ওস্তাদ রশিদ খান স্মরণে জয় গোস্বামীর লেখা



মাসিদ রণ, সিনিয়র নিউজরুম এডিটর, বার্তা২৪.কম
জয় গোস্বামী ও প্রয়াত ওস্তাদ রাশিদ খান

জয় গোস্বামী ও প্রয়াত ওস্তাদ রাশিদ খান

  • Font increase
  • Font Decrease

ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের কিংবদন্তি শিল্পী ওস্তাদ রশিদ খান আর নেই। কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ মঙ্গলবার বেলা ৩টা ৪৫ মিনিটে না ফেরার দেশে চলে গেলেন এই কিংবদন্তি। রশিদ খানের বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর।

এই গুণী শিল্পীর অকালে চলে যাওয়ায় সংগীতাঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ২০০৬ সালে পদ্মশ্রী ও ২০২২ সালে পদ্মভূষণ সম্মান লাভ করেন ওস্তাদ রশিদ খান। পদ্মভূষণ পাওয়ার পর তাকে নিয়ে জনপ্রিয় কবি জয় গোস্বামীর একটি লেখা প্রকাশিত হয়েছিল কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকায়। তার স্মরণে সেই লেখাটি তুলে ধরা হলো পাঠকদের জন্য-

‘‘এক সত্যিকারের সুসংবাদ এসে পৌঁছেছে শাস্ত্রীয় সঙ্গীত জগতে। ওস্তাদ রাশিদ খান ‘পদ্মভূষণ’ সম্মান লাভ করেছেন। পশ্চিমবঙ্গের পক্ষেও এ এক বড় সম্মান, কেননা ওস্তাদ রাশিদ খান কলকাতায় বাস করেন এবং তিনি বাংলার আপনজন। ওস্তাদ রাশিদ খানের গান আশির দশক থেকে শুনে আসছি। তাকে আমি পরিবারের সদস্য বলেই মনে করি। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওস্তাদ রাশিদ খানকে আগেই সঙ্গীত মহাসম্মান ও বঙ্গবিভূষণে ভূষিত করেছেন। সেই সব অনুষ্ঠানে দু’-এক মিনিটের সৌজন্য সাক্ষাতের সূত্রে তাকে পরিবারের সদস্য হিসেবে দাবি করছি না। তার গান আমরা তিন জনে, অর্থাৎ আমি, কাবেরী ও বুকুন, একসঙ্গে শুনে থাকি প্রায়ই। আমাদের ঘরে তার গান পৌঁছনো মানেই তিনি ঘরের লোক হয়ে উঠেছেন।

কবি জয় গোস্বামী

ওস্তাদ রাশিদ খান তার দাদু ওস্তাদ নিসার হুসেন খানের কাছে প্রাথমিক তালিম পেয়েছিলেন এ কথা সকলেই জানি। তবে রাশিদ খানের গাওয়া ছায়ানট রাগের ‘ঝনক ঝনক ঝন নন নন নন বাজে বিছুয়া’ বন্দিশটি যারাই শুনেছেন তারা জানেন, রাগটি তিনি অবিকল ওস্তাদ নিসার হুসেন খানের ধরনে পরিবেশন করেননি। ওস্তাদ নিসার হুসেনের গাওয়া এই বন্দিশটি দ্রুত তিন তালে নিবদ্ধ। অন্য দিকে ওস্তাদ রাশিদ খান বন্দিশটি গেয়েছেন মধ্য লয়ে— অনেক ধীরে চলেছেন তিনি। গানের প্রথম শব্দ ‘ঝনক’ কথাটিতে মধ্য সপ্তকের আরম্ভের সা থেকে মন্দ সপ্তকের পঞ্চম পর্যন্ত নেমে গিয়ে আবার উঠতে থাকে বন্দিশটি। এই অংশে রাশিদ খানের কণ্ঠের গম্ভীর মন্দ্রতা যেন এই বন্দিশটির সূচনায় এক সতেজ সুরদীপ্তি দেয়। আবার মালবিকা কাননের গাওয়া ছায়ানট-এর একই বন্দিশ যারা শুনেছেন, তারা বুঝবেন বড় বড় শাস্ত্রীয় শিল্পীর গান শুনতে শুনতে রাশিদ খান তৈরি করেছেন তার নিজস্ব এক গায়কী। তার মারওয়া রাগে গাওয়া ক্যাসেটটির বিলম্বিত অংশে ওস্তাদ আমির খানকে মনে পড়েছিল বটে— কিন্তু সে-ক্যাসেট বেরিয়েছিল তিরিশ বছরেরও বেশি আগে। পরে আর ওই বিলম্বিত বিস্তারের ধরন রাশিদ খানের গানে প্রবেশ করতে পারেনি।

