কনক চাঁপার যে গানটি সবচেয়ে বেশি প্রিয় শ্রোতাদের



বিনোদন ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
কনক চাঁপা

কনক চাঁপা

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলা সংগীতের এক উজ্জল নক্ষত্রের নাম রোমানা মোর্শেদ কনক চাঁপা। অসংখ্য গান গেয়ে কোটি কোটি শ্রোতার মন জয় করে আছেন তিনি।

চলচ্চিত্র, আধুনিক গান, নজরুল সঙ্গীত, লোকগীতিসহ প্রায় সবধরনের গানে কনক চাঁপা সমান পারদর্শী। দীর্ঘ ৩৪ বছরের সংগীত ক্যারিয়ারে তিন হাজারেরও বেশি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। প্রকাশিত হয়েছে ৩৫টি একক গানের অ্যালবাম।

কনক চাঁপার গাওয়া এতো এতো গানগুলোর মধ্যে কোনো গানটি শ্রোতাদের সবচেয়ে বেশি প্রিয় সম্প্রতি এমনই এক প্রশ্ন ভক্তদের সামনে ছুড়ে দিয়েছিলেন তিনি।

কনক চাঁপা

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট করেছিলেন কনক চাঁপা। যেখানে তিনি লিখেছিলেন, ‍“আমার গাওয়া কোন গানটি আপনার সবচেয়ে পছন্দের? কমেন্ট করে জানান।”

সেই পোস্টের নিচে লাইক পড়েছে সাত হাজার। কমেন্ট করেছেন প্রায় চার হাজার মানুষ।

সেই পোস্টের নিচেই মন্তব্য করে অনেকেই কনক চাঁপার গাওয়া বিভিন্ন গানের নাম লিখেছেন। তবে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ যে গানটির কথা লিখেছেন সেটি হলো ‘তুমি আমার এমনই একজন’।

 

১৯৯৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘আনন্দ অশ্রু’ ছবিতে ব্যবহৃত হয়েছিলো ‘তুমি আমার এমনই একজন’ গানটি। আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের লেখা গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছিলেন কনক চাঁপা।

গানের পাশাপাশি লেখক হিসেবেও কনকচাঁপার সুখ্যাতি রয়েছে। ২০১০ সালের অমর একুশে বইমেলায় ‘স্থবির যাযাবর’, ২০১২ সালের অমর একুশে বইমেলায় ‘মুখোমুখি যোদ্ধা’ ও ২০১৬ সালের অমর একুশে বইমেলায় ‘মেঘের ডানায় চড়ে’ নামে তিনটি বই প্রকাশিত হয়েছে কনক চাঁপার।

কোটা সংস্কার হবার পর পুনরায় সরকারের পাশে দাঁড়াবো: মেহজাবীন



মাসিদ রণ, সিনিয়র নিউজরুম এডিটর, বার্তা২৪.কম
মেহজাবীন চৌধুরী

মেহজাবীন চৌধুরী

  • Font increase
  • Font Decrease

টিভি নাটকের সবচেয়ে জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরীও এবার কঠোর কণ্ঠে রুখে দাঁড়িয়েছেন ছাত্রদের প্রতি চলমান সহিংসতার বিরুদ্ধে। তুলে ধরেছেন কোরআন-হাদিসের তথ্য। আজ (বৃহস্পতিবার) সোশ্যাল হ্যান্ডেলে লিখেছেন দীর্ঘ এক লেখা। মেহজাবীন চৌধুরীর পুরো লেখাটি তুলে ধরা হলো-

ছোটবেলা থেকে জেনেছি, পরিবার-সমাজ-রাষ্ট্র নারীর গায়ে হাত তোলা সমর্থন করে না। আমাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থও কখনও নারীর প্রতি সহিংসতা শেখায়নি। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমরা নারীদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করো’। হাদিসে বলা হয়েছে, ‘তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক ভালো মানুষ তারাই, যারা নারীদের সঙ্গে সদাচরণ করে’।

