জাবিতে ভবন নির্মানের নামে দুই শতাধিক গাছ কাটার মহাযজ্ঞ



জাবি করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) চলমান ইদ ও গ্রীষ্মের ছুটিতে শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির সুযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিকল্প জায়গা থাকা সত্ত্ব্বেও গাছ কেটে 'মেইন বার্ডস লেক' এর কোল ঘেষে দুইটি ভবনের নির্মানকাজ শুরু করেছে প্রশাসন।

লেকটি পরিযায়ী পাখির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। নতুন রেজিস্ট্রার ভবনের পেছনের স্থানে কলা ও মানবিকী অনুষদের সম্প্রসারিত ভবন ও বাস্কেটবল গ্রাউন্ড সংলগ্ন চারুকলা অনুষদের ভবন নির্মানের জন্য সকাল থেকে অপরিকল্পিতভাবে প্রায় দুই শতাধিক গাছ কাটার বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে। আরও চার শতাধিক ছোট-বড় গাছ কাটা পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রবিবার (২ জুন) সকাল সাড়ে ৮টা থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে আল-বেরুনী হলের এক্সটেনশন অংশে চারুকলা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে গাছগুলো কর্তন করা হয়।

মাস্টারপ্ল্যান প্রনয়ণ ব্যতিতই গাছ-পালা কেটে প্রাণ-প্রকৃতি ধ্বংস করে ভবন নির্মানকাজ শুরুর ঘটনায় রবিবার বেলা ১১টায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে ছাত্র ইউনিয়নের নেতা-কর্মীরা।

মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের স্বেচ্ছাচারিতার উল্লেখ করে তাদের ব্যর্থতার বর্ণনা ও মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন ছাড়াই গাছ কাটার প্রতিবাদ জানান আন্দোলনকারীরা।

এদিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কলা ও মানবিকী অনুষদের সম্প্রসারিত ভবন (এক্সটেনশন) নির্মাণের জন্য নতুন প্রশাসনিক ভবনের পেছনের দিকের জায়গায় 'মেইন বার্ডস লেক' এর কোল ঘেষে থাকা গাছগুলো একটি ভেকু মেশিন (এক্সক্যাভেটর) দিয়ে গোড়াসহ মাটি থেকে উপড়ে ফেলা হচ্ছে।

অন্যদিকে, বাস্কেটবল গ্রাউন্ড সংলগ্ন স্থানে চারুকলা বিভাগের অনুষদ ভবন নির্মাণের জন্যেও প্রকল্প পরিচালক, বিভাগীয় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে ভেকু মেশিন (এক্সক্যাভেটর) ব্যবহার করে ওই স্থানের সকল গাছ উপড়ে ফেলতে দেখা গেছে।

চারুকলা অনুষদের জন্য নির্ধারিত এই স্থানটিও 'মেইন বার্ডস লেক' এর কোল ঘেঁষা। গাছ কাটার সঙ্গে সঙ্গে ওখানে আশ্রয় নেওয়া দেশি পাখিদের ছোটাছুটিও চোখে পড়ছে। আরও চার শতাধিক ছোট-বড় গাছ কাটা পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ৬ মে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় জলাশয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় লেকটিকে‌ 'মেইন বার্ডস লেক' নামেই শনাক্ত করা হয়। এই সভাতে প্রায় ৭.১৫ একর আয়তনের লেকটিকে সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জলাশয় ব্যবস্থাপনা কমিটির এ সিদ্ধান্ত গত ২৩ মে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় অনুমোদিত হয়েছে বলে জানা গেছে৷

তবে ওই স্থানে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হলে নির্মাণকালীন সময় উৎপন্ন শব্দ ও বিশৃঙ্খলায় লেকটি আর পরিযায়ী পাখির জন্য বাসযোগ্য থাকবে না বলে মনে করছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা।

