শিক্ষা কর্মকর্তাকে ঘুষ দিয়ে সর্বস্বান্ত শিক্ষকরা



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা ২৪.কম, নীলফামারী
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

এক চেয়ারেই ৭ বছর পার করে দিয়েছেন নীলফামারীর জলঢাকার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা চঞ্চল কুমার ভৌমিক। দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার ফলে তার বেপরোয়া আচরণে অতিষ্ট উপজেলার শিক্ষকরা। এই উপজেলার শিক্ষকদের অভিযোগ, নিয়োগ ও এমপিওসহ তার দপ্তরে থাকা যেকোনো কাজের জন্য গুনতে হয় মোটা অংকের টাকা। দাবি করা টাকা না পেলে আটকে দেওয়া হয় সংশ্লিষ্ট ফাইল। ঘুরতে হয় দিনের পর দিন। কিন্তু শেষ পর্যায়ে বাধ্য হয়ে শিক্ষকরা টাকা দিয়ে কাজ আদায় করলেও নিজেরা হয়ে যান সর্বস্বান্ত।

এমন পরিস্থিতিতে এই কর্মকর্তার হাত থেকে রক্ষা পেতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন উপজেলাটির চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান। মাউশির মহাপরিচালকের কাছে দেওয়া অভিযোগপত্রে দ্রুত এই কর্মকর্তার অন্যত্র বদলির দাবি জানিয়েছেন তারা।

অভিযোগকারী শিক্ষকরা হলেন, গোলনা ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ হোসাইন আহমাদ, উত্তর দেশীবাই ফয়জুল উলুম দাখিল মাদরাসার সুপার মো. সাইফুল ইসলাম, রশিদপুর বালিকা স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মাহিদুল ইসলাম ও বালাপাড়া দারুস সুন্নাত দাখিল মাদরাসার সুপার মো. সাইদুল ইসলাম।

অভিযোগে বলা হয়েছে, চঞ্চল কুমার ভৌমিক ২০১৭ সালের ২৫ মে জলঢাকা উপজেলায় যোগদান করেন। দীর্ঘদিন একই উপজেলায় কর্মরত থাকায় সর্বত্র তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রধানদের হুমকি, সামান্য কাজের জন্য মোটা অংকের টাকা দাবি করেন। বিশেষ করে নতুন শিক্ষকদের এমপিও ফাইল পাঠানোর জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধানদের মোটা অংকের টাকা দিতে বাধ্য করেন। সাধারণ শিক্ষকরা নিরুপায় হয়ে এই টাকা দিতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ছেন।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, কর্মকর্তার অফিসে গেলে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন ও বিভিন্ন রকমের ধমক দেন। দীর্ঘ ৭ বছর একই কর্মস্থলে থাকার ফলে তার বেপরোয়া আচরণে প্রতিষ্ঠান প্রধানরা ভুগছেন। তাই এই কর্মকর্তাকে অন্যত্র দ্রুত বদলির ব্যবস্থা করে জলঢাকা উপজেলার শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে এনে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের ভীতিকর পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণে সদয় দৃষ্টি কামনা করছি।

শিক্ষা কর্মকর্তা চঞ্চল কুমার ভৌমিক বলেন, আমার বিষয়ে এরকম অভিযোগ করার কথা না। এই উপজেলায় তো ১০২টা স্কুল রয়েছে তারা তো করলো না। এই চারটা প্রতিষ্টান কেন এরকম অভিযোগ করলো আমার বুঝে আসে না। আমার তো অবসরে যাওয়ার সময় হয়ে গেছে আর ৪ মাস আছে। শেষ সময়ে তারা এমনটা না করলেও পারতো। এই স্টেশনে আরও কেউ কেউ আসার চেষ্টা করছেন। আর যারা অভিযোগ করেছেন তারা তাকে আনতেই এ কাজ করেছেন। আমি যাওয়ার পর তাকে আনলেই পারে। পাশাপাশি কিছু প্রতিষ্ঠান আছে যেখানকার শিক্ষকরা ভুয়া, পেছনের তারিখে নিয়োগ দেখিয়ে এমপিও করার আবেদন নিয়ে আসেন সেগুলো নিয়মবহির্ভূত বলে না করায় তারা এসব অভিযোগ দিতে পারেন। কাজের বিনিময়ে টাকা নেওয়ার বিষয় আমার সঙ্গে নেই।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে আমার জানা নেই। এখন পর্যন্ত মাউশি থেকেও কোনো নির্দেশনা পাইনি।

এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ সাংবাদিকেদের বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে আমরা বিশ্বাস করি। অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে দেখা হবে। সত্যতা পেলে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তৃতীয় ধাপেও কলেজ পায়নি ১২০০০ শিক্ষার্থী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
তৃতীয় ধাপেও কলেজ পায়নি জিপিএ-৫ পাওয়া ৭০০ শিক্ষার্থী

তৃতীয় ধাপেও কলেজ পায়নি জিপিএ-৫ পাওয়া ৭০০ শিক্ষার্থী

  • Font increase
  • Font Decrease

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির তৃতীয় ও শেষ ধাপের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে আজ রাত আটটায়। ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, সময় শেষ হয়ে গেলেও কলেজ পাননি প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭০০ জন।

শুক্রবার (১২ জুলাই) রাত ৮টায় একাদশে ভর্তির কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইটে তৃতীয় ও শেষ ধাপের ফল প্রকাশের পর এসব তথ্য জানা গেছে। 

এছাড়া বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন, আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার।

তিনি জানান, ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী- তিন ধাপে আবেদন নেওয়ার কথা ছিল। এ তিন ধাপ শেষেও ১২ হাজারের কিছু বেশি শিক্ষার্থী কলেজ বরাদ্দ পাননি। তার মধ্যে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী ৭০০ জনের মতো।

আবারও ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দেয়া হবে কিনা সে বিষয়েও পরিষ্কার করে কিছু জানাতে পারেননি অধ্যাপক তপন কুমার। 

তিনি জানান, আলোচনা সাপেক্ষে এ বিষয়ে সিদ্দান্ত নেয়া হবে। তবে একজন শিক্ষার্থীও ভর্তিবঞ্চিত হোক, এমনটা কারও কাম্য নয়।

অধ্যাপক তপন কুমার বলেন, হিসাব অনুযায়ী এসএসসিতে কৃতকার্য দেশের প্রায় ১৬ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর বিপরীতে কলেজে আসন আছে ২৫ লাখের মতো। এরপরেও শিক্ষার্থীদের ভর্তিবঞ্চিত হওয়ার কারণ পছন্দের কলেজ না পাওয়া।

ভর্তি তথ্যানুযায়ী, তিন ধাপে আবেদনের পর ফল প্রকাশ, নিশ্চায়ন ও মাইগ্রেশন শেষে ১৫ জুলাই থেকে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা, চলবে ২৫ জুলাই পর্যন্ত।

ভর্তি কার্যক্রম শেষে আগামী ৩০ জুলাই সারাদেশে একযোগে একাদশ শ্রেণিতে ক্লাস শুরু হবে।

;

পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের পরীক্ষায় দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্ন, তদন্তে ২ কমিটি



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

এইচএসসি পরীক্ষার রুটিন অনুযায়ী আজ (বৃহস্পতিবার) পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের পরীক্ষা। পরীক্ষা দিতে এসে হলরুমে বসে পরীক্ষার্থীরা পেলেন দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্ন। এতে কেন্দ্রে হৈচৈ পড়ে গেলে সে প্রশ্ন ফেরত নিয়ে দুই ঘণ্টা পর পুনরায় প্রথম পত্রের প্রশ্ন এনে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী ইউনিয়নের বিজয় স্মরণী ডিগ্রী কলেজ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। ভুল প্রশ্ন বিতরণের ফলে সকাল ১০টার পরীক্ষা শুরু হয়েছে বেলা ১২টার দিকে। তবে কার ভুলে এমনটা হয়েছে তা খতিয়ে দেখতে দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকরা জানান, পরীক্ষার শুরুতে ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়। প্রশ্ন হাতে পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হৈচৈ শুরু হয়। এরপর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রশ্নপত্রটি পুনরায় সংগ্রহ করে পরীক্ষা স্থগিত করে দেওয়া হয়। তবে ২ ঘণ্টা পর প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে পুনরায় পরীক্ষা শুরু হয়েছে।