মেহজাবীন চৌধুরী

অথচ আমাদের দুর্ভাগ্য, গণমাধ্যম বা সামাজিকমাধ্যমে আজকাল এর ভিন্ন চিত্র, মর্মান্তিক সব ভিডিও দেখতে হচ্ছে। একজন নয়, দুইজন নয়, আমারই অসংখ্য বোনের ওপর নির্বিকার ভঙ্গিতে হামলা চালানো হচ্ছে, রক্তাক্ত করা হচ্ছে। কী নির্মম, কী নৃশংস! ন্যায়-অন্যায়ের প্রসঙ্গে পরে আসছি, তবে আমার অবস্থান থেকে বলবো: সর্বোচ্চ কোনও যুক্তির অজুহাতেও নারীর প্রতি এই সহিংসতা মেনে নেয়া যায় না। ‘না’ মানে ‘না’; কক্ষনো না। ছাত্র-ছাত্রীরা কি-ই বা করেছিল? তারা তাদের অধিকারের ব্যাপারে সোচ্চার হয়েছিল। কোটা সংস্কারের দাবি তুলেছিল। তাই তো? একটি গণতান্ত্রিক দেশে স্বাধিকারের দাবি যে কেউ তুলতে পারে। কিন্তু তাই বলে নারীর গায়ে হাত তোলা, ‘আবু সাঈদ’-এর মতো সম্ভাবনাময় তরুণকে হত্যা করা-এসব কি সভ্যতার পর্যায়ে পড়ে? সমাধানের অন্য কোনও উপায় কি ছিল না? গুলি কেন করতে হলো?

মেহজাবীন চৌধুরী

পরিস্থিতি হয়তো আজ কিংবা কাল স্বাভাবিক হয়ে যাবে। কিন্তু যে মায়ের বুক খালি হলো, যে পরিবারের মুখের হাসি চলে গেল, আমরা কি সেই শূন্যতা অন্য কিছুর বিনিময়ে পূর্ণ করতে পারবো? কক্ষনো না। তাছাড়া ইতিহাস সাক্ষী, শক্তি যত বড়ই হোক, ছাত্র সমাজের ওপর চড়াও হয়ে যুগে যুগে কেউ কখনও কিছুই অর্জন করতে পারেনি। তাহলে কেন এই ব্যর্থ আস্ফালন? মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ কিংবা আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আমরা সবসময়ই বুকের ভেতর লালন করি। আমরা গর্ব করি বীর মুক্তিযোদ্ধারা নিজেদের প্রাণের বিনিময়ে আমাদের একটি স্বাধীন দেশ উপহার দিয়েছিলেন। কিন্তু এই দেশে নিজের মনের ভাব প্রকাশ করা যাবে না, অধিকারের দাবি তোলা যাবে না, সবকিছুর ঊর্ধ্বে যোগ্যতার পরিচয়টাকেই সবচেয়ে বড় করে দেখা যাবে না, প্রশাসনের চাওয়া-পাওয়ার বিরুদ্ধে গেলেই হামলার শিকার হতে হবে, অকাতরে অকাল প্রাণ বিলিয়ে দিতে হবে-এমন বাংলাদেশের স্বপ্ন কি আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধারা দেখেছিলেন? আমার মনে হয় না।

মেহজাবীন চৌধুরী

দ্রব্যমূল্যর ঊর্ধ্বগতি, প্রশ্নপত্র ফাঁস থেকে দুর্নীতি-প্রায় সব ইস্যুতেই তো আমরা চুপ থাকি। রক্ষক ভক্ষক হয়ে গেলেও আমরা নীরবে সয়ে যাই। অপেক্ষা করি, হয়তো একটা না একটা সমাধান আসবে। আজ না হলেও দুদিন পরে আসবে। অন্যান্য ইস্যুতে আমরা সামাজিক মাধ্যমেও এতটা সোচ্চার হই না। তাহলে ইদানীং কেন হচ্ছি? কেন কোটা সংস্কার ইস্যুতে দলমত নির্বিশেষে আমাদের মতো সাধারণ জনগণ সরকারের পদক্ষেপের নিন্দা করছি? কারণ একটাই, কোটা সংস্কার এখন সময়ের দাবি। যত দ্রুত সম্ভব এর সমাধান জরুরি। ভুলে গেলে চলবে না, আমরা এই সাধারণ জনগণই কিন্তু মেট্রো রেল, পদ্মা সেতু, উড়াল সেতু ইত্যাদি সহ সরকারের অনেক যুগান্তকারী সাফল্যে গর্বিত হয়ে হাত তালি দিয়েছিলাম। গালভরা প্রশংসা করেছিলাম। সামাজিক মাধ্যমে সরব হয়েছিলাম। নিশ্চয়ই ছাত্র-ছাত্রীদের দাবি মেনে কোটা সংস্কার হবার পর আমরা পুনরায় সরকারের পাশে দাঁড়াবো। এক পক্ষ হয়ে দেশের সব সমস্যার সমাধান করার জন্য সরকারকে সহযোগিতা করবো। সবাই মিলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবো।

