মা হলেন অভিনেত্রী স্বরা ভাস্কর



বিনোদন ডেস্ক, বার্তা ২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বলিউড অভিনেত্রী স্বরা ভাস্করের ঘর আলো করে এলো কন্যা সন্তান। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সমাজবাদী পার্টির যুবনেতা ফাহাদ আহমেদকে ‘স্পেশ্যাল ম্যারেজ অ্যাক্ট’ মেনে বিয়ে করেন তিনি। 

সোমবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ইনস্টাগ্রামে মেয়ে ও স্বামী ফাহাদের সঙ্গে তোলা একটি ছবি পোস্ট করে এই সুখবর দিয়েছেন তিনি।

আদর করে ইতোমধ্যে সন্তানের নাম রেখেছেন রাবিয়া। শোনা যাচ্ছে, সুফি সন্ত রাবিয়া বাসরির নামেই সন্তানের নামকরণ করেছেন স্বরা ও আহমেদ। সন্তানের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন স্বরা।

মা হওয়ার পর থেকেই শুভেচ্ছার বন্যায় ভাসছেন স্বরা। নীনা গুপ্তা, মহম্মদ জিশান আয়ুব, টিসকা চোপড়া, গুণিত মঙ্গারা শুভেচ্ছা জানিয়েছেন নতুন মা-কে।

২০২০ সালে একটি প্রতিবাদ সভায় ফাহাদের সঙ্গে প্রথম দেখা হয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিয়ে, মার্চে বিবাহোত্তর সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। তাদের বিয়ে নিয়ে তুমুল আলোচনা হয়েছিল। জুনে ‘বেবি বাম্পের’ ছবি প্রকাশ করেন স্বরা ভাস্কর। এ নিয়ে অনেকে অকারণে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি। বিয়ের আগেই অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন স্বরা, সেই দাবি তুলে বিদ্রুপ করেছেন অনেকে। 

 

কোটা সংস্কারের পক্ষে রাজপথে নামলেন আরশ খান



মেহনাজ খান, বার্তা২৪.কম
কোটা সংস্কারের পক্ষে রাজপথে আরশ খান

কোটা সংস্কারের পক্ষে রাজপথে আরশ খান

  • Font increase
  • Font Decrease

সাধারন শিক্ষার্থীদের কোটা আন্দোলনে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ একাত্ব ঘোষণা করছেন। শোবিজ তারকারা সমাজে খুব সহজে প্রভাব বিস্তার করেন। তাদের একটি কথা কিংবা বার্তা মানুষকে দ্রুত অনুপ্রেরণা দেয়। তাই শোবিজ তারকারা দেরীতে হলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের বার্তা তুলে ধরছেন। তবে সরাসরি আন্দোলনের মাঠে শিক্ষার্থীদের বাইরে কাউকে দেখা যায়নি।

আজ অল্প হলেও দু-এক শোবিজ তারকাকে রাজপথে দেখা গেছে আন্দোলনকারীদের সারিতে দাঁড়াতে। তাদের মধ্যে ইউটিউবার সালমান মুক্তাদির আঘাতও পেয়েছেন। এছাড়া দেখা গেছে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সৌভিক আহমেদ ও ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা আরশ খানকে।

কোটা সংস্কারের পক্ষে রাজপথে আরশ খানসহ নাটকের অভিনেতা কলাকুশলীরা

আজ দুপুরে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সামনে পোস্টার হাতে একসঙ্গে দেখা যায় আরশ খান, নির্মাতা ইমরাউল রাফাত, তপু খানসহ আরও কয়েকজন নাটকের অভিনেতা কলাকুশলীকে। সে সময় আরশ খান বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘‘আমি একজন থিয়েটারকর্মী। আমার অভিনয়জীবন শুরু মঞ্চে। লোকনাট্য দলের ‘মুজিব মানে মুক্তি’ নাটকে আমি বঙ্গবন্ধুর চরিত্রে অভিনয় করেছি। ৩০০ তম শো পর্যন্ত আমি ছিলাম গ্রুপের সাথে। আমি তখন শিশুশিল্পী। প্রথম ১০০ তম শো পর্যন্ত বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসেনি। সে সময় এই নাটকে অভিনয় করতে কতোটুকু ঝুঁকির সম্মুখীন হতে হয়েছে তা আমি জানি, আমার পরিবার জানে, লোকনাট্য দলের সদস্যরা জানে। এই নাটক করে আমি বা আমার পরিবার ২ টাকা কোনোদিন ঘরে আনিনি। নাটকে অভিনয় করতে করতে কখন বঙ্গবন্ধুকে ভেতরে ধারন করে ফেলেছি তা বলতে পারবো না। কিন্তু তার আদর্শে বেড়ে ওঠা আমি আজ অনেক কিছুই নিতে পারছি না।’