এদিকে এ ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে একটি ও সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় থেকে একটি। এরমধ্যে ইউএনও কার্যালয় থেকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আলাউদ্দিনকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। কমিটির অপর দুজন সদস্যরা হলেন মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুস্তাফা আলম সরকার ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হাবিবুল্লাহ। তবে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যদের নাম জানা যায়নি।

ভুল প্রশ্ন বিতরণের বিষয়ে জানতে ওই কলেজের প্রিন্সিপাল কেন্দ্র সচিব শিব শংকর শীলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুস্তাফা আলম সরকার বলেন, পরীক্ষার আগের রাতে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করার দায়িত্ব থাকে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র সচিবের। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ট্রেজারি থেকে প্রত্যেক কেন্দ্র সচিবকে বা তাদের প্রতিনিধিকে প্রশ্নপত্র বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

সীতাকুণ্ড নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলাম বলেন, কার ভুলে এ ঘটনা ঘটেছে তদন্ত করে দেখা হবে। উপজেলা প্রশাসন থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠনা করা হয়েছে। এতে উপজেলা প্রশাসন থেকে সরকারি কমিশনার (ভূমি) মো. আলাউদ্দিনকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। কমিটির অপর দুজন সদস্য হলেন মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুস্তাফা আলম সরকার ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হাবিবুল্লাহ।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেজাউল করিম বলেন, পরীক্ষার প্রশ্ন বিতরণের দায়িত্ব জেলা প্রশাসনের। আর দেখেশুনে প্রতিদিন সকালে প্রশ্ন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার। কোথাও একটা ভুল হয়েছে বলে এই ঘটনা ঘটেছে। তবে ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণের বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং সময় সমন্বয় করে প্রথম পত্রের পরীক্ষা হয়েছে। পরবর্তী পরীক্ষার দিনে বিকল্প প্রশ্নে পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এক্ষেত্রে কোনো অসুবিধা হবে না।

;

কটিয়াদিতে ভ্রাম্যমাণ বিজ্ঞান শিক্ষা কার্যক্রম



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদিতে ভ্রাম্যমাণ বিজ্ঞান শিক্ষা কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের আয়োজনে ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ভূমিকা’ শীর্ষক এক বিজ্ঞান বক্তৃতায় অংশ নেন শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (১০ জুলাই) কটিয়াদির গচিহাটা বিদ্যানিকেতন দুদিনব্যাপী এ আয়োজনে বিজ্ঞান জাদুঘরের একটি মিউজিয়াম বাস ও একটি মুভি বাস অংশ নেয়।

বিজ্ঞান জাদুঘরের প্রান্তিক পর্যায়ে বিজ্ঞান শিক্ষা সম্প্রসারণ কার্যক্রমের আওতায় এ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। পাঁচটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১ হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।

জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের মহাপরিচালক মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীদের মিউজিয়াম বাসের মাধ্যমে আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ওপর হাতে কলমে জ্ঞান বিতরণ করা এ কর্মসূচির উদ্দেশ্য। প্রান্তিক পর্যায়ের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিজ্ঞান শিক্ষার প্রতি আকর্ষণ ও অনুরাগ সৃষ্টির লক্ষ্যে বিজ্ঞান জাদুঘর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি অপ্রাতিষ্ঠানিক এ উদ্যোগ তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞান মনস্ক করতে অনুঘটকের ভূমিকা পালন করবে। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত এলাকায় বিজ্ঞান জাদুঘরের এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

;

ছেলের ফল নিয়ে ‘বিতর্ক’, চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের সচিবকে বদলি



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম ব্যুরো
নারায়ন চন্দ্র নাথ ও আমিরুল মোস্তফা

নারায়ন চন্দ্র নাথ ও আমিরুল মোস্তফা

  • Font increase
  • Font Decrease

ছেলের এইচএসসি পরীক্ষার ফল নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে মামলা-তদন্ত চলার মধ্যেই চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের সচিব অধ্যাপক নারায়ন চন্দ্র নাথকে বদলি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-২ শাখার উপসচিব চৌধুরী সামিয়া ইয়াসমীনের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এই কর্মকর্তাকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা, চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক পদে বদলি করার কথা জানানো হয়েছে। একই প্রজ্ঞাপনে শিক্ষাবোর্ডের নতুন সচিব হিসেবে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিপদপ্তর, ঢাকার বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অধ্যাপক আমিরুল মোস্তফাকে প্রেষণে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