মেহজাবীন চৌধুরী

অর্থাৎ সব কথার শেষ কথা, ছাত্ররা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। দমিয়ে না রেখে তাদের যৌক্তিক দাবিতে সমর্থন দেয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সর্বোচ্চ আদালতের কাছে আমি মেহজাবীন চৌধুরী আকুল আবেদন করছি। আমার বিশ্বাস, আমরা নিরাশ হবো না।

লেখাটি শেষে অভিনেত্রী #SaveBangladeshiStudents হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করেন। সঙ্গে জুড়ে দেন চলমান আন্দোলনের তিনটি ছবির কোলাজ।

;

কোটা আন্দোলনে সশরীরে যোগ দিয়ে আহত সালমান



মাসিদ রণ, সিনিয়র নিউজরুম এডিটর, বার্তা২৪.কম
কোটা আন্দোলনে সশরীরে অংশ নিয়েছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার সালমান মুক্তাদির

কোটা আন্দোলনে সশরীরে অংশ নিয়েছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার সালমান মুক্তাদির

  • Font increase
  • Font Decrease

শোবিজ তারকাদের মধ্যে সর্বপ্রথম কোটা আন্দোলনে সশরিরে অংশ নিয়েছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার সালমান মুক্তাদির। এরইমধ্যে এই তারকার মাস্ক পরা একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। আর সেই ছবি ছড়িতে পড়তে না পড়তেই দারুণ প্রশংসা কুড়াচ্ছেন সালমান।

তবে একটু আগেই সালমানের আরেকটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, এই তারকাকে কয়েকজন মিলে টেক কেয়ার করছেন। কারণ তাকে আক্রমণ করা হয়েছে। কোটা আন্দোলনের সশরীরে অংশ নিতে গিয়েই কিছুটা আহত হয়েছেন তিনি।

কোটা আন্দোলনে সশরীরে অংশ নিয়েছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার সালমান মুক্তাদির

একজন সালমানের সেই ছবিটি পোস্ট করে ফেসবুকে লিখেছেন, ‘‘সো কলড পপুলার ফিগারদের মাঝে সরাসরি মাঠে নেমে আন্দোলনে একাত্ম হতে দেখলাম একমাত্র সালমান মুক্তাদিরকে। বেশিরভাগের কাছে যার পরিচয় ‘অভদ্র ছেলে’’।

সালমান মুক্তাদির সরাসরি মাঠে নেমে আন্দোলনে একাত্ম হওয়ার আগে ফেসবুকেও পোস্ট দিয়েছিলেন। গত ১৬ জুলাই সালমান তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘এমন কোনো ছাত্র আছেন যিনি আক্রান্ত হয়েছেন অথবা হলে ঢুকতে পারছেন না? আমি আপনাদের খেয়াল রাখব। তবে লাখ লাখ মেসেজ বা পোস্টের মধ্যে ফিল্টার করা আমার পক্ষে অসম্ভব। তাই আমার ফ্রেন্ডলিস্টে আপনাদের কোনো মিউচুয়াল ফ্রেন্ড আছে কিনা দেখেন এবং আমাকে নক করেন।’

