বাংলা চলচ্চিত্রে ভিন্নমাত্রা যোগ করেছিলেন সালমান শাহ



বিনোদন ডেস্ক
সালমান শাহ,                                                      ছবি: সংগৃহীত

সালমান শাহ, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

তিনি অভিনেয় যেমন দক্ষ ছিলেন তেমনি সময়ের চেয়েও অনেক এগিয়ে ছিল তার স্টাইল ও ফ্যাশন সচেতনতা। এজন্যই হয়তো বর্তমান প্রজন্মের তারকারদের কাছে জনপ্রিয় একটি নাম সালমান শাহ। আজও সবাই তাকে খোঁজে বেড়ান। মাত্র ২৫ বছর জীবনে চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন চার বছর। স্বল্প সময়ের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে নতুন এক ধারার সূচনা হয়েছিল তার হাত ধরেই। বাংলা চলচ্চিত্রে রেখে গেছেন অসাধারণ সব সিনেমা। সালমান শাহ’র উপস্থিতি মানেই ছিল নিশ্চিত সাফল্য, সিনেমা হলগুলোতে ছিল দর্শকের উপচে পড়া ভিড়।

বিনোদনজগতে সালমানের যাত্রা শুরু হয় বিজ্ঞাপনচিত্রের মডেল হিসেবে। কোকাকোলা, ইস্পাহানি গোল্ডস্টার টি, মিল্ক ভিটা, ইত্যাদি বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করেন তিনি। ছোটবেলায় ছিলেন কণ্ঠশিল্পী। স্কুলের বন্ধুরা তাকে গায়ক হিসাবেই চিনতেন। ১৯৯৩ সালে চলচ্চিত্রে প্রবেশ করার আগে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন সালমান। তার স্ত্রী ছিলেন তার মায়ের বান্ধবীর মেয়ে সামিরা।

নব্বইয়ের দশকে যখন বাংলা চলচ্চিত্র দুঃসময় পার করছিল, ঠিক তখনই চলচ্চিত্রে সালমান শাহ’র অভিষেক ঘটে ১৯৯৩ সালে সোহানুর রহমান সোহানের ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে আসেন তিনি। প্রথম সিনেমাতেই ব্যাপক দর্শক জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন সালমান শাহ। এই সিনেমায় তার সাথে অভিনয় করেছিলেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী।

‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে মৌসুমীর চলচ্চিত্রে আগমন ঘটে। খুব কম সময়েই সালমান-মৌসুমী জুটি ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠে। পরবর্তীতে এ জুটি ‘স্নেহ’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘দেনমোহর’ সিনেমায় অভিনয় করেও অনেক জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন। পরবর্তীতে প্রায় ডজন খানেক সিনেমায় শাবনূরের সাথে অভিনয় করেন সালমাস শাহ। এ জুটিও দর্শকদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠে। এছাড়াও সালমান শাহের সাথে আরও অভিনয় করেছিলেন শাবনাজ, শাহনাজ, শ্যামা, সোনিয়া, বৃষ্টি, সাবরিনা, লিমা, শিল্পী, ও কাঞ্চি।

সালমান শাহ

সালমান শাহ অভিনয়ের মাধ্যমে খুব কম সময়েই দর্শকদের মন জয় করে নিতে পেরেছিলেন। তিনি দর্শকদের কাছে এতাটাই জনপ্রিয় ছিলেন যে, পরবর্তীতে অন্য কেউ তাকে অতিক্রম করতে পারেনি।