তার আরও দু’টি বড় গুণবাচক দিক নিশ্চয়ই শ্রোতাদের কানে ধরা পড়েছে- তা হল একই রাগ, তিনি দু’বার ঠিক একই রকম ভাবে পরিবেশন করেন না, রাগটিকে প্রতিবার নতুন রাস্তায় এগিয়ে নেওয়ার দিকে তার সুরকল্পনা কাজ করে। শ্যামকল্যাণ রাগে তার যে সিডি পাওয়া যায়, সেখানে আরম্ভে, আওচারের সময়ে তীব্র মধ্যমটি লাগান একটু দেরি করে। শ্রোতাদের আকুলতা বাড়িয়ে তবে পৌঁছন কড়িমা পর্দাটিতে। আবার কলামন্দিরে একবার শ্যামকল্যাণ রাগে তীব্র মধ্যমে আসতে এতই সময় নিলেন তিনি যে শ্রোতারা ব্যাকুল উঠলেন। ওস্তাদ শাহিদ পারভেজের সেতারের সঙ্গে তার যুগলবন্দির রেকর্ডটি চিরস্মরণীয় হয়ে আছে— রাগ বাগেশ্রীর রূপায়ণে দু’জনের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল না— বরং ছিল রাগটির রূপমাধুর্যকে খুলে ধরা, ছিল নানা বৈচিত্র্যপূর্ণ সুরের রাস্তা ধরে ধরে এগোনো।

শরৎ সদনে এক বার গৌড় সারং শুনেছিলাম। রাগের মধ্যে লুকিয়ে থাকা বেহাগের জায়গাটি কেমন ভাবে এসে চলে যায়, তা হঠাৎ চমকের মতো এলেই ফিরিয়ে নিচ্ছিলেন ওস্তাদ রাশিদ খান। অত্যন্ত সংযম ও পরিমিতি বোধের পরিচয় ছিল সেখানে। গৌড় সারংকে কেন ‘দিন কা বেহাগ’ বলা হয়, শ্রোতারা অনুভব করেছিলেন সে দিন।

প্রয়াত ওস্তাদ রাশিদ খান

ওস্তাদ রাশিদ খানের কাছে আমি বিশেষ কৃতজ্ঞ অন্য একটি কারণে। আমি অন্তত দু’বার তার গাওয়া রবীন্দ্রসঙ্গীত শুনেছি। প্রথম বার শুনেছিলাম গ্র্যান্ড হোটেলে আনন্দ পুরস্কার প্রদানের অনুষ্ঠানে। প্রথমে একটু ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। কারণ তিনি শ্রী রাগের আওচার ধরেছিলেন, একেবারে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ধরনে। আমার আতঙ্ক জন্মাচ্ছিল, হয়তো রবীন্দ্রনাথের বাণীর উপর উক্ত রাগটির নানাবিধ সুরকৌশল ও অলঙ্করণ প্রয়োগ করবেন তিনি। রবীন্দ্রগানে বাণীর যে-শুদ্ধতা, তা বুঝি বা ছিঁড়েখুঁড়ে যাবে। রবীন্দ্রনাথ তো তার গানকে বাহুল্যমুক্ত করতেই চেয়েছিলেন। অথচ আশ্চর্য হয়ে দেখলাম, যখন গানের বাণীতে প্রবেশ করলেন, কোথাও একটিও অতিরিক্ত স্বর প্রয়োগ করলেন না। একাগ্র মনে গেয়ে চললেন ‘কার মিলন চাও বিরহী’, শ্রী রাগের আত্মা প্রতিষ্ঠিত হল যেন সংযমী গায়নে। দ্বিতীয় গানটি ছিল ‘কে বসিলে আজি হৃদয়াসনে ভুবনেশ্বর প্রভু’। সিন্ধুরাগে আশ্রিত এই গানের শুরুতে আবারও শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ধরনেই আওচার রাখলেন। কিন্তু গানের বাণীর মধ্যে অতিরিক্ত অলঙ্করণ এল না। প্রথম লাইনের শেষ শব্দ ‘প্রভু’ যখন এল, তখন শুদ্ধ রে থেকে পঞ্চমে গিয়ে তিনি দাঁড়ালেন একটুক্ষণ, আর প্রেক্ষাগৃহ ভরে গেল গভীর সুরের আচ্ছাদনে।

