অর্থনীতিকে ভারসাম্যপূর্ণ করতে যা চান ব্যবসায়ীরা, জানালেন আমিন হেলালী



আশরাফুল ইসলাম, পরিকল্পনা সম্পাদক, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের সঙ্গে গত বৃহস্পতিবার (১৬ মে, ২০২৪) পৌনে ৩ ঘণ্টার বৈঠক করেছেন ১৫ সদস্যের ব্যবসায়ী নেতারা। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই’র শীর্ষ নেতাদের নেতৃত্বে এই বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নর ডলারের মূল্যবৃদ্ধিতে অর্থনীতির অস্থিরতা-সহ নানা প্রসঙ্গে গৃহীত পদক্ষেপসমূহের কথা জানিয়েছেন। ব্যবসায়ী নেতারা বাংলাদেশের উদীয়মান অর্থনীতির অস্থিরতা কাটিয়ে একে ভারসাম্যপূর্ণ করতে তাদের পর্যবেক্ষণ ও দাবি তুলে ধরেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে। দীর্ঘ সময় ধরে ডেপুটি গভর্নর ও নির্বাহী পরিচালকদের নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ব্যবসায়ী নেতাদের কথা শুনেছেন এবং সেইসব বিষয়ে তাদের আশ্বস্ত করেছেন।

বৈঠকের সামগ্রিক বিষয়াবলী নিয়ে বার্তা২৪.কমের সঙ্গে বিস্তৃত আলাপচারিতায় এফবিসিসিআই’র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও দশদিশা গ্রুপের চেয়ারম্যান আমিন হেলালী জানিয়েছেন, চলমান অস্থিরতায় অর্থনীতিকে ভারসাম্যপূর্ণ করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে তুলে ধরা প্রত্যাশার কথা। কথা বলেছেন পরিকল্পনা সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম।

আমিন হেলালী: দেশের ব্যবসায়ীদের প্রত্যেকটা সেক্টরের এসোসিয়েশন লিডারদের নিয়ে ১৫ সদস্যের টিম গত ১৬ মে (২০২৪) বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের সঙ্গে আমরা এফবিসিসিআই এর পক্ষ থেকে দেখা করেছি। সেখানে আলোচনায় যে বিষয়গুলো ছিল..সবচাইতে বড় কথা হল, তিনি সকল ডেপুটি গভর্নর ও নির্বাহী পরিচালকদের নিয়ে আমাদের সঙ্গে বসেছেন। সেখানে তিনি আমাদের পৌনে ৩ ঘণ্টা সময় দিয়েছেন। আমাদের প্রত্যেকটি কথা তিনি শুনেছেন। প্রথমতঃ, এটি হচ্ছে একটি ইতিবাচক দিক। প্রতিটি সমস্যাই তিনি এড্রেস করেছেন। সমস্যাগুলো নিয়ে তিনি পদক্ষেপ নিচ্ছেন, নেবেন-বলে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।

বার্তা২৪.কম: আলোচনায় কোন বিষয়গুলো প্রধান্য পেয়েছিল...

আমিন হেলালী: যেমন ধরুন-সুদের হার নিয়ে আমরা উনাকে বলেছি, অর্থনৈতিক এই অবস্থার মধ্যে যে আপনারা (বাংলাদেশ ব্যাংক) স্মার্ট ফর্মুলা বাতিল করে সুদের হারকে বাজারভিত্তিক করে দিলেন, এখন কি অবস্থা হবে? আমরা তো ব্যবসায়িক প্ল্যান করতে পারব না। লাগামহীন হয়ে যাবে। গভর্নর বললেন যে, ‘না, তা হবে না। আমাদের ব্যাংকিং ব্যবস্থাপনা বাবদ ৭-৯ পার্সেন্ট খরচ আছে।’

গভর্নর ধারণা করছেন সুদের এই কম্পিটিশনের মাধ্যমে ১২ পার্সেন্টের বেশি বাড়বে না। যদিও বাড়ে বা কেউ যদি বাড়াতে চায় মার্কেটে তাহলেও ১৪ পার্সেন্টের বেশি কেউ বাড়াতে পারবে না। এটা উনি আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু কেউ এটাকে ১২ পার্সেন্টও করতে পারবে, ৯ পার্সেন্টও করতে পারবে- যার যার কস্টিং অনুসারে তারা সুদ হার নির্ধারণ করতে পারবেন। বাংলাদেশ ব্যাংক এখানে আশ্বস্ত করেছে এটাই যে, যতই বাড়ুক ১৪ এর ওপরে যাবে না। অন্যদিকে ডলার রেট ১১৭ টাকা নিয়ে স্পষ্ট বলে দিয়েছেন, ইফ দেয়ার ইজ এনি আন্ডারহ্যান্ড ডিলিংস...সঙ্গে সঙ্গে উনাকে (গভর্নর) কমপ্লেইন করতে বলেছেন, তিনি সরাসরি অ্যাকশনে যাবেন।