সালমানের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার মাত্র চার বছরের। এই স্বল্প সময়ে একাই রাজত্ব করে গেছেন তিনি। মাত্র চার বছরে দর্শকদের উপহার দিয়েছেন ২৭টি সিনেমা। তার অভিনীত সিনেমাগুলো হচ্ছে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ (১৯৯৩), ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘তুমি আমার’, ‘প্রেম যুদ্ধ’, ‘সুজন সখী’, ‘স্নেহ’, ‘বিক্ষোভ’ (১৯৯৪), ‘আঞ্জুমান’, ‘মহামিলন’, ‘কন্যাদান’, ‘দেনমোহর’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘আশা ভালোবাসা’ (১৯৯৫), ‘তোমাকে চাই’, ‘স্বপ্নের পৃথিবী’, ‘বিচার হবে’, ‘এই ঘর এই সংসার’, ‘প্রিয়জন’, ‘সত্যের মৃত্যু নেই’, ‘জীবন সংসার’, ‘মায়ের অধিকার’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’ (১৯৯৬), ‘শুধু তুমি’, ‘আনন্দ অশ্রু,’ ‘প্রেমপিয়াসী’, ‘স্বপ্নের নায়ক’ ও ‘বুকের ভেতর আগুন’ (১৯৯৭)।

সালমান শাহ ১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলায় জন্ম গ্রহণ করেন। তার পারিবারিক নাম ছিল শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন। বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী ও মা নীলা চৌধুরী। সালমান ছিলেন দুই ভাইয়ের মধ্যে বড়।

বাংলা সিনেমায় আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার সময়ে অসংখ্য ভক্তকে কাঁদিয়ে ১৯৯৬ সালের আজকের এই দিনে (৬ সেপ্টেম্বর) মৃত্যুবরণ করেন সালমান শাহ। তার মৃত্যুতে বাংলা সিনেমার একটি ক্ষণস্থায়ী উজ্জ্বল অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে।

চিরসবুজ এই নায়কের রহস্যজনক মৃত্যুর এতো বছর পরেও আজও জানা সম্ভব হয়নি মৃত্যুর আসল রহস্য। যদিও তার মা (নীলা চৌধুরী) এখনো সালমানের মৃত্যুকে আত্মহত্যা মানতে নারাজ। তার মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও মৃত্যুর এত বছর পরও তার জনপ্রিয়তা কমেনি। সালমান শাহকে সর্বকালের নায়ক মনে করেন অনেকেইে। তিনি ছিলেন কালোত্তীর্ণ। কোনো সময় বা কালের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলেন না তিনি। তার স্টাইলিশ চলাফেরা, ফ্যাশন সচেতনতা সর্বকালর জন্য প্রযোজ্য।

   

কান উৎসবের সাজঘরে চির সুন্দরী ঐশ্বরিয়া রাই



বিনোদন ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন / ছবি: সংগৃহীত

ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন / ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বেশ কিছুদিন হলো চলতি বছরের ‘৭৭ তম কান চলচ্চিত্র উৎসব’ শেষ হলো। প্রতি বারের মতোই এক গুচ্ছ বলিউড তারকা অংশগ্রহণ করেন সেখানে। চলচ্চিত্র বিষয়ক আয়োজন হলেও অভিনয়ের সঙ্গে ফ্যাশন ওতোপ্রোতভাবে জড়িত। সেই কারণেই  এই উৎসবে ফ্যাশন তারকারাও আসেন। তাছাড়া উপস্থিত তারকা ও শিল্পীরাও নিজেদের একটু ভিন্নভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেন।  প্রতিবছরই সাজ-পোশাকে অনন্য হতে শিল্পীদের চেষ্টার কমতি থাকে না। তারপরও তারকাদের ফ্যাশন সেন্স নিয়ে শুধু চর্চাই নয় আলোচনা-সমালোচনাও হয় ব্যাপক। চলতি বছরও বলি তারকাদের অনেকে হয়েছেন নন্দিত আবার অনেকে নিন্দিত।  

