স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে পদত্যাগ করতে হবে না বর্তমান এমপিদের



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সংসদ সদস্য স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে পদত্যাগ করতে হবে না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

বুধবার (২৯ নভেম্বর) নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ শাখার পরিচালক শরিফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কোন দলীয় সংসদ সদস্য নির্দলীয়ভাবে বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে হলে তাকে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে এই মর্মে সংবাদ প্রকাশ হয়। তবে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ অনুযায়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে হলে নিম্নোক্ত শর্তসমূহ পরিপালন করতে হবে মর্মে উল্লেখ রয়েছে।

ইসি জানায় ‘সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন সম্বলিত স্বাক্ষরযুক্ত তালিকা মনোনয়নপত্রের সহিত সংযুক্ত করিতে হইবে। তবে কোন স্বতন্ত্র প্রার্থী ইতোপূর্বে জাতীয় সংসদের কোন নির্বাচনে সদস্য নির্বাচিত হইয়া থাকিলে উক্ত তালিকা প্রদানের প্রয়োজন হইবে না।


সেক্ষেত্রে দলীয় সংসদ সদস্যদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে না। দলীয় হোক, নির্দলীয় হোক বা সংরক্ষিত নারী আসনের হোক-সংসদ সদস্য পদে থেকেই তিনি প্রার্থী হতে পারবে।

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় আগামীকাল ৩০ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাই ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কমিশনে আপিল দায়ের ও নিষ্পত্তি ৫ থেকে ১৫ ডিসেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৭ ডিসেম্বর। রিটার্নিং কর্মকর্তারা প্রতীক বরাদ্দ করবেন ১৮ ডিসেম্বর। নির্বাচনি প্রচার চলবে ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত। আর ভোটগ্রহণ হবে রোববার (৭ জানুয়ারি)।

এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারা দেশে মোট ভোটার ১১ কোটি ৯৬ লাখ ৯১ হাজার ৬৩৩ জন। গত ২ নভেম্বর সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটারসংখ্যা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোট ভোটারের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৭ লাখ ৭১ হাজার ৫৭৯ জন। নারী ভোটার ৫ কোটি ৮৯ লাখ ১৯ হাজার ২০২ জন। আর হিজড়া ভোটারের সংখ্যা ৮৫২।

   

ময়মনসিংহ-কুমিল্লা সিটিতে মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ময়মনসিংহ-কুমিল্লা সিটিতে মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা

ময়মনসিংহ-কুমিল্লা সিটিতে মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা

  • Font increase
  • Font Decrease

কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য নির্বাচনী এলাকায় ৭২ ঘণ্টার জন্য মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এছাড়া অন্য যন্ত্রচালিত যান চলাচলও ২৪ ঘণ্টার জন্য বন্ধ থাকবে।

বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা পাঠিয়েছে ইসির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার উপ-সচিব মো. আতিয়ার রহমান।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আগামী ৯ মার্চ দুই সিটি অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য ৭ মার্চ মধ্যরাত থেকে ১০ মার্চ মধ্যরাত পর্যন্ত ৭২ ঘণ্টার জন্য নির্বাচন এলাকায় মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। এছাড়া ৮ মার্চ মধ্যরাত থেকে ৯ মার্চ মধ্যরাত পর্যন্ত পিক, ট্রাক, ট্যাক্সি ক্যাব ও মাইক্রোবাস চলাচল বন্ধ থাকবে।

রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমতি সাপেক্ষে নির্বাচনি কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক, জরুরি সেবাখাতে যান নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।

৯ মার্চ এই দুই সিটিসহ স্থানীয় সরকারের মোট ২৩৩টি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সে সকল নির্বাচনেও একই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।

;

‘নির্বাচন সুষ্ঠু করতে জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসনকে চেষ্টা করতে হবে’



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ময়মনসিংহ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আলমগীর বলেছেন, নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসনকে সর্বাত্মক চেষ্টা করতে হবে। এর জন্য নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় সকল সহযোগিতা করবে। প্রশাসনকে সম্পূর্ণ নির্মোহ ও পক্ষপাতহীন দায়িত্ব পালন করতে হবে।

বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময়কালে মো. আলমগীর এসব কথা বলেন।

বিভাগীয় কমিশনার উম্মে সালমা তানজিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক, রিটার্নিং অফিসার, আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিভিন্ন বাহিনীর প্রতিনিধিগণ, জেলা-উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

ইসি কমিশনার বলেন, নির্বাচন কমিশন একটা শান্তিপূর্ণ অবাধ নির্বাচন প্রত্যাশা করে। নির্বাচনকালে পরিবেশ অশান্ত থাকলে ভোটাররা কেন্দ্রে আসতে অনাগ্রহ দেখায় আর সন্ত্রাসীরা সন্ত্রাসের সুযোগ পায়। কিন্তু প্রশাসন অবস্থানে থেকে নিরপেক্ষতা বজায় রেখে কাজ করলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। স্থানীয় নির্বাচন বিধায় কোন কর্মকর্তার আত্মীয়-স্বজনরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে সে কর্মকর্তাকে বিচক্ষণতার সাথে অন্য এলাকায় দায়িত্ব দিতে হবে। নির্বাচনী দায়িত্বে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা কর্মচারীদের নিয়োজিত করতে তিনি নিরুৎসাহিত করেন।

জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনী এখন অনেক জনকল্যাণমুখী কাজে নিয়োজিত থাকায় তাদের সাথে জনপ্রতিনিধিদের সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে। তাই নির্বাচনকালে সে সম্পর্ক ভুলে দায়িত্ব পালনের অনুরোধ করেন ইসি কমিশনার।

তিনি বলেন, নির্বাচনে জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় অধিক ফোর্স নিয়োজিত থাকবে বলে পুলিশ বিভাগ থেকে কমিশনারকে অবহিত করা হয়। তথাপি যে কোন পরিস্থিতি মোকাবিলায় অতিরিক্ত সতর্কতার উপর গুরুত্বারোপ করা হবে। প্রয়োজনে বিজিবি, র‌্যাব, এপিবিএনকে কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন তিনি।

এবারের নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করে অনুষ্ঠিত হবে। কোন কেন্দ্রের ইভিএম কাজ না করলে তাৎক্ষণিকভাবে অন্য ইভিএম প্রতিস্থাপন করার নির্দেশ প্রদান করেন ইসি কমিশনার।

ইভিএমের গতি কমে গেলে অপেক্ষমাণ ভোটারদের অবহিত করতে এবং সময় অতিক্রান্ত হলেও সকল ভোটারের ভোট গ্রহণ করা হবে মর্মে আশ্বস্ত করতে প্রিসাইডিং অফিসারকে নির্দেশ প্রদান করেন তিনি।

নির্বাচন আচরণ বিধিনিষেধ পালন সম্পর্কে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, কোথাও তেমন কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ছোটখাটো ঘটনা সাথে সাথেই সমাধান করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত পরিবেশ সুন্দর ও অনুকূলে রয়েছে বলে কর্মকর্তারা ইসি কমিশনারকে মতবিনিময় সভায় অবহিত করেন। নির্বাচন সংক্রান্ত সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।

;

‘কোনো কেন্দ্রে অনিয়ম হলে ওই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ বন্ধ’



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ময়মনসিংহ
‘কোনো কেন্দ্রে অনিয়ম হলে ওই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ বন্ধ’

‘কোনো কেন্দ্রে অনিয়ম হলে ওই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ বন্ধ’

  • Font increase
  • Font Decrease

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে কোনো কেন্দ্রে অনিয়ম হলে ওই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আলমগীর।

বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে রিটানিং অফিসার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ইসি আলমগীর বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিধিমালা পরিবর্তনের চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রার্থীদের ডিজিটাল প্লাটফর্ম ব্যবহারের জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে। আগামীতে এনালগ পদ্ধতি বাতিল করে প্রার্থীদের নমিনেশন পেপার সাবমিটসহ নির্বাচনের সকল কার্যক্রম ডিজিটাল করতে আইন প্রণয়ন করা হবে।

পরে তিনি টাউন হল তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের সাথে মতবিনিময় করেন।