এ বিষয়ে পরিবেশ বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী অরিত্র সাত্তার বলেন, জাহাঙ্গীরনগরের প্রাণ-প্রকৃতি ধ্বংসের পথে। সংখ্যাগরিষ্ঠদের মতের বিপরীতে চলছে প্রকৃতি ও বন্য প্রাণীর নিরসন। বিভিন্ন প্রজাতির দুর্লভ বন্য প্রাণীর আবাসস্থল নষ্ট করে তৈরি হচ্ছে অপরিকল্পিত ভবন। নির্মাণ পরিকল্পনায় দূরদর্শিতার অভাব থাকায় হারিয়ে যাচ্ছে ক্যাম্পাসের সবুজ প্রকৃতি।

ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের (একাংশের) সাধারণ সম্পাদক ঋদ্ধ অনিন্দ্য গাঙ্গুলি বলেন, ‘আমরা বলেছিলাম অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করে তারপর ভবনের কাজে হাত দিতে। আমাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কিছু রদবদল আনলেও আমাদের মূল দাবিকে সব সময়ই উপেক্ষা করা হয়েছে। প্রশাসন মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করার ফলে আমরা সংশ্লিষ্ট প্রতিটি অনুষদের ডিনদের প্রতি দাবি জানিয়েছিলাম অংশীজনদের মতামত নিয়ে একাডেমিক বিল্ডিংয়ের কাজে হাত দিতে। আমরা বারবার সংশ্লিষ্ট ডিনদের অনুরোধ করা সত্ত্বেও ছুটির ভেতর গাছে হাত দেওয়া হয়েছে।’

ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের (অপর অংশের) সভাপতি আলিফ মাহমুদ বলেন, ‘আমরা দেখেছি কোনো বড় ছুটি শুরু হলেই বিশ্ববিদ্যালয়ে গাছ কাটার একটা মহাযজ্ঞ চলে। এবারেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। শিক্ষার্থীরা হলে নেই এই সুযোগে গাছ কাটার উৎসবে মেতেছেন তারা। ভবন নির্মাণে আমাদের আপত্তি নেই, আপত্তি সঠিক মাস্টারপ্ল্যান ছাড়া ভবন নির্মাণে।’

তিনি আরও বলেন, প্রশাসন সব সময় প্রকৃতি বিনাশী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গুটিকয়েক শিক্ষার্থীর যুক্তির কাছে হেরে গেছে প্রশাসন। বন্ধের সময় এলেই প্রশাসন গাছ কাঁটতে উদ্যোমী হয়ে ওঠে। চারুকলা ভবন নির্মাণে আজ তারা নিজেদের বিভাগের শিক্ষার্থীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে, ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনসহ বিভাগের শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে গাছ কাটার সময়। প্রকৃতি ধ্বংসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই অবস্থান জাবিতে নতুন একটি ইতিহাসের জন্ম দিল।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক খো. লুৎফুল এলাহী বলেন, ‘শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির সুযোগে এই ছুটির মাঝে ভবন নির্মাণ করা অত্যন্ত দৃষ্টিকটু। তারা বারবার এ কাজ করছে। কলা ও মানবিকী অনুষদের কাছে আমাদের চাওয়া ছিল ভবনটি যাতে বর্তমান ভবন সংলগ্ন স্থানে করা হয়। এতে ভবন কিছুটা ছোট হলেও পরিবেশ ও প্রাণ প্রকৃতিতে ক্ষতি তেমন ক্ষতি হতো না। কিন্তু সে কথায় কর্ণপাত না করে তারা লেকের পাশে যে স্থান নির্ধারণ করেছে তাতে অনেক গাছ কাটা পড়বে বলে আমরা আশংকা করেছি। এবং সেই আশংকা সত্যিও হয়েছে। পরিকল্পনা ছাড়া এ ধরনের ভবন নির্মাণ পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরুপ। এই ভবনটি নির্মানের মাধ্যমে তারা তাদের তৃতীয় প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের পথকে সুগম করল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সোহেল আহমেদ বলেন, গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে শিক্ষার্থীরা বাসায় চলে গেছে, আর সেই সুযোগে গাছ কাটা শুরু হয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ-প্রকৃতি, প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, বিপন্ন করে, এমন কোনো কাজ কখনোই সমর্থনযোগ্য নয়। শিক্ষা ও গবেষণার জন্য অবশ্যই ভবনের প্রয়োজন আছে, কিন্তু সেটা প্রাণ-প্রকৃতিকে, সৌন্দর্যকে ধ্বংস করে নয়। ৬৯৭ একরের এই বিশ্ববিদ্যালয় ছোট নয়, বিকল্প জায়গাতেও ভবন করা যেত। ভবন নির্মাণের জন্য নির্ধারিত জায়গায় এত গাছপালা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি লেকে মূলত বেশি পাখি আসে। একটি হলো চৌরঙ্গীতে এবং অন্যটি পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থিত লেকটিতে। এখন আর অতিথি পরিযায়ী পাখিরা আসবে কিনা তা নিয়ে রয়েছে শঙ্কা। গতকাল (শনিবার) প্রকাশিত সংবাদে দেখলাম, এই উন্নয়ন প্রকল্পের এনভায়রনমেন্টাল ইম্প্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট (ইআইএ) হয়নি। সেটা সত্যি হলে তা হবে খুবই পরিতাপের বিষয়। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, নিশ্চয়ই মিত্র রাষ্ট্র ভারত তাদের আর্থিক সহায়তায় নির্মিতব্য চারুকলা অনুষদের ভবনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্যকে বিপন্ন করে এমন কোনো জায়গায় নির্মাণ করতে পরামর্শ দেয়নি! যে ক্ষতি হচ্ছে আর তা নিয়ে বিতর্ক চলছে, তার জন্য দায়ী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।’

এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক ও চারুকলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এম এম ময়েজ উদ্দিন বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের নির্ধারিত জায়গাতেই ভবন নির্মাণ করছি। পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কোনো কিছুই আমরা করছি না। এ ছাড়া যে গাছগুলো কাটা হয়েছে সেই গাছগুলো আমরা নিজেরাই রোপণ করে পরিচর্যা করব। সকল অংশীজনের সুপারিশকে গ্রহণ করে এবং তাদের নিয়ে আমরা একটা টিম তৈরি করব যাতে তারা আমাদের অগ্রগতিতে লক্ষ রাখতে পারেন।’

অতিরিক্ত অংশের গাছ কাটা নিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রো-ভিসি স্যার কি বলেছেন সে সম্পর্কে আমি জানি না। তবে সিন্ডিকেট নির্ধারিত স্থানেই ভবন নির্মাণ হচ্ছে এবং সে অনুযায়ী গাছ কাটা হচ্ছে। এই অংশে মূলত কন্সট্রাকশন সামগ্রী ও শ্রমিকদের থাকার স্থান তৈরি করা হবে। গাছ কাটার সময় রাজনৈতিক দলের শিক্ষার্থীদের অবস্থান করার বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’

উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগকে অনুষদে রূপান্তরিত করতে চান বিভাগীয় শিক্ষকরা। এ লক্ষ্যে ভারত-বাংলাদেশের যৌথ অর্থায়নে অনুষদ ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। যার জন্য আল বেরুনী হলের বর্ধিতাংশের স্থানটি নির্ধারণ করা হয়েছে।

ভবন নির্মাণের জন্য ৯৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যার ৪৭ কোটি ৮৯ লাখ ১৭ হাজার টাকা বাংলাদেশ সরকার ও বাকী ৫০ কোটি টাকা অর্থায়ন করবে ভারত সরকার।

তৃতীয় ধাপেও কলেজ পায়নি ১২০০০ শিক্ষার্থী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
তৃতীয় ধাপেও কলেজ পায়নি জিপিএ-৫ পাওয়া ৭০০ শিক্ষার্থী