বিশ্ব সুন্দরীর খেতাব জেতার বদৌলতে হলিউডে রাই সুন্দরীর বন্ধুবৃত্ত বেশ প্রসারিত। তাছাড়াও আন্তর্জাতিক তারকা হিসেবে অনেক আগে থেকেই অন্যান্য এরকম বিশেষ অনুষ্ঠানে যান তিনি। তবে এবারের কান অনুষ্ঠানে গিয়ে আলোচনায় মুখোরিত ছিলেন প্রাক্তন বিশ্বসুন্দরী এবং বলিউড সুন্দরী অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। তবে তার নাম নিন্দিত তালিকাতেই রয়েছে। কান উৎসবের অনুষ্ঠানে ২ দিন ছিলেন ঐশ্বরিয়া। অধিকাংশ দর্শকই ঐশ্বরিয়ার একটি পোশাকও পছন্দ করেননি, তাই নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বয়ে যায় সমালোচনার ঝড়।

কানের লাল গালিচায় যেতে ঐশ্বরিয়ার সাজ

বেশ কিছুদিন পার হয়ে যাওয়ার পর আবারও আলোচনায় এসেছে ঐশ্বরিয়ার কানের লুকস। তবে এবার লাল গালিচার নয় বরং তার সাজঘরের ছবি আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তবে এবার আর আগের মতো সমালোচনায় নয় বরং জোয়ার প্রশংসার অনুকূলেই।

মিসেস রাই বচ্চনের এই ছবিকে আবার অনেকে সমালোচনার জবাব মনে করছেন।  রেড কার্পেট লুক নিয়ে সমালোচিত হওয়ায় নীরব জবাব দিলেন ঐশ্বরিয়া। যেন জানান দিলেন পঞ্চাশ পার হলেও তার সৌন্দর্য্য একবিন্দু কমেনি।   

;

রুনা ফাইনেস্ট অভিনেত্রীদের একজন, বলেছিলেন ফরীদি



মাসিদ রণ, সিনিয়র নিউজরুম এডিটর, বার্তা২৪.কম
রুনা খান ও হুমায়ন ফরীদি

রুনা খান ও হুমায়ন ফরীদি

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের অন্যতম শক্তিমান অভিনেতা, নির্দেশক ও আবৃত্তিশিল্পী হুমায়ূন ফরীদির জন্মদিন বুধবার। মৃত্যুর এক যুগ পরও তিনি সমান জনপ্রিয় দর্শকের কাছে। এমনকি তার সহকর্মীরা এখনো তাকে মনে করেন বিভিন্ন কাজের সময়। তেমনিভাবে তাঁর জন্মদিনে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী রুনা খান স্মৃতির ঝাঁপি মেলে ধরেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়।

নিচের ছবিটি শেয়ার করে রুনা লিখেছেন, ‘‘এটা ছিলো তার সাথে আমার শেষ দেখা। ২০০৯-এর জুলাই বা অগাস্ট। দীপন দা’র ‘মায়ের দোয়া পরিবহণ’ নাটকের সেটে ধামরাইয়ে। তখন রাজেশ্বরী পেটে, ১-২ মাস সবে। চলমান কাজগুলো শেষ করে মাতৃত্বকালীন ছুটিতে চলে যাই। রাজেশ্বরীর জন্মের পর আমার ছোট-বড় তাবত সহকর্মীদের মধ্যে প্রথম এবং একমাত্র জন যিনি আমাকে প্রথম নিজে থেকে ফোন করেন, স্পষ্ট শুনতে পাই আমি এখনো ফরিদী ভাইয়ের ফোনের ওপাশের গলার আওয়াজ, ‘রুনা.. তোমার সন্তান হয়েছে, অভিনন্দন। সন্তানকে নিয়ে ভালো থেকো।’’

নাটকের দৃশ্যে সহশিল্পীর সঙ্গে রুনা খান ও হুমায়ূন ফরীদি

হুমায়ূন ফরীদির চলে যাওয়ার দিনটির কথা স্মরণ করে রুনা লিখেছেন, ‘তিনি যেদিন চলে যান, সেদিন আমার হোতাপাড়া শুটিং ছিলো, ‘সাত-সওদাগর’ নাটকের। শুটিংয়ে না গিয়ে আমি ধানমন্ডি যাই। তার খাটের পাশে, ঘরে, বসার-খাবার ঘরে, নীচে গ্যারেজে সারাদিন দাঁড়িয়ে ছিলাম। কিন্তু একবারের জন্যও তার মুখ দেখিনি, হাত স্পর্শ করিনি।’

