জনশুমারিতে সংখ্যায় বেশি, ভোটার সংখ্যায় পিছিয়ে নারীরা



জাহিদ রাকিব, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
জনশুমারিতে সংখ্যায় বেশি, ভোটার সংখ্যায় পিছিয়ে নারীরা

জনশুমারিতে সংখ্যায় বেশি, ভোটার সংখ্যায় পিছিয়ে নারীরা

  • Font increase
  • Font Decrease

৯ বছর আগে রাজধানীর মধুবাগে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে চার সন্তানের জননী শিল্পী আহমেদের (৩৫) টিনশেড ঘরটি পুড়ে যায়। তার কিছুদিন পর স্বামী তাকে ছেড়ে অন্যত্র বিয়ে করে। তারপর থেকে সন্তানদের নিয়ে একাই জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। 

শিল্পী আহম্মেদ বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ধর্মীয় রীতি পালন করি, ছবি তুলতে হবে তাই আমি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) করিনি। অগ্নিকাণ্ডে ঘর পুড়ে যাওয়ার পর সবাই সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ-সহযোগিতা পেলেও এনআইডি না থাকায় কোনো সহায়তা পাইনি।

শিল্পী আহম্মেদের মত ঢাকার মোমিনবাগের বাসিন্দা শরীয়তপুরের উম্মে কুলসুম কুসুম (৩৮) বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন। ছয় নাবালক সন্তান রেখে স্বামী মারা গেছেন পাঁচ বছর আগে। মুখচ্ছবি দিতে সম্মতি না দেওয়ায় জাতীয় পরিচয়পত্র পাননি। কোথাও কাজ নিতে গেলে সবাই আগে জাতীয় পরিচয়পত্র দেখতে চায়।

নানাবিধ কারণে শিল্পী আহম্মেদ ও উম্মে কুলসুমের মত এখনো জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন করেননি। ফলে নাগরিক সুবিধার বাইরে রয়ে গেছেন এনআইডি না নেওয়া নারীরা। 

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) জনশুমারির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে নারীর সংখ্যা বেশি হলেও ইসির ভোটার তালিকায় বেশি পুরুষ ভোটার সংখ্যা। সেখানে দেখা যায়, ১৬ কোটি ৫১ লাখ ৫৮ হাজার ৬১৬ জন জনসংখ্যায় পুরুষ রয়েছে ৮ কোটি ৪১ লাখ ৩৪ হাজার ৩ জন। নারীর সংখ্যা আট কোটি ৫৬ লাখ ৮৬ হাজার ৭৮৪ জন।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট ভোটার ১১ কোটি ৯৬ লাখ ৯১ হাজার ৬৩৩ জন। পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৭ লাখ ৭১ হাজার ৫৭৯ জন, নারী ভোটার ৫ কোটি ৮৯ লাখ ১৯ হাজার ২০২ জন। সেই হিসেবে পুরুষ ভোটারের তুলনায় নারী ভোটার ১৮ লাখ ৫২ হাজার ৩৭৭ ভোটার কম।

নির্বাচন বিশ্লেষকরা বলছেন, জনসংখ্যায় যেহেতু নারীর সংখ্যা বেশি, স্বাভাবিকভাবে নারী ভোটারও বেশি থাকার কথা। কিন্তু কিছু লোকের ধর্মীয় বিশ্বাস, ছবি তুলতে অসম্মতি, এনআইডির গুরুত্ব নিয়ে প্রচারের অভাব, নানা প্রতিবন্ধকতা, প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের মধ্যে আগ্রহ বা সুযোগের অভাব ভোটার সংখ্যায় ওই উল্টো চিত্রের কারণ ঘটাতে পারে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বার্তা২৪.কম-কে বলেন, নারীরা নানান কুসংস্কার বিশ্বাস করে বিধায় এখনো কেউ কেউ ভোটার হচ্ছে না। সমাজে নারীদের পিছিয়ে রাখার জন্য একটি মহল কাজ করছে, যাতে নারীরা এগিয়ে যেতে না পারে। এর পেছনে পরিবার ও সমাজ নানাভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার মাধ্যমে ভোটার হওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।

তিনি আরও বলেন, ধর্মের নামে মিথ্যা অজুহাত দিয়ে অনেক নারী এনআইডি গ্রহণ করছেন না। ফলে রাষ্ট্র নারীকে যে অধিকার দিয়েছে, সে অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আমরা চাই, সকল নারী যেন এনআইডি গ্রহণ করুক। সেখানে যেন কো নো পশ্চাৎপদ চিন্তা ভাবনা ধর্মীয় গোঁড়ামির ঊর্ধ্বে ওঠে নারীদের এগিয়ে আসতে হবে।