মাতৃভাষা বাংলা না-হলেও, বাংলার বিশ্বকবির গান ওস্তাদ রাশিদ খান যে-বিহিত শ্রদ্ধা নিয়ে নিবেদন করলেন, তা তার প্রতি আরও শ্রদ্ধাবান করে তুলল আমাকে। এই শ্রদ্ধা বাংলার ঘরে ঘরে তার শ্রোতাদের মনে সঞ্চিত আছে। আজ যে সম্মান তিনি লাভ করলেন, তার দ্বারা ওস্তাদ রাশিদ খানের প্রতি আমাদের মতো সাধারণ শ্রোতার ভালবাসাই জয়যুক্ত হল। জয়যুক্ত হল বাংলা।’’

১৯৬৮ সালের ১ জুলাই উত্তর প্রদেশের বদায়ুঁতে জন্ম রশিদ খানের। মূলত শাস্ত্রীয় সংগীত গাইলেও ফিউশন, হিন্দি ও বাংলা ছবিতে জনপ্রিয় গানও গেয়েছেন শিল্পী। বাংলাদেশেও একাধিকবার সংগীত পরিবেশন করেছেন এই শিল্পী।

   

হইচই কর্তৃপক্ষ আমার কাজ পছন্দ করেননি: তানজিকা



মাসিদ রণ, সিনিয়র নিউজরুম এডিটর, বার্তা২৪.কম
তানজিকা আমিন /  ছবি : ফেসবুক

তানজিকা আমিন / ছবি : ফেসবুক

  • Font increase
  • Font Decrease

চিত্রনায়ক রিয়াজের বিপরীতে ‘বকুল ফুলের মালা’ সিনেমার মাধ্যমে অভিনয়যাত্রা শুরু তানজিকা আমিনের। তবে ছোটপর্দায় অভিনয় করে পেয়েছেন তারকাখ্যাতি। হালে ওটিটিতে অভিষেক হয়ে ক্যারিয়ারে এসেছে নতুন মাত্রা। সম্প্রতি চরকিতে মুক্তি পেয়েছে তার ওয়েব সিরিজ ‘কালপুরুষ’। সমসাময়িক বিষয় নিয়ে বার্তা২৪.কমের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মাসিদ রণ

তানজিকা আমিন /  ছবি : ফেসবুক

‘কালপুরুষ’ মুক্তি পেয়েছে কয়েক দিন হলো। অল্প সময়ে সাড়া কেমন পাচ্ছেন?


এক কথায় বলতে গেলে ‘কালপুরুষ’-এর সাড়ায় আমি সন্তুষ্ট। আর একটু ব্যাখ্যা করে বলতে গেলে, আমাদের দর্শক মূলত রোমান্টিক কিংবা থ্রিলার ধাচের গল্পই বেশি দেখে থাকেন। সেদিক দিয়ে ‘কালপুরুষ’ তাদের কাছে নতুন একটি জনরা। এটির গল্প মূলত টাইম ট্রাভেল নিয়ে। সায়েন্স ফিকশনের দেশি একটি স্বাদ রয়েছে। ফলে গড়পড়তা সাড়া আশাই করিনি।

তবে এটিও জানতাম যে, সিরিজটি যেহেতু সুনির্মিত, এর গল্পটি নিটোল, একইসঙ্গে চঞ্চল চৌধুরী, এফ এস নাঈম, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, ইমতিয়াজ বর্ষণ, সুষমা সরকারসহ গুণী শিল্পীরা অভিনয় করেছেন, ফলে কোন দর্শক যদি নতুন কিছু দেখতে চান তাদের কাছে উপভোগ্য হবে। তাছাড়া একটা কথা বলতে চাই, দর্শক যা যা দেখতে চাইবে আমরা শুধু তাই তাই বানাবো এটা কিন্তু ঠিক না। শিল্পীর দায়িত্ব রয়েছে দর্শকের রূচি তৈরী করার। একটু রিস্ক নিয়ে যদি নতুন কিছু না করা হয়, তাহলে দর্শক আজীবন একই রূচির মধ্যেই আবর্তিত থাকবেন। সেদিক থেকে ‘কালপুরুষ’ দর্শকের রূচিতে ভিন্নতা আনার কাজ করবে বলে আমার বিশ্বাস।

তানজিকা আমিন /  ছবি : ফেসবুক

‘কালপুরুষ’-এ আপনি কি ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন?