তৃতীয় ধাপেও কলেজ পায়নি জিপিএ-৫ পাওয়া ৭০০ শিক্ষার্থী

  • Font increase
  • Font Decrease

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির তৃতীয় ও শেষ ধাপের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে আজ রাত আটটায়। ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, সময় শেষ হয়ে গেলেও কলেজ পাননি প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭০০ জন।

শুক্রবার (১২ জুলাই) রাত ৮টায় একাদশে ভর্তির কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইটে তৃতীয় ও শেষ ধাপের ফল প্রকাশের পর এসব তথ্য জানা গেছে। 

এছাড়া বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন, আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার।

তিনি জানান, ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী- তিন ধাপে আবেদন নেওয়ার কথা ছিল। এ তিন ধাপ শেষেও ১২ হাজারের কিছু বেশি শিক্ষার্থী কলেজ বরাদ্দ পাননি। তার মধ্যে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী ৭০০ জনের মতো।

আবারও ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দেয়া হবে কিনা সে বিষয়েও পরিষ্কার করে কিছু জানাতে পারেননি অধ্যাপক তপন কুমার। 

তিনি জানান, আলোচনা সাপেক্ষে এ বিষয়ে সিদ্দান্ত নেয়া হবে। তবে একজন শিক্ষার্থীও ভর্তিবঞ্চিত হোক, এমনটা কারও কাম্য নয়।

অধ্যাপক তপন কুমার বলেন, হিসাব অনুযায়ী এসএসসিতে কৃতকার্য দেশের প্রায় ১৬ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর বিপরীতে কলেজে আসন আছে ২৫ লাখের মতো। এরপরেও শিক্ষার্থীদের ভর্তিবঞ্চিত হওয়ার কারণ পছন্দের কলেজ না পাওয়া।

ভর্তি তথ্যানুযায়ী, তিন ধাপে আবেদনের পর ফল প্রকাশ, নিশ্চায়ন ও মাইগ্রেশন শেষে ১৫ জুলাই থেকে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা, চলবে ২৫ জুলাই পর্যন্ত।

ভর্তি কার্যক্রম শেষে আগামী ৩০ জুলাই সারাদেশে একযোগে একাদশ শ্রেণিতে ক্লাস শুরু হবে।

;

পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের পরীক্ষায় দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্ন, তদন্তে ২ কমিটি



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

এইচএসসি পরীক্ষার রুটিন অনুযায়ী আজ (বৃহস্পতিবার) পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের পরীক্ষা। পরীক্ষা দিতে এসে হলরুমে বসে পরীক্ষার্থীরা পেলেন দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্ন। এতে কেন্দ্রে হৈচৈ পড়ে গেলে সে প্রশ্ন ফেরত নিয়ে দুই ঘণ্টা পর পুনরায় প্রথম পত্রের প্রশ্ন এনে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী ইউনিয়নের বিজয় স্মরণী ডিগ্রী কলেজ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। ভুল প্রশ্ন বিতরণের ফলে সকাল ১০টার পরীক্ষা শুরু হয়েছে বেলা ১২টার দিকে। তবে কার ভুলে এমনটা হয়েছে তা খতিয়ে দেখতে দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকরা জানান, পরীক্ষার শুরুতে ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়। প্রশ্ন হাতে পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হৈচৈ শুরু হয়। এরপর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রশ্নপত্রটি পুনরায় সংগ্রহ করে পরীক্ষা স্থগিত করে দেওয়া হয়। তবে ২ ঘণ্টা পর প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে পুনরায় পরীক্ষা শুরু হয়েছে।

এদিকে এ ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে একটি ও সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় থেকে একটি। এরমধ্যে ইউএনও কার্যালয় থেকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আলাউদ্দিনকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। কমিটির অপর দুজন সদস্যরা হলেন মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুস্তাফা আলম সরকার ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হাবিবুল্লাহ। তবে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যদের নাম জানা যায়নি।

