ঢাকা ছেড়ে গ্রামে থিতু হতে চান রুনা খান, কেন?



মাসিদ রণ, সিনিয়র নিউজরুম এডিটর, বার্তা২৪.কম
রুনা খান / ছবি : নূর এ আলম

রুনা খান / ছবি : নূর এ আলম

  • Font increase
  • Font Decrease

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী রুনা খান। অভিনয় শুরু বিটিভির তুমুল জনপ্রিয় শিক্ষামূলক ধারাবাহিক শিশুতোষ অনুষ্ঠান ‘সিসিমপুর’ দিয়ে। সুমনা নামের এক স্কুল শিক্ষিকার চরিত্রে সাবলিল অভিনয়ের জন্য রুনার তেমনি এক ইমেজ তৈরী হয় দর্শকমহলে।

আমাদের দেশের শোবিজের একটি অলিখিত নিয়ম হলো, একজন তারকা যখন একটি চরিত্রে সাড়া ফেলেন, তাকে ওই একই চরিত্রে বার বার ডাকা হয়। ফলে রুনাকে ওই একই ধাচের চরিত্রে অভিনয় করতে হয়েছে দীর্ঘকাল। ফলে রুনার পাশের বাড়ির মেয়ের ইমেজ, কিংবা পুরুষ শাষিত সমাজে নারীদের সেভাবে দেখতে পছন্দ করা হয় তেমন চরিত্রেই তাকে বেশি কাজ করতে হয়েছে।

রুনা খান / ছবি : নূর এ আলম

কিন্তু রুনা বরাবরই নিজেকে মেলে ধরতে চেয়েছেন নানা ধরনের চরিত্রে। সম্প্রতি শারিরিকভাবে ফিট হয়ে তেমনি কিছু কাজ তিনি করছেন। বিশেষ করে তার সাম্প্রতিক ফটোশ্যুট দেখে অনেকেই বলে থাকেন, তিনি নাকি আগের থেকে অনেক বদলে গেছেন। তাকে উচ্চাকাঙ্ক্ষী, উচ্চাভিলাসী বলতেও কুণ্ঠাবোধ করেন না নেটিজেনরা। কিন্তু তারা বুঝতেই পারেননি রুনার মনের গহীনের কথা।

আজ সোশ্যাল মিডিয়ায় দীর্ঘ এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে সে কথাই তিনি তুলে ধরেছেন। তা পড়লে এই তারকাকে আর যাই বলা হোক না কেন, উচ্চাকাঙ্ক্ষী কিংবা উচ্চাভিলাসী বলা যাবে না। কারণ তিনি শুধু তারকাজীবনের ঝকমকে দুনিয়ায় বিশ্বাসী নন, তিনি সমানভাবে বাংলার আটপৌরে জীবনেও বিশ্বাসী।

রুনা খান / ছবি : নূর এ আলম

রুনা তার একমাত্র কন্যা রাজেশ্বরীর তিনটি ছবির একটি কোলাজ শেয়ার করে লিখেছেন, ‘এই গ্রামটার নাম মসদই, আমার দাদীবাড়ি। দাদাবাড়ি নয়, দাদীরই বাড়ি। আমার দাদী রাবেয়া খানম তার বাবার একমাত্র মেয়ে ছিলেন। বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর বাবার ভিটাবাড়ী-ধানি জমি যা ছিলো সব একমাত্র উত্তরাধিকার সুত্রে তিনি পান। বিয়ের পর স্বামীকে নিয়ে নিজের গ্রামে-বাড়ীতে বসবাস শুরু করেন। এই গ্রামেই জন্ম আমার বাবা, চাচা, ফুপুর। পরে আমি, আমার ভাই..। আমার দাদার পৈত্রিক বাড়ি ঠিক এই গ্রাম থেকে তিন গ্রাম পর। ঐ গ্রামের নাম বরটিয়া। দাদী কে ‘দাদু’ ডাকতাম আমি। আমার বাবা ছিলেন পরিবারের বড় ছেলে। আর আমি আমার বাবার পরিবারে প্রথম সন্তান। দাদুবাড়ি বলতে আমি-আমরা সারাজীবন মসদইকেই বুঝেছি, বরটিয়াকে নয়। ৯০ সালে আমার দাদী প্রয়াত হন। সত্যি বলতে আমি আর আমার ভাই ছাড়া, আমার আর কোন কাজিনের স্মৃতিতে দাদী নেই, কারণ তাদের জন্মই হয়নি তখন। কিন্তু আমার ৬-৭ বছরের শিশু-মনের স্মৃতিতে রাবেয়া খানম ‘সবুজ স্নেহ-ভান্ডারের মূর্তি’।’