২০০৭-২০০৮ সালে ছবিসহ ভোটার তালিকা কার্যক্রম হাতে নেয় তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এটিএম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশন। সেই সময় ৯ কোটি ভোটারের ডাটাবেজ তৈরি করা হয়। ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা প্রণয়নের পর এ পর্যন্ত ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে সাতবার। ২০২১-২২ সালে বাড়ি বাড়ি গিয়ে হালনাগাদ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে ইসি। ছবিসহ ভোটার তালিকা শুরুর পর থেকে নারী-পুরুষের সংখ্যা প্রায় সমান থাকলেও গত ১৫ বছরে হালনাগাদে নারী ভোটারদের সাড়া মিলেছে কম।

এমন পরিস্থিতিতে সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা নারী ভোটার না হওয়ার একাধিক কারণ চিহ্নিত করেছিলেন। সেখানে দেখা যায়, নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে জন্ম নিবন্ধন সনদ সংগ্রহে অনীহা, হিন্দু অবিবাহিত মেয়েদের পিত্রালয়ে নিবন্ধন করতে অনীহা; অবিবাহিত, অনগ্রসর ও নিরক্ষর মেয়েদের ভোটার হওয়ার ক্ষেত্রে আগ্রহ কম; মা-বাবার জাতীয় পরিচয়পত্র দাখিল করতে ব্যর্থ হওয়া, রেজিস্ট্রেশন কেন্দ্র দূরে হওয়া, আবহাওয়া অনুকূল না থাকা, সামাজিক সংস্কার ও ধর্মীয় অজুহাতে ছবি তুলতে অনীহা এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারীদের অসচেতনতা। তখন একাধিক কর্মসূচিও হাতে নিয়েছিল বলেও কমিশন সূত্রে জানা যায়। তারপরও নারীদের ভোটার সংখ্যা বাড়াতে পারেনি কমিশন।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, ২০২০ সালে দেশে মোট ভোটার ছিল ১০ কোটি ৯৮ লাখ ১৯ হাজার ১১২ জন। সেখানে নারী ভোটার ছিল ৫ কোটি ৪৩ লাখ ৩৬ হাজার ২২২ জন। আর পুরুষ ভোটার ছিল ৫ কোটি ৫৪ লাখ ৮২ হাজার ৫৩০ জন। সেখানে পুরুষের চেয়েও ১১ লাখ নারী ভোটার কম। ২০২১ সালে দেশে মোট ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ১১ কোটি ১৭ লাখ ২০ হাজার ৬৬৯। সেখানে নারী ভোটার ছিল ৫ কোটি ৫১ লাখ ২২ হাজার ২২৩ জন। পুরুষ ভোটার ৫ কোটি ৬৫ লাখ ৯৮ হাজার ৫ জন। ২০২০ সাল থেকে ২০২১ সালে পুরুষ ভোটার ১০ লাখ বৃদ্ধি পেলেও নারী ভোটার বেড়েছে মাত্র ৮ লাখ।

একইভাবে দেশে ২০২৩ সালে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার ছিল ১১ কোটি ৯৬ লাখ ৮৯ হাজার ২৮৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৭ লাখ ৬৯ হাজার ৭৪১ জন, নারী ভোটার ৫ কোটি ৮৯ লাখ ১৮ হাজার ৬৯৯ জন এবং হিজড়া ভোটার ৮৪৯ জন। সর্বশেষ হালনাগাদের খসড়ায় দেখা যায়, ১২ কোটি ১৭ লাখ ৭৫ হাজার ৪৫০ জন ভোটার; এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ২০ লাখ ৯০ হাজার ১৩৭ এবং নারী ৫ কোটি ৯৬ লাখ ৮৪ হাজার ৩৮৯ এবং ৯২৪ জন হিজড়া ভোটার। এখানেও পুরুষের চেয়েও ২৪ লাখ নারী ভোটার কম। কিন্তু বিবিএসের জনশুমারিতে দেশে পুরুষের চেয়েও নারীর সংখ্যা সাড়ে ১৫ লাখ বেশি।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) জনশুমারির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০০১ সালে দেশে মোট জনসংখ্যা ছিল ১৩ কোটি ৫ লাখ ২২ হাজার ৫৯৮ জন। সেখানে পুরুষের সংখ্যা ছিল ৬ কোটি ৭৭ লাখ ৩১ হাজার ৩২০, আর নারীর সংখ্যা ছিল ৬ কোটি ২৭ লাখ ৯১ হাজার ২৭৮ জন। এখানে নারীর চেয়েও ৫০ লাখ বেশি। এই সংখ্যা ২০১১ সালের জনশুমারিতে নারী ও পুরুষের সংখ্যা সমান হয়।