মতবিনিময় সভায় নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন, মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

এসময় মসিকের সদ্য সাবেক মেয়র ও দেয়ালঘড়ি প্রতীকের প্রার্থী মো. ইকরামুল হক টিটু বলেন, ইভিএমে ভোট নিয়ে ভোটারদের মধ্যে শঙ্কা ও অজ্ঞতা রয়েছে। বিশেষ করে সিটিতে নতুন যুক্ত হওয়া ১২টি ওয়ার্ডের ভোটারদের মধ্যে এই অজ্ঞতা অনেক বেশি। সেই সঙ্গে ইভিএম'র ভোট নিজের পছন্দের প্রার্থীর প্রতি থাকবে কি-না, এনিয়ে সংশয় রয়েছে। মূলত একটি গোষ্টি এই ধরনের অপপ্রচার করছে। তাই গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়াও মোবাইল নিয়ে ভোট কেন্দ্রে যাওয়া যাবে কি-না, এই বিষয়টি স্পষ্ট করা জরুরি। ব্যাপক প্রচার ও প্রচারণার মাধ্যমে ইভিএম বিষয়ে ভোটারদের স্বচ্ছ ধারণা দেওয়া অতি জরুরি বলেও আমি মনে করি।

ইকরামুল হক টিটুর সাথে একমত পোষণ করে হাতি প্রতীকের প্রার্থী ও আওয়ামী লীগ নেতা মো. সাদেকুল হক খান মিল্কি টজু বলেন, বিগত নির্বাচনে অনেক প্রার্থী হেরে যাওয়ার পেছনে ইভিএমকে দায়ী করেছিলেন, ইভিএমের ধীরগতি নিয়েও কথা রয়েছে। একই সাথে ইভিএম এর ভোট নিয়ে ভোটারদের শঙ্কা অনেক। এই অবস্থায় ব্যালটে ভোট করলে ভোটাররা অস্বস্তিবোধ করত বলে আমি মনে করি।

এসময় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী এহতেশামুল আলম বলেন, ইভিএম সম্পর্কে ভোটারদের মাঝে ভালো ধারণা আছে, তা বলা যাবে না। ব্যালটে ভোট হলে প্রার্থী এবং ভোটাররা স্বস্তিবোধ করত। এতে আচরণবিধি নিয়েও কমিশনের কঠোর নজরদারি অতীব জরুরি।

জাতীয় পার্টি মনোনীত নাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী শহীদুল ইসলাম স্বপন মন্ডল বলেন, ইভিএমে সাধারণ মানুষের মাঝে ভোট দিতে অনীহা রয়েছে। তারা বলে- ইভিএমে এক মার্কায় ভোট দিলে আরেক মার্কায় চলে যায়। এজন্য প্রচারণার মাধ্যমে ভোটারদের আশ্বস্ত করা দরকার। এসব বিষয় খেয়ালে রেখে নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কাজ করবে বলে আমি আশা করছি।

তবে ভিন্নমত পোষণ করেছেন হরিণ প্রতীকের প্রার্থী কৃষিবিদ রেজাউল করিম চৌধুরী। তিনি বলেন, ইভিএম একটি আধুনিক প্রযুক্তি। এনিয়ে ব্যাপক প্রচার ও প্রচারণা থাকা দরকার। সেই সঙ্গে প্রার্থীদের প্রচার ও প্রচারণায় করতে গিয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘন যেন না হয়, সে বিষয়েও কঠোর নজরদারি থাকা দরকার। এছাড়াও প্রার্থীদের নির্বাচনি ব্যয় সীমা যেন লঙ্ঘন না হয় সেদিকেও নজরদারি করতে হবে।

এসময় প্রার্থীদের এসব শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ইভিএমে অনিয়ম একেবারেই অসম্ভব, এটা বিজ্ঞানের বিষয়। এতে একজনের ভোট আরেকজনের প্রতীকে চলে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যদি তাই হতো তাহলে বিগত নির্বাচনগুলোতে জাতীয় পার্টিসহ অন্য প্রার্থীরা বিজয়ী হতো না।

