয়াতে আমি উনার প্রতি আন্তরিকভাবে অনেক বেশি কৃতজ্ঞ। এই প্রযোজনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা না থাকলে এত বড় কাজ সম্ভব হতো না।

এর আগে শিল্পীদের উত্তরীয় পরিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন নাট্যব্যক্তিত্ব আতাউর রহমান ও লাকী ইনাম। এরপর পুলিশ থিয়েটারকে ফুলেল শুভেচছায় সিক্ত করেন বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

   

ভক্তদের চাহিদা কতোটা পূরণ করলো মিলার ‘টোনা টুনি’



মাসিদ রণ, সিনিয়র নিউজরুম এডিটর, বার্তা২৪.কম
‘টানা টুনি’ মিউজিক ভিডিওতে মিলা

‘টানা টুনি’ মিউজিক ভিডিওতে মিলা

  • Font increase
  • Font Decrease

ঈদ উপলক্ষ্যে নতুন মিউজিক ভিডিও নিয়ে হাজির জনপ্রিয় পপ তারকা মিলা ইসলাম। ‘টোনা টুনি’ নামের গানটিতে যেন সেই এক দশক আগের মিলাকে পাওয়া গেলো। না, শুধু গানের আমেজই নয়, গানটির ভিডিওটি দেখলে বোঝা যাবে এই গানের শুটিংও করা হয়েছে অনেক বছর আগে। কারণ, ‘টোনা টুনি’ মিউজিক ভিডিওতে যে মিলাকে দেখা যাচ্ছে তার সঙ্গে বর্তমানের মিলার চেহারার কোন মিল নেই। এই মিলা সেই ‘রূপবানে নাচে কোমর দুলাইয়া’ কিংবা ‘বাপুরাম শাপুড়ে’র সময়কার মিলা!

গত ১৫ জুন জি সিরিজের ব্যানারে মুক্তি পেয়েছে ‘টোনা টুনি’ গানের ভিডিও। মুক্তির আগে গানটি নিয়ে দারুণ আশাবাদী ছিলেন মিলা। তিনি বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘নতুন গান আসছে ঈদে। আমি খুবই এক্সাইটেড। গানটি যেন হিট হয় সেটাই চাওয়া।’

‘টানা টুনি’ মিউজিক ভিডিওতে মিলা

মিলা তার ভেরিয়ায়েড ফেসবুকে গানের লিংক শেয়ার দিয়েছেন। তাতে ভিউ হয়েছে প্রায় দেড় মিলিয়ন। আর জি সিরিজের ইউটিউব চ্যানেল গানটির ভিউ ৭০ হাজারের কাছাকাছি। গানটি খুব বেশি শ্রোতার কাছে না পৌঁছালেও অনেকেই এই গানে পুরনো মিলাকে দেখে নস্টালজিক হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন।

সমালোচনাও যে আসেনি না কিন্তু নয়! অনেকে লিখেছেন, এই সময়ে এসে এতো আগের একটি গান প্রকাশ করাটা বেমানান। ভিডিওতেও নেই যত্নের ছাপ!

‘টানা টুনি’ মিউজিক ভিডিওতে মিলা ও মডেল অমি

মিলা বহুবার নিজেকে প্রমাণ করেছেন। অ্যালবাম যুগে তিনি ছিলেন অন্যতম চাহিদাসম্পন্ন শিল্পী। মিলা ফিউশন ও লোকধারার গানও গেয়ে থাকেন। মিলা মানেই স্টেজ শো’র প্রধান আকর্ষণ। তাকে সর্বশেষ তিন বছর আগে জি-সিরিজের ‘আইসালা’ শিরোনামের একটি মিউজিক ভিডিও নিয়ে হাজির হতে দেখা যায়। 

নতুন গানটি নিয়ে আশাবাদী মিলা। তিনি বলেন, ‘প্রথমবার আইটেম গানে হাজির হয়েছিলাম বহুল প্রশংসিত ‘রূপবান’ গানে। এরপর আর কখনোই এভাবে দেখা যায়নি আমায়। এরপর অসংখ্য বার আমার ভক্তরা আইটেম গানে দেখার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।’