কিন্তু বিবিএসের সর্বশেষ ২০২২ সালের জনশুমারির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দেশে মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১ জন। পুরুষের সংখ্যা ৮ কোটি ৪১ লাখ ৩৪ হাজার ৩ জন। নারীর সংখ্যা ৮ কোটি ৫৬ লাখ ৮৬ হাজার ৭৮৪ জন। হিজড়ার সংখ্যা ৮ হাজার ১২৪ জন। ২০০১ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত গত ২০ বছরে পুরুষের সংখ্যা চেয়েও নারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৩১ শতাংশ। এখানে পুরুষের চেয়েও সাড়ে ১৫ লাখ বেশি।

জাতীয় পরিচয়পত্রে ছবি ছাড়া আঙুলের ছাপের মাধ্যমে ভোটার নিবন্ধন নিয়ে আন্দোলন করছে আঞ্জুমান মহিলা পরিষদ। ওই পরিষদ নির্বাচন কমিশন, মানবাধিকার কমিশনে তাদের দাবির বিষয়ে স্মারকলিপি দিয়েছে। স্মারকলিপি দিয়ে কোনো সাড়া না পেয়ে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে।

আঞ্জুমান মহিলা পরিষদের শারমিন ইয়াসমিন বার্তা২৪.কম-কে জানান, ভোটার না হওয়ায় আমরা বেশ কয়েকটি অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে আমরা কেউ ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারছি না। আমাদের অনেক বোনেরা কোথাও চাকরির আবেদন করতে পারছে না। 

তিনি বলেন, আমরা চাই পর্দাশীল নারীদের জন্য ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা পদ্ধতি শিথিল করা হোক। এই জন্য আমরা দুইটা দাবি করেছিলাম। ছবি ছাড়া আঙুলের ছাপের মাধ্যমে ভোটার আইডি কার্ড দেওয়ার জন্য।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ভোটার হতে অনাগ্রহ রয়েছে এমন বিষয় না থাকলেও কিছু কুসংস্কার রয়ে গেছে অনেক এলাকায়। ধর্মীয় কুসংস্কারের কারণে অনেক নারী ভোটার হতে চায় না।

তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে যেসব নারী পর্দা করে তারা ছবি তুলতে চায় না বলেই নারী ভোটারের সংখ্যা কম। নারী ভোটারের সংখ্যা বাড়াতে নির্বাচন কমিশন ছাড়াও জাতীয়ভাবে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা সবসময় বলি জাতীয় পরিচয়পত্র যে ভোট দেওয়ার জন্য প্রয়োজন সেটা না, জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া কেউ এখন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, জমির দলিল করতে পারে না।

নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে নারী-পুরুষ সকলকে ভোটার হতে আহ্বান জানান এই কর্মকর্তা।

   

দুই ইউপি নির্বাচনের ভোট স্থগিত



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
দুই ইউপি নির্বাচনের ভোট স্থগিত

দুই ইউপি নির্বাচনের ভোট স্থগিত

  • Font increase
  • Font Decrease

ভোলা জেলার লালমোহন উপজেলাধীর ধলীগৌরনগর ও লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ নির্বাচন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ২৮ এপ্রিল এই দুই ইউনিয়ন পরিষদের ভোট হওয়ার কথা ছিল।

 

সোমবার (০৮ এপ্রিল) নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন পরিচালনা শাখার উপসচিব মো. আতিয়ার রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ তথ্য জানায়।

ইসি জানায়, মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন নং ৩৫৮৬/২০২৪ ও রিট পিটিশন নং ৩৫৮৭/২০২৪ এর গত ২০ মার্চর আদেশ প্রতিপালনার্থে আগামী ২৮ এপ্রিলে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ভোলা জেলার লালমোহন উপজেলাধীন ধলীগৌরনগর ও লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ নির্বাচন স্থগিত রাখার জন্য নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত দিয়েছে।