তিনি আরও বলেন, ইভিএমে কীভাবে ভোট দিতে হয়, তা ভোটারদের জানাতে জেলা প্রশাসন ও তথ্য অফিসের মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হবে। এমনকি নির্বাচনের দিন ভোটারদের লাইনেও বিষয়টি নিয়ে ভোটারদের ধারণা দেওয়া হবে। ইভিএম শুধু ময়মনসিংহ নয়, এর আগে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা এবং ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনে ইভিএমের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ হয়েছে। এতে কোথাও সমস্যা হয়েছে বলে আমার জানা নেই। তবে আঙ্গুলের ছাপে কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা হয়ে থাকে, সেজন্য সঠিক ভোটার নিশ্চিত হলে ভোট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। মোট কথা ইভিএম নিয়ে ভয়ের কিছু নেই, বরং ভোটার উপস্থিতিই আসল বিষয়।

এসময় ইসি মো. আলমগীর প্রার্থীদের সমান সুযোগ নিশ্চিত প্রসঙ্গে বলেন, কোনো প্রার্থীর প্রতি অসম্মান আচরণ করার সুযোগ নেই। আমাদের কাছে সব প্রার্থী সমান সম্মানিত। জনগণ যাকে ভোট দিবে, তিনিই নির্বাচিত হবেন। এক্ষেত্রে কোনো নির্বাচন কর্মকর্তা নিরপেক্ষ না হলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করুন। তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিগত সময়ে আপনারা দেখেছেন জেলা প্রশাসক, নির্বাচন কর্মকর্তা ও ওসিসহ অনেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে বাদ যায়নি প্রার্থীরাও। বিগত জাতীয় নির্বাচনে একজন প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। মোট কথা এই নির্বাচন হবে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন। এতে জাল ভোট বা অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই।

মতবিনিময় সভায় বিভাগীয় কমিশনার উম্মে সালমা তানজিয়ার সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত ডিআইজি, জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রায়হানুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

প্রসঙ্গত, মসিক নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৪৯৬ জন। এর মধ্যে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৮৩২ পুরুষ, ১ লাখ ৭২ হাজার ৬৫৫ নারী। এছাড়াও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৯ জন। তারা আগামী ৯ মার্চ ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) নগরীর ১২৮টি ভোট কেন্দ্রে ভোট প্রয়োগ করবেন।

এতে মেয়র পদে পাঁচ প্রার্থী ছাড়াও নগরের ৩৩টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৪৯ এবং ১১টি সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে প্রার্থী আছেন ৬৯ জন। তবে নগরীর ১১ নম্বর ওয়ার্ডে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কাউন্সিল নির্বাচিত হওয়ায় কাউন্সিলর পদে ৩২টি ওয়ার্ডে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

;

উপজেলা নির্বাচনের বিধিমালা সংশোধন নিয়ে বৈঠক মঙ্গলবার



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন পরিচালনা ও আচরণ বিধিমালা সংশোধনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে '২৮-তম কমিশন সভা' ডেকেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের সভাপতিত্বে বৈঠকটি তার সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হবে।

কমিশন সভার আলোচ্যসূচি হলো:

ক) উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা ২০১৩ এর সংশোধন সংক্রান্ত।

খ) উপজেলা পরিষদ (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা ২০১৬ এর সংশোধন সম্পর্কিত। এবং গ) বিবিধ।

সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ইসির সংস্থাপন শাখার উপসচিব মো. শাহ আলম স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত অফিস আদেশে বিধি সংশোধনীর সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে যথাসময়ে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।

ইসি সূত্র থেকে জানা যায়, উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা, ২০১৩-এর সংশোধনীতে ২৬টি এবং উপজেলা প্রদত্ত পরিষদ (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা, ২০১৬-এর সংশোধনীতে ৮টি বিধান সুপারিশের প্রাথমিক খসড়া তৈরি করা হয়েছে। এগুলো নিয়ে গত ৭ ফেব্রুয়ারি ইসির আইন ও বিধিমালা সংস্কার কমিটির সভাপতি নির্বাচন কমিশনার বেগম রাশেদা সুলতানার সভাপতিত্বে একটি বৈঠক হয়। কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় পরেরদিন ৮ ফেব্রুয়ারি আবারও বৈঠকে বসে এই কমিটি। ওইদিনেও খসড়া চূড়ান্ত না হওয়ায় সংশোধনগুলি এখনো আলোচনা পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে। খসড়া তালিকা চূড়ান্ত হলে পরে কমিশন সভায় উপস্থাপন করা হবে।