বার্তা২৪.কম: এসএমই’র ১% সার্ভিস চার্জ রহিতকরণ ও একক গ্রাহক ঋণসীমা নিয়ে কি আলোচনা হয়েছে...

আমিন হেলালী: এসএমই’র ক্ষেত্রে সব ব্যাংকগুলো ১% সার্ভিস চার্জ কেটে নিয়ে যাচ্ছিল প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে-এনিয়ে অনেক দিন ধরে আমরাও কথা বলে আসছিলাম, অস্পষ্টতা কাটছিল না। তবে এই মিটিংয়ে তিনি আমাদের স্পষ্ট করলেন, এমএমই’তে ১ পার্সেন্ট যে সার্ভিস চার্জ কেটে নেয় এখন থেকে আর কাটতে পারবে না। এটা অলরেডি রহিত করেছে। একক গ্রাহক ঋণসীমা যেটি ১৫% ছিল, আমাদের দাবি ছিল ৩০% করে দেওয়ার জন্য। সেই জায়গায় তিনি বলেছেন, ‘৩০ পার্সেন্ট না, ২৫ পার্সেন্ট করতে পারব। এর বেশি করা যাবে না, কারণ তাহলে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হয়ে যাবে।’ কমপ্লায়েন্সে থাকতে হলে ২৫% ম্যাক্সিমাম, সেটা তিনি শিগগিরই প্রজ্ঞাপন দিয়ে দেবেন।

আরেকটি বিষয় হচ্ছে ডলার ডিভ্যেলুর কারণে যেসব বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি হয়েছে, সেখানে রেগুলেশনের মাধ্যমে যার যত ক্ষতি হয়েছে-কারও হয়ত ১০ কোটি টাকা হল, কারও ৫ লাখ টাকা বা কারও ৫০০ কোটি টাকা হল..ডলার যখন ৮৫ টাকা ছিল সেটা ১১০ টাকা করার পরও যখন লস হওয়া শুরু হল, তখন পেমেন্ট দিতে হয়েছে বেশি-ক্যালকুলেশনের মাধ্যমে যা লস হয়েছে তা আলাদা ভাবে দীর্ঘমেয়াদী পেমেন্টের ব্যবস্থা করে পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে গভর্নর আশ্বস্ত করেছেন। কিস্তির ক্ষেত্রে ৬ মাসের যে বিষয়টি ছিল তা ৩ মাস করেছে, আমরা সেটিকে আবারও ৬ মাস মেয়াদী করতে বলেছি। গভর্নর বলেছেন, আন্তর্জাতিক যে কমপ্লায়েন্স আছে তাতে স্ট্যান্ডার্ড ৩ মাসের বেশি করা যায় না। আমরা জানিয়েছি, এতে আমাদের সমস্যা হয়ে যাবে, ঋণখেলাপি বেড়ে যাবে। তিনি এ বিষয়ে বলেছে, নতুন কি কৌশল করে এই অসুবিধা নিরসন করা যায় তা তিনি দেখবেন।

বার্তা২৪.কম: এসএমই’তে কমপ্লায়েন্স সুবিধা নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কী বলছে?

আমিন হেলালী: বর্তমানে সবার জন্য ব্যাংকিং যে পলিসি এসএমই’র জন্যও তাই। কিন্তু এসএমই’র স্টেকহোল্ডার যাঁরা তারা তো কর্পোরেটদের মত কমপ্লায়েন্স এর সুবিধা নিতে পারছে না। তাদের দিকে কেউ তাকাচ্ছে না। বিষয়টিও তিনি (গভর্নর) সিরায়াসলি দেখবেন বলেছেন, কিভাবে এসএমই-দের জন্য আলাদা ব্যাংকিং সুবিধা বা কমপ্লায়েন্সের টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশন তৈরি করা যায়। তিনি জানালেন, এসএমই’র জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে ২৫ হাজার কোটি টাকা আছে। কিন্তু আমরা বলেছি, এই ২৫ হাজার কোটি টাকা থাকলে কি হবে-২৫ টাকাও তো এসএমই ভোগ করতে পারবে না-যে টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশন আছে তার কারণে প্রকৃত স্টেকহোল্ডারা তা পারবে না। বড়রাই এসএমই সেজে একাই এগুলো ভোগ করে ফেলবে। গভর্নর আমাদের কথা বিবেচনায় নিয়েছেন এবং বলেছেন, উনি বিষয়টি দেখবেন, কি কৌশল নিয়ে এসএমই-কে বিকশিত করা যায় স্মল এবং স্টার্টআপ-দেরকে নিয়ে।