মুশকিল হলো- চরিত্র নিয়ে বেশি বললেই গল্প বেরিয়ে আসবে! এটুকু বলতে পারি, আমি খুবই সাদামাটা একটি চরিত্র করেছি। এখানে পোশাক-আশাক, সাজ-সজ্জার কোন বালাই ছিল না। তবে চরিত্রটিতে অভিনয়ের সুযোগ ছিল। নির্মাতা (সালজার রহমান) বুঝেশুনে কাজ করেছেন। তিনি জানতেন ঠিক কি ধরনের পারফরমেন্স চান আমার কাছে। ফলে অভিনয়টা করার ভালো সুযোগ ছিল। ফিল্ম সিন্ডিকেটের সঙ্গে প্রথম কাজ করলাম। অভিজ্ঞতা খুব ভালো। আশা করব তাদের সঙ্গে আরও ভালো ভালো কাজ হবে আগামীতে।

তানজিকা আমিন /  ছবি : ফেসবুক

‘মহানগর ২’ ওয়েব সিরিজ দিয়ে আপনার ওটিটিতে কাজের শুরু। সিরিজটিতে আপনার অভিনয় দারুণ প্রশংসা কুড়ায়। এরপর আপনার যতোটা কাজের সুযোগ পাওয়ার কথা ছিল তা কি পেয়েছেন?


না, সেটা আমি পাইনি। আমাদের পাশের দেশেও কোন শিল্পী যদি ভালো কাজ করে সবার নজর কাড়তে সক্ষম হয়, তাহলে তার আর কাজ নিয়ে চিন্তা করতে হয় না। মেধাবী মানুষরা তাকে কাজের সুযোগ দেন। প্ল্যাটফর্মগুলো তাকে নিয়ে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করে। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে সেটি দেখিনি। ‘মহানগর ২’ ছিল ওয়েব প্ল্যাটফর্ম হইচই-এর কাজ। তারাই আমাকে আর কোন কাজের প্রস্তাব দেয়নি। সাধারণ দর্শক থেকে শুরু করে আমার সহকর্মীরা ‘মহানগর ২’-এ আমার অভিনয় পছন্দ করলেও আমার ধারণা হইচই কতৃপক্ষ আমার কাজ পছন্দ করেননি। এজন্যই হয়তো তারা আমাকে আর কোন ধরনের কাজের প্রস্তাব দেননি। তবে এটা ঠিক যে, ‘মহানগর ২’-এ আমার অভিনয় দেখেই চরকি থেকে আমাকে ‘কালপুরুষ’-এর প্রস্তাব দেওয়া হয়। চরকির সঙ্গে এটাই আমার প্রথম কাজ। তাদের সঙ্গেও আরও অনেক কাজ করতে চাই।

তানজিকা আমিন /  ছবি : ফেসবুক

চলচ্চিত্র দিয়ে আপনার পথচলা শুরু। সে পথ আর মাড়ালেন না কেন?


আসলে আমি যখন সিনেমা শুরু করি তখন তথাকথিত বানিজ্যিক ঘরানার ছবি বেশি হতো। তারমধ্যে ‘বকুল ফুলের মালা’ ছবিটা একটু আলাদা ছিল বলেই কাজ করতে রাজী হয়েছিলাম। পরে যেসব ছবির প্রস্তাব পেয়েছিলাম তারমধ্যে একটার গল্পও আমার মনমতো পাইনি বলে আর ছবি করা হয়নি। তবে এখন সিনেমার অঙ্গন অনেক বদলে গেছে। এখন বরং সিনেমায় আমাদের মতো মানসিকতার অভিনয়শিল্পীর কাজের ক্ষেত্র বেশি। তাই আমি আশাবাদী হয়তো শিগগিরই আমাকে আবার সিনেমায় পাওয়া যাবে।

তানজিকা আমিন /  ছবি : ফেসবুক

আমাদের এখানে নারী তারকাদের ওপর প্রযোজকরা ভরসা করতে পারেন না। ফলে নারীকেন্দ্রিক কাজ সেভাবে হয়ও না। তবে বাঁধনকে নিয়ে নির্মিত হয়েছে ‘এষা মার্ডার’ ছবিটি। তিনি প্রযোজনাতেও সাহস দেখাচ্ছেন। বিষয়টি কিভাবে দেখেন?


