বেঁধে দেয়া দামে বিক্রি হচ্ছে না সয়াবিন তেল



রাকিব হাসান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
বেঁধে দেয়া দামে বিক্রি হচ্ছে না সয়াবিন তেল

বেঁধে দেয়া দামে বিক্রি হচ্ছে না সয়াবিন তেল

  • Font increase
  • Font Decrease

 

ভোজ্য তেলের ওপর থেকে মূল্য সংযোজন কর (মূসক-ভ্যাট) প্রত্যাহারের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে সয়াবিন তেলের নতুন দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। কিন্তু, ভোজ্য তেলের ‘যৌক্তিক মূল্য’ নির্ধারণ করে দিলেও তা মানার ব্যাপারে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না ব্যবসায়ীদের মধ্যে।

বাজারে গিয়ে দেখা যায় নির্ধারিত মূল্যের চাইতেও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে সয়াবিন তেল। দাম নেবার কারণ জানতে চাইলে দায়সারা উত্তর ব্যবসায়ীদের।

গতকাল (১৮ এপ্রিল) দুপুরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ভোজ্য তেলের দাম নির্ধারণ নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন দাম ঘোষণা করে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু।

সংবাদ সম্মেলনে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৪ টাকা বাড়িয়ে ১৬৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাঁচ লিটারের সয়াবিন তেলের বোতলের দাম ১৮ টাকা বাড়িয়ে ৮১৮ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া খোলা সয়াবিন তেলের দাম দুই টাকা কমিয়ে ১৪৭ টাকা করা হয়েছে।

তবে শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) বাজারে গিয়ে দেখা গেছে সরকার নির্ধারিত মূল্যের কোন তোয়াক্কা করছে না দোকানীরা।

প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ১৪৭ টাকা নির্ধারণ করা হলেও লিটার প্রতি ১৮ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ টাকা করে। আর বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৬৭ টাকা বিক্রি করার কথা থাকলেও তা বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকা দরে। তবে ভিন্ন চিত্র ছিলো ৫ লিটারের বোতলজাত তেলের দামে। সরকারের বেঁধে দামের চাইতেও প্রতি ৫ লিটারের বোতলে ১৮ টাকা কম মূল্যে ৮০০ টাকা করে বিক্রি করছেন দোকানীরা।

সরকারের বেঁধে দামে তেল বিক্রি না করার কারণ জানতে চাইলে রাব্বি ফ্লাওয়ার মিলের স্বত্বাধিকারী লুতফুর রহমান বার্তা২৪.কম’কে বলেন, গতকাল কি ঘোষণা হইছে তেলের দাম কমছে নাকি বাড়ছে তা ভালো করে জানিনা। তবে শুনছি ফেছবুকে টিভিতে। আমাদের দোকানে যে তেল আছে তা আগের দামে কেনা। তাই আগের দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। নতুন তেল আসলে আবার নতুম দামে বিক্রি করবো। খোলা তেলে ১৮ টাকা বেশি নেয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঐ যে বললাম আগের দামে কেনা। আমি তো নতুন দামের চাইতে ৫ লিটারের বোতলে ১৮ টাকা কম নিচ্ছি এখনো। কিন্তু খোলা তেল আমার আগের দামে কেনা তাই ১৮ টাকা বেশি নিতেছি। দাম বৃদ্ধির ঘোষণা এলে যতো দ্রুত দাম বাড়ে কিন্তু দাম কমানোর ঘোষণা এলে কমেনা কেনো জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা বড় বড় পাইকারদের কাজ। তারা সিন্ডিকেট করে। কিন্তু আমাদের এমন সুযোগ নেই। আমরা এক দুই টন মাল সর্বোচ্চ কিনি। কখনো আরও কম কিনি।

আরেক ব্যবসায়ী খাদিজা এন্টারপ্রাইজের মালিক মোসলে উদ্দিন বলেন, ৫ লিটারের তেলের বোতলে যে দাম ৮০০ টাকা দেয়া সেই দামে বিক্রি করছি। এছাড়া এক লিটারের বোতলের দাম ১৬৩ টাকা দামে বিক্রি করছি। তবে খোলা তেল আমার কেনা ছিলো ১৬৩ টাকা করে তাই আমি ১৬৪/১৬৫ টাকা দামে বিক্রি করতেছি। খোলা তেল ১৪৭ টাকা সরকার নির্ধারণ করছে কিন্তু সেটা কি ভালো নাকি মন্দা জানিনা। যে দামে কিনি তার থেকে এক দুই টাকা বেশি দামে বিক্রি করি।