বার্তা২৪.কম: গভর্নর ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এই দীর্ঘ আলোচনায় আপনারা কতটা আশ্বস্ত হতে পেরেছেন?

আমিন হেলালী: প্রতিটি বিষয়ে তিনি (গভর্নর) আমাদের কথা শুনেছেন এবং কথা বলেছেন, আমি মনে করি এটি পজেটিভ দিক। উনি আরও একটি কথা মেনশন করেছেন, ‘দেখুন, বেসরকারি খাত যদি না টিকে থাকে, তাহলে আমাদের কাজটা কি? আপনাদের যদি সঠিক গ্রোথ হয়-তাহলে সরকারের ট্যাক্স বাড়বে। ট্যাক্স বাড়লে উন্নয়ন বাড়বে, আমরা যারা চাকুরি করি আমাদের বেতন বাড়বে। এগুলো মাথায় রেখেই আমরা চেষ্টা করছি’-এগুলো বলেছেন।

আমরা মনে করি, সরকারি লোক যারা আছেন তারাই কিন্তু পলিসি ড্রাফট করেন। বেসরকারি খাতের সঙ্গে কথা বলে যদি পলিসি হয়; তাহলে তা ওয়ার্কেবল হয়। আমি মনে করি এগুলো পজেটিভ দিক। আমরা আমাদের সমস্যা নিয়ে বার বারই মিটিং করতে পারব। সমাধান উভয় পক্ষ মিলে কিভাবে করা যায় সেই রাস্তাও বের করা যাবে।

বার্তা২৪.কম: আইএমএফ’র পরামর্শেই বাংলাদেশ ব্যাংক ডলারের মূল্য একলাফে ৭ টাকা বাড়াতে বাধ্য হয়েছে শেষ মুহূর্তে এসে, এই দাবি করছেন অর্থনীতিবিদরা। প্রশ্ন হচ্ছে, ডলারের মূল্যবৃদ্ধির ফলে আমদানি-রফতানিতে প্রভাব কতখানি পড়ছে?

আমিন হেলালী: কথাটা ফেলে দেওয়ার মত নয়। আমরা যেহেতু নিম্ন আয় থেকে উত্তীর্ণ হয়ে এখন মধ্যম আয়ে গ্রেজুয়েশন নেব; একারণে আমাদের ওপর অনেক কমপ্লায়েন্স ভর করছে। এটা ভয় পেলে হবে না। নিয়মের মধ্যে চললে কিন্তু সব সময় লাভবান হওয়া যায়। যদি নিয়মকে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব হয়। বাংলাদেশের প্রধান সম্পদই হচ্ছে মানবসম্পদ। আমরা নিয়ম যদি পালন করতে পারি, আমাদেরকে কেউ পিছে ফেলতে পারবে না। আমাদের কাছে আসতেই হবে। পৃথিবীর সর্বত্রই মানবসম্পদের সংকট, তাদের কাজের লোক নেই। আমাদের কাজের লোক আছে। নিয়ম আমাদের পালন করতেই হবে, আমি নিজেও তা এডমিট করি।

বার্তা২৪.কম: অর্থনীতিকে ভারসাম্যপূর্ণ করতে বড় সংকটটি কোন জায়গাতে বলে মনে করেন?