ভুল প্রশ্ন বিতরণের বিষয়ে জানতে ওই কলেজের প্রিন্সিপাল কেন্দ্র সচিব শিব শংকর শীলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুস্তাফা আলম সরকার বলেন, পরীক্ষার আগের রাতে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করার দায়িত্ব থাকে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র সচিবের। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ট্রেজারি থেকে প্রত্যেক কেন্দ্র সচিবকে বা তাদের প্রতিনিধিকে প্রশ্নপত্র বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

সীতাকুণ্ড নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলাম বলেন, কার ভুলে এ ঘটনা ঘটেছে তদন্ত করে দেখা হবে। উপজেলা প্রশাসন থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠনা করা হয়েছে। এতে উপজেলা প্রশাসন থেকে সরকারি কমিশনার (ভূমি) মো. আলাউদ্দিনকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। কমিটির অপর দুজন সদস্য হলেন মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুস্তাফা আলম সরকার ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হাবিবুল্লাহ।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেজাউল করিম বলেন, পরীক্ষার প্রশ্ন বিতরণের দায়িত্ব জেলা প্রশাসনের। আর দেখেশুনে প্রতিদিন সকালে প্রশ্ন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার। কোথাও একটা ভুল হয়েছে বলে এই ঘটনা ঘটেছে। তবে ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণের বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং সময় সমন্বয় করে প্রথম পত্রের পরীক্ষা হয়েছে। পরবর্তী পরীক্ষার দিনে বিকল্প প্রশ্নে পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এক্ষেত্রে কোনো অসুবিধা হবে না।

;

কটিয়াদিতে ভ্রাম্যমাণ বিজ্ঞান শিক্ষা কার্যক্রম



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদিতে ভ্রাম্যমাণ বিজ্ঞান শিক্ষা কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের আয়োজনে ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ভূমিকা’ শীর্ষক এক বিজ্ঞান বক্তৃতায় অংশ নেন শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (১০ জুলাই) কটিয়াদির গচিহাটা বিদ্যানিকেতন দুদিনব্যাপী এ আয়োজনে বিজ্ঞান জাদুঘরের একটি মিউজিয়াম বাস ও একটি মুভি বাস অংশ নেয়।

বিজ্ঞান জাদুঘরের প্রান্তিক পর্যায়ে বিজ্ঞান শিক্ষা সম্প্রসারণ কার্যক্রমের আওতায় এ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। পাঁচটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১ হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।

জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের মহাপরিচালক মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীদের মিউজিয়াম বাসের মাধ্যমে আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ওপর হাতে কলমে জ্ঞান বিতরণ করা এ কর্মসূচির উদ্দেশ্য। প্রান্তিক পর্যায়ের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিজ্ঞান শিক্ষার প্রতি আকর্ষণ ও অনুরাগ সৃষ্টির লক্ষ্যে বিজ্ঞান জাদুঘর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি অপ্রাতিষ্ঠানিক এ উদ্যোগ তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞান মনস্ক করতে অনুঘটকের ভূমিকা পালন করবে। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত এলাকায় বিজ্ঞান জাদুঘরের এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

;

ছেলের ফল নিয়ে ‘বিতর্ক’, চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের সচিবকে বদলি



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম ব্যুরো
নারায়ন চন্দ্র নাথ ও আমিরুল মোস্তফা

নারায়ন চন্দ্র নাথ ও আমিরুল মোস্তফা

  • Font increase
  • Font Decrease

ছেলের এইচএসসি পরীক্ষার ফল নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে মামলা-তদন্ত চলার মধ্যেই চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের সচিব অধ্যাপক নারায়ন চন্দ্র নাথকে বদলি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-২ শাখার উপসচিব চৌধুরী সামিয়া ইয়াসমীনের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এই কর্মকর্তাকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা, চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক পদে বদলি করার কথা জানানো হয়েছে। একই প্রজ্ঞাপনে শিক্ষাবোর্ডের নতুন সচিব হিসেবে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিপদপ্তর, ঢাকার বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অধ্যাপক আমিরুল মোস্তফাকে প্রেষণে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