আমার তো নারীদের এমন জয়যাত্রার গল্প শুনলে খুব গর্ব হয়। আমিও চাই এ ধরনের কাজ করতে। যদি কখনো সামর্থ হয়, আমিও চাইবো আমার প্রাণের কাছের কোন গল্প নিজের মতো করে বানিয়ে দর্শককে দেখাতে।

;

বিশ্ববিখ্যাত গায়িকা সেলেনা হলেন কানের সেরা অভিনেত্রী!



মাসিদ রণ, সিনিয়র নিউজরুম এডিটর, বার্তা২৪.কম
কানে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন সেলেনা গোমেজ

কানে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন সেলেনা গোমেজ

  • Font increase
  • Font Decrease

‘৭৭ তম কান চলচ্চিত্র উৎসব’ আজীবন স্মৃতির পাতায় অমলিন হয়ে থাকবে বিশ্ববিখ্যাত আমেরিকান গায়িকা সেলেনা গোমেজের।

অনেকেই ভাবতে পারেন, কান হলো চলচ্চিত্রের উৎসব আর সেলেনা হলেন গানের মানুষ। অন্যতম জনপ্রিয় তারকা হওয়ার সুবাদে কোন বড় ব্র্যান্ডের অ্যাম্বাসেডর হিসেবে তিনি কানের রেড কার্পেটে সৌন্দর্যের জৌলুস ছড়াতেই পারেন। কান উৎসবে এর বেশি আর কী করতে পারেন তিনি?

কানের রেড কার্পেটে সেলেনা গোমেজ

কিন্তু বিষয়টি অতোটুকুতে আটকে নেই। সেলেনাকে যারা অনুসরন করেন তারা জানেন, এই তারকা এতো বড় গায়িকা হয়ে ওঠার আগে থেকেই অভিনয় করতেন। শিশুশিল্পী হিসেবে ডিজনি স্টুডিওর সিরিজে অভিনয় করতেন তিনি। এজন্য একটা সময় সেলেনাকে ডিজনি গার্লও বলা হতো।

সময়ের সাথে সাথে তিনি গানকেই আপন করে নেন। সেখানে এতো বড় জায়গা দখল করে নেন যে, তার অভিনেত্রী পরিচয় ঢাকা পড়ে যায়। এরমধ্যে তিনি প্রচুর সুপারহিট গান উপহার দিয়েছেন। তার ঝুলিতে বেশ ক’টি রয়েছে মিউজিক অঙ্গনের সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘গ্রামি’। সেলেনাই এখন ইন্সটাগ্রামে সবচেয়ে বেশি ফলোয়ারপ্রাপ্ত শোবিজ তারকা।

কানের ফটোকলে ‘এমিলিয়া প্যারেজ’ নির্মাতা জ্যাক অডিয়াঁর ও সহশিলল্পী যোয়ি সালডানার সঙ্গে সেলেনা

আবারও পরিণত সেলেনা এলেন অভিনয়ে। গত ১৮ মে তার ছবির প্রিমিয়ার হয়েছিল কান চলচ্চিত্র উৎসবে। ‘এমিলিয়া প্যারেজ’ নামের সিনেমাটির প্রিমিয়ার শেষে পুরো টিম নয় মিনিট স্ট্যান্ডিং ওভেশন দেওয়া হয়। দর্শকদের উল্লাসের প্রতিক্রিয়ায় কান্নায় ভেঙে পড়েন সেলেনা। এবারের কান উৎসবে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে স্ট্যান্ডিং ওভেশন পাওয়া সিনেমা ছিল এটি।

গতকাল পর্দা নেমেছে কান চলচ্চিত্র উৎসবের। রীতি অনুযায়ী বিজয়ীর তালিকা সেদিনই প্রকাশ করা হয়েছে। সেই তালিকায় উঠে এসেছে সেলেনা গোমেজের নাম! ‘এমিলিয়া প্যারেজ’ ছবিতে অনবদ্য অভিনয়ের জন্যই সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।

সেলেনার ছবিটি বিশেষ জুরি পুরস্কারও পেয়েছে। সেলেনার সহশিল্পী ক্লারা সোফিয়া সেই পুরস্কার গ্রহণের জন্য কানের শেষ দিন পর্যন্ত উৎসবেই ছিলেন।   