আমিন হেলালী: আমরা এফবিসিসিআই এর পক্ষ থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছি, আমাদের এসোসিয়েশন-চেম্বারকে কমপ্লায়েন্স করতে। হ-য-ব-র-ল ভাবে অর্থনীতি এই জায়গায় আসছে। অর্থনীতির আকার বড় হয়েছে। আমাদের যে রেভিনিউ, এনবিআর এর যে রেভিনিউ কালেকশন-তাদের টার্গেটই ৭ %। বাস্তবায়ন কতটুকু হবে কে জানে? আমরা এতবড় একটা অর্থনীতির দেশ। স্ট্যান্ডার্ড হল মিনিমাম ২২-২৩%। নেপালের মত দেশে ১৪-১৫%। এটা কার ব্যর্থতা? আমি মনে করি সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থা, এনবিআর এর ব্যর্থতা এটা। ২০০৯ সালে ৯০ বিলিয়নের অর্থনীতি ছিল, তখন তাদের যে পরিকল্পনা ছিল, তারা (এনবিআর) এখনও সেখানেই আছে। বর্তমানে অর্থনীতির আকার হয়েছে ৪৭০ বিলিয়ন। এনবিআর সেই জায়গায় তাদের জাল বিস্তার করতে পারেনি। সেই জায়গাগুলো আয়ত্বে আনতে পারেনি কারণ হয়ত তারা রেভিনিউ কালেকশনের চাপে থাকে। যারা রেভিনিউ দেয় তারা খোঁজে খোঁজে তাদের কাছেই যায়। বর্তমানে আয়কর সাবমিট করেছে মাত্র ৩৭ লাখ। এর মধ্যে ২১ লক্ষ সরকারকে কর দিয়েছে।

বার্তা২৪.কম: এনবিআর’র বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের হয়রানির অভিযোগ আবারও প্রকাশ্যে এল। সম্প্রতি বস্ত্র ও পাটমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে ব্যবসায়ী নেতারা এর প্রতিকারও দাবি করেছেন। গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি এসেছে কী?

আমিন হেলালী: গভর্নর এবিষয়ে বলেছেন, আপনারা যারা কাঁচামাল আমদানিকারকদের জন্য ডলারের কোনো কমতি পড়বে না। আমরা গভর্নরকে সুনির্দিষ্টভাবে বলেছি, যারা প্রতারণা করে টাকা নিয়ে গেছেন ব্যাংক থেকে এবং বিদেশে টাকা পাচার করেছেন, আপনি তাদের চিহ্নিত করুন। আমরা আপনাকে সহযোগিতা করব। আপনার কোনো অসুবিধা হবে না। আমরা আপনার সঙ্গে আছি।

তিনি বলেছেন, ‘আমার কাছে স্পষ্ট নির্দেশনা আছে সরকার প্রধানের। আমি কারও চোখ রাঙানি দেখতে পারব না। কারোর যদি এ সংক্রান্ত কিছু ধরা পড়ে, ছাড় দিব না। তিনি বলেছেন, টুকটাক এদিক-সেদিক হবেই, মেজর যে ঘাপলা ছিল তা পুরোপুরি স্টপ আছে। মানি লন্ডারিংয়ের যে কয়েকটি ঘটনা, ওভার ইনভেস্টমেন্ট...যে জিনিসের দাম ১০০ ডলার, তার অনুকূলে ৩০০ ডলার এলসি করে; ২০০ ডলার পাচার ঘটনাও অনেক হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের চিহ্নিত করেছে বলে জানানো হয়েছে। ওই জায়গাগুলো যেন আর ভবিষ্যতে পুনরাবৃত্তি না হয়, অতীতে যা হয়েছে তা আছে নথিভূক্ত কিন্তু ভবিষ্যতে আর হবে না, একথা বলেছেন গভর্নর।। আমাকে উনাকে বলেছি, এগুলো লিস্ট করেন এবং আমাদেরকেও দেন। আমি রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন স্তরেও এসব কথাগুলি বলি, কারণ আমাদের অধিকার আছে, কেননা আমরা সঠিকভাবে ব্যবসা করতে চাই। দোষ নিতে চাই না।

বার্তা২৪.কম: এনবিআর’র হয়রানিতে রফতানিখাত বাধাগ্রস্ত হয় এই অভিযোগ রয়েছে...

