বিএনপি নির্বাচনে না এলে পোয়াবারো আ.লীগের শরিকদের



কনক জ্যোতি, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
বিএনপি নির্বাচনে না এলে পোয়াবারো আ.লীগের শরিকদের

বিএনপি নির্বাচনে না এলে পোয়াবারো আ.লীগের শরিকদের

  • Font increase
  • Font Decrease

সরকার পতনের এক দফার আন্দোলনে অটল থেকে বিএনপি শেষ পর্যন্ত যদি নির্বাচনে না আসে তাহলে ভাগ্য খুলবে আওয়ামী লীগের শরিক দলগুলোর। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের স্বার্থে আওয়ামী লীগ তখন তার নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোকে বেশ কিছু আসনে ছাড় দেবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকগণ। বিভিন্ন সরকারি সংস্থার তরফেও ১৪ দলের শরিক দলগুলোর সম্ভাব্য প্রার্থিদের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। যাচাই করে দেখা হচ্ছে তাদের জনপ্রিয়তা ও বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কেও।

বিশ্বস্ততার সাথে মতাদর্শিক রাজনীতির ঐকমত্যের ভিত্তিতে ১৪ দলীয় জোটের দলগুলো আওয়ামী লীগের সহযোগী হিসেবে একটানা ১৯ বছর নিবিড় বন্ধনে আবদ্ধ রয়েছে। এই দীর্ঘ সময়কালে শরিকদের মধ্যে মতপার্থক্য ও অন্তর্বিবাদ হলেও জোট সচল থেকেছে। বিভিন্ন সময়ের ভোটবদ্ধ কোনও দলে  ভাঙনের ঘটনা ঘটলেও এর প্রভাব জোটের ঐক্যে পরিলক্ষিত হয়নি। বরং অতীতে বিদ্যমান শরিকদের মধ্যে পারস্পরিক টানাপোড়েন কাটিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিতে জোটের ঐক্য সবচেয়ে বেশি বলে দাবি করেছেন জোটের নেতারা। বার্তা২৪.কম'র কাছে একাধিক নেতা স্বীকার করছেন যে, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ১৪ দলীয় জোটের শরিক ছোট ও নিষ্ক্রিয় দলগুলোও সরব হয়েছে।

আওয়ামী লীগ ছাড়া ১৪ দলীয় জোট বলতে প্রধানত রাশেদ খান মেননের নেতৃত্বাধীন ওয়ার্কার্স পার্টি, হাসানুল হক ইনুর জাসদ, দিলীপ বড়ুয়ার সাম্যবাদী দল, ব্যারিস্টার আরশ আলী ও ভূপেন্দ্র ভৌমিক দোলনের নেতৃত্বাধীন গণতন্ত্রী পার্টিকেই রাজনৈতিকভাবে কার্যকর দেখা গেছে। কিন্তু এবার বিএনপি নির্বাচনে না এলে জোটের শরিকদের পোয়াবারো। তাই মাঠে নেমেছে ১৪ দলের সবগুলো দলই। এদিকে জোটের প্রার্থীদের কারণে টেনশনে আছে আওয়ামী লীগে অনেক হেভিওয়েট প্রার্থী।

পর্যবেক্ষকগণ বলছেন, ১৪ দলীয় জোট শুধু ভোটের রাজনীতি করছে না। আদর্শিক রাজনীতি করছে। সে কারণেই মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র এবং অসাম্প্রদায়িক আদর্শের ভিত্তিতে ২০০৪ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে গঠিত হয় ১৪ দলীয় জোট। বিশেষত মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অটুট থেকে সেই জোট আজও টিকে আছে। শুধু তাই নয়, বর্তমান সময়ে এসে জোটের বন্ধন আরও শক্তিশালী হয়েছে। পারস্পরিক সমঝোতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এসবই সম্ভব হয়েছে চাওয়া-পাওয়ার বদলে আদর্শগত রাজনীতিকে প্রাধান্য দেওয়ার কারণে। এমনকি, দলীয় ভাঙনের ঘটনা ঘটলেও জোটের ঐক্যে আঁচ পড়তে দেন নি জোটের নেতারা।