আরশ আরও বলেন, ‘আমার স্কুল, আমার কলেজ, আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের জুনিয়াররা তাদের দাবি নিয়ে আজ রাস্তায়। তাদের উপর যে আক্রমণ তা কোনোভাবেই একজন মানুষ হিসেবে, একজন শিল্পী হিসেবে, একজন ছাত্র হিসেবে আমি মেনে নিতে পারছি না। আমি খুব সাধারণ পরিবারের ছেলে। আমার মা একজন শিল্পী, আমার বোনও একজন শিল্পী। সাধারণ আরশকে অসাধারণ বানিয়েছেন এই ছাত্ররা, তাদের মা, তাদের বাবা, তাদের পরিবার, দেশের সাধারণ জনগণ। এমন দিনে আমার পক্ষে আর ঘরে বসে থাকা সম্ভব না। তাই আমি খালি হাতে বেরিয়ে পড়েছি। কারণ আমার আন্দোলন কোনো দলের বিরুদ্ধে না। আমার চাওয়া একটাই ‘আর কোনো ছাত্র বা ছাত্রী রক্তাক্ত হবে না’। আমি জানি না কাল আমার সাথে কি ঘটবে, আমি জানি না পরবর্তীতে কি ঘটবে। কিন্তু আমি জানি এই দেশ আমার, দেশের মানুষ আমার। খেটে খাওয়া মানুষ আমি। শূণ্য থেকে উঠে এসেছি আবার হয়তো শূণ্যে মেলাবো কিন্তু আর কোনো আবু সাইদের মৃত্যুর স্বাক্ষী হতে চাই না।’’

আরশ খান

;

কোটা সংস্কার হবার পর পুনরায় সরকারের পাশে দাঁড়াবো: মেহজাবীন



মাসিদ রণ, সিনিয়র নিউজরুম এডিটর, বার্তা২৪.কম
মেহজাবীন চৌধুরী

মেহজাবীন চৌধুরী

  • Font increase
  • Font Decrease

টিভি নাটকের সবচেয়ে জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরীও এবার কঠোর কণ্ঠে রুখে দাঁড়িয়েছেন ছাত্রদের প্রতি চলমান সহিংসতার বিরুদ্ধে। তুলে ধরেছেন কোরআন-হাদিসের তথ্য। আজ (বৃহস্পতিবার) সোশ্যাল হ্যান্ডেলে লিখেছেন দীর্ঘ এক লেখা। মেহজাবীন চৌধুরীর পুরো লেখাটি তুলে ধরা হলো-

ছোটবেলা থেকে জেনেছি, পরিবার-সমাজ-রাষ্ট্র নারীর গায়ে হাত তোলা সমর্থন করে না। আমাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থও কখনও নারীর প্রতি সহিংসতা শেখায়নি। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমরা নারীদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করো’। হাদিসে বলা হয়েছে, ‘তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক ভালো মানুষ তারাই, যারা নারীদের সঙ্গে সদাচরণ করে’।

মেহজাবীন চৌধুরী

অথচ আমাদের দুর্ভাগ্য, গণমাধ্যম বা সামাজিকমাধ্যমে আজকাল এর ভিন্ন চিত্র, মর্মান্তিক সব ভিডিও দেখতে হচ্ছে। একজন নয়, দুইজন নয়, আমারই অসংখ্য বোনের ওপর নির্বিকার ভঙ্গিতে হামলা চালানো হচ্ছে, রক্তাক্ত করা হচ্ছে। কী নির্মম, কী নৃশংস! ন্যায়-অন্যায়ের প্রসঙ্গে পরে আসছি, তবে আমার অবস্থান থেকে বলবো: সর্বোচ্চ কোনও যুক্তির অজুহাতেও নারীর প্রতি এই সহিংসতা মেনে নেয়া যায় না। ‘না’ মানে ‘না’; কক্ষনো না। ছাত্র-ছাত্রীরা কি-ই বা করেছিল? তারা তাদের অধিকারের ব্যাপারে সোচ্চার হয়েছিল। কোটা সংস্কারের দাবি তুলেছিল। তাই তো? একটি গণতান্ত্রিক দেশে স্বাধিকারের দাবি যে কেউ তুলতে পারে। কিন্তু তাই বলে নারীর গায়ে হাত তোলা, ‘আবু সাঈদ’-এর মতো সম্ভাবনাময় তরুণকে হত্যা করা-এসব কি সভ্যতার পর্যায়ে পড়ে? সমাধানের অন্য কোনও উপায় কি ছিল না? গুলি কেন করতে হলো?