আমিন হেলালী: পূর্বেও উল্লেখ করেছি, ৯০ বিলিয়ন ডলার অর্থনীতির যে কাঠামামো ছিল, যে প্ল্যান ছিল- তা দিয়ে ৪৭০ বিলিয়নের অর্থনীতিকে কন্ট্রোল করতে চাইলে হবে? আপনার সক্ষমতা আছে ১০০ টাকা ডিল করার, কিন্তু যদি আপনার হাতে হাজার টাকা আসে তা কিভাবে আপনি ডিল করবেন? সেটা ব্যবস্থাপনা করতে আপনাকে নিশ্চয়ই সিস্টেম করতে হবে। আমি মনে করি বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার ৪৭০ বিলিয়ন ডলার নয়; যেহেতু আমি ফেডারেশনে সব ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ওঠাবসা করি তারই প্রেক্ষিতে বলছি, আমাদের ইনফর্মাল যে অর্থনীতি যা রাষ্ট্রীয় হিসাব নিকাশের মধ্যে আসছে না। ঘুষ-দুর্নীতি বা অন্যান্য ইস্যু, রোজার সময় আমরা যে জাকাত দিই-এসব কোনো রাষ্ট্রীয় হিসাবে অন্তর্ভূক্ত হচ্ছে না। আমি মনে করি, আমাদের অর্থনীতির যে বহুবিধ মাত্রা আছে, অর্থনীতিবিদদের থিওরি সেখানে কাজে লাগছে না। তারা এসব বিষয় বিবেচনায় আনছেন না। এগুলোকে যদি মেইনস্ট্রিম করতে পারি, তাহলে আমাদের বাজেট আট লক্ষ কোটি কেন হবে; আমি মনে করি ১৬ লক্ষ কোটি হবে। রেভিনিউ ইনকাম যদি ৩ লক্ষ কোটি থেকে বাড়িয়ে আট লক্ষ কোটি হয়-তাহলে অনায়াসেই ১৫ লক্ষ কোটি টাকার বাজেট করতেই পারি। এনবিআর কঠোর হচ্ছে শুধু যারা দৃশ্যমান ব্যবসার মধ্যে আছে তাদেরকে প্রতি। নতুন যারা আসছে তারা আর মাথা তুলে দাঁড়াতে পারছে না। কেউ নতুন একটা ব্যবসা খুলবে, নতুন কোন স্টার্টআপ আসবে-তখন তারা (এনবিআর) যেসব নিয়ম-কানুনের ফর্দ লাগিয়ে দিচ্ছেন-সেই ভয়ে এখন আর কেউ বিনিয়োগে যাচ্ছে না। এনবিআর’কে সৃজনশীল চিন্তা ভাবনায় আসতে হবে। যেটা হয়ে গেছে তাকে কিভাবে সারফেইসে আনবে সেটা চেষ্টা করুক, ডিস্টার্ব না করুক। সবাই ইনকাম ট্যাক্সটা দিতে চায়। কেউ হয়ত ৭ বছর ধরে কাজ করে, সেও চাইবে ট্যাক্স দিয়ে স্বচ্ছ হয়ে যেতে। কিন্তু যখনই কেউ দিতে যাবে, তখন হয়ত সংশ্লিষ্ট কেউ বলবে-‘আপনার বিগত দিনের সবকিছু অডিট হবে। সব ফেরত দিতে হবে। তারচেয়ে আসেন দেওয়ার দরকার নেই। একলা একলা ডিল করে ফেলি।’-আপনি যা ইনকাম করে খরচ করে ফেলেছেন তার ওপর যদি করারোপ করে তাহলে কেউ কর দিতে আসবে না। তাই এনবিআরকে করদাতাবান্ধব হতেই হবে।

জাতীয় রপ্তানি ট্রফি পাচ্ছে ৭৭ প্রতিষ্ঠান



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: জাতীয় রপ্তানি ট্রফি

ছবি: জাতীয় রপ্তানি ট্রফি

  • Font increase
  • Font Decrease

২০২১-২২ অর্থবছরে রপ্তানি আয়, আয়গত প্রবৃদ্ধি, নতুন পণ্যের সংযোজন, নতুন বাজারে প্রবেশ ও কমপ্লায়েন্স প্রতিপালনে বিশেষ অবদানের জন্য জাতীয় রপ্তানি ট্রফি পাচ্ছে ৭৭টি প্রতিষ্ঠান।

রোববার (১৪জুলাই) ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সফল রপ্তানিকারকদের মধ্যে 'জাতীয় রপ্তানি ট্রফি' তুলে দিবেন। শনিবার (১৩ জুলাই) রাজধানীর টিসিবি ভবনে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু এ তথ্য জানান।

বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী 'হস্তশিল্প'কে বর্ষপণ্য ঘোষণার পর হস্তশিল্পকে যেন রপ্তানি করা যায় সেলক্ষ্যে কাজ করছে মন্ত্রণালয় । রপ্তানি বাড়লে, দেশে কর্মসংস্থান বাড়বে। রপ্তানি বাণিজ্যকে বাড়াতে 'জাতীয় রপ্তানি ট্রফি' সহায়ক ভূমিকা রাখবে। চীন,ভারত, জাপানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কাজ করছে। '