নারায়ন চন্দ্র নাথ চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে বেশ কয়েকবছর ধরে নানা পদে দায়িত্বে ছিলেন। এর আগে ২০১৯ সালে তিনি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব পালন করেন। গত বছরের ১৯ অক্টোবর তিনি সচিব পদে নিয়োগ পান। পাশাপাশি শিক্ষাবোর্ডের নিয়মিত চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতে বেশ কয়েকমাস ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন। প্রজ্ঞাপনে আগামী ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে দুজনকে অবমুক্ত হয়ে নতুন পদে যোগদান করতে বলা হয়েছে। অবশ্য প্রজ্ঞাপনে নারায়ন চন্দ্র নাথকে কেন বদলি করা হয়েছে, সেটি উল্লেখ করা হয়নি।

তবে গত একবছর ধরে শিক্ষাবোর্ডেরই আরেকটি পক্ষের ‘রোষানলে’ ছিলেন নারায়ন চন্দ্র নাথ। যার শুরু গত বছরের শেষের দিকে। গত বছর নারায়ন চন্দ্র নাথের ছেলে নক্ষত্র দেব নাথ গতবারের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। তবে তিনি একটি বিষয়ে জিপিএ-৫ পাননি। সেজন্য সচিবের পরিবার পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করতে চায়। কিন্তু পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে গিয়ে দেখতে পায়, কে বা কারা আগেই নক্ষত্র দেব নাথের ছয় বিষয়ের ১২টি পত্রের আবেদন করে ফেলেছেন।

বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় সচিবের স্ত্রী বনশ্রী নাথ পুনর্নিরীক্ষণের আবেদনকারীকে শনাক্ত ও আইনি প্রতিকার চেয়ে গত বছরের ৪ ডিসেম্বর পাঁচলাইশ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে এ নিয়ে তদন্তে নামে পুলিশ।

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের সাবেক সচিব অধ্যাপক আবদুল আলীমের মোবাইল ফোন নম্বর রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করে নক্ষত্র দেব নাথের নামে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদনটি করা হয়েছিল। বিষয়টি উল্লেখ করে গত ১৫ জানুয়ারি আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয় পাঁচলাইশ থানা পুলিশ।

এই ঘটনায় শিক্ষাবোর্ডের সাবেক সচিব আবদুল আলীম ও চট্টগ্রাম কলেজের সাবেক অধ্যাপক মুহাম্মদ ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন বোর্ডের বর্তমান সচিব নারায়ন চন্দ্র নাথের স্ত্রী বনশ্রী দেবনাথ। ইদ্রিসকেও আসামি করা হয়েছে। কারণ, তিনি অধ্যাপক নারায়ন চন্দ্র নাথকে নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছিলেন। সেই বক্তব্যগুলো বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর বলে অভিযোগ করেন নারায়ন চন্দ্র নাথ।

এদিকে, সচিবের ছেলের ফলাফল সংক্রান্ত বিষয়ে তদন্ত করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও অর্থাৎ একই বিষয়ে একটি সাইবার ট্রাইব্যুনাল মামলার ফৌজদারি মামলার তদন্ত এবং অন্যটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আদেশক্রমে তদন্ত চলছে। গত ৩ জুন নারায়ন চন্দ্র নাথের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাক্ষাৎকার নেয় তদন্ত কমিটি। ওইদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানের সম্মেলন কক্ষে বোর্ডের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ডেকে কথা বলেন তদন্ত কমিটির দুই সদস্য। তবে কমিটি এখনো প্রতিবেদন দেয়নি। তবে ওইদিন তদন্ত কমিটির ‘গোপনীয়’ বৈঠকে বোর্ডের একজন কর্মকর্তা উপস্থিত থেকে সাক্ষাৎকার দেওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রভাবিত করার অভিযোগ তোলে ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন নারায়ন চন্দ্র নাথ।

;