হুমায়ূন ফরীদির সঙ্গে প্রথম দেখার স্মৃতি এখনো রুনার মনে জ্বলজ্বলে। তিনি লিখেছেন, ‘‘জীবনে প্রথমবার তার মুখ দেখেছিলাম, তার হাত ধরেছিলাম নিকুঞ্জের কাশবনে, ২০০৪ সালে। শমী কায়সার আপার পরিচালনায় একটি টেলিছবিতে ছোট্ট একটা চরিত্রে কাজ করেছিলাম, শমী আপার বান্ধবী। শিল্পী ছিলেন দিলারা আন্টি, ফরিদী ভাই, শমী আপা আর আমি। প্রথম টেলিছবি ওটা আমার, ক্যামেরার আংগেল বুঝি না, বারবার ক্যামেরার দিকে পেছন দিয়ে দাঁড়াই। তিনি আমার হাত ধরে টেনে ঠিক জায়গায় দাঁড় করিয়ে দিলেন। বললেন, ‘এই মেয়ে এখানে দাঁড়াও, এদিকে তাকিয়ে কথা বলো, ক্যামেরাকে ভয় পাওয়ার কিছু নাই, ক্যামেরা তোমার বন্ধু!’ সেই থেকে অভিনয় জগতে ক্যামেরাই আমার একমাত্র বন্ধু!’’

রুনা খান /  ছবি : নূর এ আলম

২০০৮ এ তার পরিচালনায় হুমায়ুন আহমেদের ‘ছায়াবিথী’ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র ‘নায়লা’তে নির্বাচিত হন রুনা খান। সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিলো রুনা জনপ্রিয় নয় তারপরও কেনো সে সময়কার জনপ্রিয়দেরকে না নিয়ে রুনাকে ‘নায়লা’ চরিত্রে নিলেন?

তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন ‘‘রুনা জনপ্রিয় নয়, তবে ও আমার চোখে এই সময়ের ফাইনেস্ট অভিনেত্রীদের একজন, সেজন্য সে আমার কাছে ‘নায়লা’ !’’

সবশেষে রুনা লিখেছেন, ‘আপনি আমার কাছে এখনো জীবন্ত ফরিদী ভাই। শুভ জন্মদিন। ভালোবাসা। রুনা খান।’

হুমায়ূন ফরীদি
;

জন্মদিনে সহকর্মীদের স্মৃতির পাতায় ফরিদী



মাসিদ রণ, সিনিয়র নিউজরুম এডিটর, বার্তা২৪.কম
আফজাল হোসেন আর হুমায়ূন ফরীদির বন্ধুতা

আফজাল হোসেন আর হুমায়ূন ফরীদির বন্ধুতা

  • Font increase
  • Font Decrease

হুমায়ূন ফরীদি সেই বিরল অভিনেতাদের একজন যাকে অন্য অনেক অভিনেতাই গুরু মনে করেন। তার অভিনয় দক্ষতার এতোটাই উচ্চমার্গীয় ছিল যে, মৃত্যুর এক যুগ পরও তার ঝলক আমরা পাই এ সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতাদের মাঝে। আজ এই প্রখ্যাত শিল্পীর জন্মদিন। বিশেষ দিনে প্রিয় সহকর্মীরা তাকে সোশ্যাল মিডিয়ায় স্মরণ করেছেন শ্রদ্ধাভরে। তেমনি কিছু শুভেচ্ছাবার্তা ও স্মৃতিচারণা নিয়ে এই আয়োজন সাজিয়েছেন মাসিদ রণ