একটি সিকিউরিটি গার্ডের প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন আলতাফ হোসেন। তার কাছে খোলা তেল কতো নিলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, ১৬৫ টাকা নিলো। খোলা তেলে দুই টাকা কমে ১৪৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে জানেন কিনা প্রশ্ন করলে আলতাফ হোসেন বলেন, ভাই এসব খবর দিয়ে তো কোন কাজ হয়না। দাম বাড়লে তখন ব্যবসায়ীরা পারলে আরও বাড়িয়ে নেয়। অথচ কমলে তিন মাসেও দাম কমার খবর থাকেনা। আপনার সামনেই তো বেশি নিলো কিছু করার আছে বলেন? আমি এক লিটার তেল নিতে আসছি। এখন এদের সাথে কি দাম নিয়ে ঝগড়া করবো।

আরেকজন ক্রেতা সজিব মোল্লা বলেন, বাজারে সব কিছুর দাম বাড়ে তবে খোলা তেলের দাম কমাইছে শুনে ভালো লাগলো। তবে দুই টাকা দাম কমায় তার প্রভাব আসলে বাজারে পরেনি। তাছাড়া লোক দেখানো বাজার মনিটরিং করে বাজারের দাম নিয়ন্ত্রণ করা কখনো সম্ভব না। একদিকে ব্যবসায়ীদের উপর ট্যাক্স বসাইবেন। জরিমানা করবেন আবার বলবেন দাম কমাইতে তারা কিভাবে দাম কমাবে। জীবনে শুনছেন কোনকিছুর দাম বাড়লে তা আবার কমে সহজে।

   

তিন বছরেই সফল ইউনিকর্ন স্টার্টআপ নগদ: পলক



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

যাত্রা শুরুর মাত্র তিন বছরের মধ্যেই দেশের সফলতম স্টার্টআপ ইউনিকর্ন প্রতিষ্ঠান হিসেবে মোবাইল আর্থিক সেবা নগদ নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। একইসঙ্গে ডাক বিভাগের নীতিগত সমর্থন নিয়ে গত চার বছরে তারা সরকারকে সাড়ে ১৪ কোটি টাকা আয়ের ভাগ দিয়েছে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)-এর নবনির্বাচিত পরিচালক বোর্ডের অভিষেক অনুষ্ঠানে সোমবার (২০ মে) এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, নগদ আমাদের ডাক বিভাগের একটি অংশীদার। ডাক বিভাগের ইনফাস্ট্রাকচার, ওয়ার্ক ফোর্স, পলিসি সাপোর্ট নিয়ে তারা নিজেরা যেমন মাত্র তিন বছরের মধ্যে একটা সফল স্টার্টআপ ইউনিকর্ন হয়েছে, অন্যদিকে সরকারকে সাড়ে ১৪ কোটি টাকা রেভিনিউ শেয়ার করেছে।

এর আগে অপর এক অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ নিয়ে উৎসাহিত করার কারণে ডাক বিভাগের সঙ্গে নগদের অংশীদারত্বের ভিত্তিতে গ্রাহকদের যেমন সুলভ মূল্যে সেবা দেওয়া গেছে, ক্যাশলেস সমাজ ও ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ার দিকে এগিয়ে যাওয়া গেছে; অপরদিকে ডাক বিভাগেরও আয় হচ্ছে।

সর্বশেষ বছরেও নগদ অংশীদারত্বের চুক্তি অনুসারে ডাক বিভাগকে সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার ওপরে আয় শেয়ার করে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

নগদের উত্থানে ডাক বিভাগ ও ব্যক্তি জুনাইদ আহমেদ পলকের ভূমিকার উল্লেখ করে অনুষ্ঠানে নগদের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর এ মিশুক বলেন, ডাক বিভাগ শুরু থেকে আমাদের সমর্থন দিয়ে আসছে। আর পলক ভাই আমাদের জন্মলগ্ন থেকে আমাদের পাশে আছেন। সবসময় কোনো সমস্যায় আমরা ওনার সাহায্য চাইলে, উনি সেটা দ্রুত সমাধান করেন।