ইসির একাধিক কর্মকর্তা সাথে কথা বলে জানা যায়, বিধিমালা সংশোধনী ৮টি বিধান সুপারিশের প্রাথমিক খসড়া নিয়ে ইতোমধ্যে কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আগামীকাল কমিশন সভায় বিধিমালা সংশোধনের বিষয়ে নিষ্পত্তি হবে।

বিধিমালায় একগুচ্ছ বিষয় সংযোজন করার প্রস্তাব এসেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে জনসভা ও মিছিলের সুযোগ সৃষ্টি, প্রতি ইউনিয়নে একটি ও পৌরসভার প্রতি তিন ওয়ার্ডের জন্য একটি নির্বাচনী ক্যাম্প স্থাপন, নির্বাচনী ক্যাম্পের আয়তন ৬০০ বর্গফুটে উন্নীত করা, পোস্টাল ব্যালটে ভোটদানের সুযোগ সৃষ্টি, একাধিক পদে মনোনয়নপত্র দাখিলের সুযোগ না রাখা, ফলাফল গেজেট আকারের প্রকাশের ১৫ দিন পর্যন্ত ভোটের কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারিদের প্রত্যাহার না করা, নির্বাচনী মনিটরিং কমিটি গঠন ও কমিটির সুপারিশে বিধি ভঙ্গের অভিযোগ এক লাখ টাকা জরিমানার বিধান, প্রার্থী আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র, নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্তদের বা পর্যবেক্ষক বা গণমাধ্যমকর্মীদের হুমকি-ভীতি প্রদর্শন বা বাধা প্রদানকে অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্তকরণ, ব্যালট পেপারের মুড়িতে প্রিজাইডিং কর্মকর্তার স্বাক্ষরযুক্ত করার বিধান ও ভোট বন্ধ করতে প্রিজাইডিং কর্মকর্তার হাতে ক্ষমতা প্রদান।

আবার ভোটগ্রহণের পূর্বে কোনো বৈধ প্রার্থীর মৃত্যু হলে অন্য প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিধানের কথা বলা হয়েছে। তবে একজন প্রার্থী থাকলে নির্বাচনী কার্যক্রম বাতিল করে ফের কার্যক্রম গ্রহণের বিষয়টি ভাবা হচ্ছে। আর কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ভোটের ১০দিন পূর্বে মারা গেলে সেই দলকে অন্য এক প্রার্থী দেওয়ার সুযোগ রাখার কথাও প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে। সেই সাথে নির্বাচনী প্রচারণায় প্লাস্টিকের ব্যবহার রোধের পক্ষে থাকলেও তা প্রার্থীদের মানাতে পারছে না নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ফলে এবার আইন করেই সেই পথটি রোধ করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সংস্থাটি।

সংসদ নির্বাচনের মতো ভোটের কোনো পর্যায়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন, বল প্রয়োগ বা কারসাজির কারণে নির্বাচনের ফলাফল পক্ষপাত দুষ্ট হয়েছে মর্মে কমিশনের কাছে প্রতীয়মান হলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় ভোটগ্রহণ করার বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব এসেছে।

ইতিমধ্যে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রথম ধাপে ৪ মে, দ্বিতীয় ধাপে ১১ মে, তৃতীয় ধাপে ১৮মে ও চতুর্থ ধাপে ২৫ মে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম ধাপে ১৫৩টি, দ্বিতীয় ধাপে ১৬৫টি, তৃতীয় ধাপে ১১১টি ও চতুর্থ ধাপে ৫২টিসহ মোট ৪৮১টি উপজেলা ভোটের সময় ঘোষণা করেছে ইসি। দেশে বর্তমানে উপজেলা রয়েছে ৪৯৫টি।

;