‘টানা টুনি’ মিউজিক ভিডিওতে মিলা

মিলা বলেন, ‘‘ভক্তদের চাহিদায় ‘টোনা টুনি’ গানটি নিয়ে হাজির হয়েছি। তবে এমন আইটেম গানে আর কখনো হাজির হবো না। ২ বছর আগে গানটি তৈরি করেছি। বেশ সময় নিয়ে কাজটি করেছি যাতে দীর্ঘ সময় পর শ্রোতা-দর্শকরা নিরাশ না হয়। এমন একটি চমক নিয়েই ফিরতে চেয়েছিলাম। অপেক্ষার অবসান। এখন সবার প্রতিক্রিয়া জানার অপেক্ষায়।’

মিলা আরও বলেন, ‘‘টিকটকে সবচেয়ে বেশি যাদের ভিডিও ভিউ হবে এবং পারফর্ম ভালো করবে এমন ১০ জনের সঙ্গে আমি পারফর্ম করব। ‘টোনা টুনি’ গানের কথাগুলো একেবারে আলাদা। আমি ড্যান্সার না তারপরও এই গানের জন্য নাচ করতে হয়েছে। নিজের সেরাটা দিয়ে ভালো করার চেষ্টা করেছি। এতটুকু বলতে পারি বিভিন্ন উৎসব মাতানোর মতো একটি গান হয়েছে। গানটি দিয়ে মঞ্চ মাতানোর অপেক্ষায় আছি।’’

‘টানা টুনি’ মিউজিক ভিডিওতে মিলা

মিলা বলেন, ‘বিভিন্ন কারণে মাঝে কিছু সময় নষ্ট হয়েছে। আর সেটা হতে দিতে চাই না। কারণ আমি জানি আমার শ্রোতা-দর্শক আমাকে কতটুকু চায়। স্টেজ শোর ধারবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। তাছাড়া নতুন গানের কাজও করা আছে। নতুন বছর কয়েকটি গান নিজের মনের মতো করে প্রকাশ করতে চাই।’

;

‘তুফান’-এর সমালোচনায় কাকে হুমকি দিলেন রাফী!



মাসিদ রণ, সিনিয়র নিউজরুম এডিটর, বার্তা২৪.কম
রায়হান রাফী; ‘তুফান’ সিনেমায় শাকিব খান ও মিমি চক্রবর্তী

রায়হান রাফী; ‘তুফান’ সিনেমায় শাকিব খান ও মিমি চক্রবর্তী

  • Font increase
  • Font Decrease

ঈদুল আযহায় মুক্তি পেয়েছে ব্যবসাসফল নির্মাতা রায়হান রাফী পরিচালিত ও শাকিব খান-মিমি চক্রবর্তী-চঞ্চল চৌধুরী অভিনীত সিনেমা ‘তুফান’। ছবিটি দেখতে দর্শক হলমূখী হচ্ছে এই চিত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরপাক খাচ্ছে।

তবে ছবিটি নিয়ে নেতিবাচক রিভিউ কিংবা ঈদের অন্য ছবির প্রযোজক পরিচালকের নেতিবাচক মন্তব্যও রয়েছে। ঈদে মুক্তি পাওয়া ‘রিভেঞ্জ’ সিনেমার পরিচালক মোহাম্মদ ইকবাল ফেসবুকে ইঙ্গিতপূর্ণ ভিডিও বার্তা পোস্ট করেছেন। অনেকেই মনে করছেন তিনি তুফানকে উদ্দেশ্য করেই কথাগুলো বলেছেন। এবার এ প্রসঙ্গে গণমাধ্যমে মুখ খুলেছেন ‘তুফান’-এর নির্মাতা রায়হান রাফী।

রায়হান রাফী

তিনি বলেন, ‘‘পরাণ’ বাদে আমার অন্য কোনো সিনেমার সময় এগ্রেসিভ মার্কেটিং করিনি। এখনও চাচ্ছি না কারো নাম ধরে ছোট করতে। আপনারা সিনিয়র ডিরেক্টর, ভালো মানুষ। আপনারাও কাজ করে যান। আপনার সিনেমার একটা দর্শক নাই হলে। মাল্টিপ্লেক্সগুলো বিপদে পড়ে আপনার সিনেমা চালাচ্ছে। আপনি সেটা নিয়ে চিন্তা না করে আমাদের সিনেমা নিয়ে কথা বলছেন। আমি রাফী অনেক কষ্ট করে এই পর্যায়ে এসেছি। যারা ডিরেক্টর তারা জানে তুফানের মত সিনেমা বানানো কত ডিফিকাল্ট। দর্শক তাদের ভালো লাগা খারাপ লাগা বলুক। কিন্তু অন্য কোনো প্রতিপক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নেগেটিভ কথা বললে আমি এমন কথা বলবো যে আপনারা লজ্জায় আর সিনেমাই বানাতে পারবেন না। সুতরাং আমার সিনেমা নিয়ে কথা বলার আগে চিন্তা করে বলবেন।’