বার্তা২৪.কম'র অনুসন্ধানে দেখা যায়, ১৪ দলীয় জোট ১৯ বছর পাড়ি দিয়েছে সঙ্কুল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে। এই দীর্ঘ সময়কালে শরিক কোনও কোনও দলে নানা ইস্যুতে অন্তর্বিবাদ ও দল ভাঙার মতো ঘটনা ঘটেছে। সময়ে সময়ে শরিকদের মধ্যে পারস্পরিক টানাপোড়েনও দেখা গেছে। জোটের অন্যতম প্রধান শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির ক্ষেত্রে নানা উত্থান-পতন ঘটলেও মূল নেতৃত্ব থেকেছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৪ দলীয় জোটের অধীনেই।  জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ (ইনু), গণতন্ত্রী পার্টিতে নেতৃত্বের পালাবদল হলেও জোট রাজনীতিতে এর কোনও প্রভাব পড়েনি। বিশেষ করে, ২০১৬ সালের ৯ মার্চ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ থেকে বেরিয়ে শরীফ নুরুল আম্বিয়ার নেতৃত্বাধীন একটি অংশ বাংলাদেশ জাসদ নামে আরেকটি দল গঠন করে। তাদের রেজিস্ট্রেশন না দেয়ার অভিযোগে ২০২২ সালের ২৮ মার্চ জোট ত্যাগ করে জাসদের খণ্ডিত এ দলটি।

বার্তা২৪.কম'কে ১৪ দলের শরিক গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ভূপেন্দ্র ভৌমিক দোলন বলেন, 'বিদ্যমান পরিস্থিতিতে শরিক দলগুলোর মধ্যে নিবিড় যোগাযোগ ও সুসম্পর্ক বিরাজমান। তাছাড়া আদর্শিক জায়গা থেকে শরিকদের সঙ্গে সম্পর্ক সবসময়ই ভালো।  জোটের মূল দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগ ও বোঝাপড়ার ক্ষেত্রে কখনও কোনও ব্যত্যয় ঘটে নি।'

তিনি বলেন, '২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার পর মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল দলগুলোকে নিয়ে জোট গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ওই বছরই ২৩ দফা ঘোষণা দিয়ে ১৪ দলীয় জোটের যাত্রা শুরু হয়, যাতে আমরা সবাই আদর্শিকভাবে যুক্ত থেকে জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত উদার, ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের জন্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় রাজনৈতিক লড়াই করছি।'

প্রথমে আওয়ামী লীগ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) ও ১১ দল মিলে জোট গঠিত হয়। কিন্তু জোট গঠনের পর পরই ১১ দল ভেঙে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)সহ কয়েকটি দল বেরিয়ে যায়। রয়ে যায় ওয়ার্কার্স পার্টি ও গণফোরামসহ কয়েকটি দল। তারপরও জোটটি ১৪ দল নামেই পরিচিত।

২০০৭ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরাম জোট ত্যাগ করে। পরের বছর জাতীয় নির্বাচনের আগে আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি (জেপি) ও নজিবুলবশর মাইজভাণ্ডারীর নেতৃত্বাধীন তরিকত ফেডারেশন জোটে যোগ দেয়।