টিটু আরও বলেন, 'বাংলাদেশ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজার সুবিধা নিতে কর্মতৎপরতা চালাচ্ছে। সম্প্রতি চীন সফরে বাংলাদেশকে 'ম্যানুফেকচারার হাব' করতে ব্যবসায়ীরা উৎসাহ দেখিয়েছে যাতে চীনা সরকার সহযোগিতা করবে৷ রফতানি বাড়াতে ভারত সফরে 'বিমসটেক' কী করে আরও কার্যকর করা যায় তা আলোচনা হয়েছে। কয়েকমাসের মধ্যে বিভিন্ন দেশের বাণিজ্য প্রতিনিধি দল ব্যবসা,বিনিয়োগ সম্প্রসারণে বাংলাদেশে আসবে। '

এসময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহা. সেলিম উদ্দিন, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান মো: আনোয়ার হোসেন, আরজেএসসি'র নিবন্ধক (অতি. সচিব) মিজানুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় রপ্তানি ট্রফি নীতিমালা-২০১৩ অনুসরণে বাছাই কমিটির মাধ্যমে মোট ৩২টি খাতের রপ্তানিকারকদের মধ্য হতে ২০২১-২০২২ অর্থবছরের রপ্তানি আয়, আয়গত প্রবৃদ্ধি, নতুন পণ্যের সংযোজন, নতুন বাজারে প্রবেশ, কমপ্লায়েন্স প্রতিপালন ইত্যাদি মূল্যায়নপূর্বক বিজয়ী প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা হয়। প্রতিটি খাতের জন্য কৃতি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানকে স্বর্ণ, রোপ্য ও ব্রোঞ্জ ট্রফি প্রদান করা হয়ে থাকে। এছাড়া সকল খাতের মধ্যে হতে সর্বোচ্চ রপ্তানি আয় অর্জনকারী প্রতিষ্ঠানকে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রপ্তানি ট্রফি’শিরোনামে ১টি বিশেষ ট্রফি (স্বর্ণ)সহ মোট ২৯টি স্বর্ণ, ২৭টি রৌপ্য এবং ২১টি ব্রোঞ্জ ট্রফি প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

;

শুধুমাত্র সকাল-সন্ধ্যা বাণিজ্য চালু রেখেছে পেট্রাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ



সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বেনাপোল (যশোর)
ছবি: বার্তা২৪, বেনাপোল বন্দর

ছবি: বার্তা২৪, বেনাপোল বন্দর

  • Font increase
  • Font Decrease

কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই বেনাপোল বন্দরের সঙ্গে সপ্তাহের সাতদিনই ২৪ ঘণ্টা বাণিজ্য সেবা চালু না রেখে শুধুমাত্র সকাল-সন্ধ্যা বাণিজ্য সেবা আমদানি-রফতানি চালাতে শুরু করেছে সীমান্তের ওপারের পেট্রাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ।

এতে করে সীমান্তের ওপারে পণ্যজটের কবলে পড়েছেন আমদানিকারকেরা।

বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যার পর থেকে রাতে কোনো পণ্যবাহী ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। তবে দিনে বাণিজ্য স্বাভাবিক থাকছে। এর আগে রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা আমদানি, রফতানি হতো দুই বন্দরের মধ্যেই।

এদিকে, ২৪ ঘণ্টা বাণিজ্য সেবা বন্ধ হলে ব্যবসায়ীদের লোকসানের পাশাপাশি আমদানি কমে রাজস্ব আয়ে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে জানিয়েছেন বাণিজ্য সংশিষ্টরা।

বেনাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, সন্ধ্যার পর বাণিজ্য বন্ধের কারণ জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে পেট্রাপোল পোর্ট ম্যানেজারকে।

বাণিজ্য সংশিষ্টরা জানিয়েছেন, বাণিজ্য ঘাটতি পূরণ ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ২০১৭ সালের ১ আগস্ট দুই দেশের রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্তে শুরু হয় সপ্তাহে ৭ দিন ২৪ ঘণ্টার বাণিজ্য সেবা।