‘তুফান’ সিনেমার ‘উরাধুরা’ গানে প্রীতম, শাকিব খান, মিমি চক্রবর্তী ও রায়হান রাফী

রায়হান রাফী আরও বলেন, ‘যারা উস্কানিমূলক কথা বলছে তাদের উদ্দেশ্যে আমার প্রশ্ন, তাদের কোন সিনেমাটি হিট হয়েছে? সে-ই অন্যের সিনেমা নিয়ে কমেন্ট করতে পারবে যার সিনেমা দর্শক দেখে। যার সিনেমা দর্শক দেখে না তার অন্যের সিনেমা নিয়ে কমেন্ট করার অধিকার নেই। বিনোদন সাংবাদিকদের বলব, তাদের কমেন্ট আপনারা নেবেন না। কারণ তারা চায় এ ধরনের আজেবাজে মন্তব্য করে ভাইরাল হতে! তারা চিন্তা করে উল্টা পাল্টা কিছু বলব, আর ভাইরাল হয়ে যাবো! তাদের ভাইরাল আপনারা করেছেন। তবে আমি এ ধরনের ভাইরাল মানুষদের কথা শুনি না। আমি তাদের কথা শুনব যাদের কাছ থেকে কিছু শিখতে পারবো। যার সিনেমা একদিনও হলে চলে না তার কথার উত্তর আমি কেন দেব? সে তো চায় আমি তার কথা উত্তর দিই। কিন্তু আমি তার সেই চাওয়া পূরণ করবো না।’

রায়হান রাফী

যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় তুফান-এর নেতিবাচক প্রচারণা চালাচ্ছে তাদের উদ্দেশ্যে রায়হান রাফী বলেন, ‘‘যারা এ ধরনের কাজ করছে তাদের আমি ধন্যবাদ দিতে চাই। কারণ তারা বিনা পয়সায় আমাদের সিনেমার প্রচার করছেন। তারা যতো ‘তুফান’ নিয়ে কথা বলবে ততো বেশি মানুষের কাছে তুফান-এর নাম পৌঁছবে। ঈদের আগে তারা এ ধরনের প্রচারণা করেছে, কিন্তু দর্শক ‘তুফান’ উৎসাহ নিয়ে দেখছে। আপনারা আরো প্রচারণা করুন, তাহলে আরও দর্শক হলে আসবে ‘তুফান’ দেখতে। আপনাদের প্রচারণার জন্যই দর্শক ‘তুফান’-এর টিকিট পাচ্ছে না।’’

;

বেবি বাম্প নিয়ে সিনেমার প্রচারে, তবুও প্রশ্নবিদ্ধ দীপিকা!



মাসিদ রণ, সিনিয়র নিউজরুম এডিটর, বার্তা২৪.কম
দীপিকার যে বেবি বাম্প দেখা যাচ্ছে সেটি হতে পারে ফেক!

দীপিকার যে বেবি বাম্প দেখা যাচ্ছে সেটি হতে পারে ফেক!

  • Font increase
  • Font Decrease

বলিউড সুপারস্টার দীপিকা পাড়ুকোনের মা হওয়ার খবর সামনে আসার পর থেকেই নেটিজেনদের একাংশ খবরটি বিশ্বাস করতে চাননি! অবশেষে বেবি বাম্প নিয়ে প্রকাশ্যে আসেন এই প্রখ্যাত তারকা। একাধিকবার বেবি বাম্পের ছবিও প্রকাশ করেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়।

সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে মুম্বাইয়ে স্বামী রণবীরের সঙ্গে ভোট দিতে আসার সময়ই দীপিকার বেবি বাম্প দেখা গিয়েছিল। তবে এবার নিজের প্রতিক্ষীত ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’ ছবির এক ইভেন্টে বেবি বাম্প নিয়ে হাজির হন দীপিকা। গত বুধবার সোশ্যাল মিডিয়ায় দীপিকা সেই ছবিও পোস্ট করেন। তাতে দেখা যায় কালো রঙের লং পোশাকে দীপিকা। আর সেখানেই তিনি তার বেবি বাম্পে হাত দিয়ে পোজ দিয়েছেন। মুখে একগাল হাসি। অন্য ছবিতে শুধুমাত্র তার বেবি বাম্পকে হাইলাইট করা হয়েছে। এই ছবি পোস্ট করে দীপিকা ক্যাপশনে লেখেন, ‘ব্যস, যথেষ্ট। আমার এখন খিদে পেয়েছে।’ আর তাতেই শুভেচ্ছা বার্তা লিখে পাঠাচ্ছেন ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’ ছবির ইভেন্টে দীপিকা, প্রভাস ও অমিতাভ বচ্চন

দীপিকা অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর শেয়ার করে নেওয়ার পরেও শ্যুটিং চালিয়ে গিয়েছিলেন তার নতুন ছবির। সেই সময়ে স্পষ্ট ছিল না তার বেবি বাম্প। অনেকেই সেই সময়ে মনে করেছিলেন, সম্ভবত সারোগেসি পদ্ধতির মাধ্যমে দীপিকার সন্তান পৃথিবীতে আসছে। এমনকি বেবি বাম্প দেখার পরও অনেকে দীপিকার মাতৃত্ব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন। শুধু নেটিজেন নয়, ড. গৌরী আগারওয়াল নামে একজন চিকিৎসকও সাংবাদিক শুভঙ্কর মিশ্র’র জনপ্রিয় হিন্দি পডকাস্টে বলিউডে সারোগেসি’র প্রবণতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তুলে এনেছেন দীপিকার প্রসঙ্গ!

উপস্থাপক শুভঙ্কর তাকে প্রশ্ন করেন, রণবীর কাপুর আর আলিয়া ভাটের কন্যা রাহাও কী তাহলে সারোগেসির মাধ্যমে হয়েছে? ড. গৌরী আগারওয়াল বলেন, এখন আর সেটি বলা যাচ্ছে না। কারণ তাদের কন্যা সন্তান হয়েছে। সারোগেসি হলে অবশ্যই সন্তানটি পুত্র হতো!

দীপিকার যে বেবি বাম্প দেখা যাচ্ছে সেটি হতে পারে ফেক!

এরপর উপস্থাপক দীপিকার বেবি বাম্পের বিষয়টি সামনে আনলে সেই চিকিৎসক বলেন, দীপিকার বিষয়টি সময়ই বলে দেবে। তার যে বেবি বাম্প দেখা যাচ্ছে সেটি হতে পারে ফেক!

প্রসঙ্গত, দীপিকা ও রণবীর ফেব্রুয়ারিতেই ঘোষণা করেন যে তারা দুই থেকে তিন হতে চলেছেন। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরেই তাদের প্রথম সন্তান আসতে চলেছে। ২০১৮ সালের নভেম্বরে বিয়ে হয় দীপিকা-রণবীরের। বিয়ের ৬ বছর পর তাদের জীবনে নতুন অতিথি আসছে। মা হতে চলেছেন তিনি, নিজের খেয়াল রাখার সঙ্গে সঙ্গে বজায় রাখছেন কাজও। পরিচালক নাগ অশ্বিনীর কল্কি ছবিতে দেখা যাবে দীপিকাকে। সায়েন্স ফিকশন এই ছবিতে দেখা যাবে প্রভাস, অমিতাভ বচ্চন, কমল হাসান, রানা ডাগুবাতি, দিশা পাটানিসহ একাধিক তারকাকে।

‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’ ছবির ইভেন্টে বেবি বাম্প নিয়ে হাজির হন দীপিকা

;

শাকিব খানের বিয়ে নিয়ে যা বললেন অপু বিশ্বাস



মাসিদ রণ, সিনিয়র নিউজরুম এডিটর, বার্তা২৪.কম
শাকিব খান ও অপু বিশ্বাস / ছবি : ফেসবুক

শাকিব খান ও অপু বিশ্বাস / ছবি : ফেসবুক

  • Font increase
  • Font Decrease

কিছুদিন আগেই সুপারস্টার শাকিব খানের নতুন বিয়ে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ভালোই ব্যস্ত ছিল। একাধিক গণমাধ্যমে খবর আসে, শাকিব খানকে তার পরিবার আবারও বিয়ে দেবেন শিগগিরই। শুধু তাই নয়, পাত্রী নাকি একজন চিকিৎসক।