এছাড়া গণতন্ত্রী পার্টি, সাম্যবাদী দল, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ-রেজাউর), গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি, কমিউনিস্ট কেন্দ্র, গণআজাদী লীগ ও ন্যাপ (মোজাফফর) আগে থেকেই ১৪ দলের শরিক। আর জোটের মুখপাত্র এবং সমন্বয়ক হিসেবে রয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা আমির হোসেন আমু।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রাক্কালে ১৪ দলীয় জোটের শরিক দলগুলো আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে অংশ নেওয়ার আগ্রহ জানিয়েছে। অতীতে দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে শরিক দলগুলো এমন মনোভাব প্রকাশ করেছে। উল্লেখ্য, বিএনপির ৭ সংসদ সদস্য পদত্যাগ করলে সেসব শুন্য আসনের উপ-নির্বাচনকে জাসদ বগুড়া-৪ এবং ওয়ার্কার্স পার্টি ঠাকুরগাঁও-৩ আসন দাবি করলে আওয়ামী লীগ তাদের সেই দাবি মেনে নেয়। বগুড়ায় জাসদের প্রার্থী বিজয়ী হন। কিন্তু ঠাকুরগাঁওয়ে বিপুল ভোটের ব্যবধানে হেরে যান ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী ইয়াসিন আলী। তিনি ওয়ার্কার্স পার্টির কাস্তে প্রতীকে প্রার্থী হয়ে সুবিধা করতে পারেন নি। এজন্য শরিকরা এবার নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করতে আগ্রহী।

সৌদি প্রবাসীদের জন্য এনআইডি সেবা চালু জুলাইয়ে



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
সৌদি প্রবাসীদের জন্য এনআইডি সেবা চালু জুলাইয়ে/ছবি: সংগৃহীত

সৌদি প্রবাসীদের জন্য এনআইডি সেবা চালু জুলাইয়ে/ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশি সৌদি প্রবাসীদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা সহজ করতে সেই দেশে কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এক্ষেত্রে চলতি জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে এনআইডি সরবরাহের কার্যক্রম চালু করা হবে।

ইসি সূত্রে জানা যায়, সৌদি প্রবাসীদের এনআইডি সেবাটি উদ্বোধন করতে দেশটিতে যাবেন কমিশনার মো. আনিছুর রহমান। এজন্য আগামী ২০ থেকে ২৯ জুলাই সৌদি আরব সফর করবেন তিনি। তার সফর সঙ্গী হিসেবে সাথে থাকবেন সিস্টেম ম্যানেজার মো. রফিকুল হক ও একান্ত সচিব শাহ মো. কামরুল হুদা।

ইসির চিফ অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফাইন্যান্স শাখার উপ-সচিব মো. আলমের পাঠানো এ সংক্রান্ত চিঠি থেকে জানা গেছে, পুরো সফরের ব্যয় বহন করা হবে স্মার্টকার্ড বা আইডিইএ-২ প্রকল্প থেকে।

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য, ইতালি, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও মালয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার হিসেবে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইতঃমধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইতালি, কুয়েত, কাতার ও যুক্তরাজ্যে স্মার্টকার্ড বিতরণ উদ্বোধন হয়েছে। চলতি মাসের শেষের দিকে সৌদি আরবেও কার্যক্রমটির উদ্বোধন করা হবে।

পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে এই সেবা ওমান, বাহরাইন, জর্দান, সিংগাপুর, লেবানন, লিবিয়া, অস্ট্রেলিয়া, মালদ্বীপ ও কানাডাতে এনআইডি কার্যক্রম হাতে নেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা পেয়ে কেএম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশন ২০১৯ সালে প্রবাসে এনআইডি সরবরাহের উদ্যোগটি হাতে নেয়। এরপর ২০২০ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাজ্য প্রবাসীদের অনলাইনের ভোটার করে নেওয়ার কার্যক্রম উদ্বোধন করে ইসি। এর আগে ২০১৯ সালের ১৮ নভেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রবাসীদের মাঝে এ কার্যক্রম শুরু করা হয়। তার আগে একই বছর ৫ নভেম্বর মালয়েশিয়ায় অবস্থারত বাংলাদেশিদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি এবং স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার অংশ হিসেবে অনলাইনে আবেদন নেওয়ার কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। এরপর সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর ও মালদ্বীপে থাকা বাংলাদেশিদের জন্যও এ সুযোগ চালু করা হয়।

সে সময় অনলাইনে আবেদন নিয়ে সেই আবেদন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির উপজেলা থেকে যাচাই করে সত্যতা পেলে সংশ্লিষ্ট দেশে দূতাবাস থেকে এনআইডি সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল। এরপর করোনা মহামারির কারণে থমকে যায় দূতাবাসের মাধ্যমে এ কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা।

কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন বর্তমান কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই কার্যক্রমকে ফের উজ্জীবিত করেন। এক্ষেত্রে আগের আবেদনগুলো পাশ কাটিয়ে নতুন করে কার্যক্রম শুরু করেন তারা।

;

ঢাকা সিটি নির্বাচন

বাড়বে প্রার্থীর জামানত, পরিবর্তন হবে আচরণবিধির



জাহিদ রাকিব, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: বার্তা২৪.কম, নির্বাচন কমিশন

ছবি: বার্তা২৪.কম, নির্বাচন কমিশন

  • Font increase
  • Font Decrease

সদ্য শেষ হওয়া উপজেলা নির্বাচনের মতো সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের বিধিমালায় ব্যাপক রদবলের খবর পাওয়া যাচ্ছে। নতুন বিধিমালায় প্রার্থীদের জামানত ও নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণায় পরিবর্তনের ঈঙ্গিত দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

এই লক্ষ্যে ইসি গঠিত বিধি সংস্কার কমিটির একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। নতুন এই বিধিমালা কার্যকর হবে আসন্ন ঢাকা উত্তর দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে।

ইসি’র একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আসন্ন সিটি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীদের জামানত স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ভোটার স্বাক্ষর বিধান সংস্কারসহ একাধিক বিষয় পরিবর্তনের খসড়া চূড়ান্ত করেছে ইসি। সে অনুযায়ী, মেয়র প্রার্থীদের জামানত বাড়বে। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোয়নপত্র জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনশতাধিক ভোটারের স্বাক্ষরসহ জমা দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। একইসঙ্গে ১৫ শতাংশ ভোট না পেলে প্রার্থীদের জামানত বাজেয়াপ্ত করা হবে।

এর আগে উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানত বাড়ানোসহ একাধিক বিধিমালা সংস্কার করার বিষয়ে প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছে, নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা প্রার্থীদের জামানত বাড়ানোর বিষয়ে বিরোধিতা করেছিলেন।

গণপ্রতিনিধিত্ব (সংশোধন) আইন-২০২৩ (আরপিও) অনুযায়ী, স্থানীয় সরকারের সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে যেসব এলাকায় পাঁচ লক্ষাধিক ভোটার থাকবে, সেখানে মেয়র প্রার্থীর জামানত ধরা হয়েছে ২০ হাজার টাকা। ৫ লাখ থেকে ১০ লাখ ভোটার থাকলে প্রার্থীর জামানত হবে ৩০ হাজার টাকা এবং যেসব সিটিতে ২০ লাখের ওপরে ভোটার থাকবে, সেখানে মেয়র প্রার্থীর জামানত ১ লাখ দেওয়ার বিধান আছে।

সিটি নির্বাচনে বর্তমানে ওয়ার্ডে ভোটারের সংখ্যা অনুযায়ী কাউন্সিলর প্রার্থীদের জামানত ১০ হাজার টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকা জামানত দেওয়ার বিধান রয়েছে। নতুন বিধিমালা সংস্কার হলে সিটি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীর সঙ্গে কাউন্সিল প্রার্থীদের জামানত বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিয়েছে ইসি। কিন্তু স্থানীয় সরকারের উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের জামানত ২০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা ও ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীদের জামানত ১০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার টাকা করে ‘উপজেলা নির্বাচন সংশোধন আইন-২০২৪’ করা হয়েছিল। তার ধারাবাহিকতায় এখন ইসি উপজেলা নির্বাচনের মতো সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানত বাড়ানো হবে।