নারায়ন চন্দ্র নাথ চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে বেশ কয়েকবছর ধরে নানা পদে দায়িত্বে ছিলেন। এর আগে ২০১৯ সালে তিনি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব পালন করেন। গত বছরের ১৯ অক্টোবর তিনি সচিব পদে নিয়োগ পান। পাশাপাশি শিক্ষাবোর্ডের নিয়মিত চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতে বেশ কয়েকমাস ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন। প্রজ্ঞাপনে আগামী ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে দুজনকে অবমুক্ত হয়ে নতুন পদে যোগদান করতে বলা হয়েছে। অবশ্য প্রজ্ঞাপনে নারায়ন চন্দ্র নাথকে কেন বদলি করা হয়েছে, সেটি উল্লেখ করা হয়নি।

তবে গত একবছর ধরে শিক্ষাবোর্ডেরই আরেকটি পক্ষের ‘রোষানলে’ ছিলেন নারায়ন চন্দ্র নাথ। যার শুরু গত বছরের শেষের দিকে। গত বছর নারায়ন চন্দ্র নাথের ছেলে নক্ষত্র দেব নাথ গতবারের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। তবে তিনি একটি বিষয়ে জিপিএ-৫ পাননি। সেজন্য সচিবের পরিবার পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করতে চায়। কিন্তু পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে গিয়ে দেখতে পায়, কে বা কারা আগেই নক্ষত্র দেব নাথের ছয় বিষয়ের ১২টি পত্রের আবেদন করে ফেলেছেন।

বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় সচিবের স্ত্রী বনশ্রী নাথ পুনর্নিরীক্ষণের আবেদনকারীকে শনাক্ত ও আইনি প্রতিকার চেয়ে গত বছরের ৪ ডিসেম্বর পাঁচলাইশ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে এ নিয়ে তদন্তে নামে পুলিশ।

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের সাবেক সচিব অধ্যাপক আবদুল আলীমের মোবাইল ফোন নম্বর রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করে নক্ষত্র দেব নাথের নামে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদনটি করা হয়েছিল। বিষয়টি উল্লেখ করে গত ১৫ জানুয়ারি আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয় পাঁচলাইশ থানা পুলিশ।

এই ঘটনায় শিক্ষাবোর্ডের সাবেক সচিব আবদুল আলীম ও চট্টগ্রাম কলেজের সাবেক অধ্যাপক মুহাম্মদ ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন বোর্ডের বর্তমান সচিব নারায়ন চন্দ্র নাথের স্ত্রী বনশ্রী দেবনাথ। ইদ্রিসকেও আসামি করা হয়েছে। কারণ, তিনি অধ্যাপক নারায়ন চন্দ্র নাথকে নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছিলেন। সেই বক্তব্যগুলো বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর বলে অভিযোগ করেন নারায়ন চন্দ্র নাথ।

এদিকে, সচিবের ছেলের ফলাফল সংক্রান্ত বিষয়ে তদন্ত করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও অর্থাৎ একই বিষয়ে একটি সাইবার ট্রাইব্যুনাল মামলার ফৌজদারি মামলার তদন্ত এবং অন্যটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আদেশক্রমে তদন্ত চলছে। গত ৩ জুন নারায়ন চন্দ্র নাথের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাক্ষাৎকার নেয় তদন্ত কমিটি। ওইদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানের সম্মেলন কক্ষে বোর্ডের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ডেকে কথা বলেন তদন্ত কমিটির দুই সদস্য। তবে কমিটি এখনো প্রতিবেদন দেয়নি। তবে ওইদিন তদন্ত কমিটির ‘গোপনীয়’ বৈঠকে বোর্ডের একজন কর্মকর্তা উপস্থিত থেকে সাক্ষাৎকার দেওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রভাবিত করার অভিযোগ তোলে ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন নারায়ন চন্দ্র নাথ।

;