মেহজাবীন চৌধুরী

পরিস্থিতি হয়তো আজ কিংবা কাল স্বাভাবিক হয়ে যাবে। কিন্তু যে মায়ের বুক খালি হলো, যে পরিবারের মুখের হাসি চলে গেল, আমরা কি সেই শূন্যতা অন্য কিছুর বিনিময়ে পূর্ণ করতে পারবো? কক্ষনো না। তাছাড়া ইতিহাস সাক্ষী, শক্তি যত বড়ই হোক, ছাত্র সমাজের ওপর চড়াও হয়ে যুগে যুগে কেউ কখনও কিছুই অর্জন করতে পারেনি। তাহলে কেন এই ব্যর্থ আস্ফালন? মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ কিংবা আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আমরা সবসময়ই বুকের ভেতর লালন করি। আমরা গর্ব করি বীর মুক্তিযোদ্ধারা নিজেদের প্রাণের বিনিময়ে আমাদের একটি স্বাধীন দেশ উপহার দিয়েছিলেন। কিন্তু এই দেশে নিজের মনের ভাব প্রকাশ করা যাবে না, অধিকারের দাবি তোলা যাবে না, সবকিছুর ঊর্ধ্বে যোগ্যতার পরিচয়টাকেই সবচেয়ে বড় করে দেখা যাবে না, প্রশাসনের চাওয়া-পাওয়ার বিরুদ্ধে গেলেই হামলার শিকার হতে হবে, অকাতরে অকাল প্রাণ বিলিয়ে দিতে হবে-এমন বাংলাদেশের স্বপ্ন কি আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধারা দেখেছিলেন? আমার মনে হয় না।

মেহজাবীন চৌধুরী

দ্রব্যমূল্যর ঊর্ধ্বগতি, প্রশ্নপত্র ফাঁস থেকে দুর্নীতি-প্রায় সব ইস্যুতেই তো আমরা চুপ থাকি। রক্ষক ভক্ষক হয়ে গেলেও আমরা নীরবে সয়ে যাই। অপেক্ষা করি, হয়তো একটা না একটা সমাধান আসবে। আজ না হলেও দুদিন পরে আসবে। অন্যান্য ইস্যুতে আমরা সামাজিক মাধ্যমেও এতটা সোচ্চার হই না। তাহলে ইদানীং কেন হচ্ছি? কেন কোটা সংস্কার ইস্যুতে দলমত নির্বিশেষে আমাদের মতো সাধারণ জনগণ সরকারের পদক্ষেপের নিন্দা করছি? কারণ একটাই, কোটা সংস্কার এখন সময়ের দাবি। যত দ্রুত সম্ভব এর সমাধান জরুরি। ভুলে গেলে চলবে না, আমরা এই সাধারণ জনগণই কিন্তু মেট্রো রেল, পদ্মা সেতু, উড়াল সেতু ইত্যাদি সহ সরকারের অনেক যুগান্তকারী সাফল্যে গর্বিত হয়ে হাত তালি দিয়েছিলাম। গালভরা প্রশংসা করেছিলাম। সামাজিক মাধ্যমে সরব হয়েছিলাম। নিশ্চয়ই ছাত্র-ছাত্রীদের দাবি মেনে কোটা সংস্কার হবার পর আমরা পুনরায় সরকারের পাশে দাঁড়াবো। এক পক্ষ হয়ে দেশের সব সমস্যার সমাধান করার জন্য সরকারকে সহযোগিতা করবো। সবাই মিলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবো।

মেহজাবীন চৌধুরী

অর্থাৎ সব কথার শেষ কথা, ছাত্ররা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। দমিয়ে না রেখে তাদের যৌক্তিক দাবিতে সমর্থন দেয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সর্বোচ্চ আদালতের কাছে আমি মেহজাবীন চৌধুরী আকুল আবেদন করছি। আমার বিশ্বাস, আমরা নিরাশ হবো না।

লেখাটি শেষে অভিনেত্রী #SaveBangladeshiStudents হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করেন। সঙ্গে জুড়ে দেন চলমান আন্দোলনের তিনটি ছবির কোলাজ।

;

কোটা আন্দোলনে সশরীরে যোগ দিয়ে আহত সালমান



মাসিদ রণ, সিনিয়র নিউজরুম এডিটর, বার্তা২৪.কম
কোটা আন্দোলনে সশরীরে অংশ নিয়েছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার সালমান মুক্তাদির

কোটা আন্দোলনে সশরীরে অংশ নিয়েছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার সালমান মুক্তাদির