এই অবস্থায়, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুসারে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

;

উপজেলা নির্বাচন: প্রার্থীর মনোনয়নকারীর নাম জানাতে দলগুলোকে ইসির চিঠি 



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
প্রার্থীর মনোনয়নকারীর নাম জানাতে দলগুলোকে ইসির চিঠি 

প্রার্থীর মনোনয়নকারীর নাম জানাতে দলগুলোকে ইসির চিঠি 

  • Font increase
  • Font Decrease

আসন্ন ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ উপলক্ষে প্রার্থী মনোনয়নকারীর নাম জানাতে দলগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এক্ষেত্রে আগামী সাতদিনের মধ্যে নাম জানাতে হবে।

বুধবার (০৩ এপ্রিল) ইসির জনসংযোগ কর্মকর্তা শরিফুল আলম স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এই তথ্য জানানো হয়। 

জনসংযোগ শাখা জানায়, আগামী ২১ মে ১৬১টি উপজেলা পরিষদ সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা, ২০১৩ এর বিধি ১৫ এর উপবিধি (৩)(গ)(ইইই) অনুযায়ী চেয়ারম্যান/ভাইস চেয়ারম্যান/মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক বা সমপর্যায়ের পদাধিকারী বা তাহাদের নিকট হতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির স্বাক্ষরসহ তালিকা বর্ণিত বিধি অনুযায়ী তফসিল ঘোষণার ৭ (সাত) দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারকে ও অনুলিপি নির্বাচন কমিশনে পাঠাতে হবে।

তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ২১ এপ্রিল, মনোনয়নপত্র বাছাই ২৩ এপ্রিল, আপিল গ্রহণ ২৪-২৬ এপ্রিল, আপিল নিষ্পত্তি ২৭ থেকে ২৯ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ৩০ এপ্রিল, প্রতীক বরাদ্দ ০২ মে।

;

এনডিআই আইআরআই’র প্রতিবেদনে খারাপ কিছু দেখিনি: ইসি আলমগীর



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউট (এনডিআই) ও ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) প্রতিবেদনে খারাপ কিছু দেখেননি বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর।

বুধবার (০৩ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ রুমে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এমন দাবি করেছেন তিনি।

নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, নির্বাচন কমিশন নিয়ে তারা যা বলেছে আমাদের দৃষ্টিতে দেখিনি যে খারাপ কিছু বলেছে। আমরা সুষ্ঠু শান্তিপূর্ণভাবে করেছি। কতটা গ্রহণযোগ্য হয়েতে সেটা দলগুলোর ওপর ছেড়ে দিয়েছি।

আউয়াল কমিশন পর্যবেক্ষণ সংস্থা দুটির চূড়ান্ত রিপোর্ট দেখেছে জানিয়ে এই কমিশনার বলেন, আমরা তাদের রিপোর্ট দেখেছি। ফরমালি বসতে পারিনি। আমাদের সময়ে জাতীয় নির্বাচন তো হবে না। কাজেই অনেক সময় আছে। প্রাথমিক রিপোর্ট আমরা দেখেছি। আমাদের মধ্যে আলোচনাও হয়েছে। এখন সামারি করার জন্য বলা হয়েছে, যে তারা আমাদের ভালোদিক এবং দুর্বল দিক কী দেখেছে। সচিবালয় খসড়া করেছিল, আমরা বিস্তারিতভাবে আবার করতে বলেছি। এক্ষেত্রে পর্যালোচনা করে আমরা পরবর্তী কমিশনের জন্য সাজেশন রেখে যাবো।

পর্যবেক্ষণ সংস্থা দুটি টোটাল নির্বাচন নিয়ে মতামত দিয়েছেন বলে মনে করেন নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর। তার মতে, প্রার্থী, দল, সরকার, ভোটকেন্দ্র নানা বিষয়ে কথা বলেছে। আমরা কেবল আমাদের দিকটা দেখবো। তারা যে সুপারিশ করেছে সেটা করা যায় কিনা, সেটা আমরা দেখবো। যেগুলো আমাদের জন্য করা সম্ভব সেগুলো পরবর্তী কমিশনের জন্য সুপারিশ রেখে যাবো।