কানের ফটোকলে সেলেনা গোমেজ

তবে সেলেনা ভীষণ ব্যস্ত শিল্পী। তাই বেশি সময় নিয়ে কান উৎসবে যাননি তিনি। ছবির প্রিমিয়ার শেষেই ফিরে চান মাতৃভূমিতে। তাই ক্লারাই সেলেনা ফোন করে সেরা অভিনেত্রী হওয়ার খবর দেন।  তখন সেলেনা নিউ ইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে পিকনিক করছিলেন বন্ধুদের সঙ্গে। খবরটি শুনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সেলেনা। ফোনেই বলেন, ‘আমি খুবই এক্সাইটেড।’

এরপর ইন্সটাগ্রাম স্টোরিতে সেলেনা লেখেন, ‘অশেষ ধন্যবাদ কান চলচ্চিত্র উৎসব এবং জুরি বোর্ডকে।’ 

এবার জুরি বোর্ড প্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন ‘বার্বি’ সিনেমাখ্যাত নির্মাতা গ্রেটা গারউইগ। সদস্য ছিলেন এভা গ্রীণ, লিলি গ্ল্যাডস্টোনের মতো অভিনেত্রীরা।

‘এমিলিয়া প্যারেজ’ ছবির জন্য সেরা অভিনেত্রী হয়েছেন তারা

সেলেনার সঙ্গে যৌথভাবে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন তার ছবির তিন সহশিল্পী যোয়ি সালডানা, অ্যাড্রিয়ানা পাজ ও ক্লারা সোফিয়া গ্যাসকন। নারীকেন্দ্রিক সিনেমাটির নির্মাতা সাবেক স্বর্ণ পামজয়ী ফরাসি পরিচালক জ্যাক অডিয়াঁর।

;

ডিপজল-নিপুণের কাড়াকাড়ি, সানী-বর্ষার অনাগ্রহ!



বিনোদন ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ওমর সানি, বর্ষা, ডিপজল ও নিপুণ

ওমর সানি, বর্ষা, ডিপজল ও নিপুণ

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি নিয়ে নাটকীয়কার কোন শেষ নেই যেন! এখন চলছে সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে ডিপজল আর নিপুণের মধ্যে আইনি লড়াই। নির্বাচনের প্রায় এক মাস পর কারচুপির অভিযোগ এনে আদালনের দারস্থ হন নিপুণ। তার অভিযোগ আমলে নিয়ে ডিপজলকে আপাতত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। খতিয়ে দেখা হবে এই নির্বাচনে আদৌ কোন কারচুপি হয়েছে কিনা।

এমন পরিস্থিতিতে চেম্বার আদালদের স্মরণাপন্ন হয়েছেন খলনায়ক ডিপজল। নিজের হারানো পদ ফিরে পেতে তার এই তোড়জোড়।

এই যখন অবস্থা তখন (গত শুক্রবার) নিজের ফেসবুক পেজে শিল্পী সমিতিকে নিয়ে প্রশ্ন ছুড়েছেন চিত্রনায়িকা বর্ষা। তিনি লেখেন, ‘শিল্পী সমিতি শিল্পীদের জন্য কী কাজে লাগে তা আমি আজ পর্যন্ত বুঝতে পারলাম না। যা জানি তা আর বললাম না। পাবলিকের এখন সিনেমা হলে গিয়ে সিনেমা দেখার দরকার নাই। মানুষের এত ধৈর্য!’

একদিন পরই এবার সংগঠনটি ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে দিলেন ওমর সানী। এর আগেও অবশ্য সানী এসব বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। চলচ্চিত্রের এক সময়ের পর্দা কাপানো এই নায়ক আর শিল্পী সমিতির সদস্যই থাকতে চান না! সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিষয়ে জানিয়েছেন তিনি নিজেই। শিগগিরই সমিতির সভাপতির কাছে চিঠি পাঠাবেন বলেও জানান এই অভিনেতা।

গত ২৫ মে এক ফেসবুক পোস্টে সানী লেখেন, ‘আমি আর শিল্পী সমিতিতে সদস্য হিসেবে থাকতে চাচ্ছি না, আমি কয়েকদিনের মধ্যে প্রেসিডেন্ট সাহেবের কাছে চিঠি পাঠাব। আমার সমস্ত শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা রইল।’