আজ ‘হুমায়ূন ফরিদী সাধারণ এক অসাধারণ’ বইটি প্রকাশিত হয়েছে

আফজাল হোসেন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব

আজ ২৯ মে হুমায়ুন ফরীদির জন্মবার্ষিকী। এই বিশেষ দিনেই প্রকাশ পেয়েছে ‘হুমায়ূন ফরিদী সাধারণ এক অসাধারণ’ নামের বইটি। আহমেদ রেজাউর রহমানের সম্পাদনায় বইটির প্রচ্ছদ করেছি আমি। বইটিতে ফরীদিকে নিয়ে স্মৃতিচারণা করেছেন ৬০ জন বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। যারা ছিলেন প্রয়াত অভিনেতার কাছের মানুষ। আমি ছাড়াও তাকে নিয়ে কথা বলেছেন ফেরদৌসি মজুমদার, নাসির উদ্দীন বাচ্চু, রাইসুল ইসলাম আসাদ, ইমদাদুল হক মিলন, জয়া আহসান, আফরান নিশো, জিতু আহসানসহ অভিনেতার পরিবারের সদস্যদের লেখা।

চঞ্চলের আঁকা ফরীদি

এখনো গভীর রাতে আপনার ছবি আঁকি

চঞ্চল চৌধুরী, অভিনেতা

ফরীদি ভাই
আপনার অভাব কখনো পূরন হবার নয়।
তাইতো এখনো গভীর রাতে আপনার ছবি আঁকি ক্যানভাসে
নানান রেখায় জীবন্ত হয়ে ওঠেন আপনি,
স্মরন করি গভীর শ্রদ্ধায়
হুমায়ুন ফরীদি..একজনই..
শুভ জন্মদিন ফরীদি ভাই।

নাটকের দৃশ্যে রুনা খান ও হুমায়ূন ফরীদি

ক্যামেরা তোমার বন্ধু

রুনা খান, অভিনেত্রী

জীবনে প্রথমবার তার মুখ দেখেছিলাম, তার হাত ধরেছিলাম নিকুঞ্জের কাশবনে, ২০০৪ সালে। শমী কায়সার আপার পরিচালনায় একটি টেলিছবিতে ছোট্ট একটা চরিত্রে কাজ করেছিলাম, শমী আপার বান্ধবী। শিল্পী ছিলেন দিলারা আন্টি, ফরিদী ভাই, শমী আপা আর আমি। প্রথম টেলিছবি ওটা আমার, ক্যামেরার আংগেল বুঝি না, বারবার ক্যামেরার দিকে পেছন দিয়ে দাঁড়াই। তিনি আমার হাত ধরে টেনে ঠিক জায়গায় দাঁড় করিয়ে দিলেন। বললেন, ‘এই মেয়ে এখানে দাঁড়াও, এদিকে তাকিয়ে কথা বলো, ক্যামেরাকে ভয় পাওয়ার কিছু নাই, ক্যামেরা তোমার বন্ধু!’
সেই থেকে অভিনয় জগতে ক্যামেরাই আমার একমাত্র বন্ধু!