এরপর তো একাধিক চিকিৎসক পাত্রী নিজেদের সঙ্গে শাকিব খানের নাম জুড়ে দিয়ে ভাইরাল হওয়ার চেষ্টা করেন! তবে এখন সেই আলোচনা মোটামুটি স্থগিত আছে। এখন বরং শাকিব খান আলোচনায় তার ঈদের সিনেমা ‘তুফান’ নিয়ে। এই ছবির মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। একদিকে শোনা যাচ্ছে, ‘তুফান’-এর টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না, অন্যদিকে যারা দেখেছেন তাদের কেউ কেউ সোশ্যাল মিডিয়ায় নেতিবাচক রিভিউ দিয়েছেন।

অপু বিশ্বাস / ছবি : ফেসবুক

অবাক করা বিষয় হলো, শাকিব খানকে নিয়ে উঠে আসা যে কোন প্রসঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় তার দুই সন্তানের মা অপু বিশ্বাস এবং শবনম বুবলীকে। কিন্তু তার নতুন বিয়ের ব্যাপারে একেবারেই কোন কথা বলেননি এই দুই নায়িকা। অবশেষে মৌনতা ভাঙলেন অপু বিশ্বাস। ঈদের আড্ডা অনুষ্ঠানে অভিনেতা সজলের সঙ্গে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে হাজির হন অপু। সেখানে সজলের বিয়ে প্রসঙ্গে কথা উঠলে অপু বেশ খুনসুটিতে মেতে ওঠেন!

এক পর্যায়ে শাকিব খানের নতুন বিয়ের বিষয়ে অপুকে মন্তব্য করতে বলা হলে তিনি উপস্থাপককে বলেন, ‘শাকিবের বিয়ের বিষয়টি তো আমার মুখ থেকে আসেনি। এটা এসেছে অন্য কারও মুখ থেকে। ফলে এটা নিয়ে তারাই ভালো মন্তব্য করতে পারবেন। যেহেতু একটি অন্য কারও মন্তব্য সেহেতু এটি নিয়ে কথা বলা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।’

অপু বিশ্বাস / ছবি : ফেসবুক

অপু সেই অনুষ্ঠানে নিজের বিতর্ক নিয়েও কথা বলেন। সামাজিক মাধ্যমে তাকে নিয়ে এতো ধরনের আলোচনা-সমালোচনা, ট্রল, বিতর্ক তিনি কিভাবে সামলান জানতে চাইলে অপু বিশ্বাস বলেন, ‘নেগেটিভিটি মানেই আকর্ষন। এজন্যই সবাই নেতিবাচক কোন বিষয় পেলে সেটি নিয়ে বেশি মাতামাতি করে। কিন্তু আমি ক্যামেরার সামনেই বিনোদন সাংবাদিকদের ধন্যবাদ দিতে চাই। আমি জীবনে তাদের জন্য কিছুই করতে পারিনি। তারপরও তারা আমাকে অত্যন্ত পছন্দ করেন। ফলে তারা আমার বিষয়গুলো যত্নের সঙ্গে ডিল করেন। আর আমি নিজে যে কোন পরিস্থিতিতেই সত্যের পক্ষে থাকি। কেউ আমাকে নিয়ে অযথা বিতর্ক ছড়ালেও আমি পাত্তা দেই না, আর কেউ আমাকে অতিরিক্ত প্রশংসা করলেও খুশি হই না। আমি আমার ট্রাকে চলি। কেউ কনফিউসড করার চেষ্টা করলে সেখানে একদম চুপ হয়ে যাই।’

অপু বিশ্বাস / ছবি : ফেসবুক

অপু কেন সিনেমা করছেন না এমন প্রশ্নের উত্তরে এই নায়িকা বলেন, ‘প্রতিটি মানুষ একটি নতুন বছর কিভাবে সাজাবে সেটি মাথায় রাখে। যদিও সব সময় পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ করা যায় না। তারপরও বেসিক কিছু পরিকল্পনা তো থেকেই যায়। আমি সেই পরিকল্পনা অনুযায়ি চলছি। আমি জানি কখন আমি কি করবো, কখন নতুন সিনেমার শুটিং শুরু করব। বাকীটা তো প্রকাশ্যে আসার পর সবাই দেখতেই পাবেন।’

;