তবে কী কারণে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সে বিষয়ে কিছু জানাননি ওমর সানী। 

;

পর্দা নামলো ৭৭তম কানের, বিজয়ের হাসি হাসলেন যারা



মাসিদ রণ, সিনিয়র নিউজরুম এডিটর, বার্তা২৪.কম
এবারের স্বর্ণ পাম হাতে নির্মাতা শন বেকার, মেরিল স্ট্রিপকে সম্মানসূচক স্বর্ণ পাম তুলে দেন এভা গ্রীণ

এবারের স্বর্ণ পাম হাতে নির্মাতা শন বেকার, মেরিল স্ট্রিপকে সম্মানসূচক স্বর্ণ পাম তুলে দেন এভা গ্রীণ

  • Font increase
  • Font Decrease

গত রাতেই শেষ হলো বিশ্ব চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রাচীন এবং সম্মানজনক আয়োজন কান চলচ্চিত্র উৎসবের ৭৭ তম আসরের কর্মযজ্ঞ। আর রীতি অনুযায়ী শেষ দিনেই জানা গেলো কানের প্রধান প্রধান পুরস্কারজয়ীর তালিকা। তবে এবারের আয়োজন শুরুর দিনেও ছিল চমক। হলিউডের কিংবদন্তি অভিনেত্রী মেরিল স্ট্রিপের হাতে তুলে দেওয়া হয় কানের সম্মানসূচক স্বর্ণ পাম পুরস্কার।

আর গতকাল কান চলচ্চিত্র উৎসবের সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘স্বর্ণ পাম’ জিতেছে হলিউডের সিনেমা ‘আনোরা’। সিনেমাটি সেভাবে আলোচিত ছিল না। কিন্তু ফ্রান্সিস ফোর্ড কপোলা, আলী আব্বাসি, জ্যাক অদিয়াঁর, ক্রোনেনবার্গ, কানাডা, জিয়া জ্যাং-কির মতো নির্মাতাদের টপকে শেষ পর্যন্ত স্বর্ণপাম জিতল মার্কিন নির্মাতা শন বেকারের সিনেমাটি। কমেডি-ড্রামা ঘরানার এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন মাইকি ম্যাডিসন। এক যৌনকর্মীর জীবনের গল্প নিয়ে তৈরি হয়েছে সিনেমাটি। পুরস্কার জয়ের পর প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় শন বেকার বলেন, ‘আজ রাতে কী হচ্ছে আমি ঠিক বুঝতে পারছি না।’

উৎসবের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পুরস্কার গ্রাঁ প্রিঁ জিতেছে ভারতীয় নির্মাতা পায়েল কাপাডিয়ার ‘অল উই ইমাজিন অ্যাস লাইট’

এবারের কান উৎসবে একের পর এক চমক দেখিয়েছে ভারত। উৎসবের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পুরস্কার গ্রাঁ প্রিঁ জিতেছে ভারতীয় নির্মাতা পায়েল কাপাডিয়ার ‘অল উই ইমাজিন অ্যাস লাইট’। কানে প্রদর্শনীর পর ৮ মিনিটের স্ট্যান্ডিং ওভেশন পেয়েছিল এই ছবি। ৩০ বছর পর ভারতীয় কোন সিনেমা যা কান চলচ্চিত্র উৎসবের প্রধান প্রতিযোগিতা বিভাগে জায়গা পায়। আর তাই পুরস্কার জিতে তৈরি করেছে ইতিহাস। সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন কানি কুশ্রুতি, দিব্যা প্রভা, ছায়া কদম, ঋধু হারুন।

সেরা নির্মাতার পুরস্কার পেয়েছেন পর্তুগালের মিগুয়েল গোমেজ। পিরিয়ড-ড্রামাধর্মী সিনেমা ‘গ্রান্ড ট্যুর’-এর জন্য এ পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।

‘কাইন্ডস অব কাইন্ডনেস’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছেন মার্কিন অভিনেতা জেসি প্লেমনস। সেরা চিত্রনাট্যের পুরস্কার পেয়েছেন কোরালি ফারজাঁ।

‘এমিলিয়া পেরেজ’ ছবির জন্য সেরা অভিনেত্রী হয়েছেন সেলেনা গোমেজ, যোয়ি সালডানা, অ্যাড্রিয়ানা পাজ ও ক্লারা সোফিয়া

সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন এবারের উৎসবের আলোচিত সিনেমা ‘এমিলিয়া পেরেজ’-এর চার অভিনেত্রী সেলেনা গোমেজ, যোয়ি সালডানা, অ্যাড্রিয়ানা পাজ ও ক্লারা সোফিয়া গ্যাসকন। সিনেমাটির নির্মাতা সাবেক স্বর্ণ পামজয়ী ফরাসি পরিচালক জ্যাক অডিয়াঁর।

আলোচিত ইরানি নির্মাতা মোহাম্মদ রাসুলফ তার ‘দ্য সিড অব দ্য স্যাক্রেড ফিগ’ সিনেমার জন্য বিশেষ পুরস্কার পেয়েছেন। দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে চলতি মাসেই তাকে আট বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দণ্ড মাথায় নিয়েই ইরান থেকে পালিয়ে কানে উৎসবে হাজির হয়েছেন তিনি।

আঁ সার্তে রিগা বিভাগে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার পেয়েছে চিনের ছবি ‘ব্ল্যাক ডগ’

আঁ সার্তে রিগা বিভাগে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার পেয়েছে চিনের ছবি ‘ব্ল্যাক ডগ’।  গুয়ান হু পরিচালিত সিনেমাটির গল্প এক ব্যক্তি ও কুকুরের সম্পর্ক নিয়ে। দুজনেই একা। এই একাকিত্ব তাদের নতুন এক যাত্রার দিকে নিয়ে যায়।

এ ছাড়া আঁ সার্তে রিগায় জুরি পুরস্কার পেয়েছে ফ্রান্সের সিনেমা ‘দ্য স্টোরি অব সুলেমান’। সিনেমাটির নির্মাতা বরিস লোজকাইন। ‘দ্য স্টোরি অব সুলেমান’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য এই বিভাগে সেরা অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছেন আবু সনগারে। ‘দ্য ড্যামড’ সিনেমার জন্য ইতালির রবার্তো মিনারভিনি হয়েছেন সেরা নির্মাতা।

‘দ্য শেমলেস’ সিনেমার জন্য আঁ সার্তে রিগা বিভাগে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতেছেন কলকাতার অভিনেত্রী অনসূয়া সেনগুপ্ত

আমাদের প্রতিবেশি দেশটি দু-দুটি ইতিহাস লিখেছে কানের পাতায়। গ্রাঁ প্রিঁ ছাড়াও আঁ সার্তে রিগা বিভাগে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতেছেন কলকাতার অভিনেত্রী অনসূয়া সেনগুপ্ত। কনস্ট্যানটিন বোঁজ্যনভের ‘দ্য শেমলেস’ সিনেমার জন্য এ পুরস্কার পান তিনি। অনুসূয়াই প্রথম ভারতীয় অভিনেত্রী যিনি কানে সেরার পুরস্কার জয় করলেন। এটি নিঃসন্দেহে ভারতীয় সিনেমার জন্য একটি ইতিহাস।
১৪ মে শুরু হয়েছিল কান চলচ্চিত্র উৎসবের এবারের আসর। মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে স্বর্ণ পামের জন্য লড়েছে ২২টি চলচ্চিত্র।

‘ক্রিটিকস উইক’-এর সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘গ্রাঁ প্রিঁ’ জিতেছে আর্জেন্টাইন চলচ্চিত্র ‘সায়মন অব দ্য মাউন্টেন’

সমাপনী অনুষ্ঠানের আগেই ঘোষণা করা হয় কানের সমান্তরাল বিভাগের পুরস্কার বিজয়ীদের নাম। এবারের কান চলচ্চিত্র উৎসবের সমান্তরাল বিভাগ ‘ক্রিটিকস উইক’-এর সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘গ্রাঁ প্রিঁ’ জিতেছে আর্জেন্টাইন পরিচালক ফেদেরিকো লুইসের প্রথম চলচ্চিত্র ‘সায়মন অব দ্য মাউন্টেন’।

উঠতি বয়সের এক কিশোরের মানসিক ব্যাধির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাকে কেন্দ্র করে ছবিটির গল্প। এতে অভিনয় করেছেন আর্জেন্টাইন অভিনেতা, গায়ক ও গীতিকবি লরেঞ্জো ফেরো। এর যৌথ প্রযোজক আর্জেন্টিনা, চিলি ও উরুগুয়ের তিনটি পৃথক প্রতিষ্ঠান।

তথ্যসূত্র : ভ্যারাইটি

;