তার আগে শুধুমাত্র সকাল-সন্ধ্যা বাণিজ্য পরিচালিত হতো। ২৪ ঘণ্টা পণ্য পরিবহনের সুযোগে রাত-দিন এমনকী জরুরি মুহূর্তে শুক্রবারও আমদানি, রফতানি ও পণ্য খালাস কার্যক্রম চলতো। এতে আগের চেয়ে বাণিজ্য ও রাজস্বের পরিমাণ বেড়ে যায় ৪০ শতাংশ। ফলে প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে গতিশীলতা ফেরে আমদানি, রফতানিতে।

আমদানির পরিমাণ ৩শ ট্রাক থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ৫শ ট্রাকে এবং বছরে রাজস্ব আয় ৩ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ৬ হাজার কোটি টাকার ঘরে।

তবে ভারতের পেট্রাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ কোনো আলোচনা ছাড়াই হঠাৎ ২৪ ঘণ্টা বাণিজ্য সেবা বন্ধ করে কেবল সকাল-সন্ধ্যা আমদানি, রফতানি চালানোর নির্দেশ দেয় পেট্রাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ।

এতে বেনাপোল বন্দরে সন্ধ্যা ৬টার পর ওপার থেকে পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ করতে না পারায় খাদ্যদ্রব্য, শিল্প-কলকারখানার কাঁচা মালসহ বিভিন্ন জরুরি পণ্যবাহী ট্রাক আটকা পড়েছে।

এপারেও আটকে যাচ্ছে, রফতানি পণ্য। এতে কমেছে আমদানি, রফতানির পরিমাণ। আটকেপড়া পণ্যবাহী ট্রাকে লোকসান ও শিল্প-কলকারখানার উৎপাদন ব্যাহতের আশঙ্কা করছেন বাণিজ্য সংশ্লিষ্টরা।

পণ্যবাহী ট্রাকচালক কবির জানান, তিনি রফতানি পণ্য নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে বেনাপোল বন্দরে আসেন। তবে সন্ধ্যা ৬টার পর ভারতীয় কর্তৃপক্ষ পণ্যবাহী ট্রাকের গেটপাস না দেওয়ায় ভারতে ঢুকতে পারেননি।

আমদানি, রফতানি সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জানান, রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা এপথে আমদানি, রফতানি হতো। এখন সন্ধ্যার পরে ভারত বাণিজ্য পরিচালনা করছে না। এতে পচনশীল খাদ্যদ্রব্য নিয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

আমদানির চাহিদা বেশি তবে সন্ধ্যার পর পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ করতে না পারায় বাণিজ্য ঘাটতি বাড়বে। বেনাপোল ও পেট্রাপোল বন্দরে যানজট বাড়ছে আমদানি, রফতানি পণ্যে।

বেনাপোল বন্দরের আমদানিকারক ইদ্রিস আলী জানান, ভারত-বাংলাদেশ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি হওয়া পণ্য থেকে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৭শ ৫ কোটি টাকা। ২৪ ঘণ্টা পণ্য আমদানির সুবিধা বন্ধ থাকলে রাজস্ব আয়ে বিরূপ প্রভাব পড়বে।

বেনাপোল বন্দর পরিচালক রেজাউল করিম জানান, বেনাপোল বন্দরে রাত, দিন ২৪ ঘণ্টা বাণিজ্য সেবা চলছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে পেট্রাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ পণ্যবাহী ট্রাক যেতে দিচ্ছে না।

বর্তমানে সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত পণ্য আমদানি হচ্ছে ওপার থেকে। সন্ধ্যার পর বাণিজ্য সেবা বন্ধের কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে তাদের কাছে। তারা বাণিজ্য সংশিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে জানাবেন বলে বলেছেন।

;

শেখ হাসিনা আন্তঃব্যাংক ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন ইসলামী ব্যাংক



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
শেখ হাসিনা আন্তঃব্যাংক ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন ইসলামী ব্যাংক

শেখ হাসিনা আন্তঃব্যাংক ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন ইসলামী ব্যাংক

  • Font increase
  • Font Decrease

শেখ হাসিনা আন্তঃব্যাংক ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৪ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি।

শনিবার (১৩ জুলাই) রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে ইসলামী ব্যাংক ২-০ গোলে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক পিএলসিকে হারিয়ে শিরোপা অর্জন করে।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট থেকে ট্রফি গ্রহণ করেন ইসলামী ব্যাংকের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা, ডেপুটি ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মো. আকিজ উদ্দীন ও কাজী মো. রেজাউল করিমসহ দলীয় অধিনায়ক।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)-এর চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী নাজমুল হাসান, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, ওএসপি, এসজিপি, পিএসসি, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার ও টুর্নামেন্ট আয়োজক কমিটির সভাপতি একেএম নুরুল ফজল বুলবুল উপস্থিত ছিলেন।