নগদ ডিজিটাল ব্যাংক চালু হলে বেসিসের সকল সদস্যদের জন্য বিশেষ ঋণ সুবিধার কথা উল্লেখ করে নগদের প্রধান নির্বাহী তানভীর এ মিশুক বলেন, বেসিস আমাদের তথ্যপ্রযুক্তি জগতের নীতি নির্ধারণে ভ‚মিকা রাখে। আমি তাদের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি অনুরোধ করব সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী তারা যেন পলিসি আপডেটে ভ‚মিকা রাখেন। আমিও কথা দিচ্ছি, বেসিসের সব উদ্যোক্তার জন্য জামানতবিহীন ঋণের ব্যবস্থা করবে নগদ ডিজিটাল ব্যাংক।

ডাক বিভাগের সঙ্গে নগদের চুক্তি অনুসারে, আয়ের ৫১ শতাংশ পায় ডাক বিভাগ। সে অনুসারে ২০২০ সালে নগদ ডাক বিভাগকে দিয়েছিল এক কোটি ১২ লাখ টাকা। নগদের সেবার যতো প্রসার হচ্ছে, সেবার কলেবর এবং গ্রাহক যত বাড়ছে ততোই আয় যোগ হচ্ছে ডাক বিভাগের ঘরেও। ২০২১ সালে নগদের কাছ থেকে ডাক বিভাগ পেয়েছে তিন কোটি ৩২ লাখ টাকা। ২০২২ সালে ৪ কোটি ৫০ লাখ এবং সর্বশেষ ২০২৩ সালের আয় থেকে ডাক বিভাগ পেয়েছে ৫ কোটি ৫১ লাখ টাকা।

২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে যাত্রা শুরু হয় নগদের। আর প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকেই ২০২৩ সালে দেশের দ্রুততম স্টার্টআপ কোম্পানি হিসেবে স্বীকৃতি পায় নগদ।

সোমবার বেসিসের অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু, ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি মো. মাহবুবুল আলম এবং বেসিসের সভাপতি রাসেল টি আহমেদ।

;

চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৫.৮২ শতাংশ: বিবিএস



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

চলতি ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) আগের বছরের তুলনায় কিছুটা বেড়ে ৫ দশমিক ৮২ শতাংশ হয়েছে। 

সোমবার (২০ মে) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত অর্থবছরে ৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায় চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে মাত্র ০ দশমিক ০৪ শতাংশীয় পয়েন্ট।

অর্থবছরের প্রথম সাত মাসের গতি প্রকৃতি পর্যালোচনা করে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বাজার মূল্যে চলতি বছরে জিডিপির আকার দাড়িয়েছে ৫০ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকায়। গত অর্থবছের ৪৪ লাখ ৯১ হাজার কোটি টাকার তুলনায় এবার জিডিপির আকার বেড়েছে প্রায় ৪ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা।

খাত ভিত্তিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এবার সেবা খাতে সর্বোচ্চ ৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এ খাতে গত অর্থবছরে ৮ দশমিক ৩৭ শতাংশের তুলনায় এবার প্রবৃদ্ধি কমেছে। শিল্প খাতে আগের বছরের ৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ থেকে কিছুটা বেড়ে এবার প্রবৃদ্ধি দাড়িয়েছে ৫ দশমিক ৮০ শতাংশে। কৃষি খাতে আগের বছরের ৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ থেকে আরও কমে এবার উৎপাদন বেড়েছে মাত্র ৩ দশমিক ২১শতাংশ।

চলতি বছরে মাথাপিছু আয় ৩৫ ডলার বাড়ছে বলে জানিয়েছে বিবিএস।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে বছর শেষে মাথাপিছু আয় দাঁড়াবে ২,৭৮৪ মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরে ছিল ২,৭৪৯ ডলার। আর দেশীয় মুদ্রায় মাথাপিছু আয় ২ লাখ ৭৩ হাজার টাকা থেকে বেড়ে প্রথম বারের মত তিন লাখ ৪১ হাজার ৪৪ টাকায় উঠেছে।

জিডিপির তুলনায় সঞ্চয়ের অনুপাত কিছুটা বাড়লেও বিনিয়োগে চলতি বছরে বড় কোন উন্নতি দেখা যায়নি। জিডিপির আকারের তুলনায় এবার বিনিয়োগের হার ৩০ দশমিক ৯৮ শতাংশে উঠেছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৩৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ।

এ সময়ে ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ জ্জিডিপির ২৩ দশমিক ৫১ শতাংশে নেমে এসেছে, যা গত পাঁচ বছর সর্ব নিম্ন। গত অর্থবছরে জিডিপির ২৪ দশমিক ১৮ শতাংশ বিনিয়োগ করেছিল ব্যক্তি খাত।

সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা এবারও অব্যাহত থাকছে বলে জানিয়েছে বিবিএস। চলতি অর্থবছরে জিডিপির ৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ বিনিয়োগ করেছে সরকার, যা গত অর্থ বছরে ছিল ৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

;

বাজেট সহায়তা ও অনুদান মিলে এএফডি দেবে ৩৮৮২ কোটি টাকা



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বাজেট সহায়তা হিসেবে ফ্রান্সের উন্নয়ন সংস্থা এএফডি আগামী তিন বছরে বাংলাদেশকে মোট ৩০ কোটি ইউরো বাজেট সহায়তা দেবে বলে জানিয়েছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)।

এর বাইরে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের কারিগরি দক্ষতা বাড়াতে অনুদান হিসেবে আরও ৫০ লাখ ইউরো অনুদান দেবে সংস্থাটি।

ঋণ ও অনুদান মিলে ৩০ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা ৩ হাজার ৮৮২ কোটি টাকা ছাড় করতে সোমবার সরকারের সঙ্গে একটি ফ্রেমওয়ার্ক অ্যাগ্রিমেন্ট সই করেছে ফ্রান্সের সংস্থাটি।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং এএফডি বাংলাদেশ অফিসের ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর Cecilia CORTESE নিজ নিজ পক্ষে চুক্তিতে সই করেন।

অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত Marie MASDUPUY উপস্থিত ছিলেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে ইআরডি।

ইআরডির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাজেট সহায়তা সুনির্দিষ্ট কিছু শর্তের অনুকূলে ছাড় হলেও এই খাতের অর্থ সরাসরি সরকারের ট্রেজারিতে জমা হয়। প্রকল্পের বাইরেও যে কোনো খাতে এই অর্থ ব্যয় করার সুযোগ থাকে।

রাজস্ব আহরণে ব্যর্থতায় তীব্র আর্থিক সংকট ও বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভে ঘাটতির মধ্যে এই ধরনের সহায়তা সংকট মোকাবেলায় বড় ধরনের সহায়ক ভূমিকা রাখে বলে তারা জানিয়েছেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তিন বছরের বাজেট সহায়তার প্রথম কিস্তির ১০ কোটি ইউরো আগামী জুনের মধ্যে দেওয়া হবে। এ হিসাবে চলতি অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নে সরকারের তহবিলে যোগ হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ২৭৪ কোটি টাকা।

ইআরডির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জলবায়ু সংক্রান্ত জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা, ন্যাশনাল ডিটারমাইন্ড কন্ট্রিবিউশনস (NDC) এবং মুজিব ক্লাইমেট প্রসপারিটি প্ল্যানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক অভিঘাতের বিরুদ্ধে কার্যকর ও শক্তিশালী ভিত্তি প্রস্তুত করার লক্ষে তিন বছরের প্রকল্পটি নেয়া হচ্ছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে জলবায়ু-সহিষ্ণু ও স্বল্প কার্বন নিঃসরণভিত্তিক অগ্রযাত্রা ত্বরান্বিত করা হবে বলেও জানিয়েছে ইআরডি।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, ফরাসি সরকারের দ্বিপাক্ষিক উন্নয়ন সহায়তা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সংস্থা এএফডি ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে। সংস্থাটি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবহন ও যোগাযোগ এবং স্বাস্থ্য ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহায়তা দিচ্ছে।

বাংলাদেশে চলমান ১১টি প্রকল্পে মোট ১১৪ কোটি ১৯ লাখ ইউরো সহায়তা দিচ্ছে এএফডি। এর মধ্যে ১.১২ মিলিয়ন ইউরো ঋণ আর ১ কোটি ৯৯ লাখ ইউরো অনুদান রয়েছে।

;

বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকতে পণ্য বহুমুখীকরণ-সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে বাংলাদেশ। এলডিসি গ্রাজুয়েশনের ফলে একদিকে যেমন আন্তর্জাতিক বাজারে শুল্কমুক্ত বাণিজ্যের অধিকার হারাবে বাংলাদেশ, তেমনি প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গেও প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে দেশকে। এ অবস্থায় এলডিসি গ্রাজুয়েশন পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এখন থেকেই নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ব্যবসায়ীরা।

পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণ করতে ব্যবসাবান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন, দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি, আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তি, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করা অত্যন্ত জরুরি বলেও মনে করছেন তারা।