মৌটুসী বিশ্বাস ও ফরীদির অটোগ্রাফ সম্বলিত বই

প্রথম নাটকের সহশিল্পী ফরীদি স্যার

মৌটুসী বিশ্বাস, অভিনেত্রী

প্রথমবার বোধহয় কাজের সুযোগ পেয়েছিলাম মুহম্মদ জাফর ইকবালের লেখা এবং আবদুল্লাহ রানার পরিচালনায় টেলিফিল্ম ‘গেস্ট হাউজ’-এ। হুমায়ূন ফরীদি স্যার, আলী যাকের চাচা, আসাদুজ্জামান নূর চাচা, পারভীন সুলতানা দিতি আন্টি, সুবর্ণা মুস্তাফা আপা, ফজলুর রহমান বাবু ভাইদের মাঝে আমি ২২ বছরের চট্টগ্রাম-ঢাকা করা এক এ্যামেচার।
আজ মনে পড়ছে ফরীদি স্যারের কথা। শুটিং হাউজে তিনি ঘড়ি ধরে আসতেন, কাজ করতেন তারপর সময়মতো চলে যেতেন। তার প্রশ্নের ভয়ে তটস্থ থাকত শুটিং টিম। ধরুন, ক্যামেরাম্যানকে উনি ডাকলেন, ডিওপি বলার চল তখনো শুরু হয়নি। কী ক্যামেরা জেনে তিনি তৎক্ষণাৎ কিছু প্রশ্ন করতেন। বেচারার ধরণী দ্বিখণ্ডিত হলেই বোধহয় ভালো ছিল। বকা দিতেন না। শুধু জিজ্ঞেস করতেন, তারপর নিজেই উত্তর দিয়ে দিতেন। এমন অবস্থায় আমি আগেই আত্মসমর্পণ করতাম আর নানা রকম অভিনয় সংক্রান্ত প্রশ্ন করতাম।
নানাবিধ প্রশ্নের মাঝে একদিন তিনি কিছু বই নিয়ে আসলেন আমার জন্য। কনস্তান্তিন স্তানিস্লাভস্কি-এর দুটো বই সাথে স্তানিস্লাভস্কির ছাত্রী সোনিয়া মুর-এর একটা বই। দিলেন। আমি ‘হা’ হয়ে গেলাম। আমার ‘হা’ আর বন্ধ হয় না। ফরীদি স্যার স্তানিস্লাভস্কির বই দিচ্ছেন আমাকে? কেন?
তাকে জানাই আমি ফটোকপি করে উনার বই ফেরত দিয়ে আসব। তিনি হেসে বললেন, লাগবে না। আমার মুখ তখনো হা হয়েই আছে।
তিনি আশ্বস্ত করলেন যে এই বইগুলোর কাজ শেষ। আমার কোনোদিন শেষ হলে যার প্রয়োজন তাকে যেন আমি দিয়ে দেই। আহ্ তিনি যদি জানতেন যে এই প্রয়োজন আমার কখনোই মিটবে না।

ফরীদির সঙ্গে দেবাশীষ বিশ্বাস

বাংলাদেশের 'অভিনয় প্রতিষ্ঠান'

দেবাশীষ বিশ্বাস, নির্মাতা ও উপস্থাপক

বাংলাদেশের 'অভিনয় প্রতিষ্ঠান' হুমায়ুন ফরিদীকে জন্মদিনের অনেক অনেক শুভেচ্ছা! আমার বাবা'র পর আপনার অভিজ্ঞতালব্ধ সুপরামর্শ আমার এ জগতে চলার পথের পাথেয় হয়ে থাকবে আজীবন! আপনার সাথে উপস্থাপক, সহঅভিনেতা আর সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করার সুখ আর সৌভাগ্য নিয়েই কাটিয়ে দিতে চাই বাকী পার্থিব জীবনটাকে!

ফরীদির তরুণ বয়সের এই স্কেচটি দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সাজু খাদেম