  • Font increase
  • Font Decrease

শোবিজ তারকাদের মধ্যে সর্বপ্রথম কোটা আন্দোলনে সশরিরে অংশ নিয়েছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার সালমান মুক্তাদির। এরইমধ্যে এই তারকার মাস্ক পরা একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। আর সেই ছবি ছড়িতে পড়তে না পড়তেই দারুণ প্রশংসা কুড়াচ্ছেন সালমান।

তবে একটু আগেই সালমানের আরেকটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, এই তারকাকে কয়েকজন মিলে টেক কেয়ার করছেন। কারণ তাকে আক্রমণ করা হয়েছে। কোটা আন্দোলনের সশরীরে অংশ নিতে গিয়েই কিছুটা আহত হয়েছেন তিনি।

কোটা আন্দোলনে সশরীরে অংশ নিয়েছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার সালমান মুক্তাদির

একজন সালমানের সেই ছবিটি পোস্ট করে ফেসবুকে লিখেছেন, ‘‘সো কলড পপুলার ফিগারদের মাঝে সরাসরি মাঠে নেমে আন্দোলনে একাত্ম হতে দেখলাম একমাত্র সালমান মুক্তাদিরকে। বেশিরভাগের কাছে যার পরিচয় ‘অভদ্র ছেলে’’।

সালমান মুক্তাদির সরাসরি মাঠে নেমে আন্দোলনে একাত্ম হওয়ার আগে ফেসবুকেও পোস্ট দিয়েছিলেন। গত ১৬ জুলাই সালমান তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘এমন কোনো ছাত্র আছেন যিনি আক্রান্ত হয়েছেন অথবা হলে ঢুকতে পারছেন না? আমি আপনাদের খেয়াল রাখব। তবে লাখ লাখ মেসেজ বা পোস্টের মধ্যে ফিল্টার করা আমার পক্ষে অসম্ভব। তাই আমার ফ্রেন্ডলিস্টে আপনাদের কোনো মিউচুয়াল ফ্রেন্ড আছে কিনা দেখেন এবং আমাকে নক করেন।’

সালমান মুক্তাদির

তিনি আরও লেখেন, ‘আপনার যদি থাকার জন্য একটি জায়গা প্রয়োজন হয় অথবা আপনার চিকিৎসা সেবা প্রয়োজন হয়, আমি এখানে রয়েছি। এইমাত্র কিছু ভিডিও দেখলাম, যেখানে মানুষ তাদের হলে প্রবেশ করতে পারে না। যদি এটা যথেষ্ট না হয় তাহলে আবার ক্ষমা চেয়ে নিন। আমার সত্যিই হৃদয় ভেঙ্গেছে এবং বিব্রত। আমি সত্যিই জনপ্রিয় হয়েও কোনো কাজে না আসায় লজ্জা বোধ করছি।’

;

যথার্থ শিল্পীর মূল্যায়ন হয় না কখনোই : ক্যামেলিয়া মুস্তাফার মৃত্যুতে ফাহমিদা



মাসিদ রণ, সিনিয়র নিউজরুম এডিটর, বার্তা২৪.কম
সদ্যপ্রয়াত ক্যামেলিয়া মুস্তফা ও ফাহমিদা নবী

সদ্যপ্রয়াত ক্যামেলিয়া মুস্তফা ও ফাহমিদা নবী

  • Font increase
  • Font Decrease

না ফেরার দেশে চলে গেছেন একসময়ের জনপ্রিয় আবৃত্তিশিল্পী ও অভিনেত্রী ক্যামেলিয়া মুস্তাফা (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি গতকাল ১৭ জুলাই সকালে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সঙ্গীতশিল্পী ফাহমিদা নবী ও কম্পোজার রিপন খান।

দর্শকের মধ্যে ক্যামিলিয়া মুস্তাফাকে নিয়ে একটি ভ্রান্ত ধারণা ছিলো। অনেকেই মনে করতেন তিনি প্রয়াত অভিনেতা গোলাম মুস্তাফার মেয়ে ও অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফার বোন। আদতে তার বাবা দেশের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক শামসুদ্দীন আবুল কালাম। কন্যা ক্যামেলিয়ার জন্মের পর স্ত্রী হোসনে আরা বিজুর সঙ্গে ডিভোর্স হয়ে যায় তার। পরে তাকে বিয়ে করেন প্রখ্যাত অভিনেতা গোলাম মুস্তাফা। তারপর থেকে মুস্তাফা পরিবারেই বড় হয়েছেন ক্যামেলিয়া।