প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ টেনে এই কমিশনার বলেন, তারা একটা জায়গায় বলেছে ভোটে কারচুপি হয়ে বেশ কয়েকটা কেন্দ্রে, যেখানে কমিশন ব্যবস্থাও নিয়েছে। যদি বলতো কমিশন অবহেলা করেছে, এমন তো বলেনি। তারা কমিশনের বিরুদ্ধে নেতিবাচক কিছু বলেনি, যে কমিশনের এমন সক্ষমতা ছিল অথচ ব্যবস্থা নেয়নি। অথবা কমিশন এখানে ভোটের এই সমস্ত কেন্দ্রগুলোতে জাল ভোট হয়েছে, কিন্তু কমিশন বন্ধ করেনি, এমন কোনো রিপোর্ট নাই। বরং কমিশন ব্যবস্থা নিয়েছে বলে তাদের রিপোর্টে আছে। প্রশাসনে রদবদল করেছে এগুলোও আছে। এখন টোটাল গণতান্ত্রিক বিষয় তো আর নির্বাচন কমিশন দেখে না।

;

উপজেলা নির্বাচন: এনআইডিতে ঠিকানা পরিবর্তন বন্ধ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
উপজেলা নির্বাচন: এনআইডিতে ঠিকানা পরিবর্তন বন্ধ

উপজেলা নির্বাচন: এনআইডিতে ঠিকানা পরিবর্তন বন্ধ

  • Font increase
  • Font Decrease

আসন্ন উপজেলা নির্বাচন উপলক্ষে জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) ভোটার ঠিকানা পরিবর্তন বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

সম্প্রতি মাঠ পর্যায়ে এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশনাও দিয়েছে সাংবিধানিক সংস্থাটি। তবে নতুন ভোটার অন্তর্ভূক্তি ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা অব্যাহত থাকবে। নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার সিনিয়র সহকারি সচিব মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী নির্দেশনাটি সকল উপজেলা, জেলা ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের পাঠিয়েছেন বলে জানা গেছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ সধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ভোট কেন্দ্র চূড়ান্তকরণ ও ভোটার তালিকা চূড়ান্তকরণের নিমিত্ত ভোটার স্থানান্তর কার্যক্রম বন্ধ রাখা এবং নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতকরণের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তি ও জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন কার্যক্রম পুর্বের ন্যায় অব্যাহত রাখার বিষয়ে নির্বাচন কমিশন অনুমোদন দিয়েছেন।

এই অবস্থায় উপজেলা পরিষদ সধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ভোট কেন্দ্র চূড়ান্তকরণ ও ভোটার তালিকা চূড়ান্তকরণের জন্য ভোটার স্থানান্তর কার্যক্রম বন্ধ রাখা এবং নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতকরণের নিমিত্ত জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তি ও জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন কার্যক্রম পূর্বের ন্যায় অব্যাহত রাখার জন্য নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

আসন্ন ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন চারটি ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে প্রথম ধাপের নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ১৫২ উপজেলায় ভোটগ্রহণের তারিখ ৮ মে নির্ধারণ করে ২১ মার্চ প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়েছে। এছাড়া ২১ মে দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচন ১৬১টি উপজেলায় অনুষ্ঠিত হবে। তৃতীয় ও চতুর্থ ধাপের পূর্ণাঙ্গ তফসিল না হলেও ২৯ মে ও ৫ জুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রথম ধাপের তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ১৫ এপ্রিল। মনোনয়নপত্র বাছাই ১৭ এপ্রিল। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল ১৮ থেকে ২০ এপ্রিল। আপিল নিষ্পত্তি ২১ এপ্রিল, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২২ এপ্রিল। প্রতীক বরাদ্দ ২৩ এপ্রিল, আর ভোটগ্রহণ হবে ৮ মে।

এই ধাপের নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের নিয়োগ করা হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল আবেদন নিষ্পত্তি করবেন আপিল কর্তৃপক্ষ হিসেবে জেলা প্রশাসক।

দ্বিতীয় ধাপের তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিল ২১ এপ্রিল শেষ সময়, মনোনয়নপত্র বাছাই ২৩ এপ্রিল, আপিল গ্রহণ ২৪-২৬ এপ্রিল, আপিল নিষ্পত্তি ২৭ থেকে ২৯ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ৩০ এপ্রিল, প্রতীক বরাদ্দ প্রতীক বরাদ্দ ২ মে। আর ভোটগ্রহণ হবে ২১ মে।

এই ধাপের নির্বাচনে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকদের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। যেখানে ভোটারের সংখ্যা ৫ লাখের বেশি সেখানে একাধিক সহকারি রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করা হবে।

;