সালমান মুক্তাদির

তিনি আরও লেখেন, ‘আপনার যদি থাকার জন্য একটি জায়গা প্রয়োজন হয় অথবা আপনার চিকিৎসা সেবা প্রয়োজন হয়, আমি এখানে রয়েছি। এইমাত্র কিছু ভিডিও দেখলাম, যেখানে মানুষ তাদের হলে প্রবেশ করতে পারে না। যদি এটা যথেষ্ট না হয় তাহলে আবার ক্ষমা চেয়ে নিন। আমার সত্যিই হৃদয় ভেঙ্গেছে এবং বিব্রত। আমি সত্যিই জনপ্রিয় হয়েও কোনো কাজে না আসায় লজ্জা বোধ করছি।’

;

যথার্থ শিল্পীর মূল্যায়ন হয় না কখনোই : ক্যামেলিয়া মুস্তাফার মৃত্যুতে ফাহমিদা



মাসিদ রণ, সিনিয়র নিউজরুম এডিটর, বার্তা২৪.কম
সদ্যপ্রয়াত ক্যামেলিয়া মুস্তফা ও ফাহমিদা নবী

সদ্যপ্রয়াত ক্যামেলিয়া মুস্তফা ও ফাহমিদা নবী

  • Font increase
  • Font Decrease

না ফেরার দেশে চলে গেছেন একসময়ের জনপ্রিয় আবৃত্তিশিল্পী ও অভিনেত্রী ক্যামেলিয়া মুস্তাফা (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি গতকাল ১৭ জুলাই সকালে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সঙ্গীতশিল্পী ফাহমিদা নবী ও কম্পোজার রিপন খান।

দর্শকের মধ্যে ক্যামিলিয়া মুস্তাফাকে নিয়ে একটি ভ্রান্ত ধারণা ছিলো। অনেকেই মনে করতেন তিনি প্রয়াত অভিনেতা গোলাম মুস্তাফার মেয়ে ও অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফার বোন। আদতে তার বাবা দেশের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক শামসুদ্দীন আবুল কালাম। কন্যা ক্যামেলিয়ার জন্মের পর স্ত্রী হোসনে আরা বিজুর সঙ্গে ডিভোর্স হয়ে যায় তার। পরে তাকে বিয়ে করেন প্রখ্যাত অভিনেতা গোলাম মুস্তাফা। তারপর থেকে মুস্তাফা পরিবারেই বড় হয়েছেন ক্যামেলিয়া।

ক্যামেলিয়া মুস্তফা

ফাহমিদা নবী আজ তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘ক্যামেলিয়া মুস্তফা একজন কবি এবং আবৃত্তিশিল্পী ছিলেন। অভিনয় করেছিলেন কিছু অল্প। উপস্থাপনা করেছিলেন বেশকিছু। গতকাল রাতে দেশে ফিরেই তার চলে যাওয়ার খবরটা শুনে অনেক খারাপ লাগছে। ২০০৭ সালের কথা, ক্যামেলিয়া আপার অসুস্থতার জন্য ‘শিল্পীর পাশে’ নামে একটি চিঠি প্রথম আলোতে লিখেছিলাম। তখন অনেকেই পাশে দাঁড়ান এবং কিছু অর্থ যোগানে তার অপারেশন হয়। সেই সময় থেকে তার বেদনা এবং অভিমান অভিযোগ অনেকেই শুনেছে। ডাক্তার আশীষ তার হাসপাতালে চিকিৎসা করেন। কৃতজ্ঞতা ডাক্তার আশীষ। এরশাদুল হক টিংকু, শাহেদ ভাই আর আমি সে সময় অনেক দৌড়াদৌড়ি করি। ‘শিল্পীর পাশে’ নামটি এনামুল করিম নির্ঝরের দেয়া। তারপর ‘শিল্পীর পাশে’ উদ্যোগটি কি যেন হয়ে গেলো! বড় পরিসরে কিছু হবে বলে উধাও! কিছুই হয়নি আর।’’