ক্যামেলিয়া মুস্তফা

ফাহমিদা নবী আজ তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘ক্যামেলিয়া মুস্তফা একজন কবি এবং আবৃত্তিশিল্পী ছিলেন। অভিনয় করেছিলেন কিছু অল্প। উপস্থাপনা করেছিলেন বেশকিছু। গতকাল রাতে দেশে ফিরেই তার চলে যাওয়ার খবরটা শুনে অনেক খারাপ লাগছে। ২০০৭ সালের কথা, ক্যামেলিয়া আপার অসুস্থতার জন্য ‘শিল্পীর পাশে’ নামে একটি চিঠি প্রথম আলোতে লিখেছিলাম। তখন অনেকেই পাশে দাঁড়ান এবং কিছু অর্থ যোগানে তার অপারেশন হয়। সেই সময় থেকে তার বেদনা এবং অভিমান অভিযোগ অনেকেই শুনেছে। ডাক্তার আশীষ তার হাসপাতালে চিকিৎসা করেন। কৃতজ্ঞতা ডাক্তার আশীষ। এরশাদুল হক টিংকু, শাহেদ ভাই আর আমি সে সময় অনেক দৌড়াদৌড়ি করি। ‘শিল্পীর পাশে’ নামটি এনামুল করিম নির্ঝরের দেয়া। তারপর ‘শিল্পীর পাশে’ উদ্যোগটি কি যেন হয়ে গেলো! বড় পরিসরে কিছু হবে বলে উধাও! কিছুই হয়নি আর।’’

ফাহমিদা নবী

ফাহমিদা নবী আরও লিখেছেন, ‘হঠাৎ ক্যামেলিয়া আপার মৃত্যু অনেক কিছু মনে করিয়ে দিলো। সত্যিকার শিল্পীর পাশে আসলে কেউ থাকে না। তার সার্ভাইভটা তাকেই করতে হয়! যথার্থ শিল্পীর মূল্যায়ন হয় না কখনোই। মাঝে মাঝেই দেখেছি তাকে রাস্তায়। পায়ে ভীষন রকমের ক্ষত, ঘাঁ নিয়ে হাটঁতেও কষ্ট। তার মধ্যেও অভিযোগ করেই যেতেন। মাথায় ব্যথা হতো, থামতে পারতেন না। শেষমেষ অসমাপ্ত অভিযোগের বাক্স নিয়েই চলে গেলেন কোন উপসংহার-উত্তর ছাড়াই। কি সুন্দর ছিলেন দেখতে, তেমন রুচিশীল, কথা বলার ধরনে আধুনিকতার ছোঁয়া। তার চাহনি ছিলো অপূর্ব। অনেকটাই লাবন্য চরিত্রের মতোন লাগতো। আমরা ছোটবেলায় পাশাপাশি থাকতাম এলিফ্যান্ট রোডে। মুস্তাফা চাচার বাসার পিছনের বাসাটাই ছিলো আমাদের। ক্যামেলিয়া আপাকে তখন যেভাবে দেখেছিলাম, এতো মর্ডান একজন হাসিমুখের মানুষ তেমনটাই মনে গেঁথে আছে। তার ক্ষত হৃদয়ের ব্যথা মিশে যাক মাটিতেই। এই দোয়া করি। তার আত্মার শান্তি কামনা করি।’’

ক্যামেলিয়া মুস্তফা

পরিশেষে ফাহমিদা লিখেছেন, ‘আবারও জানলাম অভিযোগ করে কিছুই হয় না। নিজেকে নিজের তৈরী করতে হয়। টিকে থাকার যুদ্ধ করতে হয়। অভিযোগে অভিমানের অসুখ বাড়ে। সুখ হয়ে যায় ক্ষত। তারপর একদিন ক্ষত নিয়ে চলে যেতে হয়! কেউ মনে রাখে, কেউ ভুলে যায়। সময় থাকতে নিজেকে সুখী হৃদয়ের কথা বলো, আপসোস ছেড়ে দাও। ভালো থাকতে চেষ্টা করো। একজন ক্যামেলিয়া আপাকে যেভাবে হাসতে দেখেছিলাম ছোটবেলায় সেভাবে মনে রাখবো। তার একটা কবিতার বই পড়েছিলাম, দারুন তার লেখার হাত। কবিতা পড়ার কন্ঠ আর চোখের দৃষ্টি মনে রাখবো সবসময়। কোন প্রশ্ন উত্তর নয়, একজন মানুষ তার অতৃপ্তির বেদনা পৃথিবীতে রেখে চলে গেলেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা সে হিসেবটাও সময়মতো পরিশোধ করে দেবেন। আমিন’।

;