তিনি সবার গুরু

সাজু খাদেম, অভিনেতা

তিনি শুধু আমার গুরু নন, সবার গুরু। শুভ জন্মদিন ফরীদি ভাই।

এই ছবিটি তুলেছেন অভিনেতা ইরেশ যাকের, শাহেদ আলীর ফেসবুক ওয়াল থেকে নেওয়া

নতুন প্রজন্মও ফরীদি ভাইকে শ্রদ্ধাচিত্তে স্মরণ করছে

শাহেদ আলী সুজন, অভিনেতা

হুমায়ুন ফরীদি ভাইয়ের শেষ বিদায়ের এক যুগ হয়ে গেল। তিনি যখন মারা যান, অনেকেই ভেবেছিলেন, ‘লোকজন হয়তো-বা তাকে খুব একটা মনে রাখবে না।’ কিন্তু সময়ের আবর্তে দেখেছি, যারা তাকে সে সময় পছন্দ করতেন, শুধু তারাই নন, নতুন প্রজন্মও ফরীদি ভাইকে শ্রদ্ধাচিত্তে স্মরণ করছে। অভিনেতা কিংবা মানুষ হিসেবে তাকে যারা পছন্দ করতেন, জীবনের বিভিন্ন কিছুতে তারা হুমায়ুন ফরীদিকে রাখতে চান। এ বিষয়টি আমার ভালো লাগে।
বাংলা সংস্কৃতির বিভিন্ন অঙ্গনে ফরীদি ভাইয়ের অবদান আছে। আমি মনে করি তিনি থিয়েটারের একজন দিকপাল। টিভি নাটকের ইন্ডাস্ট্রিতে পেশাদারিত্ব প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকা ছিল। আবৃত্তির ক্ষেত্রেও একটা স্বতন্ত্র ধারা তৈরি করেছিলেন। তাই শুধু চলচ্চিত্র-অভিনেতা বললে একটা গণ্ডির মধ্যে তাকে আবদ্ধ করে ফেলা হবে, উনার ব্যাপ্তিটা আরও বিশাল।

;

মানসিক রোগে ভুগছেন ফাহাদ ফাসিল



বিনোদন ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
অভিনেতা ফাহাদ ফাসিল

অভিনেতা ফাহাদ ফাসিল

  • Font increase
  • Font Decrease

দক্ষিণ ভারতের সিনেমার অন্যতম শক্তিমান অভিনেতা ফাহাদ ফাসিল। বিভিন্ন ধাচের চরিত্রে নিজেকে সুনিপুণভাবে তুলে ধরার জন্য সুখ্যাতি রয়েছে এই তারকার। সম্প্রতি ‘পুষ্পা’ সিনেমায় নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করে সর্বভারতীয় তারকার তকমা পেয়েছেন।

ক্যারিয়ারের এমন সুসময়ে এই তারকাকে ভুগতে হচ্ছে ব্যক্তিগত সমস্যায়! অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপার অ্যাক্টিভিটি ডিসঅর্ডার অর্থাৎ এডিএইচডি রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ফাহাদ ফাসিল। সম্প্রতি কেরালার কোথামঙ্গলামে একটি স্কুলের অনুষ্ঠানে গিয়ে নিজের এই রোগের কথা জানান তিনি।

অভিনেতা ফাহাদ ফাসিল

উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এক চিকিৎসক। সেখানেই এই রোগের প্রতিকারের উপায় জানতে চেয়েছিলেন তিনি। চিকিৎসক জানান, ছোটদের ক্ষেত্রে খুব সহজেই এডিএইচডি রোগের চিকিৎসা করা যায়। আর বড়দের ক্ষেত্রে লক্ষণ বুঝে চিকিৎসার পদ্ধতি নির্ণয় করতে হয়। কিছু ক্ষেত্রে মনোবিদের সাহায্য নেওয়া উচিত। কখনও আবার ওষুধের প্রয়োজন পড়তে পারে।

এডিএইচডি এটি এক ধরনের মানসিক রোগ। সাধারণ শিশুদের মধ্যেই এই রোগের প্রভাব বেশি। এই রোগে আক্রান্ত হলে সাধারণত অন্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করার প্রবণতা দেখা যায়। কিংবা সর্বত্র সবার মধ্যমণি হয়ে থাকার প্রবণতা দেখা যায়।

অভিনেতা ফাহাদ ফাসিল

দক্ষিণী পরিচালক ফজিলের ছেলে ফাহাদ। প্রথম সিনেমা মুক্তির পরই আমেরিকা চলে গিয়েছিলেন পড়াশোনা শেষ করতে। সেখান থেকে ফিরে এসে মালয়ালম সিনেমায় দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে তুমুল সাফল্য পান তিনি। ফাহাদ মালয়ালাম সিনেমার সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া অভিনেতাও বটে।

তথ্যসূত্র : পিঙ্কভিলা

অভিনেতা ফাহাদ ফাসিল

;