রাজেশ্বরীর ছবি দুটো ২০১৩ তে তোলা, তার ৩ বছর বয়সে

রুনা আরও লিখেছেন, ‘রাজেশ্বরীর নীচের ছবি দুটো ২০১৩ তে তোলা, মেয়ের ৩ বছর বয়সে। নিজের উপার্জনের টাকায় মসদই-এ এই জমি কিনেছি আমি। আমার নিজের উপার্জনে প্রথম এবং একমাত্র বৈষয়িক-সম্পত্তি! এ দেশের বেশীর ভাগ মানুষ গ্রামের পর শহুরে জীবন কাটিয়ে শেষ জীবন ইউরোপ-আমেরিকার মত উন্নত বিশ্বে কাটানোর চেষ্টা-চিন্তা করে। সেটাতেই হয়তো তাদের আরাম। কিন্তু এই সবুজ ধান, হলুদ সর্ষে, বৃষ্টি ভেজা বেলেমাটির সুঘ্রান এমনভাবে আমার মস্তিস্কের রন্ধ্রে-রন্ধ্রে গেঁথে আছে, আমি কেবল এই সবুজ-হলুদের মাঝে ফিরে যেতে চাই!’

রুনা খান / ছবি : নূর এ আলম

এরপর রুনা তার মনের বাসনার কথাটা বলেছেন। যাতে বোঝা যায় তিনি কতোটা মাটির কাছের মানুষ। তার ভাষ্য, ‘মেয়েটা বড় হয়ে নিজের দায়িত্ব নিজে নিতে শিখে গেলেই, আমি ইডাব্লিউকে (তারা স্বামী এষন ওয়াহিদ) পোঁটলায় ভরে নিয়ে রাবেয়া খানমের (তার দাদী) সবুজ-হলুদ ভান্ডারে গিয়ে ছোট্ট একখানা মাটির ঘর তুলে বসতি গড়বো! শুরুতে ইডাব্লিউ অনেক ক্যাউ-ম্যাউ করবে! পোকা-পিঁপড়া.. উহুহহহ, লোকটা বারান্দায় পানের পিক ফেলে গেলো, দেখছো.. মুরগী মল ত্যাগ করলো.. এসব বলে! তবে এসব জটিলতাও আমি কাটিয়ে উঠতে পারবো আশা করি। কারণ ইডাব্লিউকে বশ করার মন্ত্র আমি জানি।’

কন্যা রাজেশ্বরী ও স্বামী এষন ওয়াহিদকে নিয় রুনা খান

সবশেষে রুনা লিখেছেন, ‘আমি সবুজে জন্মেছি, সবুজে বড় হয়েছি, তাই আমার পুরো মাথা জুড়ে সবুজ। ইডাব্লিউ’র জন্ম-শৈশব-কৈশোর-প্রেম-যৌবন-সংসার-মধ্যবয়স-সাপ্তাহিক সান্ধ্যকালীন অবকাশ-আড্ডা সব এই শহরে! এমন একটা লোককে পিঁপড়া,পানের পিক, মুরগীর মলের সাথে খাপ খাওয়ানো শেখাতে আমাকে তো একটু এফোর্ট দিতেই হবে, তাইনা? বুদ্ধি হবার পর থেকে আমি আমার আশেপাশের গুরুত্বপূর্ণদের জন্য এফোর্ট দিয়ে যাচ্ছি, বুড়াকালেও এফোর্ট দেবার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি..। একদিন এই সবুজে-হলুদে ফেরত যাবো..!’

রুনা খান / ছবি : নূর এ আলম
   

ট্রেন্ড বুঝে ঈদের পোশাক কিনেছি : পারসা ইভানা



মাসিদ রণ, সিনিয়র নিউজরুম এডিটর, বার্তা২৪.কম
পারসা ইভানা

পারসা ইভানা

  • Font increase
  • Font Decrease

শোবিজ তারকাদের সবকিছু নিয়েই দর্শকের আগ্রহ থাকে। কোরবানির ঈদের সময় তারা জানতে চান প্রিয় তারকারা কোথায় ঈদ কাটাবেন, কি পোশাক পরবেন, কি খাবেন কিংবা কোথায় ঘুরবেন ইত্যাদি বিষয়। জনপ্রিয় তারকার ঈদের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মাসিদ রণ