এসব চুক্তির সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করতে নিজেদের সক্ষমতা ও দক্ষতা বাড়ানোর প্রতিও গুরুত্বারোপ করেছেন। এ লক্ষ্যে সরকার ও বেসরকারিখাতের মধ্যে সমন্বয় আরো জোরদার করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন ব্যবসায়ীরা।

সোমবার (২০ মে) সকালে এফবিসিসিআই-এর ‘আরটিএ, পিটিএ, এফটিএ ও ডব্লিউটিও’ বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির প্রথম সভায় ব্যবসায়ীরা এসব কথা বলেন বলে এফবিসিসিআই-এর হেড অব পিআর অ্যান্ড কমিউনিকেশনস তানজিদ বসুনিয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। উদ্যোক্তাদের এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও বিভিন্ন ধরনের সহায়তা প্রদান করছে। তবে এলডিসি গ্রাজুয়েশনের পর প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে টিকে থাকতে নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।

লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, চামড়া, হস্তশিল্প, চা, পাট ইত্যাদি খাতে আরো বৈচিত্র্যকরণ আনতে হবে বলে মন্তব্য করেন মাহবুবুল আলম। একইসঙ্গে ব্যবসায়ীদের হয়রানি কমাতে কাস্টমস, বন্দর ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর অটোমেশন জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এফবিসিসিআই-এর সিনিয়র সহসভাপতি মো. আমিন হেলালী বলেন, ভারতসহ বিভিন্ন দেশ প্রস্তুতি নিয়েই বাণিজ্য চুক্তিগুলো করছে। আমাদেরও এসব চুক্তির আগে প্রস্তুতি নিতে হবে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকার মতো সক্ষমতা অর্জন না করলে স্থানীয় বাজার হারানোরও আশঙ্কা থেকে যাবে।

এফবিসিসিআই-এর সহসভাপতি ড. যশোদা জীবন দেবনাথ বলেন, প্রযুক্তিতে আমরা অনেক এগিয়েছি। আইটি ও আইটি এনাবেল সার্ভিসে বাংলাদেশের বড় সম্ভাবনা থাকলেও উচ্চ ডিউটি দিয়ে সেসব পণ্য দেশে আনতে হয়। অনেক দেশ এসব পণ্য আমদানিতে ডিউটি না রাখলেও আমাদের এখানে উচ্চ মূল্য দিতে হচ্ছে।

এসময় পণ্য আমদানি সহজীকরণে কাস্টমসকে সহযোগিতামূলক আচরণ করার আহ্বানও জানান তিনি।

‘কাস্টমস আইন-২০২৩’-এ জটিলতা ও আমদানির ক্ষেত্রে বিভিন্ন জায়গায় বাধা রয়েছে উল্লেখ করে বাণিজ্য সংগঠন ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে জনমত গঠনের মাধ্যমে এ আইন সংশোধনের তাগিদ দেন কমিটির ডিরেক্টর ইন-চার্জ এ এম মাহবুব চৌধুরী।

বন্দরে দ্রুত পণ্য খালাস প্রক্রিয়া সহজীকরণ করার তাগিদ দেন তিনি। এছাড়া রফতানি পণ্য বহুমুখীকরণের গুরুত্বও তুলে ধরেন এ এম মাহবুব চৌধুরী।

সভাপতির বক্তব্যে কমিটির চেয়ারম্যান ও এফবিসিসিআই-এর সাবেক পরিচালক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, বৈশ্বিক পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে টিকে থাকতে হবে বাংলাদেশকে। আমরা কোনো দেশের সঙ্গে এফটিএ না করতে পারায় পার্শ্ববর্তী দেশগুলো ব্যবসার সুযোগ নিচ্ছে।

তিনি এসময় সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্পর্কিত আইনগুলো তৈরির ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করার আহ্বান জানান।

বিজিএমইএ-র সদ্য সাবেক সভাপতি ও এফবিসিসিআই-এর পরিচালক ফারুক হাসান বলেন, এলডিসি গ্রাজুয়েশনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে সরকার কাজ করছে।

এলডিসি গ্রাজুয়েশনের পর ট্রানজিশন পিরিয়ড ৩ বছর থেকে বাড়িয়ে ৬ বছর করার ব্যাপারে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সভায় আরো বক্তব্য রাখেন- এফবিসিসিআই-এর পরিচালক হাফেজ হাজী হারুন অর রশীদ, আলহাজ্ব আজিজুল হক, নিয়াজ আলী চিশতী, মহাসচিব মো. আলমগীর, কমিটির কো-চেয়ারম্যানবৃন্দ, সদস্যবৃন্দ ও সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ।

;