ফাহমিদা নবী

ফাহমিদা নবী আরও লিখেছেন, ‘হঠাৎ ক্যামেলিয়া আপার মৃত্যু অনেক কিছু মনে করিয়ে দিলো। সত্যিকার শিল্পীর পাশে আসলে কেউ থাকে না। তার সার্ভাইভটা তাকেই করতে হয়! যথার্থ শিল্পীর মূল্যায়ন হয় না কখনোই। মাঝে মাঝেই দেখেছি তাকে রাস্তায়। পায়ে ভীষন রকমের ক্ষত, ঘাঁ নিয়ে হাটঁতেও কষ্ট। তার মধ্যেও অভিযোগ করেই যেতেন। মাথায় ব্যথা হতো, থামতে পারতেন না। শেষমেষ অসমাপ্ত অভিযোগের বাক্স নিয়েই চলে গেলেন কোন উপসংহার-উত্তর ছাড়াই। কি সুন্দর ছিলেন দেখতে, তেমন রুচিশীল, কথা বলার ধরনে আধুনিকতার ছোঁয়া। তার চাহনি ছিলো অপূর্ব। অনেকটাই লাবন্য চরিত্রের মতোন লাগতো। আমরা ছোটবেলায় পাশাপাশি থাকতাম এলিফ্যান্ট রোডে। মুস্তাফা চাচার বাসার পিছনের বাসাটাই ছিলো আমাদের। ক্যামেলিয়া আপাকে তখন যেভাবে দেখেছিলাম, এতো মর্ডান একজন হাসিমুখের মানুষ তেমনটাই মনে গেঁথে আছে। তার ক্ষত হৃদয়ের ব্যথা মিশে যাক মাটিতেই। এই দোয়া করি। তার আত্মার শান্তি কামনা করি।’’

ক্যামেলিয়া মুস্তফা

পরিশেষে ফাহমিদা লিখেছেন, ‘আবারও জানলাম অভিযোগ করে কিছুই হয় না। নিজেকে নিজের তৈরী করতে হয়। টিকে থাকার যুদ্ধ করতে হয়। অভিযোগে অভিমানের অসুখ বাড়ে। সুখ হয়ে যায় ক্ষত। তারপর একদিন ক্ষত নিয়ে চলে যেতে হয়! কেউ মনে রাখে, কেউ ভুলে যায়। সময় থাকতে নিজেকে সুখী হৃদয়ের কথা বলো, আপসোস ছেড়ে দাও। ভালো থাকতে চেষ্টা করো। একজন ক্যামেলিয়া আপাকে যেভাবে হাসতে দেখেছিলাম ছোটবেলায় সেভাবে মনে রাখবো। তার একটা কবিতার বই পড়েছিলাম, দারুন তার লেখার হাত। কবিতা পড়ার কন্ঠ আর চোখের দৃষ্টি মনে রাখবো সবসময়। কোন প্রশ্ন উত্তর নয়, একজন মানুষ তার অতৃপ্তির বেদনা পৃথিবীতে রেখে চলে গেলেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা সে হিসেবটাও সময়মতো পরিশোধ করে দেবেন। আমিন’।

;

কোটা আন্দোলন নিয়ে নিজের স্ট্যাটাস মুছে ফেলার কারণ জানালেন ফারুকী



বিনোদন ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী

নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী

  • Font increase
  • Font Decrease

কোটা আন্দোলন নিয়ে নিজের ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে তা আবার মুছে ফেলেন জনপ্রিয় নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। এমনিতেই দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে শিল্পী সমাজ সেভাবে ভূমিকা রাখছেন না। তারমধ্যে ফারুকীর স্ট্যাটাস মুছে ফেলাটা ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়।

অবশেষে কেন তিনি সেই স্ট্যাটাসটি মুছে ফেলেছেন সে কথা জানালেন আরেকটি ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে। গতকাল ফারুকী লিখেছেণ, ‘আমি কিছুদিন আগে একটা স্ট্যাটাস দিয়ে সরিয়ে ফেলেছি কারণ, একটা স্ট্যাটাস দিলে আমার মাথার মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়! পরবর্তীতে আরেকটা কথা লিখতে ইচ্ছা হয়। লিখতে থাকলে যত বেশি এংগেজড হই সেটা আমার শারীরিক অবস্থার জন্য ভালো না। আমার শরীর সুস্থ করার জন্য যে লড়াইটা সেটা এক দীর্ঘ লড়াই। সেই লড়াইটা করার অনুমতি নিশ্চয়ই পেতে পারি?’