পারসা ইভানা, অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী
কোরবানির ঈদটা এবার ঢাকাতেই কাটাচ্ছি। সর্বশেষ তিন বছর আম্মু কোরবানির সময় আমাদের সঙ্গে থাকেন না। এবার আমাদের সঙ্গে তিনি ঈদ করছেন না। ফলে আমাকে আর ছোট ভাইকে ঈদ কাটাতে হচ্ছে।

পারসা ইভানা
 

রান্না তো আমাকে করতেই হতো। গরুর কালা ভুনা রান্না করতে পারি। সেটা এবার করার ইচ্ছে ছিল। কিছু ডেজার্ট আইটেমও রান্না করেছি। এছাড়া দাওয়াত তো থাকেই। খালা আর ফুফুর বাড়িতে যেতেই হয় ঈদের সময়।

পারসা ইভানা 

আর ঈদের দিন আমি সব সময় সালোয়ার কামিজই পরি। খুব আরাম লাগে। আমাকে দেখতে যেন স্নিগ্ধ লাগে, চোখে আরাম দেয় এমন কালারই বেছে নিই। তবে ডিজাইনটা অবশ্যই স্টাইলিশ হতে হবে। ঈদের জামা কেনার সময় শপিংয়ে গিয়ে দেখি এবার কোন ট্রেন্ড চলছে। সেসব বিবেচনা করেই ঈদের জামাটা চয়েস করেছি।

;

আমার দর্শক ভক্তদের ঈদের শুভেচ্ছা: সিয়াম আহমেদ



মাসিদ রণ, সিনিয়র নিউজরুম এডিটর, বার্তা২৪.কম
সিয়াম আহমেদ (চিত্রনায়ক) / ছবি: বার্তা২৪

সিয়াম আহমেদ (চিত্রনায়ক) / ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

শোবিজ তারকাদের সবকিছু নিয়েই দর্শকের আগ্রহ থাকে। কোরবানির ঈদের সময় তারা জানতে চান প্রিয় তারকারা কোথায় ঈদ কাটাবেন, কি পোশাক পরবেন, কি খাবেন কিংবা কোথায় ঘুরবেন ইত্যাদি বিষয়। জনপ্রিয় তারকার ঈদের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মাসিদ রণ

সিয়াম আহমেদ, চিত্রনায়ক
ছোটবেলায় কোরবানির ঈদের কথা বলতে গেলে সবচেয়ে আগে মনে পড়ে বাবার সঙ্গে গরু কিনতে হাটে যাওয়ার কথা। বাবা অনেক দেখেশুনে গরু কিনতেন। গরু কেনার পর গরুর দড়ি ধরে বাসায় নিয়ে আসার আনন্দটা এখনো অনুভব করি।

সিয়াম আহমেদ (চিত্রনায়ক) / ছবি: বার্তা২৪

গরু কিনে যখন বাবা টাকা পরিশোধ করতেন তখন ভাবতাম যদি আমি বাবাকে গরু কেনার টাকাটা দিতে পারতাম। সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। পয়সা উপার্জনের পর থেকে প্রতি ঈদে কোরবানির গরু কেনার জন্য বাবাকে আলাদা করে টাকা দিই। এই কাজটা করতে খুবই ভালো লাগে। কিন্তু ছোটবেলার ঈদের যে আনন্দ তার ছিটেফোঁটাও যেন এখন অনুভব হয় না। আমার সব দর্শক ভক্তদের জানাই ঈদের শুভেচ্ছা।

সিয়াম আহমেদ (চিত্রনায়ক) / ছবি: বার্তা২৪

;

চাটগাইয়া স্পেশ্যাল কালা ভুনা রান্না করব : সাবিলা নূর



মাসিদ রণ, সিনিয়র নিউজরুম এডিটর, বার্তা২৪.কম
সাবিলা নূর / ছবি : বার্তা২৪

সাবিলা নূর / ছবি : বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

শোবিজ তারকাদের সবকিছু নিয়েই দর্শকের আগ্রহ থাকে। কোরবানির ঈদের সময় তারা জানতে চান প্রিয় তারকারা কোথায় ঈদ কাটাবেন, কি পোশাক পরবেন, কি খাবেন কিংবা কোথায় ঘুরবেন ইত্যাদি বিষয়। জনপ্রিয় তারকার ঈদের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মাসিদ রণ