ইসির আইন বিধিমালা সংস্কার কমিটির নেতৃত্বে আছেন নির্বাচন কমিশনার রাশেদা সুলতানা।

সিটি নির্বাচনের নতুন বিধিমালা সংস্কারের বিষয়ে তিনি বার্তা২৪.কমকে বলেন, উপজেলা নির্বাচনের মতো সিটি নির্বাচনে একাধিক বিধিমালা ও আচরণবিধি পরিবর্তন করার বিষয়টি আলোচনা চলছে। সিদ্ধান্তগুলো এখনো খসড়া পর্যায়ে আছে। ফলে এখনি চূড়ান্ত কিছু বলা যাবে না।

ইসির কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, আসন্ন দেশের সব সিটি নির্বাচনে আইন ও আচরণবিধি পরিবর্তন করা হবে। তার মধ্যে অন্যতম- নির্বাচনি প্রচারণায় সাদাকালো পোস্টারের পাশাপাশি রঙিন পোস্টার ব্যবহার, নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দের আগে জনসংযোগ এবং ডিজিটাল মাধ্যমে নির্বাচনি প্রচার করা, মেয়র ও কাউন্সিল প্রার্থীদের জামানত বৃদ্ধি, ১৫ শতাংশ ভোট না পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।

 এগুলো ছাড়াও একাধিক বিষয় পরিবর্তন করতে ইসির আইন বিধিমালা সংস্কার কমিটি কাজ করছে।

তারা আরো বলেন, ইতোমধ্যে খসড়া বিধিমালাগুলো নিয়ে একটি বৈঠক হয়েছে। কমিটি প্রধান বিষয়টি আর পর্যালোচনার কথা বলেছেন। পরবর্তীতে কমিশন সভা খসড়ার সিদ্ধান্তগুলো চূড়ান্ত করলে আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। ভেটিং চূড়ান্ত হলে ঢাকা দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিধিগুলো কার্যকর হবে।

;

বৃহস্পতিবার শেষ হচ্ছে ২২৩ স্থানীয় নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

স্থানীয় সরকারের ২২৩টি পদে উপ-নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই)। ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৭ জুলাই। এই সব নির্বাচনে ভোটগ্রহণ করা হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ করা হবে।

ইসির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার উপ-সচিব মো. আতিয়ার রহমান জানিয়েছেন, ২৭ জুলাই বিভিন্ন জেলা পরিষদের ২৩টি পদে, পৌরসভার ৫টি পদে ও ইউনিয়ন পরিষদের ১৯৫টি পদে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ৪ জুলাই, মনোনয়নপত্র বাছাই ৫ জুলাই। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের সময় ৬ থেকে ৮ জুলাই, আপিল নিষ্পত্তি ৯ জুলাই। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১০ জুলাই, প্রতীক বরাদ্দ ১১ জুলাই। আর ভোটগ্রহণ ২৭ জুলাই।

;

সিলেট জেলা পরিষদের উপ-নির্বাচন ২৭ জুলাই



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সিলেট
সিলেট জেলা পরিষদ। ছবি: বার্তা২৪.কম

সিলেট জেলা পরিষদ। ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

সিলেট জেলা পরিষদের ৬ ও ১২ নং সাধারণ দুটি ওয়ার্ডে আগামী ২৭ জুলাই উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) সিলেটের সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৪ জুলাই পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। তা বাছাই হবে ৫ জুলাই। আপিল দায়ের ৬-৮ জুলাই। ৯ জুলাই আপিল নিষ্পত্তি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১০ জুলাই। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ১১ জুলাই ও ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২৭ জুলাই।

এব্যাপারে সিলেটের সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান বলেন, আগামী ২৭ জুলাই সকাল ৯ থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট গ্রহণ করা হবে।

জানা যায়, ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে বিশ্বনাথ উপজেলায় নির্বাচনে অংশ নিতে উপজেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট গিয়াস উদ্দিন আহমদ জেলা পরিষদের ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

একইভাবে কানাইঘাট উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিতে জেলা পরিষদের সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেন ১২ নম্বর ওয়ার্ডের (কানাইঘাট উপজেলা ও জকিগঞ্জের আংশিক) সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাক আহমদ পলাশ।

;