এই ছবিটি পোস্ট করে কথাগুলো লিখেছেন ফারুকী

তিনি আরও লেখেন, ‘কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হচ্ছে, আমার স্ট্যাটাসটা সরিয়ে ফেলার পর থেকে আজকে পর্যন্ত বিভিন্ন অনলাইন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে লিখেছেন যে, আমি দালাল হয়ে গেছি এই কারণে চুপ হয়ে আছি। এখন সোশ্যাল মিডিয়ার বিপদ হচ্ছে আপনাকে প্রতিদিন প্রমাণ করতে হবে আপনি কে! আজকে রাষ্ট্র যে অবস্থায় এসেছে এ অবস্থায় আসার শুরু যখন হয়েছিল তখন থেকে তারা যদি আমার ফেসবুকের লেখাগুলো একটু গবেষণা করে দেখতো। তাহলে বুঝতে পারত আমি কে, আমি কি বলেছি এবং কি বলার কারণে আমি বারবার বিপদে পড়ি! কোন রিসার্চ নাই, জাস্ট ঢালাওভাবে দালাল বলে দাও।’

সবশেষে ফারুকী লিখেছেন, ‘‘আজকে যে বাইনারি চলছে, হয় তুমি আমার পক্ষে না হয় তুমি আমার বিপক্ষে। এই বাইনারির বিপক্ষে আমি ২০১৪ সালে লিখেছিলাম ‘কিন্তু এবং যদির খোঁজে’, লেখাটি বাংলাদেশ প্রতিদিনে ছাপা হয়েছিল। মনে রাখতে হবে ওই সময় ছিল শাহবাগের সময়। ২০১৩ তে যখন শাহবাগে আন্দোলন শুরু হলো তখন বাইনারি এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল যে বলতে শুরু হল ‘কিন্তু এবং যদি’ যে বলবে সেই রাজাকার, সেই ছাগু। সেই ছাগু ট্যাগটাকে আমি গলার মালা হিসেবে নিয়ে আমি লিখেছিলাম ‘কিন্তু এবং যদির খোঁজে’। কিছুদিন আগেও আমি বলেছি, স্বাধীনতাকে প্রশ্ন করতে পারাটাই স্বাধীনতা!’

নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী

শুধু ব্যক্তিগত কৈফিয়ত দিয়েই ক্ষান্ত হননি ফারুকী। তিনি চলমান কোটা আন্দোলন নিয়ে লিখেছেন, ‘আপনারা যারা ভাবছেন আন্দোলনটা স্রেফ একটা চাকরীর জন্য, তারা বোকার স্বর্গে আছেন। আপনারা এর সবগুলা শ্লোগান খেয়াল করেন। দেখবেন, এই আন্দোলন নাগরিকের সম মর্যাদার জন্য। এই আন্দোলন নিজের দেশে তৃতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসাবে না বাঁচার জন্য। এই আন্দোলন রাষ্ট্রক্ষমতায় যারা আছেন তাদের মনে করিয়ে দেয়ার জন্য যে, দেশের মালিক তারা না। আসল মালিক জনগন। সেই জনগনকে রাষ্ট্র যে পাত্তা দেয় না, এই আন্দোলন সেটার বিরুদ্ধেও একটা বার্তা। রাষ্ট্র জনগণকে কেনো পাত্তা দেয়না এই আন্দোলনকারীরা সেটাও বোঝে। যে কারণে ভোটের বিষয়টাও শ্লোগান আকারে শুনেছি। এই আন্দোলন মনে করিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে, আপনি আমার কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য। অল পাওয়ার টু দ্য পিপল। অল পাওয়ার টু দ্য ইয়ুথ। প্রেয়ারস ফর মাই ফেলো সিটিজেনস। শহীদের রক্ত কখনো বিফলে যায় না।’

;