সাবিলা নূর, মডেল ও অভিনেত্রী
এবার কোরবানিতে আমি আসলে বেশ কয়েক পদ রান্না করব। কারণ এবার আব্বু আর আম্মু দেশে নেই। বড় বোনের বাড়িতে বেড়াতে আমেরিকা গিয়েছেন। ফলে ঈদের পুরোটা সময় শশুরবাড়িতে কাটাবো। শশুরবাড়ির সবার জন্যই মূলত রান্না করব। অনেকেই জানেন আমি চট্টগ্রামের মেয়ে। তাই কোরবানিতে চাটগাইয়া স্পেশ্যাল কালা ভুনা না হলে কী জমে? এই পদটি অবশ্যই রান্না করব। সঙ্গে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানীও করার ইচ্ছে আছে। সময় সুযোগ হলে সেটিও করে ফেলব।

সাবিলা নূর / ছবি : বার্তা২৪

রান্নার বাইরে পরিবারের সবার সঙ্গে আনন্দ আড্ডায় দিন পার হবে যাবে আশা করি। এই কাজটিই ঈদের সময় সবচেয়ে উপভোগ করি। কারণ সারা বছর শুটিংয়ের জন্য বাইরে বাইরেই থাকতে হয়। ঈদে যেহেতু শুটিং থাকে না, তাই এই পুরো সময়টা আমি আসলে পরিবারের সঙ্গেই থাকতে পছন্দ করি। এজন্য কোন ঘোরাঘুরির পরিকল্পনাও রাখিনি। যা ঘোরার ক’দিন আগে ঘুরে এসেছি দেশের বাইরে থেকে।

সাবিলা নূর / ছবি : বার্তা২৪

ঈদে একেবারেই যে বাইরে যাবো না, তা কিন্তু নয়। এবার ঈদেও আমাদের সিনেমাহলে অনেকগুলো ভালো ছবি মুক্তি পাবে বলে শুনছি। সেগুলো থেকে কয়েকটি তো হলে গিয়ে দেখতেই হবে।

;

নিজে হাটে গিয়ে গরু কিনেছি : সাফা কবির



মাসিদ রণ, সিনিয়র নিউজরুম এডিটর, বার্তা২৪.কম
সাফা কবির / ছবি: বার্তা২৪

সাফা কবির / ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

শোবিজ তারকাদের সবকিছু নিয়েই দর্শকের আগ্রহ থাকে। কোরবানির ঈদের সময় তারা জানতে চান প্রিয় তারকারা কোথায় ঈদ কাটাবেন, কি পোশাক পরবেন, কি খাবেন কিংবা কোথায় ঘুরবেন ইত্যাদি বিষয়। জনপ্রিয় তারকার ঈদের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মাসিদ রণ-

সাফা কবির, মডেল ও অভিনেত্রী
ঈদে আমি খুব একটা সাজগোজ করি না। সাদা ছিমছাম পোশাক পরি। আম্মুকে বাড়ির কাজে সাহায্য করি। তবে ভক্ত দর্শক জানতে চান, আমি ঈদে কিভাবে কাটাচ্ছি, কি খাচ্ছি, কিরকম সাজগোজ করছি। তাই ঈদের দিন বিকেল বেলা আমার ভক্তদের জন্যই স্পেশ্যালি রেডি হই। তখন একটু কালারফুল পোশাক পরা হয়। তবে অনেক বেশি গর্জিয়াস পোশাক আমি পরি না। ঈদের ছবি সবার সঙ্গে শেয়ার করি, ভক্তরা খুশি হন।

সাফা কবির / ছবি: বার্তা২৪

তবে কোরবানির ঈদে আমার ব্যস্ততা বেশ আগে থেকেই শুরু হয়। কারণ অনেকেই জানেন, আমার বাবা দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে থাকেন। সব ঈদে তিনি দেশে ফিরতে পারেন না। তাই আমাকে আর মাকেই ঈদ করতে হয়। মায়ের এখন বয়সও হচ্ছে। তাই অনেক কাজে সরাসরি আমাকেই এগিয়ে আসতে হয়। যেমন কোরবানির গরু কেনা। এবারও আমি নিজে হাটে গিয়ে গরু কিনেছি। ঈদের ঠিক আগের দিন শুটিংয়ের সব ব্যস্ততা শেষ করে ফেলেছি। এরপর গরুর হাটে গিয়েছি। এই কাজটি করতে প্রথমে ভয় ভয় লাগলেও এখন আমি বেশ উপভোগ করি।

সাফা কবির / ছবি: বার্তা২৪

;