ব্যাংক কর্মকর্তাদের নিয়ে বিএবি দ্বিতীয়বারের মতো এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করে। দেশের ৩১টি বেসরকারি ব্যাংক এবারের টুর্নামেন্টে অংশ নেয়। টুর্নামেন্টে সার্বিক সহযোগিতা করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সেনা ক্রীড়া নিয়ন্ত্রণ বোর্ড। সমাপনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন নির্বাহী ও কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

;

বিবিয়ানা গ্যাস প্ল্যান্ট পরিদর্শনে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ সচিব



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বিবিয়ানা গ্যাস প্ল্যান্ট

ছবি: বিবিয়ানা গ্যাস প্ল্যান্ট

  • Font increase
  • Font Decrease

শেভরন বাংলাদেশ পরিচালিত হবিগঞ্জের বিবিয়ানা গ্যাস প্ল্যান্ড এবং সিলেটের জালালাবাদ গ্যাস প্ল্যান্ট পরিদর্শন করেছেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোঃ নুরুল আলম। পরিদর্শনে তার সঙ্গে ছিলেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোঃ হুমায়ুন কবির, যুগ্ম সচিব মো. মোরশেদা ফেরদৌস এবং সচিবের ব্যক্তিগত সহকারী শাহরিয়ার আল-কবীর সিদ্দিকী।

শনিবার (১৩ জুলাই) শেভরন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এরিক এম ওয়াকার খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রতিনিধিদলকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। ওয়াকারের সাথে প্রতিনিধিদল গ্যাস প্ল্যান্ট পরিদর্শন করেন, প্ল্যান্টে বাস্তবায়িত অপারেশন, সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতি সম্পর্কে একটি সার্বিক ধারণা লাভ করেন।

পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন বিবিয়ানা ও জালালাবাদ গ্যাস প্লান্টের অপারেশনস ডিরেক্টর রায়ান এম ওট, করপোরেট অ্যাফেয়ার্স ডিরেক্টর মুহাম্মদ ইমরুল কবির এবং গ্যাস প্ল্যান্ট সুপারিনটেনডেন্টরা।

গত ৩০ বছর এর কার্যক্রম ও উল্লেখযোগ্য সাফল্যের কথা উল্লেখ করে মোঃ নুরুল আলম শেভরন বাংলাদেশকে শুভেচ্ছা জানান। দেশে সাশ্রয়ী, নিরাপদ এবং নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহে কোম্পানির নিরবচ্ছিন্ন সহায়তার কথাও তুলে ধরেন।

সচিব বলেন, “আমাদের জ্বালানি খাতে শেভরন বাংলাদেশ যে অগ্রগতি সাধন করেছে তা প্রশংসনীয়। সুষ্ঠু ও সংগঠিত কার্যক্রম এবং টেকসই অনুশীলনের প্রতি প্রতিশ্রুতি তাদের কাজের মধ্যে স্পষ্ট। আমরা বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে তাদের আরো প্রসারিত ও নিরবচ্ছিন্ন অবদান প্রত্যাশা করছি।”

প্রবৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের প্রতি গুরুত্ব প্রদানের লক্ষ্যে সচিব মোঃ নুরুল আলম বিবিয়ানা গ্যাস প্ল্যান্টে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠানেও অংশ নেন।

এই সফরে জ্বালানি খাতের মূল স্টেকহোল্ডারদের সাথে দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য সরকারের প্রতিশ্রুতির ওপর জোর দেয়া হয়। সফরটি বাংলাদেশ সরকার এবং শেভরন বাংলাদেশের মধ্যে চলমান সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্বের একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত করে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় গ্যাসক্ষেত্র বিবিয়ানা। দেশের ২১টি গ্যাস ক্ষেত্র থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় ( ১০ জুলাই সকাল ৮টা থেকে ১১ জুলাই সকাল ৮টা) ২০১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া গেছে। এরমধ্যে শুধু বিবিয়ানা গ্যাস ক্ষেত্র থেকে উত্তোলন করা হয়েছে ৯৯৬ মিলিয়ন ঘনফুট। একইদিনে জালালাবাদ থেকে গ্যাস পাওয়া গেছে ১৫৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।

;